মন্ত্রিসভায় রদবদল-আরও কম কথা আরও বেশি কাজ

ন্ত্রিসভায় দু'জন নতুন মন্ত্রী নিয়োগ এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিভক্ত করে তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আরেকজন নিজ মন্ত্রণালয়েই প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। বাণিজ্য এবং বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব অদলবদল করা হয়েছে। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দ্বিখণ্ডিত হয়েছে এবং এর শেষেরটি পেয়েছেন একজন পূর্ণমন্ত্রী, যিনি এর আগে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্বে ছিলেন।


সরকার গঠনের প্রায় তিন বছর পর মন্ত্রিসভায় এ ধরনের রদবদল ও নতুন মুখ যুক্ত করাকে বড় ধরনের পরিবর্তন বলা যাবে না। তবে এটা বলা যায় যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়েই গ্রহণ করেছেন। এটা আরও আগে করা যেত কি-না, সে প্রশ্ন করা যেতেই পারে। তবে বিশেষভাবে যোগাযোগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা জোরালো ছিল এবং তা মনোযোগও পেয়েছে। এখন যারা যেখানে দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের পারফর্ম করে দেখাতে হবে যে যোগ্যরাই মনোনীত হয়েছেন। রেল মন্ত্রণালয় নতুন করে গঠিত হয়েছে এবং যোগাযোগের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এ খাত পেয়েছেন একজন অভিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিক। পদ্মা সেতুর মতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জাতীয় প্রকল্পের জট খুলতে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হওয়ার আগে এ দু'জন ছিলেন কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা ও অদক্ষতার কঠোর সমালোচক। গঠনমূলক পরামর্শ ও সুপারিশ রাখার জন্যও তারা প্রশংসা পেয়েছেন। তাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির ফলে সরকারের রাজনৈতিক দক্ষতা নিশ্চিতভাবেই বাড়ল; কিন্তু প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে কি-না সেটা তাদেরই প্রমাণ করতে হবে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে সময়মতো ট্রেন চলাচল নিশ্চিত এবং লোকসান কমিয়ে এ খাতকে লাভজনক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর ওবায়দুল কাদের বলেছেন 'কম কথা ও বেশি কাজ' করার কথা। তিনি চ্যালেঞ্জ ভালোবাসেন বলেও জানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এটা হচ্ছে আমজনতার মনের কথা। বাংলাদেশে এত সমস্যা যে মন্ত্রীদের তার সমাধানে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে কথা বলার ফুরসতই মেলার কথা নয়। কিন্তু দেশবাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছে, অনেক মন্ত্রী কাজ ফেলে অহেতুক কথা বলেই চলেছেন। তারা কেউ দ্রব্যমূল্য কমানোর লক্ষ্য অর্জনে দেশবাসীকে কম খেতে উপদেশ খয়রাত করেছেন, কেউবা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়ার পরও সম্বিত ফিরে পেতে চাননি, আবার কেউ কেউ নিজের দফতর উপেক্ষা করে অন্যদের কাজ নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন। দেশবাসী আশা করবে যে, প্রধানমন্ত্রীর এ পদক্ষেপ সব দফতরের মন্ত্রীদের জন্যই চোখ খুলে দেওয়ার কাজ করবে। মন্ত্রিসভায় আরও কয়েকজন রয়েছেন যাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত দক্ষতা মিলছে না। কেউ কেউ শারীরিক কারণেও দায়িত্ব পালনে অক্ষম। সাধারণভাবে 'চমকের মন্ত্রিসভা' দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত হলেও সবাই যে ক্লিন, সেটাও বলা যাবে না। তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত। এবারের রদবদল গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তার মাত্রা সীমিতই বলা চলে। দিনবদলের অঙ্গীকার পূরণ করতে হলে সরকারের তরফে উদ্যম এবং দক্ষতা-যোগ্যতা অবশ্যই বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এ প্রত্যাশা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।

No comments

Powered by Blogger.