হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তার সবশেষ জানাল যুক্তরাষ্ট্র
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজকে এখনই নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র: জ্বালানি সচিব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে এখনই নৌ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান মনোযোগ ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার দিকে। খুব শিগগিরই এটি (ট্যাঙ্কার এসকর্ট) শুরু হবে, কিন্তু এখনই সম্ভব নয়। আমরা এখনো প্রস্তুত নই। বর্তমানে আমাদের সব সামরিক সম্পদ ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং সেই সক্ষমতা তৈরির শিল্পব্যবস্থা ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী সম্ভবত এই মাসের শেষের দিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত হতে পারে। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিকেই অস্থির করে তুলছে না, এর ধাক্কা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান কার্যত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এ যেন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ ‘দুঃস্বপ্ন’! যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো। আর দরিদ্র দেশগুলোয় তৈরি হয়েছে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা। আর এ যুদ্ধের খেসারত দিতে হচ্ছে সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক নতুন ‘দুঃস্বপ্নের শুরু’ করতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্কের প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং এর শেষ পর্যন্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়া বা কমার সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য শিপিং কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের সঙ্গে আগেই চুক্তি থাকে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং বাজারের সাধারণ ক্রেতাদের ওপর গিয়ে পড়বে।
ভিনসেন্ট ক্লার্কের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথগুলো বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি এ পথ ব্যবহার করতে চাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো কর্মীদের নিরাপত্তা। ড্রোন হামলা বা সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকলে কোনো কোম্পানির পক্ষেই জাহাজ ও কর্মীদের এমন বিপদের মুখে পাঠানো সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অনেক শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বললেও বেসরকারি শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়।
![]() |
| নৌপথে জাহাজের চলাচল। ছবি : সংগৃহীত |

No comments