সুবীর ভৌমিকের বাগাড়ম্বর এবং কিসিঞ্জার ডকট্রিন by মিনা ফারাহ

প্রসঙ্গ সন্ত্রাস। কাবুল আর বাংলাদেশকে একপাল্লায় তুলে দেয়াটা বিনা কারণে নয়। এর পেছনে বিরাট ষড়যন্ত্র। সন্ত্রাস দু’রকম : অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ। ‘৯/১১’-এ আমেরিকা ছিল অফেন্সিভ। পরে অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ দুটোই। ইরাক ও আফগানিস্তানও প্রথমে ডিফেন্সিভ হলেও এখন তারা দুটোই। সন্ত্রাস নিয়ে প্রণব এবং আওয়ামী লীগের হিসাব এক। একমাত্র অবোধরাই পেন্টাগন ও কাবুলের পাল্লায় তুলবে বাংলাদেশকে। অন্যের অধিকার হরণই প্রকৃত সন্ত্রাস। নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কিত মানুষ। অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ দুই ধরনের হাঙ্গামাকারীদের আশঙ্কা বাদ দেয়া যাবে না।
এ কারণে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট এখনো ব্যাপক। যা ঘটতে পারে, সোস্যাল মিডিয়ায় কিছুটা টের পাওয়া যায়। এ ভয়েই ওবায়দুল কাদেরদের মুখে বারবার আরেকটা মহাবিপদের আশঙ্কা। এবার প্রণবের প্রশ্নের উত্তর দিতে মহানায়কদের হত্যার কারণ খুঁজব। বহু বছর ধরে রাজনীতিতে যে নিম্নচাপ বজায় রেখেছে তাদের ডকট্রিন, আবহাওয়া বিজ্ঞান অনুযায়ী শূন্যতা দখলে ঝড় তখনই ওঠে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানবাধিকার নেতা ড. লুথার কিং ১৯৬৪ সালে এভাবেই অফেন্সিভ এবং ডিফেন্সিভ হাঙ্গামার ব্যাখ্যা করেছিলেন, ‘ভায়োলেন্স ইন দ্য ল্যাংগুয়েজ অব দ্য আনহার্ড।’ অর্থাৎ যাদের কথা শোনার কেউ নেই, হাঙ্গামা করে সেটাই জানাতে চায় সেই নির্যাতিতরা। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী নোয়াম চমস্কি ইহুদি হয়েও ইসরাইলকেই বড় সন্ত্রাসী মনে করেন। একইভাবে- ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে যে ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল বহিঃশক্তি, প্রকৃত সন্ত্রাসের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ব্রিটিশ-ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা বোমা ফাটিয়ে মানুষ মারতেন, অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করতেন, রেললাইন তুলে ফেলে দুর্ঘটনা ঘটাতেন- সেই সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম ও প্রীতিলতাদের স্মৃতিতে অর্ঘ্য নিবেদন করেছেন প্রণব। কিন্তু সূর্যসেনের ভিটা পরিদর্শনের পর সন্ত্রাস নিয়ে বক্তব্য দেয়ার নৈতিক অধিকার কি হারিয়ে ফেলেননি? বাংলা একাডেমিতে যা বলতে চেয়েছেন, যা বলেননি এবং বলেছেন- সবটাই উদ্দেশ্যমূলক। মুজিব হত্যার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগের এবং দলছুট অসংখ্য অ্যাক্টিভিস্ট। মোশতাক কিন্তু বিএনপির মন্ত্রী ছিলেন না (বিএনপির তখনো জন্মই হয়নি)। ক্ষমতালোভী ভুট্টোকে হত্যা করেছিলেন আরেক ক্ষমতালোভী জিয়াউল হক। পরবর্তী সময়ে তাকে বহনকারী বিমানটিকেও ভূপাতিত করে তাকে হত্যা করল ক্ষমতালোভীরা।
ইন্দিরাকে হত্যা করেছিল তারই বিশ্বস্তরা। এরা রাজীব ও সঞ্জয় গান্ধীর খেলার সাথী দুই শিখ দেহরক্ষী। স্বাধীন খালিস্তানের আন্দোলনে ১ জুন ১৯৮৪ সালে স্বর্ণমন্দিরে লুকিয়ে থাকা শিখদের ওপর ‘অপারেশন ব্লুস্টার’ নামের গণহত্যাই ইন্দিরার মৃত্যুর কারণ। ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪ ইন্দিরা হত্যা, রাজিব গান্ধীকে হত্যার কারণÑ তামিলরা ভাবত, ভারত চায় না শ্রীলঙ্কার তামিলরা স্বাধীন হোক। এত নি¤œচাপ কখনোই চিরস্থায়ী হয় না। দীর্ঘ দিন যারা ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করতে পারছে না, ১/১১ এবং ৫ জানুয়ারির স্টিমরোলারে নিষ্পেষিত, তারা অসম্ভব ধরনের রাজনৈতিক নি¤œচাপে ভুগছে। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের চোখ। কোথায় গিয়ে ভূপাতিত হবে, কেউ জানে না। যখন হবে, লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে। এ অঞ্চলকে অশান্ত রাখলে ভারতই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকাও অশান্ত। একমাত্র নির্বাচিত সরকারই সবার জন্য মঙ্গলজনক। উদাহরণস্বরূপ, ’৬৯ সালের আন্দোলন নিয়ে সুবীর বাবুরা যাই লিখুন, আমাদের চোখে সেটা ভোট দিয়ে স্বায়ত্তশাসন কায়েমের আন্দোলন। ভোট হয়েছিল কিন্তু স্বায়ত্তশাসন আসেনি, যা ৭ মার্চের ভাষণে পরিষ্কার। নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা মুজিবেরই। ক্ষমতা দেয়নি বলেই সেটা ভুট্টোর জন্য কাল হলো। ফাঁসির আগ পর্যন্ত দেশ বিভাগের দুঃখ ভুলতে পারেননি। ’৬৯ সালের পপুলার আপরাইজের সুযোগই নিয়েছিলেন ইন্দিরা। ’৭১ সালে অন্যতম নিয়ামক ইন্দিরার সাথে ছিলেন প্রণব। সমাধান একটাই, ২০১৮-এর নির্বাচন চুরি করে বাংলাদেশকে আবারো হাঙ্গামার দিকে ঠেলে না দেয়া। প্রধান দায়িত্ব পাশের দেশ ভারতের। অধিকার হরণ করা হলেই হাঙ্গামাকারীরা সরব হয়।বাংলাদেশের ১ নম্বর সমস্যা, বিশাল জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ বেকার যুবসম্প্রদায়। বেশির ভাগই হতাশাগ্রস্ত হওয়ায় বিভ্রান্ত ও বিপথগামী। প্রায় এক কোটি প্রবাসী শ্রমিক মানবেতর জীবনের মুখোমুখি। হাজার হাজার মা-বোন প্রবাসে যৌনদাসী হওয়ার খবর। বাধ্য হয়ে নিকৃষ্ট পেশায় লাখ লাখ। সুযোগ পেলে তাদের অনেকেই চমক দেখাতে পারত। রাজধানীতেই প্রায় ৪৮ শতাংশ বস্তি ও কয়েক লাখ রিকশা; কয়েক লাখ শিশুশ্রমিক এবং মজুরদের দুঃসহ জীবন। প্রতি বছরই বেকারদের সারিতে যোগ হচ্ছে আরো ২৫ থেকে ৩০ লাখ যুবক। ঝরে পড়া মানুষ ঝুঁকে পড়ছে ইয়াবা-ফেনসিডিল-চোরাচালান-অস্ত্র-দেহব্যবসার দিকে। কথায় বলে, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর।’ বেকার জনগোষ্ঠী ও মানবেতর জীবনের মুখোমুখি হওয়া মানুষই বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার প্রধান কারণ। একটি মাত্র দলের পেছনে সব ক্যাপিটাল ধ্বংস না ক রে দিল্লির উচিত এসব বিষয়ে মনোযোগ দেয়া। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল সোনারগাঁ পর্যন্ত কয়েক মাইল রাস্তার ইউরোপীয় সাজসজ্জা দেখে ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে বিচার করা সবার জন্যই ভুল। এবার মোদিকে নিয়ে কিছু কথা। তার উগ্র জাতীয়তাবাদী পার্টির মতো এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীও একাধিকবার জাতীয়তাবাদী শক্তিকেই ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল। সব ন্যাশনালিস্ট পার্টির মধ্যেই ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের রঙ থাকে।
বিজেপি রিপাবলিকান পার্টি ও বিএনপি... এক দিক দিয়ে এক। বিশ্বজুড়ে এখন পপুলিস্ট মুভমেন্টের জয়জয়কার। যে কারণে কংগ্রেস ও ডেমোক্র্যাট ডাইনেস্টির পতন। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপজুড়েই পপুলিস্টদের পদধ্বনি। ট্রাম্পকে পছন্দ না করলেও তার উত্থানের মূলে কিন্তু করাপ্ট হিলারির বিরুদ্ধে ন্যাশনালিস্টদের আপরাইজ। মোদির উত্থানের মূলেও করাপ্ট কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ন্যাশনালিস্টদের আপরাইজ। সোনিয়ার ‘হাজার হাজার কোটি রুপি জালিয়াতি’র প্রমাণ বিজেপির হাতে আছে বলে দাবি। বিজেপি, রিপাবলিকান পার্টি, বিএনপি, কনজারভেটিভ পার্টি... সবই ন্যাশনালিস্ট। ন্যাশনালিস্টদের উদ্দেশ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট। অন্য দিকে, ডেমোক্র্যাট পার্টি, আওয়ামী লীগ, কংগ্রেস... চরম ‘লিবারেল’। কিন্তু অতিরিক্ত লিবারেলিজম একটি মানসিক রোগ। এই রোগের কোনো ওষুধ নেই। একবার যাকে ধরে, পাগল বানিয়ে ছাড়ে। এ দৃশ্যই ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে। ‘লিবারেল’দের উদ্দেশ্য হলো, যত্রতত্র ভোট খুঁজতে গিয়ে জাতীয় স্বার্থ সব বিসর্জন। হিলারি, রাহুলদের পরাজয়ের কারণও এটা। দলের আত্মমর্যাদাবোধ না থাকলে জাতীয় স্বার্থ- সংবিধানসহ সব কিছু বিসর্জন দিয়ে দেয়। এরশাদের মতো বর্জ্যরে সাথে নির্বাচন করে কখনো ক্ষমতায়, কখনো বিরোধী দলে। কখনো হুজুরের পরামর্শে পাঠ্যপুস্তকের ওপর কাঁচি, কখনো সংবিধানের বুকে ছুরি চালিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার বয়ান। পূর্ব থেকে পশ্চিম, লিবারেলরা সংখ্যালঘুদেরকে রাজনৈতিক ফুটবল বানিয়ে ভোটের জন্য চাপে রাখে। সংখ্যালঘু পরিবারে জন্ম নেয়ায় নিজের ক্ষোভের কথাও বলতে হয়। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি, ’৭১ সালের আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের অবস্থা একই। কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও ’৭১ সালের আগে ও পরে সমপরিমাণ সংখ্যালঘু দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছে কিংবা অনিরাপত্তার কারণে দেশ ছেড়েছে। সংখ্যালঘু ইস্যুতে দিল্লি কখনো ফলপ্রসূ পলিসি গ্রহণ করেনি। মন্দির পোড়ানোর পরই ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া ও হুঁশিয়ারি দেয়া সমাধান নয়। যদিও ’৬৯ থেকে একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ, দিল্লির পররাষ্ট্রনীতিতে অসম্ভব প্রভাবশালী, তারপরও ৪৭ বছর ধরেই ‘বাঙালি বাবুর’ চোখের সামনে দিয়ে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা শুধু কমছেই। বাংলাদেশে বারবার এলেও ‘ভাপা ইলিশের রাজনীতি’র বাইরে তিনি কখনোই যাননি। ৩৭ যখন ২৭-এ নামল, তখনো তিনি কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা। ২৭ যখন ১৭ হলো, তখন তিনি আরো বেশি ক্ষমতাশালী। ১৭ যখন ৭-এর পথে, তখন তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েও কিছুই করেননি। উল্টো দিল্লির সব ক্যাপিটাল ব্যয় করেছেন শুধু একটি পরিবারের পেছনে। এটাই হলো কাল।
আমরা একদলীয় শাসনের জন্য স্বাধীন হইনি। ’৭১ সালের পরে তিনি কিছুটা ক্যাপিটাল ব্যয় করতে পারতেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কাজে। পলিসিতেও পরিবর্তন আনতে পারতেন, কিন্তু ভাপা ইলিশের রাজনীতির কবলে পড়ে আরো বেশি অরক্ষিত সংখ্যালঘুরা। এখন মোদির সরকারের উচিত, দ্রুত তাদের পরামর্শ বর্জন। কারণ কিসিঞ্জারের মতো তিনিও ‘কুবুদ্ধির ঢেঁকি’। দু’জনেরই লেগেসি পলিটিক্যাল সাম্যাকার। মোদি সরকারের উচিত, ন্যাশনালিস্ট পার্টির প্রতি আস্থা রেখে দূরত্ব কমিয়ে আনা। এ ডকট্রিন গ্রহণ করলে দুই দেশের শান্তি কেউ রুখতে পারবে না। অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে। ফিসফিস ও দায়মুক্তি চুক্তিরও অবসান হবে। কানাডা-আমেরিকার মতো শান্তিতে থাকবে। ফেলানীদের বুকে গুলির বদলে হাতে ফুল দেবে বিএসএফ। তাদের গেরুয়া রাজনীতি বাংলাদেশকে বোঝাতে পারেননি বলেই প্রণবের ওপর নির্ভরতা। কংগ্রেসের পতন মানেই বাঙালি লিবারেলিজমের পতন। সুবীরের লেখায় অশনিসঙ্কেত। দুই দেশের সম্পর্ক সুবিধাজনক রাখতে প্রণবের মতো কাউকে খুঁজে বের করার পরামর্শ। কিন্তু প্রণব মৃত্যুঞ্জয়ী নন। সর্বশেষ প্রণবের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগেরও গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা। গর্ভবতীর শরীরে হরমোন কমে গেলে গর্ভপাত হয়। অতীতেও হয়েছিল। এবারো একই সুযোগ নেবে হাঙ্গামাকারীরা। প্রণববিহীন ভুবনে অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে মুভমেন্ট শুরু হলে বিপদে পড়বে দিল্লি। কারণ, বাংলাদেশের সাথে সবচেয়ে বড় সীমান্ত তাদের। একপেশেভাবে যে অপরাজনীতি করছেন, ভাপা ইলিশের রাজনীতির জন্য হয়তো জড়াবেন না অন্য কেউ। জনপ্রিয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। জনসমর্থন পপুলার আপরাইজের মূলে। বরাবরই এ দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক বেশি। জিয়ার উত্থান কিংবা মৃত্যুর পর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি এর প্রমাণ। আওয়ামী সভায় ৮০ শতাংশ ভাড়া করা বস্তির লোক। জাতীয়তাবাদীদের সভায় ৮০ শতাংশ দলের লোক। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ১০ বছর পর প্রণব হবেন ৯৩, হাসিনা ৮১। ২০৪১-এর টার্গেট এখনো ২৩ বছর বাকি। আমেরিকার মতো ভারতে টার্ম লিমিট নেই। তাই মনে হয়, পরের কয়েক টার্ম ক্ষমতা বিজেপির। রাহুলকে দিয়ে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেই। এ কথাটি দিল্লিকে অগ্রিম ভাবতে হবে। কারণ, কংগ্রেসের মেরুদণ্ড বিজেপিই গুঁড়ো করেছে। বাংলাদেশকে বোঝে না বলেই বাঙালিকে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছে। ন্যাশনালিস্টদের সাথে ন্যাশনালিস্টদের সম্পর্ক এই অঞ্চলকে আবারো শান্তিপূর্ণ ও ঐশ্বর্যমণ্ডিত করতে পারে।
ই-মেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com