আত্মহত্যাপ্রতিরোধ করুন by ডা. দেলোয়ার হোসেন

মরিতে চাহি না আমি এই সুন্দর ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাচিবার চাহি’Ñকবিগুরুর এই বাক্য উপেক্ষা করে অনেকে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয়। বাংলাদেশের আনাচেকানাচে প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে আত্মহত্যা। কেউ বিষ খেয়ে, কেউ ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে, কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে আবার কেউ নীরবে সূক্ষ্মভাবে জীবন শেষ করে দিচ্ছে।


পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে মেয়েকে গলা কেটে হত্যার পর মায়ের আত্মহনন, নেশার টাকা না পেয়ে আত্মহত্যা, অভিমান করে আত্মহত্যা, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, ছেলের হাতে থাপ্পড় খেয়ে পিতার ট্রেনে ঝাঁপ। এভাবে আত্মহত্যা বেড়েই চলছে।
জেনে নিন কাদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি বেশিÑ

* ইভটিজিংয়ের শিকার
* যৌতুকের দাবিতে অতিষ্ঠ নারী
* স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত এমন স্ত্রীরা
* বিষণœতায় ভুগছে এমন পুরুষ-মহিলা
* নেশায় আশক্ত
* দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন
* পারিবারিক কলহ লেগেই আছে
* ব্যক্তিত্বের সমস্যা কিছু হলেই হাত-পা
কাটে, ঘুমের ট্যাবলেট খায়, বিষ খায়
* ডিভোর্সি মহিলা
* নির্যাতিত নারী ও যৌন হয়রানির শিকার
এমন ছাত্রী
* অতীতে আত্মহত্যার চেষ্টা ও পরিকল্পনা
করেছে এমন
* ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছে এমন
কিশোর-কিশোরী
* প্রেমে ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত যুবক-যুবতী
* ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা
* বেকারত্বের অভিশাপ
* মানসিক চাপ মোকাবেলায় অক্ষম
* বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ এমন পরিবারের
সন্তান
* পরিবারে কেউ আত্মহত্যা করেছে এমন পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয়
১. জীবনের প্রতিটি সঙ্কটে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো সঙ্কটটি যত ছোটই হোক না কেন পরিচিত, কাজের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা, খোলামেলা কথা বলা এবং নিজেদের ভেতরকার আবেগ অনুভূতির বহির্প্রকাশ ঘটানো ও পরামর্শ চাওয়া।
২. হটলাইন পদ্ধতি চালু করা যেমন কোন নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করে ঐ রোগী বা তার আত্মীয়রা সাহায্য চাইতে পারে।
৩. আত্মহত্যার কারণ ও প্রতিকারে বেশি বেশি গবেষণা কাজ করা।
৪. আত্মহত্যার ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের চিহ্নিত করে চিকিৎসা করা।
৫. রেডিও, টেলিভিশন, টকশো ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আত্মহত্যার কারণ, ঝুঁকি ও চিকিৎসার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।
সর্বোপরি যে কোন পুরুষ-মহিলা যুবক-যুবতী আত্মহত্যার কথা বললে বা চেষ্টা করলে অথবা বিষণœতায় ভুগছে বলে সন্দেহ হলে তৎক্ষণাৎ সাইক্রিয়াট্রিস্টদের পরামর্শ নেয়া উচিত। এইসব ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের চিহ্নিত করে সাইক্রিয়াট্রিস্টদের দ্বারা চিকিৎসা করলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমে যাবে। এতে অনেক জীবনকে আমরা বাঁচাতে পারব। অতএব চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন আত্মহত্যা প্রতিরোধ করুন। সবাইকে সচেতন করুন।