ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখলেন জেরার্ড

মার্চ ২০১১, তারিখটা নিশ্চয়ই মনে রেখেছেন স্টিভেন জেরার্ড। মাস সাতেক আগের এই দিনে ডার্ক কাউটের হ্যাটট্রিকেই গত মৌসুমে নিজেদের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছিল লিভারপুল। সেবারই লিভারপুলের হয়ে শেষবারের মতো ম্যাচের শুরু থেকেই খেলেছিলেন জেরার্ড। এরপর কুঁচকির সমস্যা, অস্ত্রোপচার মিলিয়ে একের পর এক সমস্যা তাঁকে আর ম্যাচের শুরু থেকে মাঠে থাকতে দেয়নি। লম্বা সময় পর নামলেন, ফ্রি-কিক থেকে গোলও করলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি।


হাভিয়ের হার্নান্দেজের সমতা ফেরানো গোলটা না হলে অবশ্য সাত মাস আগের তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারতেন জেরার্ড।
রায়ান গিগসের ভাষায়, ম্যানইউ আর লিভারপুলের দ্বৈরথটা হচ্ছে ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ম্যাচ। হবেই বা না কেন, দেশে ও দেশের বাইরে, ইংল্যান্ডের সফলতম ক্লাব তো এ দুটিই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লিভারপুল অনেকটাই নিষপ্রভ। কিন্তু নিজেদের মাঠে তারা এখনো আগের সেই লিভারপুল, ২০০৭ সালের পর থেকে অ্যানফিল্ডে ম্যানইউর কাছে কখনোই হারতে হয়নি তাদের। এবারও হলো না।
মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা ওয়েইন রুনি শুরু থেকে নেই মাঠে, কারণ তাঁর মন নাকি খুব খারাপ! ইউরোর বাছাই পর্বে সার্বিয়া-মন্টেনেগ্রোর ম্যাচে লাল কার্ড দেখে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন রুনি। সামনে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় ইউরোর গ্রুপ পর্বে খেলা হবে না তাঁর, আর দল যদি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তাহলে তো ইউরোই খেলা হবে না। ভাঙা মন নিয়ে রুনি বসে রইলেন বেঞ্চে, সেই দুঃখেই হয়তো সতীর্থরাও মনমরা হয়ে থাকলেন নিষপ্রভ হয়ে। দল গঠনের কৌশলেই হয়তো নরউইচের সঙ্গে খেলা আগের ম্যাচের দলে ছয়টি পরিবর্তন, ন্যানি ও হার্নান্দেজকেও তাই শুরুতে বসে থাকতে হলো বেঞ্চে।
প্রথমার্ধটা ছিল আসলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই, শুধু মাঠে নয়, মানসিকভাবেও প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিল দুই দল। বল দখলের লড়াইয়ে লিভারপুল জিতলেও প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। যদিও ফিল জোনস এবং সুয়ারেজ, দুই দলের দুই ফুটবলারই নষ্ট করেছেন সহজ সুযোগ। ঘটনাবহুল দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনাপূর্ণ অংশের মুখ্য চরিত্রে চার্লি অ্যাডাম ও রিও ফার্ডিনান্ড। ৫৪ মিনিটে লুই সুয়ারেজকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন ফার্ডিনান্ড, ৬৮ মিনিটে আবারও ফাউল করলেন অ্যাডামকে। অ্যাডাম ইচ্ছে করে ডাইভ দিয়েছেন কি না, সেই বিতর্ক তো আছেই, হলুদ কার্ড দেখা ফার্ডিনান্ড আরেকটা হলুদ কার্ডও দেখে বসতে পারতেন। বঙ্রে একদম গোড়ায় ফাউল, তাই ফ্রি-কিক। সেখান থেকেই বাঁকানো শটে জেরার্ডের গোল। সেই গোল শোধ করেছেন হার্নান্দেজ, শেষ বাঁশির মিনিট দশেক আগে। গোলের পর রুনি আর ন্যানিকে মাঠে নামিয়েছিলেন ফার্গুসন। পর্তুগিজ উইঙ্গারের নেওয়া কর্নার কিক থেকে ড্যানি ওয়েলব্যাকের পাস থেকে গোল করে ১-১ সমতা ফিরিয়েছিলেন হার্নান্দেজ। এই স্কোরলাইনেই শেষ হয়েছে ল্যাঙ্কাশায়ার ডার্বি। সকারনেট

No comments

Powered by Blogger.