Sunday, March 23, 2025
ট্রাম্পের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ by সাইমন টিসডাল
ট্রাম্পের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ by সাইমন টিসডাল
মার্কিন শুল্কনীতি ট্রাম্প বদলে দিচ্ছেন ব্যাপকভাবে। সেই বদল হিমবাহে ধাক্কা লাগা টাইটানিক জাহাজের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে ডোবাবে বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের ওপর তাঁর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাগুলো ইতিমধ্যে শেয়ারবাজারে ধস নামিয়েছে। শঙ্কা হচ্ছে মারাত্মক মূল্যস্ফীতির। অথচ ট্রাম্প তাঁর ভোটারদের এসবের ঠিক উল্টো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বড় করার নয়। কিন্তু তিনি কানাডা আক্রমণের হুমকি দিলেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য করার ইচ্ছা জাহির করলেন। কানাডা স্বাভাবিকভাবেই খুব ক্ষুব্ধ। তারা মার্কিন পণ্য বর্জন করছে এবং পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।
ট্রাম্প একাই নতুন জীবন দিয়েছেন ঝামেলায় পড়া জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টিকে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধান মার্ক কার্নির নেতৃত্বে দলটি এবার ট্রাম্পবিরোধী ইস্যুতে নির্বাচনে জেতার ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। অথচ পরিকল্পনাটা এমন ছিল না।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের ভোটাররা পুতিন-স্টাইলের সাম্রাজ্যবাদী দখলের প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে দূরে থাকতে বলেছেন। তাঁরা স্বাধীনতা নিয়ে নিশ্চিত নন। তবে তাঁরা মার্কিন (বা ড্যানিশ) নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্পের ইউক্রেন নীতিও আরেকটি বিপর্যয়। রাশিয়া হামলাকারী। অথচ ট্রাম্প শাস্তি দিচ্ছেন ভুক্তভোগীকে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে কেবল কিয়েভের ওপর। ফলে ভ্লাদিমির পুতিন আরও আক্রমণ বাড়ানোর সাহস পাচ্ছেন, বিশেষ করে কুরস্কে। আর ট্রাম্পকে বোকা বানিয়ে সময় নিচ্ছেন।
এই অন্যায় শাস্তির ফল হবে রাশিয়ার অযাচিত পুনর্বাসন, পুতিনের যুদ্ধাপরাধের জন্য কার্যত ক্ষমা, জোর করে দখল করা ভূখণ্ড ধরে রাখার একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বিভাজন। প্রশ্নটা আবার উঠছে—এটা কি সত্যিই অনিচ্ছাকৃত? ট্রাম্প কি কারও আজ্ঞাবহ, কেজিবির এজেন্ট, নাকি নিছক নির্বোধ।
গত সপ্তাহে এ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্ভবত তিনি জানেনই না তিনি কী করছেন। অথবা আদৌ কোনো পরোয়া করেন না। তা না হলে শুল্ক নিয়ে নিজের যুক্তি প্রমাণ করতে গিয়ে বৈশ্বিক মন্দা ডেকে আনার মানে কী? বা তিনি কীভাবে ভাবেন যে গাজায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জাতিগতভাবে উচ্ছেদ করে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে?
ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য চীন। আর তিনি মস্কোকে বেইজিং থেকে আলাদা করতে চাইছেন। এটাও এক উল্টো ভাবনা। এই দুই রাষ্ট্রের লক্ষ্য এক—পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে দুর্বল করা ও দখল করা। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, ট্রাম্প তাদের এই লক্ষ্যে সাহায্য করছেন।
ট্রাম্প ও তাঁর অপরিণত উপদেষ্টারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারেন যে রাশিয়াকে এমন এক লজ্জাজনক বিজয় উপহার দিলে শান্তি আসবে না। বরং ভবিষ্যতে ন্যাটোর মিত্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন সংঘাত তৈরি হবে। এই নজির বিশ্বব্যাপী আরও সব আইন ভাঙার জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। হয়তো আসলেও তারা বুঝতেই পারছে না।
‘ট্রাম্পের আগে আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিহাস বিষয়ে এতটা অজ্ঞ ছিলেন না। ওনার আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এতটা অক্ষম ছিলেন না’—কথাগুলো বলেছেন রক্ষণশীল বিশ্লেষক ব্রেট স্টিফেনস। ‘গণতন্ত্র অন্ধকারে মারা যেতে পারে, একনায়কত্বেও মারা যেতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের অধীন গণতন্ত্র নির্বুদ্ধিতার হাতেও মরতে পারে।’ সবচেয়ে বড় কথা হলো ট্রাম্পের এই অজ্ঞতা ইচ্ছাকৃত।
ট্রাম্পের একের পর এক করে যাওয়া ভুলের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্রের দ্রুত বিস্তার। তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছেন। তখন জার্মানি, পোল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ব্যাপারে জরুরি আলোচনা করছে। ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরও একই কথা ভাবছে। যদিও তাদের কারণ ভিন্ন।
ট্রাম্প দাবি করেন যে তিনি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে। বিশ্লেষক ডব্লিউ জে হেনিগান লিখেছেন, ‘তাঁর নীতিগুলো ঠিক উল্টো ফল দিচ্ছে। ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ দ্রুত বেড়ে গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা দিতে পারবে—এ বিষয়ে তাদের আস্থা কমে গেছে।’
ইরানের ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে কীভাবে ট্রাম্প নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারেন। তিনি নিজেকে শান্তির দেবতা ভাবতে ভালোবাসেন। তাই তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলছেন, নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করো, নইলে ফল ভালো হবে না। এই ‘ধমক’ ইরানের নেতাদের আরও ক্ষিপ্ত করেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সমভাবনা গেছে বেড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত এখন কেবল যেন সময়ের ব্যাপার।
ট্রাম্পের অনুসারীরা তাঁর ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে বরং সেগুলো অনুকরণ করছেন। তাঁর উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্তের ঘোরপ্যাঁচে অনুসারীরা নিজেদেরও হাস্যকরভাবে বিপদে ফেলছে। যেমন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রযুক্তি-মিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক গত মাসে ইউরোপের ‘উদারপন্থীদের’ তীব্র আক্রমণ করে জার্মানির কট্টর-ডানপন্থী আফডি পার্টিকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু এর ফল হয়েছে তাদের প্রত্যাশার পুরো বিপরীত।
জার্মান ভোটাররা নতুন ফ্যাসিবাদীদের প্রত্যাখ্যান করেছে। মাস্কের ব্যবসা বয়কট করা হচ্ছে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন ট্রাম্প ও পুতিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিচ্ছে। ভ্যান্স-মাস্কের এই অদ্ভুত রাশিয়া সমর্থন ইউরোপের কট্টর-ডানপন্থী রাজনীতিকদের, বিশেষ করে ব্রিটেনের নাইজেল ফারাজকেও বিভ্রান্ত করেছে। ফলে কিয়ার স্টারমারের মতো মধ্যপন্থী রাজনীতিকেরা ট্রাম্পবিরোধী হাওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।
এলোমেলোভাবে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তাঁর ১০০ দিনের দিকে যতই এগোচ্ছেন, ততই তাঁর জনপ্রিয়তা কমছে। তিনি ইতিমধ্যে জো বাইডেনের চেয়ে কম জনপ্রিয় হয়ে গেছেন। ট্রাম্পের হানিমুন পিরিয়ড শেষ।
* সাইমন টিসডাল অবজারভারের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাষ্যকার
গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ
| ট্রাম্পের ট্যারিফ আতঙ্ক। কার্টুন: সাউথ চায়না মনিটর |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 23
(13)
- ‘হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে জানলেও হস্তক্ষেপ কর...
- ট্রাম্পের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ by সাইমন টিসডাল
- ইউনূস সরকারের চেয়ে ভালো কী হতে পারত by সোহরাব হাসান
- ভারতে মোগল শাসক আওরঙ্গজেবকে নিয়ে এখন কেন এত বিতর্ক
- কুরস্কে পিছু হটেছে ইউক্রেন, অভিযান ঘিরে নানা প্রশ্ন
- শাহবাগে সমাবেশ: বিচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ...
- ‘এমআইএস’ লকড: জুলাই অভ্যুত্থানের আহত-শহীদদের নাম অ...
- পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে সহযোগিতা দিতে রাজি বৃটেন: লন্...
- গাজা যুদ্ধ আরব জাহানকে অস্থিতিশীল করে তুলবে -স্টিভ...
- আইসল্যান্ডের এক নারী মন্ত্রীর কাণ্ড, পদত্যাগ
- সুনীতি, উইলমোরের ওভারটাইম দিতে হলে ট্রাম্পের পকেট ...
- প্রতিশোধ নিলেন ট্রাম্প! কমালা, হিলারিসহ বিপুল শীর্...
- মোদি সরকারের ‘একতরফা’ আসন পুনর্বিন্যাস রুখতে ঐক্যব...
-
▼
Mar 23
(13)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment