বিদ্রোহীদের কাবু করতে উগান্ডায় মার্কিন সেনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, উগান্ডার বিদ্রোহী গোষ্ঠী লর্ড'স রেজিস্ট্যান্স আর্মির (এলআরএ) বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর লড়াইয়ে সহায়তা দিতে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা পাঠানো হচ্ছে। এসব সেনা রণাঙ্গনে পারদর্শী হলেও তারা মূলত তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে উগান্ডার সেনাদের সহায়তা করবে। গত শুক্রবার কংগ্রেসকে এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছেন ওবামা।এলআরএ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ ও হাজারো মানুষকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। উগান্ডাসহ দক্ষিণ সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোয় এসব অপরাধ সংঘটন করে আসছে এলআরএ।


২০ বছর ধরে উগান্ডার উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে হাজারো মানুষ মারা গেছে। জোসেফ কোনি এলআরএর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শান্তিপ্রক্রিয়ার উদ্যোগের ফলে ২০০৬ সালে উগান্ডায় গৃহযুদ্ধের অবসান হলেও কোনি তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগতদের নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। এলআরএ বাহিনীতে শিশুদের জোর করে লড়াইয়ে শামিল করারও অভিযোগ রয়েছে।
চিঠিতে ওবামা বলেন, 'মার্কিন সেনারা সহযোগী বাহিনীর উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করবে, যাতে এলআরএর কোনি ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাকে রণাঙ্গন থেকে পিছু হটানো যায়।' তিনি বলেন, 'যদিও মার্কিন সেনারা রণাঙ্গনে পারদর্শী তবু তারা কেবল তথ্য, পরামর্শ দিয়ে সহযোগী বাহিনীকে সহায়তা করবে। যতক্ষণ না আত্মরক্ষার দরকার হবে ততক্ষণ তারা এলআরএ বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বে না।'
ইতিমধ্যে গত বুধবার ছোট একটি সেনাদল উগান্ডায় মোতায়েন করা হয়েছে। বাকিদের আগামী মাসের মধ্যেই সেখানে পাঠানো হবে। বেশির ভাগ মার্কিন সেনা উগান্ডায় মোতায়েন করা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর অনুমোদন সাপেক্ষে দক্ষিণ সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতেও মোতায়েন করা হবে বলে ওবামা জানিয়েছেন।
পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা আফ্রিকার ওই অঞ্চলের রাজধানীগুলোতে যাবে। সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা ও শান্তিরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করবে তারা। পেন্টাগনের মুখপাত্র জর্জ লিটল বলেন, উগান্ডায় সেনা পাঠানোর ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল সে দেশের সরকার। এ ছাড়া ২০০৯ সালে কংগ্রেসে পাস করা একটি আইনে আফ্রিকার ওই অঞ্চলের জনগণকে এলআরএর হাত থেকে রক্ষার ব্যাপারে মার্কিন সহায়তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী, গত বছরই এলআরএ বিদ্রোহীদের নিরস্ত্র করে ভুক্তভোগী জনগণকে বেশি মাত্রায় মানবিক সাহায্য পাঠানোর পরিকল্পনা করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তারই অংশ হিসেবে এ সেনা পাঠানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা ও গণহত্যাবিরোধী গ্রুপগুলো ওবামার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড জানিয়েছেন, ২০০৮ সাল থেকে এলআরএ-বিরোধী অভিযানে সরঞ্জাম, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণবাবদ চার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে ওয়াশিংটন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, টেলিগ্রাফ।

No comments

Powered by Blogger.