সংঘর্ষে নিহত ৯ : আহত ৩০: ত্রিপোলিতে গাদ্দাফি সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াই

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পলাতক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সমর্থকদের সঙ্গে জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদ বা এনটিসি যোদ্ধাদের তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছে নয়জন। গত আগস্ট মাসে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হাতে রাজধানী ত্রিপোলির পতনের পর এই প্রথম গাদ্দাফি সমর্থকরা সেখানে নতুন সরকারের সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৩০ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা। এ সম্পর্কে ত্রিপোলি নিরাপত্তা কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক আল আরাদি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রায় ৫০ জন গাদ্দাফি সমর্থক এ সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজন আফ্রিকার নাগরিক রয়েছে।


আফ্রিকার এসব নাগরিক গাদ্দাফির পক্ষে ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে কাজ করছিল। সির্ত শহরের পতনের পর যখন লিবিয়ার অন্তর্বর্তী পরিষদ দেশটির স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন রাজধানী ত্রিপোলিতে হামলা হলো।
এদিকে সির্ত শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য এনটিসি বাহিনী গতকাল থেকে সেখানে চূড়ান্ত হামলা শুরু করে। গাদ্দাফির অনুগত যোদ্ধারা দু’টি এলাকায় ঘেরাও হয়ে পড়েছে। গতকালের লড়াইয়ে অন্তত চারজন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছে। সির্ত শহরের হাসপাতাল সূত্র এ কথা জানিয়েছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রিপোলির আবু সালিম এলাকায় গাদ্দাফি সমর্থকরা একটি মিছিল বের করলে এনটিসি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। উভয়পক্ষের মধ্যে দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি হয়। হাসপাতালের একজন চিকিত্সক জানান, গোলাগুলিতে নয়জন গুরুতর আহত হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, গাদ্দাফির সমর্থক প্রায় ২০ জন যোদ্ধা একে-৪৭ নিয়ে এনটিসি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই বাহিনী ভারী মেশিনগান থেকে গাদ্দাফির সমর্থকদের ওপর গোলাবর্ষণ করে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে গাদ্দাফির অনুগত প্রায় ১০০ যোদ্ধা অংশ নেয়। সংঘর্ষ থেমে গেলেও এনটিসি বাহিনী গাদ্দাফি অনুগত বাহিনীকে নির্মূল করতে এখন আবু সালিম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। এ এলাকা গাদ্দাফি সমর্থকের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ত্রিপোলিতে বিবিসির ক্যারোলাইন হাউলি বলেন, গাদ্দাফি সরকারের প্রতীক সবুজ পতাকা আবু সালিমসহ ত্রিপোলির অন্য কিছু অংশে উড়তে দেখা যাচ্ছে। দারা এলাকার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাদ্দাফি সমর্থকরা সেখানে সবুজ পতাকা উড্ডয়ন করেছে।

No comments

Powered by Blogger.