সেমিস্টার ফি জোগাড় করতে বন্ধুকে খুন

উনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের (ইউডা) ছাত্র শামীম হাসান রেজা খুন হয়েছেন বন্ধুর হাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফির জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একই বিভাগের ছাত্র ও রুমমেট চৌধুরী মো. জুলকার নাইন ওরফে মনি (২৩)। হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর মনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের এই নৃশংস হত্যার কথা জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জুলকার নাইন মনির কাছ থেকে নিহতের একটি


ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অন্য সহপাঠীদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে পাবলিক টয়লেটের সামনে থেকে বুধবার সকালে শামীমের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে শেরে বাংলানগর থানার পুলিশ। শামীম ধানমণ্ডিতে ইউডার ফার্মেসি বিভাগে প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। আর জুলকার নাইন ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র। তাঁরা শ্যামলীর রিং রোডে প্রবাল হাউজিংয়ে ৫৪ নম্বর ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলের পঞ্চম তলায় ১৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রথমেই তারা বন্ধু মনিকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। বুধবার সন্ধ্যায় মনিকে লালমাটিয়া থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার ফির টাকা জোগাড় করতে বন্ধু শামীমের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসেটটি হাতিয়ে নিতে সে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গতকাল শেরে বাংলানগর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে জুলকার নাইন মনি সাংবাদিকদের জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মদ পানের কথা বলে শামীমকে নিয়ে সে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়। তারা একসঙ্গে রিকশাযোগে কলাবাগান এলাকায় হোটেল এ্যারামে যায়। সেখানে শামীমকে সুকৌশলে মদ পান করিয়ে মাতাল করে। এরপর তারা রিকশা নিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানের পশ্চিম দিকের পাবলিক টয়লেটের বাউন্ডারির পাশে এসে পরস্পর কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে মনি পরীক্ষার ফির টাকা জোগাড়ের জন্য শামীমের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসেট বিক্রির জন্য রুমের চাবি চায়। চাবি দিতে না চাইলে মনি কোমরে রাখা চাকু দিয়ে শামীমের গলায় কয়েকটি পোঁচ দেয়। পরপর আঘাত করে সে শামীমের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর লাশের চেহারা বিকৃত করতে চাকু দিয়ে মুখের ওপর উপর্যুপরি পোঁচ দেয়। লাশ ফেলে পালানোর সময় সে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইমাম হোসেন জানান, শামীমের মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকেই তাঁর রুমমেট মনি পলাতক ছিল। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মনি জানায়, মঙ্গলবার রাতে ঘটনা ঘটিয়ে সে ফার্মগেটে এক বাসায় থাকে। পরদিন সকাল ৯টার দিকে হোস্টেলে ফিরে রক্তামাখা কাপড় ধুয়ে শুকাতে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। মূলত তার ওই ধোয়া কাপড়ের দুই জায়গায় রক্তের দাগের উপস্থিতি পেয়েই প্রথমে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে লালমাটিয়া থেকে তাকে আটক করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইমাম হোসেন বলেন, ঘাতক মনির একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে গিয়ে সে বাড়ি থেকে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফির টাকা খরচ করে ফেলে। পরে ওই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবে মনি ও শামীমের বন্ধুরা জানিয়েছেন, ইংরেজি মাধ্যমের এক ছাত্রীর সঙ্গে দুই বন্ধুর ভালোবাসার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। এর জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.