এবারের সংখ্যা আমাদের পাঠক সংখ্যা-এবারের সংখ্যা রম্যগল্পের সংখ্যা

মাঝেমধ্যে খুব অবাক লাগে। পাঠকদের যে বিষয়ই দেওয়া হোক, তারা লেখা পাঠাবেই। বিষয় মজার হোক বা না হোক, লেখা আসবেই। আমাদের ধারণা, পাঠক সংখ্যার বিষয় যদি কোয়ান্টাম মেকানিকস কিংবা মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চলমান মুদ্রাস্ফীতি হয়, তবুও বস্তা বস্তা লেখা আসবে। এ সংখ্যার কথাই ধরুন। বিষয় ছিল রম্যগল্প।


ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বস্তা বস্তা লেখা চলে এল। যেনতেন লেখা হলেও একটা কথা ছিল। প্রায় সবগুলোই মজার মজার লেখা। অথচ রম্যগল্প কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী কিংবা মানবজীবনে রম্যগল্পের তাৎপর্য—এসব অনেকেই জানে না। তার পরও এত লেখা এসেছে যে অতিরিক্ত বস্তার জন্য আমরা কারওয়ান বাজারে অর্ডার দিয়েছি। বস্তার সাপ্লাই বন্ধ হয়েছে, কিন্তু লেখার সাপ্লাই বন্ধ হয়নি। যাঁরা লেখা পাঠিয়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। আর যাঁরা পাঠাননি, তাঁদের আরও বেশি ধন্যবাদ। আপনারা পাঠালে আমাদের আরও বস্তা কিনতে হতো। আচ্ছা যা-ই হোক, কাজের কথায় আসি। মাসের পর আসে আরেকটি মাস। আর পাঠক সংখ্যার পর আসে আরেকটি পাঠক সংখ্যা। এই পাঠক সংখ্যাই শেষ নয়। সামনে আরও পাঠক সংখ্যা আছে। তাই যাঁদের লেখা ছাপা হয়নি, তাঁরা হতাশ হবেন না। প্রতিবারই আমরা পাঠক সংখ্যার বিষয় কী হবে, তা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়ি। এবারও পড়েছি। আসলেই তো, পরবর্তী পাঠক সংখ্যার বিষয় কী হতে পারে! দেশে এত ইস্যু, এত ঘটনা। এর মধ্য থেকে পাঠক সংখ্যার বিষয় নির্ধারণ করা আর ঝালমুড়ি থেকে মরিচ আলাদা করা একই ব্যাপার। এই যা! বিদ্যুৎ চলে গেছে। দেশের যে কী হবে! ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। কোনো মানে হয়? দূর, ভালোই লাগে না। সব দোষ ওই...ইয়াহু! এসেছে। না, বিদ্যুৎ আসেনি। পরবর্তী পাঠক সংখ্যার বিষয়টি মাথায় এসেছে। বিষয় হলো লোডশেডিং! লোডশেডিং নিয়ে আপনার স্টকে যত মজার ঘটনা, গল্প, কার্টুন, আইডিয়া ইত্যাদি মাথায় আছে, সব পাঠিয়ে দিন রস+আলোর ঠিকানায়। তবে অবশ্যপালনীয় শর্ত হচ্ছে প্রত্যেক লেখকেরই লোডশেডিংয়ে সময় কাটানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ জুন।
ইউপিএস ক্রমাগত আওয়াজ দিয়ে বলছে, তার ব্যাকআপ শেষ। কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। প্রিয় পাঠক, সবাই ভালো থাকুন। লোডশেডিং উপভোগ করুন। হ্যাপি লোডশেডিং।
লেখা পাঠানোর জন্য খামের ওপর লিখুন
লোডশেডিং
রস+আলো, প্রথম আলো, সিএ ভবন
১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা।
e-mail : ra@prothom-alo.info