ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটরের সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটরদের সঙ্গে গতকাল বুধবার রুদ্ধদ্বার এক বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বৈঠকের কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে কয়েক হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দ চায়।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর বলেন, বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডির তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

ক্যাসিডি বলেছেন, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন, তা নিয়ে তাঁর প্রশাসনের আরও ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

প্রাথমিক ওই চুক্তিতে ইরানকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হলেও যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন, সেগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।

ক্যাসিডি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘আমাদের যা বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের তার চেয়ে বেশি জানা প্রয়োজন। যদিও আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে মনে হচ্ছে, বিষয়টি আমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবে এগোচ্ছে না।’

অবশ্য পরে সিনেটের রিপাবলিকান নেতারা ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান চেয়ে আনা একটি প্রস্তাব ঠেকাতে গভীর রাতে ভোটাভুটির সময়সূচি নির্ধারণ করেন। খুব সম্ভবত প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টার অংশ হিসেবে তাঁরা সেটা করেছেন।

সে রাতে সিনেটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতার রাশ টেনে ধরতে পাস করা একটি প্রস্তাব ঠেকাতে ভোটাভুটি হয়। ৫০-৪৭ ভোটে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবটি পাস করা হয়।

বুধবার গভীর রাতে সিনেটে হওয়া ওই ভোটাভুটির পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এই ভোটের মাধ্যমে ইরানকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।’

যদিও এ ভোটের প্রভাব আগের ভোটের ওপর পড়বে না।

রিপাবলিকান শিবিরে চাপ বাড়ছে

চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁরই দলের এক সদস্যের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখিয়ে দিচ্ছে, এ যুদ্ধ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর দলের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করছে।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর বর্তমানে ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্স/ ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন, ইরান যুদ্ধ যথার্থ ছিল।

এ মাসে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া একটি প্রস্তাবের ওপর পৃথক ভোটে সিনেট ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। ওই ভোটের এক দিন পর বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটল। বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যে চারজন রিপাবলিকান সিনেটর ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একজন ক্যাসিডি।

ট্রাম্প সিনেটর ক্যাসিডির সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এ বছর ট্রাম্প–সমর্থিত একজন প্রার্থীর কাছে রিপাবলিকান পার্টির প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে হেরে গেছেন ক্যাসিডি।

তবে ক্যাসিডির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা নিয়ে কিছু না বললেও ট্রাম্প সিনেটের সমালোচনা করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইরান এটা দেখে ভাববে, “এসব কী হচ্ছে?”। এখন আপনারাই বলুন, এর তো কোনো অর্থই নেই, তাই না?’

সাংবাদিকদের এ কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে ৭ হাজার কোটি ডলার চেয়েছে। এই অর্থ যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট বেড়ে ৮৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকবে।

বুধবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ভোটে ক্যাসিডি ‘না’ ভোট দেন। তিনি ইরান যুদ্ধক্ষমতা–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোয় পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। অন্যদিকে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল, যিনি আগে ওই প্রস্তাবগুলোয় পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তিনি ‘উপস্থিত’ ভোট দেন।

আরও দুই রিপাবলিকান মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্স ও আলাস্কার সিনেটর লিসা মুরকাওস্কি এবং ডেমোক্র্যাটদের একজন বাদে বাকি সবাই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট, যিনি বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককোনেল এবং কলোরাডোর সিনেটর মাইকেল বেনেট ভোট দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠের নেতা জন থুন ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ক্যাপিটলে সিনেট রিপাবলিকান স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ২৪ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠের নেতা জন থুন ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ক্যাপিটলে সিনেট রিপাবলিকান স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ২৪ জুন, ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

No comments

Powered by Blogger.