বেলুচিস্তানে ‘সন্ত্রাসী’ হামলা ও অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৫

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৯২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার প্রদেশটির একাধিক জেলায় ভয়াবহ ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর এ অভিযান চালানো হয়।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ হামলা ও অভিযান সম্পর্কে পাওয়া প্রাথমিক খবরে মোট নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৬৮ উল্লেখ করা হয়েছিল।

আজ রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’–এর সদস্যরা কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, ডালবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, তাম্প, গোয়াদর ও পাসনি এলাকায় একযোগে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা নারী, শিশু ও শ্রমিকসহ ১৮ জন নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে।

আইএসপিআর বলেছে, ‘হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। অভিযানে ৩ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ ৯২ সন্ত্রাসী নিহত হন। লড়াইয়ে ১৫ সেনাসদস্য বীরত্বের সঙ্গে প্রাণ দেন। এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসীদের মূলহোতা ও সহায়তাকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।’

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ হামলার নকশা ভারত থেকে করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কোথায় বসে এসব করছেন, তার অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আমরা বিশ্ববাসীর কাছে তাঁদের মুখোশ খুলে দেব।’

মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পুরো বেলুচ পরিবারও রয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক কমানো সম্ভব হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঞ্জাব থেকে বেলুচিস্তানে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডেরা গাজী খান শহরের পুলিশ উপকমিশনার উসমান খালিদ বলেন, ফোর্ট মুনরো হাইওয়ে ও তৌনসা-মুসা খেল সড়ক দিয়ে যানচলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ওই হামলাকে সন্ত্রাসীদের একটি ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আইএসপিআর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, গত এক বছরে পাকিস্তানে ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে আফগান ও ভারতীয় মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। শুধু গত বছরেই পাকিস্তানজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে ২ হাজার ৫৯৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে হামলাস্থল পরিদর্শন করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, কোয়েটা
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে হামলাস্থল পরিদর্শন করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, কোয়েটা। ছবি: এএফপি

No comments

Powered by Blogger.