Friday, August 3, 2012
মালয়েশিয়ায় বাঙালী by মুনতাসীর মামুন
মালয়েশিয়ায় বাঙালী by মুনতাসীর মামুন
(পূর্ব প্রকাশের পর) অনেকে ধরা পড়ছে। তাদের আইনি সাহায্য দরকার। এবং সে জন্য টাকারও দরকার। দূতাবাস একজন আইনজ্ঞ ঠিক করে দেবে। তিনি এ সব কাজ করবেন। টাকাটাও সরকার দেবে। ‘একজন অপরাধ করবে, তাকে ছাড়াবার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে, এটি কেমন যুক্তি?’ জিজ্ঞেস করি আমি।
তারা যুক্তির খুব একটা ধার ধারেন না। প্রবাসীরা কি বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট করছে না? করছে। কিন্তু যদি বলি নিজের জন্যই তো করছে। যে টাকা তারা পাঠাচ্ছেন তা তো তারাই খরচ করছেন। সরকার তো তাতে ভাগ বসাছে না। সেই যুবকটি অভিযোগ করেই চলছেন। আমরা চুপ করে থাকি। কোন দেশে আমি দেশের দূতাবাসের প্রশংসা শুনিনি। অভিযোগ প্রায় ক্ষেত্রে একতরফাই হয়।
‘এই যে দেখেন,’ একজন একটি পত্রিকা এনে আমার হাতে দেয়।
পত্রিকার নাম সাপ্তাহিক বাংলার কথা। সম্পাদক মোঃ আযাদ। বেশ রঙচঙে। ছাপা কিন্তু ঢাকায়। অন্যান্য দেশের বাংলা পত্রিকার মতো দেশের সংবাদপত্রেরই অধিকাংশ খবর। দু’একটি মালয়েশিয়ার। যেমন প্রথম পৃষ্ঠায় মালয়েশিয়ার বাংলাদেশীদের নিয়ে কয়েকটি খবর। উপ- শিরোনাম ‘মালয়েশিয়া ৬-পি নামে প্রতারণা॥ লাখ লাখ রিঙ্গিত নিয়ে পলাতক ওমর আকাশ। খবরের একাংশÑ “মালয়েশিয়ার ৬-পি নামে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ রিঙ্গিত হাতিয়ে আত্মগোপন করে আছে বাংলাদেশী এক প্রতারক। ওই প্রতারকের নাম ওমর আকাশ। জানা যায়, তার কোম্পানির নামে শত শত বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করত। তাদের পারমিট ও ভিসা করে দেওয়া বাবদ প্রায় ৭২ জানের কাছ থেকে মালয়েশিয়া রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যায় ...।”
দ্বিতীয় খবরÑ “মালয়েশিয়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি। ১০ বাংলাদেশী গ্রেফতার ॥” .... এবার মালয়েশিয়ার গিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে কতিপয় প্রবাসী বাংলাদেশী। মালয়েশিয়ায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত এ রকম একটি গ্রুপের সব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশী, অপর একজন ইন্দোনেশীয় মহিলা। সিলেঙ্গরের পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওই গ্রুপের হাতে অপহৃত চারজন বাংলাদেশী ও দুইজন মিয়ানমারের নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।” ‘মালয়েশিয়ায় যুবদল নেতার মেয়ের জন্মদিন পালিত’Ñসংবাদটিও বড়সড় সচিত্র। একটি সিরিজ শুরু করেছে পত্রিকা ‘সফল যারা কেমন তারা’ নামে। এই সিরিজের ১ম পর্বে আছে মোঃ লিটন আজিজ দেওয়ানের বিবরণ। এসেছিলেন ১৯৮৮ সালে শ্রমিক হয়ে। এখন সফল ব্যবসায়ী, মালয়েশিয়া শ্রমিক লীগের সভাপতি। “বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়াতে বিয়ে করে তিন ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন।”
‘বাংলার কথা’ উল্টেপাল্টে এসব খবরে চোখ বোলাচ্ছি। হাশেম ভাই কথা চালিয়ে যাচ্ছেন, মাঝে মাঝে রবিউল ভাই, তবে, তাদের তেমন কিছু বলতে হচ্ছে না। যুবকরাই বিভিন্ন অভিযোগ করে যাচ্ছেন। ‘এই নেন আরেকটি পত্রিকা’ এক তরুণ পত্রিকা সম্পর্কে আমার ঔৎসুক্য থেকে বাইরে এক বাঙালী দোকান থেকে একটি পত্রিকা এনে দিল, নামÑপ্রবাসীর কথা। একই রকম রঙচঙে পত্রিকা এবং ঢাকা থেকে মুদ্রিত। ধরে নিলাম একটি আওয়ামী সমব্যথী,অন্যটি বিএনপি সমব্যথী। তবে এই পত্রিকারও প্রথম শিরোনামÑ ‘পিতা-পুত্রের প্রতারণার খবরে মালয়েশিয়ায় তোলপাড়।’ রোমেল ও তার পিতা শ্রমিকদের আনার ব্যাপারে প্রতারণা করেছেÑ এটিই মূল বিষয়।
শ্রমিক নিয়ে এই প্রতারণা বাঙালী অনেকে করছে। তবে, এর সঙ্গে মালয়েশিয়া পার্টনার থাকা অস্বাভাবিক নয়। মালয়েশিয়ায় যেসব প্রতারণা হচ্ছে তার বড় অংশ শ্রমিক ব্যবসা নিয়ে। জানি না সরকার কী ভাবে তা বন্ধ করবে। ভাগ্যান্বেষীরা সচেতন না হলে এই প্রতারণা ঠেকানো মুশকিল। তবে, ভাগ্যান্বেষী সব সময় ঝুঁকি নেবেই। কারণ ভাগ্য বদলাতে হলে তো ঝুঁকি নিতেই হয়।
হাশেম ভাই আলোচনা অন্য প্রসঙ্গে নিতে চান। অভিযোগ আর কত ভাললাগে। শুনতে ভাল লাগে অভিবাসীদের ইতিবাচক খবর।
‘এখান থেকে পত্রিকা বেরোয় কয়টা?’ জিজ্ঞেস করেন হাশেম ভাই।
‘দুইটা’ জবাব দেন একজন। বাঙালী চরিত্রের ইতিবাচক এই একটি দিক। যেখানে বাঙালী আছে সেখানেই বাংলা পত্রিকা বের হচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডন ও নিউইয়র্ক তো বাংলা পত্রিকায় জমজমাট। অনেক পত্রিকা লাভজনকও হয়ে উঠছে।
বিকেলের রোদ মরে আসছে। তাপ কমছে খানিকটা। উঠতে হয়। কোন কথা না বলেই উঠে দাঁড়াই। একজন বলে, ‘চলেন স্যার, আমার রেস্টুরেন্টে। একটু চা খেয়ে যাবেন।’ রাজি হই। আমরা তিনজন ওই যুবকের সঙ্গে বেরিয়ে আসি। ড্রাইভার আমাকে নিচু গলায় জানান, ‘উনি এখানে ভাল ব্যবসায়ী। রেস্টুরেন্ট আছে কয়েকটা।’
যুবকের নাম জাকির। তার রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসেন আমাদের। পেছনের একটি টেবিলে বসি। ম্যানেজার এক মালয়েশীয় মহিলা। অন্য কর্মচারী সব বাঙালী। ক্রেতাও সব বাঙালী। রেস্টুরেন্ট প্রায় ভর্তি। সকাল থেকে রাত অব্দি চলে। চা নাশতা দুপুর বা রাতের খাবার। মাত্র সাত রিঙ্গিতে ডাল ভাত সবজি নিয়ে পেটপুরে খাওয়া যায়।
‘এই রিন্টু, এখানে চা মিষ্টি সিঙ্গারা ...’ এক কর্মীকে ডেকে বলেন জাকির।
‘আরে না না, চা হলেই চলবে,’ বলেন রবিউল ভাই।
‘খান না স্যার খান’, অমায়িক গলায় উত্তর দেয় জাকির। রেস্তোরাঁর ব্যস্ততা দেখে ভালই লাগে। ব্যবসা-বাণিজ্যে যদি বাঙালী ভাল করে তাহলে বাঙালীরই তো লাভ। এক বাঙালী আরেক বাঙালীকে টেনে তুলতে পারবে।
‘জাকিরের ক’দিন হলো বিদেশে’ চায়ে চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করি। চা’টা বেশ ভালই লাগছে।
‘কম না স্যার,’ হেসে উত্তর দেয় জাকির, ‘১৭ বছর হয়ে গেল। ১৮ বছর বয়সে বের হয়েছি।’
আমি আরও অনেক জায়গায় বাঙালীদের সঙ্গে কথা বলেছি যারা শূন্য থেকে সচ্ছল হয়েছেন। সবার ইতিহাস প্রায় একই রকম। হয়ত বিদেশী পৃষ্ঠপোষক পেয়ে গেছেন, নতুবা প্রচ- পরিশ্রম করেছেন। আরও অনেক বাঙালী উঠে যেতেন যদি পার্টনারশিপ ব্যবসাটা তারা করতে পারতেন। ব্যবসা একটু ভাল হলেই পার্টনারশিপ ভেঙে যায়।
জাকির ১৭ বছর আগে ১৮ বছর বয়সে ঢাকা ছেড়েছিলেন। মাত্র এসএসসি পাস করেছেন তখন। শ্যাম দেশে গিয়েছিলেন প্রথম। সেখান থেকে চলে আসেন মালয়েশিয়ায়। না, কুয়ালালামপুরে কোন কাজ পাননি। যেতে হয়েছিল শহরের বাইরের, কৃষি খামারে। তার কাজ ছিল সবজি বাগানে। থাকা খাওয়া সব মালিকের। বেতন ৪৫০ রিঙ্গিত। জাকির জানিয়েছেন, সে সময়ই ১০০ থেকে ১৫০ রিঙ্গিত জমাতে পারতেন।
তিন বছর সবজি বাগানে কাজ করার পর চলে গেলেন চা বাগানে। সেখানে বেতন ছিল বেশি। ১০০০ রিঙ্গিত পেতেন। সেখানেও কাজ করলেন বছর তিনেক। ‘কিছু টাকা জমিয়ে পাড়ি দিলাম কেএলে [কুয়ালালামপুর]। ঠিক করলাম ব্যবসা করব। আরও তিন পার্টনার নিলাম। শুরু করলাম এই রেস্টুরেন্ট।’
‘কেমন চলে রেস্টুরেন্ট?’ জিজ্ঞেস করেন হাশেম ভাই।
‘আপনাদের দোয়ায় ভালই স্যার,’ জানালেন জাকির। রেস্টুরেন্ট যে ভাল চলছে তা তো দেখতেই পাচ্ছি। ‘এটি ছাড়া,’ বলেন জাকির, ‘আরও দু’টি রেস্টুরেন্ট আছে অমাদের বাঙ্গি ও বুকিবিন্দাসে।’
‘পার্টনারশিপ টিকে থাকবে?’ জানতে চাই আমি।
‘এখনও তো টিকে আছে। ভবিষ্যতের থাকবে আশা করি। ব্যবসা তো কমছে না। আমাদের কর্মচারী সংখ্যাই তো ষাটের মতো।’ জাকিরের বাড়ি গাড়ি সংসার সবই হয়েছে। সে জন্য দেশে তো যেতে হয় মাঝে মাঝে। ‘তাহলে এখানেই থেকে যাবেন?’ জিজ্ঞেস করেন রবিউল ভাই।
‘কী যে বলেন!’ জানায় জাকির, ‘এখানে আছি ভাল লাগে বলে। দেশের মতো গ্যাঞ্জাম নেই। ব্যবসা করি আয় করি খাই দাই। তবে, দেশে তো স্যার ফিরতেই হবে।’
রাত অনেকটা হয়ে গেছে। হোটেলে ফিরতে হবে। তারপর খাওয়ার ব্যাপার আছে। গাড়িতে উঠে রবিউল ভাই বললেন, ‘আমার ব্যাগ।’
না, কোথাও তার ব্যাগ নেই। বললাম ‘রাষ্ট্রদূত দুপুরে খাওয়ালেন যে ঘরে সেখানে ফেলে আসেননি তো?’
রবিউল ভাই কিছুই মনে করতে পারছেন না। দূতাবাস তো বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর দু’দিন বন্ধ। চাবি থাকে আরেকজনের কাছে। বললাম, ‘দূতাবাসে যাওয়া যাক।’
‘হ্যাঁ গিয়ে দেখি স্যার,’ ড্রাইভার জানাল, ‘দূতাবাসের কাছেই তো হোটেল।’ ‘দেখেন দেখি, যার কাছে চাবি আছে তিনি আছেন কিনা? থাকলে যেন অপেক্ষা করেন।’ বলি আমি।
‘রবিউল, সব কিছু এক ঝুড়িতে রাখেন কেন?’ হাশেম ভাইয়ের প্রশ্ন।
পাসপোর্ট, ডলারসহ ব্যাগ হারানো মানে আমাদের সফর আরও কয়েকদিন বাড়বে। পাসপোর্ট করাতে হবে। সবার মনই থাকবে নিরানন্দ।
‘স্যার, ওই লোককে পাওয়া গেছে,’ সেলফোন অফ করতে করতে জানালেন ড্রাইভার।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছিÑদূতাবাসে সব বন্ধ। ড্রাইভার আবার সেলফোনে চাবিওয়ালা লোককে ধরেন। তিনি এসে দরজা খোলেন। গাড়ির মধ্যে আমি বয়োকনিষ্ঠ দেখে বলি, ‘আপনারা বসেন, আমি দেখে আসি।’
রাষ্ট্রদূতের রুমের পাশে একটি বড় রুম। সেখানেই দুপুরে আমরা খেয়েছিলাম। দেয়ালের এক পাশে দেখা গেল রবিউল ভাইয়ের সেই কালো ব্যাগ। রবিউল ভাইয়ের হাতে ব্যাগ গছিয়ে দিয়ে বলি, ‘রবিভাই, আমাদের মতো পুণ্যবান কিছু মানুষ ছিল দেখে ব্যাগটি ফিরে পেলেন। না হলে তো আমাদের পুরো সফরটিই আপনি মাটি করে দিতেন।’
সকালে উঠে ২০ তলার জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই। রোদ নেই, আকাশটা মেঘলা। রাস্তা ভিজে ভিজে। গাছের পাতা আরও সবুজ । রাতে বৃষ্টি হয়েছে। টের পাইনি। রোদের তাপ কমে গেছে। রাস্তাঘাট খালি। ভাবলাম, একটু হেঁটেই আসি।
হোটেল থেকে বেরিয়ে ডান দিকে সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকি। দু’পাশে গাছের সমারোহ। ‘আমদের সব সময় একটা ইল্যুশনের মধ্যে রাখা হয়েছে’ হাঁটতে হাঁটতে ভাবি। ছোটবেলায় পড়েছি, এশিয়ার বৃহত্তম রেলস্টেশন কমলাপুর, বৃহত্তম বন্দর চট্টগ্রাম। আমাদের দেশের মতো সবুজ দেশ আর নেই। দেশের বাইরে পা দিয়ে দেখি কোনটাই সত্য নয়। এই কুয়ালালামপুরেই গাছের যা সমারোহ তা দেখেই অবাক হতে হয়। ঢাকা তার তুলনায় তপ্ত ধূসর মরুভূমি।
তাপ নেই, বাতাসে হয়ে যাওয়া বৃষ্টি বৃক্ষ আর মাটির গন্ধ। একটু এগোতেই দেখি, ডান পাশে ছেলেদের একটি স্কুল। ক্লাসে শুরু হয়নি, ছেলেরা হৈ হট্টগোল করছে। তার ঠিক উল্টো দিকে যে ফুটপাথ ধরে আমি হাঁটছি সেখানে মেয়েদের স্কুল। মনে হলো, হাইস্কুলই হবে। সবার পরনে ইউনিফর্ম এবং চুল ঢাকা, সে বালিকা কিশোরী যেই হোক না কেন। একটু ভিড় শুধু এখানটায়। বাবা-মা ছেলেমেয়েদের নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। একটু বড়রা হেঁটেই আসছে। স্কুলের দোরগোড়ায় উঁচু ক্লাসের কয়েকটি মেয়ে দাঁড়িয়ে। ছাত্রী যারা আসছে তাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। আমি সামনের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকি। দেখি এক বাবা মোটরসাইকেলে মেয়েকে নিয়ে আসছেন। স্কুলের গেটের সামনে থামলেন। পেছনের সিট থেকে কিশোরীটি নামল। বাবার হাতে চুমো খেয়ে স্কুলে ঢুকে পড়ল। আরেকটু সামনে যেতে আরেকটি বড় স্কুল। দেখেই বোঝা গেল, এটি শুধু চীনাদের জন্য। চীনা বাবা-মা ছেলেমেয়েকে নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। আগের স্কুল দু’টি মালয়েশীয়। আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম। পাশাপাশি তিনটি স্কুল। অন্যদিকে আবাসিক এলাকা। কোন ভিড় নেই, শব্দ নেই। অথচ, ঢাকার ধানম-িতে যেখানে আমি থাকি, সেখানে অগণিত স্কুল-কলেজ যা থাকার কথা নয়। পৃথিবীর কোথাও নেই, কলকাতায়ও। সকাল ন’টা পর্যন্ত ভিড় ভাড়াক্কা হৈচৈ, মনে হয় সদরঘাট নৌ-টার্মিনালে আছি। সরকারী আদেশ। হাইকোর্টের নির্দেশ কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। কারণ যারা নির্দেশ পালন করবেন, তাদের স্বার্থ এখানে জড়িত। পরিবর্তন পরিবর্তনের কথা বলেছেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু কোন পরিবর্তনই করতে পারেননি। কারণ তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে চাননি।
এই যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি, তিনটে স্কুল কিন্তু কেন কোন ভিড় নেই? উল্টো দিকে তো আবাসিক এলাকা! ফুটপাথ ঘুরে বড় রাস্তার দিকে এগোই। গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। কই কোন ভিড় ভাড়াক্কাতো নেই। একটি গাড়ির চালকও ট্রাফিক সিগন্যাল ভঙ্গ করছে না। বড় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশও তো তেমন দেখলাম না। ঢাকার রাস্তায় নাকি গাড়ি বেশি!
মালয়েশিয়ার গ্রামেগঞ্জেও তো দেখেছি গাড়ি, কেএলের কথা বাদ দিই। বিদেশে এলে রাজনীতিবিদদের আমলাদের ব্যর্থতাটা চোখে বেশি পড়ে।
অথচ প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। এক যুগ আগের মালয়েশিয়া আর এখনকার মালয়েশিয়ার তফাতটা বেশ চোখে পড়ে। এই বদলে যাওয়া দেশটাকে এগিয়ে নিচ্ছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কি নেই?
আছে কিন্তু এখানে দেশবিরোধী কোন শক্তি নেই। কয়েকদিন আগে, বিরোধী দল ধর্মঘট ডেকেছিল, মিছিল করে কিছু ভাংচুর করে ছিল। তার দ- তারা এখন দিচ্ছে। ভাংচুরে দায়দায়িত্ব নিয়ে অনেককে জেলে যেতে হচ্ছে। জরিমানা গুনতে হচ্ছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে। অনুমতি ছাড়া মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সবাই সরকারী এই নির্দেশনা মেনে নিয়েছে। মিডিয়াতে এ নিয়ে কোন হৈচৈ নেই। অর্থাৎ, রাজনীতি করো, কিন্তু জনজীবনে বিশৃঙ্খলায় প্ররোচনা দেয়া যাবেন না। আনোয়ার ইব্রাহিম যাকে মাহাথির হটিয়ে দিয়েছিলেন, মাঝখানে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন, এখন আবার তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পচ্ছে। এক মালয়েশীয় বলছিলেন, এর কারণ তিনি ফান্ডামেন্টালিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তরুণরা এ কারণে ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে মাহাথির এখনও জনপ্রিয়। বাঙালীদেরও পছন্দ মাহাথির। হেলাল আলাপের সময় বলছিলেন, ‘দেখা করবেন নাকি মাহাথিরের সঙ্গে?’ আমি অবাক হই, হেলাল এমনভাবে বলছেন, যেন মাহাথির তার পাশের বাসায় থাকেন। একবার ঘড়ি দেখলেন, বললেন, ‘না দেরি হয়ে গেছে। মাহাথির শুক্রবারের নামাজ পড়েন মসজিদে।
[কোন একটা নাম বলেছিলেন, মনে নেই] নামাজ শেষে সবার সঙ্গে মোলাকাত করেন। বাঙালীদের তিনি খুব পছন্দ করেন।’ আরেক বাঙালী বলছিলেন, টুইন টাওয়ার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মাহাথির। টাওয়ার কমপ্লিট হলে টাওয়ারের মালিক মাহাথিরকে সর্বোচ্চ তলায় একটি অফিস দিয়েছেন। মাহাথির মাঝে মাঝে সেখানে আসেন। লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন। অস্বীকার করার উপায় নেই, আজকের মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির। আর এই রূপান্তরে বাঙালীদেরও একটা অবদান আছে।
যে কুয়ালালুমপুরে এসেছিলাম সে কুয়ালালুমপুর ঠিকই আছে, তবে প্রকৃতি বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার মনোরেল কী নেই? নতুন রাজধানী পুত্রজায়া না দেখলে বোঝা যাবে না এক যুগে রূপান্তরটা কী হয়েছে। পুত্রজায়ার প্রতিটি ইট পরিকল্পিত। ছুটির দিন পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করে। দেখার, বিনোদনের জিনিসও এত আছে! বাঙালী শ্রমিকদের ঘাম মিশে আছে পুত্রজায়ার ইমারত, রাস্তাঘাটে। কেএলে সার্ভিস সেক্টরের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেই বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে বাঙালীরা। মালয়েশিয়া যে সম্প্রতি প্রায় দুই লাখ অবৈধ বাঙালীকে বৈধ করল তা আমাদের স্বার্থে নয়, তাদের স্বার্থে। বাঙালী শ্রমিক না থাকলে শিল্প-কারখানার গতি শ্লথ হয়ে যাবে, সার্ভিস সেক্টরে ধংস নামবে। এখন অবশ্য অনেক নেপালী আসছেন মালয়েশিয়া। চীনা, ভারতীয়, থাই প্রভৃতির কথা না-ই বা বললাম। এভাবে মালয়েশিয়া আরও মেট্রোপলিটান হচ্ছে। গ্লোবালাইজেশন বা গেলোকনায়ন বদলে দিচ্ছে পৃথিবীর সব দেশ। হয়ত দু’তিন যুগ পর এমন সময় আসবে যখন নিজের দেশ বলে নির্দিষ্ট কিছু থাকবে না।
পরিবর্তনের কথা বলছিলাম, তার একটি উদাহরণ দিই। এই পরিবর্তনের পেছনে একটা দৃষ্টিভঙ্গি আছে এবং সেই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু নেতৃত্বের নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবারই।
আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর দেখে আমি আর হাশেম খান তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলাম, বাংলাদেশে ব্যাংকের কারেন্সি মিউজিয়ামটিকে টাকা জাদুঘরে রূপান্তর করতে। এক কথায় উৎসাহী হয়ে উঠলেন আতিউর। নির্বাহী পরিচালক অসীমকে দায়িত্ব দিলেন। শুধু তাই নয়, বললেন, ‘আপনারা কুয়ালালামপুরের মালয়েশীয় স্টেট ব্যাংকের জাদুঘরটিও দেখে আসুন।’
আতিউর যত সহজে বললেন কাজ তত সহজে হলো না। পুরো বিষয়টি বোর্ডে নিতে হলো যার দরকার ছিল না। কারণ একজন সচিব তা চান। মিটিংয়ে আরেক সচিব বললেন, এসবের কী দরকার? যাক প্রকল্প পাস হলো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানালাম, আপনি মালয়েশীয় স্টেট ব্যাংকে লিখুন আমরা যাব। তা ছাড়া, আপনি সেখানে গেছেন। থাকার ভাল জায়গা আছে। তাদের জানান। দিন দশেক পর জিজ্ঞেস করলাম, ‘ই-মেইল করেছেন?’ বললেন, ‘না’ কারণ? কার্যবিররণী পাননি, তা স্বাক্ষরিত হয়নি। ব্যাংকের সচিব বলছেন, ‘এর দরকার নেই।’ কিন্তু তিনি তা করতে রাজি নন, কারণ তার ওপরওয়ালা যদি মাইন্ড করেন। অথচ তারা সবাই বোর্ড মিটিংয়ে ছিলেন। সবই জানেন। আতিউর ছিলেন বিদেশে সব শুনে ক্ষুব্ধ হলেন। তঁাঁর ক্ষোভের কারণে, আমদের আসার দিন তিনকে আগে ই-মেইল গেল। মাঝে ছিল শনি-রবি। ঢাকা ছাড়ার আগে আর ই-মেইলের উত্তর পাওয়া গেল না।
প্রথম দিনই হোটেলে এসে তৈরি হয়ে রওনা হলাম জাদুঘরের উদ্দেশে। আমাদের নেতা দাশগুপ্ত অসীমকে বললাম, ‘ড্রাইভারকে ঠিকানা দিন।’
‘ঠিকানা তো আনিনি।’ জানালেন অসীম।
‘বলেন কী! যেখানে যাব সেখানের ঠিকানা আনেননি।’ বলি আমি।
‘আমি আগে এসেছি, ব্যাংক নিগারাই। সেটিই তো স্টেট ব্যাংক। অসুবিধা হবে না।’ নিশ্চিন্ত মনে জানান অসীম।
ড্রাইভারকে সবাই বোঝালাম ব্যাংক নিগারায় যাব। ড্রাইভার সেখানে নিয়ে গেল। অসীম আবার সেখানে নেমে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কারেন্সি মিউজিয়ামটা কোথায়?’ ড্রাইভার ঠিকানা বুঝে নিল।
রিবাট এক ইমারতের সামনে আমরা নামলাম। মনে হলো এটিই বুঝি স্টেট ব্যাংক বা ব্যাংক নিগারা। অসীম বললেন, ‘জায়গাটা নতুন মনে হচ্ছে। বোধহয় স্টেট ব্যাংক নতুন বিল্ডিংয়ে এসেছে বা এক্সটেনশন হয়েছে।’
লোকজন তেমন নেই। বিরাট রিসেপশনে দু’একজন। খোঁজ নিয়ে জানলাম, হ্যাঁ। এখানেই কারেন্সি মিউজিয়াম। তিন তলায়।
উঠলাম তিন তলায়। একেবারে আধুনিক কায়দায় সাজানো। প্রদর্শনীর জন্য যেমন আছে প্রয়োজনীয় অবজেকটস। ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সব কিছু জানা যায়। অনেকক্ষণ ধরে আমরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে আসার পর দেখি ওপর তলায় চিত্রকলার গ্যালারি। উৎসাহ নিয়েই গেলাম। আমরা তিনজনই চিত্রকলার সঙ্গে কোন না কোনভাবে জড়িত। বিরাট প্রদর্শনশালা। মালয়েশীয় চিত্রকলার সব নিদর্শনে সাজানো। সেখানেও ঘণ্টা খানেক কাটিয়ে বেরোনোর পর দীর্ঘশ্বাস ফেললাম না। সান্ত¡না পেলাম চিত্রকলায় আমরা এগিয়ে, অনেক এগিয়ে। অসীসকে বললাম, ‘আপনার কর্মকর্তাদের বোঝাতে পারবেন কেন স্টেট ব্যাংক জাদুঘর চিত্রশালা করে এত আধুনিকভাবে?’ অসীম ঘাড় নেড়ে অপারগতা জানালেন। লিফটে নামছি। দোতলায় মোটাসোটা এক মালয়ী ঢুকলেন।
‘গুড মনিং’
‘গুড মনিং’
‘আপনারা এখানে এসেছিলনে?’
‘হ্যাঁ, কারেন্সি মিউজিয়াম দেখতে।’
‘আপনারা কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?
‘হ্যাঁ, বাংলাদেশ থেকে এসেছি।’
লিফট একতলায় এল। বেরোলাম সবাই।
‘আরে; আপনাদেরই তো খুঁজছি। শুনেছি, আপনারা আসবেন, কিন্তু কখন কোথায় কিছু তো জানাননি।’
লিফটের বাইরে এক তরুণী দাঁড়িয়ে। ভদ্রলোক বললেন, ‘পেয়েছি।’
তরুণীটি বললেন, ‘আমাদের পরিচালকও তো আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। অবশ্য তিনি এখন লাঞ্চে, কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করছেন।’
‘এই যে দেখেন,’ একজন একটি পত্রিকা এনে আমার হাতে দেয়।
পত্রিকার নাম সাপ্তাহিক বাংলার কথা। সম্পাদক মোঃ আযাদ। বেশ রঙচঙে। ছাপা কিন্তু ঢাকায়। অন্যান্য দেশের বাংলা পত্রিকার মতো দেশের সংবাদপত্রেরই অধিকাংশ খবর। দু’একটি মালয়েশিয়ার। যেমন প্রথম পৃষ্ঠায় মালয়েশিয়ার বাংলাদেশীদের নিয়ে কয়েকটি খবর। উপ- শিরোনাম ‘মালয়েশিয়া ৬-পি নামে প্রতারণা॥ লাখ লাখ রিঙ্গিত নিয়ে পলাতক ওমর আকাশ। খবরের একাংশÑ “মালয়েশিয়ার ৬-পি নামে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ রিঙ্গিত হাতিয়ে আত্মগোপন করে আছে বাংলাদেশী এক প্রতারক। ওই প্রতারকের নাম ওমর আকাশ। জানা যায়, তার কোম্পানির নামে শত শত বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করত। তাদের পারমিট ও ভিসা করে দেওয়া বাবদ প্রায় ৭২ জানের কাছ থেকে মালয়েশিয়া রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যায় ...।”
দ্বিতীয় খবরÑ “মালয়েশিয়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি। ১০ বাংলাদেশী গ্রেফতার ॥” .... এবার মালয়েশিয়ার গিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে কতিপয় প্রবাসী বাংলাদেশী। মালয়েশিয়ায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত এ রকম একটি গ্রুপের সব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশী, অপর একজন ইন্দোনেশীয় মহিলা। সিলেঙ্গরের পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওই গ্রুপের হাতে অপহৃত চারজন বাংলাদেশী ও দুইজন মিয়ানমারের নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।” ‘মালয়েশিয়ায় যুবদল নেতার মেয়ের জন্মদিন পালিত’Ñসংবাদটিও বড়সড় সচিত্র। একটি সিরিজ শুরু করেছে পত্রিকা ‘সফল যারা কেমন তারা’ নামে। এই সিরিজের ১ম পর্বে আছে মোঃ লিটন আজিজ দেওয়ানের বিবরণ। এসেছিলেন ১৯৮৮ সালে শ্রমিক হয়ে। এখন সফল ব্যবসায়ী, মালয়েশিয়া শ্রমিক লীগের সভাপতি। “বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়াতে বিয়ে করে তিন ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন।”
‘বাংলার কথা’ উল্টেপাল্টে এসব খবরে চোখ বোলাচ্ছি। হাশেম ভাই কথা চালিয়ে যাচ্ছেন, মাঝে মাঝে রবিউল ভাই, তবে, তাদের তেমন কিছু বলতে হচ্ছে না। যুবকরাই বিভিন্ন অভিযোগ করে যাচ্ছেন। ‘এই নেন আরেকটি পত্রিকা’ এক তরুণ পত্রিকা সম্পর্কে আমার ঔৎসুক্য থেকে বাইরে এক বাঙালী দোকান থেকে একটি পত্রিকা এনে দিল, নামÑপ্রবাসীর কথা। একই রকম রঙচঙে পত্রিকা এবং ঢাকা থেকে মুদ্রিত। ধরে নিলাম একটি আওয়ামী সমব্যথী,অন্যটি বিএনপি সমব্যথী। তবে এই পত্রিকারও প্রথম শিরোনামÑ ‘পিতা-পুত্রের প্রতারণার খবরে মালয়েশিয়ায় তোলপাড়।’ রোমেল ও তার পিতা শ্রমিকদের আনার ব্যাপারে প্রতারণা করেছেÑ এটিই মূল বিষয়।
শ্রমিক নিয়ে এই প্রতারণা বাঙালী অনেকে করছে। তবে, এর সঙ্গে মালয়েশিয়া পার্টনার থাকা অস্বাভাবিক নয়। মালয়েশিয়ায় যেসব প্রতারণা হচ্ছে তার বড় অংশ শ্রমিক ব্যবসা নিয়ে। জানি না সরকার কী ভাবে তা বন্ধ করবে। ভাগ্যান্বেষীরা সচেতন না হলে এই প্রতারণা ঠেকানো মুশকিল। তবে, ভাগ্যান্বেষী সব সময় ঝুঁকি নেবেই। কারণ ভাগ্য বদলাতে হলে তো ঝুঁকি নিতেই হয়।
হাশেম ভাই আলোচনা অন্য প্রসঙ্গে নিতে চান। অভিযোগ আর কত ভাললাগে। শুনতে ভাল লাগে অভিবাসীদের ইতিবাচক খবর।
‘এখান থেকে পত্রিকা বেরোয় কয়টা?’ জিজ্ঞেস করেন হাশেম ভাই।
‘দুইটা’ জবাব দেন একজন। বাঙালী চরিত্রের ইতিবাচক এই একটি দিক। যেখানে বাঙালী আছে সেখানেই বাংলা পত্রিকা বের হচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডন ও নিউইয়র্ক তো বাংলা পত্রিকায় জমজমাট। অনেক পত্রিকা লাভজনকও হয়ে উঠছে।
বিকেলের রোদ মরে আসছে। তাপ কমছে খানিকটা। উঠতে হয়। কোন কথা না বলেই উঠে দাঁড়াই। একজন বলে, ‘চলেন স্যার, আমার রেস্টুরেন্টে। একটু চা খেয়ে যাবেন।’ রাজি হই। আমরা তিনজন ওই যুবকের সঙ্গে বেরিয়ে আসি। ড্রাইভার আমাকে নিচু গলায় জানান, ‘উনি এখানে ভাল ব্যবসায়ী। রেস্টুরেন্ট আছে কয়েকটা।’
যুবকের নাম জাকির। তার রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসেন আমাদের। পেছনের একটি টেবিলে বসি। ম্যানেজার এক মালয়েশীয় মহিলা। অন্য কর্মচারী সব বাঙালী। ক্রেতাও সব বাঙালী। রেস্টুরেন্ট প্রায় ভর্তি। সকাল থেকে রাত অব্দি চলে। চা নাশতা দুপুর বা রাতের খাবার। মাত্র সাত রিঙ্গিতে ডাল ভাত সবজি নিয়ে পেটপুরে খাওয়া যায়।
‘এই রিন্টু, এখানে চা মিষ্টি সিঙ্গারা ...’ এক কর্মীকে ডেকে বলেন জাকির।
‘আরে না না, চা হলেই চলবে,’ বলেন রবিউল ভাই।
‘খান না স্যার খান’, অমায়িক গলায় উত্তর দেয় জাকির। রেস্তোরাঁর ব্যস্ততা দেখে ভালই লাগে। ব্যবসা-বাণিজ্যে যদি বাঙালী ভাল করে তাহলে বাঙালীরই তো লাভ। এক বাঙালী আরেক বাঙালীকে টেনে তুলতে পারবে।
‘জাকিরের ক’দিন হলো বিদেশে’ চায়ে চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করি। চা’টা বেশ ভালই লাগছে।
‘কম না স্যার,’ হেসে উত্তর দেয় জাকির, ‘১৭ বছর হয়ে গেল। ১৮ বছর বয়সে বের হয়েছি।’
আমি আরও অনেক জায়গায় বাঙালীদের সঙ্গে কথা বলেছি যারা শূন্য থেকে সচ্ছল হয়েছেন। সবার ইতিহাস প্রায় একই রকম। হয়ত বিদেশী পৃষ্ঠপোষক পেয়ে গেছেন, নতুবা প্রচ- পরিশ্রম করেছেন। আরও অনেক বাঙালী উঠে যেতেন যদি পার্টনারশিপ ব্যবসাটা তারা করতে পারতেন। ব্যবসা একটু ভাল হলেই পার্টনারশিপ ভেঙে যায়।
জাকির ১৭ বছর আগে ১৮ বছর বয়সে ঢাকা ছেড়েছিলেন। মাত্র এসএসসি পাস করেছেন তখন। শ্যাম দেশে গিয়েছিলেন প্রথম। সেখান থেকে চলে আসেন মালয়েশিয়ায়। না, কুয়ালালামপুরে কোন কাজ পাননি। যেতে হয়েছিল শহরের বাইরের, কৃষি খামারে। তার কাজ ছিল সবজি বাগানে। থাকা খাওয়া সব মালিকের। বেতন ৪৫০ রিঙ্গিত। জাকির জানিয়েছেন, সে সময়ই ১০০ থেকে ১৫০ রিঙ্গিত জমাতে পারতেন।
তিন বছর সবজি বাগানে কাজ করার পর চলে গেলেন চা বাগানে। সেখানে বেতন ছিল বেশি। ১০০০ রিঙ্গিত পেতেন। সেখানেও কাজ করলেন বছর তিনেক। ‘কিছু টাকা জমিয়ে পাড়ি দিলাম কেএলে [কুয়ালালামপুর]। ঠিক করলাম ব্যবসা করব। আরও তিন পার্টনার নিলাম। শুরু করলাম এই রেস্টুরেন্ট।’
‘কেমন চলে রেস্টুরেন্ট?’ জিজ্ঞেস করেন হাশেম ভাই।
‘আপনাদের দোয়ায় ভালই স্যার,’ জানালেন জাকির। রেস্টুরেন্ট যে ভাল চলছে তা তো দেখতেই পাচ্ছি। ‘এটি ছাড়া,’ বলেন জাকির, ‘আরও দু’টি রেস্টুরেন্ট আছে অমাদের বাঙ্গি ও বুকিবিন্দাসে।’
‘পার্টনারশিপ টিকে থাকবে?’ জানতে চাই আমি।
‘এখনও তো টিকে আছে। ভবিষ্যতের থাকবে আশা করি। ব্যবসা তো কমছে না। আমাদের কর্মচারী সংখ্যাই তো ষাটের মতো।’ জাকিরের বাড়ি গাড়ি সংসার সবই হয়েছে। সে জন্য দেশে তো যেতে হয় মাঝে মাঝে। ‘তাহলে এখানেই থেকে যাবেন?’ জিজ্ঞেস করেন রবিউল ভাই।
‘কী যে বলেন!’ জানায় জাকির, ‘এখানে আছি ভাল লাগে বলে। দেশের মতো গ্যাঞ্জাম নেই। ব্যবসা করি আয় করি খাই দাই। তবে, দেশে তো স্যার ফিরতেই হবে।’
রাত অনেকটা হয়ে গেছে। হোটেলে ফিরতে হবে। তারপর খাওয়ার ব্যাপার আছে। গাড়িতে উঠে রবিউল ভাই বললেন, ‘আমার ব্যাগ।’
না, কোথাও তার ব্যাগ নেই। বললাম ‘রাষ্ট্রদূত দুপুরে খাওয়ালেন যে ঘরে সেখানে ফেলে আসেননি তো?’
রবিউল ভাই কিছুই মনে করতে পারছেন না। দূতাবাস তো বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর দু’দিন বন্ধ। চাবি থাকে আরেকজনের কাছে। বললাম, ‘দূতাবাসে যাওয়া যাক।’
‘হ্যাঁ গিয়ে দেখি স্যার,’ ড্রাইভার জানাল, ‘দূতাবাসের কাছেই তো হোটেল।’ ‘দেখেন দেখি, যার কাছে চাবি আছে তিনি আছেন কিনা? থাকলে যেন অপেক্ষা করেন।’ বলি আমি।
‘রবিউল, সব কিছু এক ঝুড়িতে রাখেন কেন?’ হাশেম ভাইয়ের প্রশ্ন।
পাসপোর্ট, ডলারসহ ব্যাগ হারানো মানে আমাদের সফর আরও কয়েকদিন বাড়বে। পাসপোর্ট করাতে হবে। সবার মনই থাকবে নিরানন্দ।
‘স্যার, ওই লোককে পাওয়া গেছে,’ সেলফোন অফ করতে করতে জানালেন ড্রাইভার।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছিÑদূতাবাসে সব বন্ধ। ড্রাইভার আবার সেলফোনে চাবিওয়ালা লোককে ধরেন। তিনি এসে দরজা খোলেন। গাড়ির মধ্যে আমি বয়োকনিষ্ঠ দেখে বলি, ‘আপনারা বসেন, আমি দেখে আসি।’
রাষ্ট্রদূতের রুমের পাশে একটি বড় রুম। সেখানেই দুপুরে আমরা খেয়েছিলাম। দেয়ালের এক পাশে দেখা গেল রবিউল ভাইয়ের সেই কালো ব্যাগ। রবিউল ভাইয়ের হাতে ব্যাগ গছিয়ে দিয়ে বলি, ‘রবিভাই, আমাদের মতো পুণ্যবান কিছু মানুষ ছিল দেখে ব্যাগটি ফিরে পেলেন। না হলে তো আমাদের পুরো সফরটিই আপনি মাটি করে দিতেন।’
সকালে উঠে ২০ তলার জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই। রোদ নেই, আকাশটা মেঘলা। রাস্তা ভিজে ভিজে। গাছের পাতা আরও সবুজ । রাতে বৃষ্টি হয়েছে। টের পাইনি। রোদের তাপ কমে গেছে। রাস্তাঘাট খালি। ভাবলাম, একটু হেঁটেই আসি।
হোটেল থেকে বেরিয়ে ডান দিকে সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকি। দু’পাশে গাছের সমারোহ। ‘আমদের সব সময় একটা ইল্যুশনের মধ্যে রাখা হয়েছে’ হাঁটতে হাঁটতে ভাবি। ছোটবেলায় পড়েছি, এশিয়ার বৃহত্তম রেলস্টেশন কমলাপুর, বৃহত্তম বন্দর চট্টগ্রাম। আমাদের দেশের মতো সবুজ দেশ আর নেই। দেশের বাইরে পা দিয়ে দেখি কোনটাই সত্য নয়। এই কুয়ালালামপুরেই গাছের যা সমারোহ তা দেখেই অবাক হতে হয়। ঢাকা তার তুলনায় তপ্ত ধূসর মরুভূমি।
তাপ নেই, বাতাসে হয়ে যাওয়া বৃষ্টি বৃক্ষ আর মাটির গন্ধ। একটু এগোতেই দেখি, ডান পাশে ছেলেদের একটি স্কুল। ক্লাসে শুরু হয়নি, ছেলেরা হৈ হট্টগোল করছে। তার ঠিক উল্টো দিকে যে ফুটপাথ ধরে আমি হাঁটছি সেখানে মেয়েদের স্কুল। মনে হলো, হাইস্কুলই হবে। সবার পরনে ইউনিফর্ম এবং চুল ঢাকা, সে বালিকা কিশোরী যেই হোক না কেন। একটু ভিড় শুধু এখানটায়। বাবা-মা ছেলেমেয়েদের নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। একটু বড়রা হেঁটেই আসছে। স্কুলের দোরগোড়ায় উঁচু ক্লাসের কয়েকটি মেয়ে দাঁড়িয়ে। ছাত্রী যারা আসছে তাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। আমি সামনের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকি। দেখি এক বাবা মোটরসাইকেলে মেয়েকে নিয়ে আসছেন। স্কুলের গেটের সামনে থামলেন। পেছনের সিট থেকে কিশোরীটি নামল। বাবার হাতে চুমো খেয়ে স্কুলে ঢুকে পড়ল। আরেকটু সামনে যেতে আরেকটি বড় স্কুল। দেখেই বোঝা গেল, এটি শুধু চীনাদের জন্য। চীনা বাবা-মা ছেলেমেয়েকে নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। আগের স্কুল দু’টি মালয়েশীয়। আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম। পাশাপাশি তিনটি স্কুল। অন্যদিকে আবাসিক এলাকা। কোন ভিড় নেই, শব্দ নেই। অথচ, ঢাকার ধানম-িতে যেখানে আমি থাকি, সেখানে অগণিত স্কুল-কলেজ যা থাকার কথা নয়। পৃথিবীর কোথাও নেই, কলকাতায়ও। সকাল ন’টা পর্যন্ত ভিড় ভাড়াক্কা হৈচৈ, মনে হয় সদরঘাট নৌ-টার্মিনালে আছি। সরকারী আদেশ। হাইকোর্টের নির্দেশ কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। কারণ যারা নির্দেশ পালন করবেন, তাদের স্বার্থ এখানে জড়িত। পরিবর্তন পরিবর্তনের কথা বলেছেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু কোন পরিবর্তনই করতে পারেননি। কারণ তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে চাননি।
এই যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি, তিনটে স্কুল কিন্তু কেন কোন ভিড় নেই? উল্টো দিকে তো আবাসিক এলাকা! ফুটপাথ ঘুরে বড় রাস্তার দিকে এগোই। গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। কই কোন ভিড় ভাড়াক্কাতো নেই। একটি গাড়ির চালকও ট্রাফিক সিগন্যাল ভঙ্গ করছে না। বড় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশও তো তেমন দেখলাম না। ঢাকার রাস্তায় নাকি গাড়ি বেশি!
মালয়েশিয়ার গ্রামেগঞ্জেও তো দেখেছি গাড়ি, কেএলের কথা বাদ দিই। বিদেশে এলে রাজনীতিবিদদের আমলাদের ব্যর্থতাটা চোখে বেশি পড়ে।
অথচ প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। এক যুগ আগের মালয়েশিয়া আর এখনকার মালয়েশিয়ার তফাতটা বেশ চোখে পড়ে। এই বদলে যাওয়া দেশটাকে এগিয়ে নিচ্ছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কি নেই?
আছে কিন্তু এখানে দেশবিরোধী কোন শক্তি নেই। কয়েকদিন আগে, বিরোধী দল ধর্মঘট ডেকেছিল, মিছিল করে কিছু ভাংচুর করে ছিল। তার দ- তারা এখন দিচ্ছে। ভাংচুরে দায়দায়িত্ব নিয়ে অনেককে জেলে যেতে হচ্ছে। জরিমানা গুনতে হচ্ছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে। অনুমতি ছাড়া মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সবাই সরকারী এই নির্দেশনা মেনে নিয়েছে। মিডিয়াতে এ নিয়ে কোন হৈচৈ নেই। অর্থাৎ, রাজনীতি করো, কিন্তু জনজীবনে বিশৃঙ্খলায় প্ররোচনা দেয়া যাবেন না। আনোয়ার ইব্রাহিম যাকে মাহাথির হটিয়ে দিয়েছিলেন, মাঝখানে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন, এখন আবার তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পচ্ছে। এক মালয়েশীয় বলছিলেন, এর কারণ তিনি ফান্ডামেন্টালিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তরুণরা এ কারণে ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে মাহাথির এখনও জনপ্রিয়। বাঙালীদেরও পছন্দ মাহাথির। হেলাল আলাপের সময় বলছিলেন, ‘দেখা করবেন নাকি মাহাথিরের সঙ্গে?’ আমি অবাক হই, হেলাল এমনভাবে বলছেন, যেন মাহাথির তার পাশের বাসায় থাকেন। একবার ঘড়ি দেখলেন, বললেন, ‘না দেরি হয়ে গেছে। মাহাথির শুক্রবারের নামাজ পড়েন মসজিদে।
[কোন একটা নাম বলেছিলেন, মনে নেই] নামাজ শেষে সবার সঙ্গে মোলাকাত করেন। বাঙালীদের তিনি খুব পছন্দ করেন।’ আরেক বাঙালী বলছিলেন, টুইন টাওয়ার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মাহাথির। টাওয়ার কমপ্লিট হলে টাওয়ারের মালিক মাহাথিরকে সর্বোচ্চ তলায় একটি অফিস দিয়েছেন। মাহাথির মাঝে মাঝে সেখানে আসেন। লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন। অস্বীকার করার উপায় নেই, আজকের মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির। আর এই রূপান্তরে বাঙালীদেরও একটা অবদান আছে।
যে কুয়ালালুমপুরে এসেছিলাম সে কুয়ালালুমপুর ঠিকই আছে, তবে প্রকৃতি বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার মনোরেল কী নেই? নতুন রাজধানী পুত্রজায়া না দেখলে বোঝা যাবে না এক যুগে রূপান্তরটা কী হয়েছে। পুত্রজায়ার প্রতিটি ইট পরিকল্পিত। ছুটির দিন পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করে। দেখার, বিনোদনের জিনিসও এত আছে! বাঙালী শ্রমিকদের ঘাম মিশে আছে পুত্রজায়ার ইমারত, রাস্তাঘাটে। কেএলে সার্ভিস সেক্টরের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেই বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে বাঙালীরা। মালয়েশিয়া যে সম্প্রতি প্রায় দুই লাখ অবৈধ বাঙালীকে বৈধ করল তা আমাদের স্বার্থে নয়, তাদের স্বার্থে। বাঙালী শ্রমিক না থাকলে শিল্প-কারখানার গতি শ্লথ হয়ে যাবে, সার্ভিস সেক্টরে ধংস নামবে। এখন অবশ্য অনেক নেপালী আসছেন মালয়েশিয়া। চীনা, ভারতীয়, থাই প্রভৃতির কথা না-ই বা বললাম। এভাবে মালয়েশিয়া আরও মেট্রোপলিটান হচ্ছে। গ্লোবালাইজেশন বা গেলোকনায়ন বদলে দিচ্ছে পৃথিবীর সব দেশ। হয়ত দু’তিন যুগ পর এমন সময় আসবে যখন নিজের দেশ বলে নির্দিষ্ট কিছু থাকবে না।
পরিবর্তনের কথা বলছিলাম, তার একটি উদাহরণ দিই। এই পরিবর্তনের পেছনে একটা দৃষ্টিভঙ্গি আছে এবং সেই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু নেতৃত্বের নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবারই।
আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর দেখে আমি আর হাশেম খান তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলাম, বাংলাদেশে ব্যাংকের কারেন্সি মিউজিয়ামটিকে টাকা জাদুঘরে রূপান্তর করতে। এক কথায় উৎসাহী হয়ে উঠলেন আতিউর। নির্বাহী পরিচালক অসীমকে দায়িত্ব দিলেন। শুধু তাই নয়, বললেন, ‘আপনারা কুয়ালালামপুরের মালয়েশীয় স্টেট ব্যাংকের জাদুঘরটিও দেখে আসুন।’
আতিউর যত সহজে বললেন কাজ তত সহজে হলো না। পুরো বিষয়টি বোর্ডে নিতে হলো যার দরকার ছিল না। কারণ একজন সচিব তা চান। মিটিংয়ে আরেক সচিব বললেন, এসবের কী দরকার? যাক প্রকল্প পাস হলো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানালাম, আপনি মালয়েশীয় স্টেট ব্যাংকে লিখুন আমরা যাব। তা ছাড়া, আপনি সেখানে গেছেন। থাকার ভাল জায়গা আছে। তাদের জানান। দিন দশেক পর জিজ্ঞেস করলাম, ‘ই-মেইল করেছেন?’ বললেন, ‘না’ কারণ? কার্যবিররণী পাননি, তা স্বাক্ষরিত হয়নি। ব্যাংকের সচিব বলছেন, ‘এর দরকার নেই।’ কিন্তু তিনি তা করতে রাজি নন, কারণ তার ওপরওয়ালা যদি মাইন্ড করেন। অথচ তারা সবাই বোর্ড মিটিংয়ে ছিলেন। সবই জানেন। আতিউর ছিলেন বিদেশে সব শুনে ক্ষুব্ধ হলেন। তঁাঁর ক্ষোভের কারণে, আমদের আসার দিন তিনকে আগে ই-মেইল গেল। মাঝে ছিল শনি-রবি। ঢাকা ছাড়ার আগে আর ই-মেইলের উত্তর পাওয়া গেল না।
প্রথম দিনই হোটেলে এসে তৈরি হয়ে রওনা হলাম জাদুঘরের উদ্দেশে। আমাদের নেতা দাশগুপ্ত অসীমকে বললাম, ‘ড্রাইভারকে ঠিকানা দিন।’
‘ঠিকানা তো আনিনি।’ জানালেন অসীম।
‘বলেন কী! যেখানে যাব সেখানের ঠিকানা আনেননি।’ বলি আমি।
‘আমি আগে এসেছি, ব্যাংক নিগারাই। সেটিই তো স্টেট ব্যাংক। অসুবিধা হবে না।’ নিশ্চিন্ত মনে জানান অসীম।
ড্রাইভারকে সবাই বোঝালাম ব্যাংক নিগারায় যাব। ড্রাইভার সেখানে নিয়ে গেল। অসীম আবার সেখানে নেমে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কারেন্সি মিউজিয়ামটা কোথায়?’ ড্রাইভার ঠিকানা বুঝে নিল।
রিবাট এক ইমারতের সামনে আমরা নামলাম। মনে হলো এটিই বুঝি স্টেট ব্যাংক বা ব্যাংক নিগারা। অসীম বললেন, ‘জায়গাটা নতুন মনে হচ্ছে। বোধহয় স্টেট ব্যাংক নতুন বিল্ডিংয়ে এসেছে বা এক্সটেনশন হয়েছে।’
লোকজন তেমন নেই। বিরাট রিসেপশনে দু’একজন। খোঁজ নিয়ে জানলাম, হ্যাঁ। এখানেই কারেন্সি মিউজিয়াম। তিন তলায়।
উঠলাম তিন তলায়। একেবারে আধুনিক কায়দায় সাজানো। প্রদর্শনীর জন্য যেমন আছে প্রয়োজনীয় অবজেকটস। ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সব কিছু জানা যায়। অনেকক্ষণ ধরে আমরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে আসার পর দেখি ওপর তলায় চিত্রকলার গ্যালারি। উৎসাহ নিয়েই গেলাম। আমরা তিনজনই চিত্রকলার সঙ্গে কোন না কোনভাবে জড়িত। বিরাট প্রদর্শনশালা। মালয়েশীয় চিত্রকলার সব নিদর্শনে সাজানো। সেখানেও ঘণ্টা খানেক কাটিয়ে বেরোনোর পর দীর্ঘশ্বাস ফেললাম না। সান্ত¡না পেলাম চিত্রকলায় আমরা এগিয়ে, অনেক এগিয়ে। অসীসকে বললাম, ‘আপনার কর্মকর্তাদের বোঝাতে পারবেন কেন স্টেট ব্যাংক জাদুঘর চিত্রশালা করে এত আধুনিকভাবে?’ অসীম ঘাড় নেড়ে অপারগতা জানালেন। লিফটে নামছি। দোতলায় মোটাসোটা এক মালয়ী ঢুকলেন।
‘গুড মনিং’
‘গুড মনিং’
‘আপনারা এখানে এসেছিলনে?’
‘হ্যাঁ, কারেন্সি মিউজিয়াম দেখতে।’
‘আপনারা কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?
‘হ্যাঁ, বাংলাদেশ থেকে এসেছি।’
লিফট একতলায় এল। বেরোলাম সবাই।
‘আরে; আপনাদেরই তো খুঁজছি। শুনেছি, আপনারা আসবেন, কিন্তু কখন কোথায় কিছু তো জানাননি।’
লিফটের বাইরে এক তরুণী দাঁড়িয়ে। ভদ্রলোক বললেন, ‘পেয়েছি।’
তরুণীটি বললেন, ‘আমাদের পরিচালকও তো আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। অবশ্য তিনি এখন লাঞ্চে, কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করছেন।’
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1334)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 03
(70)
- ভারতে ধর্ষণ রেকর্ডে শীর্ষে দিল্লি
- ঈদে আঁখি আলমগীরের হেঁসেলঘর বন্ধ
- সানিকে নিয়ে নাচানাচি কেন, প্রশ্ন তসলিমার
- আপনার বাচ্চার শীতকালীন শারীরিক সমস্যা
- দৃষ্টিশক্তির ক্রমবিকাশ ও অলস চোখ
- মায়ের দুধ ও শিশু by ডা. যাকিয়া মাহ্ফুজা হাসান
- সম্পাদক সমীপে
- জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ by ইকবাল আজিজ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার by বাহাউদ্দীন চৌধুরী
- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার- ঐতিহাসিক রায়- বাংলায় রূপান...
- সামাজিক উদ্যোক্তা- ড. ইউনূসের নতুন প্রস্তাব by ড....
- মহাজোট সরকারের এক বছর সাহস ও প্রতিশ্রুতির রূপরেখা ...
- খালেদা জিয়ার পথের কাঁটা by শাহরিয়ার কবির
- পরিবেশের সঙ্গে অসত্মিত্ব জড়িত_ জাতীয় ঐকমত্য চাই বা...
- সাধারণ শিৰা দিয়ে নারী দাসত্ব মুক্ত হয় না- মনত্মব্য...
- বিসত্মীর্ণ জলরাশি দীর্ঘ সৈকত বনাঞ্চল, কাঁকড়ার ছোটা...
- দিন বদলাতে সর্বাগ্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে হবে-...
- আসামিদের ৭ দিনের মধ্যে প্রাণভিৰা চাইতে হবে
- হত্যা লুটপাট দুনর্ীতি ছাড়া সব ৰেত্রে সাফল্য প্রধান...
- ধর্মাভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে- ০ বিসমিলস্না...
- এশিয়ার সেরা রোবট ব্র্যাকের চন্দ্রবোট-২
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইনুয়িটরা বিপন্ন
- কুকুর কেন হাড় চিবাতে ভালবাসে
- প্রতিকূল আবহাওয়ায় কোন্ প্রজাতির উদ্ভিদ টিকবে by এ...
- ফ্যা শ ন স ং বা দ
- ঈদের বাহারি শর্ট শার্ট
- ও বন্ধু আমার by তৌফিক অপু
- নারী অধিকার আদায়ের মডেল কিশোরী সুম্পা- বলতে চাই by...
- বাল্য বিয়ে by মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত
- নারীর কথা by অজয় কুমার রায়
- আরো অনেকেই by মাকিদ হায়দার
- ‘আমি কোথায় পাব তারে’ থেকে ‘আমার সোনার বাংলা’ by ক...
- মহাদেব সাহার প্রেম ও প্রকৃতির কবিতা by সাইফুজ্জামান
- মালয়েশিয়ায় বাঙালী by মুনতাসীর মামুন
- হুমায়ূন আহমেদের ব্যতিক্রমী শিল্পশস্য- যখন গিয়েছে ড...
- হুমায়ূন পাঠের ক্রিয়া মিথস্ক্রিয়া by হামিদ কায়সার
- খাদ্যে ভেজাল
- রমজানের প্রভাবে
- ফিরে দেখা-কলেজ-কাম আবাসিক হোটেল by শরীফুল ইসলাম
- প্রসঙ্গ ইসলাম- সিয়াম যুগে যুগে নানাভাবে by অধ্যাপ...
- অর্থনীতিতে দুর্বৃত্ত কোম্পানিগুলোর ‘অবদান’-এর দরকা...
- যে ব্যবস্থাপত্রে রোজা নষ্ট হয় না by অধ্যাপক এবিএম...
- বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনের অসমাপ্ত আত্মজীবনী by মো...
- রেলমন্ত্রীর কাজে ক্ষুব্ধ দিল্লী, প্রতিদিন বস্তাবোঝ...
- এফবিসিসিআই নির্বাচন ২১ অক্টোবর ॥ তফসিল ঘোষণা
- গ্রীনকার্ড দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন ফখরুদ্দীন? b...
- বিক্রি বাড়াতে অভিজাত মার্কেটে র্যাফেল ড্রর লোভনীয়...
- দক্ষিণ সুদানে শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা, এমওই...
- ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে গ্রাম আদালতে, সুফল ম...
- বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি by মোরসালিন মিজান
- 'দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় হুমকি লস্কর-ই-তৈয়বা'
- 'পুনের বোমা হামলা পরিকল্পিত ও সমন্বিত'-চার দফা হাম...
- সাত বছর পর ব্রিটেন সফরে পুতিন
- সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব-আসাদকে পদত্যাগের আহবান
- সিরীয় বিদ্রোহীদের সহায়তায় ওবামার গোপন নির্দেশ
- বিদ্যুৎ বিল-বিড়ম্বনা দূর করে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করুন
- দ্রব্যমূল্যের ওঠানামা-স্থিতিশীলতা প্রয়োজন
- শোকের মাস
- নির্বাচন নিয়ে কোন ধানাইপানাই চলবে না- স্থানীয় প্রত...
- ঘুমের সমস্যায় তৃতীয় বিশ্বঃ শীর্ষে আছে বাংলাদেশ
- সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করতে সময় বে...
- গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগে সংশোধনী অধ্যাদেশ আসছে...
- গতির লড়াইয়ের অপেক্ষায় লন্ডন- প্রস্তুত বোল্ট, ব্লেক...
- আইন না মানায় সেরা রাস্তার ‘লাটভাই’ মোটরসাইকেল- বেপ...
- দিনভর সংঘর্ষে জাবি উত্তাল-ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা ॥ হ...
- চরাচর-চিরায়ত বাঁশবাগান by বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
- আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮৭)-তোমরা স্বাধীন! by আল...
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের আগের রাত by সঞ্জ...
- পিপুফিশো by মোফাজ্জল করিম
- নুহাশের যে চিঠি বাবার কাছে পৌঁছেনি
-
▼
Aug 03
(70)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment