নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের না করার দায় রাষ্ট্রের : ড. মিজান

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে না পারলে এর দায় রাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে। সরকারকেই এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ‘মানবাধিকার রক্ষায় ক্রাইম রিপোর্টারদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, বর্তমানে বিচারব্যবস্থা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী নয়। এই ব্যবস্থাকে বর্তমান অবস্থার চেয়ে আরও ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী করতে হবে।


তাহলেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সম্ভব হবে।ক্র্যাব সভাপতি পারভেজ খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, সামপ্রতি দেশে মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হলো এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা। পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে না পারলে এই ব্যর্থতার দায় রাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে। মিজানুর রহমান বলেন, অনেক সময় গ্রেফতারের পর অপরাধীকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড বৈধ করার জন্য তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দেখানোর প্রবণতা আমাদের দেশে রয়েছে। এটি জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যে অপরাধের জন্য ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার মানবাধিকার রক্ষা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, সাংবাদিকরা বিশেষ করে ক্রাইম রিপোর্টাররা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকেন। এসবের ভিত্তিতে সরকার, রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার কর্মীরা এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। ক্রাইম রিপোর্টাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তারা এমনিতেই নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। তাই কোনো রিপোর্টের কারণে ক্রাইম রিপোর্টারদের বিরুদ্ধে মামলা না করে প্রেস কাউন্সিলের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা অপরাধীকে আটক করি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। বর্তমান বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী নয় মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতি মাসে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক তত্পরতার জন্য ১৮০০ থেকে ২২০০ মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে গঠনমূলক সমালোচনা করতে বলেন র্যাব ফোর্সের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ সোহায়েল। তিনি বলেন, সরকারের একটি বাহিনীর অযথা ক্ষতি করা ঠিক নয়। আমরা কর্তৃপক্ষ নই। আমরা একটি সংস্থা। আমরা আইনের প্রয়োগ করে থাকি মাত্র। এখানে গণমাধ্যম সহায়তা করে থাকে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাড. এলিনা খান, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল মুজিবুর রহমান পিএসসি প্রমুখ।
সাংবাদিক ও পুলিশের পেশা আলাদা, লক্ষ্য এক : এদিকে গতকাল ডিএমপি’র মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিসের নবনির্মিত ভবন ও আধুনিক ব্যবস্থার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ জানিয়েছেন, সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে দূরত্ব কমাতে নিরন্তরভাবে কাজ করছে ডিএমপি। সাংবাদিক ও পুলিশের পেশা আলাদা হলেও এদের লক্ষ্য এক। কারণ, উভয়ই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করে। বেনজীর বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তিনি বলেন, বরং এই কাজ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকরা হুমকির মধ্যে পড়েন তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের কর্তব্য। অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ডিসি ডিবি মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী ও ডিএমপি’র পদস্থ কর্মকর্তারা।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই মিডিয়া সেন্টারে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সাংবাদিকরা এখান থেকে সবসময় তার অফিস বা তার প্রয়োজনীয় যে কারো সঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। তাছাড়া এখান থেকে দিনরাত সব সময় যে কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন তারা।

No comments

Powered by Blogger.