পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি পরীক্ষা করুন

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, ফুকুশিমা বিপর্যয় পরমাণুশক্তির ওপর মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। যেসব দেশেপারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সেসব দেশকে তাদের কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি পরীক্ষা করে দেখার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আইএইএর কার্যালয়ে শুরু হওয়া সম্মেলনে ইউকিয়া আমানো এসব কথা বলেন। পাঁচ দিন ধরে এ সম্মেলন চলবে।
আগামী ১৮ মাসের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সব পারমাণবিক চুল্লির ঝুঁকির মাত্রা যাচাই করার জন্য আহ্বান জানান আমানো। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ জন্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ অপরিহার্য।
আমানো আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক দিন বিশ্ববাসীর চোখ থাকবে আমাদের ওপর।’ তিনি বলেন, ফুকুশিমার বিপর্যয়ের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের আস্থা প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খেয়েছে।
জাপানের ফুকুশিমায় দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে ভিয়েনায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। পরমাণুশক্তিকে কীভাবে আরও নিরাপদ করা যায়, সম্মেলনে এ নিয়ে আলোচনা করছেন ১৫০টি দেশের কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে পারমাণবিক দুর্ঘটনা এড়াতে কতটা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দরকার, তা নিয়ে বৈঠকে মতপার্থক্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১১ মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জার্মানি, ইতালিসহ কয়েকটি দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিত্যাগের ঘোষণা দেয়। তবে ইউকিয়া আমানো বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ এখনো অনেক দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, পরমাণু বিপর্যয় কোনো সীমানা মানে না। সুতরাং পারমাণবিক নিরাপত্তার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ অপরিহার্য।
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর জাপানের সরকার যেভাবে দুর্ঘটনা মোকাবিলা করেছে, তার সমালোচনা করেছে আইএইএ। বিশেষ করে পরমাণুসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএইএর যে নিয়মনীতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জাপানের সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। আইএইএর প্রতিবেদনে এ সমালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনটি আইএইএর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গত মাসে পরমাণু বিশেষজ্ঞদের জাপান সফরের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিরাপত্তার মানদণ্ড পর্যালোচনা করতে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, এ সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করে এক বছরের মধ্যে তাঁর কাছে জমা দেওয়ার জন্য আইএইএ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আমানো