'অপেশাদার' কাঠামো নিয়ে হতাশ ম্যারাডোনা

ব্যক্তিগত জীবনের আচরণ যতই অপেশাদার হোক, ফুটবলের ব্যাপারে তিনি পুরোদস্তুর পেশাদার। বিশ্বের সেরা পেশাদার ফুটবল কাঠামোতেই কাজ করেছেন সারা জীবন। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল-ওয়াসলের কোচিং করাতে এসে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। আমিরাতের পেশাদার লিগ যে আসলে এখনো পেশাদার হয়েই উঠতে পারেনি! তাই হতাশ আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি, আর কে না জানে হতাশাটা লুকাতে জানেন না তিনি, হোক না সেটা নিজের দলেরই সমালোচনা!


'এখানে পেশাদারিত্বের বড় অভাব। অনুশীলনে কজন খেলোয়াড়কে পাব, তার কোনো ঠিক নেই, কখনো ১৬ জন আসে তো কখনো ২৪ জন'_অনুশীলন শেষের সংবাদ সম্মেলনে কাল বলেছেন ম্যারাডোনা। এ সপ্তাহেই ইউএই প্রো-লিগের প্রথম রাউন্ডে তাঁর দল মাঠে নামবে, শারজার বিপক্ষে সেই ম্যাচের আগে কিনা প্রস্তুতির এই অবস্থা! তবে সে জন্য বেচারা খেলোয়াড়দের কোনো দোষ দেখছেন না তিনি, 'আমি কিন্তু বলছি না যে খেলোয়াড়রা মাঠে আসে না। আসলে তাদের তো কাজ থাকে! আমাদের খেলোয়াড়দের কেউ ছাত্র, কেউ পুলিশে চাকরি করে আবার কেউবা সামরিক বাহিনীতে। কখনো কখনো ওরা অনুশীলনে ভালো করতে পারে না ক্লান্ত থাকে বলে। এই ব্যাপারটাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।'
এ সমস্যার সমাধান করতে ক্লাবের মালিক মারওয়ান বিন বায়াতের কাছে একটা দাবি জানিয়েছিলেন তিনি_চেয়েছিলেন সাতটি ভিন্ন আমিরাতকে নিয়ে গঠিত দেশটির বিভিন্ন আমিরাতে বসবাসরত ফুটবলারদের সবাইকে দুবাইতে নিয়ে আসতে, কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হয়েছে তাঁর সে আবেদন। 'ব্যাপারটা নিয়ে মারওয়ানের সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমি, কিন্তু তিনি বলেছেন এটা সম্ভব নয়। শুনে আমি খুব অবাক হয়েছি, কারণ আর্জেন্টিনায় এটা খুবই সহজ কাজ। এ সমস্যার সমাধান করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, তবে খেলোয়াড়দের জন্য আরেকটু ভালো অবস্থা চাই আমি'_বলেছেন ম্যারাডোনা।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ভিন্ন রাস্তা ধরেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তিনি নিজে অনুরোধ করছেন তাঁর দলের অনুশীলনের সময়ের ক্লাসগুলোর সময় বদলে ফেলার, আর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বড় কর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খেলা উপভোগের, তাও আবার ম্যারাডোনার নিজের খরচে! গোল ডটকম