ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহরে আইসিইকে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে (ডিএইচএস) ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে চলমান বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোনো শহর থেকে ফেডারেল সহায়তা চাওয়া হলে, তখনই শুধু হস্তক্ষেপ করা যাবে।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বড় আকারে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই/আইস) এজেন্ট মোতায়েন করা এবং সেখানে এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নিহত হওয়ার জেরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, তিনি ডিএইচএস মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন।

ক্রিস্টি নোয়েমকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আমরা ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহরে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করব না, যদি না তারা আমাদের সাহায্য চায়।’

তবে আইসিই এবং বর্ডার প্যাট্রোল ফেডারেল ভবনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেবে।

এ প্রসঙ্গে খানিকটা হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের মুখে থুতু ছোড়া যাবে না, আমাদের গাড়ির হেডলাইটে ঘুষি বা লাথি মারা যাবে না এবং আমাদের যানবাহন কিংবা আমাদের দেশপ্রেমী যোদ্ধাদের দিকে পাথর বা ইট নিক্ষেপ করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন অথবা এর চেয়েও কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের সুরক্ষার আওতায় থাকা আদালত ভবন, ফেডারেল ভবন কিংবা অন্য কোনো স্থাপনা কোনোভাবেই বা কোনো মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।’

ডিএইচএস বা মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের দপ্তর থেকে তৎক্ষণাৎ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ট্রাম্প কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেন। তিনি বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য ও শহরগুলোতে কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেন। তাঁর যুক্তি, অপরাধীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের জন্য সশস্ত্র অভিযান প্রয়োজন।

ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, মিনেসোটার সবচেয়ে বড় শহর মিনিয়াপোলিসের অভিযানটি এখন পর্যন্ত ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তম অভিযান। শহরটিতে নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য, মিনিয়াপোলিসের সোমালি বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা অভিবাসনবিষয়ক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস আইসিই এজেন্টরা, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস আইসিই এজেন্টরা, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

No comments

Powered by Blogger.