নিউইয়র্ক সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথে আবের কাওয়াস
মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন ফিলিপিনো-আমেরিকান আইনপ্রণেতা স্টিভেন রাগা। বিজয়ী প্রার্থী নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং জয়ী হলে আগামী জানুয়ারিতে অ্যালবানিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
কাওয়াস সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পেয়েছেন। এর আগে রাগা ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে মামদানির প্রচারণাকে সমর্থন করেছিলেন।
কাওয়াস বলেন, ‘মামদানি আন্দোলন বহু তরুণ এবং প্রগতিশীল বামপন্থিদের আশার আলো দেখিয়েছে এবং তাদের হতাশা দূর করে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে।’
তিনি আরো জানান, তারা সেই গতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
২০২৫ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি জয়ের আগে মেয়র মামদানিকে একজন বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে দেখা হতো। তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বামপন্থি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে তার প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল ফিলিস্তিনের পক্ষে তার আপসহীন অবস্থান। গাজায় চলমান পরিস্থিতির কারণে তার বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ আনা হলেও, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার এই অবস্থানই তাকে প্রাইমারিতে জয়ী হতে সাহায্য করেছিল।
কাওয়াস মূলত সেই অবস্থানেরই এক বাস্তব প্রতিফলন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসা একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ওপর যে দমন-পীড়ন ও নজরদারি শুরু হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে তার নথিপত্রহীন বাবাকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গ্রেপ্তার করে। প্রায় তিন বছর ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার পর তার বাবাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বছরে ১০ লাখ মানুষকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যের কারণে হাজার হাজার পরিবার যেভাবে একক মা বা বাবার অধীনে বড় হচ্ছে, কাওয়াস ও তার ভাইবোনদেরও একইভাবে বড় হতে হয়েছে।
কাওয়াস বলেন, ‘আমি চাই না এমন ঘটনা আর কারো সঙ্গে ঘটুক।’
নিউইয়র্কের কুইন্সের যে পশ্চিম অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কাওয়াস করতে চান, সেটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১২-এর আওতায় রয়েছে অ্যাস্টোরিয়া, লং আইল্যান্ড সিটি ও সানিসাইডের মতো এলাকা। হিজাব পরিহিত কাওয়াস ইতোমধ্যে ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলোর নজর কেড়েছেন, যেখানে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস এবং ইউএস ক্যাম্পেইন ফর প্যালেস্টাইন রাইটসের মতো সংস্থার সঙ্গে তার অতীত কাজের সম্পর্ককে সামনে আনা হচ্ছে। প্রোপাগান্ডা চালানো সংস্থা দুটিকে ইসরায়েলপন্থিরা মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে অভিযুক্ত করে থাকে।
কাওয়াস বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই মসজিদে বিভিন্ন সামাজিক কাজ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন কমিউনিটি সংস্থায় অভিবাসী অধিকার, ভাষা সহজীকরণ ও পুলিশ সংস্কার নিয়ে কাজ করেছেন।
তিনি মনে করেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে সচল করতে এবং বর্তমান রাজনৈতিক ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এমন মানুষদেরই আইনসভায় যাওয়া উচিত।
তিনি জানেন এই সময়ে নির্বাচন করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল-এর এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মুসলিম-আমেরিকান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই এই ধরনের হামলার ঘটনা ১১ গুণ বেড়েছে। গত মার্চে নিউইয়র্কের প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট নার্দিন কিসওয়ানির বাড়িতে বোমা হামলার পরিকল্পনাকারী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর ১ লাখ ডলার বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পান ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী লেকা কর্দিয়া।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
![]() |
| আবের কাওয়াস। ছবি: এএফপি |

No comments