Friday, August 1, 2014
রজনীগন্ধার চাষাবাদ by আলমগীর সাত্তার
রজনীগন্ধার চাষাবাদ by আলমগীর সাত্তার
মুক্তিযুদ্ধে
যোগদান করব বলে একাত্তর সালের মে মাসে আমি গিয়ে উপস্থিত হলাম আগরতলায়।
ওখানে গিয়ে তিন-চার দিন ছিলাম ওখানকার শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সুজিৎদের
বাসায়। ওই সময় একদিন গেলাম সিটিটিআই অর্থাৎ ক্রাফটস টিচারস ট্রেনিং
ইন্সটিটিউটের প্রিন্সিপাল নন্দীবাবুর সঙ্গে দেখা করতে। তিনি ছিলেন আমাদের
সেক্টর কমান্ডার সিআর দত্তের সম্পর্কে মামা।
প্রিন্সিপাল নন্দীবাবু আমাকে সিটিটিআই-এর মূল ভবনের দোতলায় থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। ওখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বড় একটি হলঘর ছিল। নন্দীবাবু বললেন, আপনাকে এই হলঘরেই থাকতে হবে। পাশেই ছিল ইন্সটিটিউটের বিশাল লাইব্রেরি ঘর। সংলঘ্ন ছিল খুব পরিচ্ছন্ন বাথরুম। কাছেই ক্রাফটস ইন্সটিটিউটের হোস্টেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেমেয়েরা অবস্থান করছিল এবং তারা নিজেদের জন্য একটি মেস পরিচালনা করছিল। আমার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হল ওখানেই।
আমার থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো হওয়ার পরও একটা সমস্যা রয়ে গেল। তা হল, আমার তো কোনো বিছানাপত্র ছিল না। তা তো থাকার কথাও ছিল না। যুদ্ধ করতে ভারতে গিয়েছি, সঙ্গে তো কাঁথা-বালিশ নিয়ে যাওয়ার কথা নয়। বিশাল হলঘরের পাখার নিচে দুটি বেঞ্চ একত্র করে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। শুধু কাঠের বেঞ্চের ওপর বিছানা ছাড়া ঘুুমাতে অভ্যস্ত না হওয়ায় ব্যাপারটা আমার জন্য কষ্টকরই ছিল।
ক্রাফটস ইন্সটিটিউটে যাওয়ার দুই দিন পর সকাল ১০টার দিকে নন্দীবাবু আমাকে তার অফিসে ডেকে পাঠালেন। ওই অফিসে গিয়ে দেখলাম, নন্দীবাবুর সামনের চেয়ারে বসা ৩০-৩২ বছর বয়সের সুন্দরী এবং সম্ভ্রান্ত একজন মহিলাকে। প্রিন্সিপাল নন্দীবাবু আলাপ করিয়ে দিলেন। তিনি ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মি. ডায়াসের স্ত্রী, মিসেস ডায়াস। কিছুক্ষণের আলাপচারিতার পর মিসেস ডায়াস নন্দীবাবুকে সঙ্গে নিয়ে আমার থাকার ব্যবস্থা দেখতে এলেন।
বিছানা ছাড়া শুধু খালি বেঞ্চের ওপর আমার শয়নের ব্যবস্থা দেখে মিসেস ডায়াস দয়াপরবশ হয়ে বললেন, গভর্নর হাউসে ফিরে গিয়ে তিনি আমার জন্য কিছু কম্বল এবং বিছানার চাদর পাঠিয়ে দেবেন। দেখলাম, দয়াশীল মহিলা তার কথা রেখেছেন। দুই ঘণ্টার মধ্যেই তিনি একখানা জিপ গাড়িতে ১০-১২টা কম্বল এবং বেশ কিছু নতুন এবং পুরনো বিছানার চাদর পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আসলে এগুলো ছিল গভর্নর হাউসের গার্ডদের জন্য নির্দিষ্ট।
কম্বল এবং চাদরগুলো পেয়ে আমার ঘুমানোর কষ্ট দূর হল। বেঞ্চ দুটি সরিয়ে কম্বল এবং তার ওপর চাদর বিছিয়ে সুন্দরভাবে বিছানা প্রস্তুত করলাম। বিছানাটা সুন্দর হলেও একটি জিনিসের অভাব রয়ে গেল। বিছানায় শুয়ে মাথায় দেয়ার জন্য কোনো বালিশ ছিল না। মনে মনে ভাবলাম, যা পেয়েছি তাতেই খুশি হওয়া উচিত।
এর একদিন পর হল ঘর সংলগ্ন লাইব্রেরি ঘরে বসে দুপুরের পর বই পড়ছিলাম। ওই লাইব্রেরিতে তিন-চারটা দৈনিক পত্রিকা রাখা হতো। ওখানে বেশ বড়মাপের একটা রেডিওও ছিল।
আমি লাইব্রেরি ঘরে বসে সমরেশ বসুর লেখা ‘বিবর’ নামের উপন্যাসখানা পড়ছিলাম। আমি ওই লেখকের তেমন ভক্ত না। যেহেতু একাত্তর সালের দিকে বইখানা খুব বিতর্কিত এবং আলোচিত ছিল, তাই অনেকটা কৌতূহলের বশে পড়ে দেখছিলাম, বইখানায় এমন কি লেখা হয়েছে, যা নিয়ে এমন বিতর্ক? বইখানার বিষয়বস্তু নাকি অশ্লীলতার দোষে দুষ্ট! বইখানা পড়ে আমার কিন্তু তেমন একটা অশ্লীল বলে কিছু মনে হয়নি। আমরা প্রকৃতির নিয়মে দৈনন্দিন যা করি, অথবা সৃষ্টির বহমানতা রক্ষার্থে যা কিছু ঘটে সেসবের ইঙ্গিত করে কিছু লেখা হয়েছে। আর এতেই বইখানার বক্তব্য অশ্লীল হয়ে গেল!
যাক এসব কথা। বইখানা যখন পড়ছিলাম, তখন লাইব্রেরি ঘরে একজন মহিলা প্রবেশ করল। এর আগেও একাধিকবার তাকে ইন্সটিটিউট ভবনে দেখেছি। দেখতে অতি সাধারণ মানের চেয়ে বেশি সুন্দরী না। তবে খুব খারাপও না। চেহারা অবশ্য ছিল বুদ্ধিদীপ্ত। বয়সটা ৩০-৩২ হওয়ায় তার দেহখানায় পরিপূর্ণতা ছিল। একাত্তর সালের দিকে এবং পরবর্তী সময়ের পর বেশ কিছু দিন ভারতীয় এমনকি বাংলাদেশী মেয়েদের মাঝে হাতাকাটা ব্লাউজ এবং অজন্তা স্টাইলে শাড়ি পরার খুব প্রচলন ছিল। অজন্তা স্টাইলে শাড়ি পরার ধরনটা হল- ব্লাউজ বেশ খাটো, গলার দিকটা বড় অর্থাৎ লোকাট এবং শাড়ি পরতে হবে কোমরের ঢাল বেয়ে নিচু করে। অর্থাৎ শরীরের মধ্যভাগ হবে অনেকখানি দৃশ্যমান। আসলে সে যুগে অজন্তাগুহার নারীদের ছবিগুলো আঁকা হয়েছিল, তখনকার সময় ভারতীয় নারীদের মাঝে ব্লাউজ পরার প্রথা ছিল না। প্রথা ছিল সুদৃশ্য বক্ষবন্ধনীর ব্যবহার। আগত ভদ্রমহিলা হাতাকাটা ব্লাউজ এবং অজন্তা স্টাইলে শাড়ি পরেছিলেন।
আগন্তুক ভদ্রমহিলা লাইব্রেরিয়ানকে প্রশ্ন করলেন, ‘বিবর’ বইখানা পাওয়া যাবে কিনা? ‘বিবর’ বইখানার তখন জনপ্রিয়তা এমন ছিল যে, কেউ ওটা পড়ে লাইব্রেরিতে ফেরত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য কেউ নিয়ে যেত। ভদ্রমহিলার প্রশ্ন শুনে লাইব্রেরিয়ান আমাকে দেখিয়ে তাকে বললেন, বইখানা আমারই হাতে এবং আমি পড়ছি। আমি বললাম, আজ বইখানা পড়ে কালই লাইব্রেরিতে ফেরত দেব। এটাই তার সঙ্গে আমার প্রথম বলা কথা।
বারবার ভদ্রমহিলা, ভদ্রমহিলা না বলে আমি তার একটা নাম দিচ্ছি। বাস্তব চরিত্র বলেই সত্যিকারের নামের পরিবর্তে অন্য একটি নাম দিচ্ছি। কিন্তু পদবিটা ঠিক রাখছি। মনে করা যাক, তার নাম আতসী বিশ্বাস।
বিকেল তখন চারটে বা সাড়ে চারটে বাজে। লাইব্রেরিয়ান ভদ্রলোক সব বইয়ের আলমারি তালা দিয়ে বন্ধ করে চলে গেলেন। আমি আতসী বিশ্বাসকে বললাম, ‘বিবর’ বইখানা চাইলে আপনি এখনই নিয়ে যেতে পারেন।
তিনি বললেন, না, আগে আপনি পড়ুন, তারপর বইখানা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন শুনব।
কথা বলতে বলতে আতসী বিশ্বাস আমার সঙ্গে থিয়েটার হলঘরে চলে এলেন। আমার বিছানার ওপর বসে বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনেক কথা বললেন। দেখলাম, সাহিত্য সম্পর্কে তার জ্ঞান আমার চেয়ে অনেক বেশি। আমি কেবল রবীন্দ্রনাথ এবং শরৎচন্দ্রের লেখা বইগুলো পড়েছি। ইংরেজিতে অনুবাদ করা কিছু রুশ সাহিত্যও পড়েছি। কিন্তু বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে তার পড়াশোনার ব্যাপকতা অনেক বেশি। চলে যাওয়ার আগে আতসী বিশ্বাস আমার কম্বল ও চাদরের বিছানা দেখিয়ে প্রশ্ন করলেন, আপনার মাথায় দেয়ার বালিশ নেই? বললাম, বিছানার কম্বল ও চাদরগুলো তো মিসেস ডায়াস পাঠিয়েছেন। বালিশের কথা হয়তো তার মনে ছিল না!
দুই দিন পর আবার আতসী বিশ্বাসের দেখা পেলাম। তিনি হাতে দুটো বালিশ নিয়ে এসে বললেন, সিটিটিআই-এর পক্ষ থেকে আপনাকে উপহার দেয়া হল। প্রশ্ন করলাম, সিটিটিআই-এর পক্ষ থেকে, না আপনার পক্ষ থেকে এ উপহার! বললেন, প্রিন্সিপাল নন্দীবাবুর অনুমতি নিয়েই আমি তৈরি করেছি।
একটু রসিকতা করে প্রশ্ন করলাম, আমি মানুষ একটা। একটা বালিশ হলেই চলত। তবে দুটি কেন? আতসী বিশ্বাসও একটু দুষ্টমির হাসি হেসে বললেন, এখন আরেকজন জোগাড় করার চেষ্টা করুন।
আতসী বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ভবনের নিচের তলায় সিটিটিআই-এর অ্যাকাউন্ট্যান্ট রঞ্জিৎ বিশ্বাসের অফিসে গেলাম। যুদ্ধকালীন সময় বলে সিটিটিআই-এর শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী এবং অফিসের লোকজন নিয়মিত হাজিরা দিতেন।
২.
রঞ্জিৎ বিশ্বাস আমাদের জন্য চা-বিস্কুটের ব্যবস্থা করলেন। চা-পান শেষ হলে আতসী বিশ্বাস উঠে তার বিভাগে চলে গেলেন।
আতসী বিশ্বাস যখন চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে যাচ্ছিলেন, তখন তার দিকে আমি তাকিয়ে ছিলাম। আতসীর বয়স ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশের মধ্যেই হবে। আমারই সমবয়সী হবেন। আমার তখন বয়স ছিল ৩২ বছর। কোনো এক বিখ্যাত লেখক লিখেছেন, ‘ফেমিনিন বিউটি ইজ মেনি সাইডেড’। কোনো কোনো মহিলাকে সামনের দিক থেকে দেখলে ভালো লাগে, আবার কাউকে কাউকে পেছন থেকে দেখলে ভালো লাগে। আতসী বিশ্বাসকে পেছন থেকে দেখেই ভালো লাগল বেশি।
আতসী বিশ্বাস চলে যাওয়ার পর রঞ্জিৎ বিশ্বাস তার সম্পর্কে অনেক কথাই বললেন। বললেন, ভদ্রমহিলা মানুষ হিসেবে বেশ ভালো। কিন্তু তার ভাগ্যটা তেমন ভালো না। বললেন, আতসীর বিবাহিত জীবনের কথা। বললেন, ১০-১২ বছর আগে আতসীর বিয়ে হয়। তার স্বামী আগরতলায় একটি কো-অপারেটিভ ব্যাংকে চাকরি করেন। বিয়ের পাঁচ-ছয় বছর পরেও তার কোনো সন্তান-সন্ততি হয়নি। ওই ছুঁতো ধরে স্বামী আরও একটি বিয়ে করেন সেই পাঁচ-ছয় বছর আগে। দ্বিতীয় বিয়ে করায় আতসী স্বামীকে পরিত্যাগ করে চলে আসেন। এখন থাকেন ভাইয়ের বাসায়। ডিভোর্স হয়নি, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই। আরও মজার বিষয় হল, দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভেও স্বামী ভদ্রলোকের কোনো সন্তান হয়নি।
আমি বললাম, তাহলে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বামী ভদ্রলোকই সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম।
রঞ্জিৎ দা এরপর বললেন, ভদ্রলোকের দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। স্বামী এখন আবার আতসীকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্বামীর কাছে আতসী আর ফিরে যেতে রাজি নয়। যে স্বামী তাকে কোনো সন্তান দিতে পারবেন না, তার কাছে ফিরে যাবে কেন? আমাদের দেশের সামাজিক নিয়মের কারণে সে স্বামীকে ডিভোর্স করছে না। স্বামী আছে, থাক, তার কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এমন অবস্থাটা তো বেশ ভালোই।
বিকাল বেলা লাইব্রেরি ঘরে বসে পত্রিকা পড়ছিলাম। ৫টা বোধ হয় তখন বাজে। আতসী বিশ্বাস এলেন। তাকে ‘বিবর’ বইখানা দিলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, কেমন লাগল বইখানা? বললাম, ভালো লাগেনি।
কেন? বলে আতসী আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বললাম, অশ্লীলতার কারণে নয়। অমন বিখ্যাত লেখক! কিন্তু ‘বিবর’ বইয়ের ভাষার মাঝে কেমন যেন একটা চালিয়াতি ভাব আছে। তবে একটা কথা খুব ভালো লেগেছে, ‘ভালোবাসা’ কাকে বলে? যে বাসায় ভালো টয়লেট আছে। বেশ এই পর্যন্ত! আমার কথা শুনে তিনি বেশ হাসলেন।
আতসী বিশ্বাস জিজ্ঞেস করলেন, চা খাবেন? বললাম, প্রস্তাবটা খারাপ নয়। বিকাল বেলায় এক কাপ চা পেলে আমি খুশি হব সন্দেহ নেই। আলসেমির জন্য দোকানে গিয়ে চা-পান করা হয়নি।
রঞ্জিৎ বাবুর ওখানে চায়ের সব সরঞ্জাম আছে। তাই তার অফিসে গেলাম। কিন্তু দেখলাম, তিনি বাসায় চলে গেছেন। তখন আমি আতসীকে প্রস্তাব করলাম, চলুন তাহা বাবুর বাসায় যাই।
তাহা বাবুর বাড়ি পশ্চিম বাংলায়। তিনিও ছিলেন ক্রাফটস ইন্সটিটিউশনের শিক্ষক। ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ব্যাঘাত হবে বলে তার পরিবার-পরিজন থাকত পশ্চিম বাংলার বাড়িতে। তাহা বাবু ছিলেন মুসলমান। তার বাসাটা ছিল ইন্সটিটিউটের বাইরে কিন্তু প্রাচীর সংলগ্ন। তার বাসাটা ছিল খুবই সুন্দর বাংলো প্যাটার্নের। সামনে ছিল বিশাল পুকুর। আর পুকুরের চারপাশে ছিল নারিকেল, সুপারি, আম-কাঁঠালের বাগান। তাহা বাবু ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ।
তাহা বাবুর বাসায় চা খেতে যাওয়ার প্রস্তাবে আতসী খুশি মনেই রাজি হয়ে গেলেন। তিনি চললেন আগে আগে আর আমি পেছনে পেছনে। আমি আগেই বলেছি, আতসী বিশ্বাসকে পেছন থেকে দেখতেই বেশি ভালো লাগে। তাই আমি তার পেছনেই হাঁটছিলাম।
মেয়েদের সৌন্দর্য বিচার করা একটু কঠিন ব্যাপারই বটে। এ প্রসঙ্গে আমি জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রকর রেমব্রান্টের কথা একটু উল্লেখ করতে চাই।
সপ্তদশ শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী রেমব্রান্ট ৩০ বছর বয়সেই খ্যাতির মধ্যগগনে পৌঁছান। ১৬৩৪ সালে তিনি প্রেম করে সাসকিয়া আলেনবুর্গ নামের খুব সুন্দরী এবং ধনবতী ২০ বছর বয়সের এক মহিলাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সাত বছর পরই যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে সাসকিয়া মারা যান। ইতিমধ্যে সাসকিয়ার গর্ভে চারটি সন্তান হয়। এদের মধ্যে টিটুস নামের পুত্র সন্তানটি কেবল বেঁচে ছিল।
শিশুপুত্র টিটুসকে দেখাশোনা করার জন্য প্রথমে ডিরিক্স নামের এক মহিলাকে নিযুক্ত করা হয়। তারপর গৃহকর্মের জন্য এবং টিটুসকে দেখাশোনা করার জন্য হেন্ড্রিকিয়া নামের এক মহিলাকে নিয়োগ দেন রেমব্রান্ট।
অতি সাধারণ ঘরের মেয়ে হেন্ড্রিকিয়াই রেমব্রান্টের মনজয় করে নেন। হেন্ড্রিকিয়ার বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর এবং ছিলেন বেশ মোটাসোটা। সুন্দরী তাকে অবশ্যই বলা যায় না। অভিজাত ঘরের ধনবতী কন্যা সাসকিয়াকে মডেল করে রেমব্রান্ট কয়েকখানা ডেকোরেটিভ ধরনের ছবি এঁকে ছিলেন। কিন্তু অতি বিখ্যাত এবং নগ্ন চিত্রগুলো, যেমন ‘বাথশেবা উইল কিং ডেভিডস লেটার, ওমম্যান বেইজিং’ এসব ছবি এঁকেছিলেন হেন্ড্রিকিয়াকে মডেল করে।
রেমব্রান্ট হেন্ডিকিয়াকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন, কিন্তু বিয়ে করতে পারেননি। সাসকিয়া মৃত্যুর আগে উইল করে গিয়েছিলেন যে, তার মৃত্যুর পর বিয়ে করলে রেমব্রান্ট সাসকিয়ার সহায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারিত্ব থেকে বঞ্চিত হবেন। হেন্ড্রিকিয়ার গর্ভে রেমব্রান্টের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। তিনি তার নাম রেখেছিলেন কর্নেলিয়া। রেমব্রান্টের মায়ের নামও ছিল কর্নেলিয়া।
রেমব্রান্টের মতো খ্যাতিমান মানুষ অভিজাত ঘরের যে কোনো সুন্দরীকে বিয়ে করতে পারতেন। অথচ তিনি তার মনপ্রাণ সঁপে দিয়েছিলেন ঘরের কাজের মেয়েকে, যে কিনা আবার তেমন সুন্দরীও ছিলেন না। আসলেই মেয়েদের সৌন্দর্য ‘মেনি সাইডেড’। কে কার মনকে উদ্দীপ্ত করতে পারে সেটাই হল আসল কথা।
তাহা বাবুর বাসায় গেলাম যখন তিনি তখন বেশ খুশিমনে আমাদের আপ্যায়ন করলেন। টোস্ট বিস্কুট সহকারে চা পান করলাম। এরপর আমরা গল্প করছিলাম। খুব তাড়াতাড়ি সময় পেরিয়ে গেল। তখন রাত ৮টা বাজে। আমি বললাম, এবার তো আমার যেতে হবে। ছাত্র ইউনিয়নের হোস্টেলে পঙ্কজ ভট্টাচার্য খুব সুরালো কণ্ঠে এখনই ডাক দেবেন, আপনারা খেতে আসুন। সময়মতো না পৌঁছলে রাতটা আমাকে উপোষ করে কাটাতে হবে। এই বলে আমি ইন্সটিটিউট ভবনের দিকে চললাম। আতসী বিশ্বাস চলে গেলেন তার বাসায়।
রাতে খেয়েদেয়ে এসে ক্র্যাফটস ভবনের সিঁড়ির ওপর বসলাম। রাত তখন ১০টা হবে। ক্র্যাফটস ভবন তখন খুব নির্জন। অন্ধকার রাতে আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হল, আজ যেন তারা-নক্ষত্র সব বেশি উজ্জ্বল। ভাবছিলাম, গ্রহ-নক্ষত্র না-কি মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে। মনে মনে বললাম- হে, গ্রহ-তারা, তোমরা আমার ভাগ্যে কী নির্ধারণ করেছ, তা তো আমার জানা নেই। আমি বর্বর পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছি। আতসী বিশ্বাস, বিজন বাবুর শালি বা অমন কারও সঙ্গে প্রেম করতে আসিনি। আজ সকাল বেলায় দুই নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ডা. সুজিৎদের বাসায়।
আমি খালেদ মোশাররফকে অনুরোধ করলাম, আমাকে কলকাতায় যাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দেন। আমাকে কিন্তু একখানা পরিচয়পত্রও লিখে দিতে হবে। কলকাতায় গিয়ে আমি চলে যাব পলাশী নামের স্থানে। ওখানে নৌ-কমান্ডোদের প্রথম ব্যাচের ট্রেনিং শুরু হয়েছে। আমি সাঁতারে খুবই দক্ষ। বরিশালের মানুষ। খুব খরসে াতা নদীতেও দুই-তিন মাইল সাঁতারে আমার কষ্ট হয় না।
ছিলাম পিআইএ-এর পাইলট। সারাটা দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হোটেলের সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতাম। পলাশীর নৌকমান্ডো ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে পরিচয় দিলে ক্যাম্প কমান্ডার সহজেই আমাকে দলভুক্ত করে নেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। প্রথম ব্যাচে সুযোগ না পেলে দ্বিতীয় ব্যাচে ট্রেনিং করব।
খালেদ মোশাররফ বললেন, শুনেছি, মুক্তিবাহিনী এয়ারফোর্স গঠিত হতে যাচ্ছে। তা গঠিত হলে ওই এয়ারফোর্সের পাইলট হিসেবে তুমি বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এসব কথা চিন্তা করতে করতে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
পরের দিন সকালে ব্রেকফাস্ট করলাম, রাস্তার পাড়ের একটি রেস্তরাঁয়। দুপুরের কিছু আগে গেলাম ছাত্র ইউনিয়নের হোস্টেলে। ওইদিন বেলা ১০টার দিকে কোনো একটি বিদেশী সাহায্য সংস্থা হোস্টেলের ছেলেমেয়েদের মাঝে বেশ কিছু কাপড়-চোপড় বিতরণ করেছে। হোস্টেলের কেউ একজন সাহায্য সংস্থার লোকদের কাছ থেকে আমার জন্য একটি ট্রাউজার এবং একখানা ধুতি চেয়ে রেখেছিল। আমার জন্য যে শুভাকাক্সক্ষী ওগুলো চেয়ে রেখেছিল, তার নামটা আজ আর মনে করতে পারছি না।
আমার আস্তানায় ফিরে এসে ট্রাউজারটা পরে দেখলাম, আমার এমনভাবে ফিটিং হয়েছে যে, ভালো দর্জিও অমন করে আমার জন্য ট্রাউজার তৈরি করে দিতে পারত না। এবার ধুতি পরার পালা। ধুতি পরতে আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। তাই গেলাম রঞ্জিৎ বাবুর কাছে। তিনি আমাকে ধুতি পরার কৌশল শিখিয়ে দিলেন। দুই-তিনবার ট্রায়াল দিয়ে কৌশলটা রপ্ত করে নিলাম।
যুদ্ধ করার জন্য ভারতে গেলেও সঙ্গে আমার অন্যান্য জামাকাপড়ের সঙ্গে গরদের একটি পাঞ্জাবিও ছিল। ধুতি এবং গরদের পাঞ্জাবি পরে নিজের কাছেই নিজেকে মনে হল ভালো মানিয়েছে। তবে ধুতি এবং পাঞ্জাবির সঙ্গে এমন জুতা খুব মানানসই নয়। এ কথা চিন্তা করে রিকশা নিয়ে গেলাম আগরতলার কামান চৌমোহনীতে। ওখানকার জুতার দোকান থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কিনলাম।
দুপুরবেলা ছাত্র ইউনিয়নের হোস্টেল থেকে খেয়েদেয়ে এসে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে এসে রঞ্জিৎ বাবুর অফিসে গেলাম। অল্প সময় পরেই সেখানে আতসী বিশ্বাস এলেন। তিনি আমার বেশভূষা দেখে খুব তারিফ করে বললেন, বাহ, বেশ মানিয়েছে। তিনি বললেন, এবার আর আপনাকে শরণার্থী মনে হয় না, মনে হয় এপার বাংলার কোনো অভিজাত ঘরের মানুষ। আমি প্রতিবাদ করে বললাম, আমি শরণার্থী নয়। আমি এসেছি যুদ্ধ করতে। কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে হবে আমার স্থান। মুক্তিযোদ্ধাদের শরণার্থী কেউ বলে না। আমার কথা শুনে বেশ রসিকতা করে আতসী গান গাইলেন :
‘যাবার আগে যাওগে আমায় জাগিয়ে দিয়ে,
রক্তে মোর চরণ-দোলা লাগিয়ে দিয়ে।’
বিকাল চারটে বাজে। রঞ্জিৎ বাবু চা পরিবেশন করলেন। তারপর আরও কিছুক্ষণ গল্প করলাম। বিকাল ৫টায় রঞ্জিৎ বাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে বললেন এবার তিনি বাসায় যাবেন। আতসীও বললেন, তিনিও এবার বাসায় যাবেন। আমি প্রশ্ন করলাম, আপনার বাসা কোথায়?
তিনি বললেন, বেশ কাছেই। ক্রাফটস ভবনের গেট দিয়ে বেরিয়ে ডান দিকে যাবেন। ১০০ গজ পরেই ইন্সটিটিউটের হোস্টেল, আরও খানিকটা এগিয়ে গেলে রাস্তার শেষ মাথায় জেলখানার গেট। এবার বাম দিকের রাস্তা ধরে হাঁটলে পাঁচ মিনিট পরেই আমাদের বাসা।
আমি বললাম, প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমি তো ওই দিকেই হাঁটতে যাই।
আমি এবং আতসী বিশ্বাস হাঁটতে হাঁটতে ওইদিকেই গেলাম। আমরা তাদের বাসা ছাড়িয়ে আরও কিছুটা দূরে গেলাম। ওখানে একটা টিলার মতো খানিকটা উঁচু জায়গা। তারপর বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষিভূমি। উঁচু জায়গাটায় আছে অনেক লিচু গাছ।
আমরা একটা লিচু গাছের নিচে বসে গল্প করছিলাম। লিচু গাছগুলো দেখিয়ে আতসীকে বললাম, আপনাকে একটা গল্প বলব, একটু মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
বললাম, গী দ্য মপাসাঁর লেখা একটা গল্পে পড়েছি, একবার তিনি প্যারিস থেকে বেশ দূরের একটি পাহাড়ি শহরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওখানে অবস্থান করার সময় তিনি পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটি গ্রামে গিয়ে পৌঁছলেন। তখন দেখলেন, ওখানকার কয়েকটি গ্রামে প্রচুর কাজুবাদামের গাছ। ওখানকার গ্রামের একজন মানুষকে তিনি প্রশ্ন করলেন, এ অঞ্চলে এত কাজুবাদামের গাছ কেন? লোকটি বলল, আমাদের গির্জার ধর্মযাজক খুব ভালো মানুষ। তিনি নিয়ম করে দিয়েছেন, গ্রামের কোনো মেয়ে বা ছেলে অবৈধ প্রেম করলে তার শাস্তি হল প্রেমিক-প্রেমিকা উভয়কে একটি করে কাজুবাদাম গাছের চারা রোপণ করতে হবে। আমাদের এখানকার মানুষ এত প্রেমিক বলে এত কাজুবাদামের গাছ দেখছেন।
গল্পটা বলে আতসী বিশ্বাসকে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এখানে কেউ অবৈধ প্রেম করলে কি তাকে লিচু গাছ রোপণ করতে হয়? নতুবা আগরতলায় এত লিচু গাছ দেখছি কেন?
বেশ সম্প্রতিভভাবেই আতসী উত্তর দিলেন- হ্যাঁ, আমাদের এখানে লিচু অথবা কাঁঠাল গাছের চারা রোপণ করতে হয়। দেখছেন না, এখানে কাঁঠাল গাছের সংখ্যাও কম না।
আমি বললাম, আসলে কাঁঠাল অথবা লিচু গাছ না লাগিয়ে রজনীগন্ধা ফুলের চারা রোপণ করা উচিত। রবিঠাকুর কিন্তু রজনীগন্ধা ফুলকে প্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তাই তার লেখায় তিনি বারবার রজনীগন্ধা ফুলের কথা লিখেছেন। আতসী বিশ্বাস আমার সঙ্গে একমত পোষণ করে বললেন, তাহলে রজনীগন্ধা ফুলের চাষাবাদ ভালোই হতো। মাত্র একদিন পরের কথা। দিনটা ছিল শনিবার। বিকাল বেলা, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর একজন মেজর পদমর্যাদার অফিসার ক্রাফটস ভবন অফিসে এসে আমাকে বললেন, আগামী দিন দুপুর বেলায় ক্যাপ্টেন খালেক, ক্যাপ্টেন শাহাব উদ্দিন এবং আমাকে কোথাও যেতে হবে। পরের দিন ঠিক বেলা ২টায় তিনি আমাদের নিতে আসবেন। পরের দিন ঠিক সময়মতো মেজর সাহেব একখানা জিপ গাড়ি নিয়ে এলেন। আমরা তার সঙ্গে আগরতলা বিমানবন্দরে গেলাম। তারপর ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে করে গেলাম কলকাতা। সেখান থেকে দিল্লি। শেষ পর্যন্ত গন্তব্য হল নাগাল্যান্ডের রাজধানী ডিমাপুর। শুরু হল আকাশ যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রশিক্ষণ। হতে চেয়েছিলাম, জলযুদ্ধের নৌকমান্ডো। কিন্তু গ্রহ-নক্ষত্র নির্দিষ্ট করে রেখেছিল, আমাকে হতে হবে আকাশ যুদ্ধের সৈনিক। যুদ্ধের ডামাডোলে ভুলে গেলাম রজনীগন্ধা ফুলের চাষাবাদের কথা।
প্রিন্সিপাল নন্দীবাবু আমাকে সিটিটিআই-এর মূল ভবনের দোতলায় থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। ওখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বড় একটি হলঘর ছিল। নন্দীবাবু বললেন, আপনাকে এই হলঘরেই থাকতে হবে। পাশেই ছিল ইন্সটিটিউটের বিশাল লাইব্রেরি ঘর। সংলঘ্ন ছিল খুব পরিচ্ছন্ন বাথরুম। কাছেই ক্রাফটস ইন্সটিটিউটের হোস্টেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেমেয়েরা অবস্থান করছিল এবং তারা নিজেদের জন্য একটি মেস পরিচালনা করছিল। আমার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হল ওখানেই।
আমার থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো হওয়ার পরও একটা সমস্যা রয়ে গেল। তা হল, আমার তো কোনো বিছানাপত্র ছিল না। তা তো থাকার কথাও ছিল না। যুদ্ধ করতে ভারতে গিয়েছি, সঙ্গে তো কাঁথা-বালিশ নিয়ে যাওয়ার কথা নয়। বিশাল হলঘরের পাখার নিচে দুটি বেঞ্চ একত্র করে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। শুধু কাঠের বেঞ্চের ওপর বিছানা ছাড়া ঘুুমাতে অভ্যস্ত না হওয়ায় ব্যাপারটা আমার জন্য কষ্টকরই ছিল।
ক্রাফটস ইন্সটিটিউটে যাওয়ার দুই দিন পর সকাল ১০টার দিকে নন্দীবাবু আমাকে তার অফিসে ডেকে পাঠালেন। ওই অফিসে গিয়ে দেখলাম, নন্দীবাবুর সামনের চেয়ারে বসা ৩০-৩২ বছর বয়সের সুন্দরী এবং সম্ভ্রান্ত একজন মহিলাকে। প্রিন্সিপাল নন্দীবাবু আলাপ করিয়ে দিলেন। তিনি ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মি. ডায়াসের স্ত্রী, মিসেস ডায়াস। কিছুক্ষণের আলাপচারিতার পর মিসেস ডায়াস নন্দীবাবুকে সঙ্গে নিয়ে আমার থাকার ব্যবস্থা দেখতে এলেন।
বিছানা ছাড়া শুধু খালি বেঞ্চের ওপর আমার শয়নের ব্যবস্থা দেখে মিসেস ডায়াস দয়াপরবশ হয়ে বললেন, গভর্নর হাউসে ফিরে গিয়ে তিনি আমার জন্য কিছু কম্বল এবং বিছানার চাদর পাঠিয়ে দেবেন। দেখলাম, দয়াশীল মহিলা তার কথা রেখেছেন। দুই ঘণ্টার মধ্যেই তিনি একখানা জিপ গাড়িতে ১০-১২টা কম্বল এবং বেশ কিছু নতুন এবং পুরনো বিছানার চাদর পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আসলে এগুলো ছিল গভর্নর হাউসের গার্ডদের জন্য নির্দিষ্ট।
কম্বল এবং চাদরগুলো পেয়ে আমার ঘুমানোর কষ্ট দূর হল। বেঞ্চ দুটি সরিয়ে কম্বল এবং তার ওপর চাদর বিছিয়ে সুন্দরভাবে বিছানা প্রস্তুত করলাম। বিছানাটা সুন্দর হলেও একটি জিনিসের অভাব রয়ে গেল। বিছানায় শুয়ে মাথায় দেয়ার জন্য কোনো বালিশ ছিল না। মনে মনে ভাবলাম, যা পেয়েছি তাতেই খুশি হওয়া উচিত।
এর একদিন পর হল ঘর সংলগ্ন লাইব্রেরি ঘরে বসে দুপুরের পর বই পড়ছিলাম। ওই লাইব্রেরিতে তিন-চারটা দৈনিক পত্রিকা রাখা হতো। ওখানে বেশ বড়মাপের একটা রেডিওও ছিল।
আমি লাইব্রেরি ঘরে বসে সমরেশ বসুর লেখা ‘বিবর’ নামের উপন্যাসখানা পড়ছিলাম। আমি ওই লেখকের তেমন ভক্ত না। যেহেতু একাত্তর সালের দিকে বইখানা খুব বিতর্কিত এবং আলোচিত ছিল, তাই অনেকটা কৌতূহলের বশে পড়ে দেখছিলাম, বইখানায় এমন কি লেখা হয়েছে, যা নিয়ে এমন বিতর্ক? বইখানার বিষয়বস্তু নাকি অশ্লীলতার দোষে দুষ্ট! বইখানা পড়ে আমার কিন্তু তেমন একটা অশ্লীল বলে কিছু মনে হয়নি। আমরা প্রকৃতির নিয়মে দৈনন্দিন যা করি, অথবা সৃষ্টির বহমানতা রক্ষার্থে যা কিছু ঘটে সেসবের ইঙ্গিত করে কিছু লেখা হয়েছে। আর এতেই বইখানার বক্তব্য অশ্লীল হয়ে গেল!
যাক এসব কথা। বইখানা যখন পড়ছিলাম, তখন লাইব্রেরি ঘরে একজন মহিলা প্রবেশ করল। এর আগেও একাধিকবার তাকে ইন্সটিটিউট ভবনে দেখেছি। দেখতে অতি সাধারণ মানের চেয়ে বেশি সুন্দরী না। তবে খুব খারাপও না। চেহারা অবশ্য ছিল বুদ্ধিদীপ্ত। বয়সটা ৩০-৩২ হওয়ায় তার দেহখানায় পরিপূর্ণতা ছিল। একাত্তর সালের দিকে এবং পরবর্তী সময়ের পর বেশ কিছু দিন ভারতীয় এমনকি বাংলাদেশী মেয়েদের মাঝে হাতাকাটা ব্লাউজ এবং অজন্তা স্টাইলে শাড়ি পরার খুব প্রচলন ছিল। অজন্তা স্টাইলে শাড়ি পরার ধরনটা হল- ব্লাউজ বেশ খাটো, গলার দিকটা বড় অর্থাৎ লোকাট এবং শাড়ি পরতে হবে কোমরের ঢাল বেয়ে নিচু করে। অর্থাৎ শরীরের মধ্যভাগ হবে অনেকখানি দৃশ্যমান। আসলে সে যুগে অজন্তাগুহার নারীদের ছবিগুলো আঁকা হয়েছিল, তখনকার সময় ভারতীয় নারীদের মাঝে ব্লাউজ পরার প্রথা ছিল না। প্রথা ছিল সুদৃশ্য বক্ষবন্ধনীর ব্যবহার। আগত ভদ্রমহিলা হাতাকাটা ব্লাউজ এবং অজন্তা স্টাইলে শাড়ি পরেছিলেন।
আগন্তুক ভদ্রমহিলা লাইব্রেরিয়ানকে প্রশ্ন করলেন, ‘বিবর’ বইখানা পাওয়া যাবে কিনা? ‘বিবর’ বইখানার তখন জনপ্রিয়তা এমন ছিল যে, কেউ ওটা পড়ে লাইব্রেরিতে ফেরত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য কেউ নিয়ে যেত। ভদ্রমহিলার প্রশ্ন শুনে লাইব্রেরিয়ান আমাকে দেখিয়ে তাকে বললেন, বইখানা আমারই হাতে এবং আমি পড়ছি। আমি বললাম, আজ বইখানা পড়ে কালই লাইব্রেরিতে ফেরত দেব। এটাই তার সঙ্গে আমার প্রথম বলা কথা।
বারবার ভদ্রমহিলা, ভদ্রমহিলা না বলে আমি তার একটা নাম দিচ্ছি। বাস্তব চরিত্র বলেই সত্যিকারের নামের পরিবর্তে অন্য একটি নাম দিচ্ছি। কিন্তু পদবিটা ঠিক রাখছি। মনে করা যাক, তার নাম আতসী বিশ্বাস।
বিকেল তখন চারটে বা সাড়ে চারটে বাজে। লাইব্রেরিয়ান ভদ্রলোক সব বইয়ের আলমারি তালা দিয়ে বন্ধ করে চলে গেলেন। আমি আতসী বিশ্বাসকে বললাম, ‘বিবর’ বইখানা চাইলে আপনি এখনই নিয়ে যেতে পারেন।
তিনি বললেন, না, আগে আপনি পড়ুন, তারপর বইখানা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন শুনব।
কথা বলতে বলতে আতসী বিশ্বাস আমার সঙ্গে থিয়েটার হলঘরে চলে এলেন। আমার বিছানার ওপর বসে বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনেক কথা বললেন। দেখলাম, সাহিত্য সম্পর্কে তার জ্ঞান আমার চেয়ে অনেক বেশি। আমি কেবল রবীন্দ্রনাথ এবং শরৎচন্দ্রের লেখা বইগুলো পড়েছি। ইংরেজিতে অনুবাদ করা কিছু রুশ সাহিত্যও পড়েছি। কিন্তু বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে তার পড়াশোনার ব্যাপকতা অনেক বেশি। চলে যাওয়ার আগে আতসী বিশ্বাস আমার কম্বল ও চাদরের বিছানা দেখিয়ে প্রশ্ন করলেন, আপনার মাথায় দেয়ার বালিশ নেই? বললাম, বিছানার কম্বল ও চাদরগুলো তো মিসেস ডায়াস পাঠিয়েছেন। বালিশের কথা হয়তো তার মনে ছিল না!
দুই দিন পর আবার আতসী বিশ্বাসের দেখা পেলাম। তিনি হাতে দুটো বালিশ নিয়ে এসে বললেন, সিটিটিআই-এর পক্ষ থেকে আপনাকে উপহার দেয়া হল। প্রশ্ন করলাম, সিটিটিআই-এর পক্ষ থেকে, না আপনার পক্ষ থেকে এ উপহার! বললেন, প্রিন্সিপাল নন্দীবাবুর অনুমতি নিয়েই আমি তৈরি করেছি।
একটু রসিকতা করে প্রশ্ন করলাম, আমি মানুষ একটা। একটা বালিশ হলেই চলত। তবে দুটি কেন? আতসী বিশ্বাসও একটু দুষ্টমির হাসি হেসে বললেন, এখন আরেকজন জোগাড় করার চেষ্টা করুন।
আতসী বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ভবনের নিচের তলায় সিটিটিআই-এর অ্যাকাউন্ট্যান্ট রঞ্জিৎ বিশ্বাসের অফিসে গেলাম। যুদ্ধকালীন সময় বলে সিটিটিআই-এর শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী এবং অফিসের লোকজন নিয়মিত হাজিরা দিতেন।
২.
রঞ্জিৎ বিশ্বাস আমাদের জন্য চা-বিস্কুটের ব্যবস্থা করলেন। চা-পান শেষ হলে আতসী বিশ্বাস উঠে তার বিভাগে চলে গেলেন।
আতসী বিশ্বাস যখন চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে যাচ্ছিলেন, তখন তার দিকে আমি তাকিয়ে ছিলাম। আতসীর বয়স ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশের মধ্যেই হবে। আমারই সমবয়সী হবেন। আমার তখন বয়স ছিল ৩২ বছর। কোনো এক বিখ্যাত লেখক লিখেছেন, ‘ফেমিনিন বিউটি ইজ মেনি সাইডেড’। কোনো কোনো মহিলাকে সামনের দিক থেকে দেখলে ভালো লাগে, আবার কাউকে কাউকে পেছন থেকে দেখলে ভালো লাগে। আতসী বিশ্বাসকে পেছন থেকে দেখেই ভালো লাগল বেশি।
আতসী বিশ্বাস চলে যাওয়ার পর রঞ্জিৎ বিশ্বাস তার সম্পর্কে অনেক কথাই বললেন। বললেন, ভদ্রমহিলা মানুষ হিসেবে বেশ ভালো। কিন্তু তার ভাগ্যটা তেমন ভালো না। বললেন, আতসীর বিবাহিত জীবনের কথা। বললেন, ১০-১২ বছর আগে আতসীর বিয়ে হয়। তার স্বামী আগরতলায় একটি কো-অপারেটিভ ব্যাংকে চাকরি করেন। বিয়ের পাঁচ-ছয় বছর পরেও তার কোনো সন্তান-সন্ততি হয়নি। ওই ছুঁতো ধরে স্বামী আরও একটি বিয়ে করেন সেই পাঁচ-ছয় বছর আগে। দ্বিতীয় বিয়ে করায় আতসী স্বামীকে পরিত্যাগ করে চলে আসেন। এখন থাকেন ভাইয়ের বাসায়। ডিভোর্স হয়নি, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই। আরও মজার বিষয় হল, দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভেও স্বামী ভদ্রলোকের কোনো সন্তান হয়নি।
আমি বললাম, তাহলে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বামী ভদ্রলোকই সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম।
রঞ্জিৎ দা এরপর বললেন, ভদ্রলোকের দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। স্বামী এখন আবার আতসীকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্বামীর কাছে আতসী আর ফিরে যেতে রাজি নয়। যে স্বামী তাকে কোনো সন্তান দিতে পারবেন না, তার কাছে ফিরে যাবে কেন? আমাদের দেশের সামাজিক নিয়মের কারণে সে স্বামীকে ডিভোর্স করছে না। স্বামী আছে, থাক, তার কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এমন অবস্থাটা তো বেশ ভালোই।
বিকাল বেলা লাইব্রেরি ঘরে বসে পত্রিকা পড়ছিলাম। ৫টা বোধ হয় তখন বাজে। আতসী বিশ্বাস এলেন। তাকে ‘বিবর’ বইখানা দিলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, কেমন লাগল বইখানা? বললাম, ভালো লাগেনি।
কেন? বলে আতসী আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বললাম, অশ্লীলতার কারণে নয়। অমন বিখ্যাত লেখক! কিন্তু ‘বিবর’ বইয়ের ভাষার মাঝে কেমন যেন একটা চালিয়াতি ভাব আছে। তবে একটা কথা খুব ভালো লেগেছে, ‘ভালোবাসা’ কাকে বলে? যে বাসায় ভালো টয়লেট আছে। বেশ এই পর্যন্ত! আমার কথা শুনে তিনি বেশ হাসলেন।
আতসী বিশ্বাস জিজ্ঞেস করলেন, চা খাবেন? বললাম, প্রস্তাবটা খারাপ নয়। বিকাল বেলায় এক কাপ চা পেলে আমি খুশি হব সন্দেহ নেই। আলসেমির জন্য দোকানে গিয়ে চা-পান করা হয়নি।
রঞ্জিৎ বাবুর ওখানে চায়ের সব সরঞ্জাম আছে। তাই তার অফিসে গেলাম। কিন্তু দেখলাম, তিনি বাসায় চলে গেছেন। তখন আমি আতসীকে প্রস্তাব করলাম, চলুন তাহা বাবুর বাসায় যাই।
তাহা বাবুর বাড়ি পশ্চিম বাংলায়। তিনিও ছিলেন ক্রাফটস ইন্সটিটিউশনের শিক্ষক। ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ব্যাঘাত হবে বলে তার পরিবার-পরিজন থাকত পশ্চিম বাংলার বাড়িতে। তাহা বাবু ছিলেন মুসলমান। তার বাসাটা ছিল ইন্সটিটিউটের বাইরে কিন্তু প্রাচীর সংলগ্ন। তার বাসাটা ছিল খুবই সুন্দর বাংলো প্যাটার্নের। সামনে ছিল বিশাল পুকুর। আর পুকুরের চারপাশে ছিল নারিকেল, সুপারি, আম-কাঁঠালের বাগান। তাহা বাবু ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ।
তাহা বাবুর বাসায় চা খেতে যাওয়ার প্রস্তাবে আতসী খুশি মনেই রাজি হয়ে গেলেন। তিনি চললেন আগে আগে আর আমি পেছনে পেছনে। আমি আগেই বলেছি, আতসী বিশ্বাসকে পেছন থেকে দেখতেই বেশি ভালো লাগে। তাই আমি তার পেছনেই হাঁটছিলাম।
মেয়েদের সৌন্দর্য বিচার করা একটু কঠিন ব্যাপারই বটে। এ প্রসঙ্গে আমি জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রকর রেমব্রান্টের কথা একটু উল্লেখ করতে চাই।
সপ্তদশ শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী রেমব্রান্ট ৩০ বছর বয়সেই খ্যাতির মধ্যগগনে পৌঁছান। ১৬৩৪ সালে তিনি প্রেম করে সাসকিয়া আলেনবুর্গ নামের খুব সুন্দরী এবং ধনবতী ২০ বছর বয়সের এক মহিলাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সাত বছর পরই যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে সাসকিয়া মারা যান। ইতিমধ্যে সাসকিয়ার গর্ভে চারটি সন্তান হয়। এদের মধ্যে টিটুস নামের পুত্র সন্তানটি কেবল বেঁচে ছিল।
শিশুপুত্র টিটুসকে দেখাশোনা করার জন্য প্রথমে ডিরিক্স নামের এক মহিলাকে নিযুক্ত করা হয়। তারপর গৃহকর্মের জন্য এবং টিটুসকে দেখাশোনা করার জন্য হেন্ড্রিকিয়া নামের এক মহিলাকে নিয়োগ দেন রেমব্রান্ট।
অতি সাধারণ ঘরের মেয়ে হেন্ড্রিকিয়াই রেমব্রান্টের মনজয় করে নেন। হেন্ড্রিকিয়ার বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর এবং ছিলেন বেশ মোটাসোটা। সুন্দরী তাকে অবশ্যই বলা যায় না। অভিজাত ঘরের ধনবতী কন্যা সাসকিয়াকে মডেল করে রেমব্রান্ট কয়েকখানা ডেকোরেটিভ ধরনের ছবি এঁকে ছিলেন। কিন্তু অতি বিখ্যাত এবং নগ্ন চিত্রগুলো, যেমন ‘বাথশেবা উইল কিং ডেভিডস লেটার, ওমম্যান বেইজিং’ এসব ছবি এঁকেছিলেন হেন্ড্রিকিয়াকে মডেল করে।
রেমব্রান্ট হেন্ডিকিয়াকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন, কিন্তু বিয়ে করতে পারেননি। সাসকিয়া মৃত্যুর আগে উইল করে গিয়েছিলেন যে, তার মৃত্যুর পর বিয়ে করলে রেমব্রান্ট সাসকিয়ার সহায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারিত্ব থেকে বঞ্চিত হবেন। হেন্ড্রিকিয়ার গর্ভে রেমব্রান্টের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। তিনি তার নাম রেখেছিলেন কর্নেলিয়া। রেমব্রান্টের মায়ের নামও ছিল কর্নেলিয়া।
রেমব্রান্টের মতো খ্যাতিমান মানুষ অভিজাত ঘরের যে কোনো সুন্দরীকে বিয়ে করতে পারতেন। অথচ তিনি তার মনপ্রাণ সঁপে দিয়েছিলেন ঘরের কাজের মেয়েকে, যে কিনা আবার তেমন সুন্দরীও ছিলেন না। আসলেই মেয়েদের সৌন্দর্য ‘মেনি সাইডেড’। কে কার মনকে উদ্দীপ্ত করতে পারে সেটাই হল আসল কথা।
তাহা বাবুর বাসায় গেলাম যখন তিনি তখন বেশ খুশিমনে আমাদের আপ্যায়ন করলেন। টোস্ট বিস্কুট সহকারে চা পান করলাম। এরপর আমরা গল্প করছিলাম। খুব তাড়াতাড়ি সময় পেরিয়ে গেল। তখন রাত ৮টা বাজে। আমি বললাম, এবার তো আমার যেতে হবে। ছাত্র ইউনিয়নের হোস্টেলে পঙ্কজ ভট্টাচার্য খুব সুরালো কণ্ঠে এখনই ডাক দেবেন, আপনারা খেতে আসুন। সময়মতো না পৌঁছলে রাতটা আমাকে উপোষ করে কাটাতে হবে। এই বলে আমি ইন্সটিটিউট ভবনের দিকে চললাম। আতসী বিশ্বাস চলে গেলেন তার বাসায়।
রাতে খেয়েদেয়ে এসে ক্র্যাফটস ভবনের সিঁড়ির ওপর বসলাম। রাত তখন ১০টা হবে। ক্র্যাফটস ভবন তখন খুব নির্জন। অন্ধকার রাতে আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হল, আজ যেন তারা-নক্ষত্র সব বেশি উজ্জ্বল। ভাবছিলাম, গ্রহ-নক্ষত্র না-কি মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে। মনে মনে বললাম- হে, গ্রহ-তারা, তোমরা আমার ভাগ্যে কী নির্ধারণ করেছ, তা তো আমার জানা নেই। আমি বর্বর পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছি। আতসী বিশ্বাস, বিজন বাবুর শালি বা অমন কারও সঙ্গে প্রেম করতে আসিনি। আজ সকাল বেলায় দুই নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ডা. সুজিৎদের বাসায়।
আমি খালেদ মোশাররফকে অনুরোধ করলাম, আমাকে কলকাতায় যাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দেন। আমাকে কিন্তু একখানা পরিচয়পত্রও লিখে দিতে হবে। কলকাতায় গিয়ে আমি চলে যাব পলাশী নামের স্থানে। ওখানে নৌ-কমান্ডোদের প্রথম ব্যাচের ট্রেনিং শুরু হয়েছে। আমি সাঁতারে খুবই দক্ষ। বরিশালের মানুষ। খুব খরসে াতা নদীতেও দুই-তিন মাইল সাঁতারে আমার কষ্ট হয় না।
ছিলাম পিআইএ-এর পাইলট। সারাটা দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হোটেলের সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতাম। পলাশীর নৌকমান্ডো ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে পরিচয় দিলে ক্যাম্প কমান্ডার সহজেই আমাকে দলভুক্ত করে নেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। প্রথম ব্যাচে সুযোগ না পেলে দ্বিতীয় ব্যাচে ট্রেনিং করব।
খালেদ মোশাররফ বললেন, শুনেছি, মুক্তিবাহিনী এয়ারফোর্স গঠিত হতে যাচ্ছে। তা গঠিত হলে ওই এয়ারফোর্সের পাইলট হিসেবে তুমি বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এসব কথা চিন্তা করতে করতে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
পরের দিন সকালে ব্রেকফাস্ট করলাম, রাস্তার পাড়ের একটি রেস্তরাঁয়। দুপুরের কিছু আগে গেলাম ছাত্র ইউনিয়নের হোস্টেলে। ওইদিন বেলা ১০টার দিকে কোনো একটি বিদেশী সাহায্য সংস্থা হোস্টেলের ছেলেমেয়েদের মাঝে বেশ কিছু কাপড়-চোপড় বিতরণ করেছে। হোস্টেলের কেউ একজন সাহায্য সংস্থার লোকদের কাছ থেকে আমার জন্য একটি ট্রাউজার এবং একখানা ধুতি চেয়ে রেখেছিল। আমার জন্য যে শুভাকাক্সক্ষী ওগুলো চেয়ে রেখেছিল, তার নামটা আজ আর মনে করতে পারছি না।
আমার আস্তানায় ফিরে এসে ট্রাউজারটা পরে দেখলাম, আমার এমনভাবে ফিটিং হয়েছে যে, ভালো দর্জিও অমন করে আমার জন্য ট্রাউজার তৈরি করে দিতে পারত না। এবার ধুতি পরার পালা। ধুতি পরতে আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। তাই গেলাম রঞ্জিৎ বাবুর কাছে। তিনি আমাকে ধুতি পরার কৌশল শিখিয়ে দিলেন। দুই-তিনবার ট্রায়াল দিয়ে কৌশলটা রপ্ত করে নিলাম।
যুদ্ধ করার জন্য ভারতে গেলেও সঙ্গে আমার অন্যান্য জামাকাপড়ের সঙ্গে গরদের একটি পাঞ্জাবিও ছিল। ধুতি এবং গরদের পাঞ্জাবি পরে নিজের কাছেই নিজেকে মনে হল ভালো মানিয়েছে। তবে ধুতি এবং পাঞ্জাবির সঙ্গে এমন জুতা খুব মানানসই নয়। এ কথা চিন্তা করে রিকশা নিয়ে গেলাম আগরতলার কামান চৌমোহনীতে। ওখানকার জুতার দোকান থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কিনলাম।
দুপুরবেলা ছাত্র ইউনিয়নের হোস্টেল থেকে খেয়েদেয়ে এসে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে এসে রঞ্জিৎ বাবুর অফিসে গেলাম। অল্প সময় পরেই সেখানে আতসী বিশ্বাস এলেন। তিনি আমার বেশভূষা দেখে খুব তারিফ করে বললেন, বাহ, বেশ মানিয়েছে। তিনি বললেন, এবার আর আপনাকে শরণার্থী মনে হয় না, মনে হয় এপার বাংলার কোনো অভিজাত ঘরের মানুষ। আমি প্রতিবাদ করে বললাম, আমি শরণার্থী নয়। আমি এসেছি যুদ্ধ করতে। কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে হবে আমার স্থান। মুক্তিযোদ্ধাদের শরণার্থী কেউ বলে না। আমার কথা শুনে বেশ রসিকতা করে আতসী গান গাইলেন :
‘যাবার আগে যাওগে আমায় জাগিয়ে দিয়ে,
রক্তে মোর চরণ-দোলা লাগিয়ে দিয়ে।’
বিকাল চারটে বাজে। রঞ্জিৎ বাবু চা পরিবেশন করলেন। তারপর আরও কিছুক্ষণ গল্প করলাম। বিকাল ৫টায় রঞ্জিৎ বাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে বললেন এবার তিনি বাসায় যাবেন। আতসীও বললেন, তিনিও এবার বাসায় যাবেন। আমি প্রশ্ন করলাম, আপনার বাসা কোথায়?
তিনি বললেন, বেশ কাছেই। ক্রাফটস ভবনের গেট দিয়ে বেরিয়ে ডান দিকে যাবেন। ১০০ গজ পরেই ইন্সটিটিউটের হোস্টেল, আরও খানিকটা এগিয়ে গেলে রাস্তার শেষ মাথায় জেলখানার গেট। এবার বাম দিকের রাস্তা ধরে হাঁটলে পাঁচ মিনিট পরেই আমাদের বাসা।
আমি বললাম, প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমি তো ওই দিকেই হাঁটতে যাই।
আমি এবং আতসী বিশ্বাস হাঁটতে হাঁটতে ওইদিকেই গেলাম। আমরা তাদের বাসা ছাড়িয়ে আরও কিছুটা দূরে গেলাম। ওখানে একটা টিলার মতো খানিকটা উঁচু জায়গা। তারপর বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষিভূমি। উঁচু জায়গাটায় আছে অনেক লিচু গাছ।
আমরা একটা লিচু গাছের নিচে বসে গল্প করছিলাম। লিচু গাছগুলো দেখিয়ে আতসীকে বললাম, আপনাকে একটা গল্প বলব, একটু মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
বললাম, গী দ্য মপাসাঁর লেখা একটা গল্পে পড়েছি, একবার তিনি প্যারিস থেকে বেশ দূরের একটি পাহাড়ি শহরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওখানে অবস্থান করার সময় তিনি পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটি গ্রামে গিয়ে পৌঁছলেন। তখন দেখলেন, ওখানকার কয়েকটি গ্রামে প্রচুর কাজুবাদামের গাছ। ওখানকার গ্রামের একজন মানুষকে তিনি প্রশ্ন করলেন, এ অঞ্চলে এত কাজুবাদামের গাছ কেন? লোকটি বলল, আমাদের গির্জার ধর্মযাজক খুব ভালো মানুষ। তিনি নিয়ম করে দিয়েছেন, গ্রামের কোনো মেয়ে বা ছেলে অবৈধ প্রেম করলে তার শাস্তি হল প্রেমিক-প্রেমিকা উভয়কে একটি করে কাজুবাদাম গাছের চারা রোপণ করতে হবে। আমাদের এখানকার মানুষ এত প্রেমিক বলে এত কাজুবাদামের গাছ দেখছেন।
গল্পটা বলে আতসী বিশ্বাসকে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এখানে কেউ অবৈধ প্রেম করলে কি তাকে লিচু গাছ রোপণ করতে হয়? নতুবা আগরতলায় এত লিচু গাছ দেখছি কেন?
বেশ সম্প্রতিভভাবেই আতসী উত্তর দিলেন- হ্যাঁ, আমাদের এখানে লিচু অথবা কাঁঠাল গাছের চারা রোপণ করতে হয়। দেখছেন না, এখানে কাঁঠাল গাছের সংখ্যাও কম না।
আমি বললাম, আসলে কাঁঠাল অথবা লিচু গাছ না লাগিয়ে রজনীগন্ধা ফুলের চারা রোপণ করা উচিত। রবিঠাকুর কিন্তু রজনীগন্ধা ফুলকে প্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তাই তার লেখায় তিনি বারবার রজনীগন্ধা ফুলের কথা লিখেছেন। আতসী বিশ্বাস আমার সঙ্গে একমত পোষণ করে বললেন, তাহলে রজনীগন্ধা ফুলের চাষাবাদ ভালোই হতো। মাত্র একদিন পরের কথা। দিনটা ছিল শনিবার। বিকাল বেলা, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর একজন মেজর পদমর্যাদার অফিসার ক্রাফটস ভবন অফিসে এসে আমাকে বললেন, আগামী দিন দুপুর বেলায় ক্যাপ্টেন খালেক, ক্যাপ্টেন শাহাব উদ্দিন এবং আমাকে কোথাও যেতে হবে। পরের দিন ঠিক বেলা ২টায় তিনি আমাদের নিতে আসবেন। পরের দিন ঠিক সময়মতো মেজর সাহেব একখানা জিপ গাড়ি নিয়ে এলেন। আমরা তার সঙ্গে আগরতলা বিমানবন্দরে গেলাম। তারপর ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে করে গেলাম কলকাতা। সেখান থেকে দিল্লি। শেষ পর্যন্ত গন্তব্য হল নাগাল্যান্ডের রাজধানী ডিমাপুর। শুরু হল আকাশ যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রশিক্ষণ। হতে চেয়েছিলাম, জলযুদ্ধের নৌকমান্ডো। কিন্তু গ্রহ-নক্ষত্র নির্দিষ্ট করে রেখেছিল, আমাকে হতে হবে আকাশ যুদ্ধের সৈনিক। যুদ্ধের ডামাডোলে ভুলে গেলাম রজনীগন্ধা ফুলের চাষাবাদের কথা।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1381)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 01
(10)
- সংলাপ? এজেন্ডা কী হবে? by আবদুল মান্নান
- তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ? by আনিসুল হক
- বেবী মওদুদ আছে, থাকবে by মালেকা বেগম
- শব্দের রাজনীতি ও শব্দ বিভ্রাট by রাজীব সরকার
- রজনীগন্ধার চাষাবাদ by আলমগীর সাত্তার
- শিল্প-সাহিত্যের সদর দরোজা ও গলিতত্ত্ব by ফজলুল হক ...
- মূক–বধিরের মতোই নিশ্চুপ আরব নেতারা
- কাঁদলেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা
- নিজেই বই লিখে সবাইকে ‘সত্য’ জানাবেন সোনিয়া
- ১৭ লাখ লোকের গাজায় ইসরায়েলি লাখ সেনার অভিযান
-
▼
Aug 01
(10)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বিশ্বকাপ ফুটবল
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment