Friday, October 3, 2025
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কি হামাস রাজি হবে by জেসন বার্ক
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কি হামাস রাজি হবে by জেসন বার্ক
ট্রাম্প নিজেই বলছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ‘হাজার বছরের’ পুরোনো সমস্যার সমাধান খুঁজছেন, আর সে লক্ষ্যে তিনি প্রচুর রাজনৈতিক ‘মূলধন বিনিয়োগ’ করেছেন। এই পরিকল্পনার পেছনে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনও আছে বলে শোনা যাচ্ছে।
কিন্তু সমস্যা হলো, এটি আসলে কোনো স্পষ্ট ও বিস্তারিত রোডম্যাপ নয়। বরং এটিকে তাড়াহুড়া করে কাগজে টেনে দেওয়া একটা খসড়া বলা যেতে পারে। মানে, এতে গন্তব্যের দিকনির্দেশনা আছে বটে, কিন্তু তা এতটাই অস্পষ্ট ও ঝাপসা যে, যেকোনো মুহূর্তে পুরো পথ হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সহজভাবে বললে—এই পরিকল্পনা ঠিকঠাক কাজে লাগলে হয়তো সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে, কিন্তু ভেতরে-ভেতরে এতে এত ফাঁকফোকর আছে যে ভুল পথে গেলে নতুন জটিলতাও তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ পরিকল্পনাটি যেমন বড় আশা দেখায়, তেমনি সমানভাবে তা ভেস্তে যাওয়ারও আশঙ্কাও বহন করে।
প্রথমত, হামাস এই পরিকল্পনা ভালো চোখে দেখবে, এমন সম্ভাবনা কম। কারণ, এতে বলা হয়েছে হামাসকে সব কিংবা অধিকাংশ অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে; আর গাজা পরিচালনা করবে স্বয়ং ট্রাম্পের নেতৃত্ব দেওয়া এক ‘শান্তি পরিষদ’। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মেনে নেওয়া হামাস সদস্যদের জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাবও খুব আকর্ষণীয় নয়।
হামাস দাবি করতে পারে, তাদের কারণে সাহায্য পৌঁছাচ্ছে। অর্থাৎ, তারা বলতে পারে, তাদের সক্রিয়তা ও শক্তি না থাকলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গাজায় প্রবেশ বা লজিস্টিক কাজ করতে পারত না। তাই শুধু সাহায্য পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক অস্তিত্ব ত্যাগ করানো কঠিন।
প্রশ্ন হলো, কাতার বা অন্যরা হামাসকে কি এতটা চাপ দিতে পারবে যে হামাস অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই পরিকল্পনায় সাময়িক সম্মতি দেবে? কারণ, হামাস সম্মতি দিলে তা মূলত গাজায় তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
আরও প্রশ্ন হলো, হামাস নেতাদের কি বোঝানো সম্ভব হবে যে তাদের হাতে থাকা ৫০ জনের মতো ইসরায়েলি বন্দী আসলে এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারণ এটিকেই অজুহাত বানিয়ে ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে? গাজার সামরিক কমান্ডাররা কি কাতার বা ইস্তাম্বুলে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে একমত হবেন? এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত জবাব নেই।
ট্রাম্প বলছেন, আরব দেশগুলো নাকি গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে রাজি হয়েছে। যদি সত্যি তা–ই হয়, তাহলে এটি অবশ্যই বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর মানে আসলে কী? এসব আরব দেশ কি গাজায় সেনা পাঠাবে, শুধু টাকা দেবে নাকি দুটোই করবে?
এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি বলেইনি যে তারা সেনা পাঠাবে। অথচ কাজটা হবে ভীষণ জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। সেনা পাঠানো বা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে মাসের পর মাস লেগে যাবে আর সেই সময়েই কে কী করবে, তা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।
ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে নিরস্ত্রীকরণের গতি ও মাত্রার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি ইসরায়েলের জন্য সুবিধাজনক। কারণ যেসব এলাকা তারা ছাড়বে, সেগুলো আগেই তাদের ধ্বংসাত্মক অভিযানে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধীরগতির প্রত্যাহার তাদের জন্য ক্ষতির নয়। হয়তো একসময় তারা শুধু সীমানার পাশে গিয়ে অবস্থান করবে, কিন্তু কত দিন লাগবে, সেটি অনিশ্চিত। প্রকাশিত মানচিত্রও অস্পষ্ট। এগুলো হামাসের সাম্প্রতিক আলোচনায় করা দাবির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। আর কোনো পর্যায়েই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প দুজনই জোর দিয়ে বলেছেন, যদি বিষয়গুলো তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী না এগোয়, আর আরব দেশগুলো হামাসকে চাপ দিতে না পারে, তবে মার্কিন সমর্থন নিয়ে ইসরায়েল আবার সামরিক অভিযান শুরু করবে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস বন্দীদের মুক্তি দিলেই ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার সুযোগ পেয়ে যাবে। এর আগে মার্চ মাসে ইসরায়েল দুই মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ভেঙেছিল।
আঞ্চলিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা (অর্থাৎ আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করা) এবং আব্রাহাম চুক্তি আরও এগিয়ে নেওয়া একধরনের আকর্ষণীয় লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকেরা (সরকার ও নেতৃত্ব) আসলে এই লক্ষ্যগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না।
নিজ দেশে বিভাজন বাড়ছে, যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ছড়াচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা বাড়ছে—এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু হয়তো হিসাব কষেছেন, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে সামান্য লাভ হলেও তার খরচ অনেক বেশি। তাই তাঁর জন্য এখনই ‘বিজয় ঘোষণা’র সময়।
এখন নেতানিয়াহু নতুন এক প্রচারণা শুরু করছেন। পুরো সংঘাতকালেই দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ডের হুমকির মুখে থাকা নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা আঁকড়ে রাখাকেই মূল লক্ষ্য করেছেন। এবার মনে হচ্ছে তিনি ভাবছেন, তাঁর জোটের অতি ডানপন্থী সদস্যরা সরকার ছাড়লেও তিনি টিকে থাকবেন। হয়তো তিনি তাঁদের হুমকিকে পাত্তা দেবেন না বা নেসেটে (পার্লামেন্ট) সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবেন। তাঁর ধারণা, এক বছরের মধ্যে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি জিততেও পারেন।
ট্রাম্প যে পরিকল্পনা টেনেছেন, তাতে হামাস ছাড়া বাকিরা সম্মতি দিয়েছে—এটা বড় কথা। তবে সত্যিকারের কাজ এখন শুরু। হামাসকে রাজি করে নেওয়া গেলেও অনেক ছোট-বড় বিষয় পরিষ্কার করতে হবে, সবকিছু লিখে চুক্তিতে আনতে হবে এবং তারপর তা বাস্তব করতে হবে। এগুলো করতে সময় লাগবে এবং তা সহজও না। তাই সফল হওয়া বা স্থায়ী শান্তি পাওয়া এখনো অনিশ্চিত।
* জেসন বার্ক, দ্য গার্ডিয়ান-এর কলাম লেখক
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
| হোয়াইট হাউসে সোমবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
October
(199)
-
▼
Oct 03
(8)
- রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই: ফিলিপ্পো...
- ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কি হামাস রাজি হবে by জেসন বার্ক
- পৃথিবীর সব সরকারের ভেতরে সরকার থাকে -বিশেষ সাক্ষাৎ...
- ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার ব্যাখ্যা ও দ্বিরাষ্ট্রভি...
- জেন-জি বিদ্রোহ: এশিয়ায় ফিরছে আরব বসন্ত? by মীনা কা...
- গাজা অভিমুখী নৌবহরে ইসরায়েলি সেনাদের আক্রমণ, ধরে ন...
- গাজায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নতুন শান্তি পরিকল্পনা
- দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা by মো. সাহাবু...
-
▼
Oct 03
(8)
-
▼
October
(199)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment