Friday, October 3, 2025
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার ব্যাখ্যা ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান by জেরেমি বোয়েন
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার ব্যাখ্যা ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান by জেরেমি বোয়েন
ইসরাইলি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে রিপোর্ট হয় যে, বাইডেনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, কারণ নেতানিয়াহু তার কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রিসভার চাপের মুখে নতুন কিছু দাবি তুলে লক্ষ্যপোস্ট সরিয়ে দেন। তবুও, এই কাঠামোগত পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের ওপর যুদ্ধ শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ট্রাম্প নিজেকে এমন এক নেতা হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, যাকে না বলা কঠিন। কেউই চাইবে না ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ভলোদিমির জেলেনস্কি যে কঠিন অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছিলেন, সেটির মতো পরিস্থিতিতে পড়তে। তবে নেতারা হোয়াইট হাউস ছাড়লে পরিস্থিতি বদলে যায়।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ইসরাইল ফেরার আগে নেতানিয়াহুর কর্মীরা তাকে নিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন, যেখানে তিনি নিজের সংস্করণ তুলে ধরেন। সেখানে একটি বিষয় ছিল- ইসরাইলের পাশে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন, অর্থাৎ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, যেটিকে বৃটেন ও আরও কিছু পশ্চিমা দেশ সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্পের দলিলটি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার ধারণাকে এক ধরনের অস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তাতে বলা হয়েছে, রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কারের পর, যেটি মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, তখনই ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি বিশ্বাসযোগ্য সুযোগ তৈরি হতে পারে, যেটিকে আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দিই।
তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের দূরবর্তী সম্ভাবনার সামান্য ইঙ্গিতও নেতানিয়াহুর জন্য সহনীয় ছিল না। যদিও তিনি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে পুরো সমর্থন দিয়ে ইংরেজিতে বলেন, আমি গাজা যুদ্ধ শেষ করার জন্য আপনার পরিকল্পনাকে সমর্থন করি, যা আমাদের যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ করে।
কিন্তু ভিডিওতে, হিব্রু ভাষায় নিজ দেশের জনগণকে বার্তা দিতে গিয়ে নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রে সম্মত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, না, একেবারেই না। এটা কোনোভাবেই চুক্তিতে লেখা নেই। তবে আমরা একটাই বলেছি- আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে জোরপূর্বক প্রতিহত করব। তিনি বলেন, ট্রাম্পও এতে সম্মত হয়েছেন।
পরিকল্পনার শক্তি হলো এর গতি। দুর্বলতা হলো এর অভাব, যা ট্রাম্পীয় কূটনীতির বৈশিষ্ট্য। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যে দলিলে সই করেছেন, যেটিকে বৃটেনসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সমর্থন করেছে, তাতে ইসরাইলি সেনাদের ধাপে ধাপে পিছিয়ে যাওয়ার একটি সাধারণ মানচিত্র আছে। কিন্তু সেসব সূক্ষ্ম দিক নেই যা নির্ধারণ করে একটি যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক চুক্তি টিকে থাকবে নাকি ভেঙে যাবে। এটি কার্যকর করতে হলে কঠিন আলোচনার প্রয়োজন হবে। সেই প্রক্রিয়ায় বারবার ভেঙে পড়ার সুযোগও থাকবে।
ইসরাইলের মূলধারার বিরোধী দলগুলো পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করেছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর জোটের চরমপন্থি জাতীয়তাবাদীরা এটি নাকচ করেছে। তারা বছরের শুরুতে যে ‘ট্রাম্প রিভিয়েরা’ পরিকল্পনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল, সেটির ভিডিও প্রচারণায় ইসরাইল ও মার্কিন নেতাদের সমুদ্রসৈকতে ককটেল হাতে দেখানো হয়েছিল। সেখানে গাজার জায়গায় ঝকঝকে কাঁচের টাওয়ারসহ নতুন শহরের কল্পচিত্র আঁকা হয়েছিল। ইসরাইলি কট্টর ডানপন্থীরা আনন্দিত ছিল। কারণ ওই পরিকল্পনায় গাজার দুই মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে উৎখাত করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল। নতুন পরিকল্পনা বলছে কোনো ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করা হবে না। চরম উগ্রপন্থী অর্থমন্ত্রী ও বসতি স্থাপনপন্থী নেতা বেজালেল স্মোটরিচ এটিকে ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তখন বৃটেন ও ফ্রান্স চেকোস্লোভাকিয়াকে নাৎসি জার্মানির কাছে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছিল এবং অল্প কিছুদিন পরই দেশটি স্বাধীনতা হারায়।
যদি হামাস চুক্তি মেনে নেয়, আর যদি নেতানিয়াহু তার জোটের ক্ষমতাশালী চরমপন্থীদের তুষ্ট করার উপায় খোঁজেন, তবে তার হাতে প্রচুর সুযোগ থাকবে আলোচনাকে এমনভাবে ভেঙে দেওয়ার, যাতে দোষ চাপানো যায় হামাসের ওপর। ট্রাম্প কাঠামোগত চুক্তির গঠন এমন যে ইসরাইল যেসব পদক্ষেপ পছন্দ করে না সেগুলো ভেটো করার বহু সুযোগ পায়।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা গভীর সংঘাতের অবসান হয়তো সম্ভব নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বৃটেনসহ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বহু দেশ মনে করে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা ছাড়া কোনো সমাধান শান্তি বয়ে আনবে না। আরব ও ইসলামিক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের সমর্থন জানাতে যে বিবৃতি দেন, তাতে বলা হয়, তারা বিশ্বাস করেন এই প্রক্রিয়া ইসরাইলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহার ও গাজা পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাবে এবং ন্যায়সঙ্গত শান্তির পথ তৈরি করবে, যা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে গাজাকে সম্পূর্ণভাবে পশ্চিম তীরের সঙ্গে একীভূত করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এটি আন্তর্জাতিক আদালতের সেই সিদ্ধান্তের প্রতি এক ধরনের গোপন ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যেতে পারে, যেখানে ফিলিস্তিনি ভূমি দখলকে ইসরাইলের জন্য অবৈধ বলা হয়েছে।
নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন এই চুক্তি তাকে হামাসের ওপর ইসরাইলের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা বিজয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি জর্ডান নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত জমির ওপর কোনো ফিলিস্তিনি অধিকার অস্বীকার করেন। একটি পরিকল্পনা- কিন্তু এর অর্থ নিয়ে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা। কাঠামোটি এতটাই অস্পষ্ট যে উভয় ব্যাখ্যাই সম্ভব। এটি কোনো আশাব্যঞ্জক সূচনা নয়।
(অনলাইন বিবিসি থেকে অনুবাদ)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
October
(199)
-
▼
Oct 03
(8)
- রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই: ফিলিপ্পো...
- ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কি হামাস রাজি হবে by জেসন বার্ক
- পৃথিবীর সব সরকারের ভেতরে সরকার থাকে -বিশেষ সাক্ষাৎ...
- ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার ব্যাখ্যা ও দ্বিরাষ্ট্রভি...
- জেন-জি বিদ্রোহ: এশিয়ায় ফিরছে আরব বসন্ত? by মীনা কা...
- গাজা অভিমুখী নৌবহরে ইসরায়েলি সেনাদের আক্রমণ, ধরে ন...
- গাজায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নতুন শান্তি পরিকল্পনা
- দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা by মো. সাহাবু...
-
▼
Oct 03
(8)
-
▼
October
(199)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment