Friday, November 27, 2015
সামরিকায়ন ও মুসলিমবিরোধী নীতি by বেন নর্টন
সামরিকায়ন ও মুসলিমবিরোধী নীতি by বেন নর্টন
[ফ্রান্সের খ্যাতনামা সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রশিল্পী বেন নর্টন
তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণ করেছেন প্যারিসের সন্ত্রাসী ঘটনা ও
তার অভিঘাত। salon.com-এ প্রকাশিত এই লেখায় গতানুগতিক পাশ্চাত্য
দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া যায়। নয়া দিগন্তের পাঠকদের জন্য
লেখাটি অনুবাদ করেছেন মো: হাসান শরীফ]
নাইন-ইলেভেনের পর যখনই বেসামরিক কোনো হামলা হয়েছে, জননেতারা সাথে সাথে এর জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন মুসলমানদের। তাদের হাতে তেমন কোনো প্রমাণ থাকে না, কিন্তু মুসলিমবিদ্বেষী গোঁড়ামির স্থূলবুদ্ধিকেই তারা ব্যবহার করেন তাদের অভিযোগকে জোরদার করতে। অথচ সত্যিকারের প্রমাণ অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে, তার দুই শতাংশেরও কম ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০১৩ সালে ১৫২টি সন্ত্রাসী হামলার মাত্র ১ শতাংশ ছিল ওই প্রকৃতির, ২০১২ সালে ২১৯টি সন্ত্রাসী হামলার ৩ শতাংশেরও কম ছিল ধর্মীয়ভাবে উদ্দীপ্ত।
বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসী হামলাগুলোর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো জাতিগত-জাতীয়তাবাদী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী। ২০১৩ সালের সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ৫৫ শতাংশ ছিল জাতিগত-জাতীয়তাবাদী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী, ২০১২ সালে তিন-চতুর্থাংশ (৭৬ শতাংশ) সন্ত্রাসী হামলা ছিল জাতিগত-জাতীয়তাবাদ কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রণোদিত। কিন্তু এসব তথ্য পূর্বধারণায় বশীভূত পণ্ডিতদের তাদের নিজস্ব মতবাদে অনড় থাকা থেকে নড়াতে পারছে না।
গত ১৩ নভেম্বর প্যারিসে জঙ্গিদের কয়েকটি জঘন্য হামলায় অন্তত ১৩০ জনের মতো নিহত হয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনার ব্যাপারে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়ায় কয়েকটি স্তরের ভণ্ডামি রয়েছে। এসব নৃশংস হামলা সৃষ্টির বৃহত্তর প্রোপট বোঝা এবং চূড়ান্তভাবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের হামলা আর না হয়, সে জন্য এই ভণ্ডামিগুলোকে নিখুঁতভাবে শ্রেণিবিন্যস্ত করতে হবে।
চরমপন্থার সুযোগ গ্রহণ
হামলাগুলোর খবর প্রকাশের সাথে সাথে, যখন কোনো প্রমাণ ছিল না এবং হামলাকারীদের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র তথ্য ছিল না, তখন ডানপন্থী মহা মহা পণ্ডিতেরা সাথে সাথে মুসলমানদের এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে আসা উদ্বাস্তুদের ভয়ঙ্কর হিসেবে তুলে ধরতে এই সহিংসতাকে তাদের সাথে জড়িয়ে ফেলার সুযোগটি লুফে নিলেন।
হতাহতের শিকারদের চেয়েও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে নেতারা একযোগে চিৎকার করে, অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে এবং এমনকি সেগুলো অস্বীকার পর্যন্ত করার জন্য নৃশংস হামলার সুযোগটি কাজে লাগাতে মেতে ওঠেন। তারা সোজাসুজি মৌলিক নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ কর্মী, ন্যূনতম মজুরি দাবিকারী ফাস্টফুড শ্রমিক এবং ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থা থেকে মুক্তি কামনাকারী শ্রমিক ইউনিয়ন ও ছাত্রদের বলে বসেন, তোমাদের সমস্যাগুলো খুবই তুচ্ছ। কারণ তোমরা বন্দুকের মুখে পণবন্দী নও।
আরো গুরুতর ব্যাপার হলো, যখন প্রমাণ পাওয়া যেতে শুরু করল যে, এই হামলার জন্য চরমপন্থীরা দায়ী এবং যখন আইএসআইএস দায় স্বীকার করল, তখন নেতারা বলে বসলেন, ১৬০ কোটি মানুষের ধর্ম ইসলামের ওপর সব দোষ বর্তাবে এবং মুসলিম উদ্বাস্তুরা (তাদের বেশির ভাগ মুসলমান হলেও সবাই নয়) প্রধানত এ ধরনের হামলা চালানোর জন্যই পাশ্চাত্যে প্রবেশ করছে।
মুসলিম ও উদ্বাস্তুদের পীড়ন
যখনই ইসলামি চরমপন্থীরা কোনো হামলা চালায়, তখনই ১৬০ কোটি মুসলমানের কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে মা প্রত্যাশা করা হয়, এই পর্যায়ে এটা জমাট বাঁধা ধারণায় পরিণত হয়ে গেছে।
মুসলমান ও উদ্বাস্তুদের ওপর পীড়ন চালিয়ে কারা উপকৃত হচ্ছে? এতে উপকৃত হয় প্রধানত দুটি গ্র“প : এক. খোদ চরমপন্থী গ্র“পগুলো। তাদের মতে, দমন-পীড়ন এটাই ‘প্রমাণ’ করে যে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সেকুলার পাশ্চাত্যে দৃশ্যত মুসলমানদের কোনো স্থান নেই। দুই. ইউরোপের ক্রমবর্ধমান উগ্র ডানপন্থীরা। তাদের মতে, হামলা এটাই ‘প্রমাণ’ করে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সেকুলার পাশ্চাত্যে দৃশ্যত মুসলমানদের কোনো স্থান নেই।
তারা যদিও পরস্পরের শত্র“, কিন্তু উভয় গ্র“পের মধ্যে এ ব্যাপারে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। উগ্র ডানপন্থীরা চায় মুসলমান এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর উদ্বাস্তুরা (এমনকি যদি তারা মুসলমান না-ও হয়) পাশ্চাত্য ত্যাগ করুক। তাদের মতে, তারা জন্মগতভাবেই সহিংস সন্ত্রাসী। ইসলামি চরমপন্থীরা চায় মুসলিম উদ্বাস্তুরা চলে যাক, যাতে তারা চরমভাবাপন্ন হয়ে তাদের খিলাফতে যোগ দেয়।
আরো তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, জোর গলায় বলে দেয়া যায় যে, মুসলিম ও উদ্বাস্তুদের ওপর দমন-পীড়নে ইউরোপের ক্রমবর্ধমান উগ্র ডানপন্থী আন্দোলন লাভবান হতে থাকবে এবং মুসলিমবিদ্বেষী ও উদ্বাস্তুবিরোধী প্রপাগান্ডার মাধ্যম নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করা অব্যাহত রাখবে।
আইএসআইএস প্রকাশ্যেই বলেছে, তাদের ল্য হলো তাদের কথিত ‘গ্রে-জোন’-এর (বলা যেতে পারে পাশ্চাত্যে মুসলমানদের গ্রহণ করা) বিলুপ্তিসাধন। আইএসআইএসের নিজস্ব প্রকাশনায় বলা হয়েছে, গ্রে-জোন বিলুপ্তির ভয়ঙ্কর কাজ শুরু হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বরের ‘বরকতময়’ অভিযানের মাধ্যমে। এসব অভিযান পৃথিবীর মানুষের কাছে দু’টি শিবিরকে তুলে ধরেছে : একটি হলো ইসলামের শিবির, অপরটি হলো কুফরের শিবির (ক্রুসেডার জোট)।’
পাশ্চাত্যের উগ্র ডানপন্থী ও ইসলামি চরমপন্থীদের স্বার্থ একাকার হয়ে গেছে। আইএসআইএস সুস্পষ্টভাবেই যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে, তাতে কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশএবং তার একগুঁয়ে শত্র“ আলকায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মনের কথাই বলা হয়েছে। আইএসআইএস লিখেছে : “শায়খ ওসামা বিন্ লাদেন যেভাবে বলেছেন, ‘বিশ্ব আজ দুই শিবিরে বিভক্ত;’ বুশ যখন বলেন, তোমরা আমাদের সাথে কিংবা তোমরা সন্ত্রাসীদের সাথে’ তখন তিনি সত্য কথাই বলেন।’ অর্থাৎ হয় তুমি ক্রুসেডারের সাথে কিংবা ইসলামের সাথে।”
আইএসআইএসকে ভাইরাস হিসেবে চলার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে আমরা স্রেফ তাদের ধর্ষকামী ল্যগুলো পূরণ করতে সহায়তা করছি।
এ দিকে ফরাসি উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি বিশেষভাবে লাভবান হচ্ছে। জনৈক নব্য নাৎসির গঠিত দলটিকে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার বিচ্ছেদপ্রাপ্তা মেয়ে ম্যারিন লি পেন। তিনি মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন; ভণ্ডামির সাথে তাদের নাৎসি দখলদার হিসেবে অভিহিত করছেন। ন্যাশনাল ফ্রন্টকে ‘ফ্যাসিবাদী’ দল বলা যুক্তিসম্মত বলে ২০১৪ সালে প্যারিসের একটি আদালত রায় দিয়েছিল।
প্যারিস হামলার আগে লি পেনের উগ্র ডানপন্থী আন্দোলন ছিল ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। এখন তারা হয়তো প্রথম দলে পরিণত হয়ে গেছে।
যে গণহত্যাগুলো উপো করা হয়
ইউরোপে প্রতি বছর শত শত হামলা হয়ে থাকে। তবে কেবল সেগুলোই প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, যেগুলো মুসলমানেরা ঘটায়, যেগুলো জাতিগত-জাতীয়তাবাদী বা উগ্র ডান চরমপন্থীরা চালায় সেগুলো নজরে আসে না, যদিও সেগুলোই অনেক বেশি ঘটে থাকে।
অবশ্য কেবল ডানপন্থী পণ্ডিত আর মিডিয়াই প্যারিস হামলার মতো ঘটনাগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয় না, রাষ্ট্রপ্রধানেরাও তা করেন। প্যারিস হামলার কয়েক মিনিট পরই প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ আর প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশ্বের সামনে বক্তব্য রাখেন, প্রকাশ্যে ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামলাকে ‘জঘন্য, শয়তানি ও ইতরামিপূর্ণ কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর মাত্র এক দিন আগে আরেকটি নৃশংস হামলা হয়েছিল। কিন্তু সেটাকে ঘিরে সরকারি নীরবতা ছিল লণীয়। ১২ নভেম্বর শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত বৈরুতে আইএসআইএসের আত্মঘাতী বোমারুরা অন্তত ৪৩ জনকে হত্যা এবং অন্তত ২৩০ জনকে আহত করেছিল। প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশ্ববাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেননি এবং কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ওই বোমা হামলার নিন্দা করেননি।
বস্তুত, বিপরীতটাই ঘটেছে। মার্কিন মিডিয়ায় আইএসআইএস হামলার শিকার যারা, তাদের হিজবুল্লাহর মানব ঢাল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দুর্ভাগ্যজনক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তাই এ জন্য তারাই দায়ী বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ডানপন্থী পণ্ডিত এই হামলা যৌক্তিক বলে অভিহিত করে বলেছেন, হামলাটি সম্ভবত হয়েছিল হিজবুল্লাহকে ল্য করে।
গত অক্টোবরে তুরস্কে কুর্দিপন্থী একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় ১২৮ জনের নিহত এবং ৫০০ লোকের আহত হওয়ার খবরেও হোয়াইট হাউজ বিচলিত হয়নি।
আরো অবাক ব্যাপার হলো, রাষ্ট্রপ্রধানেরা তখন কোথায় ছিলেন যখন কোয়ালিশন বাহিনী ২৮ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালিয়ে ৮০ জন নারীসহ ১৩১ জন নিরীহ লোককে হত্যা করল? ওই হত্যাকাণ্ডের খবর তেমন প্রচারিত হয়নি, ওবামা ও ওলাঁদ মা চাননি।
ফরাসিদের জীবন কি লেবাননি, তুর্কি, কুর্দি ও ইয়েমেনিদের চেয়ে বেশি দামি? এসব হামলা কেন ‘জঘন্য, শয়তানি ও ইতরামিপূর্ণ কাজ’ হবে না?
