অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। কঠোর নিরাপত্তায় তাকে আদালতে হাজির করা হয় বৃহস্পতিবার। এ সময় পথে পথে, আদালতের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক তার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক শাসন জারি করার মধ্য দিয়ে তিনি বিদ্রোহ করেছিলেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে এই মামলার রায় দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয় প্রসিকিউটররা ইয়োলের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক শাসন জারি করার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে তিনিই মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় না, তাই এমন রায় হলে তা কার্যত আজীবন কারাদণ্ডে পরিণত হবে বলে রিপোর্টে বলা হয়। ইয়ুন সুক ইয়োলের জারি করা সামরিক শাসনের আদেশ মাত্র ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। সরকার কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী নির্বাচনে তার দল পরাজিত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটি গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ইয়ুন ইতিমধ্যেই ব্যর্থ সামরিক আইন জারির আরেক মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আজকের রায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিউলের একটি আদালত আজ স্থানীয় সময় বিকেলে ৩টায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিদ্রোহ মামলার দেয়া শুরু হবে। শেষে রায় ঘোষণা করবে। এই রায় দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ অবস্থায় সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বাইরে ডজনখানেক পুলিশ বাস দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি মূলত শান্ত থাকলেও ইয়ুন-সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ছোটখাটো ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গেছে। ইয়ুন সমর্থকরা আদালতকে আজ ‘অভিযোগ খারিজ’ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বিদ্রোহের নেতা ইয়ুনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবি তুলেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ফৌজদারি আইনে বিদ্রোহ বলতে বোঝায়, সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় অঙ্গকে উৎখাত করা বা তাদের কার্যক্রম বলপ্রয়োগে অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত দাঙ্গা বা সহিংস কর্মকাণ্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত ফৌজদারি মামলায় দায়মুক্ত থাকেন। তবে বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য নয়।

এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত

সিউল সংবাদদাতা জেক কোয়নের মতে, আজকের রায় দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এক বিশাল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ইয়ুন ইতিমধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামরিক আইন জারির অপচেষ্টার দায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তবে বিদ্রোহের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর। প্রসিকিউটরদের মতে, কঠোর শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে কেউ সামরিক শাসন জারির মতো পদক্ষেপ নেয়ার সাহস পেতে পারে। ইয়ুনকে সেই একই আদালতকক্ষে রায় শোনানো হবে, যেখানে প্রায় ৩০ বছর আগে সাবেক সামরিক শাসক চুন ডু-হওয়ান’কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে তাকে দুই বছর কারাভোগের পর ক্ষমা করা হয়।

বিভক্ত দেশ

ইয়ুনের সামরিক আইন জারি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। কিন্তু তা দেশকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে। নেতৃত্বের শূন্যতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ এখনো কাটেনি। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ২০-৩০ ভাগ ভোটার মনে করেন ইয়ুন বিদ্রোহে দোষী নন। ফলে রায় যা-ই হোক না কেন, দেশকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

No comments

Powered by Blogger.