Sunday, September 15, 2019
ওমা গো, সান ডিয়াগো! by রিম সাবরিনা জাহান সরকার
ওমা গো, সান ডিয়াগো! by রিম সাবরিনা জাহান সরকার
![]() |
| নোঙর ফেলে ভাসছে পালতোলা শৌখিন কতগুলো নৌকা |
বছরখানেক
আগের কথা। মুখ ভচকিয়ে ল্যাবে ঘুরে বেড়াই। কাজে জুত করতে পারছি না। দেড়
বছরের কাজ ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আবার নতুন প্রজেক্ট শুরু করেছি। পিএইচডি
নামের এই সুড়ঙ্গের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। কাজটা ফুসফুসের ক্রনিক রোগ
নিয়ে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিড়ি-সিগারেট ধরিয়ে ইঁদুরের বাক্সের সামনে বসে
থাকি। বেচারাদের ফুসফুসের বারোটা বেজে গেলে তাদের কেটেকুটে চলে নানা ধরনের
পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই করে করে জীবন চিরতার মতো তিতা হয়ে যাচ্ছে।
তেমনি একদিন সকাল। খিটখিটে মেজাজে ল্যাবে ঢুকেছি। দুনিয়াদারি চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কে জানত এমন একটা খবর অপেক্ষা করছে আজকে। ‘ও মাগো’ বলে গালে হাত দিয়ে ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লাম। কিছুটা নাটুকে হয়ে গেল বোধ হয়। কিন্তু হাজার চেষ্টাতেও অকৃত্রিম প্রতিক্রিয়াটা লুকানো গেল না। তুর্কি সুপারভাইজার ডক্টর ইলদ্রিম কিছু একটা উত্তর শোনার অপেক্ষায় চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন। বাংলা ওমা গো তিনি বুঝতে পারেননি। ভেবেছেন খুশিতে খাবি খেয়ে হেঁচকি তুলেছি।
কাহিনি হচ্ছে গিয়ে, আমার হেঁজিপেঁজি রদ্দি মার্কা কাজটা কীভাবে কীভাবে যেন আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটির কনফারেন্সের ‘বেস্ট অ্যাবস্ট্রাক্ট’ বিভাগে প্রথম হয়েছে। বিশাল বড় পরিসরের কনফারেন্সটা এ বছর পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোতে। সব শুনে আনন্দে ফড়িং নাচ দেওয়ার বদলে কেমন দুঃখ দুঃখ লাগছে। কারণ, এমন দারুণ সুযোগ পেয়েও হারাব। প্রথম কথা, মাত্র চার সপ্তাহের ভেতর জার্মানি থেকে আমেরিকার ভিসা পাব কি না, কঠিন সন্দেহ আছে। দুই নম্বর হলো, খরচে কুলাবে না। ট্যাঁকের পয়সা ফেলে পাগলেও কনফারেন্সে যায় না। বাকি থাকে তুর্কি বদান্যতা। কিন্তু সেও বলে দিয়েছে হাতে টাকা নেই। রিসার্চ গ্রান্টের খরা চলছে। এদিকে প্রাইজ মানিতেও চিড়া ভিজবে না। প্লেনের টিকিট হবে টেনেটুনে। কিন্তু হোটেল আর হবে না। হোটেলের অভাবে রাতে ফুটপাতে চিৎ–কাত হয়ে কাটিয়ে দিতে হলে মসিবত।
কথাগুলো আহমেদ সাহেবকে রাতে খাবার টেবিলে পিনপিনিয়ে বলে সান্ত্বনা আদায়ের চেষ্টা চালালাম। বছরখানেক হলো এই ভদ্রলোকের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভূত হয়ে চেপে বসেছি। বিনিময়ে তাঁর পদবিটা নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে নেবার সৌজন্যতাটুকুও করিনি। বরং বারো হাত চওড়া সরকারি নামটাই বহাল রেখেছি। তো সিন্দাবাদের ভূত দিন কয়েকের জন্য বিদায় হওয়ার সূক্ষ্ম সম্ভাবনা দেখে সান্ত্বনার বদলে বিরাট উৎসাহ দিয়ে বুদ্ধি বাতলে দেওয়া হলো যেন রিসার্চ সেন্টারের লুকানো চুরানো কোনো ফান্ড আছে কি না, তার খোঁজ নিই। আহমেদ সাহেবের ভূত তাড়ানোর দোয়া কবুল হলো কিনা জানি না, কিন্তু জোড়াতালি দিয়ে ব্যবস্থা একটা হয়েই গেল। ভিসাও বাকি থাকল না। এক ভোরে আলো ফোটার আগেই চাম বাদুড়ের মতো ডানা ঝটপটিয়ে উড়াল দিলাম আটলান্টিক নামের বড় পুকুরটার ওপারে।
একা বোকা যাচ্ছি। সঙ্গী সাথি শূন্য। যাওয়া একেবারে শেষ মুহূর্তে ঠিক হওয়ায় এই দশা। ল্যাবের অন্য কলিগদের বন্দোবস্ত মাসখানেক আগেই করা ছিল। তাদের ফ্লাইট, হোটেল সব আলাদা ব্যবস্থা। একদিন আগেই তারা হল্লা করে দল বেঁধে রওনা দিয়েছে। গিয়ে একটু ধাতস্থ হতে পারবে। আর আমি পৌঁছানোর পরদিনই পড়িমরি করে ছুটব কনফারেন্সে যোগ দিতে। জেটল্যাগ হলেও কিছু করার নেই।
তেমনি একদিন সকাল। খিটখিটে মেজাজে ল্যাবে ঢুকেছি। দুনিয়াদারি চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কে জানত এমন একটা খবর অপেক্ষা করছে আজকে। ‘ও মাগো’ বলে গালে হাত দিয়ে ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লাম। কিছুটা নাটুকে হয়ে গেল বোধ হয়। কিন্তু হাজার চেষ্টাতেও অকৃত্রিম প্রতিক্রিয়াটা লুকানো গেল না। তুর্কি সুপারভাইজার ডক্টর ইলদ্রিম কিছু একটা উত্তর শোনার অপেক্ষায় চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন। বাংলা ওমা গো তিনি বুঝতে পারেননি। ভেবেছেন খুশিতে খাবি খেয়ে হেঁচকি তুলেছি।
কাহিনি হচ্ছে গিয়ে, আমার হেঁজিপেঁজি রদ্দি মার্কা কাজটা কীভাবে কীভাবে যেন আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটির কনফারেন্সের ‘বেস্ট অ্যাবস্ট্রাক্ট’ বিভাগে প্রথম হয়েছে। বিশাল বড় পরিসরের কনফারেন্সটা এ বছর পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোতে। সব শুনে আনন্দে ফড়িং নাচ দেওয়ার বদলে কেমন দুঃখ দুঃখ লাগছে। কারণ, এমন দারুণ সুযোগ পেয়েও হারাব। প্রথম কথা, মাত্র চার সপ্তাহের ভেতর জার্মানি থেকে আমেরিকার ভিসা পাব কি না, কঠিন সন্দেহ আছে। দুই নম্বর হলো, খরচে কুলাবে না। ট্যাঁকের পয়সা ফেলে পাগলেও কনফারেন্সে যায় না। বাকি থাকে তুর্কি বদান্যতা। কিন্তু সেও বলে দিয়েছে হাতে টাকা নেই। রিসার্চ গ্রান্টের খরা চলছে। এদিকে প্রাইজ মানিতেও চিড়া ভিজবে না। প্লেনের টিকিট হবে টেনেটুনে। কিন্তু হোটেল আর হবে না। হোটেলের অভাবে রাতে ফুটপাতে চিৎ–কাত হয়ে কাটিয়ে দিতে হলে মসিবত।
কথাগুলো আহমেদ সাহেবকে রাতে খাবার টেবিলে পিনপিনিয়ে বলে সান্ত্বনা আদায়ের চেষ্টা চালালাম। বছরখানেক হলো এই ভদ্রলোকের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভূত হয়ে চেপে বসেছি। বিনিময়ে তাঁর পদবিটা নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে নেবার সৌজন্যতাটুকুও করিনি। বরং বারো হাত চওড়া সরকারি নামটাই বহাল রেখেছি। তো সিন্দাবাদের ভূত দিন কয়েকের জন্য বিদায় হওয়ার সূক্ষ্ম সম্ভাবনা দেখে সান্ত্বনার বদলে বিরাট উৎসাহ দিয়ে বুদ্ধি বাতলে দেওয়া হলো যেন রিসার্চ সেন্টারের লুকানো চুরানো কোনো ফান্ড আছে কি না, তার খোঁজ নিই। আহমেদ সাহেবের ভূত তাড়ানোর দোয়া কবুল হলো কিনা জানি না, কিন্তু জোড়াতালি দিয়ে ব্যবস্থা একটা হয়েই গেল। ভিসাও বাকি থাকল না। এক ভোরে আলো ফোটার আগেই চাম বাদুড়ের মতো ডানা ঝটপটিয়ে উড়াল দিলাম আটলান্টিক নামের বড় পুকুরটার ওপারে।
একা বোকা যাচ্ছি। সঙ্গী সাথি শূন্য। যাওয়া একেবারে শেষ মুহূর্তে ঠিক হওয়ায় এই দশা। ল্যাবের অন্য কলিগদের বন্দোবস্ত মাসখানেক আগেই করা ছিল। তাদের ফ্লাইট, হোটেল সব আলাদা ব্যবস্থা। একদিন আগেই তারা হল্লা করে দল বেঁধে রওনা দিয়েছে। গিয়ে একটু ধাতস্থ হতে পারবে। আর আমি পৌঁছানোর পরদিনই পড়িমরি করে ছুটব কনফারেন্সে যোগ দিতে। জেটল্যাগ হলেও কিছু করার নেই।
![]() |
| নোঙর ফেলে ভাসছে পালতোলা শৌখিন কতগুলো নৌকা |
আটলান্টায়
ট্রানজিট। এয়ারপোর্টে দোজখের গরম। তার ওপর ইমিগ্রেশনের বিশাল লাইন দেখে
অজানা আশঙ্কা কাজ করছে। পরের ফ্লাইট ছুটে যাবে না তো? ভাবতে ভাবতে ঘেমে
কুলুকুলু হয়ে ইমিগ্রেশন অফিসারের সামনে দাঁড়ালাম। এদের সন্দেহপ্রবণ সিস্টেম
আবার কাঁধে পোস্টারের খাপকে রকেট লঞ্চার ভাবে কি না, তাই আলপটকা নামিয়ে
ফেলতে গেলাম। তড়িঘড়িতে শক্ত প্লাস্টিকের খাপটা মেঝেতে দড়াম করে আছড়ে পুরোনো
নকিয়া ফোনের মতো তিন টুকরো হয়ে তিন দিকে ছড়িয়ে পড়ল। ঘাবড়ে গিয়ে আমি পুরো
হাঁ। বোয়াল মাছ লেভেলের হাঁ দেখে অফিসারের মনে দয়ামায়া হলো বোধ হয়। হাত
বাড়িয়ে ধরা কাগজগুলো নিয়ে বললেন, ‘তোলো তোমার জিনিস আস্তেধীরে, আমি কাগজ
দেখি ততক্ষণে’।
উবু হয়ে পোস্টার গুছিয়ে নিয়েছি, ভদ্রলোক সহাস্যে বললেন, ‘আরে তুমি দেখছি ইঁদুরের ডাক্তার।’ মৃদু প্রতিবাদ করতে গেলাম, ‘কোন দুঃখে ইঁদুরের ডাক্তার হতে যাব? আমি বায়োলজির ছাত্র। ইঁদুর আমার গবেষণার মডেল মাত্র।’ লাভ হলো না, তবে পার পেয়ে গেলাম এই দফায়। ইঁদুরের ডাক্তারের তকমা গলায় ঝুলিয়ে দৌড় দিলাম পরের প্লেনটা ধরতে। পোস্টার খাপের গলাটা এবার দুই হাতে ক্যাঁক করে চেপে ধরেছি। বেচারার দম বলে কিছু থাকলে যেকোনো সময়ে ঠুস করে বেরিয়ে যেতে পারে।
-----------দুই----------
দুই কদম হাঁটতেই দেখি মোটাসোটা এক ভদ্রলোক চেহারায় রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে একটা থাম্বা থাবড়ে ক্রমাগত আওড়ে যাচ্ছেন, ‘ট্রানজিটের যাত্রী বাঁয়ে যাবে, ট্রানজিট বাঁয়ে...’। ধরনধারণ পুরোপুরি গাবতলীর বাস কন্ডাক্টরের মতো। ট্রানজিট বাঁয়ে না বলে ‘আয়া পড়েন, সিট খালি, ডাইরেক্ট গুলিস্তান...আয়া পড়েন...’ বললেই বেশি মানাত। যা হোক, বাস, থুক্কু প্লেন কন্ডাক্টরের কথা মেনে শখানেক লোকের সঙ্গে পা মিলিয়ে বাঁয়েই ছুটলাম।
ঝামেলা ঝামেলা লাগছে। প্রথম ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া স্যুটকেস খুঁজে নিয়ে পরের বিমানে চেক ইন করতে হবে। ল্যাও ঠেলা। এত দৌড়াদৌড়ি কচ্ছপগতির আমার সঙ্গে যায় না। অন্য সময়ে যাত্রাপথে কেউ না কেউ সঙ্গে থাকে। আমি শুধু নিশ্চিন্তে ঝিমাতে ঝিমাতে পিছু পিছু যাই। সেখানে আজকে নিজের বুঝ বুঝে নিয়ে হুঁশিয়ার হয়ে চলতে হচ্ছে। আবার এত প্যারার ভেতরেও চোখ ভেঙে ঘুম আসছে। বেশি টেনশনে কাজ করলে খালি ঘুম পায়। জীবনের যাবতীয় পরীক্ষার ভোরে বন্ধুরা যখন আখেরি চোখ বোলানো বুলাত, আমি তখন প্রচুর টেনশনের কারণে নাক ডেকে বালিশ আঁকড়ে সিন্ধুঘোটকের মতো ঘুমাতাম। আজকেও তেমনি একটা ঘুম দিয়ে টেনশন-ফেনশন বাইপাস করে দিতে ইচ্ছা করছে।
ঘুমটা আমি দিয়েই ফেললাম। তবে পরের প্লেনটা ধরার পর। বরফ কুঁচি দেওয়া এক গ্লাস টমেটোর জুস আর এক মুঠ বাদাম চিবিয়ে ইকোনমির সিটে যত দূর সম্ভব হাত-পা ছড়িয়ে, গা এলিয়ে টপ করে ঘুমিয়ে গেলাম।
এক ঘুমে একঘেয়ে উড়ালপথ পাড়ি দিয়ে সান ডিয়াগো বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলাম। বিকেলের নরম রোদ মুখে এসে পড়েছে। অপেক্ষাটা তাই খারাপ লাগছে না। দাঁড়িয়ে আছি ইউনিভার্সিটির বন্ধু মাহদির জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন চালু হওয়া জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে আমাদের ব্যাচে মাত্র তেরোজন ছিলাম। সেই থেকে সবাই হরিহর আত্মা। মাহদি বিভাগের তুখোড় ছাত্র। পিএইচডি করে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত স্ক্রিপ্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। পেপারের সংখ্যা তখনই কয়েক ডজন। সব হাই ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর। আমার ধারণা বছরখানেকের ভেতর সে ‘বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর অভাবনীয় আবিষ্কার’ ধরনের শিরোনাম হবে পত্রিকার পাতায়। সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত এক তরুণের ছবি। তখন পরিচিত মহলে আমি সেই খবর ভাঙিয়ে ভাব নেব, ‘আরে আমার ক্লাসমেট তো। কার্জন হলের কত চা-শিঙাড়া খেয়েছি একসঙ্গে...’ ইত্যাদি ইত্যাদি।
উবু হয়ে পোস্টার গুছিয়ে নিয়েছি, ভদ্রলোক সহাস্যে বললেন, ‘আরে তুমি দেখছি ইঁদুরের ডাক্তার।’ মৃদু প্রতিবাদ করতে গেলাম, ‘কোন দুঃখে ইঁদুরের ডাক্তার হতে যাব? আমি বায়োলজির ছাত্র। ইঁদুর আমার গবেষণার মডেল মাত্র।’ লাভ হলো না, তবে পার পেয়ে গেলাম এই দফায়। ইঁদুরের ডাক্তারের তকমা গলায় ঝুলিয়ে দৌড় দিলাম পরের প্লেনটা ধরতে। পোস্টার খাপের গলাটা এবার দুই হাতে ক্যাঁক করে চেপে ধরেছি। বেচারার দম বলে কিছু থাকলে যেকোনো সময়ে ঠুস করে বেরিয়ে যেতে পারে।
-----------দুই----------
দুই কদম হাঁটতেই দেখি মোটাসোটা এক ভদ্রলোক চেহারায় রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে একটা থাম্বা থাবড়ে ক্রমাগত আওড়ে যাচ্ছেন, ‘ট্রানজিটের যাত্রী বাঁয়ে যাবে, ট্রানজিট বাঁয়ে...’। ধরনধারণ পুরোপুরি গাবতলীর বাস কন্ডাক্টরের মতো। ট্রানজিট বাঁয়ে না বলে ‘আয়া পড়েন, সিট খালি, ডাইরেক্ট গুলিস্তান...আয়া পড়েন...’ বললেই বেশি মানাত। যা হোক, বাস, থুক্কু প্লেন কন্ডাক্টরের কথা মেনে শখানেক লোকের সঙ্গে পা মিলিয়ে বাঁয়েই ছুটলাম।
ঝামেলা ঝামেলা লাগছে। প্রথম ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া স্যুটকেস খুঁজে নিয়ে পরের বিমানে চেক ইন করতে হবে। ল্যাও ঠেলা। এত দৌড়াদৌড়ি কচ্ছপগতির আমার সঙ্গে যায় না। অন্য সময়ে যাত্রাপথে কেউ না কেউ সঙ্গে থাকে। আমি শুধু নিশ্চিন্তে ঝিমাতে ঝিমাতে পিছু পিছু যাই। সেখানে আজকে নিজের বুঝ বুঝে নিয়ে হুঁশিয়ার হয়ে চলতে হচ্ছে। আবার এত প্যারার ভেতরেও চোখ ভেঙে ঘুম আসছে। বেশি টেনশনে কাজ করলে খালি ঘুম পায়। জীবনের যাবতীয় পরীক্ষার ভোরে বন্ধুরা যখন আখেরি চোখ বোলানো বুলাত, আমি তখন প্রচুর টেনশনের কারণে নাক ডেকে বালিশ আঁকড়ে সিন্ধুঘোটকের মতো ঘুমাতাম। আজকেও তেমনি একটা ঘুম দিয়ে টেনশন-ফেনশন বাইপাস করে দিতে ইচ্ছা করছে।
ঘুমটা আমি দিয়েই ফেললাম। তবে পরের প্লেনটা ধরার পর। বরফ কুঁচি দেওয়া এক গ্লাস টমেটোর জুস আর এক মুঠ বাদাম চিবিয়ে ইকোনমির সিটে যত দূর সম্ভব হাত-পা ছড়িয়ে, গা এলিয়ে টপ করে ঘুমিয়ে গেলাম।
এক ঘুমে একঘেয়ে উড়ালপথ পাড়ি দিয়ে সান ডিয়াগো বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলাম। বিকেলের নরম রোদ মুখে এসে পড়েছে। অপেক্ষাটা তাই খারাপ লাগছে না। দাঁড়িয়ে আছি ইউনিভার্সিটির বন্ধু মাহদির জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন চালু হওয়া জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে আমাদের ব্যাচে মাত্র তেরোজন ছিলাম। সেই থেকে সবাই হরিহর আত্মা। মাহদি বিভাগের তুখোড় ছাত্র। পিএইচডি করে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত স্ক্রিপ্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। পেপারের সংখ্যা তখনই কয়েক ডজন। সব হাই ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর। আমার ধারণা বছরখানেকের ভেতর সে ‘বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর অভাবনীয় আবিষ্কার’ ধরনের শিরোনাম হবে পত্রিকার পাতায়। সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত এক তরুণের ছবি। তখন পরিচিত মহলে আমি সেই খবর ভাঙিয়ে ভাব নেব, ‘আরে আমার ক্লাসমেট তো। কার্জন হলের কত চা-শিঙাড়া খেয়েছি একসঙ্গে...’ ইত্যাদি ইত্যাদি।
![]() |
| মোটেলের পাশে রাস্তার ওপাশ ঘেঁষেই বন্দর |
আমার
আসার খবর মাহদি আগে থেকেই জানে। প্লেন থেকে নামার আগেই পার্কিং লটে গাড়ি
নিয়ে বসে আছে। ফোন পেয়ে প্রায় চিৎকার করে বলল, ‘নড়বে না একদম, আসছি।’
পৃথিবীজুড়ে বন্ধুবান্ধব ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকার সুবিধা অনেক। পাঁচ মিনিটের
মাথায় চিকন ধুলার পরতে ঢাকা আপাত ধূসর একটা টয়োটা এসে দাঁড়াল। বলেই তো
নিয়েছি গাড়ির মালিক তার ছেঁড়া বিজ্ঞানী টাইপ লোক। ধুলা মোছার ফালতু সময় তার
নেই। গাড়িতে উঠে শুরু হলো বেদম হাঁচি। হাঁচির তোড়ে ছোটখাটো একটা বালুর ঝড়
বয়ে গেল। রাগী চোখে তাকালাম। উত্তরে ধুলার সওদাগর চাটগাঁয়ের ছেলেটা ফিচেল
হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে এস্কেলেটর চাপল।
প্যাঁচার মতো ঘাড় ঘুরিয়ে নতুন দেশের নতুন শহরটাকে দেখছি। প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ের সৈকত শহর সান ডিয়াগো। ঝকঝকে চওড়া রাস্তার দুই ধারে সারি সারি পামগাছ মাপা দূরত্বে দাঁড়িয়ে। আকাশে নীলের মাঝে সাদা মেঘ কাশফুল হয়ে ভাসছে। একেবারে তুলির আঁচড়ে আঁকা ছবি। দেখেশুনে পলক আর পড়ে না আমার। বিস্ময় ভেঙে মাহদি জানাল, পুরো শহরটা নিখুঁত নকশার ফসল। গাছপালাও বাইরে থেকে এনে লাগিয়ে বড় করা। কিছু আনা হয়েছে সীমান্তের মেক্সিকো থেকে। সঙ্গে এ–ও বলল, হলিউডের আস্তানা লস অ্যাঞ্জেলস শহর নাকি মাত্র দুই শ কিলোমিটারেরও কম দূরে এখান থেকে। চাইলে ঘুরে আসতে পারি এক ফাঁকে। মনে মনে ভাবলাম, আগে তো কনফারেন্সের পাট চুকাই। গলার কাঁটা নেমে গেলে ঘোরাঘুরি পরে দেখা যাবে নে।
হোটেলের নাম ভারিক্কি গোছের। ডেজ ইন হারাবার ভিউ। তবে চেহারা দেখে দমে গেলাম। টান বারান্দা দেওয়া সাদামাটা তিনটা তলা। হোটেলের বদলে মোটেল ভাব প্রকট। মাহদি সযত্নে স্যুটকেস তুলে দিয়ে বাসায় নাকি ল্যাবে ফেরত গেল। আর বলে গেল ঘণ্টাখানেক বাদে আবার এসে ডিনারে নিয়ে যাবে। চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে বহুদিন পর।
মোটেলবেশী হোটেলের ঘর যথেষ্ট সাজানো গোছানো। বাইরের রূপের উল্টোটা। আর পুরো হোটেল ভর্তি কনফারেন্সের লোকজন। বেশির ভাগই জার্মানি থেকে এসেছেন। কী কাকতাল! কিন্তু মিউনিখের কাউকে চোখে পড়ল না। তাতে কিছু যায় আসে না। ল্যাবের কলিগ আর সুপারভাইজারকে জানিয়ে দিলাম, বহাল তবিয়তে পৌঁছে গেছি; কালকে দেখা হচ্ছে।
রাতে লেবানিজ এক রেস্তোরাঁয় রাতের খানাপিনা সেই মাপের হলো। মোরগ-পোলাওজাতীয় খাবারটার দেড় প্লেট নামিয়ে দিয়েছি। গল্প-আড্ডার চেয়ে আধা লিটারের কোকের বোতলে সুড়ুৎ সুড়ুৎ টানই বেশি পড়েছে। চুর চুর লাগছে এখন। হোটেলে নামিয়ে দিয়ে মাহদি সেদিনের মতো বিদায় নিল। আর বলে গেল, যেকোনো সমস্যায় ফোন দিতে যেন দুবার না ভাবি।
হাতে কয়েকটা ইনস্ট্যান্ট নুডলসের প্যাকেট আর টুকিটাকি নিয়ে ওপরে উঠলাম। মাঝপথে ওয়ালমার্টে থামা হয়েছিল। হোটেল রুমের ইলেকট্রিক কেটলিটা দেখে মনে হয়েছিল, কালকে সারা দিন জ্ঞান কপচানো শেষে ঘরে ফিরে খিদে পেলে চটজলদি নুডলস করে নেওয়া যাবে। প্রবাসে এসে একটা বড় অংশ কেটেছে এই ইনস্ট্যান্ট নুডলসের ওপর ভরসা করে। আর এখন তো প্রবাসের ভেতর প্রবাস। জার্মানি থেকে আমেরিকা। সফদার ডাক্তার তো আর নই যে ‘খিদে পেলে পানি খায় চিবিয়ে’ হয়ে বসে থাকব। তার চেয়ে চিবোলাম না হয় আরও খানকতক ইনস্ট্যান্ট নুডলস।
প্যাঁচার মতো ঘাড় ঘুরিয়ে নতুন দেশের নতুন শহরটাকে দেখছি। প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ের সৈকত শহর সান ডিয়াগো। ঝকঝকে চওড়া রাস্তার দুই ধারে সারি সারি পামগাছ মাপা দূরত্বে দাঁড়িয়ে। আকাশে নীলের মাঝে সাদা মেঘ কাশফুল হয়ে ভাসছে। একেবারে তুলির আঁচড়ে আঁকা ছবি। দেখেশুনে পলক আর পড়ে না আমার। বিস্ময় ভেঙে মাহদি জানাল, পুরো শহরটা নিখুঁত নকশার ফসল। গাছপালাও বাইরে থেকে এনে লাগিয়ে বড় করা। কিছু আনা হয়েছে সীমান্তের মেক্সিকো থেকে। সঙ্গে এ–ও বলল, হলিউডের আস্তানা লস অ্যাঞ্জেলস শহর নাকি মাত্র দুই শ কিলোমিটারেরও কম দূরে এখান থেকে। চাইলে ঘুরে আসতে পারি এক ফাঁকে। মনে মনে ভাবলাম, আগে তো কনফারেন্সের পাট চুকাই। গলার কাঁটা নেমে গেলে ঘোরাঘুরি পরে দেখা যাবে নে।
হোটেলের নাম ভারিক্কি গোছের। ডেজ ইন হারাবার ভিউ। তবে চেহারা দেখে দমে গেলাম। টান বারান্দা দেওয়া সাদামাটা তিনটা তলা। হোটেলের বদলে মোটেল ভাব প্রকট। মাহদি সযত্নে স্যুটকেস তুলে দিয়ে বাসায় নাকি ল্যাবে ফেরত গেল। আর বলে গেল ঘণ্টাখানেক বাদে আবার এসে ডিনারে নিয়ে যাবে। চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে বহুদিন পর।
মোটেলবেশী হোটেলের ঘর যথেষ্ট সাজানো গোছানো। বাইরের রূপের উল্টোটা। আর পুরো হোটেল ভর্তি কনফারেন্সের লোকজন। বেশির ভাগই জার্মানি থেকে এসেছেন। কী কাকতাল! কিন্তু মিউনিখের কাউকে চোখে পড়ল না। তাতে কিছু যায় আসে না। ল্যাবের কলিগ আর সুপারভাইজারকে জানিয়ে দিলাম, বহাল তবিয়তে পৌঁছে গেছি; কালকে দেখা হচ্ছে।
রাতে লেবানিজ এক রেস্তোরাঁয় রাতের খানাপিনা সেই মাপের হলো। মোরগ-পোলাওজাতীয় খাবারটার দেড় প্লেট নামিয়ে দিয়েছি। গল্প-আড্ডার চেয়ে আধা লিটারের কোকের বোতলে সুড়ুৎ সুড়ুৎ টানই বেশি পড়েছে। চুর চুর লাগছে এখন। হোটেলে নামিয়ে দিয়ে মাহদি সেদিনের মতো বিদায় নিল। আর বলে গেল, যেকোনো সমস্যায় ফোন দিতে যেন দুবার না ভাবি।
হাতে কয়েকটা ইনস্ট্যান্ট নুডলসের প্যাকেট আর টুকিটাকি নিয়ে ওপরে উঠলাম। মাঝপথে ওয়ালমার্টে থামা হয়েছিল। হোটেল রুমের ইলেকট্রিক কেটলিটা দেখে মনে হয়েছিল, কালকে সারা দিন জ্ঞান কপচানো শেষে ঘরে ফিরে খিদে পেলে চটজলদি নুডলস করে নেওয়া যাবে। প্রবাসে এসে একটা বড় অংশ কেটেছে এই ইনস্ট্যান্ট নুডলসের ওপর ভরসা করে। আর এখন তো প্রবাসের ভেতর প্রবাস। জার্মানি থেকে আমেরিকা। সফদার ডাক্তার তো আর নই যে ‘খিদে পেলে পানি খায় চিবিয়ে’ হয়ে বসে থাকব। তার চেয়ে চিবোলাম না হয় আরও খানকতক ইনস্ট্যান্ট নুডলস।
![]() |
| প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ের সৈকত শহর সান ডিয়াগো |
রাতের
ঘড়ি এগারো ছুঁয়েছে। এক মগ হট কোকো নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়েছি। মে মাসের
হালকা মিষ্টি হাওয়া বইছে। হঠাৎ দেখি অন্ধকার ফুঁড়ে নাকের ডগায় বিশাল
মাস্তুল! ভড়কে গিয়ে মগ ছলকে পড়ার দশা হলো। তারপর চোখ সয়ে নিয়ে কাহিনি
বুঝলাম। হোটেলের নামে হারবার ভিউ কথাটা আছে কেন স্পষ্ট হলো। রাস্তার ওপাশ
ঘেঁষেই বন্দর। তাতে নোঙর ফেলে ভাসছে পালতোলা শৌখিন কতগুলো নৌকা। সঙ্গে
স্পিডবোট আর ছোট-মাঝারি ইয়টও আছে। এই নিশুতি রাতের আবছায়ায় কাঠের শরীরগুলোর
হালকা দোলাচল মুগ্ধ হয়ে দেখছি। এই সৌন্দর্যের কোনো ভাষা হয় না। এই রূপ
কলমের আঁচড়ে বন্দী করা যায় না। এমন একটা নৌকার মাস্তুলে পাল উড়িয়ে যদি
পালিয়ে যাওয়া যেত ভাঙার গৎবাঁধা জীবনটা থেকে, কেমন হতো তাহলে? পাগলাটে
রোমাঞ্চের জলজ ঘ্রাণ সপাটে ঝাপটা মেরে গেল নাকে।
বেশি আগড়ুম বাগড়ুম ভাবার সময় পেলাম না। সকালে সান ডিয়াগো কনভেনশন সেন্টার খুঁজে বের করে হাজির হতে হবে। সমান্তরালে চলতে থাকা অনেকগুলো সেশনের কোন কোনটা শুনলে আখেরে কাজে দেবে তার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলা দরকার। তাহলে হয়তো পরের দিন নিজের কাজের ওপর বকবক করতে সুবিধা হবে। কইয়ের তেলে কই ভাজার বুদ্ধি আর কী। খালি মগটায় মনের ভুলে আরেকবার চুমুক দিয়ে ঘরে ঢুকলাম।
ল্যাপটপ বের করতে গিয়ে দেখি স্যুটকেসের তালা দারুণ মুনশিয়ানার সঙ্গে ভাঙা। ভেতরে এক টুকরো নোট পাওয়া গেল। তাতে লেখা, ‘নিরাপত্তার খাতিরে তালা ভাঙতে হয়েছে বলে দুঃখিত। তবে মূল্যবান কিছু খোয়া গেলে আমরা কিন্তু দায়ী নই।’ বাহ! খোঁড়া যুক্তির বাহার দেখে রাগ লাগার বদলে হাসি পাচ্ছে। আবার দুঃখও লাগছে। ল্যাপটপটা নিরাপত্তার অজুহাতে রেখে দিলে বেশ হতো। পাঁচ কেজি ওজনের শিল-পাটার পাটা আকৃতির এই যন্ত্রটা কাজের খাতিরে সবখানে বয়ে বেড়াতে হয়। হারিয়ে গেলে পলকা দেখে একটা কিনব ভেবে রেখেছি। কিন্তু বদখত জিনিসটা তো হারাচ্ছে না! হতাশ হয়ে দ্রুত লিস্টিফিস্টি বানিয়ে বাতি নিভিয়ে দিলাম সে রাতের মতো।
------------তিন----------
মাথার ভেতর একজন ইবনে বতুতা বগলে জুতা নিয়ে ঘাপটি মেরে থাকে। সুযোগ পেলেই সে জুতা ফটফটিয়ে বেরিয়ে আসে। আজকেও তাই হয়েছে। হাতের মুঠোয় গুগল ম্যাপ নামের মানচিত্রের বাপ থাকতেও লোকজনকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করে করে হেলেদুলে হাঁটছি। অচেনা দেশে নিজেকে বোহেমিয়ান ভাবতে ভালো লাগে। সকালের মিষ্টি রোদ, ভেসে থাকা নৌকার ভিড়, নতুন শহরের পথঘাট, দালানকোঠার নকশা, মানুষজন-সব দেখতে দেখতে বিশ মিনিটের হাঁটা পথ আধা ঘণ্টা লাগিয়ে পৌঁছালাম জায়গামতো।
বেশি আগড়ুম বাগড়ুম ভাবার সময় পেলাম না। সকালে সান ডিয়াগো কনভেনশন সেন্টার খুঁজে বের করে হাজির হতে হবে। সমান্তরালে চলতে থাকা অনেকগুলো সেশনের কোন কোনটা শুনলে আখেরে কাজে দেবে তার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলা দরকার। তাহলে হয়তো পরের দিন নিজের কাজের ওপর বকবক করতে সুবিধা হবে। কইয়ের তেলে কই ভাজার বুদ্ধি আর কী। খালি মগটায় মনের ভুলে আরেকবার চুমুক দিয়ে ঘরে ঢুকলাম।
ল্যাপটপ বের করতে গিয়ে দেখি স্যুটকেসের তালা দারুণ মুনশিয়ানার সঙ্গে ভাঙা। ভেতরে এক টুকরো নোট পাওয়া গেল। তাতে লেখা, ‘নিরাপত্তার খাতিরে তালা ভাঙতে হয়েছে বলে দুঃখিত। তবে মূল্যবান কিছু খোয়া গেলে আমরা কিন্তু দায়ী নই।’ বাহ! খোঁড়া যুক্তির বাহার দেখে রাগ লাগার বদলে হাসি পাচ্ছে। আবার দুঃখও লাগছে। ল্যাপটপটা নিরাপত্তার অজুহাতে রেখে দিলে বেশ হতো। পাঁচ কেজি ওজনের শিল-পাটার পাটা আকৃতির এই যন্ত্রটা কাজের খাতিরে সবখানে বয়ে বেড়াতে হয়। হারিয়ে গেলে পলকা দেখে একটা কিনব ভেবে রেখেছি। কিন্তু বদখত জিনিসটা তো হারাচ্ছে না! হতাশ হয়ে দ্রুত লিস্টিফিস্টি বানিয়ে বাতি নিভিয়ে দিলাম সে রাতের মতো।
------------তিন----------
মাথার ভেতর একজন ইবনে বতুতা বগলে জুতা নিয়ে ঘাপটি মেরে থাকে। সুযোগ পেলেই সে জুতা ফটফটিয়ে বেরিয়ে আসে। আজকেও তাই হয়েছে। হাতের মুঠোয় গুগল ম্যাপ নামের মানচিত্রের বাপ থাকতেও লোকজনকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করে করে হেলেদুলে হাঁটছি। অচেনা দেশে নিজেকে বোহেমিয়ান ভাবতে ভালো লাগে। সকালের মিষ্টি রোদ, ভেসে থাকা নৌকার ভিড়, নতুন শহরের পথঘাট, দালানকোঠার নকশা, মানুষজন-সব দেখতে দেখতে বিশ মিনিটের হাঁটা পথ আধা ঘণ্টা লাগিয়ে পৌঁছালাম জায়গামতো।
![]() |
| লেখিকা: ড. রিম সাবরিনা জাহান সরকার |
অতিকায়
সান ডিয়াগো কনভেনশন সেন্টার কিছুতেই চোখ এড়াতে পারে না। আমেরিকান থোরাসিক
সোসাইটির বিশাল ব্যানারে ছাওয়া পুরো কাঠামোটা। খুঁজে পেতে পরিচিত সবার দেখা
মিলল অবশেষে। আমাদের রিসার্চ গ্রুপের হেড, আমার পিএইচডি সুপারভাইজার
ইলদ্রিম চোখ নাচিয়ে খুব সাগ্রহে জানতে চাইলেন, ‘কী, কেমন ধরাটা খেলে
এয়ারপোর্টে? আটলান্টায় ধরেনি তোমাকে?’ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম, ‘কিসের ধরা
খাওয়া, আমাকে তো আরও ইঁদুরের ডাক্তার ভেবে ঝামেলা ছাড়াই আস্তে করে ছেড়ে
দিল। কিন্তু তুমি কোথাও আটকেছ মনে হচ্ছে?’ উত্তরে তার চোয়াল ঝুলে গেল।
জানাল, বেচারার তুর্কি চেহারা আর জার্মান পাসপোর্ট ইত্যাদি দেখে তাকে দলছুট
করিয়ে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল। হাজার প্রশ্নের জবাব
নিয়ে তারপর নাকি ছেড়েছে। ফ্লাইট মিস একদম কানের পাশ দিয়ে গিয়েছে।
টম আর গেরিট হাতের ইশারায় কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন। সুপারভাইজারকে পাশ কাটিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। আমাদের ল্যাবের দুই পোস্টডক। গেরিট চোস্ত জার্মান, ধারালো চেহারা। জার্মান স্বভাব মোতাবেক সারাক্ষণ খঁচে থাকে। টম আইরিশম্যান, গোলগাল ভালোমানুষ। তবে ব্রিটিশ বললে খেপে যান। তাই তাকে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রিটিশ ব্রিটিশ বলে খ্যাপাই। কাছে এগোতেই খবর দিলেন, সেভেন সিটার একটা পাওয়া গেছে। অমুক দিন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়া যাবে। সময়মতো যেন পার্কিংয়ে অপেক্ষা করি।
এই বুদ্ধি আগেই আঁটা। শেষের একটা দিন কনফারেন্সে ক্লিনিক্যাল আলোচনাই বেশি চলবে। আমাদের মতো মৌলিক গবেষণার লোকের জন্য তেমন একটা জরুরি না। সেদিন আমরা ফাঁকি দেব। সারা দিনের জন্য গাড়িভাড়া নেওয়া হয়েছে। আরেক ল্যাবের দু-একজনকে জুটিয়ে সদলবলে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ব। সুপারভাইজার যাবেন না জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি যাবেন মেক্সিকোর সীমান্তের দিকে, যেখানে ব্র্যান্ডের জিনিস পানির দামে পাওয়া যায়। শুনে খুশিই হলাম। নেতা গোছের কেউ থাকলে স্বাধীনতা খর্ব হয়। ভেড়ার পাল বানিয়ে হ্যাঁট হ্যাঁট করে যে দাবড়ানিটা সে সারাক্ষণ দেয় আমাদের, সেটার হাত থেকেও বাঁচা যাবে।
টম আর গেরিট হাতের ইশারায় কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন। সুপারভাইজারকে পাশ কাটিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। আমাদের ল্যাবের দুই পোস্টডক। গেরিট চোস্ত জার্মান, ধারালো চেহারা। জার্মান স্বভাব মোতাবেক সারাক্ষণ খঁচে থাকে। টম আইরিশম্যান, গোলগাল ভালোমানুষ। তবে ব্রিটিশ বললে খেপে যান। তাই তাকে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রিটিশ ব্রিটিশ বলে খ্যাপাই। কাছে এগোতেই খবর দিলেন, সেভেন সিটার একটা পাওয়া গেছে। অমুক দিন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়া যাবে। সময়মতো যেন পার্কিংয়ে অপেক্ষা করি।
এই বুদ্ধি আগেই আঁটা। শেষের একটা দিন কনফারেন্সে ক্লিনিক্যাল আলোচনাই বেশি চলবে। আমাদের মতো মৌলিক গবেষণার লোকের জন্য তেমন একটা জরুরি না। সেদিন আমরা ফাঁকি দেব। সারা দিনের জন্য গাড়িভাড়া নেওয়া হয়েছে। আরেক ল্যাবের দু-একজনকে জুটিয়ে সদলবলে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ব। সুপারভাইজার যাবেন না জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি যাবেন মেক্সিকোর সীমান্তের দিকে, যেখানে ব্র্যান্ডের জিনিস পানির দামে পাওয়া যায়। শুনে খুশিই হলাম। নেতা গোছের কেউ থাকলে স্বাধীনতা খর্ব হয়। ভেড়ার পাল বানিয়ে হ্যাঁট হ্যাঁট করে যে দাবড়ানিটা সে সারাক্ষণ দেয় আমাদের, সেটার হাত থেকেও বাঁচা যাবে।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
এলোমেলো
ঘুর-ঘুরান্তির দিনটা আর আসে না। এদিকে সকাল-সন্ধ্যা জ্ঞানের ঘ্যানঘ্যান আর
কাঁহাতক সহ্য হয়! নিজের পোস্টার প্রেজেন্টেশন না হয় এ রকম উতরে গেল।
বাকিরাও ভালো করল। তবু সুপারভাইজার লোকটা গাঁয়ের পাঠশালার পণ্ডিতের মতো
পিছে লেগে থাকে। অমুক নামকরা বিজ্ঞানীর আলোচনায় আমরা যেন বুদ্ধিদীপ্ত
প্রশ্ন করে তাক লাগিয়ে দিই। নইলে ‘কিন্তু কপ করে খেয়ে ফেলব’ জাতীয় হুমকি
চলে। তাই কিছুটা প্রাণভয়ে কোনো সেশনে বোকাটে বোকাটে সব প্রশ্ন ছুড়ি। আবার
কোনোটায় সত্যিকারের আগ্রহ নিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করি। কাউকে কাউকে তো
স্টেজ থেকে কফির টেবিল পর্যন্ত ধাওয়া করলাম। তবে বেশির ভাগ সময়ে সামনের
সারিতে বসে হাঁ করে আধ খোলা মুখে ঘুমিয়ে কাটালাম।
সারা বেলা কনফারেন্সের পর রাতে আশপাশের রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে পেটচুক্তি খেয়ে সময় কেটে যাচ্ছিল একরকম। এক–আধ দিন মাহদি এসে আবার সেই লেবানিজ রেস্তোরাঁয় নিয়ে গিয়েছিল। নাম যার সুলতান। একদিন সেখানে চোখে পড়ল, এক ধারের দেয়ালে প্রায় সব দেশের খুচরা টাকার নোট ফ্রেম বন্দী হয়ে ঝুলছে। বাংলাদেশের দুই টাকার নোটও আছে দেখলাম। দোয়েল পাখিটা পরিচিত ভঙ্গিতে উঁকি দিচ্ছে। তার একটু বাদেই একদল দেশি ভাই জাতীয় পোশাক চেক লুঙ্গি বিপজ্জনক উচ্চতায় তুলে গটগট করে ঢুকল। নোয়াখালীর ভাষায় চলা আড্ডা দেখে বোঝা গেল তারা নিয়মিত কাস্টমার। ‘এটাই আমেরিকার মজা, বুঝলা?’ চওড়া হাসিতে মাহদি দুই মহাদেশের উদারতার ফারাক ইঙ্গিত করল। দেশি ভাই আর তাদের লুঙ্গির বদৌলতে সম্পূর্ণ ঘরোয়া আমেজে সারলাম সেদিনের ডিনার। মনে হলো, লেবাননি রেস্তোরাঁ সুলতানে না, বসে আছি ‘ইয়ান তুন খাই যান’ জাতীয় দেশি কোনো ভাতের হোটেলে।
------------চার----------
এরই মধ্যে একদিন কনফারেন্সের ইচিং–বিচিংয়ের ফাঁকে কয়েকজন মিলে লাঞ্চে বেরিয়েছি। কাছেই রালফস নামের বড়সড় একটা সুপারমার্কেট আছে। স্যান্ডউইচ কিনে চিবোতে চিবোতে ফেরত যাচ্ছি। হঠাৎ চোখে পড়ল, ফুটপাতে এক উষ্কখুষ্ক লোক কম্বল–টম্বল বিছিয়ে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। তার কোলে হেলান দেওয়া কাগজের সাইনবোর্ডটায় লেখা, ‘আমাকে রালফস থেকে চিকেন উইংস কিনে দিয়ে যাও’। গেরিটকে ইশারা করে বললাম, ‘বস তো দেখছি সেই রকম’। খঁচে থাকা গেরিট গাঁক গাঁক করতে করতে বললেন, ‘কেন, অসুবিধা কী? যা খেতে চায়, পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে।’ একটু দম নিয়ে যোগ করল, ‘আর ওর জায়গায় তুমি হলে তো ঠিকই লিখে রাখতে, আমাকে বাসমতী চালের একথালা ভাত দিয়ে যাও। নইলে চিকেন উইংসগুলো দিয়ে তাড়া করব’। বলেই মুখ টিপে মশকরার হাসি হাসলেন ল্যাবের বাজখাঁই মেজাজের পোস্টডক গেরিট। গালে বিশাল এক কামড় স্যান্ডউইচ থাকায় ঠা ঠা করে হাসতে পারছে না। হায়, আলুখেকো জার্মান এই বাঙালকে ভাতের খোঁটা দেয়!
সেদিন
বিকেলেও আমরা চরম খোশমেজাজে ছিলাম। চার কি পাঁচতারা এক হোটেলে আফটার
পার্টি হবে। ডিজেসহ। আগ্রহ নিয়ে এসেছি। এসে দেখি ডিজে–ফিজে ঘোড়ার ডিম।
লবিতে এক ছোকরা গিটার বাজিয়ে অনুরোধের গান গাইছে। ওদিকে যাদের জন্য পার্টি
সেই বিজ্ঞানীদের দঙ্গল ওয়াইন হাতে নিয়ে আমশি মুখে নিঃশব্দে ঘুরপাক খাচ্ছেন।
যেন মুখ খুললেই জ্ঞান উবে গিয়ে কলসি খালি হয়ে যাবে। গিটারওয়ালা ছেলেটা খুব
আড়ষ্ট ভঙ্গিতে নিচু স্বরে বলে যাচ্ছে, পরের গানে শ্রোতারা কী শুনতে চান।
ভেবে দেখলাম, আরে মওকা তো দারুণ! উড়াধুরা ঢিশটিং–ঢিশটিং গান হাতড়াচ্ছি মনে
মনে। কিন্তু দেরি হয়ে গেল। গেরিট ততক্ষণে পিংক ফ্লয়েডের একটা ক্ল্যাসিকের
নাম চেঁচিয়ে ছুড়ে দিয়েছে। উৎসাহী শ্রোতা পেয়ে ছোকরাও বাজাল জানপ্রাণ দিয়ে।
এদিকে আমি তক্কে তক্কে আছি। গান পেয়েছি। গানস ‘ন রোজেস। সুইট চাইল্ড
ও’মাইন। ছেলেটা প্রশস্ত হাসিতে জানিয়ে দিল, অনুরোধ তার মনে ধরেছে। এক
মুহূর্ত কী ভেবে সে হাওয়াই গিটার নামিয়ে পাশে রাখা ইলেকট্রিক গিটারটা
প্লাগ-ইন করে নিল। বয়সে বছর সাত-আষ্টেকের বড় গেরিট অবাক হয়ে বললেন, এ্যাই,
তুমি আমাদের সময়ের গান–টান শোনা শিখলে কোত্থেকে? তোমার তো পুরোনো গান বলতে
বড়জোর ব্যাক স্ট্রিট বয়েজ আর ব্রিটনি স্পিয়ার্স শোনার কথা। বাঁকা হেসে
বললাম, তোমার সমান আমার একটা ভাই আছে। সেই সুবাদে টিনেজ পপ না শুনে
ক্ল্যাসিক রক শুনে বড় হয়েছি। শুনে গেরিটের কিছুটা হলেও তাক লেগে গেল। বেশ
আমোদ পাচ্ছি। সায়েন্টিফিক আফটার পার্টি ব্যাপারটা একেবারে খারাপ লাগছে না।
চলে। পরের ঘণ্টা দুয়েক কলিগদের ওয়াইন গ্লাসের সঙ্গে আমার কোল্ড কফির চিয়ারস
চিয়ারস ঠোকাঠুকি আর গানবাজনা—দুটোই চলল সমানতালে।
তারপর এক সকালে বহু অপেক্ষার সেই দিন চলে এল। ঠিক হলো উদ্দেশ্যবিহীন ঘুরেফিরে তারপর সোজা চলে যাব সাগরপাড়ে। বেশ খানিকটা দূরে নাকি দারুণ একটা সৈকত আছে। ভাড়া করা বিশাল গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সবাই। গাড়ির কাচে নাক ঠেকিয়ে দেখি বাইরেটা। দক্ষিণ এশীয় আন্টিরা বেজায় রঙিন সালোয়ার–কামিজের সঙ্গে ধবধবে সাদা কিংবা কটকটে গোলাপি কেডস পরে অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। শহরঘেঁষা সাগরপাড়ে অলস সিল মাছ বড় পাথরের গায়ে পেট ভাসিয়ে রোদ পোহাচ্ছে। কী অদ্ভুতই না দেখাচ্ছে দৃশ্যগুলো।
বড়
সৈকতটা খুঁজে পেয়ে আমরা হইহই করে নেমে পড়েছি। কী ভেবে চপ্পল জোড়া আঙুলে
ঝুলিয়ে নিলাম আমি। বালি ওম ওম গরম। কুসুম কুসুম উষ্ণতায় ছেয়ে গেল মনটা।
দলের আর মেয়ে দুজন খুব দ্রুত হেঁটে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে এর ভেতর। টম আর
গেরিটও যে যার মতো হেলেদুলে ঘুরছে। একা পড়ে যাওয়াতে আমি এক রকম খুশি। বার
কয়েক পানিতে পা ভিজিয়ে ক্ষান্ত দিয়ে বালুর ওপর কায়দা করে ডান হাতে ভর রেখে
বাম দিকে এমনভাবে কেৎরে বসেছি যেন সৈকত, সাগর আর ঢেউয়ের একটা অনুভূমিক ছবি
পাওয়া যায়।
ছবিটা প্রায় তুলে ফেলেছি, আর দুম করে গেরিট ফ্রেমে ঢুকে পড়ল। তা–ও আবার আদুল আদুল খালি গায়ে। শর্টস বাদে বাকি সব তিনি ঢেউয়ের ডগায় রেখে এসেছেন আল্লাহর ওয়াস্তে। যেকোনো মুহূর্তে সেগুলো জলের পেটে চলে যেতে পারে। সেদিকে থোড়াই কেয়ার করে বললেন, সাগরপাড় থেকে তিনি স্লো মোশনে দৌড়ে আসবেন আর আমি যেন পটাপট কটা ফটো খিঁচে দিই। অনিচ্ছাভরে আড়মোড়া ভেঙে আলসেমির বিশাল কুমির হাই তুলে বললাম, ‘এটা তো টমকে বললেই পারতে। আমাকে জ্বালানো কেন?’ কিন্তু টমের দিকে তাকাতেই দেখা গেল তার প্রাগৈতিহাসিক দুই বাই তিন ইঞ্চি ফিচার ফোনটা হাতে নিয়ে তিনি অপরাধী হাসি হাসছেন। এই দিয়ে আর যাই হোক ছবি খেঁচা যাবে না। অগত্যা, আরামের কেৎরে বসা বাদ দিয়ে হাতের ফোনটায় টোকার পর টোকা মেরে গেলাম। পার্টনারকে পাঠানোর জন্য তোলা ছবিগুলো কেমন হয়েছে দেখার আর ফুরসত মিলল না গেরিট মিয়ার। উল্টো দিকে রামদৌড় লাগিয়েছেন ততক্ষণে। পাগলাটে একটা ঢেউ বেসামাল ধেয়ে আসছে। সমুদ্দুরে জামাকাপড় হাতিয়ে নিলে তাকে আদুল গায়েই হোটেলে ফিরতে হবে। কারও কাছে জ্যাকেট নেই। সান ডিয়াগোর আবহাওয়া আজকে খারাপ রকমের ভালো।
--------------পাঁচ------------
সৈকত থেকে শুরু হওয়া কাঠের ছোট্ট সেতুটা একটুখানি এগিয়েই শেষ হয়ে গেছে। সেতুর মাঝপথে দাঁড়ালে মনে হয় নীল সাগরের একেবারে গহিনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর হয়ে গেছে দেখে টুকটাক হাবিজাবি খেয়ে নিচ্ছি কেউ কেউ। কারও হাতে এই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নয় তো আইসক্রিম। দূরে পাহাড়ের গা ঘেঁষে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাক খেয়ে উড়তে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিসের ধোঁয়া?’ টমের কাছ থেকে উত্তর এল, ‘খবর–টবর পড়া ছেড়ে দিয়েছ মনে হয়? এটা হলো ক্যালিফোর্নিয়ার কুখ্যাত দাবানল। এ বছরেরটা শুরু হলো মাত্র’। ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম, দু-একটা হেলিকপ্টারের আনাগোনা। আগুন নেভানোর চেষ্টা আর কী। আগুন দেখে বেখাপ্পাভাবে বলে ফেললাম, ‘আচ্ছা, আজকে ওদিকে বনবাদাড় পুড়ছে আর আমরা কপকপিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাচ্ছি। কেমন যেন রোম পোড়ে, নিরো বাঁশি বাজায় টাইপ হয়ে যাচ্ছে না ব্যাপারটা?’ অনেকগুলো আলু ভাজা একবারে মুখে পুরে দলের বাকিরা রে রে করে উঠলেন, ‘দেখো, ফটকা লোক নিরোর প্যাঁ পোঁর সঙ্গে আমাদের কপকপ মেলাবে না খবরদার। আর আগুন আমরা লাগাইনি। সুতরাং তোমার মন কেমনের গুষ্টি কিলাই’। গুষ্টি কিলানোর হুমকিতে চুপ মেরে গেলাম।
তবে
চুপ মেরেছিল আরও কয়েকজন। সেতুর এক পাশে তিন চারটি পেলিক্যান। তাদের
চেহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের গাম্ভীর্য। তাদের পাশে
কমলারঙা সাইনবোর্ড পতপত করে উড়ছে। তাতে ছোট করে কী যেন লেখা। কৌতূহলী হয়ে
পড়তে গেলাম। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে খটাস ঠোকর! আর্কিওপ্টেরিক্স সাইজের ধুমসো
একটা পেলিক্যান মাথা ঠুকে দিয়েছে। দিয়ে আবার জায়গায় মতো ফিরে গিয়ে আধবোজা
চোখে ঝিমাচ্ছে। যেন কিছুই হয়নি। এদিকে চোখে সর্ষে ফুল দেখার মাঝেও
পেলিক্যানের গুষ্টি কিলাতে কিলাতে লেখাটা পড়ে ফেললাম। ‘প্লিজ, সরে দাঁড়াও।
বুনো বাদামি পেলিক্যান। আমরা বেকুব কিসিমের লোকজনকে কামড় দিই...উই বাইট
স্টুপিড পিপল’। গা টা অপমানে টং করে জ্বলে গেল। কারণ, কথা অতীব সত্য।
কিন্তু ঘটে ঘিলু মিলু যে কিছু নেই, সেটা পাখিগুলো জানল কী করে? যা হোক,
মাথা ডলতে ডলতেই দেখলাম, লেখাটা টমের চোখে পড়েছে। খুলে আসা ভারী চশমাটা
নাকে এঁটে সেও এদিকে আসছে। আজকে তারও ঠোকর কপাল। ভং ধরে থাকা পেলিক্যানটা
আধবোজা চোখ খুলে নড়েচড়ে বসেছে। পরের দৃশ্য দেখার জন্য অপমান ভুলে বাকিদের
সঙ্গে ঠোঁট টিপে হাসি আটকিয়ে নিষ্পাপ দাঁড়িয়ে থাকলাম।
ফেরার পথে সাগরের তাজা হাওয়ায় লাগা খিদের গতি করার জন্য গাড়ি থামাতে হলো। শুধু বেচারা টম কিছুই না খেয়ে হাত গুটিয়ে উদাস বসে থাকলেন। ছোটবেলায় বাদাম দেওয়া কী যেন খেয়ে অ্যানাফাইলাক্টিক শকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স-হাসপাতাল করতে হয়েছিল। সেই থেকে খাবার নিয়ে তার নখড়ার শেষ নেই। একবার চটপটি বানিয়ে ল্যাবে নিয়ে গিয়েছিলাম। অবশ্যই ঝালশূন্য। বিচিত্র নতুন খাবারটা সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে খেলেন। আর টম এসে প্রবল বেগে টেবিলের চারপাশে ঘুরপাক খেতে খেতে বললেন, ‘বাহ্ বাহ্, স্যাভরি স্ন্যাকস! ওয়াও, ওয়াও, লুকিং স্ক্রামশাস’। কিন্তু তাকে বাটি-চামচ ছুঁতে দেখা গেল না। এই হলো আমাদের আইরিশম্যান টম। এখানে আসা অবধি সাবওয়ে নামের রেস্তোরাঁ ছাড়া কোথাও তাকে খেতে দেখা যায়নি। তাদের খাবারে নাকি বাদামের ব্যাপার নেই।
দেখতে দেখতে সান ডিয়াগোর সূর্যের দিনগুলো ফুরিয়ে এল। আজকে ফেরার দিন। ফ্লাইট ভোররাত চারটায়। মাহদি দায়িত্ববান বন্ধুর মতো দিয়ে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু পারল না। তার বদলে ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে দিল সন্ধ্যায় এসে দেখা করতে এসে। সেই রাতেই তাকে অতি জরুরি একটা এক্সপেরিমেন্ট চালাতে হবে তার ল্যাবে। ক্ষ্যাপা বিজ্ঞানী বলে কথা।
ট্রানজিট
আটলান্টায় এসে এবার আর ভয় পেলাম না। বরং একটু ঘুরেটুরেও বেড়ালাম। ঠিক সময়ে
মিউনিখের প্লেন খুঁজে নিলাম। পাশের সিট খালি দেখে হাত–পা ছেড়ে দেব দেব
করছি। কিন্তু না। কোত্থেকে সাড়ে ছয় ফুট দশাসই এক তরুণ প্রায় দেড়টা আসন দখলে
নিয়ে ফেলল। ওদিকে আমি যে চিপায় পড়ে আছি, সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই। বিমান
ছেড়ে দেওয়ার প্রায় আধঘণ্টা পর তার মুখ ফোটা শুরু হলো। ‘ভাগ্যিস, তুমি শুটকো
পটকা আছ। তাই জায়গা নিয়ে বসতে পারছি। হাই, আমি রবার্ট।’ চিপা থেকে চিঁ চিঁ
করে নিজের নাম বললাম। এরপরের পাঁচ-দশ মিনিটের আলাপে রবার্ট সম্পর্কে চমক
লাগানো তথ্য বেরিয়ে এল। সে এক আফগানিস্তানফেরত আমেরিকান সৈনিক। আমেরিকান
ঘাঁটিতে কিছু বছর সৈনিক জীবন কাটিয়ে দেশে চলে গিয়েছিল। তারপর টিভি
সাংবাদিকের কাজ নিয়ে আবার ফিরে গেছে সেই আফগান দেশেই। এখন জার্মানি যাচ্ছে
ফুটবল খেলতে। জার্মান একদল সাংবাদিকের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ। কিছুটা যেচে পড়ে
জানতে চাইলাম, ‘আফগানিস্তান কেমন দেখেছ? যুদ্ধ আসলে কেমন?’ সপ্রতিভ রবার্ট
এক মুহূর্ত আনমনা থেকে গলাখাঁকারি দিয়ে বলল, ‘সাধারণ আফগান মানুষ খুব
সহজ–সরল। আর ওদের কাবাব খুব মজার।’ বলেই তিনি আচমকা ফুল স্টপ হয়ে গেলেন।
বোঝা গেল, এই প্রসঙ্গের আলাপে তার খুব একটা উৎসাহ নেই। আমিও আর প্রশ্ন
বাড়ালাম না। তা ছাড়া, যোদ্ধাকে ‘যুদ্ধ কেমন’ জিজ্ঞেস করা বাতুলতা। যুদ্ধের
প্রয়োজনীয়তা আর নিষ্প্রয়োজনীয়তা তাদের থেকে ভালো আর কেউ জানে না।
ঘুমিয়েই
গিয়েছিলাম বোধ হয়। নিজের নাম শুনে সোজা হয়ে বসলাম। কাগজ মিলিয়ে এয়ার হোস্ট
ভদ্রলোক বলছেন, ‘হ্লালব্রিনি ফর মিস সারকার’। ‘হ্লালব্রিনি’ বস্তুটি যে
কী, বুঝতে না পেরে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি। পাশ থেকে রবার্ট ধাঁধাটা
ভেঙে দিলেন, ‘হালাল খাবার প্রি-অর্ডার করেছিলে মনে হয়। চলে এসেছে তোমার
হালাল বিরিয়ানি।’ বাড়িয়ে দেওয়া ট্রে নিলাম। আগুন গরম অ্যালুমিনিয়ামের ভাণ্ড
থেকে ভুরভুরে সুঘ্রাণ আসছে। আফগান কাবাবের পাঁড় ভক্ত রবার্ট জুলজুল করে
চেয়ে আছে এদিকে। তাকে দেওয়া হয়েছে শুকনো রুটি, মাখন ইত্যাদি অখাদ্য। ভদ্রতা
করে হ্লালব্রিনি সাধতে গিয়ে ভুল করলাম। পলকেই বিরিয়ানির অর্ধেকটা তার
প্লেটে লাফিয়ে পড়ল। বাকিটা পথ বিরিয়ানির জোরেই কি না জানি না, রবার্টের মুখ
চলল তুফান মেলের গতিতে। খাজুরে আলাপের ফাঁপরে পড়ে একবার ঘুমের ভান করলে
খুঁচিয়ে উঠিয়ে কফি কাপ ধরিয়ে দিল। নিস্তারবিহীন বিমানযাত্রার পুরোটা রবার্ট
নামের মূর্তিমান যন্ত্রণায় অস্থির। মিউনিখে নেমে হাসিমুখে তাকে বিদায়
জানিয়ে বেরিয়ে আসছি, আর কানে ভেসে এল আমেরিকান সৈনিক তার দলের বাকিদের পেয়ে
বলছে, ‘উফ্, কী একটা মেয়ের পাশে যে বসেছি, কথা বলে বলে মাথা ধরিয়ে দিয়েছে।
কথার মেশিন। খালি পটরপটর আর পটরপটর…’।
মাথা নেড়ে আপন মনে হেসে বাড়ির পথ ধরলাম।
>>>ড. রিম সাবরিনা জাহান সরকার: গবেষক, ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি, স্কুল অব মেডিসিন, টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি মিউনিখ, জার্মানি।
সারা বেলা কনফারেন্সের পর রাতে আশপাশের রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে পেটচুক্তি খেয়ে সময় কেটে যাচ্ছিল একরকম। এক–আধ দিন মাহদি এসে আবার সেই লেবানিজ রেস্তোরাঁয় নিয়ে গিয়েছিল। নাম যার সুলতান। একদিন সেখানে চোখে পড়ল, এক ধারের দেয়ালে প্রায় সব দেশের খুচরা টাকার নোট ফ্রেম বন্দী হয়ে ঝুলছে। বাংলাদেশের দুই টাকার নোটও আছে দেখলাম। দোয়েল পাখিটা পরিচিত ভঙ্গিতে উঁকি দিচ্ছে। তার একটু বাদেই একদল দেশি ভাই জাতীয় পোশাক চেক লুঙ্গি বিপজ্জনক উচ্চতায় তুলে গটগট করে ঢুকল। নোয়াখালীর ভাষায় চলা আড্ডা দেখে বোঝা গেল তারা নিয়মিত কাস্টমার। ‘এটাই আমেরিকার মজা, বুঝলা?’ চওড়া হাসিতে মাহদি দুই মহাদেশের উদারতার ফারাক ইঙ্গিত করল। দেশি ভাই আর তাদের লুঙ্গির বদৌলতে সম্পূর্ণ ঘরোয়া আমেজে সারলাম সেদিনের ডিনার। মনে হলো, লেবাননি রেস্তোরাঁ সুলতানে না, বসে আছি ‘ইয়ান তুন খাই যান’ জাতীয় দেশি কোনো ভাতের হোটেলে।
------------চার----------
এরই মধ্যে একদিন কনফারেন্সের ইচিং–বিচিংয়ের ফাঁকে কয়েকজন মিলে লাঞ্চে বেরিয়েছি। কাছেই রালফস নামের বড়সড় একটা সুপারমার্কেট আছে। স্যান্ডউইচ কিনে চিবোতে চিবোতে ফেরত যাচ্ছি। হঠাৎ চোখে পড়ল, ফুটপাতে এক উষ্কখুষ্ক লোক কম্বল–টম্বল বিছিয়ে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। তার কোলে হেলান দেওয়া কাগজের সাইনবোর্ডটায় লেখা, ‘আমাকে রালফস থেকে চিকেন উইংস কিনে দিয়ে যাও’। গেরিটকে ইশারা করে বললাম, ‘বস তো দেখছি সেই রকম’। খঁচে থাকা গেরিট গাঁক গাঁক করতে করতে বললেন, ‘কেন, অসুবিধা কী? যা খেতে চায়, পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে।’ একটু দম নিয়ে যোগ করল, ‘আর ওর জায়গায় তুমি হলে তো ঠিকই লিখে রাখতে, আমাকে বাসমতী চালের একথালা ভাত দিয়ে যাও। নইলে চিকেন উইংসগুলো দিয়ে তাড়া করব’। বলেই মুখ টিপে মশকরার হাসি হাসলেন ল্যাবের বাজখাঁই মেজাজের পোস্টডক গেরিট। গালে বিশাল এক কামড় স্যান্ডউইচ থাকায় ঠা ঠা করে হাসতে পারছে না। হায়, আলুখেকো জার্মান এই বাঙালকে ভাতের খোঁটা দেয়!
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
তারপর এক সকালে বহু অপেক্ষার সেই দিন চলে এল। ঠিক হলো উদ্দেশ্যবিহীন ঘুরেফিরে তারপর সোজা চলে যাব সাগরপাড়ে। বেশ খানিকটা দূরে নাকি দারুণ একটা সৈকত আছে। ভাড়া করা বিশাল গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সবাই। গাড়ির কাচে নাক ঠেকিয়ে দেখি বাইরেটা। দক্ষিণ এশীয় আন্টিরা বেজায় রঙিন সালোয়ার–কামিজের সঙ্গে ধবধবে সাদা কিংবা কটকটে গোলাপি কেডস পরে অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। শহরঘেঁষা সাগরপাড়ে অলস সিল মাছ বড় পাথরের গায়ে পেট ভাসিয়ে রোদ পোহাচ্ছে। কী অদ্ভুতই না দেখাচ্ছে দৃশ্যগুলো।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
ছবিটা প্রায় তুলে ফেলেছি, আর দুম করে গেরিট ফ্রেমে ঢুকে পড়ল। তা–ও আবার আদুল আদুল খালি গায়ে। শর্টস বাদে বাকি সব তিনি ঢেউয়ের ডগায় রেখে এসেছেন আল্লাহর ওয়াস্তে। যেকোনো মুহূর্তে সেগুলো জলের পেটে চলে যেতে পারে। সেদিকে থোড়াই কেয়ার করে বললেন, সাগরপাড় থেকে তিনি স্লো মোশনে দৌড়ে আসবেন আর আমি যেন পটাপট কটা ফটো খিঁচে দিই। অনিচ্ছাভরে আড়মোড়া ভেঙে আলসেমির বিশাল কুমির হাই তুলে বললাম, ‘এটা তো টমকে বললেই পারতে। আমাকে জ্বালানো কেন?’ কিন্তু টমের দিকে তাকাতেই দেখা গেল তার প্রাগৈতিহাসিক দুই বাই তিন ইঞ্চি ফিচার ফোনটা হাতে নিয়ে তিনি অপরাধী হাসি হাসছেন। এই দিয়ে আর যাই হোক ছবি খেঁচা যাবে না। অগত্যা, আরামের কেৎরে বসা বাদ দিয়ে হাতের ফোনটায় টোকার পর টোকা মেরে গেলাম। পার্টনারকে পাঠানোর জন্য তোলা ছবিগুলো কেমন হয়েছে দেখার আর ফুরসত মিলল না গেরিট মিয়ার। উল্টো দিকে রামদৌড় লাগিয়েছেন ততক্ষণে। পাগলাটে একটা ঢেউ বেসামাল ধেয়ে আসছে। সমুদ্দুরে জামাকাপড় হাতিয়ে নিলে তাকে আদুল গায়েই হোটেলে ফিরতে হবে। কারও কাছে জ্যাকেট নেই। সান ডিয়াগোর আবহাওয়া আজকে খারাপ রকমের ভালো।
--------------পাঁচ------------
সৈকত থেকে শুরু হওয়া কাঠের ছোট্ট সেতুটা একটুখানি এগিয়েই শেষ হয়ে গেছে। সেতুর মাঝপথে দাঁড়ালে মনে হয় নীল সাগরের একেবারে গহিনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর হয়ে গেছে দেখে টুকটাক হাবিজাবি খেয়ে নিচ্ছি কেউ কেউ। কারও হাতে এই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নয় তো আইসক্রিম। দূরে পাহাড়ের গা ঘেঁষে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাক খেয়ে উড়তে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিসের ধোঁয়া?’ টমের কাছ থেকে উত্তর এল, ‘খবর–টবর পড়া ছেড়ে দিয়েছ মনে হয়? এটা হলো ক্যালিফোর্নিয়ার কুখ্যাত দাবানল। এ বছরেরটা শুরু হলো মাত্র’। ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম, দু-একটা হেলিকপ্টারের আনাগোনা। আগুন নেভানোর চেষ্টা আর কী। আগুন দেখে বেখাপ্পাভাবে বলে ফেললাম, ‘আচ্ছা, আজকে ওদিকে বনবাদাড় পুড়ছে আর আমরা কপকপিয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাচ্ছি। কেমন যেন রোম পোড়ে, নিরো বাঁশি বাজায় টাইপ হয়ে যাচ্ছে না ব্যাপারটা?’ অনেকগুলো আলু ভাজা একবারে মুখে পুরে দলের বাকিরা রে রে করে উঠলেন, ‘দেখো, ফটকা লোক নিরোর প্যাঁ পোঁর সঙ্গে আমাদের কপকপ মেলাবে না খবরদার। আর আগুন আমরা লাগাইনি। সুতরাং তোমার মন কেমনের গুষ্টি কিলাই’। গুষ্টি কিলানোর হুমকিতে চুপ মেরে গেলাম।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
ফেরার পথে সাগরের তাজা হাওয়ায় লাগা খিদের গতি করার জন্য গাড়ি থামাতে হলো। শুধু বেচারা টম কিছুই না খেয়ে হাত গুটিয়ে উদাস বসে থাকলেন। ছোটবেলায় বাদাম দেওয়া কী যেন খেয়ে অ্যানাফাইলাক্টিক শকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স-হাসপাতাল করতে হয়েছিল। সেই থেকে খাবার নিয়ে তার নখড়ার শেষ নেই। একবার চটপটি বানিয়ে ল্যাবে নিয়ে গিয়েছিলাম। অবশ্যই ঝালশূন্য। বিচিত্র নতুন খাবারটা সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে খেলেন। আর টম এসে প্রবল বেগে টেবিলের চারপাশে ঘুরপাক খেতে খেতে বললেন, ‘বাহ্ বাহ্, স্যাভরি স্ন্যাকস! ওয়াও, ওয়াও, লুকিং স্ক্রামশাস’। কিন্তু তাকে বাটি-চামচ ছুঁতে দেখা গেল না। এই হলো আমাদের আইরিশম্যান টম। এখানে আসা অবধি সাবওয়ে নামের রেস্তোরাঁ ছাড়া কোথাও তাকে খেতে দেখা যায়নি। তাদের খাবারে নাকি বাদামের ব্যাপার নেই।
দেখতে দেখতে সান ডিয়াগোর সূর্যের দিনগুলো ফুরিয়ে এল। আজকে ফেরার দিন। ফ্লাইট ভোররাত চারটায়। মাহদি দায়িত্ববান বন্ধুর মতো দিয়ে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু পারল না। তার বদলে ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে দিল সন্ধ্যায় এসে দেখা করতে এসে। সেই রাতেই তাকে অতি জরুরি একটা এক্সপেরিমেন্ট চালাতে হবে তার ল্যাবে। ক্ষ্যাপা বিজ্ঞানী বলে কথা।
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
![]() |
| সান ডিয়াগোর নৈসর্গিক দৃশ্য |
মাথা নেড়ে আপন মনে হেসে বাড়ির পথ ধরলাম।
![]() |
| ড. রিম সাবরিনা জাহান সরকার |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1407)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
September
(820)
-
▼
Sep 15
(22)
- সৌদি আরবে তেল শোধনাগারের ওপর ড্রোন হামলা কিসের ইঙ্গিত
- ছিনতাইয়ের ফাঁদ যখন শিশু by পিয়াস সরকার
- সৌদি আরবে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া by অনিম...
- রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরা by হাসনাত আবদুল হাই
- পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় নেতাদের আক্রমণাত্মক...
- দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার চালানো দুঃসাহসী তরুণী by ...
- ট্রাম্প পয়েন্টে বৃটিশ রাজনীতি by লুক ম্যাকগি
- বাংলাদেশে ঢুকে মসজিদ নির্মাণে বিএসএফের বাধা
- শোভন-রাব্বানী আউট: ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্বে জয়-লেখক
- যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউ...
- কেন ছাত্রদের আস্থা হারাচ্ছে ছাত্র রাজনীতি? by পারম...
- কাশ্মীর সঙ্কট সমাধানে ট্রাম্পের প্রতি সিনেটরদের চিঠি
- কাশ্মীর সীমান্ত পার হতে আমার ডাকের অপেক্ষায় থাকুন...
- ওমা গো, সান ডিয়াগো! by রিম সাবরিনা জাহান সরকার
- যৌবনে টানাটানি, বার্ধক্যে অচ্ছুৎ, পাকিস্তানি হিজড়া...
- ভারতের যে গ্রামে মৃতদের সঙ্গে বসবাস
- পাটচাষীদের স্বপ্ন- হারানো দিন আবার ফিরে আসবে
- বান্ধবীর সঙ্গে রাত্রীযাপন!
- ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন: মর্গ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ...
- বড় ধরনের পানি সংকটে ভারত by আশীষ বিশ্বাস
- খাদ্য নিরাপত্তা নেই আফ্রিকার ৩ কোটি মানুষের
- ড্রোনের বহুমুখী ব্যবহার by মুরাদ আল কোরাইশী
-
▼
Sep 15
(22)
-
▼
September
(820)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট












No comments:
Post a Comment