Friday, April 3, 2026
তরুণদের নাখোশ করে ‘বুড়োদের যুদ্ধ’ চালাচ্ছেন ট্রাম্প by স্টিফেন ওয়েরদাম
তরুণদের নাখোশ করে ‘বুড়োদের যুদ্ধ’ চালাচ্ছেন ট্রাম্প by স্টিফেন ওয়েরদাম
আয়াতুল্লাহ
আলী খামেনিকে হত্যা করা, চাপ দিয়ে সরকার ফেলে দেওয়া—এসব তো ৯/১১–পরবর্তী
সময়ের নব্যরক্ষণশীলদের পুরোনো চিন্তা। তখনকার নেতারা এসব নিয়ে ভাবতেন।
এখনকার কলেজপড়ুয়া তরুণদের জন্মই তখন হয়নি। এরপর যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্ট
এসেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই বলেছিলেন—মধ্যপ্রাচ্যে সরকার বদলে দেওয়ার যুদ্ধ
আর করা হবে না। সবচেয়ে জোর গলায় এ কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই পুরোনো পথেই আবার হাঁটা শুরু হয়েছে।
‘ইউএসএ’
লেখা ক্যাপ পরে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প এক রাতে ভিডিও বার্তায় ইরানে হামলার
ঘোষণা দিলেন, তখন তাঁর কথাবার্তায়ও যেন পুরোনো দিনের ছাপই বেশি ছিল। ইরান
এখনই বড় কোনো বিপদ তৈরি করেছে—এমন কিছু তিনি বোঝানোর চেষ্টাই করেননি; বরং
১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গঠনের পর থেকে ইরান কী কী করেছে—সেই পুরোনো
ঘটনাগুলোই একে একে তিনি বলে গেছেন। যেমন ‘ডেথ টু আমেরিকা’ স্লোগান, মার্কিন
দূতাবাস দখল—এসব বহু আগের কথা তিনি বলে গেছেন।
এসব বলতে বলতে
ট্রাম্প আসলে বুঝিয়ে দিলেন, এই যুদ্ধ আজকের পরিস্থিতির জন্য নয়, ভবিষ্যতের
জন্যও নয়—এটা যেন পুরোনো হিসাব চুকানোর চেষ্টা। এমনকি তিনি নিজেই এই
যুদ্ধকে হালকাভাবে ‘ছোট্ট অভিযান’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
এই যুদ্ধের
বেমানান চরিত্র শুধু নেতাদের বয়সে নয়, আমেরিকার সমাজেও স্পষ্ট। ৬০ বছরের
বেশি বয়সীদের মধ্যে এই যুদ্ধের সমর্থন তুলনামূলক বেশি। বয়স যত কমছে,
যুদ্ধের সমর্থনও তত কমছে। ৩০ বছরের নিচের তরুণদের মধ্যে মাত্র পাঁচজনের
একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করে। এ কারণেই একে অনেকেই ‘বুমার যুদ্ধ’ (১৯৪৬ থেকে
১৯৬৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে ‘বুমার’ বলে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই
প্রজন্মের বয়স হবে প্রায় ৬২–৮০ বছর) বলছেন।
অদ্ভুতভাবে এই
যুদ্ধবিরোধী মনোভাবই হয়তো যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে। মিলেনিয়াল
ও জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতি দ্রুত কমে যাওয়ায়
ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হয়তো ভেবেছেন—এখনই শেষ সুযোগ। এখনই যদি
ইরানের সরকারকে সরানো না যায়, ভবিষ্যতে আর পারা যাবে না।
এই যুদ্ধকে
একদিকে যেমন পুরোনো সময়ের ‘শেষ চিৎকার’ মনে হয়, তেমনি এতে একধরনের
আশা-নিরাশার মিশ্র অনুভূতি আছে। হতাশা এ কারণে যে এত শিক্ষা নেওয়ার পরও এমন
হামলা হওয়া উচিত ছিল না। আর আশার কারণ—হয়তো ভবিষ্যতে এমন যুদ্ধ আর দেখা
যাবে না। এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ১৯৫৬ সালের সুয়েজ
সংকটের মতো হয়ে উঠতে পারে, যেমনটি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের জন্য হয়েছিল। ওই সময়
সুয়েজ সংকটের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রভাব বিস্তারের
দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
সুয়েজ সংকটের সময় সে সময়কার মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ ব্রিটেন ও
ফ্রান্সের ওপর চাপ দিয়ে যুদ্ধ থামিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের বিশ্বে অবশ্য এমন
কোনো শক্তি নেই, যে আইজেনহাওয়ারের মতো চাপ দিয়ে আমেরিকাকে যুদ্ধ থামাতে
বাধ্য করতে পারবে।
তবে এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা
সামরিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কৌশলগতভাবে কতটা শৃঙ্খলাহীন হয়ে উঠেছে। মাত্র
কয়েক সপ্তাহেই তারা বিপুল পরিমাণ উন্নত অস্ত্র এমন এক অঞ্চলে ব্যবহার
করেছে, যেটিকে মাত্র চার মাস আগেও নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তাকৌশলে কম
গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিপত্রেই লেখা
ছিল—মধ্যপ্রাচ্য আর আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্র নয়; যেখানে
স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন আসে, সেখানেই উৎসাহ দিতে হবে, বাইরে থেকে কোনো কিছু
চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেই নীতির সম্পূর্ণ উল্টো পথে
হাঁটা হচ্ছে।
এর মধ্যেই নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—ট্রাম্প হয়তো ইরানে
স্থলবাহিনী পাঠাতে পারেন। লক্ষ্য হতে পারে ইস্পাহানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের
মজুত দখল করা অথবা সেই খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, যেখান দিয়ে ইরানের
বেশির ভাগ তেল রপ্তানি হয়। এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে মার্কিন সেনাদের
প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়বে, আর পুরো অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কাও
তীব্র হবে।
এই যুদ্ধ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আরও গভীরভাবে
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। যুদ্ধবিরতি হলেও তা হবে নড়বড়ে। এদিকে
উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলো (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার) খুব দ্রুত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইতে পারে।
ইরানের
বর্তমান হামলা যেমন আরব দেশগুলোকে আতঙ্কিত করছে, তেমনি তারা আশঙ্কা
করছে—একটি প্রতিশোধপরায়ণ ও আরও কট্টরপন্থী ইরান ভবিষ্যতে কী করতে পারে। ফলে
তারা চাইবে, আবার হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র যেন সরাসরি তাদের হয়ে যুদ্ধে
নামে। তখন আমেরিকান জনগণকে বোঝানো হবে—শক্তি প্রদর্শনই শান্তির একমাত্র পথ।
কিন্তু
বাস্তবতা হলো যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে
জড়িয়ে পড়ে, তাহলে আজকের এই পুরোনো ধাঁচের যুদ্ধই ভবিষ্যতের নিয়ম হয়ে উঠতে
পারে।
* স্টিফেন ওয়েরদাম, কার্নেগি এন্ডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের আমেরিকান স্টেটক্রাফট প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভ। রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1308)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment