৭২ বছর পর প্রেরকের ঠিকানায় পৌঁছাল চিঠি
১৯৫৩ সালে অ্যালান বল নামের এক তরুণ নিউইয়র্ক থেকে তাঁর মা-বাবা এলিজাবেথ ও ফ্রেডরিক বলকে একটি পোস্টকার্ড পাঠিয়েছিলেন। তাতে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের ছবি ছিল।
অ্যালান বল ছুটি কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপাঞ্চল পুয়ের্তো রিকোয় যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে কিছুদিন সময় কাটান। নিউইয়র্কের স্মৃতি নিয়েই ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে থাকা মা-বাবার কাছে পোস্টকার্ডটি পাঠিয়েছিলেন অ্যালান। কিন্তু চিঠিটি গন্তব্যে পৌঁছায়নি। হারিয়ে যায় ডাক বিভাগের অজানা কোনো অফিসে।
এরই মধ্যে কেটে যায় সাত দশকের বেশি সময়। ৭২ বছর পর সেই পোস্টকার্ড হঠাৎ করে ইলিনয়ের অটোয়া ডাক অফিসের কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পোস্টমাস্টার মার্ক থম্পসন এত পুরোনো পোস্টকার্ড দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান।
মার্ক থম্পসনের ধারণা, চিঠিটি জাতিসংঘ ভবনের ভেতরের ডাকঘরের কোথাও কোনো কারণে বা ভুলবশত আটকা পড়ে ছিল। এভাবে সবার অগোচরে এত বছর পড়ে ছিল।
পোস্টকার্ডটি হাতে আসার পর থম্পসন নড়েচড়ে বসেন। পণ করেন, যেভাবেই হোক চিঠির প্রাপককে খুঁজে বের করতে হবে। এ কাজের জন্য তিনি স্থানীয় বংশতত্ত্ব গবেষকদের সহায়তা নেন। ৮৮ বছর বয়সী অ্যালান বলকে খুঁজে বের করেন। ৭২ বছর আগে তিনিই এই চিঠি নিউইয়র্ক থেকে তাঁর মা-বাবার ঠিকানায় পাঠিয়েছিলেন।
অ্যালান বল বর্তমানে আইডাহো অঙ্গরাজ্যের স্যান্ডপয়েন্ট শহরে বসবাস করছেন। পোস্টকার্ডটি হাতে আসার পর ডিজিটাল ছবিতে নিজের হাতের লেখা দেখে অ্যালানের পুরোনো নিউইয়র্ক সফরের কথা মনে পড়ে যায়। তবে পোস্টকার্ড পাঠানোর ঘটনাটি তাঁর স্পষ্ট মনে নেই।
অ্যালান বলের পোস্টকার্ডের এই দীর্ঘ যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের ইতিহাসে নতুন। কিন্তু এটিই সবচেয়ে দেরিতে পৌঁছানো পোস্টকার্ড বা চিঠি নয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলসের সোয়ানসি শহরে ১২১ বছর আগের একটি পোস্টকার্ড পাওয়া গেছে।
হারানো চিঠি বা পোস্টকার্ড এভাবে ফিরে আসা শুধু বিস্ময়ের নয়, বরং সময়ের স্রোত পেরিয়ে মানবিক যোগাযোগের টিকে থাকারও এক মায়াময় সাক্ষ্য।
No comments