গাজা যুদ্ধ আরব জাহানকে অস্থিতিশীল করে তুলবে -স্টিভ উইটকফ
চলমান এ যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষযক যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ আরব জাহানকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
ওদিকে ২০২৩ সালে ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজার সবকিছুতে বোমা হামলা চালানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। তিনি বলেন, গাজার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস চায় শেষ সময় পর্যন্ত তাদের অবস্থান ধরে রাখতে। তারা গাজাকে শাসন করতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসন চায় হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করতে।
উইটকফ বলেন, হামাস যদি এ শর্তে রাজি হয় তাহলে তারা সেখানে সামান্যই থাকতে পারবে, খুব সামান্যই রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে, একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন পরিচালিত হোক, গাজাকে পরিচালনা করুক। কারণ, তা ইসরাইলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
উইটকফ আরো বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে, গাজাকে দখল করে নিতে চায় ইসরাইল।
ওদিকে গাজায় যে ক্যান্সার হাসপাতালটি ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল তার নাম টার্কিশ-প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ। টার্কিস কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সির (টিআইকেএ) সহযোগিতায় এটি নির্মাণ করা হয়। ২০১১ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০১৭ সালে। খরচ হয় সাত কোটি ডলার। এটিই ছিল গাজায় সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র। এর ভিতরে মোট আয়তন ৩৩ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। গাজায় শুধু এখানেই ক্যান্সারের চিকিৎসা হতো। বছরে ৩০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সক্ষমতা ছিল তাদের।
২০২৩ সালের ৩০শে অক্টোবর ইসরাইলের বিমান হামলায় এর তৃতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বছর জ্বালানি সংকটের কারণে ১লা নভেম্বরে হাসপাতালটি কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। তখন সেখানে কমপক্ষে ৭০ জন রোগীর জীবন ছিল ঝুঁকিতে। এই হাসপাতালটি ধ্বংস করে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গাজায় নিহত হামাসের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ওসামা তাবাশ
ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ওসামা তাবাশ নিহত হয়েছে । সম্প্রতি বিবৃতি জারি করে এমনটাই দাবি করেছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে , তাবাশ হামাসের নজরদারি এবং নিশানা (টার্গেটিং) ইউনিটেরও প্রধান ছিলেন। খান ইউনিস ব্রিগেডের ব্যাটেলিয়ন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। স্থলভাগে হামাসের যুদ্ধকৌশল ঠিক করতেন। মূলত দক্ষিণ গাজ়াতেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে বড়সড় সাফল্য হিসাবেই দেখছে আইডিএফ। কখন বা কোথায় তাবাশকে হত্যা করা হয়েছে তা বলা হয়নি এবং হামাস আইডিএফ- এর দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইতিমধ্যেই ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন যে তিনি স্থল বাহিনীকে গাজার আরও গভীরে অগ্রসর হতে এবং হামাসকে বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে চাপ দেওয়ার জন্য ভূমি দখলের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরাইল কাটজ বলেছেন -"হামাস যতই অপহৃতদের মুক্তি দিতে দেরি করবে, ইসরাইলের কাছে তত বেশি অঞ্চল হারাবে। 'যুদ্ধবিরতি বর্ধিত হওয়ার পরেও ইসরাইল দিন কয়েক আগে আবার বিমান হামলা শুরু করে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা যতদিন চলবে ততদিন যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকার কথা ছিল, কিন্তু ইসরাইলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আলোচনায় যেতে অস্বীকার করেন। মঙ্গলবার থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ইসরাইল বলেছে যে হামাস এখনও তাদের হাতে বন্দি ৫৯ জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে। যাদের মধ্যে ২৪ জন এখনো জীবিত রয়েছে বলে বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার, নেটজারিম করিডোরের কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করার পর যা গাজার উত্তরকে দক্ষিণ থেকে বিভক্ত করে, ইসরাইলি সেনারা বেইট লাহিয়া শহরের পাশাপাশি দক্ষিণ সীমান্ত শহর রাফাহের দিকে অগ্রসর হয়।
ইসরাইল আরও বলেছে যে তারা গাজা সিটি সহ উত্তর গাজার উপর অবরোধ পুনরায় চালু করেছে। এদিকে, গাজা শহরের পূর্বে শুক্রবার একটি বিস্ফোরণে একজন দম্পতি এবং তাদের দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং একটি স্থানীয় হাসপাতালের মতে, একই ভবনে আরও দুটি শিশু মারা গেছে।ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, গাজা শহরের একটি ভবনে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক ক্ষতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। ইসরাইল আরও বলেছে যে তারা গাজা শহরের পশ্চিমে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে এবং ফিলিস্তিনিদের আগে থেকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে সতর্ক করেছে।
সূত্র : স্কাই নিউজ
![]() |
মধ্যপ্রাচ্য বিষযক যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ |
No comments