ছিনতাই থামানো যাচ্ছে না কেন? by সফিউল্লাহ আনসারী

ঢাকাসহ সারা দেশে একের পর এক ঘটছে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এসব ঘটনায় সর্বস্ব খোয়ানোর পাশাপাশি হতাহতও হচ্ছেন অনেকে। মানুষের কষ্টে উপার্জন করা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। পুলিশ সদস্যরাও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বস্তুত রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রাস্তায় চলাচলকারী লোকজনের মনে সারাক্ষণ ছিনতাই আতঙ্ক লেগেই থাকে। পুলিশের ভাষ্য মতে, ছিনতাইকারীরা বেশিরভাগ সময় ফাঁকা রাস্তাকেই বেছে নেয়। যেসব রাস্তায় যানজট হয় সেগুলো তারা এড়িয়ে চলে। তারা প্রায়ই ভোরবেলায় রেল ও বাস স্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রী ও অফিসগামীদের অনুসরণ করে ছিনতাই করে থাকে। এছাড়াও তারা অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল নিয়ে সাধারণের মতো ঘুরে বেড়ায়। তাদের কাউকে যখন তল্লাশি করা হয় তখন তাদের কাছ থেকে কিছুই পাওয়া যায় না। ছিনতাইকারীদের মূল টার্গেটে থাকে পথচারী নারী ও ব্যবসায়ীরা। রিকশাযাত্রী কোনো নারীকে পেলেই তারা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা থেকে টান দিয়ে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালায়। ছিনতাইকারীদের কিছু গ্রুপ টার্গেটভিত্তিক কাজ করে। তাদের মূল টার্গেট হল ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তি এবং বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংক কর্মীরা। এছাড়া বিদেশ ফেরত যাত্রীরাও রয়েছে তাদের টার্গেটে। পুলিশ এদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানলেও ছিনতাইয়ের ঘটনা থামানো যাচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। এর একটি কারণ ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা হলে তারা জামিনে বেরিয়ে এসেই আবার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
ছিনতাইকারী চক্রের নতুন সদস্যরা কোনো ঘটনা ঘটানোর পর গা ঢাকা দিয়ে এলাকা পরিবর্তন করে থাকে। বেশিরভাগ ছিনতাইকারীই নেশাগ্রস্ত। নেশার টাকা জোগাতে তারা এ পথ বেছে নেয়। সচেতন মহলের ধারণা, মাদকের চালান আটকাতে না পারলে মাদকাসক্তদের ছিনতাই থেকে ফেরানো অসম্ভব। কারণ যখই মাদকাসক্তরা নেশাদ্রব্য গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করে তখনই তাদের প্রয়োজন হয় টাকার। আর রাস্তাঘাটে ছিনতাই করা অর্থ বা পণ্য তাদের সে চাহিদা পূরণ করতে পারে। এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেক ছিনতাইকারী নেশার টাকার জন্যই ছিনতাইয়ের মতো খারাপ ও সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সূত্রমতে, ছিনতাইকারীদের অনেকেই ভালো পরিবারের সন্তান। সঙ্গদোষে মাদকাসক্তে পরিণত হয়ে তারা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ছিনতাইকারীদের আঘাতে যখন-তখন প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ। আবার অনেকে আহত হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে দুর্বিষহ জীবন। ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়িয়ে জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ছিনতাইয়ের ঘটনা যেন আর না বাড়ে, এমন প্রত্যাশা সব নাগরিকের। জনমনে আতঙ্ক কাটাতে ছিনতাইকারীদের সমূলে নির্মূল করা জরুরি। দেশবাসী নিরাপদ পথচলার গ্যারান্টি চায়। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
সফিউল্লাহ আনসারী : শিক্ষক
shofiullahansari@gmail.com