Thursday, August 15, 2024
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনপ্রত্যাশা : একটি বিশ্লেষণ by ড. মো. সফিকুল ইসলাম
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনপ্রত্যাশা : একটি বিশ্লেষণ by ড. মো. সফিকুল ইসলাম
এমতাবস্থায় অকুতোভয় ছাত্রদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রের অবসান হয়। এজন্য প্রায় চার শতাধিক ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে হয়েছে যা দেশে-বিদেশে জুলাই ম্যাচাকার নামে পরিচিত। আমি মনে করি, এ গণ-অভ্যুত্থানে মূল চেতনা হচ্ছে বৈষম্যহীন, দুনীতিমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ যেখানে সকল মানুষ রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন থেকে মুক্ত থাকবে; সকল সমাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারসমূহ সমানভাবে ভোগ করবে। ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পাবে। এ প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার মতামতের ভিত্তিতে নোবেল বিজয়ী জননন্দিত ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। এ প্রত্যাশা পূরণে সরকার ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু; স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য সকল স্বায়ত্তশাসিত, সাংবিধানিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রয়োজন। বিশেষ করে; পুলিশ প্রশাসন, জন প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সংস্কার অতীব জরুরি। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে পুলিশ বাহিনী দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দল ও বিরোধী মতকে দমন ও নিপীড়ন তাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের গুম, খুন ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। তারা আওয়ামী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মত আচরণ করতেন। কথায় কথায় বিরোধী দলের মিছিল ও সমাবেশে গুলি ও ধরে নিয়ে নেতা-কর্মীদের নির্যাতন ও রিমান্ডে নেওয়া তাদের দৈনন্দিন প্যাকটিজ হয়ে গিয়েছিল। সর্বশেষ ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমন করার জন্য প্রায় চার শতাধিক ছাত্র-জনতা এবং বিরোধী দলীয় কর্মী-সমর্থককে গুলি করে হত্যা করেছে। প্রায় বার হাজার ছাত্র ও বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসনের যেসব সদস্য আইনের অপব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত তাদের তদন্ত করে অতি দ্রুত বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।
যেসব মেধাবী ও যোগ্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যগণ এতদিন ও.এস.ডি. ও কম গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল তাদেরকে দিয়ে পুলিশ প্রশাসন পুনর্গঠন করা অতি জরুরি। পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে জনবান্ধব সংস্কৃতি তৈরির লক্ষ্যে তাদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ দরকার। বিজিবি এর মত তাদের পোশাক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা যেতে পারে।
জন প্রশাসনেরও সংস্কার প্রয়োজন। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর জন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ দলীয় কর্মী হিসেবে কাজ করেছে। বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে নির্বাচনের সময় দলীয় বক্তব্য দিয়েছে। আওয়ামী লীগের অধীনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি জাল জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করণে সহায়তা ও ভোট কাস্টিং এর হার বাড়িয়ে দেখিয়ে নির্বাচনকে আইনগত বৈধতা দান করেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও অবর্ণনীয় নিপীড়নের সহযোগী হিসেবে করেছে তাদের বরখাস্ত করে যারা এতদিন উপেক্ষিত ছিল এবং দক্ষ ও যোগ্য তাদেরকে দিয়ে জন প্রশাসন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু, বিচার বিভাগ বিগত আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনকে বৈধতাদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০১১ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ও তিনটি জাল-জালাতিপূর্ণ নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় শাস্তি দিয়ে কারারুদ্ধ করেছে। বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী ও বিরোধী মতের লোকদেরকে, বিশেষ করে, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদেরকে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলায় ডিমান্ড দিয়ে পুলিশকে নির্যাতনের সুযোগ করে দিয়েছে। অসংখ্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও বিরোধী মতের লোকদেরকে কারারুদ্ধ করেছে। বিচার বিভাগ থেকে এসব বিচারকদের সরিয়ে বিচার বিভাগ পুনর্গঠন করতে হবে। বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ নিরপেক্ষকরণ এবং উচ্চ আদালতে যোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারপতি নিয়োগের আইন করতে হবে। তাছাড়া, দুর্নীতি দমলো কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সরকারি, স্বায়তশাসিত, রাষ্ট্রত্ব প্রতিষ্ঠান থেকে দলীয় কর্মকর্তাদেরকে সরিয়ে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালনি সরকারের প্রধান কাজ হবে গণতন্ত্র পুনঃ:প্রতিষ্ঠা, বিশেষ করে, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হচ্ছে নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়। বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে, তরুণ ভোটারগণ ভোট দিতে পারেনি। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ব্যবস্থা জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনসহ পুরো নির্বাচনীয় ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। বাংলাদেশে ইতিহাসে সবচেয়ে জালিয়াতিপূর্ণ ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ নির্বাচন যেসব কমিশন পরিচালনা করেছেন তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এ সরকারের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি না হলেও তাদের প্রতি ব্যাপক জন সমর্থন রয়েছে। আশা করি এ সরকার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।
লেখক: অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
August
(446)
-
▼
Aug 15
(24)
- শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত কি তার দক্ষিণ এশিয়ার...
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনপ্রত্যাশা : একটি বিশ্লে...
- বাংলাদেশ সংকট দেখিয়ে দিয়েছে স্বাধীনতার মূল্য কতটা:...
- ঋত্বিক ঘটকের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে সিসিটিভি বন্ধ...
- ‘রেজিস্ট্যান্স উইক’ ‘প্রতিবিপ্লব করার চেষ্টা করলে ...
- ‘ভাবছে বাংলাদেশে একটা ঘটনা ঘটেছে, সেটা টেনে এনে যদ...
- গোটা আফ্রিকায় এমপক্সের প্রাদুর্ভাব, বৈশ্বিক জরুরি ...
- ভারতীয় গোয়েন্দারা বঙ্গবন্ধুকে দুবার সতর্ক করেছিলেন
- বহু বাধা পেরিয়ে ৩৪ বছর পর হত্যার বিচার
- খন্দকার মোশতাকের উত্থান-পতন by এমরান হোসাইন শেখ
- সেই মহামৃত্যুঞ্জয় by আনিসুজ্জামান
- বিশ্বনেতাদের চোখে বঙ্গবন্ধু by শরিফুজ্জামান
- মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ, একটি “ইসলামিক” রাষ্ট্রের “অ...
- ওদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে শঙ্কা: সরজমিন পঙ্গু...
- জুলাই গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে
- মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগের মধ্যেই ইসরাইলকে ২০ বিলিয়ন ডল...
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো: বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে ৩...
- জিহাদের ছবি নিয়ে কেঁদেই চলেছেন মা
- দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষমতাসীন দল-বিরোধীদের মধ্যে তুমুল ...
- কলকাতায় ডাক্তার ধর্ষণ: হত্যা মামলা সিবিআইতে
- শাহবাগে সম্প্রীতির শপথ শিক্ষার্থীদের
- লাপাত্তা জনপ্রতিনিধিরা, সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি ...
- ‘মারা গেলে আমার লাশ ফেলে যাইস না’
- বাবরি মসজিদের মতো কিছু বাংলাদেশে ঘটেনি: ভারতীয় টিভ...
-
▼
Aug 15
(24)
-
▼
August
(446)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment