গুহামানবদের চুম্বন, এবং...
মানবসভ্যতার বহু পুরোনো এক রহস্যে আলো ফেলেছে নতুন এক গবেষণা। তাতে বলা হয়েছে, মানুষ ও নিয়ান্ডারথালরা শুধু মিলনই করত না, তারা একে অপরকে চুম্বনও করত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে মানুষের চুম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইল বলছে, নিয়ান্ডারথাল হলো মানুষের ঘনিষ্ঠ পূর্বপুরুষ। তারা প্রায় ৪ লাখ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় বসবাস করত।
আগের গবেষণায় জানা গিয়েছিল, আধুনিক মানুষের জিনে আজও নিয়ান্ডারথালের ডিএনএ পাওয়া যায়। অর্থাৎ দুই প্রজাতির মধ্যে যৌনসম্পর্ক ঘটেছিল। তবে চুম্বনও সেই মিলনের অংশ ছিল কি না, তা এতদিন অজানাই ছিল। গবেষণার সহ-লেখক ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ক্যাথরিন ট্যালবট বলেন, চুম্বন আমাদের কাছে সাধারণ ব্যাপার মনে হলেও, মানব সভ্যতার মাত্র ৪৬ শতাংশ সংস্কৃতিতে এটি নথিবদ্ধ। সমাজভেদে এর অর্থ ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এটি কি আদিম আচরণ, নাকি সাংস্কৃতিক উদ্ভাবন- এটাই ছিল বড় প্রশ্ন। গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বনোবো থেকে শুরু করে সাদা ভাল্লুক, নেকড়ে এমনকি অ্যালবাট্রস- অনেক প্রাণি চুম্বনের মতো আচরণ করে। কেউ মুখে মুখ দেয়, কেউ নাক ছোঁয়ায়, কেউ মাথা ঠেকায়- যা সামাজিক বা প্রজনন আচরণের অংশ। তবে বিবর্তনগতভাবে চুম্বন হলো এক ‘রহস্যময় আচরণ’। কারণ এতে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। অথচ প্রজননে সরাসরি কোনও সুবিধা দেয় বলে মনে হয় না। গবেষকরা আধুনিক প্রাইমেটদের আচরণ নিয়ে সংগ্রহ করা বিপুল তথ্য ব্যবহার করেন- যেমন শিম্পাঞ্জি, বনোবো, ওরাংওটাং কি ধরনের চুম্বন-সদৃশ আচরণ করে। তারা চুম্বনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে- ‘আক্রমণাত্মক নয়, মুখে-মুখে স্পর্শ, যার মধ্যে খাবার আদান-প্রদান হয় না।’ এরপর জটিল পরিসংখ্যানভিত্তিক বাইসিয়ান মডেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিবর্তনের বিভিন্ন শাখায় চুম্বনের সম্ভাব্য উৎস নির্ণয় করা হয়। মডেলটি এক কোটি বার চালানো হয়, যাতে ফলাফল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হয়। ফলাফলে দেখা যায়, চুম্বনের উৎপত্তি দুই কোটি ১৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৬৯ লাখ বছর আগের এক পূর্বপুরুষে। এই পূর্বপুরুষ থেকে সৃষ্টি চারটি গ্রেট এপ। তারা হলো ওরাংওটাং, গরিলা, প্যান (শিম্পাঞ্জি ও বনোবো) এবং হোমো (যার একমাত্র জীবিত সদস্য আধুনিক মানুষ)।
গবেষকদের মতে, নিয়ান্ডারথালরাও জীবদ্দশায় চুম্বনের আচরণ করত। এটি সমর্থন করছে আগের প্রমাণ- মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের মুখের জীবাণু আদান-প্রদান হয়েছিল, যা লালার মাধ্যমে ছাড়া সম্ভব নয়। গবেষণা বলছে- মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের শারীরিক সান্নিধ্য শুধু মিলনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং চুম্বন, আদর, ঘনিষ্ঠ স্পর্শ- সবই ঘটত। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন- প্রাগৈতিহাসিক যুগে মিলন সবসময়ই হয়তো ‘সম্মতিতে’ হয়নি। প্রফেসর পল পেটিট ডেইলি মেইলকে বলেন, আমরা ধরে নিই মিলন ছিল সম্মতিপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হল- সে যুগে অনেক সময়ই হয়তো কারও কোনও বিকল্প ছিল না। যদি সম্মতিপূর্ণ হয়ে থাকে- তবে অবশ্যই চুম্বন ও আলিঙ্গন ছিল মিলনের অংশ।
চুম্বন প্রায় সব বড় এপ প্রজাতির মধ্যেই আজও দেখা যায়। অর্থাৎ এটি টিকে আছে লক্ষ লক্ষ বছর। তবে কেন এটি বিবর্তনে বজায় রইল। তার কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। একটি ধারণা হলো- চুম্বনের মূল ছিল পরস্পরের গায় থেকে উকুন-টিক পড়া সরানো। পরবর্তীকালে এটি যৌন উত্তেজনা ও অন্তরঙ্গতার অংশ হয়ে ওঠে।
গবেষকদের মতে, নিয়ান্ডারথালরাও জীবদ্দশায় চুম্বনের আচরণ করত। এটি সমর্থন করছে আগের প্রমাণ- মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের মুখের জীবাণু আদান-প্রদান হয়েছিল, যা লালার মাধ্যমে ছাড়া সম্ভব নয়। গবেষণা বলছে- মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের শারীরিক সান্নিধ্য শুধু মিলনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং চুম্বন, আদর, ঘনিষ্ঠ স্পর্শ- সবই ঘটত। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন- প্রাগৈতিহাসিক যুগে মিলন সবসময়ই হয়তো ‘সম্মতিতে’ হয়নি। প্রফেসর পল পেটিট ডেইলি মেইলকে বলেন, আমরা ধরে নিই মিলন ছিল সম্মতিপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হল- সে যুগে অনেক সময়ই হয়তো কারও কোনও বিকল্প ছিল না। যদি সম্মতিপূর্ণ হয়ে থাকে- তবে অবশ্যই চুম্বন ও আলিঙ্গন ছিল মিলনের অংশ।
চুম্বন প্রায় সব বড় এপ প্রজাতির মধ্যেই আজও দেখা যায়। অর্থাৎ এটি টিকে আছে লক্ষ লক্ষ বছর। তবে কেন এটি বিবর্তনে বজায় রইল। তার কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। একটি ধারণা হলো- চুম্বনের মূল ছিল পরস্পরের গায় থেকে উকুন-টিক পড়া সরানো। পরবর্তীকালে এটি যৌন উত্তেজনা ও অন্তরঙ্গতার অংশ হয়ে ওঠে।

No comments