বয়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি by মোরসালিন মিজান

পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন শেখ মুজিব। বাইরে হুংকার ছাড়লেও ভেতরে ভেতরে তাঁর ভয়ে কাঁপত আইয়ুব- ইয়াহিয়ারা। শেখ মুজিবকে বধ করার নতুন নতুন কৌশল খুঁজে বেড়াত তারা। এদের রোষানলে পড়ে জীবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে বাংলার অবিসংবাদিত নেতাকে।


এর পরও বাঙালীর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে চুল পরিমাণ সরে দাঁড়াননি তিনি। বরং জল্লাদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে বাঙালী। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় পাকিস্তানী কারাগারে বন্দী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। কবর খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু ততদিনে শেখ মুজিব সারাবিশ্বের। মুক্তিকামী মানুষের নেতা। আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা তাঁর। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাকিস্তানী বর্বররা পিছু হটতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধুকে সুস্থ অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেয়। মাথা উঁচু করে মুক্ত স্বাধীন দেশে ফেরেন জাতির জনক।
কিন্তু তখন কে জানত, পাকিস্তানীদের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবে বাংলাদেশেরই কিছু বিশ্বাসঘাতক! অথচ তাই হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর বিপথগামী কিছু কর্মকর্তা বাংলাদেশের স্থপতিকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। শেখ মুজিবকে চিরকালের জন্য মুছে ফেলতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য বলতে হবে হায়েনাদেরÑ স্বপ্নটি পূরণ হয়নি তাদের। বরং সকল কালো অধ্যায় পেছনে ফেলে অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্রটি হয়ে জ্বলছেন শেখ মুজিব। যত দিন যাচ্ছে ততই অনুভূত হচ্ছে তাঁর অভাব। শোক সাগরে ভাসাতে আসছে এক একটি ১৫ আগস্ট। দিনটি এখন জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়। তার আগে মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। নানা আয়োজনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে জাতির জনককে। ১৫ আগস্ট কালরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে রাজপথে টানানো ব্যানার ফেস্টুন। শহরের সর্বত্রই চোখে পড়ছে জাতির জনকের প্রতিকৃতি। সেই রাতে নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিষ্পাপ মুখ দেখে মন বার বার ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে।
এবার শোকের আগস্টেই শুরু হয়েছিল রমজান। দেখতে দেখতে শেষও হয়ে এসেছে। আর মাত্র কয়েক দিন পর ঈদ। শহর জুড়ে তার প্রস্তুতি চলছে। নিজের ও পরিজনের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকছে শপিংমলগুলো। চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে এ কেনাকাটা।
ঈদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এ সময় বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকা ছাড়েন লাখ লাখ মানুষ। এবার লম্বা সরকারী ছুটি। ফলে বিগত বছরের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ বাড়ি যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাস, ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। কমলাপুর, সায়েদাবাদ, গাবতলী সর্বত্রই টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইন। এ লাইন দ্রুত ছোট হয়ে আসবে। বাড়ি পৌঁছবেন সকলে। এবং একইভাবে ফিরে আসবেন। তবে মাঝখানে একটি উদ্বেগের বিষয় থেকেই যায়। আর তা হচ্ছে, এ যাতায়াত কতটা নিরাপদ হবে! লক্ষণ খুব ভাল নয়। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা দেখতে হয়েছে। সামনে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। তখন কি হবে? সংশ্লিষ্টরা এখনই বিষয়গুলো নিয়ে ভাববেনÑ এমনটিই প্রত্যাশা করছেন সচেতন মানুষ।