অদ্ভুত মিল
আমরা এসব আগেও দেখেছি, এগুলোর মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারির নৃশংস হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল অনুমিত। গৎবাঁধা ইসলামভীতির বুলি কপচিয়ে ওই মর্মান্তিক হামলার আসল কারণ চেপে যাওয়া হয়েছে। শার্লি এবদোতে কার্টুন আঁকার জন্য নয়, ওই হামলা হয়েছিল ইরাকে ভয়ঙ্কর মার্কিন আক্রমণ এবং আবু গারিব কারাগারে নৃশংস নির্যাতনের প্রতিবাদে। ইরাকের ঘটনাই বন্দুকধারীদের প্তি করে তুলেছিল। আরেকটি সত্য চেপে যাওয়া হয়েছে, তা হলোÑ চরমপন্থী হামলাকারীরা ছিল আলজেরিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান। ওই দেশটি কয়েক দশক ধরে জঘন্য ফরাসি উপনিবেশে ছিল। লাখ লাখ আলজেরিয়ানের রক্তের বিনিময়েই কেবল দেশটি স্বাধীনতা পেয়েছিল।
জানুয়ারির প্যারিস হামলার পর সারা বিশ্বের নেতারা সতর্কভাবে পরিকল্পিত একটি ফটোসেশনে যোগ দিতে প্যারিসে সমবেত হয়েছিলেন। আর এসব হামলার জন্য মুসলমানদের কেবল পাইকারিভাবে দায়ীই করা হয় না, তাদের পাইকারিভাবে প্রত্যাঘাতও সহ্য করতে হয়।
জানুয়ারি হামলার মাত্র ছয় দিন পর ন্যাশনাল অবজারভেটরি অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া ফ্রান্সে ইসলাম অনুসারীদের ওপর ৬০টি আক্রমণ ও হুমকি নথিভুক্ত করেছে। মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদী হামলা পর্যবেণকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘টেলমামা’ও ৫০-৬০টি হুমকির খবর দিয়েছে।
আরেকটি কথা, জানুয়ারির প্যারিস হামলার মাত্র কয়েক দিন পর বিশ্ব সম্প্রদায় আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা অনেকাংশেই চেপে গিয়েছিল : বোকো হারাম নাইজেরিয়ায় দুই হাজারের বেশি লোককে গলা কেটে হত্যা করে। আফ্রিকান নিহতরা রাষ্ট্রনায়কদের সমাবেশ পায়নি, কেবল ইসলামি চরমপন্থীদের পাশ্চাত্যের শিকারদের জন্য তা নির্ধারিত।
পাশ্চাত্যের অপরাধ
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যটি অতি সামান্যভাবে আলোচিত হয় তা হলো, ইসলামি চরমপন্থীদের শিকারদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই হলো মুসলমানেরা। তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতেই বাস করে। ২০১২ সালে মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার খবর প্রকাশ করে, গত পাঁচ বছরে ধর্মীয় প্রণোদনায় চালিত সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ৮২ থেকে ৯৭ শতাংশের শিকার হয়েছে মুসলমানেরা। অথচ পাশ্চাত্য এমনভাবে খবর প্রকাশ করে, যেন তারাই প্রধান শিকার; অথচ বিপরীতটাই সত্য।
কেউ কি কখনো প্রশ্ন তুলেছে, কেন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে এত উদ্বাস্তু পালিয়ে আসছে? এমন নয় যে, কোটি কোটি লোক তাদের বাড়িঘর ও পরিবার ফেলে আসতে চায়, আসলে তারা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়, আর ওইসব সহিংসতা আর বিশৃঙ্খলার কারণ প্রায় সব েেত্রই পাশ্চাত্যের সামরিক হস্তপে।
পাশ্চাত্যের দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যভাবে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও ইয়েমেনের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী, এ কারণেই কোটি কোটি উদ্বাস্তু পালাচ্ছে।
ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অবৈধ হামলায় অন্তত ১০ লাখ লোক মারা গেছে এবং পুরো অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট চরম পরিস্থিতিতে আল-কায়েদার মতো জঙ্গি গ্র“পগুলো দাবানলের মতো গজিয়ে উঠেছে। সেগুলোই অবশেষে আইএসআইএসের উত্থান ঘটিয়েছে।
আফগানিস্তানে চলমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর যুদ্ধ ও দখলদারিত্বের কারণে (ওবামা প্রশাসন যেটাকে দ্বিতীয়বারের মতো দীর্ঘায়িত করেছে) আড়াই লাখ লোকের মৃত্যু ঘটেছে, কোটি কোটি আফগান উদ্বাস্তু হয়েছে।
লিবিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর হস্তেেপ দেশটির সরকার ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটি চরমপন্থীদের উর্বর েেত্র পরিণত হয়েছে। উত্তর আফ্রিকায় আইএসআইএসের মতো জঙ্গি গ্র“পগুলোর কার্যক্রম চালানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার লিবীয় নিহত হয়েছে, লাখ লাখ লোক উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের জাতিগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গরিব দেশটির বেসামরিক এলাকায় নিষিদ্ধ গুচ্ছবোমা ফেলতে, অবকাঠামো ধ্বংস করতে। এখানেও একই কাহিনী : হাজার হাজার লোক নিহত, লাখ লাখ লোক উদ্বাস্তু।
সিরিয়া পরিস্থিতি আরেকটু জটিল। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিক্ত যুদ্ধে বিধ্বস্ত, দেশটির অনেক উদ্বাস্তু আসাদ সরকারের নির্মম পীড়ন থেকে রা পেতে পালাচ্ছে। অবশ্য এ জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররাও দায়ী। সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো আল-নুসরা ধরনের মিত্ররা এই সঙ্ঘাত অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলছে।
বলা বাহুল্য, প্যারিসে আইএসআইএস যে হামলা চালিয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেই একই ধরনের সন্ত্রাস থেকে রা পেতেই লাখ লাখ সিরিয়ান উদ্বাস্তু ভিটেমাটি ছেড়ে পালাচ্ছে। চরমপন্থী গ্র“পগুলোর নির্মম সহিংসতা থেকে রা পেলেও পালিয়ে যাওয়া সিরিয়ান ও ইরাকি উদ্বাস্তুদের ফ্রান্স ও অন্যান্য পাশ্চাত্য দেশ আরো করুণ অবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।
দোষ স্খলন
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যখন ইয়েমেন ও আফগানিস্তানে বিয়ে অনুষ্ঠান ও হাসপাতালে বোমা ফেলে শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করে, ‘আমেরিকানরা’ তখন টুইটারে বিশ্বব্যাপী সেটা ছড়িয়ে দেয় না। কিন্তু যখন কথিত ইসলামি চরমপন্থীরা প্যারিসবাসীকে হত্যা করে, তখন ‘মুসলমানেরা’ করে।
সাম্রাজ্যবাদী পাশ্চাত্য সব সময় দোষ অন্যের ঘাড়ে সরিয়ে দেয়। এটা সব সময় বিদেশী, অ-পাশ্চাত্য এবং অন্যদের দোষ, এটা কখনো আলোকিত পাশ্চাত্যের দোষ নয়।
ইসলাম হলো নতুন ‘বলির পাঁঠা’। পুরো জাতির ওপর প্রতিশোধ নেয়া, নিপীড়ক স্বৈরাচারীদের টিকিয়ে রাখা, চরমপন্থী গ্র“পগুলোকে সমর্থন দেয়ার পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের নীতির কথা সহজেই ভুলে যাওয়া হয়।
পাশ্চাত্য তার নিজস্ব সাম্রাজ্যবাদী সহিংসতার সমাধান দিতে অক্ষম। এর বদলে সে তার রক্তরঞ্জিত আঙুল বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলমানের দিকে তাক করে তাদের বলে, তারা জন্মগতভাবেই সহিংস।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্যারিসে আমরা যেসব মর্মান্তিক ঘটনা দেখছি, সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নৈমিত্তিক ঘটনা। আর এসবই ঘটছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ইত্যাদি দেশের সরকারি নীতির কারণে।
এর মানে এই নয় যে, আমরা প্যারিস হামলার জন্য শোক প্রকাশ করব না। এসব ঘটনা অবশ্যই জঘন্য। আমাদের শোক প্রকাশ করতেই হবে। তবে আমাদের সরকারের অপরাধগুলোর জন্যও আমাদের একইভাবে শোক প্রকাশ করা দরকার।
আমরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করি, সব জীবন সমান মূল্যবান; আমরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করি, ফরাসিদের জীবন অন্যদের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়; তবে অবশ্যই আমাদের প্রতিটি জীবনের জন্যই শোক প্রকাশ করতে হবে।
অভ্যাসের বিপদ
আমরা জানি, হামলার প্রতিক্রিয়া এমন। এই পন্থায় চলতে থাকলে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করবে।
সরকারগুলো মধ্যপ্রাচ্যে আরো বেশি পাশ্চাত্য সামরিক হস্তপে করতে যাচ্ছে; আরো বেশি বোমা ফেলবে; আরো বেশি বন্দুক পাঠাবে। কট্টর ডানপন্থী সিনেটর টেড ক্রুজ সাথে সাথেই ‘বেসামরিক লোকদের জন্য, আরো সহিষ্ণুতার জন্য’ বিমান হামলার দাবি জানিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই কোনো ব্যক্তিবিশেষের সন্ত্রাসের জবাব দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের মাধ্যমে।
দেশে আমরা আরো বেশি বেড়া, আরো বেশি পুলিশ, আরো বেশি তদারকির আহ্বান জানাব। প্যারিস হামলার সাথে সাথে ফ্রান্স তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। হামলার খবর পাওয়ামাত্র যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ সেখানকার কোনো কোনো অংশকে সামরিকায়ন করতে শুরু করে দিয়েছে।
প্রাধান্য বিস্তারসূচক ‘সমাধানে’ সব সময়ই দেশে ও বিদেশে আরো বেশি সামরিকায়ন হয়ে থাকে। অথচ বাস্তবতা হলো, সমস্যার কারণ হচ্ছে এর উৎপত্তিস্থলে সামরিকায়ন।
নৃশংস ৯/১১ হামলার সময় আলকায়েদা ছিল তুলনামূলক ছোট ও বিচ্ছিন্ন গ্রুপ। ইরাক দখল করার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সৃষ্ট চরম সহিংসতাপূর্ণ অবস্থা, হতাশা, সম্প্রদায়গত সঙ্ঘাত বিশ্বজুড়ে আলকায়েদাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সামরিকবাদের প্রতি আসক্ত পাশ্চাত্য চরমপন্থীদের সাথে হাত মিলিয়ে চলেছে। আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি, পচা আসক্তি নিয়ে আসছে পচা ফল : আইএসআইএস হলো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের ফ্রাঙ্কেনস্টেইনের দৈত্য।
আমাদের সরকারগুলো যদি একনায়কদের কাছে অস্ত্র বিক্রির কৌশল চালিয়ে যায়, তবে প্যারিসের মতো হামলা কেবল চলতেই থাকবে না, আরো বেশি বেশি হবে; ডানপন্থীরা বাড়তেই থাকবে। আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক নব্য নাৎসিবাদীরা তাদের শক্তি আরো বাড়িয়ে নেবে। লোকজন চরম ভাবাপন্ন হয়ে পড়বে।
জাতিগত-জাতীয়তাবাদী বা উগ্র ডানপন্থীদের হামলার ঘটনা ইতোমধ্যেই ইউরোপ ও আমেরিকায় সন্ত্রাসের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। এটা আরো বাড়তেও পারে। পণ্ডিতেরা মুসলিমবিদ্বেষী গোঁড়ামি আরো চাঙ্গা করবেন, উদ্বাস্তুবিরোধী উত্তেজনা আরো বাড়াবেন। আর সেটা করতে গিয়ে তারা পরিস্থিতির কেবল অবনতিই ঘটাবেন।
আমাদের সরকারগুলো দেশে ও বিদেশে কী করছে, সেটা গভীরভাবে ভাবতে ভয়াবহ প্যারিস হামলাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করার অবকাশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা যদি গভীরভাবে চিন্তা না করি, যদি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই, সহিংসতার রাস্তা ধরি, তবে ত আরো বাড়বেই। রক্তপাত শেষ পর্যন্ত আরো বেগবান হবে।
