Sunday, February 26, 2012
টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ‘প্রথম আলো’র উদ্যোগে ‘টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম
আমাদের দেশে ভূমি কম, মানুষ বেশি। তার ওপর সামনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ। অনেক দিন থেকেই আমাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা জটিলতার মধ্যে ছিল। কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। শহরের আশপাশের জলাভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে। যদিও কিছু আইন আছে, তবে সেই আইনের বাস্তবায়ন দুর্বল। এই জায়গাটা আমরা আলোচনা করতে চাই। এমনভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যেন সেটা টেকসই হয়। জলবায়ুর পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে এবং আগামী বেশ কিছু সময় সামনে রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কী কী ব্যবস্থা বা কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে আমাদের যা ভূমি আছে তার সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়টি এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ বিষয়ে বলার জন্য আমি অনুরোধ করছি এম আসাদুজ্জামানকে।
এম আসাদুজ্জামান
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে একটি হলো ভূমির ক্ষয়। অনেক কারণে ভূমির ক্ষয় হয়ে থাকে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছু তাৎক্ষণিক, কিছু সুদূরপ্রসারী। এ বিষয়ে আমরা কতটুকু করতে পেরেছি বা পারিনি, সেটি একটি বিষয়। না পারার মধ্যে রয়েছে নীতিগত, ব্যবস্থাপনাগত, প্রয়োগ ও অন্যান্য সমস্যা। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হলো টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা যে জরুরি, সে দিকটি উপলব্ধি করতে পারা। জাতিগোষ্ঠী, ব্যক্তিপর্যায়ে এই উপলব্ধি আছে কি না, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।
ভূমিক্ষয়ের অনেক কারণের মধ্যে একটি হলো নদীভাঙন (রিভার অ্যারোসন)। প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতীর ভেঙে গেছে। গঙ্গা নদীর প্রবাহ কমার কারণে বিভিন্নভাবে ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে লবণাক্ততা তৈরি হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে। দেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ জমি শুষ্কতায় আক্রান্ত (ড্রাউট)। কৃষিক্ষেত্রে নিয়মনীতির বাইরে সার ও ওষুধ ব্যবহারের কারণে ভূমি উৎপাদনের উৎকর্ষ হারাচ্ছে এবং ক্ষয় হচ্ছে। জলাবদ্ধতার (ওয়াটার লগিং) জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমির ক্ষয় হচ্ছে। প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ ও প্রকৃতির দ্বারা বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য আমাদের ভূমির ক্ষয় হচ্ছে। আমাদের দেশে নদী-খাল, জমি জোরজবরদস্তি করে দখল করে অন্য কাজে ব্যবহার করার জন্যও ভূমির ক্ষয় হচ্ছে। এসব হওয়ার একটি বড় কারণ হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ। আমাদের ভবিষ্যৎ আরও অধিক শঙ্কাপূর্ণ।
ভবিষ্যতে নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও মরুময়তা অনেক বেশি হবে। পানি না থাকলে বিভিন্নভাবে জমির ক্ষয় হতে থাকে। অপরিকল্পিত গ্রামীণ অবকাঠামো ও নগরায়ণ ভূমিক্ষয়ের আরও একটি কারণ। শহরের জমির ব্যাপক চাহিদা এবং মূল্যবৃদ্ধির জন্য ক্ষমতাশালী লোকজন বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে এগুলো দখল করছে। ভূমিক্ষয়ের জন্য প্রতিবছর আমরা কমপক্ষে ১ শতাংশ জিডিপি হারাই। জীবিকা ও অর্থ উপার্জনের দিকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা খাসজমির অপব্যবহার হয়।
ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে? হয়তো ভূমি-জোন করা হয়েছে। তা কতটুকু, সঠিক আমি জানি না। টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু কাজ করা হয়েছে; কিন্তু সেটা কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে, তা একটি প্রশ্ন। বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা গেছে, সমন্বিত কোনো উদ্যোগ না থাকায় ভালো ফল পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিপর্যায়ে জমি ক্ষয় হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে। এটি তারা নিজেরা যেমন বুঝতে পারে না, তেমনি ক্ষয়রোধের কোনো উদ্যোগও নেই। জমির খড়কুটা, আবর্জনা ফেলে দেওয়ায় একজন বিদেশি কৃষিবিজ্ঞানী মন্তব্য করলেন, আমরা চাষ বুঝি না। কারণ, খড়কুটা-আবর্জনা জমির একটি ভালো খাদ্য, সেটি ফেলে চাষি জমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোনো ধ্যান-ধারণা আমাদের দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাজ যতটুকু হয়েছে, সেখানে উৎপাদনের দিকটি বেশি বিবেচনায় আনা হয়েছে। জমির বহুবিধ ব্যবহারের দিকটি সেভাবে বিবেচনায় আনা হয়নি। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আমরা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যাব।
আব্দুল কাইয়ুুম
এম আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে আমরা ভূমিক্ষয়ের অনেকগুলো বিষয় জানতে পারলাম। এখন টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বলবেন আইনুন নিশাত।
আইনুন নিশাত
আজকের আলোচনার শিরোনামে টেকসই, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষিত নামে তিনটি বিষয় রয়েছে। যথাযথ সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে। আমি অনেক দিন ধরেই পরিবেশ, প্রকৃতি, ভূমি, জলাভূমি ইত্যাদি বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে আসছি। কয়েক দিন আগে সংবিধানের যে সংশোধনী হয়েছে, সেখানে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সংশোধনীর আগে আমাদের জমি ছিল ভিটেবাড়ি, কৃষিজমি, বনভূমি এবং অবশিষ্ট ছিল সব পতিত জমি। জলাভূমি বলে কোনো জমি ছিল না। সংশোধনী সংবিধানের ১৮-এর ‘ক’ ধারার শিরোনাম হচ্ছে: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
১৮-এর ‘ক’ ধারার বর্ণনা হলো: রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে। প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে। সংসদে যখন বিষয়টি আলোচনা হয়, তখন সাবের হোসেন চৌধুরী নদ-নদীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিলেন। সেটি যদিও হয়নি, কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে নদ-নদীকে বোঝায়।
এখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যে নীতিমালা রয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। কারণ, সংবিধান এই কাজগুলো করার দায়িত্ব দিয়েছে। এটা করতে হলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কেন করতে হবে? প্রথমত, ভূমি মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে খাসজমিগুলো বরাদ্দ করে। কিন্তু আমাদের যেটা করতে হবে, ভূমি, মাটি, পানি, কৃষি, বন, মৎস্য, নগরায়ণ, প্রাণিসম্পদ, শিল্পায়ন, যোগাযোগ—সব একসঙ্গে দেখতে হবে। কারণ মানুষ বাড়ছে, নগরায়ণ বাড়ছে, কৃষি জনসংখ্যাকে ধরে রাখতে না পারার জন্য শিল্পায়ন বাড়ছে।
জমি সীমিত। গ্রামীণ জনপদও ঘনবসতিপূর্ণ হচ্ছে। এতে যত চাপ পড়ছে কৃষির ওপর। কৃষি বলতে শস্য উৎপাদনকে বোঝানো হয়ে থাকে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের দিকে খুব একটা নজর দেওয়া হচ্ছে না। পঞ্চাশের দশক এবং আজকের বাংলাদেশের অবস্থা এক নয়। সবকিছু বদলে গেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে যত কঠিনই হোক না কেন, সবকিছুর ওপর ভূমি মন্ত্রণালয়কে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। জলাভূমি, খাসজমি ইজারার ব্যাপারে নতুন ব্যবস্থাপনা আনতে হবে। চরের জমি উৎপাদনশীল করতে হবে। নদীকে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে যেগুলো শুকিয়ে যায়, সেগুলোকে নদী বলা যাবে না। জমি যাঁরা জবরদখল করেন, তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তি থাকে। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। এখন এ বিষয়ে শুনব পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেছবাহ উল আলমের কাছ থেকে।
মেছবাহ উল আলম
আমরা সবাই জানি, এই ছোট দেশের এক ইঞ্চি জমিও বাড়ছে না; কিন্তু প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আলোচনা থেকে কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এদিক থেকে আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে এমন একটি উর্বর জমি আমরা পেয়েছি। পৃথিবীতে খুব কম দেশই আছে, যেখানে তিনটি ফসল হয়। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর চাপে আমরা এই উর্বর ভূমিকে নষ্ট করে ফেলছি। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে, যেখানে টনকে টন অ্যাসিডিটি সরিয়ে জমি চাষের উপযোগী করতে হয়। শুধু যে নদীভাঙনের জন্য ক্ষয় হচ্ছে তা নয়, বিভিন্নভাবে মাটির মান নষ্ট হচ্ছে, মাটির জীবনীশক্তি নষ্ট হচ্ছে। আমি প্রতিনিয়ত দেখি, বন থেকে যে পাতা পড়ে, তা সরিয়ে ফেলা হয়। অথচ এটি মাটির প্রাণশক্তি রক্ষা করে। তারপর আমরা দেখি, জ্বালানির জন্য, শিল্পায়নের জন্য নানাবিধ কারণে গাছ কাটা হচ্ছে। আবার জমির বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহারের পরিবর্তে অতিরিক্ত ব্যবহার করা হচ্ছে।
মনুষ্যসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক—উভয় সমস্যা আমাদের পরিবেশ ও জমিকে আক্রান্ত করেছে। বৃষ্টি-অনাবৃষ্টি অনেক কারণে জমির ক্ষতি হচ্ছে। পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণের ফলে পাহাড় ও জমির বিপর্যয় ঘটছে। সুন্দরবনের আশপাশের মানুষের জীবিকা হচ্ছে বনকেন্দ্রিক। মধুপুরে যারা থাকে তারা বলে, ‘আমরা গাছ না কেটে করব কী?’ এসব রক্ষা করার জন্য আমাদের যে আইনকানুন আছে, তার বাস্তব প্রয়োগ হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ভঙ্গকারী উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। মধুপুর অঞ্চলে যারা বাস করে, আমরা তাদের অন্য কার্যক্রমের আওতায় এনেছি। ফলে তারা এখন জীবিকার জন্য বন ধ্বংস করে না। বন রক্ষার জন্য ৪৭৫ জনের একটি কমিটি করা হয়েছে। মধুপুরের আশপাশের ইটের ভাটাগুলোতে এখন কোনো গাছ পোড়ানো হয় না। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই গাছ কাটার জন্য তাদের ব্যবহার করত।
বাঘ থাকার জন্য সুন্দরবন রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে জলযান চালানো হচ্ছে, কাছাকাছি শিল্পায়ন হচ্ছে, যে কারণে অন্যভাবে সুন্দরবনের ক্ষতি হচ্ছে। শুধু আইন থাকলেই হবে না, রাষ্ট্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিপর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কাজ শুরু করেছি। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা বলতে এমন একটি ব্যবস্থাপনাকে বোঝায়, যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জমিটি ব্যবহার করে সুফল পেতে পারে। দুভাবে টেকসই ব্যবস্থাপনা কাজ করতে পারে—এক. জমি ব্যবহারকারীদের সচেতনতা। দুই. আইনের মাধ্যমে বাধ্য করা। এটা উভয়ের দায়িত্ববোধের ব্যাপার। এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাধারণ ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জরিপ, স্পার্সো, ভৌগোলিক জরিপ, স্থানিক মানচিত্র, ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এবং এর বিশ্লেষণ, আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিষয়ের প্রভাব আমাদের বোঝা দরকার। ভূমি আইনের মধ্যে জটিলতা পরিহার করে সবার জন্য একটি যুগোপযোগী আইন করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন এ বিষয়ের ওপর আলোচনা করবেন নুরুল ইসলাম নাজেম।
নুরুল ইসলাম নাজেম
এসএলএম প্রকল্পের আওতায় আমরা ভূমি জরিপ নিয়ে কাজ করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমি আলোচনা করতে চাই। আমাদের ভূগোল বিভাগ থেকে ৫০ বছর যাবৎ ভূমি জরিপের কাজ হয়ে আসছে। এই জরিপের তথ্য আমাদের কাছে আছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের জমি চার ভাগে ভাগ করতে চাই—মানববসতি, কৃষি, বন, জলাশয়। কোনো সন্দেহ নেই, বন ও জলাশয়কে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। জমিকে কৃষি জোনে ভাগ করতে হবে। কৃষি জোনের মধ্যে একমাত্র কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কিছু করা যাবে না। সবশেষে থাকে মানববসতি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, যোগাযোগ অন্যান্য অবকাঠামোসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড মানববসতিতে করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিবছর এ চারটি জোন বিভিন্নভাবে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট খাতের বাইরে কেউ জমি ব্যবহার করতে না পারে।
এ বিষয়ে আমাদের একটি জরিপ আছে; যার ফল খুবই আশঙ্কাজনক। ২০০৩ সালে পলাশ উপজেলায় যথাক্রমে মানববসতি ছিল ২৫ শতাংশ, কৃষিজমি ছিল ৬৬ শতাংশ। উপজেলার একটি পৌরসভায় দালান-বসতি ছিল ২১ শতাংশ, জলাশয় ৬ শতাংশ। ২০১০ সালে মানববসতি হয়েছে ৪৬ শতাংশ, কৃষিজমি কমে এসেছে ৪০ শতাংশে, দালান-বসতি হয়েছে ৬৩ শতাংশ, জলাশয় বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। পলাশ উপজেলাকে দেশের মানদণ্ড ধরা যাবে না। কারণ, এটি একটি অতি শিল্পায়িত এলাকা। সারা দেশে আমাদের কোনো জরিপ নেই। বাংলাদেশের ৪ ভাগের ১ ভাগ জমি ইতিমধ্যে মানববসতিতে ব্যবহার হয়েছে। অবশিষ্ট ৩ ভাগের মধ্যে রয়েছে কৃষি, বন ও জলাভূমি। এর মধ্যে একটি বড় অংশ রাস্তাঘাটের জন্য ব্যবহার হয়েছে। মৌজা ম্যাপের ওপর ভিত্তি করে কৃষিজমিকে কৃষি অঞ্চলে ভাগ করতে হবে।
আমাদের দেশে উপকূলীয় এলাকা আছে, কিন্তু মৌজা ম্যাপের ওপর না হওয়ায় এর প্রয়োগ সম্ভব হবে না। এ চারটি জোনকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবহার না করলে জমি কোনোভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ৬৩ শতাংশ জমি এখন কৃষির আওতায় আছে। এই পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন এর মান কমে যাচ্ছে, তেমনি দিন দিন কৃষিজমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। সারা দেশকে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণের আওতায় আনতে হবে। সব কটি গ্রাম হবে শহরের মতো, তবে গ্রামীণ শহর হবে ফাঁকা ফাঁকা, সুন্দর। মাঠপর্যায় থেকে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। ১৯৭৬ সালে এই পরিকল্পনা ছিল।
বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সরকারকে যা করতে হবে তা হলো, সারা দেশের জমি চার ভাগে ভাগ করে অপরিকল্পিতভাবে জমি ব্যবহারের চিন্তাকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতে হবে। চীনে সব জমি সরকারের। সরকার সব জমিকে জোনিং করে ফেলেছে। তাই যে কেউ সরকারের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারে না।
আব্দুল কাইয়ুম
জমিকে মানববসতি, কৃষি, বন, জলাশয়—এই চার ভাগের আওতায় এনে সুপরিকল্পিত ব্যবহারের বিষয়ে বললেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম নাজেম। এবার শুনব নিলুফা ইসলামের কাছ থেকে।
নিলুফা ইসলাম
ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমরা খুব পিছিয়ে আছি। যেখানে অবস্থান করছি, সেটা মোটেই ভালো অবস্থান নয়। ২০১২ সালে এসে সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। সমস্যা থেকে ভবিষ্যতের করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ভূমি, মানববসতি, কৃষি, পানি, বন, মৎস্য, জলাশয় ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোনো নীতি ছিল না। যখন যেখানে সমস্যা হয়েছে, তখন সে ক্ষেত্রে নীতি করা হয়েছে। একটি বিষয় লক্ষণীয়, এত নীতি থাকার পরও ২০১২ সালে এসে কেন বলছি যে আমাদের সমস্যা আছে। তাহলে আসলে সমস্যাটি কোথায়? সমস্যা হচ্ছে প্রথমত, এই নীতির সঠিক প্রয়োগ নেই। দ্বিতীয়ত, জাতিগোষ্ঠী, ব্যক্তিপর্যায়ে নীতি পৌঁছানো হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এই নীতি সঠিকভাবে না জানবে, ততক্ষণ এ থেকে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। ২০ বছর আগে ঢাকা শহরে যেখানে জলাভূমি ছিল ২১ শতংশ, এখন তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নয়; ভূমি, কৃষি, পানি, বন, মৎস্য, জলাশয়—সবকিছু যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে যত দিন যাবে, ততই এ সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দেবে। ভূমি, কৃষি, বন, মৎস্য, জলাশয়, মানববসতি এসব কিছুর জন্য পানি দরকার। এর যেকোনো একটি নীতির ক্ষেত্রে পানি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব এখানে অনেক বেশি।
আব্দুল কাইয়ুম
আমরা নিলুফা ইসলামের কথা শুনলাম। এবার বলবেন আবু মোস্তফা কামালউদ্দিন।
আবু মোস্তফা কামালউদ্দিন
কেউ কেউ বলে থাকেন, জমি রক্ষা করা যাবে না। এটি হয়তো রূপক অর্থে বলেন। জমি আসলে স্থির। জমি যেখানে আছে, সেখানেই থাকবে। তবে অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে করতে একসময় জমি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলবে। শিল্পের ফলে যে দূষণ সৃষ্টি হয়, সেটা জমির উৎপাদনক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে বন উজাড়ের ফলে ভূমির ক্ষয় হয়। এই মাটির দ্বারা আবার জলাশয় ভরাট হতে থাকে। ফলে বন এবং জলাশয় উভয়ই তার উৎপাদনক্ষমতা হারাচ্ছে। বন উজাড়, নদীভাঙন, ভূমিক্ষয়, দূষণ, জলাশয় ভরাট, জমিতে অধিক আইল—এসব জমির জন্য ক্ষতিকর। অর্থাৎ, জমি যা আছে, সেটা ঠিক থাকবে। কিন্তু মানুষের অপব্যবহারের ফলে এবং প্রাকৃতিক কারণে জমি নষ্ট হচ্ছে। শুধু ভূমি মন্ত্রণালয় কিছু করলে সেটি টিকবে না। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি, কৃষি, শিল্প, পানি, পরিবেশসহ সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো জরিপ করে কাজ করে। ফলে জটিলতা আরও বাড়তে থাকে। মৌলিকভাবে একটি মৌজা-ম্যাপ থাকবে, যার ভিত্তিতে সবাই কাজ করবে। এখন যে ডিজিটালাইজড মৌজা-ম্যাপ আছে, সেটি ওয়েবসাইটে দিয়ে দিতে হবে এবং ভূমির ওপর যেকোনো ধরনের কাজ মৌজা-ম্যাপের ওপর ভিত্তি করে করতে হবে। আমাদের জায়গা কম, মানুষ বেশি। তাই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কিছু স্থান রাখতে হবে। এটা একসঙ্গে অনেক মানুষকে অধিক সুযোগ-সুবিধা দিতে পারবে।
আমাদের কৃষি জিডিপি দেয় ২০ শতাংশ, কিন্তু কর্মসংস্থান দেয় ৫০ শতাংশ। খাদ্যনিরাপত্তা দেয় প্রায় ১০০ শতাংশ। একটি কথা মনে রাখতে হবে, ২০০৭ সালে টাকা দিয়েও কোথাও থেকে খাদ্য আনতে পারিনি।
আব্দুল কাইয়ুম
শিরিন কামাল সাঈদকে অনুরোধ করছি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য।
শিরিন কামাল সাঈদ
আলোচনায় সমস্যার কথা অনেক এসেছে। আমি সমাধানের দিকটি আলোকপাত করতে চাই। প্রথমত, নিয়মনীতি যেগুলো আছে, সেগুলোর ঠিক ঠিক প্রয়োগ করতে হবে। ভূমিসংক্রান্ত আইনকানুনগুলো আরও আধুনিকীকরণ করতে হবে। এই নিয়মনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত, তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ভূমির অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। এটি বন্ধ করতে হলে ভূমিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং মন্ত্রণালয়; বিশেষ করে ভূমি, কৃষি, পানি, বন পরিবেশসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মেগা সিটিতে পরিণত হবে। সে ক্ষেত্রে ভূমি জোনিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। খাসজমিগুলো অধিকাংশই প্রভাবশালীরা দখল করেছে বা লিজ নিয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা এ থেকে কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। পাহাড় কাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন বলবেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন।
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
ভূমি হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। একে শুধু অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে দেখলে হবে না। ভূমি থেকে আমরা বহুমাত্রিক সেবা পাই। অন্য কিছু থেকে এই সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। মানববসতি থেকে শুরু করে নগরায়ণ, শিল্পায়ন, কৃষি—সবকিছু আমাদের করতে হবে। তবে সেটা টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মধ্য থেকে করতে হবে। আজকে আমরা যেভাবে ভূমির অপব্যবহার করছি, ভূমিকে নষ্ট করছি, আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে অবশ্যই এগুলো বন্ধ করতে হবে আমাদের। এখনো আমরা এর শিকার হচ্ছি।
আমরা একটি ছোট আয়তনের দেশে বাস করি। কিছু কিছু বিষয় আমাদের জন্য খুবই আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর তারও উত্তরে—এককথায় ঢাকাকে কেন্দ্র করে এর চারদিকে এবং একইভাবে চট্টগ্রামেও কৃষিজমি, জলাভূমি দখল করে যেভাবে মানববসতি, নগরায়ণ, শিল্পায়ন হচ্ছে; সেটি অচিরেই আমাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। কোনো সভ্য দেশে এমন হতে পারে বলে আমার মনে হয় না। ইটের ভাটার কারণে মারাত্মকভাবে ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইটের ভাটার আধুনিকীকরণের ব্যবস্থা সরকারের আছে। এই প্রথম বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। এখান থেকেই যাত্রা শুরু করতে হবে। ভূমি জোনিংসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা আছে। এই প্রস্তাবনা আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এবার বলবেন কামরুল ইসলাম চৌধুরী।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী
টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। আমি সে বিষয়ে কিছু বলব। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও প্রতিনিয়ত ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিশ্বব্যাপী প্রয়োজন দেখা দিয়েছে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার। ১৯৯২ সালে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধরিত্রী সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে মরুময়তা, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন সনদ নামে তিনটি সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এবং একুশ শতকের এজেন্ডায় টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পৃথিবীব্যাপী দিন দিন জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নের স্থায়িত্ব।
এ জন্য বিশ্ব পরিমণ্ডলে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন দেখা দেয়। ধরিত্রী সম্মেলনের এবার ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ জুন ব্রাজিলের রিও নগরে ধরিত্রী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে ১৯৯২ সালের স্বাক্ষরিত সনদ এবং ২০২১ সালের এজেন্ডা নিয়ে পর্যালোচনা হবে। আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় উভয় পরিসরে এই আলোচনা হবে। সংবিধান সংশোধন হওয়ার আগে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবে দুটি কর্মশালা করেছিলাম। ড. রেজাউল করিম আজ নেই। তিনি এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সংবিধানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের ধারাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রিও নগরের ধরিত্রী সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যাবেন। তিনি যেন সেখানে বলতে পারেন টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশে কাজ হচ্ছে।
আমার শেষ কথা, আন্তমন্ত্রণালয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা করে এই বিষয়ের ওপর একটি আইন করতে হবে। এই সংসদে তা পাস করাতে হবে। আমরা ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা একান্ত প্রয়োজন। এ কাজটি আমাদের সঠিকভাবে করতে হবে। এটি যদি আমরা করতে পারি, তাহলে সংবিধান প্রদত্ত দায় থেকে মুক্তি পাব।
আব্দুল কাইয়ুম
টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বিষয় উঠে এসেছে। আমার কাছে মনে হয়, অধিক জনসংখ্যার চাপ যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে যেকোনো ভালো উদ্যোগ টেকসই করা কঠিন হয়ে যাবে। এখন আমরা শুনব ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে।
মোস্তাফিজুর রহমান
১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশ আমাদের। এখানে অনেক সমস্যা বিদ্যমান। আমাদের ভূমির পরিমাণ কম। বিভিন্ন কারণে ভূমি দিন দিন কমে আসছে। যদিও উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা কিছু কিছু ভূমি ফিরে পাচ্ছি। আমাদের দেশ থেকে যখন ইট রপ্তানি হচ্ছিল, তখন আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি। অনেকে আমার কথা পছন্দ করেনি। তারা ভেবেছে, ইট রপ্তানি করে যদি আমরা টাকা পাই, তাহলে সমস্যা কোথায়। তাদের মাথায় শুধু কারেন্সি। একটি ইটভাটার জন্য কমপক্ষে পাঁচ একর জমি লাগে এবং পাঁচ ফুট পরিমাণ ওপরের মাটি কেটে ফেলতে হয়। একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় আর আগের অবস্থায় ওই জমি ফিরিয়ে আনতে পারে না। ধরে নিই, বাংলাদেশে এক লাখ ইটের ভাটা আছে। এই এক লাখ ইটের ভাটার জন্য পাঁচ লাখ একর জমি নষ্ট হচ্ছে। যাঁরা ইট তৈরি করেন, তাঁদের বিকল্প দিতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে ইট বিদেশে রপ্তানি করি?
জমির প্রয়োজন আমাদের অনেক। এর জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। শুধু আন্তমন্ত্রণালয়ে মিটিং করে এটা হবে না। এ ব্যাপারে সবাইকে জোরেশোরে কাজ করতে হবে। আগামী ২০ বছর যাঁরা দেশ চালাবেন, তাঁদের সবাইকে একত্র হয়ে একটা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সুশীল সমাজের সঙ্গে বসতে হবে। আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যেভাবে কথা বলা হচ্ছে, সে তুলনায় এ ব্যাপারে কোনো কথাই হচ্ছে না। অথচ এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভাবা উচিত ছিল। কৃষকেরা মাটির নিচ থেকে পানি তুলছেন। তাঁরা নিজেরাও জানেন না, এই পানি একসময় শেষ হয়ে যাবে। ফসলের আপনি যত বৈচিত্র্য আনেন না কেন, পানি না থাকলে কোনো কিছু করা সম্ভব হবে না। শুধু যে জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, কৃষকেরাও বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিতে নিতে রুগ্ণ হয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি, আগামী ২০ বছর যেসব দল দেশ পরিচালনা করবে, তাদের সবাইকে মিলে এখনই একটা শক্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ২০ বছর পর সব দল মিলে যদি টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার কথা ভাবে, তখন সেটি আর কোনো কাজে আসবে না। যেমন অনেকে বলে থাকেন, ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো আরও বড় হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু এখন ইচ্ছা করলেও সব জায়গায় রাস্তা বড় করা সম্ভব নয়।
কোনো নীতি ছাড়া আমরা অপরিকল্পিত নগরায়ণ করে ফেলেছি। প্রথমে আমি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে ছিলাম। ওই সময় অনেকে নিয়ম ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছেন। শিল্পায়নের জন্য অনৈতিকভাবে পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। ২০০ বছর আগের একজন মানুষ আজকের এই উন্নয়ন দেখে হয়তো হূৎক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উন্নয়ন টেকসই নয়।
আমার কথা হলো, টেকসই যদি না হয়, তাহলে এক অর্থে এটা কোনো উন্নয়নই নয়। এখন মাথাপিছু জমির পরিমাণ ১৭ শতক। দিন দিন প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ যদি ৩০ কোটি হয়, আমাদের যদি সমন্বিত টেকসই পরিকল্পনা থাকে—এ ক্ষেত্রে আমরা না খেয়ে মারা যাব না। রাজনীতিবিদদের একসঙ্গে বসিয়ে এখনই একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে নকশা করতে হবে। আমাদের দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষের দশ-পাঁচটা বাড়ি না হলে হচ্ছে না। গ্রামে, থানা শহরে, জেলা শহরে, গুলশানে, বনানীতে, পূর্বাচলে, এখানে-সেখানে—প্রতিটি জায়গায় তাদের একটা করে বাড়ি দরকার। এত বাড়ির দরকার কী? গ্রামের বাড়িকে পাঁচ তলা করেন। আপনার ভাইও থাকবে, আপনিও থাকবেন।
অনেকে মনে করেন, তাঁদের সময় চলে গেলেই হলো। পরে কী হবে, সেটা তাঁদের দেখার দরকার নেই। এটা এমন একটা সময়, যে সময় বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবকিছু জানা যায়। জানার পর কীভাবে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এত বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলে যাই। আমি মনে করি, শুধু ভূমি নয়, ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সব দলকে মিলে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা একটি নীতি অনুসরণ করতে পারে। আগে পৃথিবীতে ধনতন্ত্র ছিল, বুর্জোয়াতন্ত্র ছিল, সাম্যবাদ ছিল। এখন বিশ্বব্যাপী বাজার অর্থনীতি। ব্যবস্থাপনার দিক থেকে যারা দক্ষ, তারা এগিয়ে যাবে। আর শুধু আইন করলেই হবে না। আমাদের দেশের মানুষ মনে করে, তার জমিতে পুকুর কাটতে পারে, বাগান করতে পারে, যেকোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারে। বাধা দিতে গেলে জনে জনে মামলা করবে। তখন এনবিআরের মতো হবে। হাজার হাজার মামলা হাইকোর্টে যাবে। হাইকোর্ট থামিয়ে দেবেন। কিন্তু সব দল মিলে যদি আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে সবাই সেটা মেনে চলতে বাধ্য হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
আজকের আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
মোস্তাফিজুর রহমান
ভূমি প্রতিমন্ত্রী
মেছবাহ উল আলম
সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়
এম আসাদুজ্জামান
গবেষণা পরিচালক, বিআইডিএস
আইনুন নিশাত
উপাচার্য, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
নুরুল ইসলাম নাজেম
অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
যুগ্ম সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়
কামরুল ইসলাম চৌধুরী
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ পরিবেশসাংবাদিক ফোরাম
নিলুফা ইসলাম
পরিচালক, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়
শিরিন কামাল সাঈদ
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ
আবু মোস্তফা কামালউদ্দিন
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ
ইউএনডিপি
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আব্দুল কাইয়ুম
আমাদের দেশে ভূমি কম, মানুষ বেশি। তার ওপর সামনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ। অনেক দিন থেকেই আমাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা জটিলতার মধ্যে ছিল। কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। শহরের আশপাশের জলাভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে। যদিও কিছু আইন আছে, তবে সেই আইনের বাস্তবায়ন দুর্বল। এই জায়গাটা আমরা আলোচনা করতে চাই। এমনভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যেন সেটা টেকসই হয়। জলবায়ুর পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে এবং আগামী বেশ কিছু সময় সামনে রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কী কী ব্যবস্থা বা কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে আমাদের যা ভূমি আছে তার সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়টি এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ বিষয়ে বলার জন্য আমি অনুরোধ করছি এম আসাদুজ্জামানকে।
এম আসাদুজ্জামান
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে একটি হলো ভূমির ক্ষয়। অনেক কারণে ভূমির ক্ষয় হয়ে থাকে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছু তাৎক্ষণিক, কিছু সুদূরপ্রসারী। এ বিষয়ে আমরা কতটুকু করতে পেরেছি বা পারিনি, সেটি একটি বিষয়। না পারার মধ্যে রয়েছে নীতিগত, ব্যবস্থাপনাগত, প্রয়োগ ও অন্যান্য সমস্যা। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হলো টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা যে জরুরি, সে দিকটি উপলব্ধি করতে পারা। জাতিগোষ্ঠী, ব্যক্তিপর্যায়ে এই উপলব্ধি আছে কি না, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।
ভূমিক্ষয়ের অনেক কারণের মধ্যে একটি হলো নদীভাঙন (রিভার অ্যারোসন)। প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতীর ভেঙে গেছে। গঙ্গা নদীর প্রবাহ কমার কারণে বিভিন্নভাবে ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে লবণাক্ততা তৈরি হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে। দেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ জমি শুষ্কতায় আক্রান্ত (ড্রাউট)। কৃষিক্ষেত্রে নিয়মনীতির বাইরে সার ও ওষুধ ব্যবহারের কারণে ভূমি উৎপাদনের উৎকর্ষ হারাচ্ছে এবং ক্ষয় হচ্ছে। জলাবদ্ধতার (ওয়াটার লগিং) জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমির ক্ষয় হচ্ছে। প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ ও প্রকৃতির দ্বারা বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য আমাদের ভূমির ক্ষয় হচ্ছে। আমাদের দেশে নদী-খাল, জমি জোরজবরদস্তি করে দখল করে অন্য কাজে ব্যবহার করার জন্যও ভূমির ক্ষয় হচ্ছে। এসব হওয়ার একটি বড় কারণ হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ। আমাদের ভবিষ্যৎ আরও অধিক শঙ্কাপূর্ণ।
ভবিষ্যতে নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও মরুময়তা অনেক বেশি হবে। পানি না থাকলে বিভিন্নভাবে জমির ক্ষয় হতে থাকে। অপরিকল্পিত গ্রামীণ অবকাঠামো ও নগরায়ণ ভূমিক্ষয়ের আরও একটি কারণ। শহরের জমির ব্যাপক চাহিদা এবং মূল্যবৃদ্ধির জন্য ক্ষমতাশালী লোকজন বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে এগুলো দখল করছে। ভূমিক্ষয়ের জন্য প্রতিবছর আমরা কমপক্ষে ১ শতাংশ জিডিপি হারাই। জীবিকা ও অর্থ উপার্জনের দিকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা খাসজমির অপব্যবহার হয়।
ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে? হয়তো ভূমি-জোন করা হয়েছে। তা কতটুকু, সঠিক আমি জানি না। টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু কাজ করা হয়েছে; কিন্তু সেটা কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে, তা একটি প্রশ্ন। বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা গেছে, সমন্বিত কোনো উদ্যোগ না থাকায় ভালো ফল পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিপর্যায়ে জমি ক্ষয় হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে। এটি তারা নিজেরা যেমন বুঝতে পারে না, তেমনি ক্ষয়রোধের কোনো উদ্যোগও নেই। জমির খড়কুটা, আবর্জনা ফেলে দেওয়ায় একজন বিদেশি কৃষিবিজ্ঞানী মন্তব্য করলেন, আমরা চাষ বুঝি না। কারণ, খড়কুটা-আবর্জনা জমির একটি ভালো খাদ্য, সেটি ফেলে চাষি জমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোনো ধ্যান-ধারণা আমাদের দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাজ যতটুকু হয়েছে, সেখানে উৎপাদনের দিকটি বেশি বিবেচনায় আনা হয়েছে। জমির বহুবিধ ব্যবহারের দিকটি সেভাবে বিবেচনায় আনা হয়নি। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আমরা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যাব।
আব্দুল কাইয়ুুম
এম আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে আমরা ভূমিক্ষয়ের অনেকগুলো বিষয় জানতে পারলাম। এখন টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বলবেন আইনুন নিশাত।
আইনুন নিশাত
আজকের আলোচনার শিরোনামে টেকসই, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষিত নামে তিনটি বিষয় রয়েছে। যথাযথ সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে। আমি অনেক দিন ধরেই পরিবেশ, প্রকৃতি, ভূমি, জলাভূমি ইত্যাদি বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে আসছি। কয়েক দিন আগে সংবিধানের যে সংশোধনী হয়েছে, সেখানে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সংশোধনীর আগে আমাদের জমি ছিল ভিটেবাড়ি, কৃষিজমি, বনভূমি এবং অবশিষ্ট ছিল সব পতিত জমি। জলাভূমি বলে কোনো জমি ছিল না। সংশোধনী সংবিধানের ১৮-এর ‘ক’ ধারার শিরোনাম হচ্ছে: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
১৮-এর ‘ক’ ধারার বর্ণনা হলো: রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে। প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে। সংসদে যখন বিষয়টি আলোচনা হয়, তখন সাবের হোসেন চৌধুরী নদ-নদীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিলেন। সেটি যদিও হয়নি, কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে নদ-নদীকে বোঝায়।
এখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যে নীতিমালা রয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। কারণ, সংবিধান এই কাজগুলো করার দায়িত্ব দিয়েছে। এটা করতে হলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কেন করতে হবে? প্রথমত, ভূমি মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে খাসজমিগুলো বরাদ্দ করে। কিন্তু আমাদের যেটা করতে হবে, ভূমি, মাটি, পানি, কৃষি, বন, মৎস্য, নগরায়ণ, প্রাণিসম্পদ, শিল্পায়ন, যোগাযোগ—সব একসঙ্গে দেখতে হবে। কারণ মানুষ বাড়ছে, নগরায়ণ বাড়ছে, কৃষি জনসংখ্যাকে ধরে রাখতে না পারার জন্য শিল্পায়ন বাড়ছে।
জমি সীমিত। গ্রামীণ জনপদও ঘনবসতিপূর্ণ হচ্ছে। এতে যত চাপ পড়ছে কৃষির ওপর। কৃষি বলতে শস্য উৎপাদনকে বোঝানো হয়ে থাকে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের দিকে খুব একটা নজর দেওয়া হচ্ছে না। পঞ্চাশের দশক এবং আজকের বাংলাদেশের অবস্থা এক নয়। সবকিছু বদলে গেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে যত কঠিনই হোক না কেন, সবকিছুর ওপর ভূমি মন্ত্রণালয়কে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। জলাভূমি, খাসজমি ইজারার ব্যাপারে নতুন ব্যবস্থাপনা আনতে হবে। চরের জমি উৎপাদনশীল করতে হবে। নদীকে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে যেগুলো শুকিয়ে যায়, সেগুলোকে নদী বলা যাবে না। জমি যাঁরা জবরদখল করেন, তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তি থাকে। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। এখন এ বিষয়ে শুনব পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেছবাহ উল আলমের কাছ থেকে।
মেছবাহ উল আলম
আমরা সবাই জানি, এই ছোট দেশের এক ইঞ্চি জমিও বাড়ছে না; কিন্তু প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আলোচনা থেকে কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এদিক থেকে আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে এমন একটি উর্বর জমি আমরা পেয়েছি। পৃথিবীতে খুব কম দেশই আছে, যেখানে তিনটি ফসল হয়। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর চাপে আমরা এই উর্বর ভূমিকে নষ্ট করে ফেলছি। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে, যেখানে টনকে টন অ্যাসিডিটি সরিয়ে জমি চাষের উপযোগী করতে হয়। শুধু যে নদীভাঙনের জন্য ক্ষয় হচ্ছে তা নয়, বিভিন্নভাবে মাটির মান নষ্ট হচ্ছে, মাটির জীবনীশক্তি নষ্ট হচ্ছে। আমি প্রতিনিয়ত দেখি, বন থেকে যে পাতা পড়ে, তা সরিয়ে ফেলা হয়। অথচ এটি মাটির প্রাণশক্তি রক্ষা করে। তারপর আমরা দেখি, জ্বালানির জন্য, শিল্পায়নের জন্য নানাবিধ কারণে গাছ কাটা হচ্ছে। আবার জমির বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহারের পরিবর্তে অতিরিক্ত ব্যবহার করা হচ্ছে।
মনুষ্যসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক—উভয় সমস্যা আমাদের পরিবেশ ও জমিকে আক্রান্ত করেছে। বৃষ্টি-অনাবৃষ্টি অনেক কারণে জমির ক্ষতি হচ্ছে। পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণের ফলে পাহাড় ও জমির বিপর্যয় ঘটছে। সুন্দরবনের আশপাশের মানুষের জীবিকা হচ্ছে বনকেন্দ্রিক। মধুপুরে যারা থাকে তারা বলে, ‘আমরা গাছ না কেটে করব কী?’ এসব রক্ষা করার জন্য আমাদের যে আইনকানুন আছে, তার বাস্তব প্রয়োগ হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ভঙ্গকারী উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। মধুপুর অঞ্চলে যারা বাস করে, আমরা তাদের অন্য কার্যক্রমের আওতায় এনেছি। ফলে তারা এখন জীবিকার জন্য বন ধ্বংস করে না। বন রক্ষার জন্য ৪৭৫ জনের একটি কমিটি করা হয়েছে। মধুপুরের আশপাশের ইটের ভাটাগুলোতে এখন কোনো গাছ পোড়ানো হয় না। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই গাছ কাটার জন্য তাদের ব্যবহার করত।
বাঘ থাকার জন্য সুন্দরবন রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে জলযান চালানো হচ্ছে, কাছাকাছি শিল্পায়ন হচ্ছে, যে কারণে অন্যভাবে সুন্দরবনের ক্ষতি হচ্ছে। শুধু আইন থাকলেই হবে না, রাষ্ট্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিপর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কাজ শুরু করেছি। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা বলতে এমন একটি ব্যবস্থাপনাকে বোঝায়, যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জমিটি ব্যবহার করে সুফল পেতে পারে। দুভাবে টেকসই ব্যবস্থাপনা কাজ করতে পারে—এক. জমি ব্যবহারকারীদের সচেতনতা। দুই. আইনের মাধ্যমে বাধ্য করা। এটা উভয়ের দায়িত্ববোধের ব্যাপার। এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাধারণ ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জরিপ, স্পার্সো, ভৌগোলিক জরিপ, স্থানিক মানচিত্র, ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এবং এর বিশ্লেষণ, আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিষয়ের প্রভাব আমাদের বোঝা দরকার। ভূমি আইনের মধ্যে জটিলতা পরিহার করে সবার জন্য একটি যুগোপযোগী আইন করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন এ বিষয়ের ওপর আলোচনা করবেন নুরুল ইসলাম নাজেম।
নুরুল ইসলাম নাজেম
এসএলএম প্রকল্পের আওতায় আমরা ভূমি জরিপ নিয়ে কাজ করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমি আলোচনা করতে চাই। আমাদের ভূগোল বিভাগ থেকে ৫০ বছর যাবৎ ভূমি জরিপের কাজ হয়ে আসছে। এই জরিপের তথ্য আমাদের কাছে আছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের জমি চার ভাগে ভাগ করতে চাই—মানববসতি, কৃষি, বন, জলাশয়। কোনো সন্দেহ নেই, বন ও জলাশয়কে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। জমিকে কৃষি জোনে ভাগ করতে হবে। কৃষি জোনের মধ্যে একমাত্র কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কিছু করা যাবে না। সবশেষে থাকে মানববসতি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, যোগাযোগ অন্যান্য অবকাঠামোসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড মানববসতিতে করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিবছর এ চারটি জোন বিভিন্নভাবে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট খাতের বাইরে কেউ জমি ব্যবহার করতে না পারে।
এ বিষয়ে আমাদের একটি জরিপ আছে; যার ফল খুবই আশঙ্কাজনক। ২০০৩ সালে পলাশ উপজেলায় যথাক্রমে মানববসতি ছিল ২৫ শতাংশ, কৃষিজমি ছিল ৬৬ শতাংশ। উপজেলার একটি পৌরসভায় দালান-বসতি ছিল ২১ শতাংশ, জলাশয় ৬ শতাংশ। ২০১০ সালে মানববসতি হয়েছে ৪৬ শতাংশ, কৃষিজমি কমে এসেছে ৪০ শতাংশে, দালান-বসতি হয়েছে ৬৩ শতাংশ, জলাশয় বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। পলাশ উপজেলাকে দেশের মানদণ্ড ধরা যাবে না। কারণ, এটি একটি অতি শিল্পায়িত এলাকা। সারা দেশে আমাদের কোনো জরিপ নেই। বাংলাদেশের ৪ ভাগের ১ ভাগ জমি ইতিমধ্যে মানববসতিতে ব্যবহার হয়েছে। অবশিষ্ট ৩ ভাগের মধ্যে রয়েছে কৃষি, বন ও জলাভূমি। এর মধ্যে একটি বড় অংশ রাস্তাঘাটের জন্য ব্যবহার হয়েছে। মৌজা ম্যাপের ওপর ভিত্তি করে কৃষিজমিকে কৃষি অঞ্চলে ভাগ করতে হবে।
আমাদের দেশে উপকূলীয় এলাকা আছে, কিন্তু মৌজা ম্যাপের ওপর না হওয়ায় এর প্রয়োগ সম্ভব হবে না। এ চারটি জোনকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবহার না করলে জমি কোনোভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ৬৩ শতাংশ জমি এখন কৃষির আওতায় আছে। এই পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন এর মান কমে যাচ্ছে, তেমনি দিন দিন কৃষিজমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। সারা দেশকে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণের আওতায় আনতে হবে। সব কটি গ্রাম হবে শহরের মতো, তবে গ্রামীণ শহর হবে ফাঁকা ফাঁকা, সুন্দর। মাঠপর্যায় থেকে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। ১৯৭৬ সালে এই পরিকল্পনা ছিল।
বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সরকারকে যা করতে হবে তা হলো, সারা দেশের জমি চার ভাগে ভাগ করে অপরিকল্পিতভাবে জমি ব্যবহারের চিন্তাকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতে হবে। চীনে সব জমি সরকারের। সরকার সব জমিকে জোনিং করে ফেলেছে। তাই যে কেউ সরকারের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারে না।
আব্দুল কাইয়ুম
জমিকে মানববসতি, কৃষি, বন, জলাশয়—এই চার ভাগের আওতায় এনে সুপরিকল্পিত ব্যবহারের বিষয়ে বললেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম নাজেম। এবার শুনব নিলুফা ইসলামের কাছ থেকে।
নিলুফা ইসলাম
ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমরা খুব পিছিয়ে আছি। যেখানে অবস্থান করছি, সেটা মোটেই ভালো অবস্থান নয়। ২০১২ সালে এসে সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। সমস্যা থেকে ভবিষ্যতের করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ভূমি, মানববসতি, কৃষি, পানি, বন, মৎস্য, জলাশয় ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোনো নীতি ছিল না। যখন যেখানে সমস্যা হয়েছে, তখন সে ক্ষেত্রে নীতি করা হয়েছে। একটি বিষয় লক্ষণীয়, এত নীতি থাকার পরও ২০১২ সালে এসে কেন বলছি যে আমাদের সমস্যা আছে। তাহলে আসলে সমস্যাটি কোথায়? সমস্যা হচ্ছে প্রথমত, এই নীতির সঠিক প্রয়োগ নেই। দ্বিতীয়ত, জাতিগোষ্ঠী, ব্যক্তিপর্যায়ে নীতি পৌঁছানো হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এই নীতি সঠিকভাবে না জানবে, ততক্ষণ এ থেকে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। ২০ বছর আগে ঢাকা শহরে যেখানে জলাভূমি ছিল ২১ শতংশ, এখন তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নয়; ভূমি, কৃষি, পানি, বন, মৎস্য, জলাশয়—সবকিছু যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে যত দিন যাবে, ততই এ সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দেবে। ভূমি, কৃষি, বন, মৎস্য, জলাশয়, মানববসতি এসব কিছুর জন্য পানি দরকার। এর যেকোনো একটি নীতির ক্ষেত্রে পানি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব এখানে অনেক বেশি।
আব্দুল কাইয়ুম
আমরা নিলুফা ইসলামের কথা শুনলাম। এবার বলবেন আবু মোস্তফা কামালউদ্দিন।
আবু মোস্তফা কামালউদ্দিন
কেউ কেউ বলে থাকেন, জমি রক্ষা করা যাবে না। এটি হয়তো রূপক অর্থে বলেন। জমি আসলে স্থির। জমি যেখানে আছে, সেখানেই থাকবে। তবে অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে করতে একসময় জমি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলবে। শিল্পের ফলে যে দূষণ সৃষ্টি হয়, সেটা জমির উৎপাদনক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে বন উজাড়ের ফলে ভূমির ক্ষয় হয়। এই মাটির দ্বারা আবার জলাশয় ভরাট হতে থাকে। ফলে বন এবং জলাশয় উভয়ই তার উৎপাদনক্ষমতা হারাচ্ছে। বন উজাড়, নদীভাঙন, ভূমিক্ষয়, দূষণ, জলাশয় ভরাট, জমিতে অধিক আইল—এসব জমির জন্য ক্ষতিকর। অর্থাৎ, জমি যা আছে, সেটা ঠিক থাকবে। কিন্তু মানুষের অপব্যবহারের ফলে এবং প্রাকৃতিক কারণে জমি নষ্ট হচ্ছে। শুধু ভূমি মন্ত্রণালয় কিছু করলে সেটি টিকবে না। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি, কৃষি, শিল্প, পানি, পরিবেশসহ সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো জরিপ করে কাজ করে। ফলে জটিলতা আরও বাড়তে থাকে। মৌলিকভাবে একটি মৌজা-ম্যাপ থাকবে, যার ভিত্তিতে সবাই কাজ করবে। এখন যে ডিজিটালাইজড মৌজা-ম্যাপ আছে, সেটি ওয়েবসাইটে দিয়ে দিতে হবে এবং ভূমির ওপর যেকোনো ধরনের কাজ মৌজা-ম্যাপের ওপর ভিত্তি করে করতে হবে। আমাদের জায়গা কম, মানুষ বেশি। তাই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কিছু স্থান রাখতে হবে। এটা একসঙ্গে অনেক মানুষকে অধিক সুযোগ-সুবিধা দিতে পারবে।
আমাদের কৃষি জিডিপি দেয় ২০ শতাংশ, কিন্তু কর্মসংস্থান দেয় ৫০ শতাংশ। খাদ্যনিরাপত্তা দেয় প্রায় ১০০ শতাংশ। একটি কথা মনে রাখতে হবে, ২০০৭ সালে টাকা দিয়েও কোথাও থেকে খাদ্য আনতে পারিনি।
আব্দুল কাইয়ুম
শিরিন কামাল সাঈদকে অনুরোধ করছি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য।
শিরিন কামাল সাঈদ
আলোচনায় সমস্যার কথা অনেক এসেছে। আমি সমাধানের দিকটি আলোকপাত করতে চাই। প্রথমত, নিয়মনীতি যেগুলো আছে, সেগুলোর ঠিক ঠিক প্রয়োগ করতে হবে। ভূমিসংক্রান্ত আইনকানুনগুলো আরও আধুনিকীকরণ করতে হবে। এই নিয়মনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত, তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ভূমির অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। এটি বন্ধ করতে হলে ভূমিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং মন্ত্রণালয়; বিশেষ করে ভূমি, কৃষি, পানি, বন পরিবেশসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মেগা সিটিতে পরিণত হবে। সে ক্ষেত্রে ভূমি জোনিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। খাসজমিগুলো অধিকাংশই প্রভাবশালীরা দখল করেছে বা লিজ নিয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা এ থেকে কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। পাহাড় কাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন বলবেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন।
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
ভূমি হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। একে শুধু অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে দেখলে হবে না। ভূমি থেকে আমরা বহুমাত্রিক সেবা পাই। অন্য কিছু থেকে এই সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। মানববসতি থেকে শুরু করে নগরায়ণ, শিল্পায়ন, কৃষি—সবকিছু আমাদের করতে হবে। তবে সেটা টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মধ্য থেকে করতে হবে। আজকে আমরা যেভাবে ভূমির অপব্যবহার করছি, ভূমিকে নষ্ট করছি, আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে অবশ্যই এগুলো বন্ধ করতে হবে আমাদের। এখনো আমরা এর শিকার হচ্ছি।
আমরা একটি ছোট আয়তনের দেশে বাস করি। কিছু কিছু বিষয় আমাদের জন্য খুবই আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর তারও উত্তরে—এককথায় ঢাকাকে কেন্দ্র করে এর চারদিকে এবং একইভাবে চট্টগ্রামেও কৃষিজমি, জলাভূমি দখল করে যেভাবে মানববসতি, নগরায়ণ, শিল্পায়ন হচ্ছে; সেটি অচিরেই আমাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। কোনো সভ্য দেশে এমন হতে পারে বলে আমার মনে হয় না। ইটের ভাটার কারণে মারাত্মকভাবে ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইটের ভাটার আধুনিকীকরণের ব্যবস্থা সরকারের আছে। এই প্রথম বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। এখান থেকেই যাত্রা শুরু করতে হবে। ভূমি জোনিংসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা আছে। এই প্রস্তাবনা আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এবার বলবেন কামরুল ইসলাম চৌধুরী।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী
টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। আমি সে বিষয়ে কিছু বলব। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও প্রতিনিয়ত ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিশ্বব্যাপী প্রয়োজন দেখা দিয়েছে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার। ১৯৯২ সালে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধরিত্রী সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে মরুময়তা, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন সনদ নামে তিনটি সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এবং একুশ শতকের এজেন্ডায় টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পৃথিবীব্যাপী দিন দিন জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়নের স্থায়িত্ব।
এ জন্য বিশ্ব পরিমণ্ডলে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন দেখা দেয়। ধরিত্রী সম্মেলনের এবার ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ জুন ব্রাজিলের রিও নগরে ধরিত্রী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে ১৯৯২ সালের স্বাক্ষরিত সনদ এবং ২০২১ সালের এজেন্ডা নিয়ে পর্যালোচনা হবে। আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় উভয় পরিসরে এই আলোচনা হবে। সংবিধান সংশোধন হওয়ার আগে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবে দুটি কর্মশালা করেছিলাম। ড. রেজাউল করিম আজ নেই। তিনি এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সংবিধানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের ধারাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রিও নগরের ধরিত্রী সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যাবেন। তিনি যেন সেখানে বলতে পারেন টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশে কাজ হচ্ছে।
আমার শেষ কথা, আন্তমন্ত্রণালয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা করে এই বিষয়ের ওপর একটি আইন করতে হবে। এই সংসদে তা পাস করাতে হবে। আমরা ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা একান্ত প্রয়োজন। এ কাজটি আমাদের সঠিকভাবে করতে হবে। এটি যদি আমরা করতে পারি, তাহলে সংবিধান প্রদত্ত দায় থেকে মুক্তি পাব।
আব্দুল কাইয়ুম
টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বিষয় উঠে এসেছে। আমার কাছে মনে হয়, অধিক জনসংখ্যার চাপ যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে যেকোনো ভালো উদ্যোগ টেকসই করা কঠিন হয়ে যাবে। এখন আমরা শুনব ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে।
মোস্তাফিজুর রহমান
১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশ আমাদের। এখানে অনেক সমস্যা বিদ্যমান। আমাদের ভূমির পরিমাণ কম। বিভিন্ন কারণে ভূমি দিন দিন কমে আসছে। যদিও উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা কিছু কিছু ভূমি ফিরে পাচ্ছি। আমাদের দেশ থেকে যখন ইট রপ্তানি হচ্ছিল, তখন আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি। অনেকে আমার কথা পছন্দ করেনি। তারা ভেবেছে, ইট রপ্তানি করে যদি আমরা টাকা পাই, তাহলে সমস্যা কোথায়। তাদের মাথায় শুধু কারেন্সি। একটি ইটভাটার জন্য কমপক্ষে পাঁচ একর জমি লাগে এবং পাঁচ ফুট পরিমাণ ওপরের মাটি কেটে ফেলতে হয়। একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় আর আগের অবস্থায় ওই জমি ফিরিয়ে আনতে পারে না। ধরে নিই, বাংলাদেশে এক লাখ ইটের ভাটা আছে। এই এক লাখ ইটের ভাটার জন্য পাঁচ লাখ একর জমি নষ্ট হচ্ছে। যাঁরা ইট তৈরি করেন, তাঁদের বিকল্প দিতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে ইট বিদেশে রপ্তানি করি?
জমির প্রয়োজন আমাদের অনেক। এর জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। শুধু আন্তমন্ত্রণালয়ে মিটিং করে এটা হবে না। এ ব্যাপারে সবাইকে জোরেশোরে কাজ করতে হবে। আগামী ২০ বছর যাঁরা দেশ চালাবেন, তাঁদের সবাইকে একত্র হয়ে একটা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সুশীল সমাজের সঙ্গে বসতে হবে। আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যেভাবে কথা বলা হচ্ছে, সে তুলনায় এ ব্যাপারে কোনো কথাই হচ্ছে না। অথচ এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভাবা উচিত ছিল। কৃষকেরা মাটির নিচ থেকে পানি তুলছেন। তাঁরা নিজেরাও জানেন না, এই পানি একসময় শেষ হয়ে যাবে। ফসলের আপনি যত বৈচিত্র্য আনেন না কেন, পানি না থাকলে কোনো কিছু করা সম্ভব হবে না। শুধু যে জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, কৃষকেরাও বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিতে নিতে রুগ্ণ হয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি, আগামী ২০ বছর যেসব দল দেশ পরিচালনা করবে, তাদের সবাইকে মিলে এখনই একটা শক্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ২০ বছর পর সব দল মিলে যদি টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার কথা ভাবে, তখন সেটি আর কোনো কাজে আসবে না। যেমন অনেকে বলে থাকেন, ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো আরও বড় হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু এখন ইচ্ছা করলেও সব জায়গায় রাস্তা বড় করা সম্ভব নয়।
কোনো নীতি ছাড়া আমরা অপরিকল্পিত নগরায়ণ করে ফেলেছি। প্রথমে আমি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে ছিলাম। ওই সময় অনেকে নিয়ম ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছেন। শিল্পায়নের জন্য অনৈতিকভাবে পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। ২০০ বছর আগের একজন মানুষ আজকের এই উন্নয়ন দেখে হয়তো হূৎক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উন্নয়ন টেকসই নয়।
আমার কথা হলো, টেকসই যদি না হয়, তাহলে এক অর্থে এটা কোনো উন্নয়নই নয়। এখন মাথাপিছু জমির পরিমাণ ১৭ শতক। দিন দিন প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ যদি ৩০ কোটি হয়, আমাদের যদি সমন্বিত টেকসই পরিকল্পনা থাকে—এ ক্ষেত্রে আমরা না খেয়ে মারা যাব না। রাজনীতিবিদদের একসঙ্গে বসিয়ে এখনই একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে নকশা করতে হবে। আমাদের দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষের দশ-পাঁচটা বাড়ি না হলে হচ্ছে না। গ্রামে, থানা শহরে, জেলা শহরে, গুলশানে, বনানীতে, পূর্বাচলে, এখানে-সেখানে—প্রতিটি জায়গায় তাদের একটা করে বাড়ি দরকার। এত বাড়ির দরকার কী? গ্রামের বাড়িকে পাঁচ তলা করেন। আপনার ভাইও থাকবে, আপনিও থাকবেন।
অনেকে মনে করেন, তাঁদের সময় চলে গেলেই হলো। পরে কী হবে, সেটা তাঁদের দেখার দরকার নেই। এটা এমন একটা সময়, যে সময় বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবকিছু জানা যায়। জানার পর কীভাবে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এত বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলে যাই। আমি মনে করি, শুধু ভূমি নয়, ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সব দলকে মিলে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা একটি নীতি অনুসরণ করতে পারে। আগে পৃথিবীতে ধনতন্ত্র ছিল, বুর্জোয়াতন্ত্র ছিল, সাম্যবাদ ছিল। এখন বিশ্বব্যাপী বাজার অর্থনীতি। ব্যবস্থাপনার দিক থেকে যারা দক্ষ, তারা এগিয়ে যাবে। আর শুধু আইন করলেই হবে না। আমাদের দেশের মানুষ মনে করে, তার জমিতে পুকুর কাটতে পারে, বাগান করতে পারে, যেকোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারে। বাধা দিতে গেলে জনে জনে মামলা করবে। তখন এনবিআরের মতো হবে। হাজার হাজার মামলা হাইকোর্টে যাবে। হাইকোর্ট থামিয়ে দেবেন। কিন্তু সব দল মিলে যদি আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে সবাই সেটা মেনে চলতে বাধ্য হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
আজকের আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
মোস্তাফিজুর রহমান
ভূমি প্রতিমন্ত্রী
মেছবাহ উল আলম
সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়
এম আসাদুজ্জামান
গবেষণা পরিচালক, বিআইডিএস
আইনুন নিশাত
উপাচার্য, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
নুরুল ইসলাম নাজেম
অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
যুগ্ম সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়
কামরুল ইসলাম চৌধুরী
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ পরিবেশসাংবাদিক ফোরাম
নিলুফা ইসলাম
পরিচালক, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়
শিরিন কামাল সাঈদ
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ
আবু মোস্তফা কামালউদ্দিন
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ
ইউএনডিপি
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1334)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
February
(3241)
-
▼
Feb 26
(108)
- চারদিক-রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে by মোছাব্বের হোসেন
- রাজনীতি-আইনের নয়, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির শাসন by এ ...
- ধর্ম-সেহির খাওয়ার গুরুত্ব ও উপকারিতা by মুহাম্মদ আ...
- প্রতিক্রিয়া-সাতাত্তরের গণফাঁসি ও ইতিহাসের দায় by জ...
- সময়ের প্রতিবিম্ব-রাষ্ট্রপতির ‘বৈপ্লবিক’ মার্জনা by...
- পদত্যাগ ছাড়া কী-ই বা করতে পারতেন প্রক্টররা?-ছাত্রল...
- সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন-রমজানে বিদ্যুৎ-সংকট
- গন্তব্য ঢাকা-স্বপ্ন দেখতেও ভয় হয় by শর্মিলা সিনড্রেলা
- এইচএসসি-মানের প্রশ্ন নিয়ে কিছু উল্টো প্রশ্ন by মোহ...
- ধর্ম-ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় রোজা by মুহাম্মদ আ...
- সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু-নিরাপত্তাই প্রথম—এই নীতি ওদের ...
- এসো নীপবনে-আহত কাকছানা by আবুল হায়াত
- যুক্তি তর্ক গল্প-ইন্দিরাকে সম্মাননা ও ভারত-বাংলাদে...
- বাজার সহনীয় করতে হস্তক্ষেপ জরুরি-বাণিজ্য মন্ত্রণাল...
- দুর্বৃত্তদের পাকড়াও করুন, শাস্তি দিন-ফখরুলের গাড়িব...
- চারদিক-আনারসের গ্রাম by কল্যাণ প্রসূন
- রাজনীতি-রাষ্ট্রপতিদের সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা বাঞ...
- ধর্ম-মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তা ৎপর্য by মুহাম্মদ আ...
- গদ্যকার্টুন-আমি চিনি গো চিনি তোমারে by আনিসুল হক
- সহজিয়া কড়চা-‘ঘৃণা ভালো’ নয়—ভালোবাসা ভালো by সৈয়দ আ...
- সব দলের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা চাই-রাজনৈতিক...
- স্থানীয়দের আবেগ অগ্রাহ্য করা ঠিক হবে না-ভাটিয়ারীতে...
- ধন্যবাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর by রোমেন রায়হান
- মূল্য দ্য প্রাইস by আসিফ মেহ্দী
- পাণ্ডা by সৈয়দ মুজতবা আলী
- রসকারণ-পাঁচ হাজার না আট হাজার? by আব্দুল কাইয়ুম
- সমালোচনা নয়, নিজের স্ট্যাটাস বাড়ান-ইয়াহু!! দাম বাড়ছে!
- ডায়ালিসিস মেশিন নষ্ট-স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থা কাটব...
- কালো টাকা সাদা করা-বন্ধ করতে হবে উৎসমুখ
- পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহ নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন যেন ...
- 'কালো আর ধলো বাহিরে কেবল...' নয় by লুৎফর রহমান রনো
- চালচিত্র-উপেক্ষিত মধ্যবিত্ত, তাকাতে হবে তাদের দিকে...
- এই দিনে-কনসার্ট ফর বাংলাদেশের চার দশক by এম এম খাল...
- সময়ের প্রেক্ষিত-আজুমা: বঙ্গপ্রেমী অনন্য এক বিদেশি ...
- চরাচর-সাঁওতাল বিদ্রোহ by সাজ্জাদ কবীর
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-মত প্রকাশের জন্য শিক্ষককে শা...
- কূটনীতি-হিনার ‘দিল্লি জয়’ ও পাকিস্তানি শাসকদের সুম...
- সরল গরল-ডিসিদের স্বপ্নের ক্যাঙারু কোর্ট by মিজানুর...
- হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন-লামায় তিন হত্যা
- ভারতীয় মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি কার্যকর দেখতে চাই-সীমা...
- রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ব্যর্থ রাষ্ট্রের ধারণা by ড. ত...
- তত্ত্বাবধায়ক : রত্নতিলক, না কলঙ্ক স্মারক? by এস এম...
- ইতি-নেতি-রুমানা মনজুরের চোখ যে সত্যকে উন্মোচন করেছ...
- সাদাকালো-ক্ষুদ্রঋণ সহায়তার ঐতিহ্য নিয়ে কিছু কথা by...
- বৃক্ষপ্রেমী গ্রামীণ শিশু by আব্দুদ দাইন
- সিরিয়া-আসাদ সরকার টিকে থাকছে কিসের জোরে? by বাছমা ...
- রাজনীতি-অলির বলি আর রাজনীতির গলায় গামছা! by বদিউর ...
- দূরত্বেই লাভ by আরিফ হোসেন
- জাবিতে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন-অপরাধীকে কোনোভাবেই প্রশ...
- সমকালীন প্রসঙ্গ-বাংলাদেশে অপরাধের জগৎ যেভাবে চলছে ...
- রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতেই...
- মাহে রমজান-ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক
- বজলুর রহমান : মৃত্যুঞ্জয়ী সাংবাদিক by জোবাইদা নাসরীন
- দাবাং গার্ল কুলরাজ
- ভিড় দেখলেই ভয়ে জড়োসড়ো
- চাকরির বয়সসীমা-বয়স যখন ৬৫ by তারেক শামসুর রেহমান
- সালমার ‘ব্রেকফাস্ট প্রজেক্ট’!
- বই বাছাই by মাহবুব মোর্শেদ
- ভারত-মৌজ মাস্তি ম্যাজিক by অমিত বসু
- কণ্ঠস্বর-দায়িত্বশীল রাজনীতি চাই by রাহাত খান
- মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা-মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হবে না?
- সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ড-শুধু আশ্বাসে আস্থা নেই
- স্মরণ-প্রদীপের পেছনের স্বজন by জোবাইদা নাসরীন
- বিশেষ সাক্ষাৎকার-মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আফ...
- চাষিদের নিবৃত্ত করুন আর সরকার হয়ে উঠুক তৎপর-বিষাক্...
- ভারতের আশ্বাস যেন কথার কথা না হয়-সীমান্তে হত্যা বন...
- পাট রপ্তানি-নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে
- ঢাকা-দিল্লি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক-বন্ধুত্ব দৃঢ় কর...
- পবিত্র কোরআনের আলো-জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও আল্লাহ ও...
- পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের দুরবস্থা by মোহাম্মদ ফায়েক উ...
- আমি আশাবাদী, একটি সুরাহা হবে by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- চারদিক-শিল্পরসিকেরা লক্ষ করুন by তমাল তাহসীন
- টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
- বড় দলগুলোর আন্তরিকতা দরকার by আকবর আলি খান
- চলছে স্টল গোছানোর কাজ
- ‘অক্ত, অক্ত বলে কান্না শুরু করে ইয়ামিন’
- তিন খুনের কূলকিনারা হয়নি by একরামুল হক
- সন্তানের অপেক্ষায় মা, স্বামীর পথ চেয়ে স্ত্রী
- ভাগ্যবদলের প্রবাসজীবন by মিঠুন চৌধুরী
- তরুণ আইনজীবীর সুখ-দুঃখ
- ভোলায় আদালত স্থানান্তর আইনজীবীদের আপত্তি by নেয়ামত...
- পাঠকের প্রশ্ন-আইনি পরামর্শ
- কীভাবে চাইবেন তথ্য by ফাহমিদা চৌধুরী
- সন্তান নিয়ে অপবাদ এবং ওয়ারেন্ট জারির গল্প by তানজি...
- পাঠক কর্নার: সেরা চিঠি-বদল চাই মাঠের ফুটবলের
- ‘ফুটবল খেলার জন্যই আমার জন্ম’
- অবশেষে সেঞ্চুরি.
- টেনিসের খলনায়ক বাবারা
- ব্রাজিল টু বাংলাদেশ
- চরাচর-ঘড়িয়াল নেই! by আলম শাইন
- সবচেয়ে ভালোবাসো মাতৃভাষাকে by আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
- বৃত্তের ভেতরে বৃত্ত-মাইলিন ক্লাশের কাছে খোলা চিঠি ...
- রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা by এ এম এম শওকত আলী
- অভিযোগ করেও কাজ হচ্ছে না-শতবর্ষী পুকুর ভরাট করছে প...
- প্রতারণার মামলায় প্রতারণার অভিযোগ! by কবির হোসেন
- স্ত্রী-শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা
- বাঘাইছড়িতে ঘুম থেকে উঠিয়ে শিক্ষককে হত্যা
- বইয়ের মেলা প্রাণের মেলা-নেভার আগে প্রদীপের জ্বলে ও...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- আদায় হয়নি খেলাপি ঋণ-দায় অব্যাহতি চান প্রাইম ব্যাংক...
- সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে ১১০ কোটি টাকা-বাজারদরের চ...
- মনভোলানো খাবার আর সুরের আমেজে মাতোয়ারা কলকাতা by অ...
- সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে ১১০ কোটি টাকা-বাজারদরের চ...
- উইকিলিকস-মার্কিন গোপন নথিতে বিডিআর বিদ্রোহ by মশিউ...
- অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে আলোচনা-১৪ দলে শরিকদের মধ্যে...
- জনপ্রতিক্রিয়া-বিষয়: ‘বেডরুম পাহারা’ by এ কে এম জাক...
- ১২ মার্চের মহাসমাবেশ-বাধা ঠেকাতে প্রস্তুত বিএনপি b...
- ‘খুনি’ বিপ্লবকে আবার ক্ষমা by টিপু সুলতান
-
▼
Feb 26
(108)
-
▼
February
(3241)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment