Wednesday, July 25, 2012
গোলটেবিল বৈঠক-পাহাড়ধসে গণমৃত্যু: প্রতিকার ও করণীয়
গোলটেবিল বৈঠক-পাহাড়ধসে গণমৃত্যু: প্রতিকার ও করণীয়
৩ জুলাই ২০১২ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘পাহাড়ধসে গণমৃত্যু: প্রতিকার ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
মোহাম্মদ মন্জুর আলম
মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী
সাবেক মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
আবদুচ ছালাম
চেয়ারম্যান, সিডিএ
মুহাম্মদ সিকান্দার খান
উপাচার্য, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম
জাহাঙ্গীর আলম
উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
শফিক হায়দার চৌধুরী
অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বিধান বড়ুয়া
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ
আলী আশরাফ
প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদ
জাফর আলম
পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম
আখতার কবির চৌধুরী
আইনজীবী
বনজ কুমার মজুমদার
উপপুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ
মাহফুজুল হক শাহ
পরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো।
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
প্রথম আলো আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। চট্টগ্রাম শহর পৃথিবীর সেই বিরল শহরের একটি—যেখানে পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও অরণ্যের সমাহার ঘটেছে। কিন্তু প্রকৃতির এই অপার, উদার উপহার আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তাই আমাদের সম্পদই আমাদের কাছে বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পাহাড়ধসে গণমৃত্যুর ব্যাপারটি প্রায় নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৭ সালে পাহাড়ধসে ১২০ জনের মৃত্যুর পর গঠিত হয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা পরিষদ। তারা নানা রকম সভা ও সিদ্ধান্ত নিলেও আমাদের দুর্ভাগ্য ঠেকানো যায়নি। কয়েক দিন আগেও ঘটে গেল ভয়াবহ এক দুর্যোগ। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য আজকের এ আয়োজন। আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এখানে আসার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আব্দুল কাইয়ুম
আমি শুরুতে চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার-বান্দরবানে পাহাড়ধসে যারা মারা গেছেন তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের পরিবার-পরিজন শোক কাটিয়ে উঠুক, এই আমাদের একান্ত কামনা।
আমরা প্রথম আলোর পক্ষ থেকে পত্রিকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ-দুর্দশায়ও পাশে গিয়ে দাঁড়াই। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করি, এসিডদগ্ধদের পাশে দাঁড়াই, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে তাদের উৎসাহিত করি। আজকে এসেছি এখানে বারবার পাহাড়ধসের কারণগুলো চিহ্নিত করে এর প্রতিরোধে করণীয় কী, সে ব্যাপারে কিছু দিকনির্দেশনা বের করতে। আপনাদের আলোচনায় সেই নির্দেশনা বেরিয়ে আসবে। আমরা কিছু বাড়িয়েও বলব না, আবার প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানিতে সত্য বলা থেকে বিরতও থাকব না। এখানে বর্তমান মেয়র, সাবেক মেয়র, নগর পরিকল্পনাবিদ, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, শিক্ষকসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আছেন। প্রথমে আমি অনুরোধ করছি মাননীয় মেয়র মোহাম্মদ মন্জুর আলমকে তাঁর বক্তব্য শুরু করতে।
মোহাম্মদ মন্জুর আলম
২০০৭ সালে আমি সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকাকালে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক নারী-পুরুষ মৃত্যুবরণ করে। আমরা খবর পেয়েছিলাম সকালে। ঘটনাস্থল এমন জায়গায় ছিল যে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে সেখানে আমাদের যাওয়াটা ছিল দুঃসাধ্য। ২০০৭ সালে যে কমিটি হয়েছে, এতে সিডিএ, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং অন্য সংস্থা আছে।
এই কমিটি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন রকমের সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন হলো, পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে কে? পাহাড়ের মালিক অন্যজন। বিশেষত শহরের বেশির ভাগ পাহাড়ের মালিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। এর মধ্যে বেশির ভাগ রেলওয়ের। এ ছাড়া ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, পূর্ত বিভাগ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু পাহাড়ও আছে। এর স্থায়ী সমাধান হোক সেটা সিটি করপোরেশন চায়। কিন্তু কিছু করতে হলে সমন্বিতভাবে করতে হবে। পাহাড়ের মালিক ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা রোধের জন্য বসবাসকারী এক হাজার ৩০০ পরিবারের পুনর্বাসন জরুরি। সিটি করপোরেশনের একটি পাহাড়ে ১৬০টি পরিবার বসবাস করে। আমরা তাদের পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রতিটি পরিবারকে ২৫০ বর্গফুটের একটি করে ঘর ১৫ বছর মেয়াদে প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধের শর্তে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
অন্যান্য সংস্থাকেও আমরা আহ্বান করেছিলাম। প্রশ্ন আসে, এখানে লাভবান কে হবে। বসবাসকারী ভাড়াটিয়া, মাঝখানে জমিদার না পাহাড়ের মালিক। কমিটি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পুনর্বাসিতরা প্রতি মাসে সরকারকে এক হাজার ২০০ টাকা ভাড়া দেবে। কিন্তু সেটা তারা মানেনি। এই বৃষ্টিপাতের মধ্যেও তাদের জীবন রক্ষার জন্য সরে আসার অনুরোধ জানানো হলেও তারা আসতে চায় না। বরং উল্টো তেড়ে আসে।
তাই আমার মনে হয়, বসবাসকারীদের বুঝিয়ে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে হবে এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যদি কিছু জায়গা দেয়, সেখানে বহুতলবিশিষ্ট ভবন তৈরি করে এক হাজার ২০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা সমস্যা হবে না। এখানে বেশির ভাগ পাহাড় রেলওয়ের। তারা জমি দিলে পুনর্বাসনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন চিন্তা করতে পারে। সিটি করপোরেশন জনগণের সেবার জন্য। আজকের এই বৈঠকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যেকোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যেটুকু সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন, তা আমরা করব এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
আব্দুল কাইয়ুম
আমি গতকাল বিকেলে আকবর শাহ এলাকায় গিয়েছিলাম সেখানকার পরিস্থিতি দেখতে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে অবস্থা জানার চেষ্টা করেছি। তুহিনা বেগম নামে একজনের পরিবারের আটজন সদস্য দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে। তারা সবাই কাদামাটিতে প্রায় ডুবে গিয়েছিল। স্থানীয় লোকজন ও নিজ পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে উদ্ধার করেছে। তারা সবাই আতঙ্কে আছে। তারা বলছে, ‘একদিকে আমাদের ভূমিধসে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। এরপর উচ্ছেদ করে দিলে আমরা বাঁচব কী করে?’ আজ মেয়র মহোদয় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো খুবই মূল্যবান।
এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, বেলার উপদেষ্টা শফিক হায়দারকে বলার জন্য অনুরোধ করছি।
শফিক হায়দার চৌধুরী
কিছুক্ষণ আগে মেয়র মোহাম্মদ মন্জুর আলম পাহাড় কাটা সম্পর্কে কিছু কথা বলেছেন। আসলে একদল লোক পাহাড় কেটে মাটিগুলো নিয়ে যায় অন্য কোথাও ব্যবহার করার জন্য। অনেক সময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পাহাড়ের পাদদেশে কিছু লোককে বসানো হয়। এরা মধ্যস্বত্বভোগী। মাটি কাটার পর থাকার জায়গা নেই এমন কিছু গরিব মানুষকে অনেকটা দাওয়াত করেই নিয়ে যাওয়া হয়। তারা সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে থাকে। অথচ আমরা দুর্নীতির কথা বলার সময় মধ্যস্বত্বভোগীদের কথা কখনো উল্লেখ করি না। সংবাদপত্রেও তাদের কথা বা নাম আসে না। অথচ তারা নিজেদের কিছু আর্থিক সুবিধা এবং নানা কাজে ব্যবহারের জন্য এই গরিব মানুষগুলোকে জেনেশুনে মৃত্যুর ফাঁদে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে গরিব মানুষেরা বলে, ‘এরা (পাহাড়ে আশ্রয়দাতারা) আমাদের ত্রাণকর্তা। আমরা রাস্তার পাশে থাকতাম। এরা আমাদের সেখান থেকে এনে থাকার জায়গা দিয়েছে, পলিথিনের ছাদ দিয়ে হলেও আমরা থাকতে পারছি।’ কিন্তু এই ত্রাণের পেছনে তাদের লোভী রূপটা আশ্রিত ব্যক্তিরা দেখেনি।
আর এই পাহাড় কেটে সেখানে লোক রাখার পেছনে যারা কাজ করে, তারা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভোল পাল্টে ফেলে। এ ছাড়া নতুন সরকারের দলীয় লোক বা দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু লোক এসব কাজ করে। রাজনীতিক এবং প্রশাসন তাদের প্রশ্রয় দেয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত মানুষেরা এসব বিষয়ে সোচ্চার হই না কেন? মধ্যস্বত্বভোগীদের কেন আইনের আওতায় আনা হয় না? আলোচনায় এসব বিষয় আসা উচিত এবং এসব লোকের ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ কাজগুলো করতে না পারে, নির্দয়ভাবে কিছু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে না পারে।
জাহাঙ্গীর আলম
আসলে পাহাড় কাটা ও ধসের সমস্যাটা অনেক দিনের। এর কারণগুলো চিহ্নিত করার জন্য চট্টগ্রাম প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গত তিন বছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ১২টা পাহাড়ের ওপর একটা মূল্যায়ন করেছে। এতে পাহাড়গুলোর গঠন এবং তার প্রাকৃতিক অবস্থা তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, পাহাড়গুলো কেটে কেটে এমন অবস্থা করা হয়েছে যে একেকটা স্লোপ (ঢাল) ৮০ ডিগ্রির ওপর। এটাকে সাংঘাতিক ঢালু, ‘এক্সস্ট্রিম স্লোপ’ বলে। এগুলো আগে হালকা ঢালে, ‘মাইল্ড স্লোপে’ ছিল। কিন্তু কেটে কেটে এক্সস্ট্রিম করা হয়েছে যাতে সামান্য বৃষ্টি হলে এখানে ধস নামে এবং সহজে জমি তৈরি করা যায়।
পাহাড়ের ভেতরে সব বালুমাটি। ওপরের সব গাছ কেটে ফেলার কারণে সেখানে পকেট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভেতরে ঢুকে যায় এবং মাটি ধসে পড়ে। সেখান থেকে বেরোনোর কোনো ব্যবস্থা নেই।
এরপর জায়গার দখল বজায় রাখার জন্য চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘর বানিয়ে দরিদ্র মানুষকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। সেখানে পানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হয়েছে। আর সেখান থেকে ভাড়ার আয় যাচ্ছে বড়লোকদের কাছে।
এ সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আমাদের একটা পরামর্শ ছিল। সরকারি বা বেসরকারি মালিকানায় যার যে পাহাড়ই হোক না কেন, সেটাকে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পাহাড়ের পাশে লোক থাকলে তাকে সরানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমালিক বা সরকারি সংস্থার ওপর বর্তাবে।
২০০৭ সালে এই লোকজনকে একত্র করে কৈবল্য ধাম এবং হাটহাজারীতে গুচ্ছগ্রামের মতো করে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুই মাস ধরে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু একটা লোকও সেখানে যাওয়ার জন্য পাওয়া যায়নি।
তাই আগে পাহাড় কাটার জন্য দায়ীদের শাস্তি পেতে হবে। পাহাড়ের পাশে যাতে লোক থাকতে না পারে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পাহাড়ের পাশে বসবাসকারীদের সচেতন করে তুলতে হবে। সিটি করপোরেশন, সিডিএর লোকজনসহ সমাজের সচেতন নেতারা গিয়ে লোকজনকে বুঝিয়ে সরানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ নিয়ে কোনো রাজনীতি যাতে না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
আলী আশরাফ
এখানে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে যেসব কথা আলোচিত হচ্ছে, এ রকম কথা আগেও বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে হবে। সিডিএ, ওয়াসা, রেলওয়ে বা সিটি করপোরেশন যারা পাহাড়ের মালিক তারা দায়ী থাকবে।
কিন্তু এই লোকগুলো পাহাড়ে কেন আসছে এবং থাকছে সেটাও ভেবে দেখতে হবে। এরা মূলত উপকূলীয় এলাকা ভোলা, হাতিয়া, বরিশাল প্রভৃতি জেলার নদীভাঙনের শিকার হয়ে অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এখানে আসছে।
কাকতালীয়ভাবে হোক বা ভাগ্যক্রমে হোক চট্টগ্রামে পাহাড়সহ সরকারি জায়গার পরিমাণ বেশি। যেহেতু ব্যক্তিমালিকানার খালি জায়গায় থাকার জন্য ঘর করতে দেওয়া হয় না, তাই সরকারি জায়গাগুলোতে ওরা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেয়। বস্তিবাসীদের একটি বড় অংশ সেনানিবাস এলাকায়ও বাস করছে।
এখন দেখতে হবে পুনর্বাসনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে ফল কী হবে। কিছুদিন আগে আকবর শাহ এলাকায় ধস নামার পর সেদিন সেখানে মাইকিং করতে গেলে পাহাড়ের মালিক সিটি করপোরেশনের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।
ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, কৈবল্যধামে হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট বিশাল প্রকল্প করে ছোট ছোট প্লট দেওয়ার চেষ্টা করেছে গরিব মানুষকে। এখন খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সেই জমিগুলো তাদের হাতে নেই। কারণ ১০ টাকার জিনিসে ৫০ টাকা পেলে সেটা ওরা বিক্রি করবেই। তাই ওই সব জায়গার বেশির ভাগ চলে গেছে আমাদের মতো পরিচ্ছন্ন সচ্ছলদের হাতে।
এখন শোনা যাচ্ছে, বসবাসকারীদের হাটহাজারী কিংবা কৈবল্যধামে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু তারা সেখানে থাকবে না। কারণ তারা শহরকেন্দ্রিক, হাতের কাছে কর্মসংস্থান এবং কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকতে চায়। এ ছাড়া আমাদের আয়ের উৎস, কলকারাখানা, বন্দর অর্থাৎ অর্থনীতির চাকা এসব মানুষের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা সচল রাখার লক্ষ্যে এদের শহরে থাকতে দিতে হবে।
এই অবস্থায় আমার একটা প্রস্তাব আছে। পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা যেতে পারে।
রেলওয়ের ৩০-৪০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাঁচ শতাধিক একর জায়গা থেকে ২৫ একর জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে ছয়তলা পর্যন্ত বহুতল ভবন করে এসব মানুষকে রাখা যাবে। ২৫-৩০ কোটি টাকা খরচে এ ধরনের বহুতল ভবন করা সম্ভব। প্রস্তাবিত ভবনে আনা গেলে তাদের গণনায় ধরা যাবে, তাদের পরিচয়পত্র থাকবে।
কিন্তু এটা লোভনীয় হলে অপেক্ষাকৃত সচ্ছলরাও এখানে আসতে চাইবে। তাই প্রতিটি ঘরের আয়তন হবে ১৫০ বর্গফুট। কারণ তারা এখন যেসব বস্তিঘরে থাকে সেগুলো ১৫০ ফুটের বেশি নয়। ভবনের এক পাশে (কমন) সাধারণ শৌচাগার, আরেক পাশে রান্নাঘর। মালিকানা দিয়ে দিলে তারা একপর্যায়ে তা বিক্রি করে চলে যাবে। তাই মালিকানা দেওয়া যাবে না।
তারা যেমন বর্তমানে বস্তি এলাকায় ভাড়া দেয়, এখানেও সিটি করপোশেন, সিডিএ বা রেলওয়েকে ভাড়া দেবে। প্রয়োজন ফুরোলে এক পরিবার এখান থেকে চলে যাবে; অন্য এক পরিবারকে তা ভাড়ায় দেওয়া হবে।
আখতার কবির চৌধুরী
পাহাড়ধসে প্রতিবছরই মূল্যবান প্রাণহানি ঘটছে। কিন্তু এর প্রতিকারে আইনি ব্যবস্থা খুবই সীমিত। ১৯৯৫ সালে পরিবেশবিষয়ক আইন এবং ৯৭ সালে বিধি প্রণয়ন করার সময় পাহাড় কাটা সম্পর্কে ব্যাখ্যা ছিল না। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধন করে সরকারি-বেরসকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কাটার ব্যাপারে শাস্তির যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, প্রথমবার পাহাড় কাটার জন্য অনধিক দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। এই বিকল্প থাকার কারণে যারা পাহাড় কাটে তারা পার পেয়ে যায়।
২০১০ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে যে সংশোধন করা হয়েছে, তাতে শাস্তির বিধান রয়েছে দুই বছরের কারাদণ্ডের। সেটিও জামিনযোগ্য। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সহজে জামিন পাচ্ছে। অবস্থাপন্ন ব্যক্তিদের জেলহাজতে যাওয়াটা আত্মসম্মানে লাগে। তাই তারা বিধানের ‘অথবা’কে কাজে লাগিয়ে জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যায়। তাই উভয় দণ্ডের বিধান করলে সুফল কিছুটা হলেও পাওয়া যেত।
এ ছাড়া, দ্বিতীয়বার পাহাড় কাটার শাস্তি দুই থেকে ১০ বছর জেল অথবা দুই লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। এখানেও ‘অথবা’ দিয়ে শাস্তির বিধানকে দুর্বল করা হয়েছে। এ বিষয়টি যুগোপযোগী করে সংশোধন দরকার।
পুনর্বাসনের বিষয়ে আমার একটা কথা আছে। বলা হচ্ছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা কর্মসংস্থানের জন্য মানুষ শহরমুখী হচ্ছে, তারা আসতেই থাকবে। তাহলে পুনর্বাসনের পর অন্য খালি জায়গায় আর একটা গ্রুপ এসে অবস্থান নেবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই পাহাড় ব্যবস্থাপনাটা শক্তিশালী হতে হবে, যাতে পুনর্বাসনের পর নতুন লোক এসে খালি জায়গাগুলোতেও বসতি স্থাপন করতে না পারে। নইলে আর একটি সমস্যার জন্ম হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন আইন এবং আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে বলবেন নগর উপপুলিশ কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার।
বনজ কুমার মজুমদার
পাহাড় কাটার ব্যাপারে প্রথমে আমি একটু অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে চাই। ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রামে থাকার সময় লালখান বাজারের একটি ঘটনার পর আমরা সেখানে যাই। ভেতর দিকে গিয়ে দেখি, একটা পাহাড়ের সামনের দিকে পাহাড়ের অবয়ব থাকলেও পেছনের দিকে পাহাড় কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। সেখানে ভবন হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সবই গেছে। প্রশ্ন হতে পারে, বড় একটি পাহাড় কেটে এসব হলো—পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সিটি করপোরেশনের মাঠ পর্যায়ের লোকজন কি এসব জানে না? অবশ্যই জানে। আমি তো নিজে গিয়ে দেখেছি, সেখানে সিডিএর অনুমতি নিয়েই ঘর হয়েছে। আবার ২০০৮ সালে দেখেছি, পাহাড় কেটে চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাতে কেউ যেতে না পারে, তার জন্য আনসার মোতায়েন হয়েছে।
এসব বলছি, তার মানে আইনে বহু ফাঁক রয়েছে। এই দুর্বলতার কারণে পাহাড় রক্ষা বা ব্যবস্থাপনায় জড়িত সংস্থাগুলো পাহাড় কাটা ঠেকাতে পারে না। পুলিশ ইতিমধ্যে ৪৯টি মামলা করেছে। অভিযোগপত্র দিয়েছে ৪৬টির ব্যাপারে, ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে দুটি। পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা দিয়েছে আটটি। পাঁচটি অভিযোগপত্র দিয়েছে। সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসন কোনো মামলা করেনি।
পাহাড় কাটার পর প্রায় সমতল হয়ে গেলে সমস্ত প্রশাসন সেখানে যায়। এরপর দেখা যায় সিডিএর অনুমোদন, গ্যাস, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, পানি, রাস্তা সবই হয়। তাহলে পাহাড় কাটা হবে না কেন?
আমার কথা হলো, এত কিছু না করে সব সংস্থা মিলে একটা বিধি তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে। সেটি সংসদে পাস করতে হবে। শক্তিশালী আইন ছাড়া কিছু করা যাবে না।
এ ছাড়া, আইন অনুযায়ী পাহাড় যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকবে। কেউ কিছু করলে সেখানে কোনো দিন কোনো সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি কোনো কিছু সরবরাহ করতে পারবে না। তারপর পুনর্বাসনের কথা চিন্তা করা যায়। এ ব্যাপারে একটা ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করতে হবে। ম্যাপের বাইরে কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করা হলে তাকে আাাইনের আওতায় আনতে হবে।
মাহফুজুল হক শাহ
ইতিমধ্যে কারিগরি বিষয় এবং পাহাড়ধসের কারণগুলো আলোচনা হয়েছে। তাই সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। তবে পাহাড়ের মালিক সম্পর্কে আমার কিছু বক্তব্য আছে। এখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কম। সরকারি সংস্থাগুলোর পাহাড় বেশি।
২০০৮ সালে পাহাড়ধস-বিষয়ক একটি কমিটি হয়েছিল। এতে চেম্বারের পক্ষ থেকে আমিও সদস্য ছিলাম। দেখেছি বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত চার বছরে সেসব বিশ্লেষণ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
পুনর্বাসনের ব্যাপারে মেয়র মহোদয়সহ অন্যরা যা বলেছেন, তা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। এটা আজকে শুরু হলেও পাঁচ-সাত বছর পর হয়তো বাস্তবায়িত হবে। তাও যদি অর্থের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। এর আগে সিডিএ ও সিটি করপোরেশন ন্যাড়া পাহাড়গুলোতে বনায়নের উদ্যোগ নিতে পারে।
আর একটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার। সেটা হলো, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা অনেক সময় বস্তিবাসীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে এমনকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করে। এসব বিষয়ে নেতাদের নজর দিতে হবে। যেকোনো পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হলে তাতে সুফল বেশি পাওয়া যায়। বিষয়টি মাথায় রাখার অনুরোধ করছি।
বিধান বড়ুয়া
চট্টগ্রাম শহরের জায়গাগুলো তিন ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ রেলওয়ের, এক ভাগ সিটি করপোরেশনের এবং আর এক ভাগ সেনাবাহিনীর।
আমাদের বোঝা দরকার যে পাহাড় কেটে বসবাসকারীদের সেবা আমরা নগরবাসী ব্যবহার করি। নগরে যেমন আমাদের ওদের প্রয়োজন, তেমনি আমাদেরকেও ওদের প্রয়োজন। এ জন্যই ওরা এখানে থাকে। পাহাড়ের পাশে থাকাটা যে বিপজ্জনক, সেটা তারাও জানে।
অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। পাহাড়ধসে বছরে আনুমানিক ১০০ জন মারা যায়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় প্রায় চার হাজার। তাই বিষয়টি সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে এবং সামাজিক সাম্য মাথায় রেখে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
পুনর্বাসন সহজ ব্যাপার নয়। সেখানেও অর্থের প্রয়োজন। তাই গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। শহরে এত সমস্যার মূল কারণ জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যা কমাতে হবে। মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর ভিত্তি হবে অর্থবহ প্রাথমিক শিক্ষা। মানুষের শহরমুখিনতা ঠেকানোর জন্য স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হবে।
মুহাম্মদ সিকান্দার খান
আমার মতে, আলোচকেরা সরাসরি গুরুত্ব দেননি এমন একটা পক্ষ হচ্ছে রাজনৈতিক পক্ষ। দেশের জনগণ রাজনীতিকদের পাঁচ বছরের জন্য অভিভাবকের দায়িত্ব দিয়েছে। তারা যদি বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে আমানতের খেয়ানত হচ্ছে কি না দেখত, তা হলে এ অবস্থা হতো না। আবার আমরাও এই দায়িত্বপ্রাপ্তদের পেছনে লেগে থেকে তাঁদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিচ্ছি না। এটা আমাদের দোষ। দেশের নাগরিক সমাজ ও সুশীল সমাজকে রাজনীতিবিদদের পেছনে লেগে থেকে তাঁদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি সরকারকেও সতর্ক করতে হবে।
সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সামাজিক ব্যবসা আমাদের দেশের উপকারে আসতে পারে। দশের উপকার করতে হলে ভালো হাউজিং কোম্পানি গড়ে তুলতে হবে। আমাদের হাউজিং কোম্পানি বানানোর সুযোগ দেওয়া হোক। এটা হবে সোস্যাল হাউজিং কোম্পানি। সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি গ্রুপভিত্তিক ব্যবসা করবে। তাঁরা ক্ষতিও করবেন না আবার পকেটে করে টাকা নিয়ে বাড়িতেও চলে যাবেন না। এখানে যাঁরা জড়িত হবেন, তাঁরা অন্য কোনো কোম্পানিতে কাজ করে যে রকম বেতন-সম্মানী পেতেন, এখান থেকেও তাই নেবেন।
আব্দুল কাইয়ুম
নতুন একটা ধারণা পাওয়া গেল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ ব্যাপারে অগ্রসর হতে হবে। এখন অনুরোধ করছি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. জাফর আলমকে।
জাফর আলম
চট্টগ্রামে ২০০৭ সাল থেকে প্রশাসনের লোকজন এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত, আমিও এর সঙ্গে জড়িত। ২০০৭ সালের কমিটি সুপারিশ করেছিল অনেক বিষয়। পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও সেখানে ছিল। ২০০৮ সালে একটা প্ল্যান হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটি আর এগোয়নি।
গতকালের এক মিটিংয়ে বলা হয়েছে, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন ছাড়া কিছুই করতে পারে না। কিন্তু কমিটি একেবারে কিছুই করেনি, এই সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়। কমিটিতে যাঁরা আছেন, তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে এ পর্যায়ে এসেছেন। আসলে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন। কমিটি এত অর্থ জোগাড় করতে পারে না। এটি সম্ভব যদি সরকার জোগান দিতে পারে।
আসলে চট্টগ্রামে ভূমিধস নতুন বিষয় নয়। কারণ এখানে ভূমির যে গঠন, তাতে বালু ও কাদার মিশ্রণ রয়েছে। এতে যদি ১৫০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে ধস নামবে।
গত ২৬ জুন চট্টগ্রামে প্রায় ১৫০-২০০ জায়গায় ধস নেমেছে। কিন্তু মানুষ মারা গেছে মাত্র দুটি জায়গায়। কারণ হচ্ছে, এরা পাহাড়ের পাদদেশে ছিল। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাদদেশে মানুষ থাকতে পারবে না।
আমরা দেখছি পাহাড় কাটা, ভারী বৃষ্টিপাত এবং মাটির গঠন, এই তিনটা বিষয় একসঙ্গে হলে এবং ওই সময় পাহাড়ে মানুষ থাকলে তারা মারা যাবে। এই যে বাটালি হিল ৯০ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়ে আছে, সেটি যদি কখনো ভেঙে পড়ে, তার নিচে এক-দেড় কিলোমিটারজুড়ে কলোনির বাসিন্দাদের অবস্থা হবে করুণ। তাই পাহাড় কিংবা পাহাড়ের পাদদেশ থেকে এই মুহূর্তে নির্দয়ভাবে লোকজনকে সরাতে হবে।
আইনের দুর্বলতাগুলোও দূর করা দরকার। আকবর শাহ পাহাড়ের ব্যাপারে একটি রিট মামলার আদেশের কারণে সেখানকার বস্তিগুলো উচ্ছেদ করা যাবে না। এবার ধসের সময় সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে মাইকিং করতে গেলে দা নিয়ে তেড়ে আসে লোকজন।
প্রায়ই পাহাড় কাটা হয় রাতে। আগে একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয়। সেখানে যারা কাজ করে তারা দীনহীন। তাদের পাশে আর একটি ঘর তৈরি করে থাকতে দেওয়া হয়। সেখানে গেলে মালিক পাওয়া যায় না। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কিংবা হলফনামা দিয়ে মালিকানার দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে কৌশলে কাজ করা হয়। একেকটা জায়গা নিয়ে চার-পাঁচটা হলফনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) পর্যন্ত করা হয়।
আমার প্রস্তাব হলো, যে পাহাড়গুলো কাটা হয়েছে সেগুলোর উচ্চতা বজায় রেখে রক্ষণাবেক্ষণ করা। এ ব্যাপারে করণীয় আমাদের ঠিক করা আছে। প্রয়োজন অর্থ বরাদ্দের। রেলওয়ের ২৫ একর জায়গা পাওয়া সাপেক্ষ পুনর্বাসনের ব্যাপারে প্রস্তাবটি ভালো লেগেছে। আমলাতন্ত্রের লোক হলেও আমি বিশ্বাস করি, স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করা না গেলে সমস্যার কার্যকর সমাধান করা যাবে না।
আবদুচ ছালাম
আমরা সবাই জানি, চুরি করলে শাস্তি হয়। তার পরও আমরা ঘরে শক্ত তালা দিয়ে রাখি, যাতে চোরের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি।
আপনারা দেখছেন, যেসব পাহাড়ের ওপর স্থাপনা আছে সেখানে পাহাড় এখন কাটা হয় না। কোর্ট বিল্ডিং, ইস্পাহানি বিল্ডিং, ডিসির পাহাড়, বাটালি হিল এবং বায়েজিদ বোস্তামির পাহাড়ে স্থাপনা থাকায় সেগুলো কাটা হয় না।
পাহাড় কাটা বন্ধে আমার প্রথম প্রস্তাব হলো, মজবুত আইন তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে। যেসব কারণে পাহাড় কাটা হয় সেসব কারণ দূর করতে হলে শক্ত আইনের বিধান করতে হবে। কীভাবে সেটা হবে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
আমার মতে, মালিকানাবিহীন কোনো পাহাড় নেই, সেটি রেলওয়ে হোক, ওয়াসা হোক কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন। মালিকানাধীন হলে আইনের প্রয়োগটা কার ওপরে হবে। জাহাঙ্গীর সাহেব বলেছেন, প্রয়োগ হবে পাহাড় যার, তার ওপর। যারা সেখানে থাকে কিংবা পাহাড় কাটে তারা মালিক নয় ঠিক। কিন্তু মালিক চিহ্নিত করা কঠিন নয়। তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ তাদের ওপর করতে হবে। আরও কঠিন প্রস্তাব হলো পাহাড় বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন অনুরোধ করছি প্রাক্তন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার জন্য।
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী
আজকের আলোচ্য বিষয়ের মূল কথা হলো, পাহাড়ধসে যারা মারা যাচ্ছে আর যারা পাহাড় কাটছে তাদের চিহ্নিত করে পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর উপায় খুঁজে বের করা। এ ব্যাপারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
পাহাড় কাটা বন্ধের জন্য উত্তম হলো আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। কিন্তু এ দেশের আইন খুব হালকা। তাই পাহাড় কাটা বন্ধের জন্য উপযুক্ত আইন তৈরি করতে হবে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা ভূমিহীন নয় বরং ভাড়াটিয়া। কিছু মাস্তান পাহাড়ি এলাকায় ঘর তৈরি করে ভাড়া দেয়। ঘর তৈরিকারীরা ভূমিসন্ত্রাসী। গরিব অসহায়, রিকশাচালক, ঠেলাগাড়িচালক, গার্মেন্টেসের চাকরিজীবীরা সেখানে স্বল্প ভাড়ায় থাকার সুযোগ নেয়। কম ভাড়ায় শহরে থাকার সুযোগ সবাই চায়। তাই প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে আইনের মাধ্যমে ভূমিদস্যুদের গ্রেপ্তার এবং সেখানে যাতে কোনো স্থাপনা না থাকে এবং কেউ ঘর তৈরি করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বল্প সময়ের এই প্রস্তাব কার্যকর করতে পারলে পরবর্তী সময়ে আর খুব বেশি সমস্যা হবে না।
এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের তুলে দিয়ে তাদের রেলওয়ের খালি জায়গায় অস্থায়ীভাবে হলেও ঘর তৈরি করে দিয়ে আপাতত থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কম খরচে থাকতে আগ্রহীদের বড় অংশ পোশাককর্মী। তাঁদের জন্য শহরে ডরমেটরি করে দিতে মালিকদের প্রতি অনুরোধ করা যায়। ডরমেটরিতে কম খরচে থাকার সুযোগ পেলে তাঁদের একটি বড় অংশ সেখানে চলে যাবে। এ ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা নেওয়া হলে গরিব মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।
আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বলতে হবে। স্থানীয় সরকারকে টাকা বরাদ্দ দিলে সিটি করপোরেশন তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে পারে। আমি মনে করি। দায়িত্ব নেওয়ার সেই যোগ্যতা সিটি করপোরেশনের আছে।
মোহাম্মদ মন্জুর আলম
আমি শুরুতে বক্তব্য দিয়েছি। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদসহ সাবেক মেয়র মূল্যবান বক্তব্য ও পরামর্শ দিয়েছেন।
যারা সেখানে বসবাস করে তারা আমাদের সমাজের গরিব একটি অংশ। তাদের পুনর্বাসনের জন্য সাবেক মেয়র মহোদয় যে প্রস্তাব দিয়েছেন, রেলওয়ের প্রতি ২৫ একর জমি দানের ব্যাপারে যে প্রস্তাব এসেছে, তা গ্রহণ করা হলে আমার মনে হয় সিটি করপোরেশন সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে। এ রকম আরও আলোচনার উদ্যোগ আমরা নেব। সবাইকে ধন্যবাদ।
আব্দুল কাইয়ুম
আজকের আলোচনায় বেশ কয়েকটি কার্যকর সুপারিশ এসেছে। সরকার ও কর্তৃপক্ষ সেগুলো নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেবে। ভবিষ্যতে যেন আবার কোনো পাহাড়ধসে কাউকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
মোহাম্মদ মন্জুর আলম
মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী
সাবেক মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
আবদুচ ছালাম
চেয়ারম্যান, সিডিএ
মুহাম্মদ সিকান্দার খান
উপাচার্য, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম
জাহাঙ্গীর আলম
উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
শফিক হায়দার চৌধুরী
অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বিধান বড়ুয়া
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ
আলী আশরাফ
প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদ
জাফর আলম
পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম
আখতার কবির চৌধুরী
আইনজীবী
বনজ কুমার মজুমদার
উপপুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ
মাহফুজুল হক শাহ
পরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো।
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
প্রথম আলো আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। চট্টগ্রাম শহর পৃথিবীর সেই বিরল শহরের একটি—যেখানে পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও অরণ্যের সমাহার ঘটেছে। কিন্তু প্রকৃতির এই অপার, উদার উপহার আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তাই আমাদের সম্পদই আমাদের কাছে বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পাহাড়ধসে গণমৃত্যুর ব্যাপারটি প্রায় নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৭ সালে পাহাড়ধসে ১২০ জনের মৃত্যুর পর গঠিত হয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা পরিষদ। তারা নানা রকম সভা ও সিদ্ধান্ত নিলেও আমাদের দুর্ভাগ্য ঠেকানো যায়নি। কয়েক দিন আগেও ঘটে গেল ভয়াবহ এক দুর্যোগ। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য আজকের এ আয়োজন। আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এখানে আসার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আব্দুল কাইয়ুম
আমি শুরুতে চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার-বান্দরবানে পাহাড়ধসে যারা মারা গেছেন তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের পরিবার-পরিজন শোক কাটিয়ে উঠুক, এই আমাদের একান্ত কামনা।
আমরা প্রথম আলোর পক্ষ থেকে পত্রিকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ-দুর্দশায়ও পাশে গিয়ে দাঁড়াই। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করি, এসিডদগ্ধদের পাশে দাঁড়াই, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে তাদের উৎসাহিত করি। আজকে এসেছি এখানে বারবার পাহাড়ধসের কারণগুলো চিহ্নিত করে এর প্রতিরোধে করণীয় কী, সে ব্যাপারে কিছু দিকনির্দেশনা বের করতে। আপনাদের আলোচনায় সেই নির্দেশনা বেরিয়ে আসবে। আমরা কিছু বাড়িয়েও বলব না, আবার প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানিতে সত্য বলা থেকে বিরতও থাকব না। এখানে বর্তমান মেয়র, সাবেক মেয়র, নগর পরিকল্পনাবিদ, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, শিক্ষকসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আছেন। প্রথমে আমি অনুরোধ করছি মাননীয় মেয়র মোহাম্মদ মন্জুর আলমকে তাঁর বক্তব্য শুরু করতে।
মোহাম্মদ মন্জুর আলম
২০০৭ সালে আমি সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকাকালে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক নারী-পুরুষ মৃত্যুবরণ করে। আমরা খবর পেয়েছিলাম সকালে। ঘটনাস্থল এমন জায়গায় ছিল যে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে সেখানে আমাদের যাওয়াটা ছিল দুঃসাধ্য। ২০০৭ সালে যে কমিটি হয়েছে, এতে সিডিএ, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং অন্য সংস্থা আছে।
এই কমিটি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন রকমের সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন হলো, পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে কে? পাহাড়ের মালিক অন্যজন। বিশেষত শহরের বেশির ভাগ পাহাড়ের মালিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। এর মধ্যে বেশির ভাগ রেলওয়ের। এ ছাড়া ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, পূর্ত বিভাগ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু পাহাড়ও আছে। এর স্থায়ী সমাধান হোক সেটা সিটি করপোরেশন চায়। কিন্তু কিছু করতে হলে সমন্বিতভাবে করতে হবে। পাহাড়ের মালিক ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা রোধের জন্য বসবাসকারী এক হাজার ৩০০ পরিবারের পুনর্বাসন জরুরি। সিটি করপোরেশনের একটি পাহাড়ে ১৬০টি পরিবার বসবাস করে। আমরা তাদের পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রতিটি পরিবারকে ২৫০ বর্গফুটের একটি করে ঘর ১৫ বছর মেয়াদে প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধের শর্তে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
অন্যান্য সংস্থাকেও আমরা আহ্বান করেছিলাম। প্রশ্ন আসে, এখানে লাভবান কে হবে। বসবাসকারী ভাড়াটিয়া, মাঝখানে জমিদার না পাহাড়ের মালিক। কমিটি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পুনর্বাসিতরা প্রতি মাসে সরকারকে এক হাজার ২০০ টাকা ভাড়া দেবে। কিন্তু সেটা তারা মানেনি। এই বৃষ্টিপাতের মধ্যেও তাদের জীবন রক্ষার জন্য সরে আসার অনুরোধ জানানো হলেও তারা আসতে চায় না। বরং উল্টো তেড়ে আসে।
তাই আমার মনে হয়, বসবাসকারীদের বুঝিয়ে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে হবে এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যদি কিছু জায়গা দেয়, সেখানে বহুতলবিশিষ্ট ভবন তৈরি করে এক হাজার ২০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা সমস্যা হবে না। এখানে বেশির ভাগ পাহাড় রেলওয়ের। তারা জমি দিলে পুনর্বাসনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন চিন্তা করতে পারে। সিটি করপোরেশন জনগণের সেবার জন্য। আজকের এই বৈঠকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যেকোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যেটুকু সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন, তা আমরা করব এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
আব্দুল কাইয়ুম
আমি গতকাল বিকেলে আকবর শাহ এলাকায় গিয়েছিলাম সেখানকার পরিস্থিতি দেখতে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে অবস্থা জানার চেষ্টা করেছি। তুহিনা বেগম নামে একজনের পরিবারের আটজন সদস্য দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে। তারা সবাই কাদামাটিতে প্রায় ডুবে গিয়েছিল। স্থানীয় লোকজন ও নিজ পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে উদ্ধার করেছে। তারা সবাই আতঙ্কে আছে। তারা বলছে, ‘একদিকে আমাদের ভূমিধসে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। এরপর উচ্ছেদ করে দিলে আমরা বাঁচব কী করে?’ আজ মেয়র মহোদয় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো খুবই মূল্যবান।
এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, বেলার উপদেষ্টা শফিক হায়দারকে বলার জন্য অনুরোধ করছি।
শফিক হায়দার চৌধুরী
কিছুক্ষণ আগে মেয়র মোহাম্মদ মন্জুর আলম পাহাড় কাটা সম্পর্কে কিছু কথা বলেছেন। আসলে একদল লোক পাহাড় কেটে মাটিগুলো নিয়ে যায় অন্য কোথাও ব্যবহার করার জন্য। অনেক সময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পাহাড়ের পাদদেশে কিছু লোককে বসানো হয়। এরা মধ্যস্বত্বভোগী। মাটি কাটার পর থাকার জায়গা নেই এমন কিছু গরিব মানুষকে অনেকটা দাওয়াত করেই নিয়ে যাওয়া হয়। তারা সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে থাকে। অথচ আমরা দুর্নীতির কথা বলার সময় মধ্যস্বত্বভোগীদের কথা কখনো উল্লেখ করি না। সংবাদপত্রেও তাদের কথা বা নাম আসে না। অথচ তারা নিজেদের কিছু আর্থিক সুবিধা এবং নানা কাজে ব্যবহারের জন্য এই গরিব মানুষগুলোকে জেনেশুনে মৃত্যুর ফাঁদে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে গরিব মানুষেরা বলে, ‘এরা (পাহাড়ে আশ্রয়দাতারা) আমাদের ত্রাণকর্তা। আমরা রাস্তার পাশে থাকতাম। এরা আমাদের সেখান থেকে এনে থাকার জায়গা দিয়েছে, পলিথিনের ছাদ দিয়ে হলেও আমরা থাকতে পারছি।’ কিন্তু এই ত্রাণের পেছনে তাদের লোভী রূপটা আশ্রিত ব্যক্তিরা দেখেনি।
আর এই পাহাড় কেটে সেখানে লোক রাখার পেছনে যারা কাজ করে, তারা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভোল পাল্টে ফেলে। এ ছাড়া নতুন সরকারের দলীয় লোক বা দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু লোক এসব কাজ করে। রাজনীতিক এবং প্রশাসন তাদের প্রশ্রয় দেয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত মানুষেরা এসব বিষয়ে সোচ্চার হই না কেন? মধ্যস্বত্বভোগীদের কেন আইনের আওতায় আনা হয় না? আলোচনায় এসব বিষয় আসা উচিত এবং এসব লোকের ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ কাজগুলো করতে না পারে, নির্দয়ভাবে কিছু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে না পারে।
জাহাঙ্গীর আলম
আসলে পাহাড় কাটা ও ধসের সমস্যাটা অনেক দিনের। এর কারণগুলো চিহ্নিত করার জন্য চট্টগ্রাম প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গত তিন বছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ১২টা পাহাড়ের ওপর একটা মূল্যায়ন করেছে। এতে পাহাড়গুলোর গঠন এবং তার প্রাকৃতিক অবস্থা তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, পাহাড়গুলো কেটে কেটে এমন অবস্থা করা হয়েছে যে একেকটা স্লোপ (ঢাল) ৮০ ডিগ্রির ওপর। এটাকে সাংঘাতিক ঢালু, ‘এক্সস্ট্রিম স্লোপ’ বলে। এগুলো আগে হালকা ঢালে, ‘মাইল্ড স্লোপে’ ছিল। কিন্তু কেটে কেটে এক্সস্ট্রিম করা হয়েছে যাতে সামান্য বৃষ্টি হলে এখানে ধস নামে এবং সহজে জমি তৈরি করা যায়।
পাহাড়ের ভেতরে সব বালুমাটি। ওপরের সব গাছ কেটে ফেলার কারণে সেখানে পকেট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভেতরে ঢুকে যায় এবং মাটি ধসে পড়ে। সেখান থেকে বেরোনোর কোনো ব্যবস্থা নেই।
এরপর জায়গার দখল বজায় রাখার জন্য চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘর বানিয়ে দরিদ্র মানুষকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। সেখানে পানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হয়েছে। আর সেখান থেকে ভাড়ার আয় যাচ্ছে বড়লোকদের কাছে।
এ সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আমাদের একটা পরামর্শ ছিল। সরকারি বা বেসরকারি মালিকানায় যার যে পাহাড়ই হোক না কেন, সেটাকে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পাহাড়ের পাশে লোক থাকলে তাকে সরানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমালিক বা সরকারি সংস্থার ওপর বর্তাবে।
২০০৭ সালে এই লোকজনকে একত্র করে কৈবল্য ধাম এবং হাটহাজারীতে গুচ্ছগ্রামের মতো করে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুই মাস ধরে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু একটা লোকও সেখানে যাওয়ার জন্য পাওয়া যায়নি।
তাই আগে পাহাড় কাটার জন্য দায়ীদের শাস্তি পেতে হবে। পাহাড়ের পাশে যাতে লোক থাকতে না পারে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পাহাড়ের পাশে বসবাসকারীদের সচেতন করে তুলতে হবে। সিটি করপোরেশন, সিডিএর লোকজনসহ সমাজের সচেতন নেতারা গিয়ে লোকজনকে বুঝিয়ে সরানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ নিয়ে কোনো রাজনীতি যাতে না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
আলী আশরাফ
এখানে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে যেসব কথা আলোচিত হচ্ছে, এ রকম কথা আগেও বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে হবে। সিডিএ, ওয়াসা, রেলওয়ে বা সিটি করপোরেশন যারা পাহাড়ের মালিক তারা দায়ী থাকবে।
কিন্তু এই লোকগুলো পাহাড়ে কেন আসছে এবং থাকছে সেটাও ভেবে দেখতে হবে। এরা মূলত উপকূলীয় এলাকা ভোলা, হাতিয়া, বরিশাল প্রভৃতি জেলার নদীভাঙনের শিকার হয়ে অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এখানে আসছে।
কাকতালীয়ভাবে হোক বা ভাগ্যক্রমে হোক চট্টগ্রামে পাহাড়সহ সরকারি জায়গার পরিমাণ বেশি। যেহেতু ব্যক্তিমালিকানার খালি জায়গায় থাকার জন্য ঘর করতে দেওয়া হয় না, তাই সরকারি জায়গাগুলোতে ওরা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেয়। বস্তিবাসীদের একটি বড় অংশ সেনানিবাস এলাকায়ও বাস করছে।
এখন দেখতে হবে পুনর্বাসনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে ফল কী হবে। কিছুদিন আগে আকবর শাহ এলাকায় ধস নামার পর সেদিন সেখানে মাইকিং করতে গেলে পাহাড়ের মালিক সিটি করপোরেশনের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।
ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, কৈবল্যধামে হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট বিশাল প্রকল্প করে ছোট ছোট প্লট দেওয়ার চেষ্টা করেছে গরিব মানুষকে। এখন খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সেই জমিগুলো তাদের হাতে নেই। কারণ ১০ টাকার জিনিসে ৫০ টাকা পেলে সেটা ওরা বিক্রি করবেই। তাই ওই সব জায়গার বেশির ভাগ চলে গেছে আমাদের মতো পরিচ্ছন্ন সচ্ছলদের হাতে।
এখন শোনা যাচ্ছে, বসবাসকারীদের হাটহাজারী কিংবা কৈবল্যধামে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু তারা সেখানে থাকবে না। কারণ তারা শহরকেন্দ্রিক, হাতের কাছে কর্মসংস্থান এবং কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকতে চায়। এ ছাড়া আমাদের আয়ের উৎস, কলকারাখানা, বন্দর অর্থাৎ অর্থনীতির চাকা এসব মানুষের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা সচল রাখার লক্ষ্যে এদের শহরে থাকতে দিতে হবে।
এই অবস্থায় আমার একটা প্রস্তাব আছে। পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা যেতে পারে।
রেলওয়ের ৩০-৪০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাঁচ শতাধিক একর জায়গা থেকে ২৫ একর জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে ছয়তলা পর্যন্ত বহুতল ভবন করে এসব মানুষকে রাখা যাবে। ২৫-৩০ কোটি টাকা খরচে এ ধরনের বহুতল ভবন করা সম্ভব। প্রস্তাবিত ভবনে আনা গেলে তাদের গণনায় ধরা যাবে, তাদের পরিচয়পত্র থাকবে।
কিন্তু এটা লোভনীয় হলে অপেক্ষাকৃত সচ্ছলরাও এখানে আসতে চাইবে। তাই প্রতিটি ঘরের আয়তন হবে ১৫০ বর্গফুট। কারণ তারা এখন যেসব বস্তিঘরে থাকে সেগুলো ১৫০ ফুটের বেশি নয়। ভবনের এক পাশে (কমন) সাধারণ শৌচাগার, আরেক পাশে রান্নাঘর। মালিকানা দিয়ে দিলে তারা একপর্যায়ে তা বিক্রি করে চলে যাবে। তাই মালিকানা দেওয়া যাবে না।
তারা যেমন বর্তমানে বস্তি এলাকায় ভাড়া দেয়, এখানেও সিটি করপোশেন, সিডিএ বা রেলওয়েকে ভাড়া দেবে। প্রয়োজন ফুরোলে এক পরিবার এখান থেকে চলে যাবে; অন্য এক পরিবারকে তা ভাড়ায় দেওয়া হবে।
আখতার কবির চৌধুরী
পাহাড়ধসে প্রতিবছরই মূল্যবান প্রাণহানি ঘটছে। কিন্তু এর প্রতিকারে আইনি ব্যবস্থা খুবই সীমিত। ১৯৯৫ সালে পরিবেশবিষয়ক আইন এবং ৯৭ সালে বিধি প্রণয়ন করার সময় পাহাড় কাটা সম্পর্কে ব্যাখ্যা ছিল না। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধন করে সরকারি-বেরসকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কাটার ব্যাপারে শাস্তির যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, প্রথমবার পাহাড় কাটার জন্য অনধিক দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। এই বিকল্প থাকার কারণে যারা পাহাড় কাটে তারা পার পেয়ে যায়।
২০১০ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে যে সংশোধন করা হয়েছে, তাতে শাস্তির বিধান রয়েছে দুই বছরের কারাদণ্ডের। সেটিও জামিনযোগ্য। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সহজে জামিন পাচ্ছে। অবস্থাপন্ন ব্যক্তিদের জেলহাজতে যাওয়াটা আত্মসম্মানে লাগে। তাই তারা বিধানের ‘অথবা’কে কাজে লাগিয়ে জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যায়। তাই উভয় দণ্ডের বিধান করলে সুফল কিছুটা হলেও পাওয়া যেত।
এ ছাড়া, দ্বিতীয়বার পাহাড় কাটার শাস্তি দুই থেকে ১০ বছর জেল অথবা দুই লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। এখানেও ‘অথবা’ দিয়ে শাস্তির বিধানকে দুর্বল করা হয়েছে। এ বিষয়টি যুগোপযোগী করে সংশোধন দরকার।
পুনর্বাসনের বিষয়ে আমার একটা কথা আছে। বলা হচ্ছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা কর্মসংস্থানের জন্য মানুষ শহরমুখী হচ্ছে, তারা আসতেই থাকবে। তাহলে পুনর্বাসনের পর অন্য খালি জায়গায় আর একটা গ্রুপ এসে অবস্থান নেবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই পাহাড় ব্যবস্থাপনাটা শক্তিশালী হতে হবে, যাতে পুনর্বাসনের পর নতুন লোক এসে খালি জায়গাগুলোতেও বসতি স্থাপন করতে না পারে। নইলে আর একটি সমস্যার জন্ম হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন আইন এবং আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে বলবেন নগর উপপুলিশ কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার।
বনজ কুমার মজুমদার
পাহাড় কাটার ব্যাপারে প্রথমে আমি একটু অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে চাই। ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রামে থাকার সময় লালখান বাজারের একটি ঘটনার পর আমরা সেখানে যাই। ভেতর দিকে গিয়ে দেখি, একটা পাহাড়ের সামনের দিকে পাহাড়ের অবয়ব থাকলেও পেছনের দিকে পাহাড় কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। সেখানে ভবন হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সবই গেছে। প্রশ্ন হতে পারে, বড় একটি পাহাড় কেটে এসব হলো—পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সিটি করপোরেশনের মাঠ পর্যায়ের লোকজন কি এসব জানে না? অবশ্যই জানে। আমি তো নিজে গিয়ে দেখেছি, সেখানে সিডিএর অনুমতি নিয়েই ঘর হয়েছে। আবার ২০০৮ সালে দেখেছি, পাহাড় কেটে চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাতে কেউ যেতে না পারে, তার জন্য আনসার মোতায়েন হয়েছে।
এসব বলছি, তার মানে আইনে বহু ফাঁক রয়েছে। এই দুর্বলতার কারণে পাহাড় রক্ষা বা ব্যবস্থাপনায় জড়িত সংস্থাগুলো পাহাড় কাটা ঠেকাতে পারে না। পুলিশ ইতিমধ্যে ৪৯টি মামলা করেছে। অভিযোগপত্র দিয়েছে ৪৬টির ব্যাপারে, ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে দুটি। পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা দিয়েছে আটটি। পাঁচটি অভিযোগপত্র দিয়েছে। সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসন কোনো মামলা করেনি।
পাহাড় কাটার পর প্রায় সমতল হয়ে গেলে সমস্ত প্রশাসন সেখানে যায়। এরপর দেখা যায় সিডিএর অনুমোদন, গ্যাস, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, পানি, রাস্তা সবই হয়। তাহলে পাহাড় কাটা হবে না কেন?
আমার কথা হলো, এত কিছু না করে সব সংস্থা মিলে একটা বিধি তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে। সেটি সংসদে পাস করতে হবে। শক্তিশালী আইন ছাড়া কিছু করা যাবে না।
এ ছাড়া, আইন অনুযায়ী পাহাড় যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকবে। কেউ কিছু করলে সেখানে কোনো দিন কোনো সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি কোনো কিছু সরবরাহ করতে পারবে না। তারপর পুনর্বাসনের কথা চিন্তা করা যায়। এ ব্যাপারে একটা ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করতে হবে। ম্যাপের বাইরে কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করা হলে তাকে আাাইনের আওতায় আনতে হবে।
মাহফুজুল হক শাহ
ইতিমধ্যে কারিগরি বিষয় এবং পাহাড়ধসের কারণগুলো আলোচনা হয়েছে। তাই সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। তবে পাহাড়ের মালিক সম্পর্কে আমার কিছু বক্তব্য আছে। এখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কম। সরকারি সংস্থাগুলোর পাহাড় বেশি।
২০০৮ সালে পাহাড়ধস-বিষয়ক একটি কমিটি হয়েছিল। এতে চেম্বারের পক্ষ থেকে আমিও সদস্য ছিলাম। দেখেছি বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত চার বছরে সেসব বিশ্লেষণ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
পুনর্বাসনের ব্যাপারে মেয়র মহোদয়সহ অন্যরা যা বলেছেন, তা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। এটা আজকে শুরু হলেও পাঁচ-সাত বছর পর হয়তো বাস্তবায়িত হবে। তাও যদি অর্থের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। এর আগে সিডিএ ও সিটি করপোরেশন ন্যাড়া পাহাড়গুলোতে বনায়নের উদ্যোগ নিতে পারে।
আর একটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার। সেটা হলো, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা অনেক সময় বস্তিবাসীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে এমনকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করে। এসব বিষয়ে নেতাদের নজর দিতে হবে। যেকোনো পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হলে তাতে সুফল বেশি পাওয়া যায়। বিষয়টি মাথায় রাখার অনুরোধ করছি।
বিধান বড়ুয়া
চট্টগ্রাম শহরের জায়গাগুলো তিন ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ রেলওয়ের, এক ভাগ সিটি করপোরেশনের এবং আর এক ভাগ সেনাবাহিনীর।
আমাদের বোঝা দরকার যে পাহাড় কেটে বসবাসকারীদের সেবা আমরা নগরবাসী ব্যবহার করি। নগরে যেমন আমাদের ওদের প্রয়োজন, তেমনি আমাদেরকেও ওদের প্রয়োজন। এ জন্যই ওরা এখানে থাকে। পাহাড়ের পাশে থাকাটা যে বিপজ্জনক, সেটা তারাও জানে।
অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। পাহাড়ধসে বছরে আনুমানিক ১০০ জন মারা যায়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় প্রায় চার হাজার। তাই বিষয়টি সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে এবং সামাজিক সাম্য মাথায় রেখে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
পুনর্বাসন সহজ ব্যাপার নয়। সেখানেও অর্থের প্রয়োজন। তাই গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। শহরে এত সমস্যার মূল কারণ জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যা কমাতে হবে। মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর ভিত্তি হবে অর্থবহ প্রাথমিক শিক্ষা। মানুষের শহরমুখিনতা ঠেকানোর জন্য স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হবে।
মুহাম্মদ সিকান্দার খান
আমার মতে, আলোচকেরা সরাসরি গুরুত্ব দেননি এমন একটা পক্ষ হচ্ছে রাজনৈতিক পক্ষ। দেশের জনগণ রাজনীতিকদের পাঁচ বছরের জন্য অভিভাবকের দায়িত্ব দিয়েছে। তারা যদি বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে আমানতের খেয়ানত হচ্ছে কি না দেখত, তা হলে এ অবস্থা হতো না। আবার আমরাও এই দায়িত্বপ্রাপ্তদের পেছনে লেগে থেকে তাঁদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিচ্ছি না। এটা আমাদের দোষ। দেশের নাগরিক সমাজ ও সুশীল সমাজকে রাজনীতিবিদদের পেছনে লেগে থেকে তাঁদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি সরকারকেও সতর্ক করতে হবে।
সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সামাজিক ব্যবসা আমাদের দেশের উপকারে আসতে পারে। দশের উপকার করতে হলে ভালো হাউজিং কোম্পানি গড়ে তুলতে হবে। আমাদের হাউজিং কোম্পানি বানানোর সুযোগ দেওয়া হোক। এটা হবে সোস্যাল হাউজিং কোম্পানি। সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি গ্রুপভিত্তিক ব্যবসা করবে। তাঁরা ক্ষতিও করবেন না আবার পকেটে করে টাকা নিয়ে বাড়িতেও চলে যাবেন না। এখানে যাঁরা জড়িত হবেন, তাঁরা অন্য কোনো কোম্পানিতে কাজ করে যে রকম বেতন-সম্মানী পেতেন, এখান থেকেও তাই নেবেন।
আব্দুল কাইয়ুম
নতুন একটা ধারণা পাওয়া গেল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ ব্যাপারে অগ্রসর হতে হবে। এখন অনুরোধ করছি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. জাফর আলমকে।
জাফর আলম
চট্টগ্রামে ২০০৭ সাল থেকে প্রশাসনের লোকজন এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত, আমিও এর সঙ্গে জড়িত। ২০০৭ সালের কমিটি সুপারিশ করেছিল অনেক বিষয়। পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও সেখানে ছিল। ২০০৮ সালে একটা প্ল্যান হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটি আর এগোয়নি।
গতকালের এক মিটিংয়ে বলা হয়েছে, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন ছাড়া কিছুই করতে পারে না। কিন্তু কমিটি একেবারে কিছুই করেনি, এই সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়। কমিটিতে যাঁরা আছেন, তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে এ পর্যায়ে এসেছেন। আসলে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন। কমিটি এত অর্থ জোগাড় করতে পারে না। এটি সম্ভব যদি সরকার জোগান দিতে পারে।
আসলে চট্টগ্রামে ভূমিধস নতুন বিষয় নয়। কারণ এখানে ভূমির যে গঠন, তাতে বালু ও কাদার মিশ্রণ রয়েছে। এতে যদি ১৫০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে ধস নামবে।
গত ২৬ জুন চট্টগ্রামে প্রায় ১৫০-২০০ জায়গায় ধস নেমেছে। কিন্তু মানুষ মারা গেছে মাত্র দুটি জায়গায়। কারণ হচ্ছে, এরা পাহাড়ের পাদদেশে ছিল। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাদদেশে মানুষ থাকতে পারবে না।
আমরা দেখছি পাহাড় কাটা, ভারী বৃষ্টিপাত এবং মাটির গঠন, এই তিনটা বিষয় একসঙ্গে হলে এবং ওই সময় পাহাড়ে মানুষ থাকলে তারা মারা যাবে। এই যে বাটালি হিল ৯০ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়ে আছে, সেটি যদি কখনো ভেঙে পড়ে, তার নিচে এক-দেড় কিলোমিটারজুড়ে কলোনির বাসিন্দাদের অবস্থা হবে করুণ। তাই পাহাড় কিংবা পাহাড়ের পাদদেশ থেকে এই মুহূর্তে নির্দয়ভাবে লোকজনকে সরাতে হবে।
আইনের দুর্বলতাগুলোও দূর করা দরকার। আকবর শাহ পাহাড়ের ব্যাপারে একটি রিট মামলার আদেশের কারণে সেখানকার বস্তিগুলো উচ্ছেদ করা যাবে না। এবার ধসের সময় সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে মাইকিং করতে গেলে দা নিয়ে তেড়ে আসে লোকজন।
প্রায়ই পাহাড় কাটা হয় রাতে। আগে একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয়। সেখানে যারা কাজ করে তারা দীনহীন। তাদের পাশে আর একটি ঘর তৈরি করে থাকতে দেওয়া হয়। সেখানে গেলে মালিক পাওয়া যায় না। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কিংবা হলফনামা দিয়ে মালিকানার দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে কৌশলে কাজ করা হয়। একেকটা জায়গা নিয়ে চার-পাঁচটা হলফনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) পর্যন্ত করা হয়।
আমার প্রস্তাব হলো, যে পাহাড়গুলো কাটা হয়েছে সেগুলোর উচ্চতা বজায় রেখে রক্ষণাবেক্ষণ করা। এ ব্যাপারে করণীয় আমাদের ঠিক করা আছে। প্রয়োজন অর্থ বরাদ্দের। রেলওয়ের ২৫ একর জায়গা পাওয়া সাপেক্ষ পুনর্বাসনের ব্যাপারে প্রস্তাবটি ভালো লেগেছে। আমলাতন্ত্রের লোক হলেও আমি বিশ্বাস করি, স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করা না গেলে সমস্যার কার্যকর সমাধান করা যাবে না।
আবদুচ ছালাম
আমরা সবাই জানি, চুরি করলে শাস্তি হয়। তার পরও আমরা ঘরে শক্ত তালা দিয়ে রাখি, যাতে চোরের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি।
আপনারা দেখছেন, যেসব পাহাড়ের ওপর স্থাপনা আছে সেখানে পাহাড় এখন কাটা হয় না। কোর্ট বিল্ডিং, ইস্পাহানি বিল্ডিং, ডিসির পাহাড়, বাটালি হিল এবং বায়েজিদ বোস্তামির পাহাড়ে স্থাপনা থাকায় সেগুলো কাটা হয় না।
পাহাড় কাটা বন্ধে আমার প্রথম প্রস্তাব হলো, মজবুত আইন তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে। যেসব কারণে পাহাড় কাটা হয় সেসব কারণ দূর করতে হলে শক্ত আইনের বিধান করতে হবে। কীভাবে সেটা হবে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
আমার মতে, মালিকানাবিহীন কোনো পাহাড় নেই, সেটি রেলওয়ে হোক, ওয়াসা হোক কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন। মালিকানাধীন হলে আইনের প্রয়োগটা কার ওপরে হবে। জাহাঙ্গীর সাহেব বলেছেন, প্রয়োগ হবে পাহাড় যার, তার ওপর। যারা সেখানে থাকে কিংবা পাহাড় কাটে তারা মালিক নয় ঠিক। কিন্তু মালিক চিহ্নিত করা কঠিন নয়। তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ তাদের ওপর করতে হবে। আরও কঠিন প্রস্তাব হলো পাহাড় বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন অনুরোধ করছি প্রাক্তন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার জন্য।
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী
আজকের আলোচ্য বিষয়ের মূল কথা হলো, পাহাড়ধসে যারা মারা যাচ্ছে আর যারা পাহাড় কাটছে তাদের চিহ্নিত করে পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর উপায় খুঁজে বের করা। এ ব্যাপারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
পাহাড় কাটা বন্ধের জন্য উত্তম হলো আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। কিন্তু এ দেশের আইন খুব হালকা। তাই পাহাড় কাটা বন্ধের জন্য উপযুক্ত আইন তৈরি করতে হবে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা ভূমিহীন নয় বরং ভাড়াটিয়া। কিছু মাস্তান পাহাড়ি এলাকায় ঘর তৈরি করে ভাড়া দেয়। ঘর তৈরিকারীরা ভূমিসন্ত্রাসী। গরিব অসহায়, রিকশাচালক, ঠেলাগাড়িচালক, গার্মেন্টেসের চাকরিজীবীরা সেখানে স্বল্প ভাড়ায় থাকার সুযোগ নেয়। কম ভাড়ায় শহরে থাকার সুযোগ সবাই চায়। তাই প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে আইনের মাধ্যমে ভূমিদস্যুদের গ্রেপ্তার এবং সেখানে যাতে কোনো স্থাপনা না থাকে এবং কেউ ঘর তৈরি করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বল্প সময়ের এই প্রস্তাব কার্যকর করতে পারলে পরবর্তী সময়ে আর খুব বেশি সমস্যা হবে না।
এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের তুলে দিয়ে তাদের রেলওয়ের খালি জায়গায় অস্থায়ীভাবে হলেও ঘর তৈরি করে দিয়ে আপাতত থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কম খরচে থাকতে আগ্রহীদের বড় অংশ পোশাককর্মী। তাঁদের জন্য শহরে ডরমেটরি করে দিতে মালিকদের প্রতি অনুরোধ করা যায়। ডরমেটরিতে কম খরচে থাকার সুযোগ পেলে তাঁদের একটি বড় অংশ সেখানে চলে যাবে। এ ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা নেওয়া হলে গরিব মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।
আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বলতে হবে। স্থানীয় সরকারকে টাকা বরাদ্দ দিলে সিটি করপোরেশন তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে পারে। আমি মনে করি। দায়িত্ব নেওয়ার সেই যোগ্যতা সিটি করপোরেশনের আছে।
মোহাম্মদ মন্জুর আলম
আমি শুরুতে বক্তব্য দিয়েছি। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদসহ সাবেক মেয়র মূল্যবান বক্তব্য ও পরামর্শ দিয়েছেন।
যারা সেখানে বসবাস করে তারা আমাদের সমাজের গরিব একটি অংশ। তাদের পুনর্বাসনের জন্য সাবেক মেয়র মহোদয় যে প্রস্তাব দিয়েছেন, রেলওয়ের প্রতি ২৫ একর জমি দানের ব্যাপারে যে প্রস্তাব এসেছে, তা গ্রহণ করা হলে আমার মনে হয় সিটি করপোরেশন সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে। এ রকম আরও আলোচনার উদ্যোগ আমরা নেব। সবাইকে ধন্যবাদ।
আব্দুল কাইয়ুম
আজকের আলোচনায় বেশ কয়েকটি কার্যকর সুপারিশ এসেছে। সরকার ও কর্তৃপক্ষ সেগুলো নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেবে। ভবিষ্যতে যেন আবার কোনো পাহাড়ধসে কাউকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1355)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
July
(2459)
-
▼
Jul 25
(101)
- হুমায়ূন বিতর্কে শাওন কেন কাঠগড়ায়
- গাফিলতিতেই হুমায়ূনের মৃত্যু?
- নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূনের দাফন অন্তরালের ঘটনা by আবু...
- বাঁধনের ফেরা
- বাঙালির বন্ধু অধ্যাপক কাজুও আজুমা স্মরণে by প্রবীর...
- নুহাশ হুমায়ূনের কাছে খোলা চিঠি by ইরফানুর রহমান রাফিন
- লেজওয়ালা মানবশিশু!
- কিশোর বয়সের প্রেম
- মাইকেলের সম্পদ নিয়ে পরিবারের মধ্যে গৃহবিবাদ
- বৃষ্টি চেয়ে গান গাইলেন মাধুরি
- কারিনার প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা!
- ‘সুরি’ সবচেয়ে স্টাইলিশ শিশু
- হুমায়ূন আহমদের লাশ নিয়ে তিন দিনের নাটক শেষ
- হুমায়ূনকে নিয়ে মাজহারের ‘ফতোয়া’ by হারুন চৌধুরী
- আল-কায়েদাকে পরাজিত করার পথেই আছি: ওবামা
- এইডস রোধে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন: গেটস
- তিনটি ভেটো এবং একটি শান্তি পরিকল্পনার ‘মৃত্যু’
- ৫৫ বছরে এক দিনও ঝগড়া হয়নি!
- শেখ রাসেল শিশু পার্কের নির্মাণ প্রকল্প বন্ধের পথে
- সান্তাহার স্টেশনের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ-কানুনগোর বিরু...
- কুষ্টিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ১০০ সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেই...
- নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানম...
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-নির্বাচিত উপাচার্য হলেন...
- সংসদীয় কমিটির সভায় আলোচনা-বিশ্বব্যাংকের টাকায় পদ্ম...
- আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতি মানুষকে হতাশ করে: মজীনা
- দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক ঢামেক কর্তৃপক্ষ-চিকি...
- সরকারি উদ্যোগে খোলাবাজারে বিক্রি করুন-রমজান মাসে ম...
- ধর্ম-কোরআন নাজিলের মাস মাহে রমজান by আবদুস সবুর খান
- গোলটেবিল বৈঠক-পাহাড়ধসে গণমৃত্যু: প্রতিকার ও করণীয়
- স্মরণ-প্রিয় কণ্ঠ, প্রিয় মানুষ by এম ওবায়দুর রহমান
- আমাদের চোখের তারায় by প্রণব আচার্য্য
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল না, বৃষ্টি ছিল by রয়েল পাল
- মৃত্যু বড় মূর্খ by শাহেদুল ইসলাম
- স্বামীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারছি না..
- রোজার প্রধান শিক্ষা 'তাকওয়া' by মোহাম্মদ মাকছুদ উল...
- আলোচনা শুরু করল এডিবি, বিশ্বব্যাংকের জন্য চিঠি প্র...
- ভারত-বাংলাদেশ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক-'চুক্তি ...
- পুলিশ পরিদর্শক প্রথম, উপ-পরিদর্শক হলেন দ্বিতীয় শ্র...
- পদ্মা সেতুতে আবার বিশ্বব্যাংকের আলো! by পার্থ সারথ...
- আশাবাদী অর্থমন্ত্রী-বিশ্বব্যাংক ফিরবে- সব শর্ত মেন...
- শান্তিনিকেতনের আদলে গড়া হবে নুহাশপল্লী : শাওন
- শ্রাবণধারায়, চোখের জলে ভিজল ভক্তরা by শরীফ আহমেদ শ...
- মাটির বিছানায় হুমায়ূন by আজিজুল পারভেজ ও নওশাদ জামিল
- মিসরের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিশাম কান্দিল
- আফগানিস্তানে পক্ষ ত্যাগ করে ১৪ পুলিশের তালেবানে যোগ
- আসামে দাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২
- ভারতে বাঘের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটক নিষিদ্ধ
- সুইজারল্যান্ডকে চিঠি লেখার বিষয়ে মন্ত্রিসভা সিদ্ধা...
- বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ-জাতির কাছে ক্ষ...
- বেহাল সড়ক-চেতনা ফিরবে কবে!
- সরকারের নতিস্বীকার-তাতেই কি মিলবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ?
- পবিত্র কোরআনের আলো-শেষ বিচারের দিন আল্লাহ তাদের অব...
- বড় উৎসবের অপেক্ষায়
- এই ক্যাম্পটা যদি প্রতি মাসে করা যেত! by সুস্মিতা ব...
- যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল...
- এশিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস, জাপান-এশিয়ার সম্ভাবনা by রাকি...
- এশিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস, জাপান-এশিয়ার সম্ভাবনা by রাকি...
- উফ! রাষ্ট্রপতি ভবন! by ইন্দ্রজিৎ হাজরা
- কোলেস্টেরলভীতি তৈরির নেপথ্য কাহিনী by ড. মুনীরউদ্দ...
- অনন্তযাত্রায় সমকাল বিজয়ী লেখক by হারুন হাবীব
- হেলথ টিপস-আমড়ার মৌসুম
- শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর পরিণতি by প্রণব কুমার চৌধুরী
- শিশুর ক্যানসার চিকিৎসা ও কাউনসেলিং by মমতাজ বেগম
- নবজাতকের প্রথম ‘টিকা’ শালদুধ by বি এইচ নাজমা ইয়াসমীন
- রোজার রাতের পুষ্টিকথা by আখতারুন নাহার
- ক্ষমতায়ন-প্রথম নারী নভোচারী
- মাতৃত্বকালীন ছুটি-এ কী কথা বলছে বিজিএমইএ! by মানসু...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- বাংলাদেশ-ভারত সংলাপ-ইলিশ সংরক্ষণে একযোগে কাজ করার ...
- কবি কাজী রোজীর জবানবন্দি-মা-ভাইসহ কবি মেহেরুননেসাক...
- চরাচর-সোহাগপুর গণহত্যা by হাকিম বাবুল
- উপাচার্য উপাখ্যান by সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
- কালের পুরাণ-ধাপ্পাবাজি! by সোহরাব হাসান
- পদ্মা সেতু প্রকল্প-এডিবি সহায়তার অন্য প্রকল্প নিয়ে...
- তিতাসকে ৪৫০ কোটি টাকার গ্যাস বিল দিল কারা? by অরুণ...
- লিচুতলায় চিরঘুমে হুমায়ূন by আশীষ-উর-রহমান ও মাসুদ ...
- নির্বাচন কমিশনের নড়চড় নে by হারুন আল রশীদ
- সময়ের প্রতিধ্বনি-রমজানেই হোক দুই নেত্রীর সমঝোতা বৈ...
- বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা
- সমকালীন প্রসঙ্গ-ফতোয়াবাজি কেন অগ্রহণযোগ্য by ম. ইন...
- ভারত-পাকিস্তান-বরফ গলতে শুরু করেছে by বি. রমন
- ফেসবুকেই মতামত জরিপ by একরামুল হক শামীম
- বিশ্বকাপ ক্রিকেট-শান্তি ও সৌহার্দ্যের সোপান by আব...
- চাতালের ছাই-দায়িত্বশীলতাও কি উড়ে গেছে?
- বিশ্বকাপ ক্রিকেট-ভারতের বিজয় মুকুট
- হুমায়ূন আহমেদের প্রথম চলচ্চিত্র ও নাটকে অভিনয় করেছি
- ডরেমনে শিশুর মন by সোহেল নওরোজ
- সাক্ষাৎকার-ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার তালিকায় বাং...
- পরাজিতের লেখা ইতিহাস by জামান সরদার
- রাজনীতি-'মানুষের মুখে জয়, মানুষের মুখেই ক্ষয়' by ম...
- সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-নিরীহ গোবেচারারা যখন রাষ্ট্রীয় ...
- রিকশা-চাঁদাবাজির আওতায় সবই!
- পদ্মা সেতু-বিশ্বব্যাংক দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিক
- শাওনের আকুতিঃ ‘আমারে ছেড়ে তুমি কই গেলা’ by জেসমিন ...
- আসছে হিরোইন
- ‘শূন্য আজি গুলবাগিচা....’ by আশরাফুল ইসলাম ও একেএম...
- হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ...
- মানব পাচারঃ অভিযোগ দায়ের ও শাস্তি
- ফের এক ছবিতে পাওলি-পরম
- ফিল্মস্টারদের প্রতি অখুশি ‘আজমীর শরীফ’ কর্তৃপক্ষ
- শাওনের বক্তব্য নিয়ে নিউ ইয়র্কে তোলপাড়
-
▼
Jul 25
(101)
-
▼
July
(2459)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
Exclusive
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment