Thursday, February 16, 2012
প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক-টিপাইমুখ বাঁধ নিয়েশঙ্কা
প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক-টিপাইমুখ বাঁধ নিয়েশঙ্কা
গত ২৯ জানুয়ারি প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে শঙ্কা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
ড. গওহর রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
ড. আকবর আলি খান
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
আইনুন নিশাত
উপাচার্য, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
মীর সাজ্জাদ হোসেন
যৌথ নদী কমিশনের সদস্য
এম ইনামুল হক
চেয়ারম্যান জল-পরিবেশ ইনস্টিটিউট
এম এ কাশেম
চেয়ারম্যান, জাতীয়দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ
আসিফ নজরুল
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এম এ আরাফাত
অধ্যাপক, আইইউবি
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
মতিউর রহমান: সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
মতিউর রহমান
ড. গওহর রিজভীর ইচ্ছা, বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হোক, যা থেকে একটি সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। আমরা জানি, বাংলাদেশ-ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশেও টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ভারত বলছে, বাংলাদেশের ক্ষতি হয়, এমন কাজ তারা করবে না। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি রয়েছে। আমরা জানি, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়, যেগুলোর আলোচনা অতীতে ছিল না, তারও আলোচনা হয়েছে। আমাদের চারপাশে ভারত; যে কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর থেকে বাংলাদেশ যতটুকু আশা করেছিল, সেটা পায়নি। তিস্তা চুক্তি আটকে আছে। টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষেত্রে ভারত আশ্বাস দিয়েছে, এটা শুধু বিদ্যুৎ প্রকল্প; সেচ প্রকল্প নয়। তার পরও বাংলাদেশের মানুষ বন্যা, ভূমিকম্পসহ এর নানা ক্ষতিকর দিক নিয়ে শঙ্কিত। ভারত, বাংলাদেশ মিলে একটি যৌথ সমীক্ষার ব্যবস্থা করলে অনেক সন্দেহ-অবিশ্বাস দূর হতে পারে। এই বিষয়ের ওপর আলোচনার জন্য ড. গওহর রিজভীকে অনুরোধ করছি।
ড. গওহর রিজভী
এই বিষয়ের সব উত্তর সরকারের কাছেও নেই। আরেকটি বিষয় হলো, ঘটনাটি আসলে কী, সেটি আমরা অনেকেই জানি না, যে কারণে এ ক্ষেত্রে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে এখনো আনেক কিছু জানার আছে। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আমরা বিভিন্ন রকম আশঙ্কা করছি। এই আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি হবে। কিন্তু আমরা জানি না, এই আশঙ্কা, এই ভয় কতটুকু সত্যি। আমি মনে করি, টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষেত্রে একটি যৌথ সমীক্ষা হওয়া দরকার এবং অচিরেই সেটি হবে। যৌথ সমীক্ষার বিষয়টি দিল্লিতে আমরা উপস্থাপন করি। সঙ্গে সঙ্গে সেটি ভারত সরকার মেনে নেয়, এবং এ বিষয়ে তাদের যত তথ্য-উপাত্ত আছে, সবকিছু দিয়ে সহযোগিতা করার কথা বলে।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সমীক্ষায় কখনো যদি বিদেশি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রেও তাদের আপত্তি নেই। ভারত ভবিষ্যতে কী করবে, তা আমরা কেউ জানি না। তবে তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কতগুলো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বারবার বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেবে না। তখন আমরা বললাম, ক্ষতি অনেক ধরনের হয়, যেমন: পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, পরিবেশদূষণ-সংক্রান্ত, কৃষি, জীবিকা ইত্যাদি। তারা আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করল এবং বলল যে সমীক্ষা করে দেখবে, দুই দেশের লাভ না ক্ষতি হয়। বাংলাদেশের ক্ষতি হলে তারা এ কাজ করবে না। আমরা একটা বিষয় জানার চেষ্টা করেছি, টিপাইমুখে ব্যারাজ হবে কি না। এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। কিন্তু আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারলাম, সীমানার কাছে ফুলেরতলায় ব্যারাজ করার একটি পরিকল্পনা ছিল। এই প্রকল্প তারা অনেক আগেই বাদ দিয়েছে। তারপর আমরা জানতে পারলাম, তারা সেখানে বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য জলাধার বা ড্যাম তৈরি করবে। এখান থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রবহমান জলধারা হতে হলে সারা বছর একই পরিমাণ পানি ছাড়তে হবে। তারা বলল, জলাধারের দুটি ভালো সম্ভাবনা আছে। এক. এর ফলে বর্ষা ঋতুতে বন্যানিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। দুই. জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে পানি ধরে রাখতে হবে, শীতে সে পানি ছাড়তেই হবে। ফলে আমাদের নদীতে পানির সরবরাহ বাড়বে। হাওরের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সে জরিপটি আমাদের এখনো করা হয়নি।
ভারতকে বলা হয়েছিল, উঁচু জলাধারের কারণে ভূমিকম্প হলে কী হবে? এ ক্ষেত্রে তারা দুটো বিষয়ের কথা বলল। এক. আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমিকম্পের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখবে, কত রিখটার স্কেল পর্যন্ত এই অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছে। তারা তার চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেবে। সম্ভবত টিপাইমুখ থেকে আমাদের সীমানার দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার। তারা বলল, টিপাইমুখে তাদের তিনটি রাজ্য মণিপুর, মিজোরাম ও আসাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাহলে তাদের জন্যই তাদের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নিতে হবে। চূড়ান্তভাবে তারা আমাদের বলল, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ এখান থেকে উৎপাদিত হবে, তার ১০ থেকে ৫০ শতাংশের যেকোনো পরিমাণ আমরা ইচ্ছা করলে নিতে পারব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে একই কথা বলেছেন। এত কিছুর পরও আমি সবাইকে একটি ধারণা দিতে পারি, যতক্ষণ আমরা দুই পক্ষ যৌথ সমীক্ষা করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে না পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই হবে না। টিপাইমুখ নিয়ে বিরোধিতা শুধু যে বাংলাদেশে আছে তা নয়, ভারতেও প্রবল বিরোধিতা আছে। আমার শেষ কথা হলো, আমরা যদি বিদ্যুতের অংশ পাই, শুষ্ক মৌসুমে পানি পাই, বন্যানিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা উপকৃত হব। আমি যে লেখাটি লিখেছিলাম, সেখানে নিজের কোনো মতামত দিইনি, সবকিছু আপনাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।
মতিউর রহমান
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, ড. গওহর রিজভীর আলোচনা থেকে আমরা তার একটি ধারণা পেলাম। এবার আইনুন নিশাতকে অনুরোধ করছি এ বিষয়ে বলার জন্য।
আইনুন নিশাত
বিশ্ব পানি অংশীদারি সংস্থা প্রতি তিন বছর পরপর বিশ্ব পানি সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশের তিন-চারজন মন্ত্রী যান। পরবর্তী সম্মেলন হবে ফ্রান্সে। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পানি নিয়ে যারা সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের একত্র করা। বাংলাদেশ থেকে যারা এই সম্মেলনের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাঁদের এই বিষয়ের কৌশলগত দিকগুলো জেনে নিতে হবে। বাংলাদেশে ৫৪টি নদী আছে। এর মধ্যে ৫১টি নদী ভারত থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশে আসে। তিনটি বাংলাদেশ থেকে শুরু হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করে। আমাদের চিন্তা হবে, সব নদীকে একটি একক ধরে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা। সারা বছরের পানিকে একটা ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা।
আমাদের দেশে বর্ষা মৌসুমে বেশি পানি, শুকনো মৌসুমে কম পানি। বেশি-কম পানি সমন্বয় করার জন্য পাহাড়ি এলাকায় পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কাপ্তাইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারি। ড. গওহর রিজভী জলাধার থেকে বন্যানিয়ন্ত্রণ এবং শুকনো মৌসুমে যে পানি পাওয়ার কথা বললেন, এ বিষয়টিতে আমার দ্বিমত রয়েছে। কারণ, যে নকশা বা রূপরেখার ভিত্তিতে এই জলাধার করা হয়েছে, তা থেকে বন্যানিয়ন্ত্রণ এবং শুকনো মৌসুমে পানি প্রাপ্তির সুবিধা পাওয়া যাবে না। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়েছিল। আমি যদি স্মরণ করতে পারি, ওই কমিশন যেদিন বলল যে পানির ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজন, তার পরের দিনই যৌথ নদী কমিশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। তার কিছুদিন পর দ্বিতীয় সভা। তৃতীয় অথবা চতুর্থ সভায় একটি চুক্তি সই হয়। সিলেট অঞ্চলের বন্যানিয়ন্ত্রণের জন্য উজানে কিছু করার পরিকল্পনা ছিল প্রথম এবং দ্বিতীয় সভার উদ্দেশ্য। তাহলে আমরা দেখছি, ১৯৭২-৭৩ সালে পানি ব্যবস্থাপনার মধ্যে একমাত্র ভাবনা ছিল বন্যা ব্যবস্থাপনা। সেচব্যবস্থা এসেছে ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে। এর আগে আমাদের দেশে বোরো ধান ছিল না। সে সময় প্রধান ফসল ছিল আউশ-আমন। এখন বোরো প্রধান ফসল। যে কারণে শুকনো মৌসুমের চিন্তা করতে হয়।
ভারত থেকে যে পরিমাণ পানি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঢুকছে, সেটা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে আমরা বললাম, তারা যদি টিপাইমুখে জলাধার নির্মাণ করে, তাহলে পরিবর্তিত হতে পারে। তখন পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের জন্য অবশ্যই তাদের এই তথ্য দরকার ছিল। যদি কোনো বছর বর্ষার শেষের দিকে বৃষ্টি হয়, তখন বাড়তি পানি নির্গমনের পথ (স্পিলওয়ে) দিয়ে পানি ছাড়তে হবে, যেটা কাপ্তাইয়েও ছাড়তে হয়। আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসে জলাধার পূর্ণ থাকার পর বৃষ্টি হলে পানির স্রোত এত তীব্র হয় যে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ শিকল ছিঁড়ে সমুদ্রে চলে গেছে, এমন ঘটনাও আছে।
তাহলে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, বন্যার সময় পানির উচ্চতা কমে যাবে, আর শুকনো মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। ফলে নদীগুলোর পানির স্তর অনেকটা বেড়ে যাবে। এটাই হচ্ছে গঙ্গাসহ বাকি সব নদীর অবস্থা। এখন জলাধার বানাতে হবে, বর্ষার পানি ধরে রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে।
১৯৭২-৮৫ সাল পর্যন্ত বন্যা-সম্পর্কিত পরিকল্পনার যে রূপরেখা ছিল, তা আজ কার্যকর কি না, আমি জানি না। তবে আমার ধারণা, এখন তারা জলাধারের উচ্চতা অনেক বাড়িয়েছে। এই জলাধারের সম্ভাব্য প্রভাব হলো:
এক. উজানের জলাধারটি পানিতে পূর্ণ করতে হবে। এটা পূর্ণ করতে দেড়-দুই বছরের বেশি সময় লাগবে না। ভারতে যে চেঁচামেচি-হইচই হচ্ছে, সেটা ওই জলাধারের বিরুদ্ধে। এই জলাধারের কারণে তাদের অনেক লোক উচ্ছেদ হয়ে যাবে।
দুই. শুধু যদি জলাধার নির্মিত হয়, বন্যানিয়ন্ত্রণ হতে পারে। টিপাইমুখের কার্যক্রম পরিচালনা (অপারেশনাল) পদ্ধতি আমরা জানি না। ধরে নিলাম সর্বোচ্চ মাত্রায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। তাহলে প্রথমে তারা এটা পূর্ণ করে ফেলবে। এ ক্ষেত্রে বর্ষার শেষে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে ভাটির দিকে বেশি ক্ষতি হবে। কারণ, তখন পানি ছেড়ে দিতে হবে। ফলে বন্যার আশঙ্কা থেকে যায়।
ভারত সরকার বলছে, তারা ব্যারাজ করবে না। তাদের এ ধরনের আশ্বাসের কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। কারণ, আমরা দেখেছি, গঙ্গাসহ অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেগুলো রক্ষা করেনি। তাদের মৌখিক আশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে লিখিত চুক্তি হতে হবে। এখন প্রধান কাজ হলো, দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করে জলাধারের লাভ-ক্ষতি সবকিছু বিবেচনায় এনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আমি মনে করি, জলাধারের বিরোধিতা মানে অবশিষ্ট ৫৩টি নদীর জন্য বিপদ ডেকে আনা। বরং এই জলাধারকে কেন্দ্র করে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কীভাবে সহযোগিতামূলক কর্মপরিকল্পনা করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
মতিউর রহমান
আইনুন নিশাত ঐতিহাসিক পটভূমিতে বিষয়টি আলোচনা করলেন। তাঁর আলোচনা থেকে কিছু বিষয় উঠে এসেছে। এখন বলবেন মীর সাজ্জাদ হোসেন।
মীর সাজ্জাদ হোসেন
একটি প্রশ্ন প্রতিনিয়ত শোনা যায়, ব্যারাজ হবে কি না। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আছে কি না। এ ক্ষেত্রে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে ব্যারাজ হবে না। এটা হবে শুধু বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই লিখিত বিবৃতি আমাদের কাছেও আছে। এ বিষয়ে অনেকবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরও কারও কারও ধারণা, এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কাছ থেকে লিখিত কিছু নেই।
আরেকটি প্রশ্ন আসে, ‘ফ্লাড স্পেস’ থাকবে কি না। ভারত সরকার যেসব তথ্য আমাদের দিয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, ২ দশমিক ৫ মিটার ‘ফ্লাড স্পেস’ থাকবে। ১০ হাজার বছরের ভারী বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে পানি নির্গমন পথের (স্পিলওয়ে) উচ্চতা ধরা হয়েছে ১৭৮ মিটার।
১৯৭২ সালে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গঠনের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। ১৯২৯ সালে আসাম অঞ্চলে একটি বড় বন্যা হয়। তখন এই বন্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার জন্য আসাম সরকার একটি গবেষণা চালায়। আসাম সরকারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময় ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থা আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করে। এই গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬০ সালে তারা ভূপেন্দর নামের একটি জায়গা নির্ধারণ করে। এই জায়গাটি ছিল টিপাইমুখ বাঁধের ৫০ কিলোমিটার নিচের দিকে। এখানে একটি আড়াআড়ি বাঁধ (ড্যাম) নির্মাণ করে তারা আসাম ও সিলেট অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করে। ১৯৭২ সালে এই পরিকল্পনা ভারত সরকার জেআরসিতে উপস্থাপন করে। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য সিলেট এবং ভারতের শীলচরে দুই দেশের কার্যালয় স্থাপন করা হয়। তখন দুই দেশের কর্মকর্তারা ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত ভূপেন্দর অঞ্চলটি পরিদর্শন করেন। তাঁদের জরিপের ফলাফল হলো, এখানে ড্যাম নির্মাণ করে বন্যানিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর ফলে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভূপেন্দর অঞ্চলের ওপরের দিকের কোনো জায়গায় ড্যাম করা যায় কি না, তা নিয়ে আবার দুই দেশের জরিপ শুরু হয়।
১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জেআরসির ১৩টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০টিতে টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা হয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৭৮ সালে আবার টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৮১-৯১ সাল পর্যন্ত ১১টি অধিবেশনে টিপাইমুখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ১৯৯১-৯৬ পর্যন্ত জেআরসির কোনো অধিবেশন হয়নি। ২০০১-০৬ পর্যন্ত টিপাইমুখ নিয়ে ভারত সরকার সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। ২০০৬ সালে জেআরসি অধিবেশনে তারা আমাদের জানায়, ফুলেরতলে ব্যারাজ হবে না।
আমরা ধারণাপ্রসূত অনেক মন্তব্য করছি। এ জন্য দুই দেশের যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যাহত হতে পারে। ১৯৭২ সালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নদীগুলো ব্যবহার করে কীভাবে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায়, সেটি নিশ্চিত করাই ছিল যৌথ নদী কমিশনের উদ্দেশ্য। এর মধ্যে বন্যানিয়ন্ত্রণ এবং যৌথ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি ছিল। অনেকে গঙ্গা চুক্তির ৯ নম্বর ধারা উল্লেখ করে বলেন, ওই চুক্তি অনুযায়ী, ভারত টিপাইমুখে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে না। অথচ ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সমতা, ন্যায়নীতি এবং অন্যের ক্ষতি না করে অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে দুই সরকার একমত হয়েছে। টিপাইমুখের ক্ষেত্রে পানি বণ্টনের প্রশ্ন উঠছে না। কারণ, তারা সেচ প্রকল্প করছে না, করছে বিদ্যুৎ প্রকল্প। এর ফলে কোনো পানি প্রত্যাহার হচ্ছে না। এ জন্য গঙ্গা চুক্তির ৯ নম্বর ধারা টিপাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। তিনটি বড় নদীর কথা বলছি। ভারত হয়ে গঙ্গোত্রী থেকে এসেছে গঙ্গা, তিব্বত থেকে এসেছে ব্রহ্মপুত্র এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসেছে মেঘনা। গঙ্গার ব্যাপারে দুই সরকার অনেক আগে একমত হয়েছে যে দুই দেশের প্রয়োজনের তুলনায় গঙ্গার পানি পর্যাপ্ত নয়। সেচ থেকে বিদ্যুৎ আমাদের বেশি প্রয়োজন। কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জটিলতার কারণে জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।
সে ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করে সামগ্রিকভাবে বর্ষার পানি ধরে রেখে জলবিদ্যুতের এই সুযোগ আমরা নিতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা, যেখানে প্রায় ৫০ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়, জলাধারের মাধ্যমে এই বিশাল অঞ্চল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
আব্দুল কাইয়ুম
মীর সাজ্জাদ হোসেনের কাছ থেকে কিছু বিষয় জানা গেল। এগুলো নিয়ে অন্য আলোচকেরাও কথা বলবেন। এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়গুলো নিয়ে আসিফ নজরুল আলোচনা করবেন।
আসিফ নজরুল
ভারত টিপাইমুখ নিয়ে আমাদের বলেছে, টিপাইমুখ প্রকল্পের মধ্যে পানি প্রত্যাহার করার কোনো অংশ নেই। এটা থাকার কথা নয়। কারণ, পানি প্রত্যাহার করা হবে অনেক ভাটিতে। এটা হবে পরবর্তীকালে বা পৃথক কোনো প্রকল্প যদি হয়। টিপাইমুখ প্রকল্পে বিকল্প পথে পানি অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর মানে এই নয়, ভবিষ্যতে ভাটিতে পানি প্রত্যাহার খাল করা হবে না। কাজেই ভারতের এ কথা আমাদের নিশ্চয়তা দেয় না যে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত পানি প্রত্যাহার করবে না।
২০০৫ সালে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ভারতীয় প্রতিনিধিদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনারা ফুলেরতলায় ব্যারাজ করবেন, নাকি অন্য কোথাও? তাদের উত্তর ছিল, পরে জানাব। তারপর কয়েকটি যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়েছে। তারা তা জানায়নি।
যখন একটি আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক হয়, তখন সংক্ষিপ্ত বিবরণী (নোট ভারবাল) হচ্ছে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, সবচেয়ে নিম্নস্তরের প্রতিশ্রুতি। আর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হচ্ছে মতৈক্য। তার চেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হচ্ছে চুক্তি, যেখানে আমাদের সঙ্গে ভারতের গঙ্গার পানি চুক্তি আছে। এটা একটা মতৈক্যের সর্বোচ্চ রূপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সর্বোচ্চ রূপ। যেখানে সম্পাদিত আইনের ৯ নম্বর ধারা বলছে, যৌথ নদীর ক্ষেত্রে পানি বণ্টন প্রশ্নে, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষতি না করা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে চুক্তি করব। পানি বণ্টনের ব্যবস্থায় যদি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তাহলে পানি প্রাপ্তির তারতম্য ঘটবে। আর তারতম্য যদি আসে, তাহলে সেটাই হলো পানি বণ্টনের প্রশ্ন।
যখন একটা বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভারত হাতে নেবে আর তাতে পানি বণ্টন প্রশ্ন প্রভাবিত হবে, তখনো যদি কেউ বলেন ৯ নম্বর ধারা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না, তাহলে ভারত আমাদের কোনো কথাই শুনবে না। তাই বরং ওই ধারা যে এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তার পক্ষে সর্বোচ্চ যুক্তি তুলে ধরা উচিত।
ভারতের সঙ্গে বড় প্রতিকূলতা সৃষ্টির স্বপ্ন যাঁরা দেখেন, তাঁরা তা রাজনৈতিক কারণে দেখেন। এতে কোনো লাভ নেই। কারণ আমরা আমাদের প্রতিবেশী পরিবর্তন করতে পারব না।
পানি মজুদ করা হলে এর ভেতরের বিভিন্ন উপাদান পরিবর্তিত হয়, যা জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়গুলো যদি আমরা ভারতের কাছে তুলে ধরি, এতে কিন্তু আমাদের আন্তর্জাতিক ফোরামের কাছে যেতে হবে না। আমরা বলতে পারি, আমাদের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি তোমরা করতে পারো না।
আমাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো সরকারি পক্ষ ভারতীয় পক্ষের কাছে সঠিকভাবে তুলতে পারে না। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক চুক্তি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তা বাস্তবায়ন করলেও ভারতীয় পক্ষ বাস্তবায়ন করেনি। অতএব আমরা আশ্বাসে বিশ্বাস করতে পারি না।
বাংলাদেশ যেহেতু এখনো প্রকল্প সম্পর্কে, পরিবেশ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পায়নি, তাই শক্তভাবে ভারতকে বলা উচিত এই প্রকল্প নিয়ে না এগোনোর জন্য।
এম এ কাশেম
টিপাইমুখ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার অধিকাংশই হচ্ছে আশঙ্কাতাড়িত এবং অনুমাননির্ভর। অনুমাননির্ভর আলোচনার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বন্যা কার্যক্রম কর্মসূচি প্রণয়নের (ফ্যাপ স্টাডি) সময় বা পরবর্তীকালে টিপাইমুখে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় ছিল না, আলোচ্য বিষয় ছিল ফুলেরতলে ব্যারাজ হবে কি না, পানি প্রত্যাহার করা হবে কি না। অনেকে বলেন, বিশ্ব ড্যাম কমিশন (ওয়ার্ল্ড কমিশন অব ড্যাম) ড্যাম নির্মাণের বিরোধিতা করেছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল। কমিশন ড্যামের উপকারিতা, নেতিবাচক-ইতিবাচক প্রভাব, নির্মাণ-জটিলতা এবং নির্মাণ বিষয়ে সাতটি নীতি দিয়েছে।
কুশিয়ারার মতো নিম্নভূমি এলাকায় হাকালুকি হাওর হচ্ছে সব থেকে নিচে। এই হাওরে পানি বাড়ার ফলে যে পরিমাণ জমি পানির তলে যায়, তাতে ক্ষতি কত হয়, সেখানে মাছ চাষ হলে লাভ কত হয়—এটা অবিশ্বাস্য রকম ইতিবাচক।
টিপাইমুখ নিয়ে সাধারণের মধ্যে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, যার জন্য বর্তমান সরকারের অনেক মন্ত্রীও দায়ী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ক্ষতি হয় ভারত এমন কিছু করবে না।’ এটা পরিষ্কার কথা নয়। সাধারণের কাছে বিষয়টা পরিষ্কার করতে হবে। এটা নিয়ে আমাদের জরুরি গবেষণা করা উচিত, আমরা কতটা প্রভাবিত হচ্ছি এটা থেকে। সেটা ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক, যা-ই হোক। ভারত এটা গ্রহণ করুক আর না করুক, আমাদের স্বার্থে এটা করা উচিত। আর যৌথ গবেষণা তো হবেই।
এম এ আরাফাত
আমরা যদি সরাসরি ড্যামের বিপক্ষে চলে যাই, তাহলে যৌথ নদীগুলোর পানিবর্ধনের ক্ষেত্রে আমাদের দাবিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমাদের অন্যান্য নদীর পানিবর্ধনের বিষয়টি বাদ দিলেও, যদি ড্যামের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিই, তাহলে অন্য আরেকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।
ড্যামের মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ করার যে সম্ভাব্য পরিসংখ্যান দেখা যায়, ইউরোপ ও আমেরিকা এই সম্ভাব্যতার ৭০ শতাংশ কাজে লাগিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়া এই সম্ভাব্যতার মাত্র ৮ শতাংশ কাজে লাগাতে পেরেছে। বাকি ৯২ শতাংশ অব্যবহূত।
২০০৩ সালে ৩৫তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের আলোচনা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ পক্ষ বলেছিল, ফুলেরতলে সেচবাঁধ নির্মাণ টিপাইমুখ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ভারত নিশ্চয়তা দিয়েছিল, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ আরও নিশ্চয়তা চেয়েছিল, ফুলেরতল বা বরাক নদের অন্য কোথাও সেচের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হবে না।
৩৬তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে তারা বলে, ফুলেরতলে তারা একটা ব্যারাজ করবে কি না, তা পরবর্তী বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। পরে তারা বলেছে, টিপাইমুখে কোনো সেচ প্রকল্প নেই, এটা বন্যানিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। কিন্তু ফুলের তল টিপাইমুখ থেকে ১০০ কিলোমিটার ভাটিতে হলেও তা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
এম ইনামুল হক
টিপাইমুখ বিষয়টা রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। আর সরকার ও বিরোধী দুই দলই যেহেতু রাজনৈতিক দল, সেখানে দেখার বিষয়, সরকারি দল বিষয়টাকে কীভাবে সমন্বয় করে।
পুরো মেঘনা অববাহিকায় টিপাইমুখ আট ভাগের এক ভাগ। আর মেঘনা নদী দিয়ে যে নদীগুলো আছে তা যেহেতু আমাদের মোহনায়, তার ওপর লবণাক্ততার প্রভাব মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ আলোচনায় আরেকটা বিষয় আসে, তা হলো ভূমিকম্প। এটা তো সম্ভাবনার বিষয়, যা ১০০ বছরে একবার হতে পারে। আর ভারত যখন ড্যাম করবে, তারা ভূমিকম্পের সম্ভাব্যতা মাথায় রেখেই করবে।
এখানে বরাক নদের পানি ভাগাভাগির কথা এসেছে, ভাগাভাগির কথা তখনই আসবে যখন পানির গতি পরিবর্তন করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। বরাক নদের পানির গতি পরিবর্তন করে অন্য কোথাও নেওয়ার কায়দা নেই। যেমনটি তিস্তার পানি বিহারে নেওয়া হচ্ছে, ফারাক্কার পানি ভাগীরথী নদীতে। অতএব বরাক প্রশ্নে ভাগাভাগির কথা আসা উচিত নয়। আমরা এর ব্যবস্থাপনা কী হচ্ছে, তা দেখব।
টিপাইমুখ ও কাপ্তাইয়ের পানি ধারণ এলাকা (ক্যাচম্যান্ট এরিয়া) সমান। টিপাইমুখ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হলে পাঁচ বছর ধরে পানি ধরে রাখতে হবে। এক বছর সুবিধা পাওয়ার পর আবার পাঁচ বছর বন্ধ রাখতে হবে।
অতএব টিপাইমুখ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। টিপাইমুখের ধারণ এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এক হাজার ৫০০ মিলিমিটার, যেখানে কাপ্তাইয়ে গড় বৃষ্টিপাত দুই হাজার ৭০০ মিলিমিটার।
বন্যানিয়ন্ত্রণের জন্য ড্যাম দরকার। এ রকম বিভিন্ন কাজের ড্যাম হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্যানিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে করা যাবে না। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হলে ইচ্ছামতো পানি ছাড়া যাবে না।
সুনামগঞ্জের ৮০ ভাগ হাওর হওয়ার কারণে আগাম বন্যার জন্য প্রভাবিত হয় এ জেলা। এখন বোরো ধান চাষ হচ্ছে, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময় যার ফসল আসে। এতে করে এর অর্থনীতি বোরোনির্ভর হয়ে পড়েছে। তাহলে কীভাবে সেটা মাছভিত্তিক করব? রাতারাতি তাদের জেলে বানানো সম্ভব নয়। ভারত যেহেতু যৌথ পর্যবেক্ষণের কথা বলেছে, এই সুযোগটা আমাদের নেওয়া উচিত। আমাদের যে যৌথ দল হবে, তাদের জানা উচিত ড্যামের আকৃতি কী হবে, ড্যামের কার্যক্রম তালিকা কী হচ্ছে, সময় ও তারিখ অর্থাৎ কোন কোন সময় তারা পানি ছাড়বে কী পরিমাণে।
ভারত যেহেতু সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, সেটা বাংলাদেশের কাজে লাগানো উচিত।
আব্দুল কাইয়ুম
আসলে ড্যাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক বেশি বিভ্রান্তি আছে। এখন ড. আকবর আলি খান আলোচনা করবেন।
আকবর আলি খান
টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশে কথা বলার অনেকে আছেন, কিন্তু গবেষণা করে লেখালেখি খুব কম। এ বিষয়ে জানতে বাধ্য হয়ে ভারতীয় কাগজপত্র পড়তে হয়। আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমাদের দেশে যথেষ্ট গবেষণামূলক কাগজপত্র নেই। আমি ভারতের দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একমত। কারণ এক পক্ষ বলছে, টিপাইমুখ বাঁধ হলে মরুভূমি হয়ে যাবে। বাংলাদেশ কাপ্তাই বাঁধ করেছে, তাতে কি মরুভূমি হয়ে গেছে, নাকি ভারত বাধা দিয়েছিল?
অনেকে বলেছেন, ভারত যদি সেচ প্রকল্প না করে, তাহলে ঠিক আছে। তাহলে আমরা কি টিপাইমুখ প্রশ্নে সব আপত্তি প্রত্যাহার করব? এটা তো কোনো কথা হলো না। আরেক পক্ষ বলছে, আমাদের উপকার হবে। ভারত যেখানে এ বিষয়ে উপকারের কথা লেখে না, আমরা কোথা থেকে উপকারের কথা লিখছি?
টিপাইমুখের মতো ঘটনা তো বাংলাদেশে আছে। গোমতী নদীর ওপর ১৯৭৬ সালে ২৬ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বাঁধ দিয়ে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র করেছে। তাতে কী লাভ হয়েছে, এবং যেটা দেখা যায়, নদীতে মাছের উৎপাদন কমেছে, এর শাখা নদী ও উপনদী মরে গেছে। এখন তিতাস নিয়ে কথা হচ্ছে, সেই ’৭৬ সাল থেকে তিতাসের এই অবক্ষয় শুরু হয়েছে। ভারত কেন আমাদের সঙ্গে অংশীদারি বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে? তারা যত সস্তায় বিদ্যুৎ পায়, তাদের তো অংশীদার হওয়ার দরকার নেই। খাতির করে একটা অথবা দুইটা করতে পারে, কিন্তু এ দিয়ে যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে, তা বলা যাবে না। টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনায় তিন ধরনের প্রশ্নের উদ্ভব হয়। এগুলো হলো—স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন।
স্বল্পমেয়াদি প্রশ্নে, নদীতে মাছের চাষ করে মাছের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু পণ্ডিতদের মতে, নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাবে। সুতরাং নদীতে মাছ বাড়াতে হলে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভারতের কাছে দাবি করতে হবে, বাংলাদেশের মৎস্যক্ষেত্রে বিনিয়োগে সহযোগিতা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এর ফলে নদীতে পলি জমে যাবে। এতে নদী খননের প্রয়োজন হবে।
টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা করাটাই অন্যায়। অন্যায় এই জন্য যে টিপাইমুখ হলো একটা বড় সমস্যার অন্তর্ভুক্ত ছোট সমস্যা। বড় সমস্যা হলো, ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রায় দেড় লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। তখন এর জন্য যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে তার সামগ্রিক প্রভাব বাংলাদেশের ওপর কী পড়বে। সুতরাং শুধু টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা করা মোটেই সংগত হবে না। আলোচনা করতে হবে উত্তর-পূর্ব ভারতের যতগুলো জলবিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে তার ওপরে। এর ওপর যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশ পক্ষের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অতএব ভারতের সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলা হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে আগে।
মধ্যমেয়াদি প্রশ্ন হলো পরিবেশ নিয়ে। এ বিষয়ে ভূমিকম্পের কথা বলা হয়েছে। ভারত সরকার বলেছে, তারা এমন বাঁধ করবে, যা ভূমিকম্প-প্রতিরোধী হবে। টাইটানিক করার সময় কিন্তু বলা হয়েছিল, এটা ডুববে না। এর পরিণতি আমরা জানি।
সুবানসিড়ি বাঁধ নিয়ে ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করে পরামর্শ দিয়েছে। ওই পরামর্শ অনুযায়ী, টিপাইমুখ বাঁধ যে স্থানে হচ্ছে সেখানে এত বড় বাঁধ করা যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ তা ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। অতএব এটাই বাংলাদেশের বক্তব্য হওয়া উচিত যে তারা বাঁধ করতে চাইলে করবে, তবে এত অতিকায় বাঁধ করা যাবে না। বাংলাদেশ ভারতের কাছে সেই ব্যবহার প্রত্যাশা করে, ভারত চীনের কাছে যে ব্যবহার প্রত্যাশা করে।
চীন ব্রহ্মপুত্রের ওপর জলবিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, যা নিয়ে ভারতীয় সংসদে অনেক হইচই হয়েছে। সংসদে বিবৃতি দিয়ে মনমোহন সিং বলেছেন, চীন তাদের আশ্বস্ত করেছে, এটা ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে এবং এটা হচ্ছে নদীপ্রবাহ অব্যাহত রেখেই (রান অব দ্য রিভার)।
রান অব দ্য রিভারের সংজ্ঞা হলো, সকাল থেকে নদীর পানি আটকে রেখে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেবে, দিনেরটা দিনে। সে অনুযায়ী টিপাইমুখ ‘রান অব দ্য রিভার’ নয়। অতএব ভারতের কাছে বাংলাদেশের বক্তব্য হলো: ১. রান অব দ্য রিভার হতে হবে, ২. ড্যাম ছোট হতে হবে, ৩. বেশি পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এই তিনটি শর্ত মেনে নিলে এ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের হয়তো আপত্তির কারণ থাকবে না।
মতিউর রহমান
আকবর আলি খান অনেক যৌক্তিক তথ্যসম্পন্ন বক্তব্য রেখেছেন। এখন সংক্ষিপ্তভাবে আলোচকেরা নতুন কিছু কথা যুক্ত করতে পারেন।
আইনুন নিশাত
ভারত কেন বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে এই প্রশ্নে বলা যায়, ভারতের কেন্দ্রে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাজ করছে। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র গবেষণা করলেও ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে তথ্য-উপাত্তের জন্য। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিয়ে যৌথ গবেষণার কাজটি তাড়াতাড়ি করতে হবে। অন্য একটি কথা হলো, এই বিষয়টা যেন রাজনৈতিক নেতা মোকাবিলা করেন, যেন আমলাতান্ত্রিক না হয়।
মীর সাজ্জাদ হোসেন
টিপাইমুখ নিয়ে দ্বিতীয়বার আলোচনার পর ভারত সরকারের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব গেছে যৌথ গবেষণা করার জন্য। ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করার কথা। গত পঞ্চম সম্মেলনে ওই ফোরাম থেকে পরিষ্কার বলা আছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানিপ্রবাহে ভিন্নতা দেখা যাবে। অর্থাৎ সারা বছর পানির প্রাপ্যতা ওঠা-নামা করবে। বর্ষার সময় অতিবৃষ্টি হবে আর শুকনো মৌসুমে পানির স্বল্পতা বাড়বে। অতএব এখন অধিক পানি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে, যাতে করে বর্ষার সময় সংরক্ষিত পানির বহুমাত্রিক ব্যবহার করা যায়।
আসিফ নজরুল
অতিকায় ড্যামকে আমাদের ‘না’ বলতে হবে। ভারতকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে, তারা ভবিষ্যতেও টিপাইমুখ প্রকল্পে পানির গতি পরিবর্তন করে অন্যত্র নেবে না। গোমতী নদীতে প্রথমে কিন্তু পানির গতি পরিবর্তনের কথা ছিল না। তা তারা করেছে।
আর গঙ্গাচুক্তির ৯ ধারার যতটা সম্ভব বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোত্তম ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে হবে। যৌথ গবেষক দলে বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকদের নিতে হবে।
আকবর আলি খান
টিপাইমুখ প্রশ্নে সব থেকে বড় উদাহরণ গোমতীতে বাঁধ। ভারত সরকারের যে বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আমাদের বুঝতে হবে। তারা তেহেরি বাঁধের ব্যাপারে কারও কথা শোনেনি, সুবানসিড়ির ওপরে শোনেনি। সেখানে তারা জোরজবরদস্তি করছে। আমাদের এই আপত্তি শুনবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার পরও আমাদের এই আপত্তি করতে হবে। আমাদের সমস্যা সম্পর্কে জানতে হবে এবং নিজেদেরও সমাধান করার কথা চিন্তা করতে হবে।
ভারত আজ হয়তো এ বিষয়ে কিছু অনুধাবন করছে না। কিন্তু ভবিষ্যতে তারা ভাবতে বাধ্য হবে। এ জন্য ভাবনার বিষয়গুলো বারবার ভারতের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
মতিউর রহমান
সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার জন্য গওহর রিজভীকে অনুরোধ করছি।
গওহর রিজভী
আমাদের অনেক প্রশ্নে ভিন্নতা আছে, কিন্তু আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য কী, কীভাবে আমরা আমাদের দেশের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা পাব—এই প্রশ্নগুলোতে কিন্তু আমাদের মতভিন্নতা খুব বেশি নেই।
যৌথ গবেষণা শুরু করতে সরকার অনেক দূর এগিয়েছে। কিছু নির্বাচনের ব্যস্ততার জন্য একটু দেরি হচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। তারপর বন্ধুভাবাপন্ন দুই দেশের সরকার এমন একটি ফল প্রাপ্তি সামনে রেখে কাজ করবে, যা সবাই গ্রহণ করবে।
ড. গওহর রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
ড. আকবর আলি খান
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
আইনুন নিশাত
উপাচার্য, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
মীর সাজ্জাদ হোসেন
যৌথ নদী কমিশনের সদস্য
এম ইনামুল হক
চেয়ারম্যান জল-পরিবেশ ইনস্টিটিউট
এম এ কাশেম
চেয়ারম্যান, জাতীয়দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ
আসিফ নজরুল
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এম এ আরাফাত
অধ্যাপক, আইইউবি
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
মতিউর রহমান: সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
মতিউর রহমান
ড. গওহর রিজভীর ইচ্ছা, বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হোক, যা থেকে একটি সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। আমরা জানি, বাংলাদেশ-ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশেও টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ভারত বলছে, বাংলাদেশের ক্ষতি হয়, এমন কাজ তারা করবে না। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি রয়েছে। আমরা জানি, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়, যেগুলোর আলোচনা অতীতে ছিল না, তারও আলোচনা হয়েছে। আমাদের চারপাশে ভারত; যে কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর থেকে বাংলাদেশ যতটুকু আশা করেছিল, সেটা পায়নি। তিস্তা চুক্তি আটকে আছে। টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষেত্রে ভারত আশ্বাস দিয়েছে, এটা শুধু বিদ্যুৎ প্রকল্প; সেচ প্রকল্প নয়। তার পরও বাংলাদেশের মানুষ বন্যা, ভূমিকম্পসহ এর নানা ক্ষতিকর দিক নিয়ে শঙ্কিত। ভারত, বাংলাদেশ মিলে একটি যৌথ সমীক্ষার ব্যবস্থা করলে অনেক সন্দেহ-অবিশ্বাস দূর হতে পারে। এই বিষয়ের ওপর আলোচনার জন্য ড. গওহর রিজভীকে অনুরোধ করছি।
ড. গওহর রিজভী
এই বিষয়ের সব উত্তর সরকারের কাছেও নেই। আরেকটি বিষয় হলো, ঘটনাটি আসলে কী, সেটি আমরা অনেকেই জানি না, যে কারণে এ ক্ষেত্রে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে এখনো আনেক কিছু জানার আছে। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আমরা বিভিন্ন রকম আশঙ্কা করছি। এই আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি হবে। কিন্তু আমরা জানি না, এই আশঙ্কা, এই ভয় কতটুকু সত্যি। আমি মনে করি, টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষেত্রে একটি যৌথ সমীক্ষা হওয়া দরকার এবং অচিরেই সেটি হবে। যৌথ সমীক্ষার বিষয়টি দিল্লিতে আমরা উপস্থাপন করি। সঙ্গে সঙ্গে সেটি ভারত সরকার মেনে নেয়, এবং এ বিষয়ে তাদের যত তথ্য-উপাত্ত আছে, সবকিছু দিয়ে সহযোগিতা করার কথা বলে।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সমীক্ষায় কখনো যদি বিদেশি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রেও তাদের আপত্তি নেই। ভারত ভবিষ্যতে কী করবে, তা আমরা কেউ জানি না। তবে তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কতগুলো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বারবার বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেবে না। তখন আমরা বললাম, ক্ষতি অনেক ধরনের হয়, যেমন: পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, পরিবেশদূষণ-সংক্রান্ত, কৃষি, জীবিকা ইত্যাদি। তারা আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করল এবং বলল যে সমীক্ষা করে দেখবে, দুই দেশের লাভ না ক্ষতি হয়। বাংলাদেশের ক্ষতি হলে তারা এ কাজ করবে না। আমরা একটা বিষয় জানার চেষ্টা করেছি, টিপাইমুখে ব্যারাজ হবে কি না। এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। কিন্তু আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারলাম, সীমানার কাছে ফুলেরতলায় ব্যারাজ করার একটি পরিকল্পনা ছিল। এই প্রকল্প তারা অনেক আগেই বাদ দিয়েছে। তারপর আমরা জানতে পারলাম, তারা সেখানে বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য জলাধার বা ড্যাম তৈরি করবে। এখান থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রবহমান জলধারা হতে হলে সারা বছর একই পরিমাণ পানি ছাড়তে হবে। তারা বলল, জলাধারের দুটি ভালো সম্ভাবনা আছে। এক. এর ফলে বর্ষা ঋতুতে বন্যানিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। দুই. জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে পানি ধরে রাখতে হবে, শীতে সে পানি ছাড়তেই হবে। ফলে আমাদের নদীতে পানির সরবরাহ বাড়বে। হাওরের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সে জরিপটি আমাদের এখনো করা হয়নি।
ভারতকে বলা হয়েছিল, উঁচু জলাধারের কারণে ভূমিকম্প হলে কী হবে? এ ক্ষেত্রে তারা দুটো বিষয়ের কথা বলল। এক. আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমিকম্পের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখবে, কত রিখটার স্কেল পর্যন্ত এই অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছে। তারা তার চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেবে। সম্ভবত টিপাইমুখ থেকে আমাদের সীমানার দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার। তারা বলল, টিপাইমুখে তাদের তিনটি রাজ্য মণিপুর, মিজোরাম ও আসাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাহলে তাদের জন্যই তাদের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নিতে হবে। চূড়ান্তভাবে তারা আমাদের বলল, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ এখান থেকে উৎপাদিত হবে, তার ১০ থেকে ৫০ শতাংশের যেকোনো পরিমাণ আমরা ইচ্ছা করলে নিতে পারব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে একই কথা বলেছেন। এত কিছুর পরও আমি সবাইকে একটি ধারণা দিতে পারি, যতক্ষণ আমরা দুই পক্ষ যৌথ সমীক্ষা করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে না পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই হবে না। টিপাইমুখ নিয়ে বিরোধিতা শুধু যে বাংলাদেশে আছে তা নয়, ভারতেও প্রবল বিরোধিতা আছে। আমার শেষ কথা হলো, আমরা যদি বিদ্যুতের অংশ পাই, শুষ্ক মৌসুমে পানি পাই, বন্যানিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা উপকৃত হব। আমি যে লেখাটি লিখেছিলাম, সেখানে নিজের কোনো মতামত দিইনি, সবকিছু আপনাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।
মতিউর রহমান
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, ড. গওহর রিজভীর আলোচনা থেকে আমরা তার একটি ধারণা পেলাম। এবার আইনুন নিশাতকে অনুরোধ করছি এ বিষয়ে বলার জন্য।
আইনুন নিশাত
বিশ্ব পানি অংশীদারি সংস্থা প্রতি তিন বছর পরপর বিশ্ব পানি সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশের তিন-চারজন মন্ত্রী যান। পরবর্তী সম্মেলন হবে ফ্রান্সে। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পানি নিয়ে যারা সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের একত্র করা। বাংলাদেশ থেকে যারা এই সম্মেলনের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাঁদের এই বিষয়ের কৌশলগত দিকগুলো জেনে নিতে হবে। বাংলাদেশে ৫৪টি নদী আছে। এর মধ্যে ৫১টি নদী ভারত থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশে আসে। তিনটি বাংলাদেশ থেকে শুরু হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করে। আমাদের চিন্তা হবে, সব নদীকে একটি একক ধরে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা। সারা বছরের পানিকে একটা ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা।
আমাদের দেশে বর্ষা মৌসুমে বেশি পানি, শুকনো মৌসুমে কম পানি। বেশি-কম পানি সমন্বয় করার জন্য পাহাড়ি এলাকায় পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কাপ্তাইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারি। ড. গওহর রিজভী জলাধার থেকে বন্যানিয়ন্ত্রণ এবং শুকনো মৌসুমে যে পানি পাওয়ার কথা বললেন, এ বিষয়টিতে আমার দ্বিমত রয়েছে। কারণ, যে নকশা বা রূপরেখার ভিত্তিতে এই জলাধার করা হয়েছে, তা থেকে বন্যানিয়ন্ত্রণ এবং শুকনো মৌসুমে পানি প্রাপ্তির সুবিধা পাওয়া যাবে না। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়েছিল। আমি যদি স্মরণ করতে পারি, ওই কমিশন যেদিন বলল যে পানির ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজন, তার পরের দিনই যৌথ নদী কমিশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। তার কিছুদিন পর দ্বিতীয় সভা। তৃতীয় অথবা চতুর্থ সভায় একটি চুক্তি সই হয়। সিলেট অঞ্চলের বন্যানিয়ন্ত্রণের জন্য উজানে কিছু করার পরিকল্পনা ছিল প্রথম এবং দ্বিতীয় সভার উদ্দেশ্য। তাহলে আমরা দেখছি, ১৯৭২-৭৩ সালে পানি ব্যবস্থাপনার মধ্যে একমাত্র ভাবনা ছিল বন্যা ব্যবস্থাপনা। সেচব্যবস্থা এসেছে ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে। এর আগে আমাদের দেশে বোরো ধান ছিল না। সে সময় প্রধান ফসল ছিল আউশ-আমন। এখন বোরো প্রধান ফসল। যে কারণে শুকনো মৌসুমের চিন্তা করতে হয়।
ভারত থেকে যে পরিমাণ পানি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঢুকছে, সেটা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে আমরা বললাম, তারা যদি টিপাইমুখে জলাধার নির্মাণ করে, তাহলে পরিবর্তিত হতে পারে। তখন পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের জন্য অবশ্যই তাদের এই তথ্য দরকার ছিল। যদি কোনো বছর বর্ষার শেষের দিকে বৃষ্টি হয়, তখন বাড়তি পানি নির্গমনের পথ (স্পিলওয়ে) দিয়ে পানি ছাড়তে হবে, যেটা কাপ্তাইয়েও ছাড়তে হয়। আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসে জলাধার পূর্ণ থাকার পর বৃষ্টি হলে পানির স্রোত এত তীব্র হয় যে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ শিকল ছিঁড়ে সমুদ্রে চলে গেছে, এমন ঘটনাও আছে।
তাহলে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, বন্যার সময় পানির উচ্চতা কমে যাবে, আর শুকনো মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। ফলে নদীগুলোর পানির স্তর অনেকটা বেড়ে যাবে। এটাই হচ্ছে গঙ্গাসহ বাকি সব নদীর অবস্থা। এখন জলাধার বানাতে হবে, বর্ষার পানি ধরে রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে।
১৯৭২-৮৫ সাল পর্যন্ত বন্যা-সম্পর্কিত পরিকল্পনার যে রূপরেখা ছিল, তা আজ কার্যকর কি না, আমি জানি না। তবে আমার ধারণা, এখন তারা জলাধারের উচ্চতা অনেক বাড়িয়েছে। এই জলাধারের সম্ভাব্য প্রভাব হলো:
এক. উজানের জলাধারটি পানিতে পূর্ণ করতে হবে। এটা পূর্ণ করতে দেড়-দুই বছরের বেশি সময় লাগবে না। ভারতে যে চেঁচামেচি-হইচই হচ্ছে, সেটা ওই জলাধারের বিরুদ্ধে। এই জলাধারের কারণে তাদের অনেক লোক উচ্ছেদ হয়ে যাবে।
দুই. শুধু যদি জলাধার নির্মিত হয়, বন্যানিয়ন্ত্রণ হতে পারে। টিপাইমুখের কার্যক্রম পরিচালনা (অপারেশনাল) পদ্ধতি আমরা জানি না। ধরে নিলাম সর্বোচ্চ মাত্রায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। তাহলে প্রথমে তারা এটা পূর্ণ করে ফেলবে। এ ক্ষেত্রে বর্ষার শেষে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে ভাটির দিকে বেশি ক্ষতি হবে। কারণ, তখন পানি ছেড়ে দিতে হবে। ফলে বন্যার আশঙ্কা থেকে যায়।
ভারত সরকার বলছে, তারা ব্যারাজ করবে না। তাদের এ ধরনের আশ্বাসের কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। কারণ, আমরা দেখেছি, গঙ্গাসহ অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেগুলো রক্ষা করেনি। তাদের মৌখিক আশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে লিখিত চুক্তি হতে হবে। এখন প্রধান কাজ হলো, দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করে জলাধারের লাভ-ক্ষতি সবকিছু বিবেচনায় এনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আমি মনে করি, জলাধারের বিরোধিতা মানে অবশিষ্ট ৫৩টি নদীর জন্য বিপদ ডেকে আনা। বরং এই জলাধারকে কেন্দ্র করে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কীভাবে সহযোগিতামূলক কর্মপরিকল্পনা করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
মতিউর রহমান
আইনুন নিশাত ঐতিহাসিক পটভূমিতে বিষয়টি আলোচনা করলেন। তাঁর আলোচনা থেকে কিছু বিষয় উঠে এসেছে। এখন বলবেন মীর সাজ্জাদ হোসেন।
মীর সাজ্জাদ হোসেন
একটি প্রশ্ন প্রতিনিয়ত শোনা যায়, ব্যারাজ হবে কি না। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আছে কি না। এ ক্ষেত্রে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে ব্যারাজ হবে না। এটা হবে শুধু বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই লিখিত বিবৃতি আমাদের কাছেও আছে। এ বিষয়ে অনেকবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরও কারও কারও ধারণা, এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কাছ থেকে লিখিত কিছু নেই।
আরেকটি প্রশ্ন আসে, ‘ফ্লাড স্পেস’ থাকবে কি না। ভারত সরকার যেসব তথ্য আমাদের দিয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, ২ দশমিক ৫ মিটার ‘ফ্লাড স্পেস’ থাকবে। ১০ হাজার বছরের ভারী বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে পানি নির্গমন পথের (স্পিলওয়ে) উচ্চতা ধরা হয়েছে ১৭৮ মিটার।
১৯৭২ সালে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গঠনের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। ১৯২৯ সালে আসাম অঞ্চলে একটি বড় বন্যা হয়। তখন এই বন্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার জন্য আসাম সরকার একটি গবেষণা চালায়। আসাম সরকারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময় ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থা আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করে। এই গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬০ সালে তারা ভূপেন্দর নামের একটি জায়গা নির্ধারণ করে। এই জায়গাটি ছিল টিপাইমুখ বাঁধের ৫০ কিলোমিটার নিচের দিকে। এখানে একটি আড়াআড়ি বাঁধ (ড্যাম) নির্মাণ করে তারা আসাম ও সিলেট অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করে। ১৯৭২ সালে এই পরিকল্পনা ভারত সরকার জেআরসিতে উপস্থাপন করে। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য সিলেট এবং ভারতের শীলচরে দুই দেশের কার্যালয় স্থাপন করা হয়। তখন দুই দেশের কর্মকর্তারা ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত ভূপেন্দর অঞ্চলটি পরিদর্শন করেন। তাঁদের জরিপের ফলাফল হলো, এখানে ড্যাম নির্মাণ করে বন্যানিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর ফলে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভূপেন্দর অঞ্চলের ওপরের দিকের কোনো জায়গায় ড্যাম করা যায় কি না, তা নিয়ে আবার দুই দেশের জরিপ শুরু হয়।
১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জেআরসির ১৩টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০টিতে টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা হয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৭৮ সালে আবার টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৮১-৯১ সাল পর্যন্ত ১১টি অধিবেশনে টিপাইমুখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ১৯৯১-৯৬ পর্যন্ত জেআরসির কোনো অধিবেশন হয়নি। ২০০১-০৬ পর্যন্ত টিপাইমুখ নিয়ে ভারত সরকার সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। ২০০৬ সালে জেআরসি অধিবেশনে তারা আমাদের জানায়, ফুলেরতলে ব্যারাজ হবে না।
আমরা ধারণাপ্রসূত অনেক মন্তব্য করছি। এ জন্য দুই দেশের যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যাহত হতে পারে। ১৯৭২ সালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নদীগুলো ব্যবহার করে কীভাবে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায়, সেটি নিশ্চিত করাই ছিল যৌথ নদী কমিশনের উদ্দেশ্য। এর মধ্যে বন্যানিয়ন্ত্রণ এবং যৌথ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি ছিল। অনেকে গঙ্গা চুক্তির ৯ নম্বর ধারা উল্লেখ করে বলেন, ওই চুক্তি অনুযায়ী, ভারত টিপাইমুখে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে না। অথচ ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সমতা, ন্যায়নীতি এবং অন্যের ক্ষতি না করে অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে দুই সরকার একমত হয়েছে। টিপাইমুখের ক্ষেত্রে পানি বণ্টনের প্রশ্ন উঠছে না। কারণ, তারা সেচ প্রকল্প করছে না, করছে বিদ্যুৎ প্রকল্প। এর ফলে কোনো পানি প্রত্যাহার হচ্ছে না। এ জন্য গঙ্গা চুক্তির ৯ নম্বর ধারা টিপাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। তিনটি বড় নদীর কথা বলছি। ভারত হয়ে গঙ্গোত্রী থেকে এসেছে গঙ্গা, তিব্বত থেকে এসেছে ব্রহ্মপুত্র এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসেছে মেঘনা। গঙ্গার ব্যাপারে দুই সরকার অনেক আগে একমত হয়েছে যে দুই দেশের প্রয়োজনের তুলনায় গঙ্গার পানি পর্যাপ্ত নয়। সেচ থেকে বিদ্যুৎ আমাদের বেশি প্রয়োজন। কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জটিলতার কারণে জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।
সে ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করে সামগ্রিকভাবে বর্ষার পানি ধরে রেখে জলবিদ্যুতের এই সুযোগ আমরা নিতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা, যেখানে প্রায় ৫০ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়, জলাধারের মাধ্যমে এই বিশাল অঞ্চল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
আব্দুল কাইয়ুম
মীর সাজ্জাদ হোসেনের কাছ থেকে কিছু বিষয় জানা গেল। এগুলো নিয়ে অন্য আলোচকেরাও কথা বলবেন। এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়গুলো নিয়ে আসিফ নজরুল আলোচনা করবেন।
আসিফ নজরুল
ভারত টিপাইমুখ নিয়ে আমাদের বলেছে, টিপাইমুখ প্রকল্পের মধ্যে পানি প্রত্যাহার করার কোনো অংশ নেই। এটা থাকার কথা নয়। কারণ, পানি প্রত্যাহার করা হবে অনেক ভাটিতে। এটা হবে পরবর্তীকালে বা পৃথক কোনো প্রকল্প যদি হয়। টিপাইমুখ প্রকল্পে বিকল্প পথে পানি অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর মানে এই নয়, ভবিষ্যতে ভাটিতে পানি প্রত্যাহার খাল করা হবে না। কাজেই ভারতের এ কথা আমাদের নিশ্চয়তা দেয় না যে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত পানি প্রত্যাহার করবে না।
২০০৫ সালে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ভারতীয় প্রতিনিধিদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনারা ফুলেরতলায় ব্যারাজ করবেন, নাকি অন্য কোথাও? তাদের উত্তর ছিল, পরে জানাব। তারপর কয়েকটি যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়েছে। তারা তা জানায়নি।
যখন একটি আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক হয়, তখন সংক্ষিপ্ত বিবরণী (নোট ভারবাল) হচ্ছে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, সবচেয়ে নিম্নস্তরের প্রতিশ্রুতি। আর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হচ্ছে মতৈক্য। তার চেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হচ্ছে চুক্তি, যেখানে আমাদের সঙ্গে ভারতের গঙ্গার পানি চুক্তি আছে। এটা একটা মতৈক্যের সর্বোচ্চ রূপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সর্বোচ্চ রূপ। যেখানে সম্পাদিত আইনের ৯ নম্বর ধারা বলছে, যৌথ নদীর ক্ষেত্রে পানি বণ্টন প্রশ্নে, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষতি না করা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে চুক্তি করব। পানি বণ্টনের ব্যবস্থায় যদি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তাহলে পানি প্রাপ্তির তারতম্য ঘটবে। আর তারতম্য যদি আসে, তাহলে সেটাই হলো পানি বণ্টনের প্রশ্ন।
যখন একটা বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভারত হাতে নেবে আর তাতে পানি বণ্টন প্রশ্ন প্রভাবিত হবে, তখনো যদি কেউ বলেন ৯ নম্বর ধারা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না, তাহলে ভারত আমাদের কোনো কথাই শুনবে না। তাই বরং ওই ধারা যে এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তার পক্ষে সর্বোচ্চ যুক্তি তুলে ধরা উচিত।
ভারতের সঙ্গে বড় প্রতিকূলতা সৃষ্টির স্বপ্ন যাঁরা দেখেন, তাঁরা তা রাজনৈতিক কারণে দেখেন। এতে কোনো লাভ নেই। কারণ আমরা আমাদের প্রতিবেশী পরিবর্তন করতে পারব না।
পানি মজুদ করা হলে এর ভেতরের বিভিন্ন উপাদান পরিবর্তিত হয়, যা জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়গুলো যদি আমরা ভারতের কাছে তুলে ধরি, এতে কিন্তু আমাদের আন্তর্জাতিক ফোরামের কাছে যেতে হবে না। আমরা বলতে পারি, আমাদের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি তোমরা করতে পারো না।
আমাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো সরকারি পক্ষ ভারতীয় পক্ষের কাছে সঠিকভাবে তুলতে পারে না। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক চুক্তি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তা বাস্তবায়ন করলেও ভারতীয় পক্ষ বাস্তবায়ন করেনি। অতএব আমরা আশ্বাসে বিশ্বাস করতে পারি না।
বাংলাদেশ যেহেতু এখনো প্রকল্প সম্পর্কে, পরিবেশ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পায়নি, তাই শক্তভাবে ভারতকে বলা উচিত এই প্রকল্প নিয়ে না এগোনোর জন্য।
এম এ কাশেম
টিপাইমুখ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার অধিকাংশই হচ্ছে আশঙ্কাতাড়িত এবং অনুমাননির্ভর। অনুমাননির্ভর আলোচনার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বন্যা কার্যক্রম কর্মসূচি প্রণয়নের (ফ্যাপ স্টাডি) সময় বা পরবর্তীকালে টিপাইমুখে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় ছিল না, আলোচ্য বিষয় ছিল ফুলেরতলে ব্যারাজ হবে কি না, পানি প্রত্যাহার করা হবে কি না। অনেকে বলেন, বিশ্ব ড্যাম কমিশন (ওয়ার্ল্ড কমিশন অব ড্যাম) ড্যাম নির্মাণের বিরোধিতা করেছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল। কমিশন ড্যামের উপকারিতা, নেতিবাচক-ইতিবাচক প্রভাব, নির্মাণ-জটিলতা এবং নির্মাণ বিষয়ে সাতটি নীতি দিয়েছে।
কুশিয়ারার মতো নিম্নভূমি এলাকায় হাকালুকি হাওর হচ্ছে সব থেকে নিচে। এই হাওরে পানি বাড়ার ফলে যে পরিমাণ জমি পানির তলে যায়, তাতে ক্ষতি কত হয়, সেখানে মাছ চাষ হলে লাভ কত হয়—এটা অবিশ্বাস্য রকম ইতিবাচক।
টিপাইমুখ নিয়ে সাধারণের মধ্যে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, যার জন্য বর্তমান সরকারের অনেক মন্ত্রীও দায়ী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ক্ষতি হয় ভারত এমন কিছু করবে না।’ এটা পরিষ্কার কথা নয়। সাধারণের কাছে বিষয়টা পরিষ্কার করতে হবে। এটা নিয়ে আমাদের জরুরি গবেষণা করা উচিত, আমরা কতটা প্রভাবিত হচ্ছি এটা থেকে। সেটা ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক, যা-ই হোক। ভারত এটা গ্রহণ করুক আর না করুক, আমাদের স্বার্থে এটা করা উচিত। আর যৌথ গবেষণা তো হবেই।
এম এ আরাফাত
আমরা যদি সরাসরি ড্যামের বিপক্ষে চলে যাই, তাহলে যৌথ নদীগুলোর পানিবর্ধনের ক্ষেত্রে আমাদের দাবিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমাদের অন্যান্য নদীর পানিবর্ধনের বিষয়টি বাদ দিলেও, যদি ড্যামের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিই, তাহলে অন্য আরেকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।
ড্যামের মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ করার যে সম্ভাব্য পরিসংখ্যান দেখা যায়, ইউরোপ ও আমেরিকা এই সম্ভাব্যতার ৭০ শতাংশ কাজে লাগিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়া এই সম্ভাব্যতার মাত্র ৮ শতাংশ কাজে লাগাতে পেরেছে। বাকি ৯২ শতাংশ অব্যবহূত।
২০০৩ সালে ৩৫তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের আলোচনা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ পক্ষ বলেছিল, ফুলেরতলে সেচবাঁধ নির্মাণ টিপাইমুখ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ভারত নিশ্চয়তা দিয়েছিল, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ আরও নিশ্চয়তা চেয়েছিল, ফুলেরতল বা বরাক নদের অন্য কোথাও সেচের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হবে না।
৩৬তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে তারা বলে, ফুলেরতলে তারা একটা ব্যারাজ করবে কি না, তা পরবর্তী বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। পরে তারা বলেছে, টিপাইমুখে কোনো সেচ প্রকল্প নেই, এটা বন্যানিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। কিন্তু ফুলের তল টিপাইমুখ থেকে ১০০ কিলোমিটার ভাটিতে হলেও তা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
এম ইনামুল হক
টিপাইমুখ বিষয়টা রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। আর সরকার ও বিরোধী দুই দলই যেহেতু রাজনৈতিক দল, সেখানে দেখার বিষয়, সরকারি দল বিষয়টাকে কীভাবে সমন্বয় করে।
পুরো মেঘনা অববাহিকায় টিপাইমুখ আট ভাগের এক ভাগ। আর মেঘনা নদী দিয়ে যে নদীগুলো আছে তা যেহেতু আমাদের মোহনায়, তার ওপর লবণাক্ততার প্রভাব মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ আলোচনায় আরেকটা বিষয় আসে, তা হলো ভূমিকম্প। এটা তো সম্ভাবনার বিষয়, যা ১০০ বছরে একবার হতে পারে। আর ভারত যখন ড্যাম করবে, তারা ভূমিকম্পের সম্ভাব্যতা মাথায় রেখেই করবে।
এখানে বরাক নদের পানি ভাগাভাগির কথা এসেছে, ভাগাভাগির কথা তখনই আসবে যখন পানির গতি পরিবর্তন করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। বরাক নদের পানির গতি পরিবর্তন করে অন্য কোথাও নেওয়ার কায়দা নেই। যেমনটি তিস্তার পানি বিহারে নেওয়া হচ্ছে, ফারাক্কার পানি ভাগীরথী নদীতে। অতএব বরাক প্রশ্নে ভাগাভাগির কথা আসা উচিত নয়। আমরা এর ব্যবস্থাপনা কী হচ্ছে, তা দেখব।
টিপাইমুখ ও কাপ্তাইয়ের পানি ধারণ এলাকা (ক্যাচম্যান্ট এরিয়া) সমান। টিপাইমুখ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হলে পাঁচ বছর ধরে পানি ধরে রাখতে হবে। এক বছর সুবিধা পাওয়ার পর আবার পাঁচ বছর বন্ধ রাখতে হবে।
অতএব টিপাইমুখ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। টিপাইমুখের ধারণ এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এক হাজার ৫০০ মিলিমিটার, যেখানে কাপ্তাইয়ে গড় বৃষ্টিপাত দুই হাজার ৭০০ মিলিমিটার।
বন্যানিয়ন্ত্রণের জন্য ড্যাম দরকার। এ রকম বিভিন্ন কাজের ড্যাম হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্যানিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে করা যাবে না। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হলে ইচ্ছামতো পানি ছাড়া যাবে না।
সুনামগঞ্জের ৮০ ভাগ হাওর হওয়ার কারণে আগাম বন্যার জন্য প্রভাবিত হয় এ জেলা। এখন বোরো ধান চাষ হচ্ছে, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময় যার ফসল আসে। এতে করে এর অর্থনীতি বোরোনির্ভর হয়ে পড়েছে। তাহলে কীভাবে সেটা মাছভিত্তিক করব? রাতারাতি তাদের জেলে বানানো সম্ভব নয়। ভারত যেহেতু যৌথ পর্যবেক্ষণের কথা বলেছে, এই সুযোগটা আমাদের নেওয়া উচিত। আমাদের যে যৌথ দল হবে, তাদের জানা উচিত ড্যামের আকৃতি কী হবে, ড্যামের কার্যক্রম তালিকা কী হচ্ছে, সময় ও তারিখ অর্থাৎ কোন কোন সময় তারা পানি ছাড়বে কী পরিমাণে।
ভারত যেহেতু সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, সেটা বাংলাদেশের কাজে লাগানো উচিত।
আব্দুল কাইয়ুম
আসলে ড্যাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক বেশি বিভ্রান্তি আছে। এখন ড. আকবর আলি খান আলোচনা করবেন।
আকবর আলি খান
টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশে কথা বলার অনেকে আছেন, কিন্তু গবেষণা করে লেখালেখি খুব কম। এ বিষয়ে জানতে বাধ্য হয়ে ভারতীয় কাগজপত্র পড়তে হয়। আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমাদের দেশে যথেষ্ট গবেষণামূলক কাগজপত্র নেই। আমি ভারতের দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একমত। কারণ এক পক্ষ বলছে, টিপাইমুখ বাঁধ হলে মরুভূমি হয়ে যাবে। বাংলাদেশ কাপ্তাই বাঁধ করেছে, তাতে কি মরুভূমি হয়ে গেছে, নাকি ভারত বাধা দিয়েছিল?
অনেকে বলেছেন, ভারত যদি সেচ প্রকল্প না করে, তাহলে ঠিক আছে। তাহলে আমরা কি টিপাইমুখ প্রশ্নে সব আপত্তি প্রত্যাহার করব? এটা তো কোনো কথা হলো না। আরেক পক্ষ বলছে, আমাদের উপকার হবে। ভারত যেখানে এ বিষয়ে উপকারের কথা লেখে না, আমরা কোথা থেকে উপকারের কথা লিখছি?
টিপাইমুখের মতো ঘটনা তো বাংলাদেশে আছে। গোমতী নদীর ওপর ১৯৭৬ সালে ২৬ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বাঁধ দিয়ে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র করেছে। তাতে কী লাভ হয়েছে, এবং যেটা দেখা যায়, নদীতে মাছের উৎপাদন কমেছে, এর শাখা নদী ও উপনদী মরে গেছে। এখন তিতাস নিয়ে কথা হচ্ছে, সেই ’৭৬ সাল থেকে তিতাসের এই অবক্ষয় শুরু হয়েছে। ভারত কেন আমাদের সঙ্গে অংশীদারি বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে? তারা যত সস্তায় বিদ্যুৎ পায়, তাদের তো অংশীদার হওয়ার দরকার নেই। খাতির করে একটা অথবা দুইটা করতে পারে, কিন্তু এ দিয়ে যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে, তা বলা যাবে না। টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনায় তিন ধরনের প্রশ্নের উদ্ভব হয়। এগুলো হলো—স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন।
স্বল্পমেয়াদি প্রশ্নে, নদীতে মাছের চাষ করে মাছের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু পণ্ডিতদের মতে, নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাবে। সুতরাং নদীতে মাছ বাড়াতে হলে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভারতের কাছে দাবি করতে হবে, বাংলাদেশের মৎস্যক্ষেত্রে বিনিয়োগে সহযোগিতা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এর ফলে নদীতে পলি জমে যাবে। এতে নদী খননের প্রয়োজন হবে।
টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা করাটাই অন্যায়। অন্যায় এই জন্য যে টিপাইমুখ হলো একটা বড় সমস্যার অন্তর্ভুক্ত ছোট সমস্যা। বড় সমস্যা হলো, ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রায় দেড় লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। তখন এর জন্য যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে তার সামগ্রিক প্রভাব বাংলাদেশের ওপর কী পড়বে। সুতরাং শুধু টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা করা মোটেই সংগত হবে না। আলোচনা করতে হবে উত্তর-পূর্ব ভারতের যতগুলো জলবিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে তার ওপরে। এর ওপর যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশ পক্ষের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অতএব ভারতের সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলা হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে আগে।
মধ্যমেয়াদি প্রশ্ন হলো পরিবেশ নিয়ে। এ বিষয়ে ভূমিকম্পের কথা বলা হয়েছে। ভারত সরকার বলেছে, তারা এমন বাঁধ করবে, যা ভূমিকম্প-প্রতিরোধী হবে। টাইটানিক করার সময় কিন্তু বলা হয়েছিল, এটা ডুববে না। এর পরিণতি আমরা জানি।
সুবানসিড়ি বাঁধ নিয়ে ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করে পরামর্শ দিয়েছে। ওই পরামর্শ অনুযায়ী, টিপাইমুখ বাঁধ যে স্থানে হচ্ছে সেখানে এত বড় বাঁধ করা যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ তা ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। অতএব এটাই বাংলাদেশের বক্তব্য হওয়া উচিত যে তারা বাঁধ করতে চাইলে করবে, তবে এত অতিকায় বাঁধ করা যাবে না। বাংলাদেশ ভারতের কাছে সেই ব্যবহার প্রত্যাশা করে, ভারত চীনের কাছে যে ব্যবহার প্রত্যাশা করে।
চীন ব্রহ্মপুত্রের ওপর জলবিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, যা নিয়ে ভারতীয় সংসদে অনেক হইচই হয়েছে। সংসদে বিবৃতি দিয়ে মনমোহন সিং বলেছেন, চীন তাদের আশ্বস্ত করেছে, এটা ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে এবং এটা হচ্ছে নদীপ্রবাহ অব্যাহত রেখেই (রান অব দ্য রিভার)।
রান অব দ্য রিভারের সংজ্ঞা হলো, সকাল থেকে নদীর পানি আটকে রেখে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেবে, দিনেরটা দিনে। সে অনুযায়ী টিপাইমুখ ‘রান অব দ্য রিভার’ নয়। অতএব ভারতের কাছে বাংলাদেশের বক্তব্য হলো: ১. রান অব দ্য রিভার হতে হবে, ২. ড্যাম ছোট হতে হবে, ৩. বেশি পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এই তিনটি শর্ত মেনে নিলে এ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের হয়তো আপত্তির কারণ থাকবে না।
মতিউর রহমান
আকবর আলি খান অনেক যৌক্তিক তথ্যসম্পন্ন বক্তব্য রেখেছেন। এখন সংক্ষিপ্তভাবে আলোচকেরা নতুন কিছু কথা যুক্ত করতে পারেন।
আইনুন নিশাত
ভারত কেন বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে এই প্রশ্নে বলা যায়, ভারতের কেন্দ্রে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাজ করছে। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র গবেষণা করলেও ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে তথ্য-উপাত্তের জন্য। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিয়ে যৌথ গবেষণার কাজটি তাড়াতাড়ি করতে হবে। অন্য একটি কথা হলো, এই বিষয়টা যেন রাজনৈতিক নেতা মোকাবিলা করেন, যেন আমলাতান্ত্রিক না হয়।
মীর সাজ্জাদ হোসেন
টিপাইমুখ নিয়ে দ্বিতীয়বার আলোচনার পর ভারত সরকারের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব গেছে যৌথ গবেষণা করার জন্য। ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করার কথা। গত পঞ্চম সম্মেলনে ওই ফোরাম থেকে পরিষ্কার বলা আছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানিপ্রবাহে ভিন্নতা দেখা যাবে। অর্থাৎ সারা বছর পানির প্রাপ্যতা ওঠা-নামা করবে। বর্ষার সময় অতিবৃষ্টি হবে আর শুকনো মৌসুমে পানির স্বল্পতা বাড়বে। অতএব এখন অধিক পানি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে, যাতে করে বর্ষার সময় সংরক্ষিত পানির বহুমাত্রিক ব্যবহার করা যায়।
আসিফ নজরুল
অতিকায় ড্যামকে আমাদের ‘না’ বলতে হবে। ভারতকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে, তারা ভবিষ্যতেও টিপাইমুখ প্রকল্পে পানির গতি পরিবর্তন করে অন্যত্র নেবে না। গোমতী নদীতে প্রথমে কিন্তু পানির গতি পরিবর্তনের কথা ছিল না। তা তারা করেছে।
আর গঙ্গাচুক্তির ৯ ধারার যতটা সম্ভব বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোত্তম ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে হবে। যৌথ গবেষক দলে বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকদের নিতে হবে।
আকবর আলি খান
টিপাইমুখ প্রশ্নে সব থেকে বড় উদাহরণ গোমতীতে বাঁধ। ভারত সরকারের যে বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আমাদের বুঝতে হবে। তারা তেহেরি বাঁধের ব্যাপারে কারও কথা শোনেনি, সুবানসিড়ির ওপরে শোনেনি। সেখানে তারা জোরজবরদস্তি করছে। আমাদের এই আপত্তি শুনবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার পরও আমাদের এই আপত্তি করতে হবে। আমাদের সমস্যা সম্পর্কে জানতে হবে এবং নিজেদেরও সমাধান করার কথা চিন্তা করতে হবে।
ভারত আজ হয়তো এ বিষয়ে কিছু অনুধাবন করছে না। কিন্তু ভবিষ্যতে তারা ভাবতে বাধ্য হবে। এ জন্য ভাবনার বিষয়গুলো বারবার ভারতের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
মতিউর রহমান
সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার জন্য গওহর রিজভীকে অনুরোধ করছি।
গওহর রিজভী
আমাদের অনেক প্রশ্নে ভিন্নতা আছে, কিন্তু আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য কী, কীভাবে আমরা আমাদের দেশের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা পাব—এই প্রশ্নগুলোতে কিন্তু আমাদের মতভিন্নতা খুব বেশি নেই।
যৌথ গবেষণা শুরু করতে সরকার অনেক দূর এগিয়েছে। কিছু নির্বাচনের ব্যস্ততার জন্য একটু দেরি হচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। তারপর বন্ধুভাবাপন্ন দুই দেশের সরকার এমন একটি ফল প্রাপ্তি সামনে রেখে কাজ করবে, যা সবাই গ্রহণ করবে।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
February
(3241)
-
▼
Feb 16
(126)
- চারদিক-ব্র্যাক স্কুলের মেয়েরা
- সড়ক দুর্ঘটনা-আন্দোলনে বাতি জ্বালাবেন জাফর ইকবাল by...
- কর্মসংস্থান-বিশ্ববাজারে নারীর শ্রম by জোবাইদা নাসরীন
- গদ্যকার্টুন-অজ সংবাদ by আনিসুল হক
- সহজিয়া কড়চা-রাজনীতির যূপকাষ্ঠে ঢাকার গর্দান by সৈয়...
- ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করুন-বিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ
- অভিযোগ আমলে নিয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নিন-নারায়ণগঞ্জ সি...
- প্রতিক্রিয়া
- ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর টিভিতে মুখ দেখানোর গল্প
- নানা স্টাইলের বক্তৃতা
- পদ্মার সেতু by জি এম তানিম
- জয় আবুলের জয় by রোমেন রায়হান
- চারদিক-একটি ভালো উদ্যোগ
- সরল গরল-বিচার প্রশাসন ভেঙে পড়ছে! by মিজানুর রহমান খান
- জাতিসংঘ দিবস-সহযোগিতার চার দশক by কাজী আলী রেজা
- সময়ের প্রেক্ষিত-এই ঘোষণা পরাধীনতার by মনজুরুল হক
- সময়ের প্রতিবিম্ব-দলের দোহাই শামীমের, নেত্রীর দোয়া ...
- বাকেরগঞ্জ থানাপুলিশের ভূমিকা নিন্দনীয়-আর কত মেয়ে এ...
- দুদক নখদন্তযুক্ত হবে কি?-সংসদীয় কমিটির সুপারিশ
- স্মরণ-অপারগতার ৪০ বছর
- স্থানীয় সরকার-বিভক্তি ও বিভ্রান্তির কবলে ঢাকা সিটি...
- পরিবেশ-মানুষের গ্রাসে প্রকৃতি by নিতাই দাস
- মধ্যপ্রাচ্য-লিবিয়ায় এ নয় আরব বসন্ত by মশিউল আলম
- বিশেষ সাক্ষাৎকার-ট্রানজিটে ভারতের যে লাভ তার অর্ধে...
- ভারতের সংসদে অনুসমর্থন জরুরি-সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি
- বিরোধী দল সংসদে তাদের কথা বলুক-নেতা-নেত্রীদের বাগ্...
- চারদিক-হামিম নেই, আছে স্মৃতির হাতছানি
- কালের পুরাণ-এক হাত রাজাকারে, আরেক হাত স্বৈরাচারে b...
- কলকাতার চিঠি-মমতার বালা ছিনতাই এবং by অমর সাহা
- সরল গরল-মূষিকের পর্বত প্রসব! by মিজানুর রহমান খান
- সময়চিত্র-দাতা হাতেম তায়ি by আসিফ নজরুল
- ছিটমহল বিনিময় ত্বরান্বিত হোক-দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার নব...
- লিবিয়ায় শান্তি ফিরে আসুক-গাদ্দাফি হত্যা
- প্রকাশনায় ডিজিটাল আর্কাইভ by তাপস চৌধুরী
- গণতন্ত্র ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র by আজিজুর রহমান আযম
- প্রাথমিক শিক্ষায় ইংরেজি গ্রামার by নাসরীন রহমান
- সতর্ক হতেই হবে by মুহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দিন
- জলদস্যুর রাজনীতি by দাউদ হায়দার
- সদয় প্রকৃতির নির্দয় সতর্কবার্তা byশেখ রোকন
- রাষ্ট্র-জামায়াতি জঙ্গিবাদ এবং ইতিহাস নির্মাণের ধার...
- কালের আয়নায়-সত্যাগ্রহ বনাম অসত্যাগ্রহ এবং হরতাল বন...
- আয়কর মেলা-সরকারি প্রতিষ্ঠানও পারে
- রাজনীতি ও জনজীবন-স্বস্তির পরিস্থিতি বজায় রাখুন
- এপ্রিলে ইরানের ওপর ইসরাইলের হামলার আশঙ্কা নাকচ করল...
- ভ্যালেন্টাইন’স ডে: সঙ্গিনীর পেছনে হাত খুলে খরচের প...
- জনকে জলদি বিয়ে করার পরামর্শ বিপাশার
- শারলিনকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়
- ভূমিকম্প :বান্দার প্রতি আল্লাহর হুশিয়ারি by কাজী আ...
- অস্ট্রেলিয়ার নতুন গ্রান্ড মুফতি by ফরহাদ জাকারিয়া
- মাজার ও কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে ইসলাম by মুফতি এনায়েতু...
- হরতাল : সেকাল ও একাল by আসিফ আহমেদ
- সাময়িক প্রসঙ্গ-কেন জামায়াতের এ অপারেশন? by মোহাম্ম...
- ধর নির্ভয় গান-পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি by আলী...
- দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপ-যথাযথ শিক্ষা হবে তো?
- পোশাকের বাজার-যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয়তা প্রত্যাশিত
- পদ্মা সেতু-সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে
- পবিত্র কোরআনের আলো-আরব বেদুইনদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট...
- অসুস্থ ছাত্ররাজনীতিই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসুখ by ল...
- জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান চিত্র by ...
- স্মরণ-এম এ জি ওসমানী : মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ...
- জীবন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী ফরীদি? by মামুনুর রশীদ
- যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচন by ফখরুজ্জামান চৌধুরী
- সাদাকালো-অপরাধ কমাতে সমাজ পরিবর্তনের বিকল্প নেই by...
- সমুদ্রে জীবনাবসান-জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই
- গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সংকট-ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পদক্ষ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-মুসলমানরা যে একটি প্রভাবশালী জা...
- মরিয়ম মুরমু হত্যাকাণ্ড এবং কিছু প্রশ্ন by মিথুশিলা...
- হতাশ জনমনে অস্থিরতা by এ কে এম শাহনাওয়াজ
- স্মরণ-একজন রতন সেন by গৌরাঙ্গ নন্দী
- রঙ্গব্যঙ্গ-আকাশে যত তারা পুলিশের তত ধারা by মোস্তফ...
- বৃত্তের ভেতর বৃত্ত-সীমান্ত হাট : দিগন্তবিস্তৃত প্র...
- নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাবৃদ্ধি by এ এম এম শওকত আলী
- সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ
- থানায় নির্যাতন
- চরাচর-বানিয়াচংয়ে পর্যটন সম্ভাবনা ও প্রধানমন্ত্রীর ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-মুনাফিকরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ...
- তুষার কান্তি বসাক-ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি খোলা ...
- সদরে অন্দরে-শিক্ষার্থীর সাফল্যে উৎফুল্ল সবাই by মো...
- ইতিউতি-অভিজাত এলাকায় নীরব বাড়িগুলো by আতাউস সামাদ
- স্থায়ীভাবে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নয়-প্রশাসনের প্রত...
- এইচএসসির ভালো ফল-মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে হবে
- বিশ্ব বাঘ দিবস-ওদের বাঁচতে দিন by ইশতিয়াক হাসান
- আলোকের এই ধরনাধারায় (পর্ব-৩৫)- প্রথম কক্সবাজার ভ্র...
- শেকড়ের ডাক-দুই-তৃতীয়াংশ মাছের প্রজাতি হারিয়ে গেছে ...
- দ্বীপজেলা ভোলা by এম. জহিরুল আলম
- পাকিস্তান-গিলানির ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে? by বি. রমন
- রাজনীতি-গণতন্ত্র ও আমাদের শিক্ষাঙ্গন by জিল্লুর রহ...
- পঞ্চদশ সংশোধনী : শাসকগোষ্ঠীর দক্ষিণে মোড় by হায়দার...
- কলেজ ক্যাম্পাসে নৃশংস খুন-দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ...
- বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি-ধরে রাখতে হবে এ অর্জন
- পবিত্র কোরআনের আলো-ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিচার মীমা...
- নতুন নতুন শ্রমবাজার সন্ধান জরুরি by ড. মুহাম্মদ আশ...
- চালচিত্র-ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট ।। ভাবমূর্তি ও ক্...
- স্মরণ-বিদ্যাসাগর : একজন সফল শিক্ষানুরাগী ও সমাজসংস...
- ছাত্ররাজনীতি ও আমাদের ভবিষ্যৎ by লুৎফর রহমান রনো
- স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস
- প্রতিক্রিয়া-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চাই, বাণিজ্য নয়...
- হুমকির মুখে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ-বালু উত্তোলন থামান
- সমবায়-সংস্কারের ইতিবাচক উদ্যোগ
- শিক্ষা-শিল্পায়নের নবক্ষেত্র এবং অর্থনীতির জন্য সুব...
- সাদাকালো-কিছু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সু...
- হুইটনি হিউস্টন-উই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ!’
- পুরস্কারে স্নাত রণবীর কাপুর
- জীবন থেকে নেয়া-যেভাবে চিত্রায়িত হলো একুশের গান by ...
- চলে যাওয়া ও রয়ে যাওয়া by আফজাল হোসেন
- প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক-টিপাইমুখ বাঁধ নিয়েশঙ্কা
- একুশের চাওয়া একুশের পাওয়া-আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিব...
- রুনি-সাগর হত্যাকাণ্ড-মৃতদেহ আর রক্তাক্ত করবেন না b...
- কৃষি-পাটকাহিনি by সাইফুদ্দীন চৌধুরী
- প্রতিক্রিয়া-নিয়োগ-প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবার সময় এসেছে b...
- পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বাড়ানো জরুরি-বিড়ি বানাতে ...
- প্রচলিত বিচারব্যবস্থা থেকে আলাদা করুন-দ্রুত বিচার ...
- সাগরের নতুন কূপ থেকে এপ্রিলেই গ্যাস সরবরাহ!
- ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির নেতারা ব্যবসায় ব্যস্ত শত...
- হত্যাকাণ্ডের শাস্তি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা-পুলিশের ...
- মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি-রাষ্ট্রায়ত্...
- তাহিরপুর হাসপাতাল চিকিৎসকশূন্য! by গোলাম সরোয়ার
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী-২০৩০ সালে ১১ হাজা...
- সাবেক সচিব শোয়েবের সাক্ষ্য-নিজামী বললেন, হাইয়েস্ট ...
- সংসদের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী-তিন বছরে সরকারের ব...
- খোলা হাওয়া-ভাষাদূষণ নদীদূষণের মতোই বিধ্বংসী by সৈয়...
- বইয়ের মেলা প্রাণের মেলা-মেলায় আজ শিশুপ্রহর by আশীষ...
- ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি-ফেরতের সিদ্ধান্ত আছে, বাস্তবায়...
- সাংবাদিক দম্পতি হত্যা-মামলার বাদী রুনির ভাইকে হুমকি
- বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু ...
-
▼
Feb 16
(126)
-
▼
February
(3241)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment