২০২৬ সালের সবচেয়ে নিরাপদ ৫ দেশ

বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় সংঘাত চলছে এবং টানা ১২ বছর ধরে বৈশ্বিক শান্তি পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ৯৯টি দেশে শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মাঝেও কয়েকটি দেশ তাদের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। ১৬৩টি দেশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সূচকে সহিংসতার হার, সামরিক ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো ২৩টি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে।

চলুন তাহলে জেনে নিই, ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শীর্ষ ৫টি দেশের জীবনযাত্রা কেমন—

১. আইসল্যান্ড: শান্তির অবিচল প্রতীক

২০০৮ সাল থেকে টানা ১৯ বছর ধরে আইসল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশের শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এখানকার অধিবাসীদের কাছে শান্তি কেবল একটি নীতি নয়, বরং এটি তাদের সচেতন সামাজিক পছন্দের প্রতিফলন। নারী-পুরুষের সমান অধিকার, শক্তিশালী জনসেবা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি প্রতিশ্রুতি দেশটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য আইসল্যান্ডের ১২০টিরও বেশি ভূ-তাপীয় পুলে স্নান করা এবং এখানকার শান্ত প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া হতে পারে প্রশান্তির সেরা মাধ্য।

২. নিউজিল্যান্ড: প্রকৃতির কোলে নিরাপদ জীবন

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা দেশটিকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করেছে। এখানকার মানুষ অত্যন্ত সহজ-সরল এবং পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কঠোর বন্দুক আইন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে এখানে অপরাধের হার অনেক কম। পাহাড়, সমুদ্র আর বনের সান্নিধ্য নিউজিল্যান্ডের জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে কোলাহলমুক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ।

৩. সুইজারল্যান্ড: নিরপেক্ষতা ও আস্থার দেশ


২০২৬ সালের সূচকে সুইজারল্যান্ড তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে। দেশটির দীর্ঘকালীন সামরিক নিরপেক্ষতা এবং নিম্ন অপরাধ হার একে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশে পরিণত করেছে। সুইজারল্যান্ডে মানুষের মধ্যে সামাজিক বিশ্বাসের গভীরতা এতটাই যে, হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগ বা ক্রেডিট কার্ড অপরিচিত মানুষের মাধ্যমেই অনায়াসে ফেরত পাওয়া যায়। কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের চমৎকার ভারসাম্য এবং চার ভাষার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মাঝে সমঝোতার মাধ্যমেই এখানে শান্তি টিকে থাকে।

৪. স্লোভেনিয়া: শীর্ষ পাঁচে নবাগত এবারই প্রথম

স্লোভেনিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি নিরাপদ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। সামরিক খাতে কম ব্যয় এবং উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা দেশটিকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। স্লোভেনিয়ার মানুষ প্রকৃতিপ্রেমী এবং তারা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে। এখানকার মানুষের আতিথেয়তা এবং সপ্তাহান্তে হাইকিং বা সাইকেল চালানোর সংস্কৃতি জীবনকে করে তোলে আনন্দময়।

৫. আয়ারল্যান্ড: ঐতিহ্যে মিশে থাকা আতিথেয়তা

তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা আয়ারল্যান্ড তার নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বে অংশ না নেওয়ার জন্য সুপরিচিত। দেশটির সংস্কৃতিতে ‘ব্রেহন আইন’ (Brehon laws)-এর প্রভাব আজও বিদ্যমান, যা আগন্তুকদের আশ্রয় ও খাবার দেওয়ার শিক্ষা দেয়। আটলান্টিকের পাড়ে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ, বই আর গানের মেলবন্ধনে আইরিশরা এক শান্তিময় জীবন যাপন করে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

No comments

Powered by Blogger.