সংেেপ বলা যায়, প্যারিস হামলার প্রতিক্রিয়ায় যারা সামরিকায়ন এবং মুসলিমবিরোধী ও উদ্বাস্তুবিরোধী নীতি অব্যাহত রাখতে চায়, তারা আসলে সহিংসতা আর ঘৃণাকেই কেবল আরো উসকে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বৃত্তের যদি পরিবর্তন না হয়, তবে সহিংসতার বৃত্তও চলতে থাকবে।
নাইন-ইলেভেনের পর যখনই বেসামরিক কোনো হামলা হয়েছে, জননেতারা সাথে সাথে এর জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন মুসলমানদের। তাদের হাতে তেমন কোনো প্রমাণ থাকে না, কিন্তু মুসলিমবিদ্বেষী গোঁড়ামির স্থূলবুদ্ধিকেই তারা ব্যবহার করেন তাদের অভিযোগকে জোরদার করতে। অথচ সত্যিকারের প্রমাণ অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে, তার দুই শতাংশেরও কম ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০১৩ সালে ১৫২টি সন্ত্রাসী হামলার মাত্র ১ শতাংশ ছিল ওই প্রকৃতির, ২০১২ সালে ২১৯টি সন্ত্রাসী হামলার ৩ শতাংশেরও কম ছিল ধর্মীয়ভাবে উদ্দীপ্ত।
বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসী হামলাগুলোর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো জাতিগত-জাতীয়তাবাদী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী। ২০১৩ সালের সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ৫৫ শতাংশ ছিল জাতিগত-জাতীয়তাবাদী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী, ২০১২ সালে তিন-চতুর্থাংশ (৭৬ শতাংশ) সন্ত্রাসী হামলা ছিল জাতিগত-জাতীয়তাবাদ কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রণোদিত। কিন্তু এসব তথ্য পূর্বধারণায় বশীভূত পণ্ডিতদের তাদের নিজস্ব মতবাদে অনড় থাকা থেকে নড়াতে পারছে না।
গত ১৩ নভেম্বর প্যারিসে জঙ্গিদের কয়েকটি জঘন্য হামলায় অন্তত ১৩০ জনের মতো নিহত হয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনার ব্যাপারে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়ায় কয়েকটি স্তরের ভণ্ডামি রয়েছে। এসব নৃশংস হামলা সৃষ্টির বৃহত্তর প্রোপট বোঝা এবং চূড়ান্তভাবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের হামলা আর না হয়, সে জন্য এই ভণ্ডামিগুলোকে নিখুঁতভাবে শ্রেণিবিন্যস্ত করতে হবে।
চরমপন্থার সুযোগ গ্রহণ
হামলাগুলোর খবর প্রকাশের সাথে সাথে, যখন কোনো প্রমাণ ছিল না এবং হামলাকারীদের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র তথ্য ছিল না, তখন ডানপন্থী মহা মহা পণ্ডিতেরা সাথে সাথে মুসলমানদের এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে আসা উদ্বাস্তুদের ভয়ঙ্কর হিসেবে তুলে ধরতে এই সহিংসতাকে তাদের সাথে জড়িয়ে ফেলার সুযোগটি লুফে নিলেন।
হতাহতের শিকারদের চেয়েও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে নেতারা একযোগে চিৎকার করে, অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে এবং এমনকি সেগুলো অস্বীকার পর্যন্ত করার জন্য নৃশংস হামলার সুযোগটি কাজে লাগাতে মেতে ওঠেন। তারা সোজাসুজি মৌলিক নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ কর্মী, ন্যূনতম মজুরি দাবিকারী ফাস্টফুড শ্রমিক এবং ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থা থেকে মুক্তি কামনাকারী শ্রমিক ইউনিয়ন ও ছাত্রদের বলে বসেন, তোমাদের সমস্যাগুলো খুবই তুচ্ছ। কারণ তোমরা বন্দুকের মুখে পণবন্দী নও।
আরো গুরুতর ব্যাপার হলো, যখন প্রমাণ পাওয়া যেতে শুরু করল যে, এই হামলার জন্য চরমপন্থীরা দায়ী এবং যখন আইএসআইএস দায় স্বীকার করল, তখন নেতারা বলে বসলেন, ১৬০ কোটি মানুষের ধর্ম ইসলামের ওপর সব দোষ বর্তাবে এবং মুসলিম উদ্বাস্তুরা (তাদের বেশির ভাগ মুসলমান হলেও সবাই নয়) প্রধানত এ ধরনের হামলা চালানোর জন্যই পাশ্চাত্যে প্রবেশ করছে।
মুসলিম ও উদ্বাস্তুদের পীড়ন
যখনই ইসলামি চরমপন্থীরা কোনো হামলা চালায়, তখনই ১৬০ কোটি মুসলমানের কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে মা প্রত্যাশা করা হয়, এই পর্যায়ে এটা জমাট বাঁধা ধারণায় পরিণত হয়ে গেছে।
মুসলমান ও উদ্বাস্তুদের ওপর পীড়ন চালিয়ে কারা উপকৃত হচ্ছে? এতে উপকৃত হয় প্রধানত দুটি গ্র“প : এক. খোদ চরমপন্থী গ্র“পগুলো। তাদের মতে, দমন-পীড়ন এটাই ‘প্রমাণ’ করে যে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সেকুলার পাশ্চাত্যে দৃশ্যত মুসলমানদের কোনো স্থান নেই। দুই. ইউরোপের ক্রমবর্ধমান উগ্র ডানপন্থীরা। তাদের মতে, হামলা এটাই ‘প্রমাণ’ করে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সেকুলার পাশ্চাত্যে দৃশ্যত মুসলমানদের কোনো স্থান নেই।
তারা যদিও পরস্পরের শত্র“, কিন্তু উভয় গ্র“পের মধ্যে এ ব্যাপারে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। উগ্র ডানপন্থীরা চায় মুসলমান এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর উদ্বাস্তুরা (এমনকি যদি তারা মুসলমান না-ও হয়) পাশ্চাত্য ত্যাগ করুক। তাদের মতে, তারা জন্মগতভাবেই সহিংস সন্ত্রাসী। ইসলামি চরমপন্থীরা চায় মুসলিম উদ্বাস্তুরা চলে যাক, যাতে তারা চরমভাবাপন্ন হয়ে তাদের খিলাফতে যোগ দেয়।
আরো তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, জোর গলায় বলে দেয়া যায় যে, মুসলিম ও উদ্বাস্তুদের ওপর দমন-পীড়নে ইউরোপের ক্রমবর্ধমান উগ্র ডানপন্থী আন্দোলন লাভবান হতে থাকবে এবং মুসলিমবিদ্বেষী ও উদ্বাস্তুবিরোধী প্রপাগান্ডার মাধ্যম নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করা অব্যাহত রাখবে।
আইএসআইএস প্রকাশ্যেই বলেছে, তাদের ল্য হলো তাদের কথিত ‘গ্রে-জোন’-এর (বলা যেতে পারে পাশ্চাত্যে মুসলমানদের গ্রহণ করা) বিলুপ্তিসাধন। আইএসআইএসের নিজস্ব প্রকাশনায় বলা হয়েছে, গ্রে-জোন বিলুপ্তির ভয়ঙ্কর কাজ শুরু হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বরের ‘বরকতময়’ অভিযানের মাধ্যমে। এসব অভিযান পৃথিবীর মানুষের কাছে দু’টি শিবিরকে তুলে ধরেছে : একটি হলো ইসলামের শিবির, অপরটি হলো কুফরের শিবির (ক্রুসেডার জোট)।’
পাশ্চাত্যের উগ্র ডানপন্থী ও ইসলামি চরমপন্থীদের স্বার্থ একাকার হয়ে গেছে। আইএসআইএস সুস্পষ্টভাবেই যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে, তাতে কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশএবং তার একগুঁয়ে শত্র“ আলকায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মনের কথাই বলা হয়েছে। আইএসআইএস লিখেছে : “শায়খ ওসামা বিন্ লাদেন যেভাবে বলেছেন, ‘বিশ্ব আজ দুই শিবিরে বিভক্ত;’ বুশ যখন বলেন, তোমরা আমাদের সাথে কিংবা তোমরা সন্ত্রাসীদের সাথে’ তখন তিনি সত্য কথাই বলেন।’ অর্থাৎ হয় তুমি ক্রুসেডারের সাথে কিংবা ইসলামের সাথে।”
আইএসআইএসকে ভাইরাস হিসেবে চলার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে আমরা স্রেফ তাদের ধর্ষকামী ল্যগুলো পূরণ করতে সহায়তা করছি।
এ দিকে ফরাসি উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি বিশেষভাবে লাভবান হচ্ছে। জনৈক নব্য নাৎসির গঠিত দলটিকে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার বিচ্ছেদপ্রাপ্তা মেয়ে ম্যারিন লি পেন। তিনি মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন; ভণ্ডামির সাথে তাদের নাৎসি দখলদার হিসেবে অভিহিত করছেন। ন্যাশনাল ফ্রন্টকে ‘ফ্যাসিবাদী’ দল বলা যুক্তিসম্মত বলে ২০১৪ সালে প্যারিসের একটি আদালত রায় দিয়েছিল।
প্যারিস হামলার আগে লি পেনের উগ্র ডানপন্থী আন্দোলন ছিল ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। এখন তারা হয়তো প্রথম দলে পরিণত হয়ে গেছে।
যে গণহত্যাগুলো উপো করা হয়
ইউরোপে প্রতি বছর শত শত হামলা হয়ে থাকে। তবে কেবল সেগুলোই প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, যেগুলো মুসলমানেরা ঘটায়, যেগুলো জাতিগত-জাতীয়তাবাদী বা উগ্র ডান চরমপন্থীরা চালায় সেগুলো নজরে আসে না, যদিও সেগুলোই অনেক বেশি ঘটে থাকে।
অবশ্য কেবল ডানপন্থী পণ্ডিত আর মিডিয়াই প্যারিস হামলার মতো ঘটনাগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয় না, রাষ্ট্রপ্রধানেরাও তা করেন। প্যারিস হামলার কয়েক মিনিট পরই প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ আর প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশ্বের সামনে বক্তব্য রাখেন, প্রকাশ্যে ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামলাকে ‘জঘন্য, শয়তানি ও ইতরামিপূর্ণ কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর মাত্র এক দিন আগে আরেকটি নৃশংস হামলা হয়েছিল। কিন্তু সেটাকে ঘিরে সরকারি নীরবতা ছিল লণীয়। ১২ নভেম্বর শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত বৈরুতে আইএসআইএসের আত্মঘাতী বোমারুরা অন্তত ৪৩ জনকে হত্যা এবং অন্তত ২৩০ জনকে আহত করেছিল। প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশ্ববাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেননি এবং কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ওই বোমা হামলার নিন্দা করেননি।
বস্তুত, বিপরীতটাই ঘটেছে। মার্কিন মিডিয়ায় আইএসআইএস হামলার শিকার যারা, তাদের হিজবুল্লাহর মানব ঢাল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দুর্ভাগ্যজনক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তাই এ জন্য তারাই দায়ী বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ডানপন্থী পণ্ডিত এই হামলা যৌক্তিক বলে অভিহিত করে বলেছেন, হামলাটি সম্ভবত হয়েছিল হিজবুল্লাহকে ল্য করে।
গত অক্টোবরে তুরস্কে কুর্দিপন্থী একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় ১২৮ জনের নিহত এবং ৫০০ লোকের আহত হওয়ার খবরেও হোয়াইট হাউজ বিচলিত হয়নি।
আরো অবাক ব্যাপার হলো, রাষ্ট্রপ্রধানেরা তখন কোথায় ছিলেন যখন কোয়ালিশন বাহিনী ২৮ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালিয়ে ৮০ জন নারীসহ ১৩১ জন নিরীহ লোককে হত্যা করল? ওই হত্যাকাণ্ডের খবর তেমন প্রচারিত হয়নি, ওবামা ও ওলাঁদ মা চাননি।
ফরাসিদের জীবন কি লেবাননি, তুর্কি, কুর্দি ও ইয়েমেনিদের চেয়ে বেশি দামি? এসব হামলা কেন ‘জঘন্য, শয়তানি ও ইতরামিপূর্ণ কাজ’ হবে না?
অদ্ভুত মিল
আমরা এসব আগেও দেখেছি, এগুলোর মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারির নৃশংস হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল অনুমিত। গৎবাঁধা ইসলামভীতির বুলি কপচিয়ে ওই মর্মান্তিক হামলার আসল কারণ চেপে যাওয়া হয়েছে। শার্লি এবদোতে কার্টুন আঁকার জন্য নয়, ওই হামলা হয়েছিল ইরাকে ভয়ঙ্কর মার্কিন আক্রমণ এবং আবু গারিব কারাগারে নৃশংস নির্যাতনের প্রতিবাদে। ইরাকের ঘটনাই বন্দুকধারীদের প্তি করে তুলেছিল। আরেকটি সত্য চেপে যাওয়া হয়েছে, তা হলোÑ চরমপন্থী হামলাকারীরা ছিল আলজেরিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান। ওই দেশটি কয়েক দশক ধরে জঘন্য ফরাসি উপনিবেশে ছিল। লাখ লাখ আলজেরিয়ানের রক্তের বিনিময়েই কেবল দেশটি স্বাধীনতা পেয়েছিল।
জানুয়ারির প্যারিস হামলার পর সারা বিশ্বের নেতারা সতর্কভাবে পরিকল্পিত একটি ফটোসেশনে যোগ দিতে প্যারিসে সমবেত হয়েছিলেন। আর এসব হামলার জন্য মুসলমানদের কেবল পাইকারিভাবে দায়ীই করা হয় না, তাদের পাইকারিভাবে প্রত্যাঘাতও সহ্য করতে হয়।
জানুয়ারি হামলার মাত্র ছয় দিন পর ন্যাশনাল অবজারভেটরি অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া ফ্রান্সে ইসলাম অনুসারীদের ওপর ৬০টি আক্রমণ ও হুমকি নথিভুক্ত করেছে। মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদী হামলা পর্যবেণকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘টেলমামা’ও ৫০-৬০টি হুমকির খবর দিয়েছে।
আরেকটি কথা, জানুয়ারির প্যারিস হামলার মাত্র কয়েক দিন পর বিশ্ব সম্প্রদায় আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা অনেকাংশেই চেপে গিয়েছিল : বোকো হারাম নাইজেরিয়ায় দুই হাজারের বেশি লোককে গলা কেটে হত্যা করে। আফ্রিকান নিহতরা রাষ্ট্রনায়কদের সমাবেশ পায়নি, কেবল ইসলামি চরমপন্থীদের পাশ্চাত্যের শিকারদের জন্য তা নির্ধারিত।
পাশ্চাত্যের অপরাধ
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যটি অতি সামান্যভাবে আলোচিত হয় তা হলো, ইসলামি চরমপন্থীদের শিকারদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই হলো মুসলমানেরা। তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতেই বাস করে। ২০১২ সালে মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার খবর প্রকাশ করে, গত পাঁচ বছরে ধর্মীয় প্রণোদনায় চালিত সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ৮২ থেকে ৯৭ শতাংশের শিকার হয়েছে মুসলমানেরা। অথচ পাশ্চাত্য এমনভাবে খবর প্রকাশ করে, যেন তারাই প্রধান শিকার; অথচ বিপরীতটাই সত্য।
কেউ কি কখনো প্রশ্ন তুলেছে, কেন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে এত উদ্বাস্তু পালিয়ে আসছে? এমন নয় যে, কোটি কোটি লোক তাদের বাড়িঘর ও পরিবার ফেলে আসতে চায়, আসলে তারা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়, আর ওইসব সহিংসতা আর বিশৃঙ্খলার কারণ প্রায় সব েেত্রই পাশ্চাত্যের সামরিক হস্তপে।
পাশ্চাত্যের দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যভাবে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও ইয়েমেনের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী, এ কারণেই কোটি কোটি উদ্বাস্তু পালাচ্ছে।
ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অবৈধ হামলায় অন্তত ১০ লাখ লোক মারা গেছে এবং পুরো অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট চরম পরিস্থিতিতে আল-কায়েদার মতো জঙ্গি গ্র“পগুলো দাবানলের মতো গজিয়ে উঠেছে। সেগুলোই অবশেষে আইএসআইএসের উত্থান ঘটিয়েছে।
আফগানিস্তানে চলমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর যুদ্ধ ও দখলদারিত্বের কারণে (ওবামা প্রশাসন যেটাকে দ্বিতীয়বারের মতো দীর্ঘায়িত করেছে) আড়াই লাখ লোকের মৃত্যু ঘটেছে, কোটি কোটি আফগান উদ্বাস্তু হয়েছে।
লিবিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর হস্তেেপ দেশটির সরকার ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটি চরমপন্থীদের উর্বর েেত্র পরিণত হয়েছে। উত্তর আফ্রিকায় আইএসআইএসের মতো জঙ্গি গ্র“পগুলোর কার্যক্রম চালানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার লিবীয় নিহত হয়েছে, লাখ লাখ লোক উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের জাতিগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গরিব দেশটির বেসামরিক এলাকায় নিষিদ্ধ গুচ্ছবোমা ফেলতে, অবকাঠামো ধ্বংস করতে। এখানেও একই কাহিনী : হাজার হাজার লোক নিহত, লাখ লাখ লোক উদ্বাস্তু।
সিরিয়া পরিস্থিতি আরেকটু জটিল। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিক্ত যুদ্ধে বিধ্বস্ত, দেশটির অনেক উদ্বাস্তু আসাদ সরকারের নির্মম পীড়ন থেকে রা পেতে পালাচ্ছে। অবশ্য এ জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররাও দায়ী। সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো আল-নুসরা ধরনের মিত্ররা এই সঙ্ঘাত অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলছে।
বলা বাহুল্য, প্যারিসে আইএসআইএস যে হামলা চালিয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেই একই ধরনের সন্ত্রাস থেকে রা পেতেই লাখ লাখ সিরিয়ান উদ্বাস্তু ভিটেমাটি ছেড়ে পালাচ্ছে। চরমপন্থী গ্র“পগুলোর নির্মম সহিংসতা থেকে রা পেলেও পালিয়ে যাওয়া সিরিয়ান ও ইরাকি উদ্বাস্তুদের ফ্রান্স ও অন্যান্য পাশ্চাত্য দেশ আরো করুণ অবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।
দোষ স্খলন
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যখন ইয়েমেন ও আফগানিস্তানে বিয়ে অনুষ্ঠান ও হাসপাতালে বোমা ফেলে শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করে, ‘আমেরিকানরা’ তখন টুইটারে বিশ্বব্যাপী সেটা ছড়িয়ে দেয় না। কিন্তু যখন কথিত ইসলামি চরমপন্থীরা প্যারিসবাসীকে হত্যা করে, তখন ‘মুসলমানেরা’ করে।
সাম্রাজ্যবাদী পাশ্চাত্য সব সময় দোষ অন্যের ঘাড়ে সরিয়ে দেয়। এটা সব সময় বিদেশী, অ-পাশ্চাত্য এবং অন্যদের দোষ, এটা কখনো আলোকিত পাশ্চাত্যের দোষ নয়।
ইসলাম হলো নতুন ‘বলির পাঁঠা’। পুরো জাতির ওপর প্রতিশোধ নেয়া, নিপীড়ক স্বৈরাচারীদের টিকিয়ে রাখা, চরমপন্থী গ্র“পগুলোকে সমর্থন দেয়ার পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের নীতির কথা সহজেই ভুলে যাওয়া হয়।
পাশ্চাত্য তার নিজস্ব সাম্রাজ্যবাদী সহিংসতার সমাধান দিতে অক্ষম। এর বদলে সে তার রক্তরঞ্জিত আঙুল বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলমানের দিকে তাক করে তাদের বলে, তারা জন্মগতভাবেই সহিংস।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্যারিসে আমরা যেসব মর্মান্তিক ঘটনা দেখছি, সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নৈমিত্তিক ঘটনা। আর এসবই ঘটছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ইত্যাদি দেশের সরকারি নীতির কারণে।
এর মানে এই নয় যে, আমরা প্যারিস হামলার জন্য শোক প্রকাশ করব না। এসব ঘটনা অবশ্যই জঘন্য। আমাদের শোক প্রকাশ করতেই হবে। তবে আমাদের সরকারের অপরাধগুলোর জন্যও আমাদের একইভাবে শোক প্রকাশ করা দরকার।
আমরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করি, সব জীবন সমান মূল্যবান; আমরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করি, ফরাসিদের জীবন অন্যদের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়; তবে অবশ্যই আমাদের প্রতিটি জীবনের জন্যই শোক প্রকাশ করতে হবে।
অভ্যাসের বিপদ
আমরা জানি, হামলার প্রতিক্রিয়া এমন। এই পন্থায় চলতে থাকলে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করবে।
সরকারগুলো মধ্যপ্রাচ্যে আরো বেশি পাশ্চাত্য সামরিক হস্তপে করতে যাচ্ছে; আরো বেশি বোমা ফেলবে; আরো বেশি বন্দুক পাঠাবে। কট্টর ডানপন্থী সিনেটর টেড ক্রুজ সাথে সাথেই ‘বেসামরিক লোকদের জন্য, আরো সহিষ্ণুতার জন্য’ বিমান হামলার দাবি জানিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই কোনো ব্যক্তিবিশেষের সন্ত্রাসের জবাব দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের মাধ্যমে।
দেশে আমরা আরো বেশি বেড়া, আরো বেশি পুলিশ, আরো বেশি তদারকির আহ্বান জানাব। প্যারিস হামলার সাথে সাথে ফ্রান্স তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। হামলার খবর পাওয়ামাত্র যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ সেখানকার কোনো কোনো অংশকে সামরিকায়ন করতে শুরু করে দিয়েছে।
প্রাধান্য বিস্তারসূচক ‘সমাধানে’ সব সময়ই দেশে ও বিদেশে আরো বেশি সামরিকায়ন হয়ে থাকে। অথচ বাস্তবতা হলো, সমস্যার কারণ হচ্ছে এর উৎপত্তিস্থলে সামরিকায়ন।
নৃশংস ৯/১১ হামলার সময় আলকায়েদা ছিল তুলনামূলক ছোট ও বিচ্ছিন্ন গ্রুপ। ইরাক দখল করার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সৃষ্ট চরম সহিংসতাপূর্ণ অবস্থা, হতাশা, সম্প্রদায়গত সঙ্ঘাত বিশ্বজুড়ে আলকায়েদাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সামরিকবাদের প্রতি আসক্ত পাশ্চাত্য চরমপন্থীদের সাথে হাত মিলিয়ে চলেছে। আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি, পচা আসক্তি নিয়ে আসছে পচা ফল : আইএসআইএস হলো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের ফ্রাঙ্কেনস্টেইনের দৈত্য।
আমাদের সরকারগুলো যদি একনায়কদের কাছে অস্ত্র বিক্রির কৌশল চালিয়ে যায়, তবে প্যারিসের মতো হামলা কেবল চলতেই থাকবে না, আরো বেশি বেশি হবে; ডানপন্থীরা বাড়তেই থাকবে। আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক নব্য নাৎসিবাদীরা তাদের শক্তি আরো বাড়িয়ে নেবে। লোকজন চরম ভাবাপন্ন হয়ে পড়বে।
জাতিগত-জাতীয়তাবাদী বা উগ্র ডানপন্থীদের হামলার ঘটনা ইতোমধ্যেই ইউরোপ ও আমেরিকায় সন্ত্রাসের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। এটা আরো বাড়তেও পারে। পণ্ডিতেরা মুসলিমবিদ্বেষী গোঁড়ামি আরো চাঙ্গা করবেন, উদ্বাস্তুবিরোধী উত্তেজনা আরো বাড়াবেন। আর সেটা করতে গিয়ে তারা পরিস্থিতির কেবল অবনতিই ঘটাবেন।
আমাদের সরকারগুলো দেশে ও বিদেশে কী করছে, সেটা গভীরভাবে ভাবতে ভয়াবহ প্যারিস হামলাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করার অবকাশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা যদি গভীরভাবে চিন্তা না করি, যদি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই, সহিংসতার রাস্তা ধরি, তবে ত আরো বাড়বেই। রক্তপাত শেষ পর্যন্ত আরো বেগবান হবে।
সংেেপ বলা যায়, প্যারিস হামলার প্রতিক্রিয়ায় যারা সামরিকায়ন এবং মুসলিমবিরোধী ও উদ্বাস্তুবিরোধী নীতি অব্যাহত রাখতে চায়, তারা আসলে সহিংসতা আর ঘৃণাকেই কেবল আরো উসকে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বৃত্তের যদি পরিবর্তন না হয়, তবে সহিংসতার বৃত্তও চলতে থাকবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1433)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 27
(18)
- ৩ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা
- অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্টাফদের পরিবারকে দেশে ফেরার প...
- সামরিকায়ন ও মুসলিমবিরোধী নীতি by বেন নর্টন
- ‘রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাই’ -এরশাদ
- দেশ ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে চলছে : সিরাজুল...
- বাতরোগের চিকিৎসায় সার্জারি by ডা. মিজানুর রহমান কল...
- নদী, জলাশয় বা পাড় ইজারা হয় না : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন
- সহজ প্রেমের গল্প by নাসরীন জাহান
- মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে...
- নির্বাচন : আমরা কি আবার হোঁচট খাবো? by সৈয়দ মোয়াজ...
- পুতিনের কড়া সমালোচনায় এরদোগান
- সিরিয়ায় বিমান হামলার বিপক্ষে ব্রিটিশ লেবার দলের নেতা
- ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বললে গর্দান যায় তো যাক : মমতা
- সিসিকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে by ডেভিড হার্স্ট
- হত্যার বিচার চান না মিলনের মা
- ক্লাস শেষে ছাত্রদের সঙ্গে যৌনতা, ধৃত শিক্ষিকা
- ‘খাওন চাইলে খুন্তি গরম কইরা ছেঁকা দিত’
- ৪ ঘণ্টা বন্দি ছিলেন ওয়াসফিয়া
-
▼
Nov 27
(18)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment