Friday, February 16, 2024
গল্প- জলচোর by অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
গল্প- জলচোর by অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

মেয়ে
দুটো যায় কোথায়? কে জানে কোথায় যায়। তামাটে অন্ধকারে বিবর্ণ মেয়ে দুটো
হেঁটে যায়। কেউ কোনও প্রশ্ন করে না। তবে যখন-তখন মানুষজন সুযোগ পেলেই তাড়া
করে। থাকে খালপাড়ের বস্তিতে। বস্তি উচ্ছেদ হবার কথা। বস্তি উচ্ছেদ হলে
কোথায় যে যাবে!
কী হবে অত সব ভেবে। কেউ কারও জন্য ভাবে না। যে যার তালে আছে। কিশোরী মেয়েটি বড়ো হতে হতে এই সার বুঝেছে। কেউ চেনে না, কোথায় থাকে, কী খায়। কেউ জানে না বললে ঠিক বলা হবে না—সহদেব জানে। বন অফিসের গৌরাঙ্গ চেনে, আরও অনেকে। সারাদিন রাস্তায় ঘুরে বেড়ালে যা হয়। ন্যাড়া মাথা, ফ্রক গায়, লম্বা এক কিশোরী আর তার কনিষ্ঠ বোন কাজল, কাজলের হাত ধরে সাঁজ লাগার আগে গাছপালার ছায়ায় তারা দুন্ঠজনেই আকাশে তারা খুঁজে বেড়ায়।
আকাশে তারা খুঁজে পেলেই তারা হাঁটে।
অন্ধকার তাদের বড়ো প্রিয়। অন্ধকারে মিশে গেলে কেউ টেরই পায় না, শিল্পা আর কাজল বাবুদের বাগান থেকে অথবা বাবুদের কিছু উচ্ছিষ্ট খাবার, যদি কেউ দয়া করে হাতে দেয়, সহজেই কোঁচড়ে লুকিয়ে বস্তির ঝুপড়িতে ঢুকে যেতে পারে। সারা শহরের দেয়ালে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে অজস্র ভোটের প্রচারপত্র উড়ছে—অন্ধকারে সেই সব প্রচারপত্র সহজেই বস্তার ভিতর ঢুকিয়ে দিতে পারে আর আড়ালে এই সব চুরিচামারি-সহ জলের জন্যও সকাল-বিকেল লাইন দেয় তারা।
শেষ পর্যন্ত খালপাড়ের বস্তি উচ্ছেদ হয়। কাজল আর শিল্পাকে নিয়ে তার বাবা-মা খালের ও-পাড়ে আস্তানা খোঁজে। আস্তানা পেয়েও যায়। বাড়িউলির একটাই শর্ত, কাজলের মাকে কাগজকুড়ানি হলে চলবে না। কাজলের বাবাকেও নোংরা ঘাঁটাঘাঁটি করলে বস্তিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর কী করা, সেই শর্তেই রাজি। বাড়িউলি শাসায়, এটা বাবা খালপাড়ের বস্তি পাওনি, এটা হানাপাড়ার বস্তি। লাইনের কলে জল আসে, ইলেকট্রিকে বাতি জ্বলে—হুসহাস অট্টসুহাস হয়ে যাও ক্ষতি নেই—আসলে খোলা নর্দমার অন্ধকারে মলমূত্র ত্যাগের যথেষ্ট সুবন্দোবস্ত আছে। এত সুবিধে কি খালপাড়ের বস্তিতে আছে।
শিল্পার বাবা বিজয় মাথা নাড়ে, তা ঠিক।
কাজলের মা মালিনীও মাথা নাড়ে—মাসিমা ঠিক বলেছেন, জঙ্গল ছাড়া খালপাড়ের বস্তিতে কোনও আব্রু ছিল না। আমার মেয়ে দুটোকে কাগজকুড়ানির বেটি কয়, গাইল্যায়, শিল্পা তো বড়ো হয়েছে, কাগজকুড়ানির বেটি বললেই সে হেস্তনেস্ত করে ছাড়ে। বড়ো চণ্ড রাগ, একদম বুঝদার না। যেখানে সেখানে জঙ্গলে ঢুকে কম্ম সারতে হয়।
টালির ঘর, পাকা মেঝে, সুইচ টিপলে আলো, শুধু কল টিপলে জল পাওয়া যায় না। বস্তি এলাকাতে একটি মাত্র টিউকল, কবে থেকে খারাপ হয়ে পড়ে আছে। বস্তির ঘরগুলিতে লাইনের কল থেকে জল আসে। জলের চাপ খুবই কম, ফলে জলের খুব আকাল। তায় আবার চৈত্র-বৈশাখের রোদের তেজ—তাপে ভাপে সব পুড়ে যাচ্ছে।
সকাল থেকে লাইনের কলে মারকাটার ভিড়, ঘটি বাটি জেরিক্যান প্লাস্টিকের বালতি যার যা আছে হাজির—তারপর কে আগে কে পরে, কার লাইনে কে ঢুকে গেছে এই নিয়ে বচসা, মারামারি ভাঙচুর—নিত্য এই এক আগুনজ্বলা গ্রীষ্মে দাবদাহের মতো সবাই জ্বলছে।
শিল্পা, কাজল দুই বোন খুব খুশি, কারণ তারা আর কাগজকুড়ানির বেটি নয়। এখানে উঠে এসে তাদের ইজ্জত বেড়েছে, তার মা-বাবা বিজয় আর মালিনী সকালে বের হয়ে যায়, রাত করে ফেরে। নোংরা ঘাঁটাঘাঁটি করে তারা কাগজ কুড়ায় দেখলে কে বলবে! ছুতার মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, যোগাড়ে, প্লাম্বার মিস্ত্রিদের এই বস্তিটায় শিল্পা আর কাজলকে কাগজকুড়ানির বেটি বলে কেউ হাঁক দেয় না। শুধু জলের আকাল ছাড়া বস্তিটা বড়োই সুবন্দোবস্ত হয়ে আছে তাদের কাছে। বাবা-মাও কোনও এক পুকুরে ডুব দিয়ে আসে, তারাও চলে যায় হেঁটে হেঁটে—বালির পুকুরে ডুব দিয়ে আসে—কিন্তু উপার্জন বাড়ে না। একটা ঘরের ভাড়া দিতেই উপার্জনের সব টাকা প্রায় উড়ে যায়।
খালপাড়ের বস্তিতে লুকিয়ে চুরিয়ে কিংবা হাতসাফাইয়ের উপার্জন থেকেও তারা বঞ্চিত। খালপাড়ের গাছপালার পাহারাদার গৌরাঙ্গদার সঙ্গেও আর দেখা হয় না, দেখা হলেই, এই শিল্পা আয়। শোন। চা বিস্কুট খাবি? চিনাবাদাম খাবি? ফুলুরি খাবি! কাজল ছুটে পালাত। —দিদি যাস না, লোকটা ভালো না—তোর গায়ে পায়ে হাত দেবে। ক্ষুধার তাড়নায় শিল্পা বেচাল, গায়ে পায়ে হাত দিলে কিংবা ফ্রকের নীচে, সে যে আরামই পায়। তবে বস্তি এলাকাতে কিংবা দূরের কিছু এলাকায় জল পৌঁছে দিলে, জেরিক্যান পিছু আট আনা এক টাকা উপার্জন হয়। এই এক কৌশল, কিন্তু রাস্তার কলে বাড়িউলি সব সময় একটা নল লাগিয়ে রাখে। প্রভাব প্রতিপত্তি থাকলে সব হয়।
জল চাই, জল জল করে দুই বোন হন্যে হয়ে ঘুরছে—খালপাড় হয়ে বৈশাখীর ঘেরা পাড়ে কল আছে, কিন্তু সেখানে দু বোনের এই প্রখর রোদে যাওয়াই কঠিন, তবে তারা ছুটে যায়, কারণ তারা ছুটে না গেলে অত দূরে জলের নাগাল পায় না, তারপর সারিসারি জলের লাইন তো আছেই। কী যে করে। সর্বত্র জলের হাহাকার।
আর এ-সময়েই কাজল ডাকল, দিদি রে।
শিল্পা বলল, কী?
ওই দ্যাখ। জলের ট্যাংকি!
কার?
বাবুদের।
তাদের ঘর পার হয়ে, কিছুটা বনজঙ্গল পার হয়ে গেলে পাঁচিল। হলুদ রঙের বাবুদের বাড়ি। একতলার ছাদে জলের ট্যাংকি। ট্যাংকি থেকে সোজা বাবুদের কলতলায় পাইপ—কল খুলে দিলে জলের ছড়াছড়ি।
-------২------
তারকবাবু বাড়ি ফেরার পথে দুধের ডিপো থেকে দু-প্যাকেট দুধ নেন। সঙ্গে থাকে দিনরাতের কাজের লোক সরজু। আজ খেয়াঘাটের সহদেবকে বলেছিলেন, দুধের প্যাকেট সে যেন তুলে রাখে। অনেকটা আজ হেঁটেছেন। সকালে সময় পান না বলে বিকেলে, এই সল্ট লেক এলাকায় খেয়া পার হয়ে চলে আসেন। তারপর হাঁটেন। যতদূর খুশি হাঁটা যায়। এই শহরটায় মানুষজন কম। গাড়িঘোড়ার উৎপাত কম। দুর্ঘটনার ভয় কম। প্রশস্ত রাস্তা ধরে নির্বিঘ্নে হাঁটা যায়। খেয়াঘাটে হাঁটার শুরু ফুটব্রিজে শেষ। এভাবে দু-বার হাঁটলেই দুক্রোশ হয়ে যাবার কথা। হিসাবের বাইরে কিছুটা বেশি রাস্তা হেঁটে ফেরার সময় মনে হল, আজ একটু তাঁর বেশ দেরিই হয়ে গেছে। বেশ রাত হয়ে গেছে।
খেয়াঘাটে ফিরে দুধের প্যাকেট সহদেবের কাছ থেকে নেবার সময়ই দেখলেন, সেই ন্যাড়া মাথার মেয়ে দুটো চুটিয়ে ঝগড়া করছে। চারপাশে জনমজুরের ভিড়। খাল সংস্কার হচ্ছে—ঝুড়ি ঝুড়ি মাটি উঠছে। দু-পাড়ে মাটির পাহাড়।
এই শিল্পা, পয়সা দিলি না? সহদেব চেঁচাচ্ছে।
আমাদের পয়সা লাগে না। শিল্পার নির্বিকার জবাব।
পয়সা লাগে না! দাঁড়া দেখাচ্ছি।
সহদেব এ-পাশে বসে সাঁকো পারাপারের পয়সা নিতে নিতে বলল, দেখলেন বাবু, মেয়েটার কী তেজ!
তেজের কী দেখলে, কবে পয়সা দিয়েছি বলো! পয়সা দেব না। শিল্পা দৌড়ে চলে যাচ্ছিল। সহদেব খাঁচা থেকে নেমে একলাফে মেয়েটার হাত ধরে ফেলল।
সাঁকো পার হতে গেলে চার আনা পয়সা লাগে। মেয়ে দুটো ঠায় দাঁড়িয়ে পয়সা নিয়ে অবলীলায় ঝগড়া করছে। —হাত ধরলে কেন, গায়ে হাত দিলে কেন?
তারকবাবু বললেন, দাও, প্যাকেট দাও। দেরি হয়ে গেছে। বাড়ির লোক চিন্তা করবে।
ততক্ষণে আরও সব লোকজন জমা হয়ে গেছে। এরা ঘাটেরই লোক। পয়সা তোলে। মেয়ে দুটো পয়সা দিচ্ছে না, অথচ যথেষ্ট রোয়াব।
আমি তোর হাতে হাত দিয়েছি? সহদেবের কেমন মিনমিনে গলা।
দিয়েছ তো।
এত ইজ্জত কাগজকুড়ানির মেয়ের! আজ তোদের দুটোকেই বেঁধে রাখব, দাঁড়া।
কাগজকুড়ানির মেয়ে, তো তোমার বাপের কী! আমরা কাগজকুড়ানির মেয়ে! তুমি কী! মেথর ডোম মুচি। হাত ছাড়ো বলছি। গাছের মরা ডাল, কুকুর বেড়ালে পেস্যাব করে তোমার মুখে।
তারকবাবু মেয়ে দুটোকে চেনেন, তার একতলা বাড়ির পাশে ইদানীং একটা ছোট্ট বস্তি গজিয়ে উঠছে। বস্তিতে মেয়ে দুটো নতুন আমদানি। লাইনের কলে জল এলে হাতে জেরিক্যান না হয় বালতি—লাইন দিয়ে সকাল বিকাল দাঁড়িয়ে থাকে।
তোর মা বাবা তো কাগজ কুড়াত, এত ইজ্জত থাকলে পয়সা না দিয়ে সাঁকো পার হতেছিস ক্যানে?
বলছি না, পয়সা আমাদের লাগে না। কবে পয়সা নিয়েছ বলো?
তা ঠিক। সহদেব মনে করতে পারে মালিনী সুঠাম সুন্দরী না হলেও গায়ে গতরে যে কোনও পুরুষকেই লোভে ফেলে দেবার মতো। মালিনী থাকত বাপের সঙ্গে। বুড়োর কাশির ব্যামো। বাবুদের বাড়ি কাজ করে তখন মালিনী বুড়ো বাবাকে খাওয়াত। দু-দুবার বাবুরা তাকে গর্ভবতী করেছে। শিল্পা, কাজল আরও দু-তিনটে—তবে বাঁচল না, মরে গেল। বিজয় বাউণ্ডুলে মানুষ। ছেঁড়া চটের বিশাল ব্যাগটা মাথায় করে সে চলে আসত, এবং পয়সা কড়ি দিয়ে মালিনীকে হাত করেছিল—তারপর দুন্ঠজনেই কাগজকুড়ানির কাজে লেগে গেল।
মালিনীর সুবিধা অসুবিধায় সে নিজেও তাকে পয়সা দিত—সেই পয়সা গায়ে গতরে উশুল করা ছাড়া তার উপায়ও ছিল না। দেশে বউ ছেলে মেয়ে পড়ে থাকলে, সেই বা যায় কোথায়।
সেই এক অষ্ট প্যাঁচ।
তারকবাবু দেখলেন, এখানে আর তাঁর থাকা ঠিক হবে না। তিনি বললেন, আমি যাচ্ছি সহদেব।
না বাবু আপনি থাকেন। মেয়েটো আমাকে ফাঁসাতে চায়।
ফাঁসাতে! বলো গায়ে হাত দিলে কেন! আমার ইজ্জত নিলে কেন।
সহদেব ঠিক জানে না, মেয়েটা কার— মালিনীর চোখ দুটো বড়োই টানে তাকে। সেও তো মালিনীকে এককালে যথেষ্ট ভোগ করেছে। এই মেয়ে দুটো কার?
তারকবাবু বললেন, ছেড়ে দাও। আমি ওদের পয়সা দিয়ে দিচ্ছি।
কারণ তারকবাবু বুঝতে পারছেন, মেয়ে দুটোর পক্ষেও মানুষজন কথা বলছে।
না সহদেবদা, তোমার এটা উচিত কাজ হয়নি। তুমি কিন্তু ফেসে যাবে। আজকালকার আইন তো জানো না।
রাখ রাখ, আইন আমার দ্যাখা আছে। ওর মায়ের বেলায় আইন ছিল কোথায়! পয়সা না দিয়ে পালাচ্ছে ছুটে গিয়ে ধরেছি!
কেন ধরেছ? মেয়েটার চোখে যে ধার উঠে গেছে জানো না? ধার উঠে গেলে, মেয়েরা কী চায় পুরুষ কী চায় বোঝো না! এই, কোথায় যাবি চলে যা তোরা।
শিল্পা অনড়।
চোখমুখ শিল্পার জ্বলছে।
আমি কাগজকুড়ানির মেয়ে। জানো, আমরা খালের ওপারে বাসা ভাড়া নিয়েছি।
তখনই তারকবাবু বললেন, আমি তোদের চিনি। তোরা জলের জেরিক্যান হাতে ছোটাছুটি করিস। তোর বাবা কী করে? পাশের বস্তিতে তোরা থাকিস।
ও মা, তুমি সেই বাবু! তোমাকে চিনতেই পারিনি, এই কাজল বাবুকে প্রণাম কর, সে নিজেও সাস্টাঙ্গে তারকবাবুকে প্রণাম করতে এলে তিনি পা সরিয়ে নিচ্ছিলেন—আরে তোরা করছিস কী! ঠিক আছে, ঠিক আছে!
কাজল বলল, ক্যারে দিদি।
তুই কি রে। একতলা বাড়ির বাবু। মনে নেই জানালা থেকে বাবু তাড়া দিচ্ছিলেন, এই তোরা কে রে? জঙ্গলে ঘাপটি মেরে কী করছিস! হাতে জলের পাইপ কেন?
কাজল বুঝতে পেরে কেমন বড়ো বড়ো চোখ করে দেখল বাবুকে। বাবু কি টের পেয়েছে, ইদানীং তারা বাবুর লাইনের কলে প্লাস্টিকের পাইপ গুঁজে দেয়। টের পেলেই সর্বনাশ। বাবুর জলের ট্যাঙ্ক থেকে কলতলায় পাইপ নেমে এসেছে এটা প্রথম কাজলই টের পায়।
দিদিরে! কাজল চেঁচাল।
ফের কাজলের চেঁচামেচি—জল, জল, কত জল!
রাস্তার কল থেকে পাইপ গুঁজে কিংবা পাশের জমির মধ্যেও আছে জলের লাইন, এক কোণায় ইটের ঘর তুলে বাবুদের ড্রাইভার মহসিন কাকা বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে, সময়ে অসময়ে সুযোগ পেলে সেখানেও জলের পাইপ লাগিয়ে নিতে পারে তারা, তবে এই খরায় খা খা করছে সব, জলের চাপ নেই, মহসিন কাকার কল কিছুটা উঁচু জায়গায় বলে জলের চাপও কম—তবু কাকিমা ভালো মানুষ বলে, তাদের ডাক-খোঁজ করে—এই কাজল, এই শিল্পা, পাইপ লাগিয়ে দে তাড়াতাড়ি, জল কিন্তু চলে যাবে। এত জল দিয়ে তোরা কী করিস?
আর যা হয়, লাগিয়ে দিতে দিতেই শেষ। জেরিক্যান ভরে না, তার পর এই সারাদিন ধরে জল নিয়ে মারামারি চলে। তারা দুন্ঠবোন জেরিক্যান নিয়ে দূরে দূরেও চলে যেত, মাথায় করে জল নিয়ে আসত—তারপর কাজলের জলের ট্যাঙ্ক আবিষ্কার—সে যে কত বড়ো বিপাক থেকে রক্ষা, শুধু তারা দুন্ঠবোনই জানে।
-------৩------
এই এলাকাটা মানুষজন এত গিজগিজ করবে, তারকবাবু কস্মিনকালেও ভাবেননি। তাঁর বাড়ির পেছনে লাইনবন্দি কাঁচা-পাকা ইটের ঘর, ঝুপড়িও আছে। সরকারের খাস জমি হলে যা হয়। পার্টিরও মদত আছে। গরিবগুরবো মানুষ যাবে কোথায়। কাজেই তাঁর পেছনের বাড়িউলি সোহাগী বলতে গেলে পার্টির মদতে কাঁচা-পাকা ঘর তুলছে, আর ভাড়া বসিয়ে রোজগার বাড়াচ্ছে। সোহাগীর নিজেরও যথেষ্ট অভাব অনটনের সংসার। তারও দোষ দেওয়া যায় না। গু-মুতের গন্ধে তিনি নিজেও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। জলনিকাশি ড্রেনে গু-মুত ধুয়ে দিলে কেউ টেরও পায় না, চট দিয়ে অথবা পলিথিন ঘেরা এই মলমূত্র ত্যাগের ঝুপড়িগুলোর মানুষদের মলমূত্র কোথায় যায়! শুধু পরিবেশ দূষণ ছাড়া এদের আর কোনও অপরাধ আছে বলেও তিনি মনে করেন না।
আবার সহদেবেরও দোষ দেওয়া যায় না, ঘাটের ডাক নিতে সরকারের ঘরে পয়সা জমা দিতে হয়। পারানির কড়ি দিয়ে সরকারের পয়সা উসুল করতে হয়। সহদেব তার ভাই-বেরাদর মিলে মালিকের হয়ে ঘাট সামলায়। পয়সা উপার্জন না হলে সে-ই বা মালিককে কী দেয়, আর মাগ-ছেলে নিয়ে সংসারই বা করে কী করে!
সংসার এই এক অষ্টপ্যাচে মাতাল। ছেড়ে দাও। হুজ্জুত করে কিছু হবে না গরিব মানুষ, কোথায় যাবে!
তারকবাবুকে সহদেব সমীহ করে। তারকবাবু তার একতলার বাড়িতে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার, নামযশ আছে—অসুখেবিসুখে সহদেবকে তাঁর কাছে আসতেই হয়।
না বাবু, আজ ছাড়ছি না। আমি ডোম, মুচি, মেথর। আরে তোরা কী। দিল তো তুলে। পারেনি রুখতে। খালের ধারে ঝুপড়ি বানিয়ে থাকলি, কাগজ কুড়িয়ে বেড়ালি, খালের পাড়ে যতদূর দেখা যায়, ঝুপড়ি উঠছে তো উঠছেই। কেউ বাধা দিচ্ছে না। পুলিশ মাসোহারা পেলে কে আর বাধা দেবে বলুন! ওর বাপকে পইপই করে বলেছি, বিজয় এইসা দিন নেহি রহেগা। মেয়ে দুটোকে হতে দেখলাম, বড়ো হতে দেখলাম, খাল কাটা শুরু হল, উচ্ছেদ হয়ে কোথায় যে চলে গেল! আজ দেখি তেনারা হেলেদুলে নগর ভ্রমণে বের হয়েছেন! সাঁজ লেগে গেছে বাবু—তোরা কোথায় যাবি বল! সোমত্ত মেয়ে—
শিল্পা চিৎকার করছে, যেখানে খুশি যাব, তোমার ঘিলু ফাটে কেন। তুমি আমাদের কে? কাগজকুড়ুনির মেয়ে বলে গাল পাড়লে কেন? আমার গায়ে হাত দিলে কেন?
সহদেব বলল, ডাক্তারবাবু দেখছেন, মেয়ে দুটোর কী চোপা। আপনি সাক্ষী। আপনার সামনে সব ঘটেছে। বলুন পয়সা না দিলে কেউ ছাড়ে! আমাকে আইনের ভয় দেখাচ্ছে।
শিল্পা বলল, ভগবানের দিব্যি, কবে সাঁকো পার হতে তুমি পয়সা নিয়েছ বলো? বলো কেন আমার গায়ে হাত দিলে!
পয়সা নিইনি, কেন নিইনি জানিস না। তোর মাকে ডেকে আন। খালপাড় হয়ে তোদের পাখনা গজিয়েছে। ইজ্জত বেড়েছে। কাগজ কুড়ানির মেয়ে বললে গায়ে এখন ফোসকা পড়ে। হ্যাঁ এত বেইমান তোরা! আপদে-বিপদে কে দেখত তোদের বল! কত অকথা কুকথা বললি, লোকে মজা দেখছে—খালের এ পাড়ে ছিলি, নিজের মানুষ ভাবতাম। ও পাড়ে উঠে গেলি নিজের মানুষ কেন ভাবব বল!
মজা দেখবে না! তুমি কি ভালোমানুষ, বলো, তুমি ভালোমানুষ! পয়সা মাগনা দিয়েছ না! মা আমাকে সব বলেছে।
সহদেব চুপসে গেল।
তারকবাবু ভিড়টাকে বললেন, বাবারা আপনারা যান, কিছু হয়নি। সহদেবকে আমি অনেকদিন থেকে চিনি—পয়সা না দিলে তার তো রাগ হবেই। পয়সা না দিয়ে পালালে তাকে ছুটে গিয়ে ধরলে দোষের না। তার তো হিসাবের কড়ি, সরকারের ঘরে জমা, মালিকের ঘরে জমা, পুলিশের কাছে জমা, এত জমার পরে এরা চার-পাঁচজন ভাগে আর কত পায় বলুন বাবারা! তারকবাবু ভাবছেন—শিল্পা শত হলেও কিশোরী, গায়ে গতরে কলাগাছ, গায়ে হাত দিলে অ্যাটেম্পট টু রেপ-ও হয়ে যেতে পারে। এই শিল্পা, তোর গায়ে সহদেব হাত দিয়েছে?
আজ্ঞে না বাবু।
সহদেব যেন পারলে তারকবাবুর পায়ে গড়িয়ে পড়ে। দিনকাল খারাপ—তারকবাবু জানেন, এই সেদিন তার এক কাছের মানুষ দেবীপদ বাসা ছাড়ছে না বলে বাড়িউলি সোজা থানায়— অ্যাটেম্পট টু রেপ বলে ডাইরি— পুলিশকে পয়সা খাওয়ালে যা হয় দেবীপদকে আটক করে সোজা আদালতের কাঠগড়ায়— আট দিনের হাজতবাসের পর ছাড়া পেয়েছে। বাড়িতে অশান্তি, দেবীপদ ছাড়া পেয়ে নির্বাক হয়ে গেছে। সারাদিন অন্ধকার ঘরে বসে থাকে—কারও সঙ্গে কথা বলে না।
তারকবাবু বেশ ক্ষুব্ধ গলায় বললেন, তবে যে তুই বললি গায়ে হাতে দিয়েছে!
বলব না। সবার সামনে আমার ইজ্জত নিলে আমার রাগ হয় না। আমাকে কাগজ কুড়ানির মেয়ে বলে গাইল্যায়! আমার রাগ হয় না বাবু!
--------৪--------
চারপাশে জলের যতই হাহাকার থাকুক, তারকবাবুর বাড়িতে সবসময় জল। লাইনের জল তো আছেই— বাড়িতে ডাবল সিলিন্ডারের মোটর ফিট করা টিউকলও আছে। বাড়িটায় মানুষজন মেলা, লাইনে জল নেই তো টিউকল চালিয়ে জল তুলে ফ্যালো রিজার্ভারে।
পৈতৃক বাড়িতেই তারকবাবু থাকেন, একসময় বাজারের মুদিখানায় বসতেন, ভাইপোরা লায়েক হয়ে গেলে তিনি আর সেদিকে যান না। সংসারে তিনি একা মানুষ, তবে কী যে হয়, সংসারের সুবিধা অসুবিধার সঙ্গে তিনিই জড়িয়ে গেছেন। ভাইপো ভাইঝিরা তাঁর অভিভাবকত্বেই মানুষ। দাদা বৌঠানও বেঁচে নেই, ছোটো ভাই মৃদুলকে বছর দুই হল দোকানেই জুড়ে দিয়েছেন, তার কথা ছাড়া এ-বাড়ির কুটোগাছটিও কেউ নাড়তে সাহস পায় না।
একতলা বাড়িটায় মেলা ঘর, দুটো বাথরুম, জল চাই—কত যে জল লাগে— দোকানের কাজের লোকেরাও থাকে, তার ডিসপেনসারিতে যে ছেলেটা কাজ করে, পুরিয়া বানায়—এবং তাঁর নির্দেশ মতো ওষুধ দেয়, সেও থাকে। সুতরাং সেই বাড়ির কেউ যদি সকাল বেলাতেই এসে খবর দেয়, কাকা চাবিটা দাও, রিজার্ভারে জল নেই। এক্ষুনি টিউকল থেকে জল তুলতে হবে। সাতটা না বাজলে লাইনে জল আসবে না।
বাড়িটায় জলের খুব অপচয় হয় বলে, তিনি টিউকলের চাবিটি নিজের কাছে রাখেন। হিসাব করে বিকেলের দিকে টিউকল থেকে জল তোলেন। লাইনের জলে রিজার্ভার যাতে ভর্তি থাকে, সে-জন্যই এই সতর্কতা। তা ছাড়া রোজ পনেরো বিশ মিনিটের জন্য টিউকল থেকে জল না তুললেও চলে না—অব্যবহারে টিউকলটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সবে ঘুম থেকে উঠেছেন তিনি। ভাইঝি বীথি এসে হাজির। সেই খুব সকালে ওঠে, কারণ তাকে বাস-ট্রেন ঠেঙিয়ে সকালে কলেজ করতে হয়। বছর দুই ধরে সেখানে সে পার্টটাইম করছে। দুন্ঠবারের বার বীথি স্লেট ও পেয়ে গেছে। শিগগিরই ফুল টাইম চাকরি হয়ে যাবে। খুবই মেধাবী এবং পরিশ্রমী, আর ঠিক তখনই তিনি কেন যে সেই কিশোরী মেয়েটির মুখ সামনে ভেসে উঠতে দেখলেন— কাজলের হাত ধরে শিল্পা জঙ্গলের দিকে ছুটছে। হাতে সেই লম্বা প্লাস্টিকের পাইপ, তারা জল খুঁজে বেড়াচ্ছে।
জল নেই কেন? তারকবাবু যেন ভারি বিড়ম্বনায় পড়ে গেছেন।
বীথি বলল, যা বাড়ি, কে কোথায় কল খুলে রেখেছে। চাবিটা শিগগির দাও, আমার লেট হয়ে যাবে।
তা হতে পারে, রান্নাঘর, বাথরুম, ডাইনিং স্পেস, বারান্দায় সর্বত্র বেসিনের ছড়াছড়ি। কার গোয়াল, কে বা দেয় ধোঁয়া। এজমালি সংসারে যে রকমটা হয় আর কি!
কেউ কল খুলে রাখতেই পারে। সারা রাত ধরে জল পড়লে রিজার্ভারে আর জল থাকে কী করে?
বীথিকে চাবিটা দিয়ে তিনি সব বেসিনের কল ঘুরিয়ে দেখলেন, না সবই ঠিক আছে, কোনও কলই খোলা নেই—সব কলই বন্ধ। বিকালে রোজই ফুলট্যাংকি করে রাখেন, কালও রেখেছিলেন, ছাদে ইটের গাঁথনি দিয়ে বিশাল রিজার্ভার, একবার সকালে ভরে রাখলে যত লোকই থাকুক সারাদিন অপর্যাপ্ত জল। অধিকন্তু দোষায় বলেই বিকেলে জল তোলেন ফের। যা জলের হাহাকার চলছে, কখন কী ঘটবে, জল নেই, মাটির নীচেও জল নেই—জল না থাকলে যে কী অপরিসীম কষ্ট, বস্তির মেয়ে দুটোকে দেখে টের পেয়েছেন।
সবই ঠিক আছে, তবু এত জল গেল কোথায়। কোনও কলেরই মুখ খোলা নেই। নীচের রিজার্ভারও খালি। বাড়ির পেছনের দিকেও একটা জলের কল আছে, অবসর সময়ে তিনি একটি ফুলের বাগানও তৈরি করেছেন, নানা জাতের ফুল, পাইপ লাগিয়ে সরজু বাগানে জল দেয়। ঠিকা কাজের মেয়েটিও বাইরের কলটি কাঁড়ি কাঁড়ি বাসন ধোওয়ার জন্য ব্যবহার করে— ছাদ থেকে সোজা একটি পাইপ নামানো আছে— ট্যাংক থেকে জল নিলে পাইপের মুখে জলের চাপ বাড়ে, তারপর বাড়ির নালা-নর্দমা সাফ রাখার জন্য প্রচুর জলের দরকার হয়।
জল না থাকলে কী অশান্তি সৃষ্টি হয় তাও তিনি জানেন। এত জলের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও জল নিয়ে ত্রাসে আছেন বলেই বাধ্য হয়ে ডাবল সিলিন্ডারের দুশো ফুটের একটি নতুন কল আট-দশ বছর আগে করে রেখেছেন। একশ ফুটের কলটি তুলে দুশো ফুটের নতুন কল বসিয়ে নিশ্চিন্তই ছিলেন— তবে যা অবস্থা যে ভাবে চারপাশে হাইরাইজ ফ্ল্যাটবাড়ি হচ্ছে, তাতে করে শেষ পর্যন্ত দুশো ফুটের জলের লেয়ারটিও যে ঠিকঠাক থাকবে বলা যাচ্ছে না। গভীরতম গভীর নলকূপ বসিয়ে যদি জল না মেলে কী যে হবে—আসলে তারকবাবু এই সব দুশ্চিন্তায় প্রায়শই ভোগেন। চৈত্র-বৈশাখে জলের আকাল এমনিতেই থাকে, কিন্তু এবারে যেন হাহাকার একটু বেশি মাত্রায়। ভালোয় ভালোয় বর্ষা নামলে ভাববেন, দুশো ফুটের কলটিকে চারশো ফুটের লেয়ারে ঢুকিয়ে দেবেন।
তারপর!
তারপর আটশ ফুটের লেয়ারে।
তারপর?
কোথাও জল পাওয়া যাচ্ছে না।
তারপর, তারপর কী হবে!
বাড়ির মানুষজন বুঝবে না। জল অপচয় করলে আখেরে আর জলই পাওয়া যাবে না। জল নিয়ে সবাইকে পস্তাতে হবে।
বাড়িটায় তিনি কিছুক্ষণ হম্বিতম্বি করে বেড়ালেন—এক বালতি জলে স্নান সারতে হবে, এমনও ফরমান জারি করলেন, তবু কেন যে দ্বিধায় আছেন, কাল বিকেলে ট্যাংক ভর্তি করে রেখেছেন, অথচ সকালে খালি।
ফের মেয়ে দুটোর মুখ ভেসে উঠল, হাতে জেরিক্যান। হাতে, কলে নল লাগিয়ে জল তোলার পাইপ, যদি তাঁর ট্যাঙ্ক থেকে তারা জল চুরি করে, করতেই পারে—কলতলার দিকে যদি রাতে ট্যাংকের পাইপের মুখে নল ঢুকিয়ে কল ছেড়ে দেয়—তবে হড়হড় করে জল সব নেমে যাবে, তিন-চার মিনিটে বালতি, জেরিক্যান ভরে যাবে, এক বালতি জল যদি বস্তিতে এক টাকায় বিক্রি হয়, তবে মেয়ে দুটোর অনেক পয়সা হয়ে যায়—সারাদিন জলের ধান্ধায় যে কেন ঘোরে, এতক্ষণে যেন সব টের পেলেন।
কলতলার শেষ দিকটায় তাঁর পাঁচিল—পাঁচিলে সারি সারি পেরেক পোঁতা, চোরের উপদ্রব থেকে বাড়িটাকে রক্ষা করার জন্যই এত বেশি সতর্কতা—ইতিমধ্যে পাঁচিলের এক জায়গায় কাঠ কিংবা ইট দিয়ে পিটিয়ে পেরেক সব সমান্তরাল করে রেখে গেছে কেউ। এই বাড়িটা এমন যে, ঢুকে গেলে বের হবার রাস্তা থাকে না, চোরেদের বুদ্ধির দৌড় তাঁর চেয়ে বেশি, পাঁচিলের প্লাস্টার খসিয়ে মেরামতেরও দরকার ছিল, হবে হচ্ছে করে বছরখানেক পার হয়ে গেল—সেই জায়গাটা দিয়েই শিল্পা ঢুকছে, কোনও গাছের ডালে কিংবা পেয়ারা গাছও আছে একটা, তার উপর উঠে কলতলায় ঢুকে মধ্যরাতে কল থেকে জল চুরি করা খুবই সহজ। —তিনি হেঁটে গিয়ে সব দেখলেন, তারপর পাঁচিলের উপর দুটো আলগা ইট রেখে দিলেন, অন্ধকারে কেউ ঢুকলেই হাতে লেগে ইট পড়ে গেলে জখম হবে, অথবা শানের উপর ইটের শব্দে তিনি জেগে যাবেন—এমনই সব ভাবতে ভাবতে বাড়ির ভিতর ঢুকে গেলেন—জল চুরি বন্ধ না করলে, সকালে আবার ট্যাংক খালি।
হলও তাই, তবে দু-দিন পরে। ইটের জায়গায় ইট ঠিকই আছে, মেয়ে দুটোর উপর তিনি ক্ষেপে যাচ্ছিলেন। কাগজ কুড়ানির মেয়ে বলায় কী তেজ। সহদেবকে ফাঁসাতে পর্যন্ত চেয়েছিল, মেয়েদের গায়ে হাত দিলে পুরুষমানুষের যে হাজতবাস হয় সে খবরও শিল্পা রাখে বোধ হয়।
জোর করে মেয়েমানুষের গায়ে হাত দিলে অ্যাটেস্পট টু রেপ হয়ে যায় শিল্পা মণি পিসির টিভি থেকে জেনে ফেলেছে বোধ হয়।
পাড়ায় চায়ের দোকান মণির সঙ্গে যে শিল্পার সবিশেষে ভাব আছে তারকবাবু তা টের পেয়েছেন।
তোর সঙ্গে আলাপ হল কী করে? এইতো সেদিন বস্তিতে উঠে এল। মণিকে কথায় কথায় মেয়ে দুটো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন।
বা রে, ওর বাবা-মা আমার দোকানে চা খায়—আমার দোকানে জল সাপ্লাই করে। রাতে সুযোগ পেলে দুন্ঠ বোন গিয়ে আমার ঝুপড়িতে বসে থাকে, টিভি দ্যাখে। আমি তো সব জানি।
ওর বাবা মা কাগজ কুড়ায়?
তা জানিনে। বলে না কিছু। আমার ব্যাটার গায়ে কী সব—
তোর ছেলের জামা খোল। আরে সারা গায়ে ঘা। এত পাঁচড়া! বস, ওষুধ দিচ্ছি।
তা হলে সহদেব মিছে কথা বলেনি। মেয়ে দুটোকে রেখে বাবা-মা বের হয়ে যায়। স্নান মণির বাড়িতেই হয়তো তারা সারে—এই বস্তিতে যখন ঢোকে, কেউ টেরই পায় না, শিল্পার বাবা-মা সারাদিন কাগজ কুড়ায়। এই বস্তিতে উঠে আসায় শিল্পা মনে করে তাদের মান সম্মান বেড়েছে। কেউ জানেই না, তারা কাগজকুড়ানির মেয়ে। উচ্ছেদ হওয়া খালপাড়ের আস্তানায় একরকম, আর বস্তিতে বাসা ভাড়া নিলে তাদের কাগতাড়ুয়া বলে এমন সাহস কার! শিল্পা নিজেও দু-চার টাকা উপার্জনের ধান্দায় আছে। জল বেচে টাকা হয়, ওই বস্তিতে উঠে এসে টের পেয়েছে।
মাঝে মাঝে ট্যাংক সকালে খালি করে দিলে কার না রাগ হয়! এত ইজ্জত তোর, কাগজ কুড়ালে ইজ্জত যায়! জল চুরি করলে ইজ্জত যায় না, না! দাঁড়া মজা দেখাচ্ছি। কারণ তারকবাবু রাতে পাহারা দিয়েও ধরতে পারছেন না । কলেরই মুখ বন্ধ করে দিতে পারেন, কিন্তু জমাদার এসে জল পাবে কোথায়, বাগানেই বা সরজু জল দেবে কী করে!
তিনি তবু সরজুকে বললেন, প্লাম্বার মিস্ত্রি ডেকে কলটা খুলে ফেল। দেখি জল চুরি যায় কী করে!
সরজু আমতা আমতা করে বলল, বাবু, খুলে ফেললে বাসনকোসন ধোওয়ার জল পাবে কোথায়, জমাদার জল পাবে কোথায়?
লাইনের জলে যেটুকু হয় হবে। তুই খুলে দে। ট্যাংকের পাইপের মুখ সিল করে দে। দেখি হারামজাদি মেয়ে দুটো জল পায় কোথায়।
হলও তাই। সরজু মিস্ত্রি এসে কলপাড়ের ট্যাংকের পাইপ সিল করে দিয়ে গেল। জল চুরির আতঙ্কে তারকবাবুর অনিহা রোগ—কলের মুখ খুলে ফেলায়, পাইপের মুখ সিল করে দেওয়ায় এখন তিনি মনে মনে ফুরফুরে জ্যোৎস্নায় বিচরণ করেন, বোঝ এবার—হলে কী হবে বিকালবেলায় হাঁটতে বের হলে বোঝেন সত্যি জলের আকাল কত—লাইন দিয়ে সারি সারি পেতলের কলসি, প্লাস্টিকের বালতি, মেটে হাঁড়ি, পলিথিনের জেরিক্যান মানুষজন, ভিড় বচসা মারামারি—চুল ধরে টানাটানি—তার উপর চারদিন হয়ে গেল ডিপটিউবেলের মোটর খারাপ হয়ে গেছে বলে লাইনেও জল নেই—মেরামতির কাজে এসে বড়ো মিস্ত্রির জবান, জল নেই, সার। লাও ইবারে ঠ্যালা বোঝো!
জল নেই। ফেরার সময় দেখেন কাজলের হাত ধরে শিল্পা এই ত্রিসন্ধ্যায় কোথায় রওনা হয়েছে। চুল উসখো খুসকো, ফ্রক ছেঁড়া কপাল ফোলা, হাতে ব্যান্ডেজ, জলের লাইনে মারামারি করে শেষে এই দুর্দশা—কেমন মায়া হল তাঁর। কী রে হাতে কী হয়েছে।
মেরেছে।
কারা?
বাবুরা।
কেন মারল?
জল চুরি করি বলে।
তোরা জল চুরি করিস।
করব না, দেখুন না বাবু কী হয় আপনাদের। তেষ্টায় আমাদের মরণ, আপনাদেরও মরণ হবে একদিন। কেউ বাদ যাবে না।
তোরা যাবি কোথায়? সাঁজ লেগে গেছে। ওলাওঠা দেবীর কাছে। শীতলা মন্দিরে যাব।
শিল্পা বলল, তিনি আমাদের ঠাকুর-দেবতা। খিদে পেলে খেতে দেয়, জল লাগলে জল দেয়, যা চাই দিয়ে দেয়। দেবীর এক কথা, এত তার খাবে কে! সে একলা খেলে চলবে কেন—সবাইকে দিয়ে থুয়ে, মানুষজন বাঁচিয়ে না রাখলে দেবী যে একা হয়ে যাবে! আমরা দেবীকে পাখি প্রজাপতি ধরে দি! দেবী এতেই খুশি।
কোথাকার কোন দেবী, তার কথায় তারকবাবুর কেমন হুঁশ ফিরে এল। সবাইকে বাঁচিয়ে না রাখলে, মানুষ নিজেও তো বাঁচে না। সবাইকে দিতে না পারলেও এ দুটো মেয়ের জলের তেষ্টা তিনি সহজেই নিবারণ করতে পারেন—
তিনি ডাকলেন, এই শোন।
কে শোনে কার কথা! দৌড় দৌড়। মেয়ে দুটো মুহূর্তে খালপাড়ের জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে গেল।
আজও ফিরতে তারকবাবুর রাত হয়েছে। কেন যে মনে হল শীতলামন্দির ঘুরে যাবেন। অনেকদিন যাওয়া হয়নি। শত হলেও ওলাওঠার দেবী, দেবদেবীকে মান্য করতে হয়। আর মেয়ে দুটো যদি সেখানে যায়—জীবনের নানা কুহকে ক্ষত-বিক্ষত হতে হতে হাঁটছেন, মেয়ে দুটোর কীই বা দোষ। কারা শিল্পার হাত ভেঙে দিয়েছে, ওরা নিমেষে পালালই বা কোথায়! খালের দুন্ঠধাকে বনজঙ্গলে, তাকে দেখলে শিল্পা কাজল আরও গভীর জঙ্গলে ঢুকে যেতে পারে—যদি মনে করে তিনি তাদেরই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। জলচোর তারা। ধরে নিয়ে যদি বেঁধে রাখেন, কিংবা ঠ্যাং ভেঙে দেন।
আর তখনই দেখলেন, বনজঙ্গলের অভ্যন্তরে একটি জরাজীর্ণ টিনের চালার সামনে কাজল হাঁটু গেড়ে বসে। মন্দিরটি ধসে পড়েছে। দেবদেবীর প্রতি মানুষের যথেষ্ট অবহেলা—খালের মাটি তোলা হচ্ছে, মাটির অভ্যন্তর থেকে দেবীর মুখ যেন গজিয়ে উঠছে—খাল সংস্কার হলে এমনই যেন হবার কথা।
মাটির ঢিবিতে দাঁড়িয়ে কাজলকে বলছে শিল্পা—
বলো, মা আমাদের কী দোষ! আমার দিদির হাত ভেঙে দিয়েছে। ওদের তুমি শাস্তি দাও মা।
কাজল দিদির হয়ে নালিশ জানাবার সময় বলল, মা আমরা আর জন্মে যেন কাগজকুড়ানির মেয়ে হয়ে না জন্মাই। মা আমরা যেন আর জন্মে দুধেভাতে থাকি। আমাদের মা-বাবাকে দ্যাখো। মা বৃষ্টি দাও। গাছপালা মানুষজন সব পুড়ে যাচ্ছে মা। গাছপালা সব জলে ভিজিয়ে দাও। জল না থাকলে যে প্রাণ বাঁচে না মা। পাখি প্রজাপতিরা জল না পেলে মরে যাবে মা।
বল কাজল, তোর দিদির যেন সুন্দর একটা বর হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে যেন সুখে ডালভাত খেতে পায়।
শিল্পা যা যা বর চাইল, কাজল তার হয়ে সব বর মেপে নিল দেবীর কাছে।
তারকবাবু অবাক। শিল্পা নিজে কিছু চাইছে না—কাজলকে দিয়ে বলাচ্ছে। তিনি প্রায় যমদূতের মতো কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কী রে শিল্পা কাজলকে দিয়ে দেবীর কাছে বলাচ্ছিস, তুই নিজে বলতে পারছিস না।
শিল্পা কেঁদে ফেলল, আমিও ভালো না বাবু, আমি লুভি, পেটুকে, খালপাড়ের বাবু আছে না, গৌরাঙ্গদা, সে বাদাম ছোলা খাইয়ে শরীরে আমার কি খুঁজে বেড়াত—আমি বাবু আরাম পেতাম। দেবী কেন আমাকে বর দেবেন—আমি অশুচি না! আমি বর চাইলে দেবী রাগ করবে। ঠাকুর-দেবতা ছাড়া আমাদের যে কেউ নেই বাবু।
কী হবে অত সব ভেবে। কেউ কারও জন্য ভাবে না। যে যার তালে আছে। কিশোরী মেয়েটি বড়ো হতে হতে এই সার বুঝেছে। কেউ চেনে না, কোথায় থাকে, কী খায়। কেউ জানে না বললে ঠিক বলা হবে না—সহদেব জানে। বন অফিসের গৌরাঙ্গ চেনে, আরও অনেকে। সারাদিন রাস্তায় ঘুরে বেড়ালে যা হয়। ন্যাড়া মাথা, ফ্রক গায়, লম্বা এক কিশোরী আর তার কনিষ্ঠ বোন কাজল, কাজলের হাত ধরে সাঁজ লাগার আগে গাছপালার ছায়ায় তারা দুন্ঠজনেই আকাশে তারা খুঁজে বেড়ায়।
আকাশে তারা খুঁজে পেলেই তারা হাঁটে।
অন্ধকার তাদের বড়ো প্রিয়। অন্ধকারে মিশে গেলে কেউ টেরই পায় না, শিল্পা আর কাজল বাবুদের বাগান থেকে অথবা বাবুদের কিছু উচ্ছিষ্ট খাবার, যদি কেউ দয়া করে হাতে দেয়, সহজেই কোঁচড়ে লুকিয়ে বস্তির ঝুপড়িতে ঢুকে যেতে পারে। সারা শহরের দেয়ালে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে অজস্র ভোটের প্রচারপত্র উড়ছে—অন্ধকারে সেই সব প্রচারপত্র সহজেই বস্তার ভিতর ঢুকিয়ে দিতে পারে আর আড়ালে এই সব চুরিচামারি-সহ জলের জন্যও সকাল-বিকেল লাইন দেয় তারা।
শেষ পর্যন্ত খালপাড়ের বস্তি উচ্ছেদ হয়। কাজল আর শিল্পাকে নিয়ে তার বাবা-মা খালের ও-পাড়ে আস্তানা খোঁজে। আস্তানা পেয়েও যায়। বাড়িউলির একটাই শর্ত, কাজলের মাকে কাগজকুড়ানি হলে চলবে না। কাজলের বাবাকেও নোংরা ঘাঁটাঘাঁটি করলে বস্তিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর কী করা, সেই শর্তেই রাজি। বাড়িউলি শাসায়, এটা বাবা খালপাড়ের বস্তি পাওনি, এটা হানাপাড়ার বস্তি। লাইনের কলে জল আসে, ইলেকট্রিকে বাতি জ্বলে—হুসহাস অট্টসুহাস হয়ে যাও ক্ষতি নেই—আসলে খোলা নর্দমার অন্ধকারে মলমূত্র ত্যাগের যথেষ্ট সুবন্দোবস্ত আছে। এত সুবিধে কি খালপাড়ের বস্তিতে আছে।
শিল্পার বাবা বিজয় মাথা নাড়ে, তা ঠিক।
কাজলের মা মালিনীও মাথা নাড়ে—মাসিমা ঠিক বলেছেন, জঙ্গল ছাড়া খালপাড়ের বস্তিতে কোনও আব্রু ছিল না। আমার মেয়ে দুটোকে কাগজকুড়ানির বেটি কয়, গাইল্যায়, শিল্পা তো বড়ো হয়েছে, কাগজকুড়ানির বেটি বললেই সে হেস্তনেস্ত করে ছাড়ে। বড়ো চণ্ড রাগ, একদম বুঝদার না। যেখানে সেখানে জঙ্গলে ঢুকে কম্ম সারতে হয়।
টালির ঘর, পাকা মেঝে, সুইচ টিপলে আলো, শুধু কল টিপলে জল পাওয়া যায় না। বস্তি এলাকাতে একটি মাত্র টিউকল, কবে থেকে খারাপ হয়ে পড়ে আছে। বস্তির ঘরগুলিতে লাইনের কল থেকে জল আসে। জলের চাপ খুবই কম, ফলে জলের খুব আকাল। তায় আবার চৈত্র-বৈশাখের রোদের তেজ—তাপে ভাপে সব পুড়ে যাচ্ছে।
সকাল থেকে লাইনের কলে মারকাটার ভিড়, ঘটি বাটি জেরিক্যান প্লাস্টিকের বালতি যার যা আছে হাজির—তারপর কে আগে কে পরে, কার লাইনে কে ঢুকে গেছে এই নিয়ে বচসা, মারামারি ভাঙচুর—নিত্য এই এক আগুনজ্বলা গ্রীষ্মে দাবদাহের মতো সবাই জ্বলছে।
শিল্পা, কাজল দুই বোন খুব খুশি, কারণ তারা আর কাগজকুড়ানির বেটি নয়। এখানে উঠে এসে তাদের ইজ্জত বেড়েছে, তার মা-বাবা বিজয় আর মালিনী সকালে বের হয়ে যায়, রাত করে ফেরে। নোংরা ঘাঁটাঘাঁটি করে তারা কাগজ কুড়ায় দেখলে কে বলবে! ছুতার মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, যোগাড়ে, প্লাম্বার মিস্ত্রিদের এই বস্তিটায় শিল্পা আর কাজলকে কাগজকুড়ানির বেটি বলে কেউ হাঁক দেয় না। শুধু জলের আকাল ছাড়া বস্তিটা বড়োই সুবন্দোবস্ত হয়ে আছে তাদের কাছে। বাবা-মাও কোনও এক পুকুরে ডুব দিয়ে আসে, তারাও চলে যায় হেঁটে হেঁটে—বালির পুকুরে ডুব দিয়ে আসে—কিন্তু উপার্জন বাড়ে না। একটা ঘরের ভাড়া দিতেই উপার্জনের সব টাকা প্রায় উড়ে যায়।
খালপাড়ের বস্তিতে লুকিয়ে চুরিয়ে কিংবা হাতসাফাইয়ের উপার্জন থেকেও তারা বঞ্চিত। খালপাড়ের গাছপালার পাহারাদার গৌরাঙ্গদার সঙ্গেও আর দেখা হয় না, দেখা হলেই, এই শিল্পা আয়। শোন। চা বিস্কুট খাবি? চিনাবাদাম খাবি? ফুলুরি খাবি! কাজল ছুটে পালাত। —দিদি যাস না, লোকটা ভালো না—তোর গায়ে পায়ে হাত দেবে। ক্ষুধার তাড়নায় শিল্পা বেচাল, গায়ে পায়ে হাত দিলে কিংবা ফ্রকের নীচে, সে যে আরামই পায়। তবে বস্তি এলাকাতে কিংবা দূরের কিছু এলাকায় জল পৌঁছে দিলে, জেরিক্যান পিছু আট আনা এক টাকা উপার্জন হয়। এই এক কৌশল, কিন্তু রাস্তার কলে বাড়িউলি সব সময় একটা নল লাগিয়ে রাখে। প্রভাব প্রতিপত্তি থাকলে সব হয়।
জল চাই, জল জল করে দুই বোন হন্যে হয়ে ঘুরছে—খালপাড় হয়ে বৈশাখীর ঘেরা পাড়ে কল আছে, কিন্তু সেখানে দু বোনের এই প্রখর রোদে যাওয়াই কঠিন, তবে তারা ছুটে যায়, কারণ তারা ছুটে না গেলে অত দূরে জলের নাগাল পায় না, তারপর সারিসারি জলের লাইন তো আছেই। কী যে করে। সর্বত্র জলের হাহাকার।
আর এ-সময়েই কাজল ডাকল, দিদি রে।
শিল্পা বলল, কী?
ওই দ্যাখ। জলের ট্যাংকি!
কার?
বাবুদের।
তাদের ঘর পার হয়ে, কিছুটা বনজঙ্গল পার হয়ে গেলে পাঁচিল। হলুদ রঙের বাবুদের বাড়ি। একতলার ছাদে জলের ট্যাংকি। ট্যাংকি থেকে সোজা বাবুদের কলতলায় পাইপ—কল খুলে দিলে জলের ছড়াছড়ি।
-------২------
তারকবাবু বাড়ি ফেরার পথে দুধের ডিপো থেকে দু-প্যাকেট দুধ নেন। সঙ্গে থাকে দিনরাতের কাজের লোক সরজু। আজ খেয়াঘাটের সহদেবকে বলেছিলেন, দুধের প্যাকেট সে যেন তুলে রাখে। অনেকটা আজ হেঁটেছেন। সকালে সময় পান না বলে বিকেলে, এই সল্ট লেক এলাকায় খেয়া পার হয়ে চলে আসেন। তারপর হাঁটেন। যতদূর খুশি হাঁটা যায়। এই শহরটায় মানুষজন কম। গাড়িঘোড়ার উৎপাত কম। দুর্ঘটনার ভয় কম। প্রশস্ত রাস্তা ধরে নির্বিঘ্নে হাঁটা যায়। খেয়াঘাটে হাঁটার শুরু ফুটব্রিজে শেষ। এভাবে দু-বার হাঁটলেই দুক্রোশ হয়ে যাবার কথা। হিসাবের বাইরে কিছুটা বেশি রাস্তা হেঁটে ফেরার সময় মনে হল, আজ একটু তাঁর বেশ দেরিই হয়ে গেছে। বেশ রাত হয়ে গেছে।
খেয়াঘাটে ফিরে দুধের প্যাকেট সহদেবের কাছ থেকে নেবার সময়ই দেখলেন, সেই ন্যাড়া মাথার মেয়ে দুটো চুটিয়ে ঝগড়া করছে। চারপাশে জনমজুরের ভিড়। খাল সংস্কার হচ্ছে—ঝুড়ি ঝুড়ি মাটি উঠছে। দু-পাড়ে মাটির পাহাড়।
এই শিল্পা, পয়সা দিলি না? সহদেব চেঁচাচ্ছে।
আমাদের পয়সা লাগে না। শিল্পার নির্বিকার জবাব।
পয়সা লাগে না! দাঁড়া দেখাচ্ছি।
সহদেব এ-পাশে বসে সাঁকো পারাপারের পয়সা নিতে নিতে বলল, দেখলেন বাবু, মেয়েটার কী তেজ!
তেজের কী দেখলে, কবে পয়সা দিয়েছি বলো! পয়সা দেব না। শিল্পা দৌড়ে চলে যাচ্ছিল। সহদেব খাঁচা থেকে নেমে একলাফে মেয়েটার হাত ধরে ফেলল।
সাঁকো পার হতে গেলে চার আনা পয়সা লাগে। মেয়ে দুটো ঠায় দাঁড়িয়ে পয়সা নিয়ে অবলীলায় ঝগড়া করছে। —হাত ধরলে কেন, গায়ে হাত দিলে কেন?
তারকবাবু বললেন, দাও, প্যাকেট দাও। দেরি হয়ে গেছে। বাড়ির লোক চিন্তা করবে।
ততক্ষণে আরও সব লোকজন জমা হয়ে গেছে। এরা ঘাটেরই লোক। পয়সা তোলে। মেয়ে দুটো পয়সা দিচ্ছে না, অথচ যথেষ্ট রোয়াব।
আমি তোর হাতে হাত দিয়েছি? সহদেবের কেমন মিনমিনে গলা।
দিয়েছ তো।
এত ইজ্জত কাগজকুড়ানির মেয়ের! আজ তোদের দুটোকেই বেঁধে রাখব, দাঁড়া।
কাগজকুড়ানির মেয়ে, তো তোমার বাপের কী! আমরা কাগজকুড়ানির মেয়ে! তুমি কী! মেথর ডোম মুচি। হাত ছাড়ো বলছি। গাছের মরা ডাল, কুকুর বেড়ালে পেস্যাব করে তোমার মুখে।
তারকবাবু মেয়ে দুটোকে চেনেন, তার একতলা বাড়ির পাশে ইদানীং একটা ছোট্ট বস্তি গজিয়ে উঠছে। বস্তিতে মেয়ে দুটো নতুন আমদানি। লাইনের কলে জল এলে হাতে জেরিক্যান না হয় বালতি—লাইন দিয়ে সকাল বিকাল দাঁড়িয়ে থাকে।
তোর মা বাবা তো কাগজ কুড়াত, এত ইজ্জত থাকলে পয়সা না দিয়ে সাঁকো পার হতেছিস ক্যানে?
বলছি না, পয়সা আমাদের লাগে না। কবে পয়সা নিয়েছ বলো?
তা ঠিক। সহদেব মনে করতে পারে মালিনী সুঠাম সুন্দরী না হলেও গায়ে গতরে যে কোনও পুরুষকেই লোভে ফেলে দেবার মতো। মালিনী থাকত বাপের সঙ্গে। বুড়োর কাশির ব্যামো। বাবুদের বাড়ি কাজ করে তখন মালিনী বুড়ো বাবাকে খাওয়াত। দু-দুবার বাবুরা তাকে গর্ভবতী করেছে। শিল্পা, কাজল আরও দু-তিনটে—তবে বাঁচল না, মরে গেল। বিজয় বাউণ্ডুলে মানুষ। ছেঁড়া চটের বিশাল ব্যাগটা মাথায় করে সে চলে আসত, এবং পয়সা কড়ি দিয়ে মালিনীকে হাত করেছিল—তারপর দুন্ঠজনেই কাগজকুড়ানির কাজে লেগে গেল।
মালিনীর সুবিধা অসুবিধায় সে নিজেও তাকে পয়সা দিত—সেই পয়সা গায়ে গতরে উশুল করা ছাড়া তার উপায়ও ছিল না। দেশে বউ ছেলে মেয়ে পড়ে থাকলে, সেই বা যায় কোথায়।
সেই এক অষ্ট প্যাঁচ।
তারকবাবু দেখলেন, এখানে আর তাঁর থাকা ঠিক হবে না। তিনি বললেন, আমি যাচ্ছি সহদেব।
না বাবু আপনি থাকেন। মেয়েটো আমাকে ফাঁসাতে চায়।
ফাঁসাতে! বলো গায়ে হাত দিলে কেন! আমার ইজ্জত নিলে কেন।
সহদেব ঠিক জানে না, মেয়েটা কার— মালিনীর চোখ দুটো বড়োই টানে তাকে। সেও তো মালিনীকে এককালে যথেষ্ট ভোগ করেছে। এই মেয়ে দুটো কার?
তারকবাবু বললেন, ছেড়ে দাও। আমি ওদের পয়সা দিয়ে দিচ্ছি।
কারণ তারকবাবু বুঝতে পারছেন, মেয়ে দুটোর পক্ষেও মানুষজন কথা বলছে।
না সহদেবদা, তোমার এটা উচিত কাজ হয়নি। তুমি কিন্তু ফেসে যাবে। আজকালকার আইন তো জানো না।
রাখ রাখ, আইন আমার দ্যাখা আছে। ওর মায়ের বেলায় আইন ছিল কোথায়! পয়সা না দিয়ে পালাচ্ছে ছুটে গিয়ে ধরেছি!
কেন ধরেছ? মেয়েটার চোখে যে ধার উঠে গেছে জানো না? ধার উঠে গেলে, মেয়েরা কী চায় পুরুষ কী চায় বোঝো না! এই, কোথায় যাবি চলে যা তোরা।
শিল্পা অনড়।
চোখমুখ শিল্পার জ্বলছে।
আমি কাগজকুড়ানির মেয়ে। জানো, আমরা খালের ওপারে বাসা ভাড়া নিয়েছি।
তখনই তারকবাবু বললেন, আমি তোদের চিনি। তোরা জলের জেরিক্যান হাতে ছোটাছুটি করিস। তোর বাবা কী করে? পাশের বস্তিতে তোরা থাকিস।
ও মা, তুমি সেই বাবু! তোমাকে চিনতেই পারিনি, এই কাজল বাবুকে প্রণাম কর, সে নিজেও সাস্টাঙ্গে তারকবাবুকে প্রণাম করতে এলে তিনি পা সরিয়ে নিচ্ছিলেন—আরে তোরা করছিস কী! ঠিক আছে, ঠিক আছে!
কাজল বলল, ক্যারে দিদি।
তুই কি রে। একতলা বাড়ির বাবু। মনে নেই জানালা থেকে বাবু তাড়া দিচ্ছিলেন, এই তোরা কে রে? জঙ্গলে ঘাপটি মেরে কী করছিস! হাতে জলের পাইপ কেন?
কাজল বুঝতে পেরে কেমন বড়ো বড়ো চোখ করে দেখল বাবুকে। বাবু কি টের পেয়েছে, ইদানীং তারা বাবুর লাইনের কলে প্লাস্টিকের পাইপ গুঁজে দেয়। টের পেলেই সর্বনাশ। বাবুর জলের ট্যাঙ্ক থেকে কলতলায় পাইপ নেমে এসেছে এটা প্রথম কাজলই টের পায়।
দিদিরে! কাজল চেঁচাল।
ফের কাজলের চেঁচামেচি—জল, জল, কত জল!
রাস্তার কল থেকে পাইপ গুঁজে কিংবা পাশের জমির মধ্যেও আছে জলের লাইন, এক কোণায় ইটের ঘর তুলে বাবুদের ড্রাইভার মহসিন কাকা বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে, সময়ে অসময়ে সুযোগ পেলে সেখানেও জলের পাইপ লাগিয়ে নিতে পারে তারা, তবে এই খরায় খা খা করছে সব, জলের চাপ নেই, মহসিন কাকার কল কিছুটা উঁচু জায়গায় বলে জলের চাপও কম—তবু কাকিমা ভালো মানুষ বলে, তাদের ডাক-খোঁজ করে—এই কাজল, এই শিল্পা, পাইপ লাগিয়ে দে তাড়াতাড়ি, জল কিন্তু চলে যাবে। এত জল দিয়ে তোরা কী করিস?
আর যা হয়, লাগিয়ে দিতে দিতেই শেষ। জেরিক্যান ভরে না, তার পর এই সারাদিন ধরে জল নিয়ে মারামারি চলে। তারা দুন্ঠবোন জেরিক্যান নিয়ে দূরে দূরেও চলে যেত, মাথায় করে জল নিয়ে আসত—তারপর কাজলের জলের ট্যাঙ্ক আবিষ্কার—সে যে কত বড়ো বিপাক থেকে রক্ষা, শুধু তারা দুন্ঠবোনই জানে।
-------৩------
এই এলাকাটা মানুষজন এত গিজগিজ করবে, তারকবাবু কস্মিনকালেও ভাবেননি। তাঁর বাড়ির পেছনে লাইনবন্দি কাঁচা-পাকা ইটের ঘর, ঝুপড়িও আছে। সরকারের খাস জমি হলে যা হয়। পার্টিরও মদত আছে। গরিবগুরবো মানুষ যাবে কোথায়। কাজেই তাঁর পেছনের বাড়িউলি সোহাগী বলতে গেলে পার্টির মদতে কাঁচা-পাকা ঘর তুলছে, আর ভাড়া বসিয়ে রোজগার বাড়াচ্ছে। সোহাগীর নিজেরও যথেষ্ট অভাব অনটনের সংসার। তারও দোষ দেওয়া যায় না। গু-মুতের গন্ধে তিনি নিজেও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। জলনিকাশি ড্রেনে গু-মুত ধুয়ে দিলে কেউ টেরও পায় না, চট দিয়ে অথবা পলিথিন ঘেরা এই মলমূত্র ত্যাগের ঝুপড়িগুলোর মানুষদের মলমূত্র কোথায় যায়! শুধু পরিবেশ দূষণ ছাড়া এদের আর কোনও অপরাধ আছে বলেও তিনি মনে করেন না।
আবার সহদেবেরও দোষ দেওয়া যায় না, ঘাটের ডাক নিতে সরকারের ঘরে পয়সা জমা দিতে হয়। পারানির কড়ি দিয়ে সরকারের পয়সা উসুল করতে হয়। সহদেব তার ভাই-বেরাদর মিলে মালিকের হয়ে ঘাট সামলায়। পয়সা উপার্জন না হলে সে-ই বা মালিককে কী দেয়, আর মাগ-ছেলে নিয়ে সংসারই বা করে কী করে!
সংসার এই এক অষ্টপ্যাচে মাতাল। ছেড়ে দাও। হুজ্জুত করে কিছু হবে না গরিব মানুষ, কোথায় যাবে!
তারকবাবুকে সহদেব সমীহ করে। তারকবাবু তার একতলার বাড়িতে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার, নামযশ আছে—অসুখেবিসুখে সহদেবকে তাঁর কাছে আসতেই হয়।
না বাবু, আজ ছাড়ছি না। আমি ডোম, মুচি, মেথর। আরে তোরা কী। দিল তো তুলে। পারেনি রুখতে। খালের ধারে ঝুপড়ি বানিয়ে থাকলি, কাগজ কুড়িয়ে বেড়ালি, খালের পাড়ে যতদূর দেখা যায়, ঝুপড়ি উঠছে তো উঠছেই। কেউ বাধা দিচ্ছে না। পুলিশ মাসোহারা পেলে কে আর বাধা দেবে বলুন! ওর বাপকে পইপই করে বলেছি, বিজয় এইসা দিন নেহি রহেগা। মেয়ে দুটোকে হতে দেখলাম, বড়ো হতে দেখলাম, খাল কাটা শুরু হল, উচ্ছেদ হয়ে কোথায় যে চলে গেল! আজ দেখি তেনারা হেলেদুলে নগর ভ্রমণে বের হয়েছেন! সাঁজ লেগে গেছে বাবু—তোরা কোথায় যাবি বল! সোমত্ত মেয়ে—
শিল্পা চিৎকার করছে, যেখানে খুশি যাব, তোমার ঘিলু ফাটে কেন। তুমি আমাদের কে? কাগজকুড়ুনির মেয়ে বলে গাল পাড়লে কেন? আমার গায়ে হাত দিলে কেন?
সহদেব বলল, ডাক্তারবাবু দেখছেন, মেয়ে দুটোর কী চোপা। আপনি সাক্ষী। আপনার সামনে সব ঘটেছে। বলুন পয়সা না দিলে কেউ ছাড়ে! আমাকে আইনের ভয় দেখাচ্ছে।
শিল্পা বলল, ভগবানের দিব্যি, কবে সাঁকো পার হতে তুমি পয়সা নিয়েছ বলো? বলো কেন আমার গায়ে হাত দিলে!
পয়সা নিইনি, কেন নিইনি জানিস না। তোর মাকে ডেকে আন। খালপাড় হয়ে তোদের পাখনা গজিয়েছে। ইজ্জত বেড়েছে। কাগজ কুড়ানির মেয়ে বললে গায়ে এখন ফোসকা পড়ে। হ্যাঁ এত বেইমান তোরা! আপদে-বিপদে কে দেখত তোদের বল! কত অকথা কুকথা বললি, লোকে মজা দেখছে—খালের এ পাড়ে ছিলি, নিজের মানুষ ভাবতাম। ও পাড়ে উঠে গেলি নিজের মানুষ কেন ভাবব বল!
মজা দেখবে না! তুমি কি ভালোমানুষ, বলো, তুমি ভালোমানুষ! পয়সা মাগনা দিয়েছ না! মা আমাকে সব বলেছে।
সহদেব চুপসে গেল।
তারকবাবু ভিড়টাকে বললেন, বাবারা আপনারা যান, কিছু হয়নি। সহদেবকে আমি অনেকদিন থেকে চিনি—পয়সা না দিলে তার তো রাগ হবেই। পয়সা না দিয়ে পালালে তাকে ছুটে গিয়ে ধরলে দোষের না। তার তো হিসাবের কড়ি, সরকারের ঘরে জমা, মালিকের ঘরে জমা, পুলিশের কাছে জমা, এত জমার পরে এরা চার-পাঁচজন ভাগে আর কত পায় বলুন বাবারা! তারকবাবু ভাবছেন—শিল্পা শত হলেও কিশোরী, গায়ে গতরে কলাগাছ, গায়ে হাত দিলে অ্যাটেম্পট টু রেপ-ও হয়ে যেতে পারে। এই শিল্পা, তোর গায়ে সহদেব হাত দিয়েছে?
আজ্ঞে না বাবু।
সহদেব যেন পারলে তারকবাবুর পায়ে গড়িয়ে পড়ে। দিনকাল খারাপ—তারকবাবু জানেন, এই সেদিন তার এক কাছের মানুষ দেবীপদ বাসা ছাড়ছে না বলে বাড়িউলি সোজা থানায়— অ্যাটেম্পট টু রেপ বলে ডাইরি— পুলিশকে পয়সা খাওয়ালে যা হয় দেবীপদকে আটক করে সোজা আদালতের কাঠগড়ায়— আট দিনের হাজতবাসের পর ছাড়া পেয়েছে। বাড়িতে অশান্তি, দেবীপদ ছাড়া পেয়ে নির্বাক হয়ে গেছে। সারাদিন অন্ধকার ঘরে বসে থাকে—কারও সঙ্গে কথা বলে না।
তারকবাবু বেশ ক্ষুব্ধ গলায় বললেন, তবে যে তুই বললি গায়ে হাতে দিয়েছে!
বলব না। সবার সামনে আমার ইজ্জত নিলে আমার রাগ হয় না। আমাকে কাগজ কুড়ানির মেয়ে বলে গাইল্যায়! আমার রাগ হয় না বাবু!
--------৪--------
চারপাশে জলের যতই হাহাকার থাকুক, তারকবাবুর বাড়িতে সবসময় জল। লাইনের জল তো আছেই— বাড়িতে ডাবল সিলিন্ডারের মোটর ফিট করা টিউকলও আছে। বাড়িটায় মানুষজন মেলা, লাইনে জল নেই তো টিউকল চালিয়ে জল তুলে ফ্যালো রিজার্ভারে।
পৈতৃক বাড়িতেই তারকবাবু থাকেন, একসময় বাজারের মুদিখানায় বসতেন, ভাইপোরা লায়েক হয়ে গেলে তিনি আর সেদিকে যান না। সংসারে তিনি একা মানুষ, তবে কী যে হয়, সংসারের সুবিধা অসুবিধার সঙ্গে তিনিই জড়িয়ে গেছেন। ভাইপো ভাইঝিরা তাঁর অভিভাবকত্বেই মানুষ। দাদা বৌঠানও বেঁচে নেই, ছোটো ভাই মৃদুলকে বছর দুই হল দোকানেই জুড়ে দিয়েছেন, তার কথা ছাড়া এ-বাড়ির কুটোগাছটিও কেউ নাড়তে সাহস পায় না।
একতলা বাড়িটায় মেলা ঘর, দুটো বাথরুম, জল চাই—কত যে জল লাগে— দোকানের কাজের লোকেরাও থাকে, তার ডিসপেনসারিতে যে ছেলেটা কাজ করে, পুরিয়া বানায়—এবং তাঁর নির্দেশ মতো ওষুধ দেয়, সেও থাকে। সুতরাং সেই বাড়ির কেউ যদি সকাল বেলাতেই এসে খবর দেয়, কাকা চাবিটা দাও, রিজার্ভারে জল নেই। এক্ষুনি টিউকল থেকে জল তুলতে হবে। সাতটা না বাজলে লাইনে জল আসবে না।
বাড়িটায় জলের খুব অপচয় হয় বলে, তিনি টিউকলের চাবিটি নিজের কাছে রাখেন। হিসাব করে বিকেলের দিকে টিউকল থেকে জল তোলেন। লাইনের জলে রিজার্ভার যাতে ভর্তি থাকে, সে-জন্যই এই সতর্কতা। তা ছাড়া রোজ পনেরো বিশ মিনিটের জন্য টিউকল থেকে জল না তুললেও চলে না—অব্যবহারে টিউকলটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সবে ঘুম থেকে উঠেছেন তিনি। ভাইঝি বীথি এসে হাজির। সেই খুব সকালে ওঠে, কারণ তাকে বাস-ট্রেন ঠেঙিয়ে সকালে কলেজ করতে হয়। বছর দুই ধরে সেখানে সে পার্টটাইম করছে। দুন্ঠবারের বার বীথি স্লেট ও পেয়ে গেছে। শিগগিরই ফুল টাইম চাকরি হয়ে যাবে। খুবই মেধাবী এবং পরিশ্রমী, আর ঠিক তখনই তিনি কেন যে সেই কিশোরী মেয়েটির মুখ সামনে ভেসে উঠতে দেখলেন— কাজলের হাত ধরে শিল্পা জঙ্গলের দিকে ছুটছে। হাতে সেই লম্বা প্লাস্টিকের পাইপ, তারা জল খুঁজে বেড়াচ্ছে।
জল নেই কেন? তারকবাবু যেন ভারি বিড়ম্বনায় পড়ে গেছেন।
বীথি বলল, যা বাড়ি, কে কোথায় কল খুলে রেখেছে। চাবিটা শিগগির দাও, আমার লেট হয়ে যাবে।
তা হতে পারে, রান্নাঘর, বাথরুম, ডাইনিং স্পেস, বারান্দায় সর্বত্র বেসিনের ছড়াছড়ি। কার গোয়াল, কে বা দেয় ধোঁয়া। এজমালি সংসারে যে রকমটা হয় আর কি!
কেউ কল খুলে রাখতেই পারে। সারা রাত ধরে জল পড়লে রিজার্ভারে আর জল থাকে কী করে?
বীথিকে চাবিটা দিয়ে তিনি সব বেসিনের কল ঘুরিয়ে দেখলেন, না সবই ঠিক আছে, কোনও কলই খোলা নেই—সব কলই বন্ধ। বিকালে রোজই ফুলট্যাংকি করে রাখেন, কালও রেখেছিলেন, ছাদে ইটের গাঁথনি দিয়ে বিশাল রিজার্ভার, একবার সকালে ভরে রাখলে যত লোকই থাকুক সারাদিন অপর্যাপ্ত জল। অধিকন্তু দোষায় বলেই বিকেলে জল তোলেন ফের। যা জলের হাহাকার চলছে, কখন কী ঘটবে, জল নেই, মাটির নীচেও জল নেই—জল না থাকলে যে কী অপরিসীম কষ্ট, বস্তির মেয়ে দুটোকে দেখে টের পেয়েছেন।
সবই ঠিক আছে, তবু এত জল গেল কোথায়। কোনও কলেরই মুখ খোলা নেই। নীচের রিজার্ভারও খালি। বাড়ির পেছনের দিকেও একটা জলের কল আছে, অবসর সময়ে তিনি একটি ফুলের বাগানও তৈরি করেছেন, নানা জাতের ফুল, পাইপ লাগিয়ে সরজু বাগানে জল দেয়। ঠিকা কাজের মেয়েটিও বাইরের কলটি কাঁড়ি কাঁড়ি বাসন ধোওয়ার জন্য ব্যবহার করে— ছাদ থেকে সোজা একটি পাইপ নামানো আছে— ট্যাংক থেকে জল নিলে পাইপের মুখে জলের চাপ বাড়ে, তারপর বাড়ির নালা-নর্দমা সাফ রাখার জন্য প্রচুর জলের দরকার হয়।
জল না থাকলে কী অশান্তি সৃষ্টি হয় তাও তিনি জানেন। এত জলের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও জল নিয়ে ত্রাসে আছেন বলেই বাধ্য হয়ে ডাবল সিলিন্ডারের দুশো ফুটের একটি নতুন কল আট-দশ বছর আগে করে রেখেছেন। একশ ফুটের কলটি তুলে দুশো ফুটের নতুন কল বসিয়ে নিশ্চিন্তই ছিলেন— তবে যা অবস্থা যে ভাবে চারপাশে হাইরাইজ ফ্ল্যাটবাড়ি হচ্ছে, তাতে করে শেষ পর্যন্ত দুশো ফুটের জলের লেয়ারটিও যে ঠিকঠাক থাকবে বলা যাচ্ছে না। গভীরতম গভীর নলকূপ বসিয়ে যদি জল না মেলে কী যে হবে—আসলে তারকবাবু এই সব দুশ্চিন্তায় প্রায়শই ভোগেন। চৈত্র-বৈশাখে জলের আকাল এমনিতেই থাকে, কিন্তু এবারে যেন হাহাকার একটু বেশি মাত্রায়। ভালোয় ভালোয় বর্ষা নামলে ভাববেন, দুশো ফুটের কলটিকে চারশো ফুটের লেয়ারে ঢুকিয়ে দেবেন।
তারপর!
তারপর আটশ ফুটের লেয়ারে।
তারপর?
কোথাও জল পাওয়া যাচ্ছে না।
তারপর, তারপর কী হবে!
বাড়ির মানুষজন বুঝবে না। জল অপচয় করলে আখেরে আর জলই পাওয়া যাবে না। জল নিয়ে সবাইকে পস্তাতে হবে।
বাড়িটায় তিনি কিছুক্ষণ হম্বিতম্বি করে বেড়ালেন—এক বালতি জলে স্নান সারতে হবে, এমনও ফরমান জারি করলেন, তবু কেন যে দ্বিধায় আছেন, কাল বিকেলে ট্যাংক ভর্তি করে রেখেছেন, অথচ সকালে খালি।
ফের মেয়ে দুটোর মুখ ভেসে উঠল, হাতে জেরিক্যান। হাতে, কলে নল লাগিয়ে জল তোলার পাইপ, যদি তাঁর ট্যাঙ্ক থেকে তারা জল চুরি করে, করতেই পারে—কলতলার দিকে যদি রাতে ট্যাংকের পাইপের মুখে নল ঢুকিয়ে কল ছেড়ে দেয়—তবে হড়হড় করে জল সব নেমে যাবে, তিন-চার মিনিটে বালতি, জেরিক্যান ভরে যাবে, এক বালতি জল যদি বস্তিতে এক টাকায় বিক্রি হয়, তবে মেয়ে দুটোর অনেক পয়সা হয়ে যায়—সারাদিন জলের ধান্ধায় যে কেন ঘোরে, এতক্ষণে যেন সব টের পেলেন।
কলতলার শেষ দিকটায় তাঁর পাঁচিল—পাঁচিলে সারি সারি পেরেক পোঁতা, চোরের উপদ্রব থেকে বাড়িটাকে রক্ষা করার জন্যই এত বেশি সতর্কতা—ইতিমধ্যে পাঁচিলের এক জায়গায় কাঠ কিংবা ইট দিয়ে পিটিয়ে পেরেক সব সমান্তরাল করে রেখে গেছে কেউ। এই বাড়িটা এমন যে, ঢুকে গেলে বের হবার রাস্তা থাকে না, চোরেদের বুদ্ধির দৌড় তাঁর চেয়ে বেশি, পাঁচিলের প্লাস্টার খসিয়ে মেরামতেরও দরকার ছিল, হবে হচ্ছে করে বছরখানেক পার হয়ে গেল—সেই জায়গাটা দিয়েই শিল্পা ঢুকছে, কোনও গাছের ডালে কিংবা পেয়ারা গাছও আছে একটা, তার উপর উঠে কলতলায় ঢুকে মধ্যরাতে কল থেকে জল চুরি করা খুবই সহজ। —তিনি হেঁটে গিয়ে সব দেখলেন, তারপর পাঁচিলের উপর দুটো আলগা ইট রেখে দিলেন, অন্ধকারে কেউ ঢুকলেই হাতে লেগে ইট পড়ে গেলে জখম হবে, অথবা শানের উপর ইটের শব্দে তিনি জেগে যাবেন—এমনই সব ভাবতে ভাবতে বাড়ির ভিতর ঢুকে গেলেন—জল চুরি বন্ধ না করলে, সকালে আবার ট্যাংক খালি।
হলও তাই, তবে দু-দিন পরে। ইটের জায়গায় ইট ঠিকই আছে, মেয়ে দুটোর উপর তিনি ক্ষেপে যাচ্ছিলেন। কাগজ কুড়ানির মেয়ে বলায় কী তেজ। সহদেবকে ফাঁসাতে পর্যন্ত চেয়েছিল, মেয়েদের গায়ে হাত দিলে পুরুষমানুষের যে হাজতবাস হয় সে খবরও শিল্পা রাখে বোধ হয়।
জোর করে মেয়েমানুষের গায়ে হাত দিলে অ্যাটেস্পট টু রেপ হয়ে যায় শিল্পা মণি পিসির টিভি থেকে জেনে ফেলেছে বোধ হয়।
পাড়ায় চায়ের দোকান মণির সঙ্গে যে শিল্পার সবিশেষে ভাব আছে তারকবাবু তা টের পেয়েছেন।
তোর সঙ্গে আলাপ হল কী করে? এইতো সেদিন বস্তিতে উঠে এল। মণিকে কথায় কথায় মেয়ে দুটো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন।
বা রে, ওর বাবা-মা আমার দোকানে চা খায়—আমার দোকানে জল সাপ্লাই করে। রাতে সুযোগ পেলে দুন্ঠ বোন গিয়ে আমার ঝুপড়িতে বসে থাকে, টিভি দ্যাখে। আমি তো সব জানি।
ওর বাবা মা কাগজ কুড়ায়?
তা জানিনে। বলে না কিছু। আমার ব্যাটার গায়ে কী সব—
তোর ছেলের জামা খোল। আরে সারা গায়ে ঘা। এত পাঁচড়া! বস, ওষুধ দিচ্ছি।
তা হলে সহদেব মিছে কথা বলেনি। মেয়ে দুটোকে রেখে বাবা-মা বের হয়ে যায়। স্নান মণির বাড়িতেই হয়তো তারা সারে—এই বস্তিতে যখন ঢোকে, কেউ টেরই পায় না, শিল্পার বাবা-মা সারাদিন কাগজ কুড়ায়। এই বস্তিতে উঠে আসায় শিল্পা মনে করে তাদের মান সম্মান বেড়েছে। কেউ জানেই না, তারা কাগজকুড়ানির মেয়ে। উচ্ছেদ হওয়া খালপাড়ের আস্তানায় একরকম, আর বস্তিতে বাসা ভাড়া নিলে তাদের কাগতাড়ুয়া বলে এমন সাহস কার! শিল্পা নিজেও দু-চার টাকা উপার্জনের ধান্দায় আছে। জল বেচে টাকা হয়, ওই বস্তিতে উঠে এসে টের পেয়েছে।
মাঝে মাঝে ট্যাংক সকালে খালি করে দিলে কার না রাগ হয়! এত ইজ্জত তোর, কাগজ কুড়ালে ইজ্জত যায়! জল চুরি করলে ইজ্জত যায় না, না! দাঁড়া মজা দেখাচ্ছি। কারণ তারকবাবু রাতে পাহারা দিয়েও ধরতে পারছেন না । কলেরই মুখ বন্ধ করে দিতে পারেন, কিন্তু জমাদার এসে জল পাবে কোথায়, বাগানেই বা সরজু জল দেবে কী করে!
তিনি তবু সরজুকে বললেন, প্লাম্বার মিস্ত্রি ডেকে কলটা খুলে ফেল। দেখি জল চুরি যায় কী করে!
সরজু আমতা আমতা করে বলল, বাবু, খুলে ফেললে বাসনকোসন ধোওয়ার জল পাবে কোথায়, জমাদার জল পাবে কোথায়?
লাইনের জলে যেটুকু হয় হবে। তুই খুলে দে। ট্যাংকের পাইপের মুখ সিল করে দে। দেখি হারামজাদি মেয়ে দুটো জল পায় কোথায়।
হলও তাই। সরজু মিস্ত্রি এসে কলপাড়ের ট্যাংকের পাইপ সিল করে দিয়ে গেল। জল চুরির আতঙ্কে তারকবাবুর অনিহা রোগ—কলের মুখ খুলে ফেলায়, পাইপের মুখ সিল করে দেওয়ায় এখন তিনি মনে মনে ফুরফুরে জ্যোৎস্নায় বিচরণ করেন, বোঝ এবার—হলে কী হবে বিকালবেলায় হাঁটতে বের হলে বোঝেন সত্যি জলের আকাল কত—লাইন দিয়ে সারি সারি পেতলের কলসি, প্লাস্টিকের বালতি, মেটে হাঁড়ি, পলিথিনের জেরিক্যান মানুষজন, ভিড় বচসা মারামারি—চুল ধরে টানাটানি—তার উপর চারদিন হয়ে গেল ডিপটিউবেলের মোটর খারাপ হয়ে গেছে বলে লাইনেও জল নেই—মেরামতির কাজে এসে বড়ো মিস্ত্রির জবান, জল নেই, সার। লাও ইবারে ঠ্যালা বোঝো!
জল নেই। ফেরার সময় দেখেন কাজলের হাত ধরে শিল্পা এই ত্রিসন্ধ্যায় কোথায় রওনা হয়েছে। চুল উসখো খুসকো, ফ্রক ছেঁড়া কপাল ফোলা, হাতে ব্যান্ডেজ, জলের লাইনে মারামারি করে শেষে এই দুর্দশা—কেমন মায়া হল তাঁর। কী রে হাতে কী হয়েছে।
মেরেছে।
কারা?
বাবুরা।
কেন মারল?
জল চুরি করি বলে।
তোরা জল চুরি করিস।
করব না, দেখুন না বাবু কী হয় আপনাদের। তেষ্টায় আমাদের মরণ, আপনাদেরও মরণ হবে একদিন। কেউ বাদ যাবে না।
তোরা যাবি কোথায়? সাঁজ লেগে গেছে। ওলাওঠা দেবীর কাছে। শীতলা মন্দিরে যাব।
শিল্পা বলল, তিনি আমাদের ঠাকুর-দেবতা। খিদে পেলে খেতে দেয়, জল লাগলে জল দেয়, যা চাই দিয়ে দেয়। দেবীর এক কথা, এত তার খাবে কে! সে একলা খেলে চলবে কেন—সবাইকে দিয়ে থুয়ে, মানুষজন বাঁচিয়ে না রাখলে দেবী যে একা হয়ে যাবে! আমরা দেবীকে পাখি প্রজাপতি ধরে দি! দেবী এতেই খুশি।
কোথাকার কোন দেবী, তার কথায় তারকবাবুর কেমন হুঁশ ফিরে এল। সবাইকে বাঁচিয়ে না রাখলে, মানুষ নিজেও তো বাঁচে না। সবাইকে দিতে না পারলেও এ দুটো মেয়ের জলের তেষ্টা তিনি সহজেই নিবারণ করতে পারেন—
তিনি ডাকলেন, এই শোন।
কে শোনে কার কথা! দৌড় দৌড়। মেয়ে দুটো মুহূর্তে খালপাড়ের জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে গেল।
আজও ফিরতে তারকবাবুর রাত হয়েছে। কেন যে মনে হল শীতলামন্দির ঘুরে যাবেন। অনেকদিন যাওয়া হয়নি। শত হলেও ওলাওঠার দেবী, দেবদেবীকে মান্য করতে হয়। আর মেয়ে দুটো যদি সেখানে যায়—জীবনের নানা কুহকে ক্ষত-বিক্ষত হতে হতে হাঁটছেন, মেয়ে দুটোর কীই বা দোষ। কারা শিল্পার হাত ভেঙে দিয়েছে, ওরা নিমেষে পালালই বা কোথায়! খালের দুন্ঠধাকে বনজঙ্গলে, তাকে দেখলে শিল্পা কাজল আরও গভীর জঙ্গলে ঢুকে যেতে পারে—যদি মনে করে তিনি তাদেরই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। জলচোর তারা। ধরে নিয়ে যদি বেঁধে রাখেন, কিংবা ঠ্যাং ভেঙে দেন।
আর তখনই দেখলেন, বনজঙ্গলের অভ্যন্তরে একটি জরাজীর্ণ টিনের চালার সামনে কাজল হাঁটু গেড়ে বসে। মন্দিরটি ধসে পড়েছে। দেবদেবীর প্রতি মানুষের যথেষ্ট অবহেলা—খালের মাটি তোলা হচ্ছে, মাটির অভ্যন্তর থেকে দেবীর মুখ যেন গজিয়ে উঠছে—খাল সংস্কার হলে এমনই যেন হবার কথা।
মাটির ঢিবিতে দাঁড়িয়ে কাজলকে বলছে শিল্পা—
বলো, মা আমাদের কী দোষ! আমার দিদির হাত ভেঙে দিয়েছে। ওদের তুমি শাস্তি দাও মা।
কাজল দিদির হয়ে নালিশ জানাবার সময় বলল, মা আমরা আর জন্মে যেন কাগজকুড়ানির মেয়ে হয়ে না জন্মাই। মা আমরা যেন আর জন্মে দুধেভাতে থাকি। আমাদের মা-বাবাকে দ্যাখো। মা বৃষ্টি দাও। গাছপালা মানুষজন সব পুড়ে যাচ্ছে মা। গাছপালা সব জলে ভিজিয়ে দাও। জল না থাকলে যে প্রাণ বাঁচে না মা। পাখি প্রজাপতিরা জল না পেলে মরে যাবে মা।
বল কাজল, তোর দিদির যেন সুন্দর একটা বর হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে যেন সুখে ডালভাত খেতে পায়।
শিল্পা যা যা বর চাইল, কাজল তার হয়ে সব বর মেপে নিল দেবীর কাছে।
তারকবাবু অবাক। শিল্পা নিজে কিছু চাইছে না—কাজলকে দিয়ে বলাচ্ছে। তিনি প্রায় যমদূতের মতো কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কী রে শিল্পা কাজলকে দিয়ে দেবীর কাছে বলাচ্ছিস, তুই নিজে বলতে পারছিস না।
শিল্পা কেঁদে ফেলল, আমিও ভালো না বাবু, আমি লুভি, পেটুকে, খালপাড়ের বাবু আছে না, গৌরাঙ্গদা, সে বাদাম ছোলা খাইয়ে শরীরে আমার কি খুঁজে বেড়াত—আমি বাবু আরাম পেতাম। দেবী কেন আমাকে বর দেবেন—আমি অশুচি না! আমি বর চাইলে দেবী রাগ করবে। ঠাকুর-দেবতা ছাড়া আমাদের যে কেউ নেই বাবু।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1348)
- ► 2025 (3281)
- ▼ 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
জোহরান মামদানি
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment