Friday, August 3, 2012
হুমায়ূন পাঠের ক্রিয়া মিথস্ক্রিয়া by হামিদ কায়সার
হুমায়ূন পাঠের ক্রিয়া মিথস্ক্রিয়া by হামিদ কায়সার
হবে না। ওর আর হবে না। লেখক হাসান জামিল যখন বুঝে গেল ব্যাপারটা, এ-যাত্রায় অন্তত লেখালেখিটা ওর আর হচ্ছে না, সে পাঠক এবং বোদ্ধা-সমালোচক উভয় সম্প্রদায়ের দ্বারাই চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, ওর আর লেখালেখির অধিকার নেই, এবার হাত গুটিয়ে বসে থাকার পালা এবং অচিরেই কোন একটা ব্যবসা-বাণিজ্যের ধান্দা
করা, তখনই ঘটলো ঘটনাটা এবং অবিশ্বাস্য তো বটেই, ওর জন্য অভাবনীয়ও, একটি খ্যাতনামা সাপ্তাহিকের সম্পাদক নিজে ফোন করে ওর কাছে ঈদসংখ্যার জন্য একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস চাইল এবং বললো যে, আপনি তো আবার সিরিয়াস টাইপের লেখক, আমাদের পাঠক কিন্তু ওসব গিলতে পারে না। সহজ করে একটা প্রেমের উপন্যাস লিখে দিন, বারো হাজার শব্দের মধ্যে। পারলে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখেন। পাঠক যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
ফোনটা রাখার পর হাসান জামিল চুপচাপ কতক্ষণ ঠা-া হয়ে বসে রইলো। সত্যিই তাহলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং উঁচুমানের সাপ্তাহিকটি ওর কাছে ঈদসংখ্যার জন্য উপন্যাস চাইল? এটাও বিশ্বাস করতে হবে? লেখালেখির সেই সূচনালগ্ন থেকেই তো মনের মধ্যে সূক্ষ্ম একটা স্বপ্ন উঁকি মারত, ঈদসংখ্যা দেখে দেখে, কবে এই বহুবর্ণিল ঢাউস সংখ্যায় ওরও একটা লেখা জায়গা পাবে। না, পায়নি। তারুণ্য পেরিয়ে মাঝ আকাশে নেমে গেছে লেখালেখির বয়স, ঈদসংখ্যা তো ঈদসংখ্যা, সাধারণ সংখ্যাগুলোতেও কেউ ওর লেখা চায় না। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক কালাকালে একটা গল্প পড়ে আছে প্রায় দু’বছর হলো, ছাপেও না, ছাড়েও না। ওদিকে লিটলম্যাগওয়ালাদের কাছে তো সে আগে থেকেই বুর্জোয়াদের দালাল হিসেবে চিহ্নিত। পত্রপত্রিকা এভয়েড করে যে শুধুমাত্র বইমেলাকে কেন্দ্র করে লেখালেখির চর্চা করে যাবে, সে আশায়ও গুড়েবালি! পাঠকরা ওকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যাখ্যান মানে কী প্রত্যাখ্যান! ডানগাল বামগাল কষে থাপ্পড়! ওর বইমেলায় ৪০ কপিও চলে কিনা সন্দেহ! তাই চারদিকের অবস্থা বিবেচনা করে সে যখন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছে, আর একটা পৃষ্ঠাও লিখবে না। জোচ্চুরি ছেচ্চুরি করে শুধু দু’হাতে টাকা কামাবে, তারপর অঢেল টাকার মালিক বনে যাওয়ার পর যা হয় অবস্থা বুঝে একজন গোস্ট রাইটার যোগাড় করা যাবে। তখনই সাপ্তাহিক প্রেরণার সম্পাদক আকাদ্দস চৌধুরীর এই ফোন। না-লেখার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকাটা বুঝি একটু কঠিনই হয়ে যাচ্ছে। বরং নতুনভাবে খানিকটা উদ্দীপনাও ফিরে আসছে, শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করে দেখা যাক না। ক্ষতি কি! আকাদ্দস চৌধুরী যখন ওকে একটা লিফট্ দিতে চাইছে, এই বলটাকে না পেঁচিয়ে সোজা গোলপোস্টের দিকে মেরে দিলেই তো হয়! লিখে ফেললেই হলো হুমায়ূন আহমেদের মতো একটা উপন্যাস, আকাদ্দস চৌধুরীর পরামর্শ মতো!
প্রেরণার সার্কুলেশন প্রায় পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি। প্রায় পঞ্চাশ হাজার পাঠকের মধ্যে যদি পঁচিশ হাজার পাঠকেরও মন জয় করে নেয়া যায়, বইমেলায় বই বেরুলে, ধরা যাক পঁচিশ হাজারের অর্ধেকই ধরলাম, সাড়ে বারো হাজার পাঠক ওর বই খুঁজবে। খারাপ কি! সাড়ে বারো হাজার পাঠক কি সোজাকথা? এরপর তো প্রকাশকদের কাছে সে পরম আরাধ্য হয়ে উঠবে। তাই রিস্ক নেয়া যাবে না, কোনমতেই রিস্ক নেয়া চলবে না। প্রথম চান্সেই শটটা মেরে দিতে হবে। প্রেরণাতে ওর লেখাটা যেন পাঠককে চুম্বকের মতো টানে, যেন পাঠক এরপর ওর লেখা পড়ার জন্য চাতক পাখির মতো অধীর হয়ে থাকে, লিখতে হলে সেভাবেই লিখবে। কিন্তু সেভাবে যদি লেখাটা না আসে! যদি বিষয়বস্তু সেই আগের মতোই প্রতিবাদসর্বস্ব হয়ে যায়, শুধু জীবনের রুদ্র কঠিন বাস্তবতাই ফুটে ওঠে, যা পাঠ করে পাঠক নিজেও চাবুকাঘাত অনুভব করবে! কার দায় ঠেকেছে পয়সা দিয়ে বই কিনে শুধু শুধু চটকনা খাওয়ার! হাসান জামিলের লেখা মানেই চাবুক, প্রতিবাদ! মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গি নেই ঠিকই, বিপ্লবের তেজও অনুপস্থিত। তবু সেসব লেখা ওর আশপাশের মানুষকে বড় বেশি বিদ্ধ করে। কেন যেন সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ওর কলম বড় বেশি নির্মম হয়ে ওঠে, তাই যে-ই পড়ে সে-ই শত্রু বনে যায়। অথচ সে যে খারাপ লেখে তাও নয়। কোন কোন সমালোচক তো ওর লেখার বিষয় ও ভঙ্গির মুহুর্মুহু প্রশংসা করে। কিন্তু চাই না আমি সেই গুটিকয়েক সমালোচক, আমি চাই বৃহৎ এক পাঠকগোষ্ঠী, সেই পাঠকগোষ্ঠী যদি পেয়ে যাই, তাহলে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টার চাকরিটাও করতে হবে না, যেটা ওর লেখালেখির স্বপ্নটাকে ধূলিসাত করে দিয়েছে!
নতুন আশার আলোয় হাসান জামিল নিজের লেখকসত্তার যেন নতুন উদ্বোধনের আয়োজনকে চাক্ষুষ করতে পারল। যে যা ইচ্ছে মনে করুক, আমি শালা হুমায়ূন আহমেদের মতোই লিখব। একবার পাঠকের মন জয় করতে পারলেই হলো, শুধু লেখালেখি করেই জীবন চলার এক পথ বাতলে যাবে। মন্দ কি! অফিস নেই, রোজগারের ধান্দা নেই। সকালে ঘুম থেকে জেগেই লেখালেখির শুরু। সারাদিন যখন খুশি যেমন খুশি লেখ আর লেখ। বিকেল আর সন্ধ্যাবেলা আড্ডা দিয়ে বেড়াও। একেবারে স্বপ্নের মতো জীবন! যেটা অর্জন করেছে কেবল হুমায়ূন আহমেদই। কিন্তু কিভাবে লেখা যাবে সেই পরম সাফল্য পাওয়া মানুষটির মতো! কিভাবে অর্জন করা যাবে তার ভাষা আর ভঙ্গিমাকে। যতটুকু জেনেছে ভদ্রলোক নাকি খুব সহজ ভাষায় লেখেন! খুবই সরল তার উপস্থাপনা। আমিও না হয় সহজ ভাষায় লিখতে চেষ্টা করব! সেটা না হয় করলাম! কিন্তু ভদ্রলোকের লেখার মধ্যে থাকেটা কি! কী জন্য সবাই তৃষিত কাকের মতো তার লেখা পড়ার জন্য হা করে থাকে এবং কেন সে বই না পড়া পর্যন্ত কারও আর অন্য কোন ধ্যানজ্ঞান থাকে না। সবচেয়ে আগে দরকার ভদ্রলোকের বইটই কিছু পড়ে দেখা।
এত বছরের জীবনে এখনও হুমায়ূন আহমেদের কোন বই ওর পড়া হয়ে ওঠেনি। ইচ্ছে করেই পড়েনি। সে এ জেনারেশনের একজন সিরিয়াস রাগী লেখক, হুমায়ূন আহমেদের বই পড়লে যদি পথভ্রষ্ট হওয়ার ভয় থাকে? শুনেছে ভদ্রলোকের লেখায় নাকি ধনী কন্যারা সহজেই গরিব গোবেচারা টাইপের ছেলেদের প্রেমে পড়ে যায়! এই মিথ্যে কল্পনাবিলাসিতার মানেটা কি! ওর বিশ বছরের ঢাকার জীবনে বড়লোকের মেয়েতো কম দেখল না! সবই শালায় খালি তেলা মাথায় তেল দেয়! গরিব ছেলেদের সঙ্গে প্রেম তো করেই না, উল্টো প্রেমের প্রতারণা করে। ভার্সিটিতে দেখেছে কোন গরিব ছেলে মেধাবী হলেই হলো, ধনীর সুন্দরী দুলালীরা প্রেম প্রেম ভাব দেখিয়ে নোটটোট কী সুন্দর হাতিয়ে নেয়। পরীক্ষার পাট চুকল তো, প্রেমও পালাল। আর সেখানে হুমায়ূন আহমেদ নাকি চিন-পরিচয় হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ধনীর সুন্দরী কন্যাকে অসহায় গরিব যুবার প্রেমে একেবারে দিশেহারা করে তোলেন। এটাকে প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কী বলা যাবে! হাসান জামিল যদি ঢাকার অন্তত একজন সুন্দরীর সহবত পেত, তার বিশ্বাস সে দেশের একজন বড় কবি হতে পারত। প্রেমহীনতার কারণেই তো সে আজ গদ্যের গহীন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া এক দিগভ্রান্ত পথিক।
কারণ কি শুধু এটাই? দূর থেকে হুমায়ূন আহমেদকে সবসময়ই ওর জোকার টাইপের লেখক মনে হয়েছে। ওর স্ত্রী রেবা প্রথম প্রথম কোত্থেকে কোত্থেকে হুমায়ূন আহমেদের বই এনে বিভোর হয়ে ডুবে থাকত। তখন কেবল নতুন বিয়ে হয়েছে ওদের। সেটেলড্ ম্যারেজ। কোথায় একজন আরেকজনকে বুঝবে, দেখবে। তা না, রেবা সবকিছু বাদ দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের নতুন নতুন বই নিয়ে বসে থাকত। আর পড়ে ফ্যাক ফ্যাক করে শুধু হাসত। রাগে গা জ্বলে যেত ওর। ঝাড়তও সে রাগ। আরে কীসব বই পড়ছ তুমি বল তো, তোমার ব্রেনের ধারণ-ক্ষমতা তো আস্তে আস্তে লোপ পাবে। এসব হালকা জিনিসপত্র পড়ে লাভ আছে? সিরিয়াস সাহিত্য পড়ো। বোধ বাড়বে, চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে। রেবা মনে মনে ক্ষেপতো। সেটার বহির্প্রকাশ ঘটতো টিভি দেখার সময়। মাধুরী দিক্ষিতের কোন ছবিই হোক আর নাচের দৃশ্যই হোক, রেবা রিমোট টিপে চ্যানেল ঘুরিয়ে দিত। রাগে কাঁই হয়ে যেত হাসান জামিল। রেবা ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে বলত, এখন কেমন লাগে? তুমি তো আমাকে হুমায়ূন আহমেদ পড়তে দাও না! সেই রেবা যদি এখন ওকে দেখে হুমায়ূন আহমেদ পড়ছে, ওকে তো লাকড়ি দিয়ে পেটাবে।
হাসান জামিল আলস্য ঝেটিয়ে বিছানা ছাড়ল। রেবার চোখ এড়িয়ে বুক শেলফ তন্নতন্ন করে খুঁজল। কোথাও হুমায়ূন আহমেদের একটিও বই নেই, বই যে এক সময় ছিল সে চিহ্ন পর্যন্ত নেই। বড় অভিমানী মেয়ে রেবা। হয়তো অভিমান করেই বাসা থেকে হুমায়ূন আহমেদের সব বই সরিয়ে ফেলেছে। হুমায়ূন আহমেদ পড়ার জন্য বেচারাকে একসময় কম যাতনা সহ্য করতে হয়েছে? বুক শেলফ, খাটের তল, ঘরের ড্রয়ার-দেরাজ যত জায়গা ছিল সব তন্ন তন্ন করে খুঁজেও হুমায়ূন আহমেদের কোন বই পাওয়া গেল না। রেবা কয়েকবার জিজ্ঞেস করল, কী খুঁজছো তুমি বলো তো? প্রথমবার কিছু না বলে পার পেলেও দ্বিতীয়বার আর এড়িয়ে যেতে পারল না। রেবা এসে সোজা সামনে দাঁড়াল, অ্যাই এমন চোরের মতো করছো কেন? কী খুঁজছো আমাকে বললেই তো হয়! খুঁজে বের করে দেই। ও তখন মনে যা এলো তাই বলল, ইনকাম ট্যাক্সের পিন নাম্বারটা কোথায় বলো তো?
আমি কীভাবে বলব? আমার কাছে দিয়েছ?
মনে তো হচ্ছে তোমার কাছেই দিয়েছিলাম।
তো আমাকে বললেই হতো। এমন চোরের মতো করছ কেন? হঠাৎ ওটার কী দরকার হলো?
না মানে...। আমতা আমতা করতে লাগল হাসান জামিল। সেই কারণটার জন্যই তো বলতে চাইছি না।
ঠিক আছে না বললে!
না বলে শেষে কোন্ বিপদে পড়তে হয়, কে জানে! মেয়েরা যা সন্দেহপ্রবণ! হাসান জামিল বলল, না মানে লোন তুলতে চাইছিলাম। জানো, আজকাল লোন তুলতেও ইনকাম ট্যাক্সের পিন নাম্বার দরকার হয়।
ইমপসিবল! লোন তুলতে তোমাকে কিছুতেই দেব না!
এত কথা থাকতে কেন যে লোনের কথা পেড়েছিল। নিজের ওপর বিরক্তিতে হাসান জামিল গজরাতে থাকে।
ব্যাংকগুলো একেবারে শুষে নেয়। লাইফ পুরো হেল করে দেয়। মনে নেই তোমার?
হাসান জামিল চুপ করে থাকে। শুধু শুধু তর্ক করার কোন মানে হয় না। কিন্তু রেবা অত সহজে ছাড়ার পাত্র নয়। পিন নাম্বার তো পাবেই না। দেখি এবার তুমি কিভাবে লোন তোল।
হাসান জামিলকে চুপচাপ দেখে আর কিছু বলে না রেবা। কাজে চলে যায়। একটু পর কাজ থেকে ফিরে এসেই ধরল, আচ্ছা, তোমার হঠাৎ লোন নেয়ার দরকার পড়লো কেন বলো তো?
ওহ্! কান ঝালাপালা হবার জোগাড়! কাজের কাজ কিছুই হলো না! কাল যা হোক, অফিসে যাওয়ার আগে কোন দোকান থেকে হুমায়ূন আহমেদের একটা উপন্যাস কিনে নিলেই হলো!
২.
সাগর পাবলিশার্স এখনো খোলেনি। এত সকালে এই ৯টার সময় খোলার কথাও নয়। আচ্ছা, সোজা বাংলাবাজার চলে গেলে কেমন হয়? প্রতীক প্রকাশনীতে? ওরাই তো সম্ভবত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস সমগ্র বের করেছে। পড়বেই যখন, প্রথম বই দিয়ে শুরু করা যাক না! ঢুকতে তো হবে হুমায়ূন আহমেদের একেবারে আত্মার গভীরে। তা না হলে কিভাবে সেই স্টাইল সেই বিষয়কে ধরা যাবে? একটা দিন অফিসে যেতে না হয় একটু বিলম্বই হলো। যে সুযোগ এসেছে, কাজে লাগাতে পারলে অফিসই উল্টো তোমার পিছে দৌড়াবে একদিন। একটা সিএনজি থামিয়ে উঠে বসল হাসান জামিল।
প্রতীক প্রকাশনী থেকে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস সমগ্র প্রথম খ- কিনে যখন মতিঝিলে ওর অফিসে ঢুকল, তখন ১১টা বাজে বাজে।
দেরি করে অফিসে আসায় নিজেকে কেমন চোরের মতো লাগছিল। আমরিন ইসলাম অভয় দিয়ে বলল, না, আপনাকে কেউ খোঁজেনি। আজকে মনে হয় কাজের লোডটা কম। মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল হাসান জামিল। কাজের লোড কম হলেই ভালো। হুমায়ূনের উপন্যাস যদি আজই শুরু করে দেয়া যায়, তাহলে দু’তিন দিনের মধ্যেই লেখাটা আরম্ভ করা যাবে। ব্যাগের ভেতর থেকে হুমায়ূন আহমেদের বইটা বের করার জন্য মন উশখুশ করতে লাগল। মাত্র এক মাস সময় দিয়েছে ওকে লেখার জন্য। ওকেই বোধহয় সবচেয়ে দেরিতে বলেছে। হয়তো বলতই না। লেখক বোধহয় কম পড়েছে! আজকাল তো ঈদসংখ্যার অভাব নেই। এখন দয়া দেখিয়ে ওকে নেয়া হচ্ছে! সমস্ত অবহেলার উত্তর আমি দেব! একবার হিট হয়ে যাই না আগে! এরপর পায়ে ধরলেও তো লেখা পাবি না! তুর্কি নাচনটা দেখাতে হবে প্রকাশকদের সঙ্গে! সবার দ্বারে দ্বারে কম ঘুরেছে ও! একেক শালা তো কথা পর্যন্ত বলতে চায় না! তুমি যত উপেক্ষা করেছো, তত উপেক্ষার তীর ফিরে যাবে তোমার দিকে, তত বেশি বিদ্ধ হবে তুমি! না কবিতার লাইন ওর আসে না। আসে প্রেমে পড়লে! বহুদিন প্রেমে পড়া হয় না। বহুদিন প্রেমহীন বহুদিন উপেক্ষায়। আজ কেমন যেন কবিতার উঁকিঝুঁকি! কবিতা তোমাকে দিলাম আজকে ছুটি! আমি এখন গদ্যের গহন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া এক দিগভ্রান্ত পথিক।
পথিক, তুমি কি পথ খুঁজিয়া পাইবে? পাবে কি হুমায়ূন আহমেদে! আমি তো পথেই আছি, শুধু হুমায়ূন আহমেদের পথরেখা খুঁজে নেব! ব্যাগ থেকে চুপি চুপি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস সমগ্র বের করল হাসান জামিল। কেউ দেখলে কেলেঙ্কারির একশেষ। কম তো আর লেকচার দেয়া হয়নি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের বিরুদ্ধে। এসব তো টিনএজদের জন্য, কোন গভীরতা নেই। জাস্ট পাল্প ফিকশন! এখন যদি কেউ টের পায়, ও সেই হুমায়ূন আহমেদই পড়ছে, কথা শোনাতে কেউ দেড় মিনিটও দেরি করবে না। রক্ষা যে ওর বসার টেবিলটা দেয়ালমুখী। যথাসম্ভব নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করে, বইটাকে ঢেকেঢুকে ও খুলে বসল। ভেবেছিল প্রথমে উপন্যাসটা দিয়েই শুরু করবে পাঠ, হলো না। ‘নিজের কিছু কথা’য় এসে আটকে গেল।
হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, ‘কুড়ি বছর আগের কথা। বর্ষার রাত। বাইরে ঘনঘন বিজলি চমকাচ্ছে। আমি বইপত্র নিয়ে বসে আছি। থার্মেডিনামিক্সের একটি জটিল অঙ্ক যে করেই হোক পড়ে শেষ করতে হবে। হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল! কেমিস্ট্রির বইখাতা ঠেলে সরিয়ে দিলাম, লিখতে শুরু করলাম, রাবেয়া ঘুরে ঘুরে সেই কথা কটিই বারবার বলছিল। রুনুর মাথা নিচু হতে হতে থুতনি বুকের সঙ্গে লেগে গিয়েছিল। আমার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস নন্দিত নরকে। ঐ রাতে কেন হঠাৎ উপন্যাস লেখায় হাত দিলাম, কেনইবা এ রকম গল্প মাথায় এলো বলতে পারব না। লেখকরা যখন লেখেন তখন তারা অনেক কিছুই বলতে চান। সমাজের কথা বলেন, কালের কথা বলেন, জীবনের রহস্যময়তার কথা বলেন। লেখার ভেতর আদি প্রশ্নের উত্তর খোঁজেনÑআমরা কোথা থেকে এসেছি? আমরা কারা? আমরা কেনইবা এলাম? আমরা কোথায় যাচ্ছি? নন্দিত নরকে লেখার সময় আমার বয়স উনিশ-কুঁড়ির বেশি নয়। এই বয়সের একজন তরুণ কি এত ভেবেচিন্তে কিছু লেখে? আমার জানা নেইÑ আমি শুধু জানি ঐ রাতে একটি গল্প আমার মাথায় ভর করেছিল। গল্পের চরিত্রগুলো স্পষ্ট চোখের সামনে দেখছিলাম, ওদের কথা শুনতে পাচ্ছিলাম। ভেতরে প্রচ- চাপ অনুভর করছিলামÑযেভাবে ওদের দেখছি হুবহু সেইভাবে ওদের কথা বলতে হবে এবং আজ রাতেই বলতে হবে। এই মানসিক চাপের উৎস কী, আমি জানি না।’
হাসান জামিলও কি জানে? অবশ্য ওর প্রথম লেখার ব্যাপারটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম। রাবেয়া নয়, রুনুরা নয়, অন্য কোন মানুষ কিংবা চরিত্র নয়, প্রথম গদ্য লেখার তাগিদটা ও বোধ করেছিল নিজেরই এক ব্যক্তিগত যন্ত্রণা থেকে। তার আগে ও নিজেও জানতো না, কোনদিন গল্প লিখবে অথবা উপন্যাস। স্বপ্ন ছিল কবি হওয়ার। কী এক ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে কবিতায় কবিতায় খাতা ভরে ফেলতো তখন। আর সেসব কবিতা নিয়ে ঘুরে বেড়াত সাহিত্য সম্পাদকদের টেবিলে টেবিলে। সেই কবিতা লেখার দিনেই একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার ওকে নিজের রুমে ঢুকতে দিল না। দিল না তো দিলই না, বাইরে অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখল। সেটা কোন বেদনার ব্যাপার নয়। কিন্তু বড় ক্লেদকর ব্যাপারটা হলো, ও যাকে মনে মনে ভালোবাসত কামনা করত, স্যার সে মেয়েটির সঙ্গেই ব্যস্ত ছিলেন অন্তরঙ্গ কথা বলায়। নিজেকে তখন হীন মনে হয়েছিল, দীন মনে হয়েছিল অতি। ও তাকিয়েছিল নিজের দিকে, ক্যাম্পাসে এমন একটা পুরনো রংচটা শার্টে ওকে ঠিক মানায় না, তোমার স্যান্ডেলটাও অনেক আগেই বদলে ফেলা উচিত ছিল! বদলে ফেলা তো উচিত ছিল অনেক কিছুই। কিন্তু বাবা যে টাকা দেয় না! কেন দেয় না, সেটাও এক রহস্য! বেশি টাকা পেলে ছেলে বখে যাবে না-কি আরাম আয়েশে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে! বাবার অদ্ভুত অদ্ভুত সব ফিলোসফি! নিজের ধান্দা নিজেকেই করতে হবে! একটা পার্ট টাইম চাকরির সম্ভাবনা দেখে, পেটে ক্ষুধা আর মনে ক্ষত নিয়ে ও হাঁটতে হাঁটতেই ছুটে গিয়েছিল তখনকার এক সাপ্তাহিক পত্রিকা অফিসে, শান্তিনগরের মোড়ে।
নির্বাহী সম্পাদক মানুষটি এটা-সেটা প্রশ্ন জিগ্যেস করার সময়ই হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলো বি-গ্রেডের এক চিত্রনায়িকার স্বামী। নির্বাহী সম্পাদক ভদ্রলোক ওর সামনেই তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ ওর হাতে দশটা টাকা ধরিয়ে দিয়ে আদেশের সুরে বললেন, গেটের সামনেই একটা পানের দোকান আছে! আমগো দুইজনের জইন্য দুইটা পান নিয়া আসো তো! যাও! আমারটা জর্দা ছাড়া!
চাকরিটা দরকার, ভীষণ দরকার! প্রতি সপ্তাহের শেষের দিকে টাকার টান পড়ে যায়। তখন বন্ধুবান্ধবের কাছে চেয়েচিন্তে ভাত খেতে হয় আর কত রকম ইচ্ছে করে, একটা ভালো শার্ট পরতে, একটা ভালো কলম কিনতে! সপ্তাহ শেষে ঢাকার এক আত্মীয়ের কাছে মফস্বলের বাবার রেখে দেয়া টাকা চাইতে গেলে ১০০-এর বেশি কখনই পাওয়া যেত না! বাবার নাকি অমনই আদেশ! চাকরিটা পেলে আর কারোর কাছেই হাত পাততে হবে না! সে চাকরির আশায় ও পানের দোকান পর্যন্ত ভালোভাবেই যেতে পারল, কিন্তু পানটা কেনার পরই, কোত্থেকে উপচে এসে পড়তে লাগল আত্মসম্মানের স্রোতধারা! নিজেকে মনে হতে লাগল একটা ধিক্কৃত চরিত্র। এই পৃথিবীর সবার অবজ্ঞার পাত্র! কাগজে জড়ানো পান দুটো এবং বাকি পয়সা দারোয়ানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ও নেমে এসেছিল পথে। পেটে ক্ষুধা নিয়েই হাঁটছিল সেদিন, রিকশা ভাড়া পকেটে থাকলে তো! হাঁটতে হাঁটতে আবিষ্কার করেছিলÑ চোখ থেকে নেমে আসছে অবিরল জলের ধারা। এমন গ্লানিবোধে ও কখনো আচ্ছন্ন হয়নি আগে। ক্ষুধা আর মনের যন্ত্রণা নিয়ে হলে এসেই লিখে ফেলেছিল গ্লানি নামের একটি গল্প।
পরদিনই গল্পটা দিয়ে এসেছিল একটা সাপ্তাহিককে। ওকে অবাক করে দিয়ে পরের সপ্তাহেই ছাপা হয়েছিল গ্লানি। ব্যস আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। চুটিয়ে গল্প লিখেছে এখানে সেখানে, সাপ্তাহিক, দৈনিক, লিটল ম্যাগাজিনে! বইও বেরিয়েছে তিন-চারটে। গল্প লেখার পাশাপাশি উপন্যাসও লিখেছে এক দুটো। কিন্তু সব লেখাই কি নিজের সত্তার ভাঙচুর নয়? তুমি কি আত্মবিবরে নিজের অন্ধকারেই ডুবে থাকছো না? প্রশ্নটা হঠাৎই এতদিন পর জেগে উঠল হাসান জামিলের। এখানেই বোধকরি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে ওর একটা মৌল পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হুমায়ূন আহমেদ যেখানে রাবেয়া-রুনুসহ অন্যান্য অনেক মানুষের কথা ভেবে লিখতে উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন, সেখানে ওর লেখার উদ্বোধন ঘটেছিল ব্যক্তিগত যন্ত্রণা থেকে। সে কারণেই কি অন্যের কাছে ওর লেখাগুলো আদৃত হলো না?
না না না, সেটা কেন হবে! অন্যের কথা, মানুষের কথা, সময়ের কথাও তো ওর লেখায় এসেছে। ঘুরেফিরেই এসেছে। প্রবলভাবেই এসেছে। সমাজ এবং সময় বলা যায় প্রধান প্রতিপাদ্যই ওর লেখার। কোন কোন সমালোচক তো ওকে মানবিকতার কথাকার বলেও উল্লেখ করেছে। তাহলে? তাহলে পাঠক কেন ওকে গ্রহণ করল না? সেটার উত্তর সম্ভবত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস পাঠ করলেই মিলবে। ও নন্দিত নরকে খুলে বসল। পড়া মাত্র শুরু করেছে কি করেনি, তখনই কোথা থেকে আদিল রহমান ও জোনায়েদ ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে জানতে চাইল, কি ব্যাপার! হাসান ভাই। আজকে এত চুপচাপ। কোন আওয়াজ নেই।
বইটাকে আলগোছে ড্রয়ারের ভিতর চালান করে দিয়ে চেয়ারটা ঘুরিয়ে ওদের দিকে ফিরে বসল। মৃদু একটা হাসি দিয়ে সবকিছুই যে ঠিক আছে, ও যেন বোঝাতে চাইল ওটা।
ধরেছিলেন বস, কাজটা? জোনায়েদ জানতে চাইল। এই তো ধরব। একটু দম নিচ্ছিলাম। আজকেই দিতে হবে? হ্যাঁ। ক্লায়েন্ট আজ বিকেলের মধ্যেই চেয়েছে। নো প্রবলেম, হয়ে যাবে। চলুন না বস, ক্যান্টিনে। চা খেয়ে আসি। আপনি তো মনে হয় আজ চা খাননি। না চলো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠল হাসান জামিল। নন্দিত নরকে মনে হয় না আজ অফিসে পড়া যাবে। জোনায়েদ শালাটা কাজ থাকলেই হলো, চ্যাংড়ার মতো পিছনে লেগে থাকে! অথচ পড়াটাও জরুরি। লেখার জন্যই জরুরি। উপন্যাসটা ক্লিক না করলে ওঠার আর কোন চান্স পাওয়া যাবে না। ও কোনভাবেই চায় না, এ্যাভারেজ পাঠকরা আর ওর বই কিনতে ভয় পাক। সবার মধ্যে যেন এই মনোভাবটা কাজ করে, হাসান জামিলের লেখা আমার জন্য। সেটাই একটা বিগ চ্যালেঞ্জ!
৩.
না, অফিসে নন্দিত নরকে পড়ার সুযোগ হয়নি হাসান জামিলের। কাজের ব্যস্ততাতেই কেটেছে। বাসায় ফিরেও সুযোগ এলো না। অনেকদিন পর আজ যেন রেবার প্রেমটা একটু বেশি বেশিই উছলে উঠেছে। ছেলেকে পড়ানো বাদ দিয়ে আজ ওকে নিয়েই বসল। এ-বাসার গল্প, ও-ভাবির সংবাদ, অসীম ধৈর্য নিয়ে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করল সে। অবশেষে এলে সেই মহালগ্ন। টিভিতে শুরু হলো রাজাকী আয়েগী বরাত হিন্দি সিরিয়াল। নিমেষেই বাকি দুনিয়া ভুলে গেল রেবা।
ড্রয়িংরুমের সোফাসেটে হাসান জামিল নন্দিত নরকে-তে পুরোপুরি সেট হয়ে গেলো। আশ্চর্য সরল আর সত্যিই সম্মোহনীয় এক ভাষা। বর্ণনা এমন সরল হতে পারে, ওর কল্পনাতেও ছিল না। তির তির করে এগিয়ে যায় হাসান জামিল। এতো দেখছি একেবারে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের কমন গল্প। যেখানে ছেলেমেয়ের ঘরের সাথে বাবা-মায়ের ঘরের ব্যবধান থাকে বাঁশের বেড়ার। গভীর রাতে মার উদ্দেশে বাবার আদুরে ডাক শোনা যায়। যে পরিবারে সন্তানের আবদার রক্ষা করতে না পেরে মার মুখটা বাচ্চা খুকীদের মতো হয়ে যায়। অপরাধে মায়ের নাকের ফর্সা পাতলা পাতা তির তির করে কাঁপে। পাঁচ-ছয় পৃষ্ঠা পড়েছে কি পড়েনি অমনি রেবা এসে ঢুকল, চলো চলো খেয়ে নেই।
বইটা সোফার কুশনের নিচে চালান করে দিয়ে হন্তদন্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়িয়ে হাসান জামিল বলল, কি ব্যাপার ...কি হলো? মুখটাকে একমুখ রাতের আঁধার বানিয়ে রেবা বলল, আর বলো না। ডিশওয়ালাদের ওখানে মনে হয় লোডশেডিং! নাটকটা আজকে আর দেখা হলো না! মনে মনে লোডশেডিংয়ের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে লাগল হাসান জামিল। মেজাজ সামলিয়ে ও খাবার টেবিলে এসে বসল। নন্দিত নরকই পড়ার চান্স পাচ্ছে না, উপন্যাস লেখা শুরু করবে কখন?
ভাগ্য ভালো যে রন্টুকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে রেবাও ঘুমিয়ে পড়ল। সচরাচর এটা হয় না ওর। হাসান জামিলের সঙ্গে গল্প করতে করতেই ঘুমায়। আবার ড্রয়িংরুমের সোফাসেটে নন্দিত নরকে পড়ায় ডুবে গেল হাসান জামিল। এ এক চৌম্বক আকর্ষণ! ছেড়ে থাকা যায় না! তীব্র আবেগে বুঁদ হয়ে পড়ায় মগ্ন হয়ে রইল ও। পড়তে পড়তে কখন যে সোফাসেটেই ঘুমিয়ে পড়ল, বলতেও পারবে না, ঘুম ভাঙল রেবার ডাকে, এই! কি ব্যাপার বলো তো? তুমি কি রাতে এখানেই ঘুমিয়েছ?
লাফ দিয়ে উঠে বসল হাসান জামিল। কখন সকাল হয়েছে কে জানে! বুকের ওপর থেকে হুমায়ূন উপন্যাস সমগ্রটা পড়ে গেল নিচে, পড়বি তো পড় একেবারে রেবার পায়ে। বইটা চটজলদি উঠাতে উঠাতে ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বলল, এটা কী? হুমায়ূন আহমেদ? তুমি হুমায়ূন আহমেদ পড়ছো?
না, মানে লজ্জায় সংকোচে কাঁচুমাচু হয়ে যায় হাসান জামিল। মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে রেবা বলল, পড়ছো ভালো কথা! চুরি করে পড়ার মানেটা কী!
না, মানে! আর বলতে হয় না রেবাকে কোনকিছু মুখ খুলে। দু’জনের চোখের সামনেই ভেসে উঠল কত স্মৃতি কত বড় বড় কথা, উপদেশের পর উপদেশ, আমার বউ হয়ে তুমি শাবানার সিনেমা দেখে কাঁদো! ছি ছি! আমি বন্ধুবান্ধবের কাছে মুখ দেখাব কিভাবে! টিভিতে শাবানার ছবি দেখে একদিন চোখের জল বাঁধ মানেনি বলে কত কথাই না শুনতে হয়েছিল! দু’দিন বাদেই নিয়ে এলো শাবানা আজমীর খ-হর, জেনেসিস আরও যেন কী কী সব ছবির ভিডিও, নিজে ছাড়তে ছাড়তে বলেছিল, সিনেমা দেখলে শাবানা আজমীর ছবি দেখো! এইসব মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট থেকে তোমাকে বেরিয়ে আসতে হবে! না পারেনি রেবা! বেরিয়ে আসতে পারেনি। যেমন শাবানার ছবি ছেড়ে ধরতে পারেনি শাবানা আজমীর ছবি, তেমনি হুমায়ূন আহমেদ ছেড়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কিংবা হাসান আজিজুল হক কিংবা মাহমুদুল হক কিংবা রশীদ করীমে সহজে আসক্ত হতে পারেনি ও। কী করবে? এক জীবনের অভ্যেস সহজে ছাড়া যায়? রেবার এ ব্যর্থতাকে সহজে মেনে নিতে পারেনি হাসান জামিল। এসব নিয়ে কত রকমের পাগলামিই না করেছে ও! একবার তো সংসার ভাঙারই উপক্রম হয়েছিল। আজ মনে পড়তেই ও সংকোচে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে থাকে। ওকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে রেবা, কোনটা পড়লে হুমায়ূন আহমেদের?
নন্দিত নরকে। ছোট্ট জবাব হাসান জামিলের। কেমন লাগছে? পুরোটা শেষ করতে পারিনি। আট-নয় পৃষ্ঠা বাকি আছে। নাস্তা শেষ করেই অদ্ভুত কা- করল হাসান জামিল। বই নিয়ে বসে পড়ল। রেবা অবাক গলায় বলল, তোমার অফিস নেই? শেষ করেই যাই। বেশিক্ষণ লাগবে না।
নন্দিত নরকে পড়তে পড়তে মন কেমন বিষণœ হয়ে উঠল হাসান জামিলের। বিশেষ করে মন্টুর চ্যাপ্টারটা শুরু হওয়ার পর থেকেই মনের ভেতরটা কেমন রিন রিন করছে। সহজ বর্ণনায় কত গভীরতাকেই না ছুঁতে পারেন লেখক অসামান্য কুশলতায়। রাবেয়া যেমন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেল, সেদিনই মাছ কাটার বঁটি দিয়ে মাস্টার সাহেবকে খুন করে বসল মন্টু। অথচ খুনের ব্যাপারে না দিল স্বীকারোক্তি না করল অস্বীকার। বোনের ইজ্জত, মাস্টার সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধাÑসবকিছু জিইয়ে রেখেই ওর এই ঘৃণা এই প্রতিবাদ। কত কথা যে মনে পড়ে হাসান জামিলের। এই দারিদ্র্যকে আমি চিনি। নন্দিত নরকে উপন্যাসে রাবেয়া রুনু মন্টুদের ফ্যামিলির যে দারিদ্র্য, যে অভাব টানাপোড়েন, বাবা-মার অসহায়ত্বÑ এটা যে পুরো বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্যামিলিরই ঘটনা! যে সময়ে নন্দিত নরকে লেখা হয়েছিল কটা পরিবারের মাসিক আয় স্বাভাবিক বেঁচে থাকার মতো ছিল? প্রত্যেককেই নির্দিষ্ট অর্থে দিনযাপন করতে হয়, এখনো তো প্রায় পরিবারকেই মাসের অর্ধেক যেতে না যেতে হিসাব করে করে, শুধুই কি হিসাব, কঠিন হিসাব করে দিন গুজরান করতে হয়। এ শুধুই কি দারিদ্র্র্যের গল্প? এই শরীর এই দেহ এই যৌবনের কত চাওয়া-পাওয়া, পৃথিবীর সেই সূচনালগ্ন থেকেই, যদি একে বলো পাপ তাহলে পাপ, যদি বলো সম্মোহনÑঅস্বীকার করা যায় না। উপন্যাসে অস্পষ্ট হলেও আমরা উপন্যাসের বর্ণনাকারী উত্তম পুরুষ নায়কের ভাষ্য থেকেই জানতে পারি, হয়তো মাস্টার সাহেবের দ্বারাই রেবার গর্ভে সন্তান এসেছিলÑকিন্তু আশ্চর্য যে, কাউকেই ঠিক দায়ী করতে ইচ্ছে হয় না, মাস্টারকে না, মন্টুকে না, রাবেয়াকে না, প্রত্যেকেই যেন নিয়তির হাতে বন্দি, ক্রীড়নক! সবার প্রতি সহানুভূতিতে মন ভিজে ওঠে। রেবা এসে সামনে দাঁড়ায়, অ্যাই! তুমি আজ অফিসে যাবে না? কটা বাজছে খেয়াল আছে?
গা মুচড়িয়ে উঠে দাঁড়ায় হাসান জামিল, বইটা হাতে নিয়েই। রেবা হাসি লুকাতে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলে।
৪.
নন্দিত নরকের মতো একটা উপন্যাস কি আমি লিখতে পারব? এত সহজভাবে এত সরল বর্ণনায়? অফিসে নিজের টেবিলে বসে বসে ভাবছিল হাসান জামিল। তাও আবার এক রাতের লেখা। এক বসায়। অসম্ভব শক্তিশালী লেখার হাত আর গভীর জীবনবোধ না থাকলে এটা সম্ভব নয়। ওসব থাকলে প্রতীকী অলংকার সাঙ্কেতিকতা এসব আপনা-আপনি চলে আসে। জোর করে কোন কিছু আরোপ করার প্রয়োজন হয় না। এই যে বাগানে হাস্নাহেনা গাছের নিচে মন্টুর সাপ মারার বর্ণনাটা, কত ন্যাচারালভাবে এসেছে আর যখন এই মন্টুর হাতেই মাস্টার সাহেব মারা গেলেন বঁটির কোপে, তখন এই সাপ মারার প্রাসঙ্গিক বর্ণনাটাই কী ভীষণভাবে অসাধারণ হয়ে উঠল! পেয়ে গেল আশ্চর্য এক প্রতীকীমাত্র! কোন বর্ণনাই অপ্রাসঙ্গিক নয়, নয় অপ্রয়োজনীয়, বাহুল্য কথা একটাও নেই। আর কী মুগ্ধ হয়ে পাঠ করতে হয় দুনিয়ার সবকিছু ভুলে গিয়ে!
হাসান জামিল শঙ্খনীল কারাগার খুলে বসল। মুহূর্তেই এটা অফিস না বাসা ভুলে গেল ও। পাতার পর পাতা শেষ করতে লাগল। এটাও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প এবং ছোট ছোট চাওয়া না পাওয়ার সেই যন্ত্রণাগুলো সকরুণভাবে ছুঁয়ে দেয়! কেন ভালো লাগবে না এ দেশের পাঠকের! পাঠক যদি নিজেকে খুঁজে পায়! এ উপন্যাসের মাকে কেমন একটু অন্যরকম লাগছে, যে তার সন্তানদের প্রতি খানিকটা উদাসীন। আর বড় মায়া ধরিয়ে দিতে লাগল রাবেয়া-মন্টুর মতো চরিত্রগুলো, উপন্যাসের উত্তম পুরুষ কথক খোকা। আরেকটা বাচ্চার জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু থমকে দিল হাসান জামিলকে। ও স্তম্ভিত হয়ে বসে রইল সে পাতায়। কতক্ষণ ঝিম মেরে বসেছিল বলতে পারবে না। হঠাৎ ওর ঘোর ভাঙল আমরিন ইসলামের ডাকে, এই আপনি দু’তিন দিন ধরে কী রসে মেতে আছেন বলুন তো! দেখি! একেবারে গায়ের ওপর এসে পড়ে যাচ্ছিল আমরিন। হাসান জামিল কিছুতেই আর নিজেকে রক্ষা করতে পারলো না। বইটা হাতে নিয়ে আমরিনের চোখে রাজ্যের বিস্ময়। ও চেঁচিয়ে ওঠল, আদনান, জাভেদ ভাই, শিরিন! দেখে যান কী দারুণ সারপ্রাইজ!
চারদিকের ডেস্ক থেকে ছুটে এলো ওরা। হাসান জামিলকে ঘিরে দাঁড়াল! আমরিন যেন দারুণ একটা কিছু আবিষ্কার করে ফেলেছে এমন ভঙ্গিতে বলল, হাসান ভাই লুকিয়ে লুকিয়ে হুমায়ূন আহমেদ পড়ছেন।
তাই নাকি? স্ট্রেঞ্জ! যেন অষ্টম আশ্চর্যের কোনকিছু অবলোকন করছে ওরা। আদনান হাসান জামিলের মুখটাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে গভীর কৌতূহলে জানতে চাইল, সবকিছু ঠিক আছে তো?
হাসান জামিল ওদের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসতে লাগলো। শিরীন আবিদ বলে উঠলো, হঠাৎ আপনার এই অধঃপতন!
খট করে কানে কথাটা লাগল হাসান জামিলের। ও মাত্র হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে পাঠ শেষ করেছে। এখন পড়ছে শঙ্খনীল কারাগার। এখনো বুকের ভিতরটা চিনচিন করছে চরিত্রগুলোর জন্য, নাকি নিজেরই জন্য, ঠিক জানে না হাসান। হুমায়ূন আহমেদ পাঠ কেন হবে অধঃপতনের বিষয়! এ কেমন কথা শিরীন আবিদের। জবাব দিতে রুচিতে বাঁধল। দু’কলম ইংরেজি শিখে পড়িস তো মার্কেজ, রুশদী, বিক্রম শেঠ! বাংলাদেশের লেখকদের নাম শুনলেই নাক সিটকাস। তোরা আবার কী মূল্যায়ন করবি হুমায়ূন আহমেদের? ওদের কথাকে পাত্তা না দিয়ে ওদের সামনেই আবারও শঙ্খনীল কারাগার পড়তে লাগল। আর তো পিছুটান নেই। ধরা যখন পড়েই গেছে! এত সহজে ছাড়বার পাত্র নয় শিরীন আবিদ, রহস্যটা কী বলেন তো? হঠাৎ হুমায়ূন আহমেদ?
এমনিই! পড়তে ইচ্ছে করল, পড়ছি। আপনার অসুবিধা আছে? এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে কী সব বলতেন? মনে আছে?
মানুষ বদলাতেই পারে!
ভালো! ভালো। খুব ভালো।
ওদের মধ্যে হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল। হাসির হুল্লোড়েই শোনা গেল শিরীন আবিদের গলা, আপনি যেসব লেখকদের পক্ষে ওকালতি করতেন, তাদের কী হবে এখন?
আশ্চর্য ! তাদের আবার কী হবে মানে? এখানে বসে থাকতে আর এক মিনিটেরও রুচি হচ্ছে না হাসান জামিলের। যেন ওরা ওকে একটা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিতে চাইছে! শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায় ওর। হাসান জামিল চেয়ার ছেড়ে উঠল। লম্বা প্যাসেজ পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ছোট্ট লনের স্মোকিং জোনে এসে দাঁড়াল!
অফিসে এই একটিমাত্র জায়গা আছে, যেখানে খোলা আকাশ পাওয়া যায়। সামনের জায়গাটা ফাঁকা। গাছপালা, এক টুকরো সবুজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে! তাদের কী হবে মানে! পাঠক পাক আর না পাক তাদের জায়গায় তারা ঠিকই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন! হাসান জামিল আগেও তাদের সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করতো, এখনো করে! হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক, রশীদ করীম, রিজিয়া রহমান, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, শহীদুল জহির এবং এদের মতো অনেকেই আছেন, যারা বাংলাদেশের সাহিত্যে একটি শৈল্পিক এবং মানুষের যুগলবন্ধনে মহান ধারার সৃষ্টি করেছেন! লেখাকে শিল্পোত্তীর্ণ করার পাশাপাশি তারা চেয়েছেন এ জাতির বোধ এবং চৈতন্যও একটা উচ্চতর স্থানে গিয়ে পৌঁছাক! লেখাকে তারা পণ্য বানানোর ঘোর বিরোধী! হাসান জামিল তাদের পথ এবং মতের সাথে একটা আত্মার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে! এবং সেই প্ল্যাটফর্ম থেকেই ঘরে রেবাকেই হোক কিংবা বাইরে শিরীন আবিদদেরকেই হোক, বোঝানোর চেষ্টা করেছে, তোমরা কেউ মার্কেজ পড়ছ, কেউ পড়ছ হুমায়ূন-মিলন, একবারের জন্য অন্তত পড়ে দেখো হাসান আজিজুল হকের গল্পগুলো, মাহমুদুল হকের উপন্যাস, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, রিজিয়া রহমানের উপন্যাস, সৈয়দ শামসুল হকের আধুনিক দেখার চোখ! দেখবে তোমাদের কিছু অন্য ভুবন খুলে গিয়েছে! পাঠক এদের লেখা খুঁজে খুঁজে পড়ে না বলে একটা যন্ত্রণা একটা আক্ষেপ ওর আগেও ছিল এখনো আছে। ও ওদের জন্যে রীতিমতো সবার সাথে যুদ্ধও করেছে! এবং এটা সত্যি যে ও কখনোই হুমায়ূন আহমেদের পক্ষে বলেনি, ব�
ফোনটা রাখার পর হাসান জামিল চুপচাপ কতক্ষণ ঠা-া হয়ে বসে রইলো। সত্যিই তাহলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং উঁচুমানের সাপ্তাহিকটি ওর কাছে ঈদসংখ্যার জন্য উপন্যাস চাইল? এটাও বিশ্বাস করতে হবে? লেখালেখির সেই সূচনালগ্ন থেকেই তো মনের মধ্যে সূক্ষ্ম একটা স্বপ্ন উঁকি মারত, ঈদসংখ্যা দেখে দেখে, কবে এই বহুবর্ণিল ঢাউস সংখ্যায় ওরও একটা লেখা জায়গা পাবে। না, পায়নি। তারুণ্য পেরিয়ে মাঝ আকাশে নেমে গেছে লেখালেখির বয়স, ঈদসংখ্যা তো ঈদসংখ্যা, সাধারণ সংখ্যাগুলোতেও কেউ ওর লেখা চায় না। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক কালাকালে একটা গল্প পড়ে আছে প্রায় দু’বছর হলো, ছাপেও না, ছাড়েও না। ওদিকে লিটলম্যাগওয়ালাদের কাছে তো সে আগে থেকেই বুর্জোয়াদের দালাল হিসেবে চিহ্নিত। পত্রপত্রিকা এভয়েড করে যে শুধুমাত্র বইমেলাকে কেন্দ্র করে লেখালেখির চর্চা করে যাবে, সে আশায়ও গুড়েবালি! পাঠকরা ওকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যাখ্যান মানে কী প্রত্যাখ্যান! ডানগাল বামগাল কষে থাপ্পড়! ওর বইমেলায় ৪০ কপিও চলে কিনা সন্দেহ! তাই চারদিকের অবস্থা বিবেচনা করে সে যখন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছে, আর একটা পৃষ্ঠাও লিখবে না। জোচ্চুরি ছেচ্চুরি করে শুধু দু’হাতে টাকা কামাবে, তারপর অঢেল টাকার মালিক বনে যাওয়ার পর যা হয় অবস্থা বুঝে একজন গোস্ট রাইটার যোগাড় করা যাবে। তখনই সাপ্তাহিক প্রেরণার সম্পাদক আকাদ্দস চৌধুরীর এই ফোন। না-লেখার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকাটা বুঝি একটু কঠিনই হয়ে যাচ্ছে। বরং নতুনভাবে খানিকটা উদ্দীপনাও ফিরে আসছে, শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করে দেখা যাক না। ক্ষতি কি! আকাদ্দস চৌধুরী যখন ওকে একটা লিফট্ দিতে চাইছে, এই বলটাকে না পেঁচিয়ে সোজা গোলপোস্টের দিকে মেরে দিলেই তো হয়! লিখে ফেললেই হলো হুমায়ূন আহমেদের মতো একটা উপন্যাস, আকাদ্দস চৌধুরীর পরামর্শ মতো!
প্রেরণার সার্কুলেশন প্রায় পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি। প্রায় পঞ্চাশ হাজার পাঠকের মধ্যে যদি পঁচিশ হাজার পাঠকেরও মন জয় করে নেয়া যায়, বইমেলায় বই বেরুলে, ধরা যাক পঁচিশ হাজারের অর্ধেকই ধরলাম, সাড়ে বারো হাজার পাঠক ওর বই খুঁজবে। খারাপ কি! সাড়ে বারো হাজার পাঠক কি সোজাকথা? এরপর তো প্রকাশকদের কাছে সে পরম আরাধ্য হয়ে উঠবে। তাই রিস্ক নেয়া যাবে না, কোনমতেই রিস্ক নেয়া চলবে না। প্রথম চান্সেই শটটা মেরে দিতে হবে। প্রেরণাতে ওর লেখাটা যেন পাঠককে চুম্বকের মতো টানে, যেন পাঠক এরপর ওর লেখা পড়ার জন্য চাতক পাখির মতো অধীর হয়ে থাকে, লিখতে হলে সেভাবেই লিখবে। কিন্তু সেভাবে যদি লেখাটা না আসে! যদি বিষয়বস্তু সেই আগের মতোই প্রতিবাদসর্বস্ব হয়ে যায়, শুধু জীবনের রুদ্র কঠিন বাস্তবতাই ফুটে ওঠে, যা পাঠ করে পাঠক নিজেও চাবুকাঘাত অনুভব করবে! কার দায় ঠেকেছে পয়সা দিয়ে বই কিনে শুধু শুধু চটকনা খাওয়ার! হাসান জামিলের লেখা মানেই চাবুক, প্রতিবাদ! মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গি নেই ঠিকই, বিপ্লবের তেজও অনুপস্থিত। তবু সেসব লেখা ওর আশপাশের মানুষকে বড় বেশি বিদ্ধ করে। কেন যেন সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ওর কলম বড় বেশি নির্মম হয়ে ওঠে, তাই যে-ই পড়ে সে-ই শত্রু বনে যায়। অথচ সে যে খারাপ লেখে তাও নয়। কোন কোন সমালোচক তো ওর লেখার বিষয় ও ভঙ্গির মুহুর্মুহু প্রশংসা করে। কিন্তু চাই না আমি সেই গুটিকয়েক সমালোচক, আমি চাই বৃহৎ এক পাঠকগোষ্ঠী, সেই পাঠকগোষ্ঠী যদি পেয়ে যাই, তাহলে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টার চাকরিটাও করতে হবে না, যেটা ওর লেখালেখির স্বপ্নটাকে ধূলিসাত করে দিয়েছে!
নতুন আশার আলোয় হাসান জামিল নিজের লেখকসত্তার যেন নতুন উদ্বোধনের আয়োজনকে চাক্ষুষ করতে পারল। যে যা ইচ্ছে মনে করুক, আমি শালা হুমায়ূন আহমেদের মতোই লিখব। একবার পাঠকের মন জয় করতে পারলেই হলো, শুধু লেখালেখি করেই জীবন চলার এক পথ বাতলে যাবে। মন্দ কি! অফিস নেই, রোজগারের ধান্দা নেই। সকালে ঘুম থেকে জেগেই লেখালেখির শুরু। সারাদিন যখন খুশি যেমন খুশি লেখ আর লেখ। বিকেল আর সন্ধ্যাবেলা আড্ডা দিয়ে বেড়াও। একেবারে স্বপ্নের মতো জীবন! যেটা অর্জন করেছে কেবল হুমায়ূন আহমেদই। কিন্তু কিভাবে লেখা যাবে সেই পরম সাফল্য পাওয়া মানুষটির মতো! কিভাবে অর্জন করা যাবে তার ভাষা আর ভঙ্গিমাকে। যতটুকু জেনেছে ভদ্রলোক নাকি খুব সহজ ভাষায় লেখেন! খুবই সরল তার উপস্থাপনা। আমিও না হয় সহজ ভাষায় লিখতে চেষ্টা করব! সেটা না হয় করলাম! কিন্তু ভদ্রলোকের লেখার মধ্যে থাকেটা কি! কী জন্য সবাই তৃষিত কাকের মতো তার লেখা পড়ার জন্য হা করে থাকে এবং কেন সে বই না পড়া পর্যন্ত কারও আর অন্য কোন ধ্যানজ্ঞান থাকে না। সবচেয়ে আগে দরকার ভদ্রলোকের বইটই কিছু পড়ে দেখা।
এত বছরের জীবনে এখনও হুমায়ূন আহমেদের কোন বই ওর পড়া হয়ে ওঠেনি। ইচ্ছে করেই পড়েনি। সে এ জেনারেশনের একজন সিরিয়াস রাগী লেখক, হুমায়ূন আহমেদের বই পড়লে যদি পথভ্রষ্ট হওয়ার ভয় থাকে? শুনেছে ভদ্রলোকের লেখায় নাকি ধনী কন্যারা সহজেই গরিব গোবেচারা টাইপের ছেলেদের প্রেমে পড়ে যায়! এই মিথ্যে কল্পনাবিলাসিতার মানেটা কি! ওর বিশ বছরের ঢাকার জীবনে বড়লোকের মেয়েতো কম দেখল না! সবই শালায় খালি তেলা মাথায় তেল দেয়! গরিব ছেলেদের সঙ্গে প্রেম তো করেই না, উল্টো প্রেমের প্রতারণা করে। ভার্সিটিতে দেখেছে কোন গরিব ছেলে মেধাবী হলেই হলো, ধনীর সুন্দরী দুলালীরা প্রেম প্রেম ভাব দেখিয়ে নোটটোট কী সুন্দর হাতিয়ে নেয়। পরীক্ষার পাট চুকল তো, প্রেমও পালাল। আর সেখানে হুমায়ূন আহমেদ নাকি চিন-পরিচয় হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ধনীর সুন্দরী কন্যাকে অসহায় গরিব যুবার প্রেমে একেবারে দিশেহারা করে তোলেন। এটাকে প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কী বলা যাবে! হাসান জামিল যদি ঢাকার অন্তত একজন সুন্দরীর সহবত পেত, তার বিশ্বাস সে দেশের একজন বড় কবি হতে পারত। প্রেমহীনতার কারণেই তো সে আজ গদ্যের গহীন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া এক দিগভ্রান্ত পথিক।
কারণ কি শুধু এটাই? দূর থেকে হুমায়ূন আহমেদকে সবসময়ই ওর জোকার টাইপের লেখক মনে হয়েছে। ওর স্ত্রী রেবা প্রথম প্রথম কোত্থেকে কোত্থেকে হুমায়ূন আহমেদের বই এনে বিভোর হয়ে ডুবে থাকত। তখন কেবল নতুন বিয়ে হয়েছে ওদের। সেটেলড্ ম্যারেজ। কোথায় একজন আরেকজনকে বুঝবে, দেখবে। তা না, রেবা সবকিছু বাদ দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের নতুন নতুন বই নিয়ে বসে থাকত। আর পড়ে ফ্যাক ফ্যাক করে শুধু হাসত। রাগে গা জ্বলে যেত ওর। ঝাড়তও সে রাগ। আরে কীসব বই পড়ছ তুমি বল তো, তোমার ব্রেনের ধারণ-ক্ষমতা তো আস্তে আস্তে লোপ পাবে। এসব হালকা জিনিসপত্র পড়ে লাভ আছে? সিরিয়াস সাহিত্য পড়ো। বোধ বাড়বে, চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে। রেবা মনে মনে ক্ষেপতো। সেটার বহির্প্রকাশ ঘটতো টিভি দেখার সময়। মাধুরী দিক্ষিতের কোন ছবিই হোক আর নাচের দৃশ্যই হোক, রেবা রিমোট টিপে চ্যানেল ঘুরিয়ে দিত। রাগে কাঁই হয়ে যেত হাসান জামিল। রেবা ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে বলত, এখন কেমন লাগে? তুমি তো আমাকে হুমায়ূন আহমেদ পড়তে দাও না! সেই রেবা যদি এখন ওকে দেখে হুমায়ূন আহমেদ পড়ছে, ওকে তো লাকড়ি দিয়ে পেটাবে।
হাসান জামিল আলস্য ঝেটিয়ে বিছানা ছাড়ল। রেবার চোখ এড়িয়ে বুক শেলফ তন্নতন্ন করে খুঁজল। কোথাও হুমায়ূন আহমেদের একটিও বই নেই, বই যে এক সময় ছিল সে চিহ্ন পর্যন্ত নেই। বড় অভিমানী মেয়ে রেবা। হয়তো অভিমান করেই বাসা থেকে হুমায়ূন আহমেদের সব বই সরিয়ে ফেলেছে। হুমায়ূন আহমেদ পড়ার জন্য বেচারাকে একসময় কম যাতনা সহ্য করতে হয়েছে? বুক শেলফ, খাটের তল, ঘরের ড্রয়ার-দেরাজ যত জায়গা ছিল সব তন্ন তন্ন করে খুঁজেও হুমায়ূন আহমেদের কোন বই পাওয়া গেল না। রেবা কয়েকবার জিজ্ঞেস করল, কী খুঁজছো তুমি বলো তো? প্রথমবার কিছু না বলে পার পেলেও দ্বিতীয়বার আর এড়িয়ে যেতে পারল না। রেবা এসে সোজা সামনে দাঁড়াল, অ্যাই এমন চোরের মতো করছো কেন? কী খুঁজছো আমাকে বললেই তো হয়! খুঁজে বের করে দেই। ও তখন মনে যা এলো তাই বলল, ইনকাম ট্যাক্সের পিন নাম্বারটা কোথায় বলো তো?
আমি কীভাবে বলব? আমার কাছে দিয়েছ?
মনে তো হচ্ছে তোমার কাছেই দিয়েছিলাম।
তো আমাকে বললেই হতো। এমন চোরের মতো করছ কেন? হঠাৎ ওটার কী দরকার হলো?
না মানে...। আমতা আমতা করতে লাগল হাসান জামিল। সেই কারণটার জন্যই তো বলতে চাইছি না।
ঠিক আছে না বললে!
না বলে শেষে কোন্ বিপদে পড়তে হয়, কে জানে! মেয়েরা যা সন্দেহপ্রবণ! হাসান জামিল বলল, না মানে লোন তুলতে চাইছিলাম। জানো, আজকাল লোন তুলতেও ইনকাম ট্যাক্সের পিন নাম্বার দরকার হয়।
ইমপসিবল! লোন তুলতে তোমাকে কিছুতেই দেব না!
এত কথা থাকতে কেন যে লোনের কথা পেড়েছিল। নিজের ওপর বিরক্তিতে হাসান জামিল গজরাতে থাকে।
ব্যাংকগুলো একেবারে শুষে নেয়। লাইফ পুরো হেল করে দেয়। মনে নেই তোমার?
হাসান জামিল চুপ করে থাকে। শুধু শুধু তর্ক করার কোন মানে হয় না। কিন্তু রেবা অত সহজে ছাড়ার পাত্র নয়। পিন নাম্বার তো পাবেই না। দেখি এবার তুমি কিভাবে লোন তোল।
হাসান জামিলকে চুপচাপ দেখে আর কিছু বলে না রেবা। কাজে চলে যায়। একটু পর কাজ থেকে ফিরে এসেই ধরল, আচ্ছা, তোমার হঠাৎ লোন নেয়ার দরকার পড়লো কেন বলো তো?
ওহ্! কান ঝালাপালা হবার জোগাড়! কাজের কাজ কিছুই হলো না! কাল যা হোক, অফিসে যাওয়ার আগে কোন দোকান থেকে হুমায়ূন আহমেদের একটা উপন্যাস কিনে নিলেই হলো!
২.
সাগর পাবলিশার্স এখনো খোলেনি। এত সকালে এই ৯টার সময় খোলার কথাও নয়। আচ্ছা, সোজা বাংলাবাজার চলে গেলে কেমন হয়? প্রতীক প্রকাশনীতে? ওরাই তো সম্ভবত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস সমগ্র বের করেছে। পড়বেই যখন, প্রথম বই দিয়ে শুরু করা যাক না! ঢুকতে তো হবে হুমায়ূন আহমেদের একেবারে আত্মার গভীরে। তা না হলে কিভাবে সেই স্টাইল সেই বিষয়কে ধরা যাবে? একটা দিন অফিসে যেতে না হয় একটু বিলম্বই হলো। যে সুযোগ এসেছে, কাজে লাগাতে পারলে অফিসই উল্টো তোমার পিছে দৌড়াবে একদিন। একটা সিএনজি থামিয়ে উঠে বসল হাসান জামিল।
প্রতীক প্রকাশনী থেকে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস সমগ্র প্রথম খ- কিনে যখন মতিঝিলে ওর অফিসে ঢুকল, তখন ১১টা বাজে বাজে।
দেরি করে অফিসে আসায় নিজেকে কেমন চোরের মতো লাগছিল। আমরিন ইসলাম অভয় দিয়ে বলল, না, আপনাকে কেউ খোঁজেনি। আজকে মনে হয় কাজের লোডটা কম। মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল হাসান জামিল। কাজের লোড কম হলেই ভালো। হুমায়ূনের উপন্যাস যদি আজই শুরু করে দেয়া যায়, তাহলে দু’তিন দিনের মধ্যেই লেখাটা আরম্ভ করা যাবে। ব্যাগের ভেতর থেকে হুমায়ূন আহমেদের বইটা বের করার জন্য মন উশখুশ করতে লাগল। মাত্র এক মাস সময় দিয়েছে ওকে লেখার জন্য। ওকেই বোধহয় সবচেয়ে দেরিতে বলেছে। হয়তো বলতই না। লেখক বোধহয় কম পড়েছে! আজকাল তো ঈদসংখ্যার অভাব নেই। এখন দয়া দেখিয়ে ওকে নেয়া হচ্ছে! সমস্ত অবহেলার উত্তর আমি দেব! একবার হিট হয়ে যাই না আগে! এরপর পায়ে ধরলেও তো লেখা পাবি না! তুর্কি নাচনটা দেখাতে হবে প্রকাশকদের সঙ্গে! সবার দ্বারে দ্বারে কম ঘুরেছে ও! একেক শালা তো কথা পর্যন্ত বলতে চায় না! তুমি যত উপেক্ষা করেছো, তত উপেক্ষার তীর ফিরে যাবে তোমার দিকে, তত বেশি বিদ্ধ হবে তুমি! না কবিতার লাইন ওর আসে না। আসে প্রেমে পড়লে! বহুদিন প্রেমে পড়া হয় না। বহুদিন প্রেমহীন বহুদিন উপেক্ষায়। আজ কেমন যেন কবিতার উঁকিঝুঁকি! কবিতা তোমাকে দিলাম আজকে ছুটি! আমি এখন গদ্যের গহন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া এক দিগভ্রান্ত পথিক।
পথিক, তুমি কি পথ খুঁজিয়া পাইবে? পাবে কি হুমায়ূন আহমেদে! আমি তো পথেই আছি, শুধু হুমায়ূন আহমেদের পথরেখা খুঁজে নেব! ব্যাগ থেকে চুপি চুপি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস সমগ্র বের করল হাসান জামিল। কেউ দেখলে কেলেঙ্কারির একশেষ। কম তো আর লেকচার দেয়া হয়নি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের বিরুদ্ধে। এসব তো টিনএজদের জন্য, কোন গভীরতা নেই। জাস্ট পাল্প ফিকশন! এখন যদি কেউ টের পায়, ও সেই হুমায়ূন আহমেদই পড়ছে, কথা শোনাতে কেউ দেড় মিনিটও দেরি করবে না। রক্ষা যে ওর বসার টেবিলটা দেয়ালমুখী। যথাসম্ভব নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করে, বইটাকে ঢেকেঢুকে ও খুলে বসল। ভেবেছিল প্রথমে উপন্যাসটা দিয়েই শুরু করবে পাঠ, হলো না। ‘নিজের কিছু কথা’য় এসে আটকে গেল।
হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, ‘কুড়ি বছর আগের কথা। বর্ষার রাত। বাইরে ঘনঘন বিজলি চমকাচ্ছে। আমি বইপত্র নিয়ে বসে আছি। থার্মেডিনামিক্সের একটি জটিল অঙ্ক যে করেই হোক পড়ে শেষ করতে হবে। হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল! কেমিস্ট্রির বইখাতা ঠেলে সরিয়ে দিলাম, লিখতে শুরু করলাম, রাবেয়া ঘুরে ঘুরে সেই কথা কটিই বারবার বলছিল। রুনুর মাথা নিচু হতে হতে থুতনি বুকের সঙ্গে লেগে গিয়েছিল। আমার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস নন্দিত নরকে। ঐ রাতে কেন হঠাৎ উপন্যাস লেখায় হাত দিলাম, কেনইবা এ রকম গল্প মাথায় এলো বলতে পারব না। লেখকরা যখন লেখেন তখন তারা অনেক কিছুই বলতে চান। সমাজের কথা বলেন, কালের কথা বলেন, জীবনের রহস্যময়তার কথা বলেন। লেখার ভেতর আদি প্রশ্নের উত্তর খোঁজেনÑআমরা কোথা থেকে এসেছি? আমরা কারা? আমরা কেনইবা এলাম? আমরা কোথায় যাচ্ছি? নন্দিত নরকে লেখার সময় আমার বয়স উনিশ-কুঁড়ির বেশি নয়। এই বয়সের একজন তরুণ কি এত ভেবেচিন্তে কিছু লেখে? আমার জানা নেইÑ আমি শুধু জানি ঐ রাতে একটি গল্প আমার মাথায় ভর করেছিল। গল্পের চরিত্রগুলো স্পষ্ট চোখের সামনে দেখছিলাম, ওদের কথা শুনতে পাচ্ছিলাম। ভেতরে প্রচ- চাপ অনুভর করছিলামÑযেভাবে ওদের দেখছি হুবহু সেইভাবে ওদের কথা বলতে হবে এবং আজ রাতেই বলতে হবে। এই মানসিক চাপের উৎস কী, আমি জানি না।’
হাসান জামিলও কি জানে? অবশ্য ওর প্রথম লেখার ব্যাপারটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম। রাবেয়া নয়, রুনুরা নয়, অন্য কোন মানুষ কিংবা চরিত্র নয়, প্রথম গদ্য লেখার তাগিদটা ও বোধ করেছিল নিজেরই এক ব্যক্তিগত যন্ত্রণা থেকে। তার আগে ও নিজেও জানতো না, কোনদিন গল্প লিখবে অথবা উপন্যাস। স্বপ্ন ছিল কবি হওয়ার। কী এক ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে কবিতায় কবিতায় খাতা ভরে ফেলতো তখন। আর সেসব কবিতা নিয়ে ঘুরে বেড়াত সাহিত্য সম্পাদকদের টেবিলে টেবিলে। সেই কবিতা লেখার দিনেই একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার ওকে নিজের রুমে ঢুকতে দিল না। দিল না তো দিলই না, বাইরে অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখল। সেটা কোন বেদনার ব্যাপার নয়। কিন্তু বড় ক্লেদকর ব্যাপারটা হলো, ও যাকে মনে মনে ভালোবাসত কামনা করত, স্যার সে মেয়েটির সঙ্গেই ব্যস্ত ছিলেন অন্তরঙ্গ কথা বলায়। নিজেকে তখন হীন মনে হয়েছিল, দীন মনে হয়েছিল অতি। ও তাকিয়েছিল নিজের দিকে, ক্যাম্পাসে এমন একটা পুরনো রংচটা শার্টে ওকে ঠিক মানায় না, তোমার স্যান্ডেলটাও অনেক আগেই বদলে ফেলা উচিত ছিল! বদলে ফেলা তো উচিত ছিল অনেক কিছুই। কিন্তু বাবা যে টাকা দেয় না! কেন দেয় না, সেটাও এক রহস্য! বেশি টাকা পেলে ছেলে বখে যাবে না-কি আরাম আয়েশে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে! বাবার অদ্ভুত অদ্ভুত সব ফিলোসফি! নিজের ধান্দা নিজেকেই করতে হবে! একটা পার্ট টাইম চাকরির সম্ভাবনা দেখে, পেটে ক্ষুধা আর মনে ক্ষত নিয়ে ও হাঁটতে হাঁটতেই ছুটে গিয়েছিল তখনকার এক সাপ্তাহিক পত্রিকা অফিসে, শান্তিনগরের মোড়ে।
নির্বাহী সম্পাদক মানুষটি এটা-সেটা প্রশ্ন জিগ্যেস করার সময়ই হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলো বি-গ্রেডের এক চিত্রনায়িকার স্বামী। নির্বাহী সম্পাদক ভদ্রলোক ওর সামনেই তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ ওর হাতে দশটা টাকা ধরিয়ে দিয়ে আদেশের সুরে বললেন, গেটের সামনেই একটা পানের দোকান আছে! আমগো দুইজনের জইন্য দুইটা পান নিয়া আসো তো! যাও! আমারটা জর্দা ছাড়া!
চাকরিটা দরকার, ভীষণ দরকার! প্রতি সপ্তাহের শেষের দিকে টাকার টান পড়ে যায়। তখন বন্ধুবান্ধবের কাছে চেয়েচিন্তে ভাত খেতে হয় আর কত রকম ইচ্ছে করে, একটা ভালো শার্ট পরতে, একটা ভালো কলম কিনতে! সপ্তাহ শেষে ঢাকার এক আত্মীয়ের কাছে মফস্বলের বাবার রেখে দেয়া টাকা চাইতে গেলে ১০০-এর বেশি কখনই পাওয়া যেত না! বাবার নাকি অমনই আদেশ! চাকরিটা পেলে আর কারোর কাছেই হাত পাততে হবে না! সে চাকরির আশায় ও পানের দোকান পর্যন্ত ভালোভাবেই যেতে পারল, কিন্তু পানটা কেনার পরই, কোত্থেকে উপচে এসে পড়তে লাগল আত্মসম্মানের স্রোতধারা! নিজেকে মনে হতে লাগল একটা ধিক্কৃত চরিত্র। এই পৃথিবীর সবার অবজ্ঞার পাত্র! কাগজে জড়ানো পান দুটো এবং বাকি পয়সা দারোয়ানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ও নেমে এসেছিল পথে। পেটে ক্ষুধা নিয়েই হাঁটছিল সেদিন, রিকশা ভাড়া পকেটে থাকলে তো! হাঁটতে হাঁটতে আবিষ্কার করেছিলÑ চোখ থেকে নেমে আসছে অবিরল জলের ধারা। এমন গ্লানিবোধে ও কখনো আচ্ছন্ন হয়নি আগে। ক্ষুধা আর মনের যন্ত্রণা নিয়ে হলে এসেই লিখে ফেলেছিল গ্লানি নামের একটি গল্প।
পরদিনই গল্পটা দিয়ে এসেছিল একটা সাপ্তাহিককে। ওকে অবাক করে দিয়ে পরের সপ্তাহেই ছাপা হয়েছিল গ্লানি। ব্যস আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। চুটিয়ে গল্প লিখেছে এখানে সেখানে, সাপ্তাহিক, দৈনিক, লিটল ম্যাগাজিনে! বইও বেরিয়েছে তিন-চারটে। গল্প লেখার পাশাপাশি উপন্যাসও লিখেছে এক দুটো। কিন্তু সব লেখাই কি নিজের সত্তার ভাঙচুর নয়? তুমি কি আত্মবিবরে নিজের অন্ধকারেই ডুবে থাকছো না? প্রশ্নটা হঠাৎই এতদিন পর জেগে উঠল হাসান জামিলের। এখানেই বোধকরি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে ওর একটা মৌল পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হুমায়ূন আহমেদ যেখানে রাবেয়া-রুনুসহ অন্যান্য অনেক মানুষের কথা ভেবে লিখতে উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন, সেখানে ওর লেখার উদ্বোধন ঘটেছিল ব্যক্তিগত যন্ত্রণা থেকে। সে কারণেই কি অন্যের কাছে ওর লেখাগুলো আদৃত হলো না?
না না না, সেটা কেন হবে! অন্যের কথা, মানুষের কথা, সময়ের কথাও তো ওর লেখায় এসেছে। ঘুরেফিরেই এসেছে। প্রবলভাবেই এসেছে। সমাজ এবং সময় বলা যায় প্রধান প্রতিপাদ্যই ওর লেখার। কোন কোন সমালোচক তো ওকে মানবিকতার কথাকার বলেও উল্লেখ করেছে। তাহলে? তাহলে পাঠক কেন ওকে গ্রহণ করল না? সেটার উত্তর সম্ভবত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস পাঠ করলেই মিলবে। ও নন্দিত নরকে খুলে বসল। পড়া মাত্র শুরু করেছে কি করেনি, তখনই কোথা থেকে আদিল রহমান ও জোনায়েদ ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে জানতে চাইল, কি ব্যাপার! হাসান ভাই। আজকে এত চুপচাপ। কোন আওয়াজ নেই।
বইটাকে আলগোছে ড্রয়ারের ভিতর চালান করে দিয়ে চেয়ারটা ঘুরিয়ে ওদের দিকে ফিরে বসল। মৃদু একটা হাসি দিয়ে সবকিছুই যে ঠিক আছে, ও যেন বোঝাতে চাইল ওটা।
ধরেছিলেন বস, কাজটা? জোনায়েদ জানতে চাইল। এই তো ধরব। একটু দম নিচ্ছিলাম। আজকেই দিতে হবে? হ্যাঁ। ক্লায়েন্ট আজ বিকেলের মধ্যেই চেয়েছে। নো প্রবলেম, হয়ে যাবে। চলুন না বস, ক্যান্টিনে। চা খেয়ে আসি। আপনি তো মনে হয় আজ চা খাননি। না চলো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠল হাসান জামিল। নন্দিত নরকে মনে হয় না আজ অফিসে পড়া যাবে। জোনায়েদ শালাটা কাজ থাকলেই হলো, চ্যাংড়ার মতো পিছনে লেগে থাকে! অথচ পড়াটাও জরুরি। লেখার জন্যই জরুরি। উপন্যাসটা ক্লিক না করলে ওঠার আর কোন চান্স পাওয়া যাবে না। ও কোনভাবেই চায় না, এ্যাভারেজ পাঠকরা আর ওর বই কিনতে ভয় পাক। সবার মধ্যে যেন এই মনোভাবটা কাজ করে, হাসান জামিলের লেখা আমার জন্য। সেটাই একটা বিগ চ্যালেঞ্জ!
৩.
না, অফিসে নন্দিত নরকে পড়ার সুযোগ হয়নি হাসান জামিলের। কাজের ব্যস্ততাতেই কেটেছে। বাসায় ফিরেও সুযোগ এলো না। অনেকদিন পর আজ যেন রেবার প্রেমটা একটু বেশি বেশিই উছলে উঠেছে। ছেলেকে পড়ানো বাদ দিয়ে আজ ওকে নিয়েই বসল। এ-বাসার গল্প, ও-ভাবির সংবাদ, অসীম ধৈর্য নিয়ে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করল সে। অবশেষে এলে সেই মহালগ্ন। টিভিতে শুরু হলো রাজাকী আয়েগী বরাত হিন্দি সিরিয়াল। নিমেষেই বাকি দুনিয়া ভুলে গেল রেবা।
ড্রয়িংরুমের সোফাসেটে হাসান জামিল নন্দিত নরকে-তে পুরোপুরি সেট হয়ে গেলো। আশ্চর্য সরল আর সত্যিই সম্মোহনীয় এক ভাষা। বর্ণনা এমন সরল হতে পারে, ওর কল্পনাতেও ছিল না। তির তির করে এগিয়ে যায় হাসান জামিল। এতো দেখছি একেবারে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের কমন গল্প। যেখানে ছেলেমেয়ের ঘরের সাথে বাবা-মায়ের ঘরের ব্যবধান থাকে বাঁশের বেড়ার। গভীর রাতে মার উদ্দেশে বাবার আদুরে ডাক শোনা যায়। যে পরিবারে সন্তানের আবদার রক্ষা করতে না পেরে মার মুখটা বাচ্চা খুকীদের মতো হয়ে যায়। অপরাধে মায়ের নাকের ফর্সা পাতলা পাতা তির তির করে কাঁপে। পাঁচ-ছয় পৃষ্ঠা পড়েছে কি পড়েনি অমনি রেবা এসে ঢুকল, চলো চলো খেয়ে নেই।
বইটা সোফার কুশনের নিচে চালান করে দিয়ে হন্তদন্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়িয়ে হাসান জামিল বলল, কি ব্যাপার ...কি হলো? মুখটাকে একমুখ রাতের আঁধার বানিয়ে রেবা বলল, আর বলো না। ডিশওয়ালাদের ওখানে মনে হয় লোডশেডিং! নাটকটা আজকে আর দেখা হলো না! মনে মনে লোডশেডিংয়ের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে লাগল হাসান জামিল। মেজাজ সামলিয়ে ও খাবার টেবিলে এসে বসল। নন্দিত নরকই পড়ার চান্স পাচ্ছে না, উপন্যাস লেখা শুরু করবে কখন?
ভাগ্য ভালো যে রন্টুকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে রেবাও ঘুমিয়ে পড়ল। সচরাচর এটা হয় না ওর। হাসান জামিলের সঙ্গে গল্প করতে করতেই ঘুমায়। আবার ড্রয়িংরুমের সোফাসেটে নন্দিত নরকে পড়ায় ডুবে গেল হাসান জামিল। এ এক চৌম্বক আকর্ষণ! ছেড়ে থাকা যায় না! তীব্র আবেগে বুঁদ হয়ে পড়ায় মগ্ন হয়ে রইল ও। পড়তে পড়তে কখন যে সোফাসেটেই ঘুমিয়ে পড়ল, বলতেও পারবে না, ঘুম ভাঙল রেবার ডাকে, এই! কি ব্যাপার বলো তো? তুমি কি রাতে এখানেই ঘুমিয়েছ?
লাফ দিয়ে উঠে বসল হাসান জামিল। কখন সকাল হয়েছে কে জানে! বুকের ওপর থেকে হুমায়ূন উপন্যাস সমগ্রটা পড়ে গেল নিচে, পড়বি তো পড় একেবারে রেবার পায়ে। বইটা চটজলদি উঠাতে উঠাতে ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বলল, এটা কী? হুমায়ূন আহমেদ? তুমি হুমায়ূন আহমেদ পড়ছো?
না, মানে লজ্জায় সংকোচে কাঁচুমাচু হয়ে যায় হাসান জামিল। মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে রেবা বলল, পড়ছো ভালো কথা! চুরি করে পড়ার মানেটা কী!
না, মানে! আর বলতে হয় না রেবাকে কোনকিছু মুখ খুলে। দু’জনের চোখের সামনেই ভেসে উঠল কত স্মৃতি কত বড় বড় কথা, উপদেশের পর উপদেশ, আমার বউ হয়ে তুমি শাবানার সিনেমা দেখে কাঁদো! ছি ছি! আমি বন্ধুবান্ধবের কাছে মুখ দেখাব কিভাবে! টিভিতে শাবানার ছবি দেখে একদিন চোখের জল বাঁধ মানেনি বলে কত কথাই না শুনতে হয়েছিল! দু’দিন বাদেই নিয়ে এলো শাবানা আজমীর খ-হর, জেনেসিস আরও যেন কী কী সব ছবির ভিডিও, নিজে ছাড়তে ছাড়তে বলেছিল, সিনেমা দেখলে শাবানা আজমীর ছবি দেখো! এইসব মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট থেকে তোমাকে বেরিয়ে আসতে হবে! না পারেনি রেবা! বেরিয়ে আসতে পারেনি। যেমন শাবানার ছবি ছেড়ে ধরতে পারেনি শাবানা আজমীর ছবি, তেমনি হুমায়ূন আহমেদ ছেড়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কিংবা হাসান আজিজুল হক কিংবা মাহমুদুল হক কিংবা রশীদ করীমে সহজে আসক্ত হতে পারেনি ও। কী করবে? এক জীবনের অভ্যেস সহজে ছাড়া যায়? রেবার এ ব্যর্থতাকে সহজে মেনে নিতে পারেনি হাসান জামিল। এসব নিয়ে কত রকমের পাগলামিই না করেছে ও! একবার তো সংসার ভাঙারই উপক্রম হয়েছিল। আজ মনে পড়তেই ও সংকোচে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে থাকে। ওকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে রেবা, কোনটা পড়লে হুমায়ূন আহমেদের?
নন্দিত নরকে। ছোট্ট জবাব হাসান জামিলের। কেমন লাগছে? পুরোটা শেষ করতে পারিনি। আট-নয় পৃষ্ঠা বাকি আছে। নাস্তা শেষ করেই অদ্ভুত কা- করল হাসান জামিল। বই নিয়ে বসে পড়ল। রেবা অবাক গলায় বলল, তোমার অফিস নেই? শেষ করেই যাই। বেশিক্ষণ লাগবে না।
নন্দিত নরকে পড়তে পড়তে মন কেমন বিষণœ হয়ে উঠল হাসান জামিলের। বিশেষ করে মন্টুর চ্যাপ্টারটা শুরু হওয়ার পর থেকেই মনের ভেতরটা কেমন রিন রিন করছে। সহজ বর্ণনায় কত গভীরতাকেই না ছুঁতে পারেন লেখক অসামান্য কুশলতায়। রাবেয়া যেমন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেল, সেদিনই মাছ কাটার বঁটি দিয়ে মাস্টার সাহেবকে খুন করে বসল মন্টু। অথচ খুনের ব্যাপারে না দিল স্বীকারোক্তি না করল অস্বীকার। বোনের ইজ্জত, মাস্টার সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধাÑসবকিছু জিইয়ে রেখেই ওর এই ঘৃণা এই প্রতিবাদ। কত কথা যে মনে পড়ে হাসান জামিলের। এই দারিদ্র্যকে আমি চিনি। নন্দিত নরকে উপন্যাসে রাবেয়া রুনু মন্টুদের ফ্যামিলির যে দারিদ্র্য, যে অভাব টানাপোড়েন, বাবা-মার অসহায়ত্বÑ এটা যে পুরো বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্যামিলিরই ঘটনা! যে সময়ে নন্দিত নরকে লেখা হয়েছিল কটা পরিবারের মাসিক আয় স্বাভাবিক বেঁচে থাকার মতো ছিল? প্রত্যেককেই নির্দিষ্ট অর্থে দিনযাপন করতে হয়, এখনো তো প্রায় পরিবারকেই মাসের অর্ধেক যেতে না যেতে হিসাব করে করে, শুধুই কি হিসাব, কঠিন হিসাব করে দিন গুজরান করতে হয়। এ শুধুই কি দারিদ্র্র্যের গল্প? এই শরীর এই দেহ এই যৌবনের কত চাওয়া-পাওয়া, পৃথিবীর সেই সূচনালগ্ন থেকেই, যদি একে বলো পাপ তাহলে পাপ, যদি বলো সম্মোহনÑঅস্বীকার করা যায় না। উপন্যাসে অস্পষ্ট হলেও আমরা উপন্যাসের বর্ণনাকারী উত্তম পুরুষ নায়কের ভাষ্য থেকেই জানতে পারি, হয়তো মাস্টার সাহেবের দ্বারাই রেবার গর্ভে সন্তান এসেছিলÑকিন্তু আশ্চর্য যে, কাউকেই ঠিক দায়ী করতে ইচ্ছে হয় না, মাস্টারকে না, মন্টুকে না, রাবেয়াকে না, প্রত্যেকেই যেন নিয়তির হাতে বন্দি, ক্রীড়নক! সবার প্রতি সহানুভূতিতে মন ভিজে ওঠে। রেবা এসে সামনে দাঁড়ায়, অ্যাই! তুমি আজ অফিসে যাবে না? কটা বাজছে খেয়াল আছে?
গা মুচড়িয়ে উঠে দাঁড়ায় হাসান জামিল, বইটা হাতে নিয়েই। রেবা হাসি লুকাতে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলে।
৪.
নন্দিত নরকের মতো একটা উপন্যাস কি আমি লিখতে পারব? এত সহজভাবে এত সরল বর্ণনায়? অফিসে নিজের টেবিলে বসে বসে ভাবছিল হাসান জামিল। তাও আবার এক রাতের লেখা। এক বসায়। অসম্ভব শক্তিশালী লেখার হাত আর গভীর জীবনবোধ না থাকলে এটা সম্ভব নয়। ওসব থাকলে প্রতীকী অলংকার সাঙ্কেতিকতা এসব আপনা-আপনি চলে আসে। জোর করে কোন কিছু আরোপ করার প্রয়োজন হয় না। এই যে বাগানে হাস্নাহেনা গাছের নিচে মন্টুর সাপ মারার বর্ণনাটা, কত ন্যাচারালভাবে এসেছে আর যখন এই মন্টুর হাতেই মাস্টার সাহেব মারা গেলেন বঁটির কোপে, তখন এই সাপ মারার প্রাসঙ্গিক বর্ণনাটাই কী ভীষণভাবে অসাধারণ হয়ে উঠল! পেয়ে গেল আশ্চর্য এক প্রতীকীমাত্র! কোন বর্ণনাই অপ্রাসঙ্গিক নয়, নয় অপ্রয়োজনীয়, বাহুল্য কথা একটাও নেই। আর কী মুগ্ধ হয়ে পাঠ করতে হয় দুনিয়ার সবকিছু ভুলে গিয়ে!
হাসান জামিল শঙ্খনীল কারাগার খুলে বসল। মুহূর্তেই এটা অফিস না বাসা ভুলে গেল ও। পাতার পর পাতা শেষ করতে লাগল। এটাও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প এবং ছোট ছোট চাওয়া না পাওয়ার সেই যন্ত্রণাগুলো সকরুণভাবে ছুঁয়ে দেয়! কেন ভালো লাগবে না এ দেশের পাঠকের! পাঠক যদি নিজেকে খুঁজে পায়! এ উপন্যাসের মাকে কেমন একটু অন্যরকম লাগছে, যে তার সন্তানদের প্রতি খানিকটা উদাসীন। আর বড় মায়া ধরিয়ে দিতে লাগল রাবেয়া-মন্টুর মতো চরিত্রগুলো, উপন্যাসের উত্তম পুরুষ কথক খোকা। আরেকটা বাচ্চার জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু থমকে দিল হাসান জামিলকে। ও স্তম্ভিত হয়ে বসে রইল সে পাতায়। কতক্ষণ ঝিম মেরে বসেছিল বলতে পারবে না। হঠাৎ ওর ঘোর ভাঙল আমরিন ইসলামের ডাকে, এই আপনি দু’তিন দিন ধরে কী রসে মেতে আছেন বলুন তো! দেখি! একেবারে গায়ের ওপর এসে পড়ে যাচ্ছিল আমরিন। হাসান জামিল কিছুতেই আর নিজেকে রক্ষা করতে পারলো না। বইটা হাতে নিয়ে আমরিনের চোখে রাজ্যের বিস্ময়। ও চেঁচিয়ে ওঠল, আদনান, জাভেদ ভাই, শিরিন! দেখে যান কী দারুণ সারপ্রাইজ!
চারদিকের ডেস্ক থেকে ছুটে এলো ওরা। হাসান জামিলকে ঘিরে দাঁড়াল! আমরিন যেন দারুণ একটা কিছু আবিষ্কার করে ফেলেছে এমন ভঙ্গিতে বলল, হাসান ভাই লুকিয়ে লুকিয়ে হুমায়ূন আহমেদ পড়ছেন।
তাই নাকি? স্ট্রেঞ্জ! যেন অষ্টম আশ্চর্যের কোনকিছু অবলোকন করছে ওরা। আদনান হাসান জামিলের মুখটাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে গভীর কৌতূহলে জানতে চাইল, সবকিছু ঠিক আছে তো?
হাসান জামিল ওদের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসতে লাগলো। শিরীন আবিদ বলে উঠলো, হঠাৎ আপনার এই অধঃপতন!
খট করে কানে কথাটা লাগল হাসান জামিলের। ও মাত্র হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে পাঠ শেষ করেছে। এখন পড়ছে শঙ্খনীল কারাগার। এখনো বুকের ভিতরটা চিনচিন করছে চরিত্রগুলোর জন্য, নাকি নিজেরই জন্য, ঠিক জানে না হাসান। হুমায়ূন আহমেদ পাঠ কেন হবে অধঃপতনের বিষয়! এ কেমন কথা শিরীন আবিদের। জবাব দিতে রুচিতে বাঁধল। দু’কলম ইংরেজি শিখে পড়িস তো মার্কেজ, রুশদী, বিক্রম শেঠ! বাংলাদেশের লেখকদের নাম শুনলেই নাক সিটকাস। তোরা আবার কী মূল্যায়ন করবি হুমায়ূন আহমেদের? ওদের কথাকে পাত্তা না দিয়ে ওদের সামনেই আবারও শঙ্খনীল কারাগার পড়তে লাগল। আর তো পিছুটান নেই। ধরা যখন পড়েই গেছে! এত সহজে ছাড়বার পাত্র নয় শিরীন আবিদ, রহস্যটা কী বলেন তো? হঠাৎ হুমায়ূন আহমেদ?
এমনিই! পড়তে ইচ্ছে করল, পড়ছি। আপনার অসুবিধা আছে? এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে কী সব বলতেন? মনে আছে?
মানুষ বদলাতেই পারে!
ভালো! ভালো। খুব ভালো।
ওদের মধ্যে হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল। হাসির হুল্লোড়েই শোনা গেল শিরীন আবিদের গলা, আপনি যেসব লেখকদের পক্ষে ওকালতি করতেন, তাদের কী হবে এখন?
আশ্চর্য ! তাদের আবার কী হবে মানে? এখানে বসে থাকতে আর এক মিনিটেরও রুচি হচ্ছে না হাসান জামিলের। যেন ওরা ওকে একটা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিতে চাইছে! শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায় ওর। হাসান জামিল চেয়ার ছেড়ে উঠল। লম্বা প্যাসেজ পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ছোট্ট লনের স্মোকিং জোনে এসে দাঁড়াল!
অফিসে এই একটিমাত্র জায়গা আছে, যেখানে খোলা আকাশ পাওয়া যায়। সামনের জায়গাটা ফাঁকা। গাছপালা, এক টুকরো সবুজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে! তাদের কী হবে মানে! পাঠক পাক আর না পাক তাদের জায়গায় তারা ঠিকই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন! হাসান জামিল আগেও তাদের সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করতো, এখনো করে! হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক, রশীদ করীম, রিজিয়া রহমান, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, শহীদুল জহির এবং এদের মতো অনেকেই আছেন, যারা বাংলাদেশের সাহিত্যে একটি শৈল্পিক এবং মানুষের যুগলবন্ধনে মহান ধারার সৃষ্টি করেছেন! লেখাকে শিল্পোত্তীর্ণ করার পাশাপাশি তারা চেয়েছেন এ জাতির বোধ এবং চৈতন্যও একটা উচ্চতর স্থানে গিয়ে পৌঁছাক! লেখাকে তারা পণ্য বানানোর ঘোর বিরোধী! হাসান জামিল তাদের পথ এবং মতের সাথে একটা আত্মার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে! এবং সেই প্ল্যাটফর্ম থেকেই ঘরে রেবাকেই হোক কিংবা বাইরে শিরীন আবিদদেরকেই হোক, বোঝানোর চেষ্টা করেছে, তোমরা কেউ মার্কেজ পড়ছ, কেউ পড়ছ হুমায়ূন-মিলন, একবারের জন্য অন্তত পড়ে দেখো হাসান আজিজুল হকের গল্পগুলো, মাহমুদুল হকের উপন্যাস, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, রিজিয়া রহমানের উপন্যাস, সৈয়দ শামসুল হকের আধুনিক দেখার চোখ! দেখবে তোমাদের কিছু অন্য ভুবন খুলে গিয়েছে! পাঠক এদের লেখা খুঁজে খুঁজে পড়ে না বলে একটা যন্ত্রণা একটা আক্ষেপ ওর আগেও ছিল এখনো আছে। ও ওদের জন্যে রীতিমতো সবার সাথে যুদ্ধও করেছে! এবং এটা সত্যি যে ও কখনোই হুমায়ূন আহমেদের পক্ষে বলেনি, ব�
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1332)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 03
(70)
- ভারতে ধর্ষণ রেকর্ডে শীর্ষে দিল্লি
- ঈদে আঁখি আলমগীরের হেঁসেলঘর বন্ধ
- সানিকে নিয়ে নাচানাচি কেন, প্রশ্ন তসলিমার
- আপনার বাচ্চার শীতকালীন শারীরিক সমস্যা
- দৃষ্টিশক্তির ক্রমবিকাশ ও অলস চোখ
- মায়ের দুধ ও শিশু by ডা. যাকিয়া মাহ্ফুজা হাসান
- সম্পাদক সমীপে
- জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ by ইকবাল আজিজ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার by বাহাউদ্দীন চৌধুরী
- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার- ঐতিহাসিক রায়- বাংলায় রূপান...
- সামাজিক উদ্যোক্তা- ড. ইউনূসের নতুন প্রস্তাব by ড....
- মহাজোট সরকারের এক বছর সাহস ও প্রতিশ্রুতির রূপরেখা ...
- খালেদা জিয়ার পথের কাঁটা by শাহরিয়ার কবির
- পরিবেশের সঙ্গে অসত্মিত্ব জড়িত_ জাতীয় ঐকমত্য চাই বা...
- সাধারণ শিৰা দিয়ে নারী দাসত্ব মুক্ত হয় না- মনত্মব্য...
- বিসত্মীর্ণ জলরাশি দীর্ঘ সৈকত বনাঞ্চল, কাঁকড়ার ছোটা...
- দিন বদলাতে সর্বাগ্রে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে হবে-...
- আসামিদের ৭ দিনের মধ্যে প্রাণভিৰা চাইতে হবে
- হত্যা লুটপাট দুনর্ীতি ছাড়া সব ৰেত্রে সাফল্য প্রধান...
- ধর্মাভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে- ০ বিসমিলস্না...
- এশিয়ার সেরা রোবট ব্র্যাকের চন্দ্রবোট-২
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইনুয়িটরা বিপন্ন
- কুকুর কেন হাড় চিবাতে ভালবাসে
- প্রতিকূল আবহাওয়ায় কোন্ প্রজাতির উদ্ভিদ টিকবে by এ...
- ফ্যা শ ন স ং বা দ
- ঈদের বাহারি শর্ট শার্ট
- ও বন্ধু আমার by তৌফিক অপু
- নারী অধিকার আদায়ের মডেল কিশোরী সুম্পা- বলতে চাই by...
- বাল্য বিয়ে by মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত
- নারীর কথা by অজয় কুমার রায়
- আরো অনেকেই by মাকিদ হায়দার
- ‘আমি কোথায় পাব তারে’ থেকে ‘আমার সোনার বাংলা’ by ক...
- মহাদেব সাহার প্রেম ও প্রকৃতির কবিতা by সাইফুজ্জামান
- মালয়েশিয়ায় বাঙালী by মুনতাসীর মামুন
- হুমায়ূন আহমেদের ব্যতিক্রমী শিল্পশস্য- যখন গিয়েছে ড...
- হুমায়ূন পাঠের ক্রিয়া মিথস্ক্রিয়া by হামিদ কায়সার
- খাদ্যে ভেজাল
- রমজানের প্রভাবে
- ফিরে দেখা-কলেজ-কাম আবাসিক হোটেল by শরীফুল ইসলাম
- প্রসঙ্গ ইসলাম- সিয়াম যুগে যুগে নানাভাবে by অধ্যাপ...
- অর্থনীতিতে দুর্বৃত্ত কোম্পানিগুলোর ‘অবদান’-এর দরকা...
- যে ব্যবস্থাপত্রে রোজা নষ্ট হয় না by অধ্যাপক এবিএম...
- বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনের অসমাপ্ত আত্মজীবনী by মো...
- রেলমন্ত্রীর কাজে ক্ষুব্ধ দিল্লী, প্রতিদিন বস্তাবোঝ...
- এফবিসিসিআই নির্বাচন ২১ অক্টোবর ॥ তফসিল ঘোষণা
- গ্রীনকার্ড দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন ফখরুদ্দীন? b...
- বিক্রি বাড়াতে অভিজাত মার্কেটে র্যাফেল ড্রর লোভনীয়...
- দক্ষিণ সুদানে শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা, এমওই...
- ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে গ্রাম আদালতে, সুফল ম...
- বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি by মোরসালিন মিজান
- 'দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় হুমকি লস্কর-ই-তৈয়বা'
- 'পুনের বোমা হামলা পরিকল্পিত ও সমন্বিত'-চার দফা হাম...
- সাত বছর পর ব্রিটেন সফরে পুতিন
- সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব-আসাদকে পদত্যাগের আহবান
- সিরীয় বিদ্রোহীদের সহায়তায় ওবামার গোপন নির্দেশ
- বিদ্যুৎ বিল-বিড়ম্বনা দূর করে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করুন
- দ্রব্যমূল্যের ওঠানামা-স্থিতিশীলতা প্রয়োজন
- শোকের মাস
- নির্বাচন নিয়ে কোন ধানাইপানাই চলবে না- স্থানীয় প্রত...
- ঘুমের সমস্যায় তৃতীয় বিশ্বঃ শীর্ষে আছে বাংলাদেশ
- সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করতে সময় বে...
- গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগে সংশোধনী অধ্যাদেশ আসছে...
- গতির লড়াইয়ের অপেক্ষায় লন্ডন- প্রস্তুত বোল্ট, ব্লেক...
- আইন না মানায় সেরা রাস্তার ‘লাটভাই’ মোটরসাইকেল- বেপ...
- দিনভর সংঘর্ষে জাবি উত্তাল-ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা ॥ হ...
- চরাচর-চিরায়ত বাঁশবাগান by বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
- আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮৭)-তোমরা স্বাধীন! by আল...
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের আগের রাত by সঞ্জ...
- পিপুফিশো by মোফাজ্জল করিম
- নুহাশের যে চিঠি বাবার কাছে পৌঁছেনি
-
▼
Aug 03
(70)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
লেখাটি অসম্পূর্ণ পোস্ট করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক পুরো লেখাটি পোস্ট করা হোক। তা না হলে লেখাটির স্বাদ পুরো পাওয়া যাবে না।
ReplyDeleteলেখাটি অসম্পূর্ণ পোস্ট করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক পুরো লেখাটি পোস্ট করা হোক। তা না হলে লেখাটির স্বাদ পুরো পাওয়া যাবে না।
ReplyDelete