Tuesday, August 28, 2012
শেয়ার কারসাজি :তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ
শেয়ার কারসাজি :তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ
ক. ডিএসই একটি ডিমিউচুয়ালাইজেশন কমিটি গঠন করলেও কমিটিকে কোনো সময়সীমা প্রদান করেনি (এটাই স্বাভাবিক)। সরকার ডিএসইকে পরামর্শ দিতে পারে কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের জন্য তিন মাস সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে। খ. ৩ মাস পর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
গ. কমিটির সুপারিশ এবং ডিএসইর অবস্থান সন্তোষজনক না হলে সরকার নিজে 'ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরিকল্পনা' তৈরির জন্য বিশ্বব্যাংক বা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নিতে পারে। পরিকল্পনা সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর বাস্তবায়নের জন্য সরকার (এসইসির মাধ্যমে) ডিএসইতে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে। ঘ. ইমপ্লিমেন্টেশন সিডিউল অনুযায়ী ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়নের পর সংশোধিত ডিএসই মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী নির্বাচন দিয়ে পুনর্গঠন সম্পন্ন করে
প্রশাসক বিদায় নেবেন।
বহুল আলোচিত শেয়ার কারসাজির তদন্তে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশমালা বিশ্বস্ত সূত্রে সমকালের হস্তগত হয়েছে। নিম্নে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো_
সুপারিশমালা
সীমিত সময়ের মধ্যে সর্বাধিক প্রচেষ্টায় তদন্ত কমিটি যেসব তথ্য-উপাত্ত, মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করেছে সেগুলো তদন্ত প্রতিবেদনের দ্বিতীয় থেকে অষ্টম অধ্যায়গুলোতে বিষয়ওয়ারিভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পূর্ববর্তী অধ্যায় বর্ণিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে। সরকারের বিবেচনার্থে এ অধ্যায়ে প্রণীত সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হলো। অনুধাবনের সুবিধার্থে প্রতিটি সুপারিশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্যর্থতার মূল দায় দায়িত্ব
প্রেক্ষাপট : ২০০৯-২০১০ দুই বছরে পুঁজিবাজার উত্থান-পতন, উল্লম্ফন-ধসের কারণ বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে, ক. প্রাইমারি ইস্যু কর্মকাণ্ডে ডাইরেক্টর লিস্টিং, কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, শেয়ারের উচ্চমূল্য নির্ধারণ, বুকিং বিল্ডিং প্রক্রিয়ার অপপ্রয়োগ, ফেসভ্যালু বা কম মূল্যে বিশেষ ব্যক্তি/সংস্থাকে প্লেসমেন্ট প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইস্যুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার, ভ্যালুয়ার, অডিটর, ডিলার-ব্রোকারসহ অনেকে সম্পৃক্ত। খ. সেকেন্ডারি মার্কেটে সার্কুলার ট্রেডিং, ব্লক ট্রেডিং, অস্বাভাবিক লেনদেন প্রভৃতি বিষয়ের ডিলার-ব্রেকার, বিনিয়োগকারীসহ সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি/সংস্থা জড়িত। গ. রাইটশেয়ার, প্রেফারেন্স শেয়ার, আইপিও-রিপিট আইপিও, আনরিয়েলাইজড প্রফিটের বিপরীতে স্টক শেয়ার ইস্যু প্রভৃতি বিষয়ে অনিয়ম বা অসঙ্গতি বিদ্যমান। ঘ. এছাড়া ষষ্ঠ অধ্যায়ে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনাকালে অনেক অসঙ্গতি, অনৈতিকতাকে বৈধতা দান এবং দায়িত্ব অবহেলার উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি মনে করে, এসইসি ডিউ ডিলিজেন্স প্রয়োগ করলে পেশাগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করলে এবং অসঙ্গতি-অস্বাভাবিকতাকে বৈধতা প্রদান না করলে এবারের পুঁজিবাজারে ধস হতো না। অতএব, ব্যর্থতার মূল দায়িত্ব এসইসিকেই বহন করতে হবে।
সুপারিশ : অনৈতিকতাকে বৈধতা প্রদান প্রক্রিয়ায় মূল ঘটকের ভূমিকায় ছিলেন এসইসি মেম্বার মনসুর আলম। চেয়ারম্যানের আনুকূল্য ও সম্মতি ছাড়া যেহেতু কমিশনের অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয় না, অতএব চেয়ারম্যান এবং মেম্বার মনসুর আলম উভয়ই দায়ী। শীর্ষ দায়ী কর্মকর্তাদ্বয়কে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করে অন্যায় করেছেন দু'জন নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এবং তারিকুজ্জামান। এসইসির অনেক কর্মকর্তা সুবিধা গ্রহণ ও অনৈতিক কাজে সহায়তা করেছেন এই চারজন প্রধান নির্বাহীর ছত্রছায়ায়। অতএব, চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, নির্বাহী পরিচালকদ্বয় আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এবং তারিকুজ্জামানকে এসইসি থেকে অপসারণ প্রয়োজন এবং তাদেরসহ মনসুর আলমের ব্যাপারে নিবিড় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এসইসি পুনর্গঠন
প্রেক্ষাপট : ক. পুঁজিবাজার বিনষ্টকরণে এসইসির সাম্প্রতিক ভূমিকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হয়েও মার্কেট প্লেয়ারদের পরামর্শে পরিচালিত হওয়া ও যোগসাজশে অনৈতিক কর্মে বৈধতা প্রদান, বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা ও শৈথিল্য প্রদর্শন প্রভৃতি কারণে এসইসির ভাবমূর্তি অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পেঁৗছেছে যে, কমিশনের বৈধ নির্দেশ না মানার সাহস জন্মেছে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, ২১/৩/১১ তারিখে এসইসির অনুমতিক্রমে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে তদন্ত কমিটি কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তা পাঠালে কোম্পানির সিইও শেখ মুর্তজা আহমেদ তাদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি। এসইসি পরদিন ২৩/৩/১১ তারিখে পুনরায় ফোন করে লোক পাঠালে শেখ মুর্তজা আবার বাধা দেন। আরও দু'একটি ঘটনা কমিটি প্রত্যক্ষ করেছে। ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এসইসির বড় রকম পুনর্গঠন প্রয়োজন। খ. পুঁজিবাজার বেশ সম্প্রসারিত হয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণ ও নিযন্ত্রণের মতো লোকবল কমিশনের নেই। তদুপরি কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে পড়ায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গ. এসইসিতে কোয়ালিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ফিনান্সিয়াল এনালিস্ট ও বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পেশাগতভাবে সম্পন্ন হয় না। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জোরদার থাকে। ঘ. কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো মেধা আকর্ষণ করে না, দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে।
সুপারিশ : দায়ী বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি সর্বনিম্নে বিধায় তাদের দ্বারা সংস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয়। দায়ী ব্যক্তিদের অব্যাহিত দান করে সৎ, দক্ষ, অতীতে সফল এবং গ্রহণযোগ্য একজন চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ পদ পূরণের পরই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। খ. এবার জরুরিভিত্তিতে নিয়োগ দানের পর ভবিষ্যতে একটি উচ্চ পর্যায়ের সার্চ কমিটির দ্বারা বাছাইকৃত একটি প্যানেল থেকে সরকার চেয়ারম্যান ও মেম্বার নিয়োগ দেবে। সার্চ কমিটি প্রতিপদের বিপরীতে তিনজনের প্যানেল প্রস্তুত করবে। আবেদন করেননি এমন যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে নিয়ে (সম্মতি থাকলে) তালিকাভুক্ত করার ক্ষমতা সার্চ কমিটির থাকা উচিত। গ. কমিশন চেয়ারম্যানসহ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট হতে পারে। তারা হতে পারেন চার্টার্ড/কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইন বিশেষজ্ঞ, ব্যাংকার, অ্যাকাউন্টিং/ফিন্যান্সের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রাজ্ঞ ও সফল ব্যক্তিত্ব (প্রশাসক/ব্যবস্থাপক/সাধারণ)। ঘ. নতুন চেয়ারম্যান-মেম্বার নিয়োগের পর নবগঠিত কমিশন একটি 'এসইসি রিস্ট্রাকচারিং প্লান' প্রস্তুত করে সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করতে পারে। পুনর্গঠন পরিকল্পনায় একটি শক্তিশালী ইন্সপেকশন বিভাগ এবং একটি কোম্পানি হিসাব যাচাই বিভাগ অবশ্যই থাকতে হবে। এছাড়া 'পুঁজিবাজার বিধি পরিচালন' বিভাগও থাকা উচিত। ইন্সপেকশন বিভাগ নিয়মিত ইন্সপেকশন করবে (সব ডিলার-ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ইত্যাদি)। বিধি পরিচালন বিভাগ বিচ্যুতির জন্য শাস্তি প্রয়োগ করবে। এটি আইন বিভাগ নয়, বরং আইনের প্রয়োগ বিভাগ হবে। ঙ. অর্গানাইজেশন স্টাডির ভিত্তিতে পুনর্গঠনের অন্যান্য উপাত্ত বের হবে চ. প্রতিটি ডেস্কের 'জব স্পেসিফিকেশন' ও 'জব ডেসক্রিপশন' তৈরি করতে হবে। ছ. একটি উপযুক্ত বেতন কাঠামো এজেন্ডায় থাকা উচিত।
স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন
প্রেক্ষাপট : ক. বাংলাদেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। দুটি স্টক এক্সচেঞ্জই পুঁজিবাজারের প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক, যদিও প্রধান নিয়ন্ত্রক এসইসি। সেই বিচারে স্টক এক্সচেঞ্জের একটি নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামো থাকা উচিত। খ. দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক পরিষদ ২৫ সদস্যবিশিষ্ট-১২ জন ডিলার-ব্রোকার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত, ১২ জন মনোনীত, বাকিজন হলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বাস্তবে নির্বাচিত পরিচালকরাই প্রশাসন চালিয়ে থাকেন। যেহেতু মনোনীত সদস্যদের উৎসাহ ও সম্পৃক্ততা কম দেখা যায়। ফলে যারা পুঁজিবাজারের প্লেয়ার তারাই নিয়ন্ত্রখের ভূমিকায়। স্বার্থের সংঘাত (পড়হভষরপঃ ড়ভ রহঃবৎবংঃ) সংস্থার নিয়ন্ত্রক ভূমিকাকে প্রায়ই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। গ. এ পরিপ্রেক্ষিতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন ধারণাটি এসেছে সঙ্গত কারণে। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের মর্মার্থ হলো, নিয়ন্ত্রিতের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রকের কার্যাবলি থেকে পৃথক করে প্লেয়ারদের প্রভাব বলয় থেকে বাইরে সরিয়ে রাখা। ঘ. ভারতের মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ সরকারি চাপে ডিমিউচুয়ালাইজ করা হয়েছে। পাকিস্তানে প্রক্রিয়াধীন। ঙ. তদন্ত কমিটি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থা/ব্যক্তি এবং সিভিল সমাজের সঙ্গে যে ব্যাপক আলোচনা করেছে তাতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করার পক্ষে ব্যাপক দাবি ও সমর্থন পাওয়া গেছে। যদিও প্লেয়ারদের অনেকের অবস্থান দুর্বল। চ. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ স্বপ্রণোদিত হয়ে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের বিষয়টি পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। ছ. ডিএসইর মূল মালিক সদস্যরা, ক্ষমতাও তাদের। তারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা তুলে দেবে প্রশাসনের হাতে_ এমনটা স্বাভাবিক চিন্তা নয়। এর কারণে ভারত সরকার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ গঠনের মাধ্যমে মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ডিএসইর গঠিত কমিটি কী ফল দেবে, আদৌ দেবে কী দেবে না, তা সময়েই বলে দেবে।
সুপারিশ : ক. ডিএসই একটি ডিমিউচুয়ালাইজেশন কমিটি গঠন করলেও কমিটিকে কোনো সময়সীমা প্রদান করেনি (এটাই স্বাভাবিক)। সরকার ডিএসইকে পরামর্শ দিতে পারে কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের জন্য তিন মাস সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে। খ. ৩ মাস পর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। গ. কমিটির সুপারিশ এবং ডিএসইর অবস্থান সন্তোষজনক না হলে সরকার নিজে 'ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরিকল্পনা' তৈরির জন্য বিশ্বব্যাংক বা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নিতে পারে। পরিকল্পনার সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর বাস্তবায়নের জন্য সরকার (এসইসির মাধ্যমে) ডিএসইতে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে। ঘ. ইমপ্লিমেন্টেশন সিডিউল অনুযায়ী ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়নের পর সংশোধিত ডিএসই মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী নির্বাচন দিয়ে পুনর্গঠন সম্পন্ন করে প্রশাসক বিদায় নেবেন। ঙ. বিষয়টি স্বার্থ-সংঘাত বিষয়ক এবং জটিলতা মিশ্রিত বিধায় সরকার যথাসময়ে 'ডিমিউচুয়ালাইজেশন ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং সেল' গঠন করতে পারে। সেলটি এসইসিতে কাজ করতে পারে।
স্টক এক্সচেঞ্জ ও এসইসি কর্মসমন্বয়
প্রেক্ষাপট : ক. এসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয় উভয়েই নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলি পরিচালনা করে। ডিএসইস/এসইসি প্রাইমারি রেগুলেটর এবং এসইসি প্রধান রেগুলেটর। এ কারণে উভয়ের কর্মপরিধিতে ওভারল্যাপ রয়েছে। যেহেতু এ পর্যন্ত র্যাশনালাইজেশন করা হয়নি। খ. তদন্ত কমিটি লক্ষ্য করেছে, ডিএসই এবং এসইসি উভয় সংস্থাতেই সার্ভিল্যান্স বিভাগ আছে একই কাজের জন্য। ডিএসই সার্ভিল্যান্স বিভাগ কিছু কাজ করেছে। এসইসির সার্ভিল্যান্স দুর্বল। উভয়ের মধ্যে সমন্বয় নেই। গ. তদন্ত কমিটি আরও লক্ষ্য করেছে, ডিএসই এবং সিএসইর লিস্টিং কমিটি প্রাইমারি রেগুলেটর হিসেবে কোম্পানির তালিকাভুক্তির আবেদন যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনেকগুলো কোম্পানির ক্ষেত্রে বিরূপ মন্তব্য করেছে। অথচ এসইসি যেসব উপেক্ষা করে স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়কে লিস্টিংয়ের বাধ্য করেছে, কোনো যুক্তি না দিয়েই।
সুপারিশ : ক. একটি স্টাডিটিম গঠন করে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং এসইসির ওভারল্যাপ কর্ম ও গ্রে-এরিয়াগুলো চিহ্নিত করে কর্মতালিকা সুনির্দিষ্ট করা উচিত। খ. তদন্ত কমিটির মতে, সার্বক্ষণিক সার্ভিল্যান্সের দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ন্যস্ত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিএসই/সিএসইর সার্ভিল্যান্স বিভাগ আরও শক্তিশালী করতে হবে। কর্মী সংখ্যা বাড়াতে হবে, পদ্ধতি আধুনিকীকরণ করতে হবে। বাজারে যে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। গ. এসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগকে পুনর্গঠন করে 'ইন্সপেকশন বিভাগে' রূপান্তর করতে হবে। বাজারের সব সংস্থায় নিয়মিত ইন্সপেকশন পদ্ধতি প্রচলন করতে হবে। ঘ. কোম্পানির লিস্টিং স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ। তাদের লিস্টিং প্রতিবেদন নিয়ে এসইসি প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে, কিন্তু উপেক্ষা করতে পারবে না।
পুঁজিবাজারের ব্যাংকের অর্থায়ন
প্রেক্ষাপট : ক. পুঁজিবাজার এবং অর্থবাজারকে পৃথক রাখা বিশ্ব স্বীকৃতি রীতি। ব্যাসেলের পরবর্তী নীতিমালার 'অ্যবসলুট সেপারেশন'-এর কথা থাকছে। কারণ হলো, পুঁজিবাজার নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগের জন্য। আমানতকারীর জমা অর্থ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের অধিকার গ্রাহক ব্যাংককে দেয়নি। প্রয়োজনে গ্রাহক নিজের টাকা নিজেই পুঁজিবাজারে বিনিযোগ করবে। কিন্তু গ্রাহকের টাকা বিনা অনুমতিতে ব্যাংক কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ অনৈতিক। খ. এ কারণে ভারতীয় ব্যাংকিং আইনে এবং পাকিস্তানের ব্যাংকিং আইনে কোনো ব্যাংক কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছ ব্যাংকের ইকুইটির (অর্থাৎ মালিকের নিজস্ব পুঁজি) সঙ্গে। আমানত বা ব্যাংকের দায়ের সঙ্গে নয়। অথচ বাংলাদেশের ব্যাংক কোম্পানির আইনের ২৬(২) ধারায় ব্যাংকগুলোকে দায় অর্থাৎ মোট আমানতের ১০% পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। গ. এ কারণে ব্যাংকের বড় অংশের ঋণ পুঁজিবাজারে প্রবেশ করেছে, তারল্য বাড়িয়েছে, শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এমনকি অর্থ বাজারেও সংকট সৃষ্টি করেছে। ঘ. তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ মতে এ ব্যবস্থা সংশোধন করা না হলে ভবিষ্যতে পুঁজি ও অর্থ উভয় বাজারে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতির বিপর্যস্ত হতে পারে।
সুপারিশ : ক. ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলংকাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুসরণে এবং ব্যাসল নীতিমালার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(২) ধারা অবিলম্বে সংশোধন করে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে ব্যাংকের মূলধন (টিয়ার-১)-এর অংশ হিসেবে ধার্য করা হোক। আমানতের সঙ্গে সংযোগ রহিত করা হোক। খ. যেসব ব্যাংক ২০০৯ ও ২০১০ সালে আইন ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে এবং উল্লম্ফনে সাহায্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। গ. পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অবৈধ (কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত) পদচারণা বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকিতে থাকা উচিত এবং নিবৃত্ত করা উচিত।
প্রাক-আইপিও এবং আইপিও প্রক্রিয়া
প্রেক্ষাপট : ক. শেয়ার অজড়করণ ও স্টক এক্সচেঞ্জ যান্ত্রিকীকরণে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা অনেকটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারের প্রবেশের আগের স্তরগুলো এখনও অস্বচ্ছ। স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং কমিটির সুপারিশ না থাকলেও আইপিওর জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন অস্বাভাবিক হলেও এসইসি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্রহণ করে। অস্বাভাবিক ইনডিকেটিভ মূল্য নির্ধারণে যৌক্তিকতা থাকে না। খ. এসইসি যেন শুধু অনুমোদনের জন্যই, কোনো পেশাগত ডিউ-ডিলিজেন্সের লক্ষণ নেই। মূলত এ কারণেই প্রাক-আইপিও/আইপিও পর্যায়ে প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়া এবং 'প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে কার্ব মার্কেট' সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। সে কারণে আসল পুঁজিবাজারের অর্থ ঘাটতি ঘটায় এবারে পুঁজিবাজার ধস ঘটেছে।
সুপারিশ : ক. প্রাক-আইপিও/আইপিও প্রক্রিযায় স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে নিয়ামাচার তৈরি ও তা প্রতিপালনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এসইসি নিয়মাচার তৈরি করতে পারে। তবে নিয়মাচার প্রকাশিত হতে হবে এবং পরিচালন কর্মও স্বচ্ছ হতে হবে।
প্লেসমেন্ট 'বাণিজ্য'/কার্ব মার্কেট
প্রেক্ষাপট : ক. তদন্ত কমিটির জনমত সংগ্রহে বেরিয়ে এসেছে যে, 'প্লেসমেন্ট' এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইপিও মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে প্লেসমেন্টের অনুমতি থাকছে। ফলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের 'প্লেসমেন্ট' নিয়ে প্রভাবিত করার প্রয়াস লক্ষণীয়। খ. এসইসির কোনো প্লেসমেন্ট নিয়মাচার নেই। গ. পাবলিক অফারের উদ্দেশ্য জনগণের অংশগ্রহণ। কিন্তু প্লেসমেন্টের ফলে জনগণের অংশ কমে গেছে। ঘ. রূপান্তরযোগ্য প্রেফারেন্স শেয়ার ২০০৯-১০ দু'বছরের ৮টি কোম্পানি ছেড়েছে, যার মধ্যে গড়ে ৬৯% প্লেসমেন্টে গেছে (সর্বোচ্চ ১০০% অগি্নসিস্টেম এবং সর্বনিম্ন ৫৮% পিপলস লিজিং)। এ অবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত। ঙ. প্রাথমিক ইস্যুতে জনগণের অংশ সংকুচিত করে বড় অংশ প্লেসমেন্টে প্রদানের ফলে 'চিটা হাতবদল' বা প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে। এটি কার্ব মার্কেটের সঙ্গে তুলনীয়। অস্বচ্ছতা চরম পর্যায়ে। ৮ম অধ্যায়ে ৮.১২ পর্বে শীর্ষ প্লেসমেন্টধারীদের তালিকা দ্রষ্টব্য।
সুপারিশ : ক. সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি, গবেষক, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ভিত্তিতে 'প্লেসমেন্ট নিয়মাচার' তৈরি করতে হবে। পুনর্গঠিত এসইসি এ কাজটি করতে পারে। খ. প্লেসমেন্ট বরাদ্দপত্র ইস্যু করতে হবে, যার কপি এসইসিকে দিতে হবে। গ. বরাদ্দপত্র হস্তান্তরযোগ্য হবে
না। বরাদ্দপত্রের বিপরীতে প্লেসমেন্ট ক্রয়ের অর্থ বিও অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে, যার বিপরীতে শেয়ার ইস্যু হবে। বরাদ্দপত্র ওয়ারেন্ট ধরনের হবে এবং শেয়ারে কনভার্ট হওয়ার পর প্রাইভেট প্লেসমেন্টের শেয়ার অন্তত এক বছর লক-ইন থাকবে, যেহেতু আইপিও ভ্যালুর চেয়ে কম মূল্যে দেওয়া হয়েছে। ঘ. বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর আরও প্রক্রিয়াযুক্ত করে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের অস্বচ্ছ কার্ব মার্কেট বন্ধ করতে হবে। ঙ. আইপিও শেয়ারমূল্যের ২৫%-এর বেশি প্লেসমেন্ট হওয়া উচিত নয়। চ. বর্তমানে আইপিও প্রায় ২৩ গুণ ওভারসাবসক্রাইবড হচ্ছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে প্লেসমেন্ট নিষ্প্রয়োজন। ছ. ৮.১২-তে বর্ণিত ৩০ জন শীর্ষ প্লেসমেন্টধারীর অর্থসংস্থান, আন্তঃসংযোগ (হবীঁং) নিবিড় পরীক্ষা করবে এসইসি।
অস্বচ্ছ অমনিবাস অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছতা আনয়ন
প্রেক্ষাপট : ক. ষষ্ঠ অধ্যায়ে অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়াটি আইনানুগ নয় বলে প্রতীয়মান হয়। খ. সিডিবিএলে পরিচালিত প্রতিটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে তিন হাজার থেকে দশ হাজার পর্যন্ত গোপন হিসাব থাকে প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকারের খাতায়। অর্থাৎ ৩-১০ হাজার অ্যাকাউন্টের মোট অঙ্ক বিও হিসাবে যাচ্ছে মার্চেন্ট ব্যাংকারের নামে। ইনডিভিজুয়াল অ্যাকাউন্ট অপ্রদর্শিত থাকছে। তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এ ধরনের অ্যাকাউন্টেই অনৈতিক লেনদেন অধিক। গ. শেয়ার লেনদেন যেহেতু বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হওয়া বাধ্যতামূলক, অতএব মার্চেন্ট ব্যাংকার কর্তৃক রক্ষিত হিসাবে শেয়ার লেনদেন দৃষ্টির বাইরে থাকে।
সুপারিশ : ক. অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে থাকা সব ইনডিভিজুয়াল হিসাবের জন্য পৃথক পৃথক বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন হবে। খ. মার্চেন্ট ব্যাংকার তাদের হিসাবের সুবিধার জন্য শ্যাডো অ্যাকাউন্ট রাখতে পারে। গ. মার্চেন্ট ব্যাংকার ক্লায়েন্টের শেয়ারের ওপর প্রয়োজনে জেনারেল লিয়েন রাখতে পারে, যাতে শেয়ার লেনদেনে বাধা সৃষ্টি না হয় এবং মার্চেন্ট ব্যাংকারের ঋণ সিকিওরড থাকে।
সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেন
প্রেক্ষাপট : ক. সরকারি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অফিসের কাজকর্ম ফেলে কম্পিউটারে বসে শেয়ার ট্রেডিংয়ে ব্যস্ত থাকার দৃশ্য প্রতিটি অফিসেই দেখা যাচ্ছে। এতে অফিসের কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। খ, চাকরিবিধিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। অষ্টম অধ্যায়ে তথ্যচিত্র-১ এবং ২ নমুনা প্রমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এসইসিতে অনুরূপ ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে ব্যাপক ধারণা। ব্যাংকগুলোতেও প্রবণতা প্রবল। চাকরিবিধি প্রয়োগের দৃষ্টান্ত না থাকায় বিধিভঙ্গ বাড়ছে। গ. মিউচুয়াল ফান্ড, আইপিওসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমমূল্যে প্লেসমেন্ট প্রদান ঘুষ প্রদানের নতুন সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ অন্যদের আনুকূল্য লাভের প্রত্যাশায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ 'বেনামি'ত প্লেসমেন্ট নিয়ে থাকেন বলে ব্যাপক গণধারণা রয়েছে। 'বেনামি' চিহ্নিত করাও কঠিন। ঘ. সরকারি তথা প্রভাবশালী মহল সুবিধা গ্রহণের ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ঙ. অষ্টম অধ্যায়ে ৮.১০ পর্বে প্লেসমেন্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
সুপারিশ : ক. এসইসি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার লেনদেন (ট্রেডিং) সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তবে তারা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। চাকরিবিধিতে নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্তকরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মকর্তারা নিজ নামে, স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন, পিতা-মাতার নামে অথবা বেনামিতে শেয়ার লেনদেন করবেন না। খ. প্রমাণ হলে গুরুদণ্ডের বিধান থাকতে হবে। গ. মার্চেন্ট ব্যাংকার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং ব্রোকার-ডিলার কোম্পানির কর্মকর্তাবৃন্দও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। ঘ. সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তারা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন কিন্তু প্লেসমেন্ট নিতে পারবেন না এবং লেনদেন (ট্রেডিং) করতে পারবেন না। প্লেসমেন্ট ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিনিয়োগের জন্য বিও অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং বিও অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ কত টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা নিজ নিজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে।
সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি
প্রেক্ষাপট : ক. বর্তমানে সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতির দুর্বলতার সুযোগে কোম্পানি তার সম্পদের অতিমূল্যায়ন করছে, যা সম্পদের প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিহীন। খ. অতি মূল্যায়িত সম্পদের ওপর ঘঅঠ হিসাব করলে ইনডিকেটরটি ভুল সিগন্যাল দেবে। গ. অনেক কোম্পানি পুনর্মূল্যায়িত সম্পদ মূল্যের আনরিয়েলাইজড গেইনের বিপরীতে বোনাস শেয়ার ইস্যু করেছে, যা বিধিসম্মত নয়। ঘ. সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে 'স্থগিত কর দায়' (ফবভবৎৎবফ ঃধী)-এর বিপরীতে সংস্থান (ঢ়ৎড়ারংরড়হ) করার বিধি রয়েছে ভবিষ্যতে কর প্রদানের সুবিধার্থে। কিন্তু পুনর্মূল্যায়নকারী কোম্পানিগুলো তা করছে না। ঙ. বাংলাদেশে সার্টিফায়েড সার্ভেয়ার নেই (ইনস্টিটিউট অব সার্ভেয়ার্সও নেই)। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট একই সঙ্গে কোনো কোম্পানির অডিট এবং ভ্যালুয়েশন করতে পারেন না।
সুপারিশ : ক. যে পর্যন্ত দেশে চার্টার্ড সার্ভেয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে, সে পর্যন্ত ভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়নের দায়িত্ব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম পালন করবে। তবে শর্ত থাকে যে, একই কোম্পানির ভ্যালুয়ার এবং অডিটর দুটি পৃথক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সংস্থা হতে হবে, কোনো অবস্থাতেই অভিন্ন হবে না। খ. এসইসির কাছে কোনো কোম্পানি পুনর্মূল্যায়িত সম্পদের হিসাব পেশ করলে এসইসি সন্তুষ্ট না হলে মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে শেয়ারমূল্য নির্ধারণ
প্রেক্ষাপট : ক. স্থিরমূল্য (ভরীবফ ঢ়ৎরপব) পদ্ধতিতে শেয়ারমূল্য নির্ধারণে জটিলতা কম হলেও অধিকতর বাস্তবসম্মত এবং অবজেকটিভ করার সুযোগ রয়েছে। খ. ভবিষ্যৎ তিন বছরের প্রক্ষেপিত (ঢ়ৎড়লবপঃবফ) আয় বিবেচনার সুযোগ আইনে রাখা হয়েছে, যা প্রশ্নসাপেক্ষ। গ. পূর্ববর্তী বছরের সমজাতীয় স্টকের (ংরসরষধৎ ংঃড়পশ) বাজারমূল্য বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সমজাতীয় স্টকের সংজ্ঞা বা ব্যাংখ্যা দেয়া হয়নি।
সুপারিশ : ক. তিন বছরের প্রজেক্টেড মূল্য নির্ণয়ের ভিত্তি, ধংংঁসঢ়ঃরড়হ পদ্ধতি এবং ভ্যালুয়েশন লিপিবদ্ধ করতে হবে। এসইসির নিকট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত না হলে প্রত্যাখ্যান করা হবে। খ. সমজাতীয় স্টকের সংজ্ঞা নির্ণয় করতে হবে। তদন্ত কমিটির মতে, বিবেচনাকালীন সময়ে যেসব কোম্পানির ঘঅঠ আবেদনকারী কোম্পানির ঘঅঠ-এর তিনগুণের মধ্যে থাকবে এবং পিই রেশিও ১৫-এর বেশি হবে না, সেসব কোম্পানি সমজাতীয় কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে শর্ত থাকে যে, সমজাতীয় কোম্পানির ব্যবসাক্ষেত্র একই রকমের থাকবে। একই ধরনের ব্যবসা কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে এসইসি। গ. সম্পদ মূল্যায়ন সতর্কভাবে পরীক্ষা করবে এসইসি।
বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারমূল্য নির্ধারণ
প্রেক্ষাপট : ক. বাজার বিকৃতি (ফরংঃড়ৎঃরড়হ)-এর একটি প্রধান প্রক্রিয়া হিসেবে বের হয়ে এসেছে বুক-বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের উচ্চমূল্য নির্ধারণ। খ. বুক-বিল্ডিং মেথডে (ডাইরেক্ট লিস্টিং) কেপিসিএলের ১০ টাকা শেয়ারের ইনডিকেটিভ মূল্য ধার্য হয় ১৬২ টাকা, প্রথম দিন বিক্রিমূল্য ছিল ১৯৪.২৫ টাকা এবং বর্তমানে (২৯.৩.১১) বাজারমূল্য মাত্র ৯৬.৯০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বিক্রিমূল্য থেকে ৯৭.৩৫ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বুক-বিল্ডিং মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে ওসিএলের ১০ টাকার শেয়ারের ইনডিকেটিভ মূল্য ছিল ১২১.৪০ টাকা, প্রথম বিক্রিমূল্য ১৪৫ টাকা এবং বর্তমানে (২৯.৩.১১) বাজারমূল্য ১০৯.১০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বাজারমূল্যের চেয়ে ৩৬.৯০ টাকা কম। প্রমাণ হয় যে, কোম্পানি দুটির মূল্য নির্ধারণ ভুল ছিল। গ. মূল্য নির্ধারণে কারসাজি না করলে যে মূল্যক্ষয় হয় না, তার প্রমাণ জঅক ঈবৎধসরপং কোম্পানি। একই বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে জঅক ঈবৎধসরপং-এর ১০ টাকার শেয়ারের ইনডিকেটিভ মূল্য ধার্য হয় ৪০ টাকা, প্রথম বিক্রিমূল্য ছিল ৪৮ টাকা এবং বর্তমান (২৯.৩.১১) মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বিক্রিমূল্যের চেয়ে ৬০.৭০ টাকা বেশি। ঘ. ওপরের তিনটি উদাহরণ থেকে প্রমাণ হয়, ইস্যুয়ার কোম্পানি এবং ইস্যু ম্যানেজার সৎ ও পেশাদার হলে মূল্য বিকৃতি ঘটে না। কিন্তু ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজার এই পদ্ধতিতে মূল্য ম্যানিপুলেট করতে পারে। পদ্ধতির দুর্বলতা দূর করা প্রয়োজন।
সুপারিশ : ক. মূল্য বিকৃতি রোধকল্পে বিধান করতে হবে, যেসব কোম্পানি প্রাইস বিড করবে, তারা সবাই মিলে ওয়েটেড গড় মূল্যে মোট ইস্যুযোগ্য শেয়ারের অন্তত ১০% হারাহারিভাবে ক্রয় করতে বাধ্য থাকবে। আর্থিক দায় বা স্টেক না থাকলে মূল্য নির্ধারণে দায়িত্ববোধ থাকে না। খ. বিডারদের এইভাবে ক্রয়কৃত শেয়ারে অন্তত ১৮০ দিনের লক-ইন থাকবে।
সম্পদ অধিক মূল্যায়নের টেস্ট কেস
প্রেক্ষাপট : সম্পদ মূল্যায়নের ফলে যেসব কোম্পানির শেয়ার প্রতি ঘঅঠ ১০০%-এর বেশি এসেছে, তাদের তালিকা নিম্নরূপ :
সুপারিশ : টেস্ট কেস গণ্য করে উপরোক্ত ৮টি কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের যথার্থতা ৫ সদস্যবিশিষ্ট চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কমিটি দ্বারা পুনঃপরীক্ষা করা হোক। পুনর্মূল্যায়ন ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে অতিমূল্যায়িত কোম্পানি, ভ্যালুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যায়ের শাস্তি না হলে, অন্যায় পুনঃসংঘটিত হয়ে থাকে।
নিয়ন্ত্রণকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ে দুর্নীতি চিত্র-১-এ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়ার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে চারটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। খ. অষ্টম অধ্যায়ের দুর্নীতি চিত্র-২-এ আইসিবির তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মহাব্যস্থাপক) কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আকতার এবং শ্যালক মনসুর বিল্লাহের নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্ট গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। লেনদেনের মুনাফার অর্থ কফিল উদ্দিন চৌধুরীর নিজ নামে স্থায়ী আমনত হিসাবে রক্ষিত হয়েছে, সে তথ্যও এফডিআর নম্বরসহ উল্লেখ করা হয়েছে। গ. অষ্টম অধ্যায়ের ৮.৫ তথ্যচিত্রে এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী (ঈঊঙ) আরওয়াই শমসের কর্তৃক নিজ নামে প্রায় ১২ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। এটি স্বার্থ-সংঘাতজনিত কাজ।
সুপারিশ : ক. প্রথম দু'জনেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিধায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় মামলা গঠন করা উচিত। খ. দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বিভাগীয় মামলার অতিরিক্ত দুর্নীতির মামলা গঠনের উদ্দেশ্যে দুর্নীতি দমন বিভাগে প্রেরণ করা উচিত। গ. জনাব আরওয়াই শমসের (ঈঊঙ) হয়েও প্লেসমেন্ট নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন বিধায় তাকে পদ থেকে অপসারণ করা উচিত।
সিরিয়াল ট্রেডিং ও কারসাজি
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ে ৮.৬ প্যারায় জনাব সিরাজউদ্দৌলা ও সহযোগীবৃন্দ, ইয়াকুব আলী খন্দকার ও সহযোগীবৃন্দ এবং আনোয়ার হোসেন খান ও সহযোগীবৃন্দের নিজেদের মধ্যে ইঁষশ লেনদেন করে কৃত্রিম ট্রেডিং পরিবেশ সৃষ্টির তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। খ. ৮.৭ প্যারাতে আবু সাদত মোঃ সায়েম ও তার ভাই আবদুল মোবিন মোল্লার সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। গ. ৮.৮ প্যারাতে গোলাম মোস্তফার ৬টি ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়, কারচুপি এবং অনৈতিকভাবে মূল্য-উত্তেজক কর্মের তথ্য পরিবেশিত হয়েছে।
সুপারিশ : অনৈতিক কাজগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ৮.৬ প্যারায় বর্ণিত কারসাজি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইনের ১৭(ই) ধারার পরিপন্থী।
শেয়ারের ফেসভ্যালু ইউনিফর্মকরণ
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ের ৮.৯ পর্বে দেখান হয়েছে, ষ্টক স্পিল্গটের ফলে বাজার বিচ্যুতি ঘটেছে ৮১.৫%। খ. সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় শেয়ারের ফেসভ্যালু ইউনিফরম করার পক্ষে ব্যাপক সুপারিশ প্রদান করা হয়। তবে সমমূল্যে ১০০ নাকি ১০ টাকা হবে তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। গ. ফেসভ্যালুতে ভিন্নতা থাকায় মার্কেট প্লেয়ারদের পার্সেপশন সমস্যা প্রকট_ একথা নিশ্চিত। এটি দেশজ সমস্যা। ১০০ টাকার শেয়ার ৫০০ টাকা হলে যেমন চোখে পড়ে, ১০ টাকা শেয়ার ৫০ টাকা হলে তেমন চোখে পড়ে না। সাধারণ ক্রেতা ৫০০ টাকার তুলনায় ৫০ টাকায় শেয়ার ক্রয় শ্রেয় মনে করে, যাতে করে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে থাকে।
সুপারিশ : যেহেতু ক. ১০০ টাকার অনেক শেয়ার এরই মধ্যে ১০ টাকায় রূপান্তরিত হয়েছে, এবং খ. ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ টাকার শেয়ার ক্রয় সহজসাধ্য; অতএব কমিটি মনে করে, অন্য মূল্যমানের শেয়ারগুলো সমমূল্য করার সুবিধার্থে ১০ টাকায় রূপান্তর করা হোক। ১০ টাকা ফেসভ্যালু নয় এমন লিস্টেড কোম্পানিগুলোকে ২০১১ সালের মধ্যে শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকায় কনভার্ট করার উৎসাহমূলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
রাইট শেয়ার/প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুতে অনৈতিকতা
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ে ৮.১০ পর্বে বর্ণিত হয়েছে, রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে কনফিডেন্স সিমেন্ট ৬০০% প্রিমিয়ামে, বে-লিজিং ২৫০% প্রিমিয়ামে, ইস্টার্ন ইন্সুরেন্স ২০০% প্রিমিয়ামে এবং দি সিটি ব্যাংক, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ও এশিয়া ইন্সুরেন্স প্রত্যেকে ১০০% প্রিমিয়ামে রাইট শেয়ার ইস্যু করেছে। এসইসির অনুমোদন প্রশ্নবিদ্ধ। শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে দাম কমার কথা। কিন্তু রাইট ইস্যুর পর দাম বেড়েছে। রহস্যজনক। খ. রূপান্তরযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ারের প্রচলন দেশে খুব একটা ছিল না। অথচ ২০০৯-১০ দু'বছরে ৮টি কোম্পানি প্রেফারেন্স শেয়ারে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে (বিস্তারিত ৯৮.১১)। বেক্সিমকো ফার্মা ৪১০ কোটি টাকা, সামিট পাওয়ার ৩০০ কোটি টাকা, আফতাব অটোমোবাইলস ১৮০ কোটি টাকা এবং পিপলস লিজিং ১২০ কোটি টাকা তুলেছে। গ. অনেক প্রেফারেন্স শেয়ার মাত্র ২/৩ মাসের মেয়াদে ছাড়া হয়েছে। মাত্র ১ মাসের জন্য ছাড়ার নজিরও রয়েছে। এত অল্প মেয়াদে রূপান্তরকরণ বিদেশে সাধারণত দেখা যায় না।
সুপারিশ : যেহেতু প্রেক্ষাপটে বর্ণিত অস্বাভিকতা ছিল রাইট/প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু প্রক্রিয়ায় এবং যেহেতু এ সবকিছুই হয়েছে এসইসির অনুমোদনে, অতএব এসইসির সিদ্ধান্ত নৈতিকতা বর্জিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ। এসইসি পুনর্গঠিত হওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যেতে পারে, দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। রাইট শেয়ার রূপান্তর/হস্তান্তরকরণে অন্তত তিন বছরের বাধা-নিষেধ থাকা উচিত।
শীর্ষ প্লেয়ারদের সন্দেহজনক লেনদেন
প্রেক্ষাপট : ক. পঞ্চম অধ্যায়ের বর্ণনা থেকে স্পর্শকাতর সময়ে শীর্ষ লেনদেনকারী ব্যক্তিদের মাঝে ছিলেন গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মোঃ সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মোঃ খলিলুজ্জামান, মোঃ শহীদুল্লাহ, আরিফুর রহমান, সোমা আলম রহমান প্রমুখ। খ. শীর্ষ লেনদেনকারী সংস্থার মধ্যে ছিল আইসিবি, ফ্রন্টিয়ার ফান্ড (বারমুড়া), ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রভৃতি।
সুপারিশ : এসইসি এসব সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের শেয়ার লেনদেনের ওপর বিস্তারিত তদন্ত করতে পারে। আইনের ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খ. এ অ্যাকাউন্টগুলো সার্বক্ষণিক ভিজিলেন্সের আওতায় রাখতে হবে। এ তালিকা এসইসি চলমানভাবে আপডেট করবে।
অমনিবাস অ্যাকাউন্টের শ্যাডো হিসাবে কারসাজি
প্রেক্ষাপট : ক. সময় স্বল্পতায় তদন্ত কমিটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের অন্তরালে থাকা কয়েক লাখ ছায়া হিসাবে পরীক্ষা করতে পারেনি। নমুনা চয়ন করে কয়েকটি হিসাব পরীক্ষাকালে (পঞ্চম অধ্যায় ৫.১৩ প্যারা) আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিঃ, ডা. এইচবিএম ইকবাল, মুনিরুদ্দিন আহমদ, রোকসানা আমজাদ, গোলাম মোস্তফা, আহসান ইমাম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, নিউ ইংল্যান্ড ইকুইটি লিঃ, মোঃ লুৎফর রহমান (বাদল), সোমা আলম রহমান প্রমুখের (প্যারা ৫.১৫) ছায়া হিসাবে লেনদেন হিসাবের মাধ্যমে যথাযথ জমা-উত্তোলন প্রতিফলিত হয়নি।
সুপারিশ : ক. পুনর্গঠিত এসইসি সব অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে থাকা ছায়া হিসাবগুলো যথাযথ পরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। খ. অনতিবিলম্বে হিসাবগুলোকে বিও অ্যাকাউন্টে রূপান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গ. তিন মাসের মধ্যে অমনিবাস অ্যাকাউন্ট ইনডিভিজুয়াল বিও অ্যাকাউন্টে রূপান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত না হলে অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধ ঘোষণা করবে এসইসি।
ব্লক প্লেসমেন্ট
প্রেক্ষাপট : ক. পঞ্চম অধ্যায়ের ৫.১৯ পর্বে মাত্র ২টি ঠিকানায় ১৯ জন ব্যক্তিকে ১৯ কোটি টাকার শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা সন্দেহজনক ব্লক ট্রেডিং। ঘ. ৫.২০ প্যারাতে আহসান ইমাম, সোমা আলম রহমান, শামিমা শরীফ, লুৎফর রহমান বাদল, মনসুর বিল্লাহ প্রমুখ নামে বিপুল অংকের শেয়ার বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।
সুপারিশ : এসইসি পুনর্গঠনের পর এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত তদন্ত করে এদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ, যোগসাজশে বরাদ্দ গ্রহণ প্রভৃতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বের করে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কেসস্টাডি পর্বে চিহ্নিত সমস্যা
প্রেক্ষাপট : সপ্তম অধ্যায়ে মোট ১৭টি কোম্পানির কেসস্টাডি উপস্থাপন করা হয়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে সর্বাধিক তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন করা হয়েছে। মন্তব্য সনি্নবেশিত হয়েছে।
সুপারিশ : কেসগুলো চিহ্নিত অস্বাভাবিকতা, অনিয়ম, আইনলঙ্ঘন, প্রভৃতির জন্য কে দায়ী এবং এগুলোকে অনুমোদনের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কে কে দায়ী, তা পরীক্ষা করে নিরূপণ করা প্রয়োজন। পুনর্গঠিত এসইসি এ দায়িত্ব পালন করতে পারে। দায়দায়িত্ব নিরূপণ, শাস্তিবিধান, ত্রুটি সংশোধন প্রয়োজন। শুধুমাত্র উপস্থাপিত ১৭টি কেসের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসইসি একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করতে পারে।
তদন্ত পরবর্তী ধারাবাহিক কর্ম
প্রেক্ষাপট : শেয়ার লেনদেনের অর্থ বিও অ্যাকাউন্ট, মার্চেন্ট ব্যাংকার অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রভৃতির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। কখনও বা নগদায়ন হয়। ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্য সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রক এসইসি। উভয় সংস্থার 'সম্মিলিত পরিদর্শন ও তদন্ত' ব্যতিরেকে অর্থের হদিস করা অসম্ভব। তদন্ত কমিটি নিজস্ব প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ তদারকিতে তদন্ত চালিয়ে কয়েকটি নমুনা অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে এত অল্প নমুনা পরীক্ষাতেও দুর্নীতির তথ্য বের হয়ে এসেছে, যা অষ্টম অধ্যায়সহ অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে। কমিটি নিশ্চিত, নিবিড় যৌথ তদন্ত অব্যাহত থাকলে আরও অনেক দুর্নীতি-অনিয়ম বের হয়ে আসবে এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
সুপারিশ : যৌথ তদন্ত অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এসইসি, ডিএসই, সিএসই, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর সমন্বয়ে একটি সার্বক্ষণিক 'যৌথ ইন্সপেকশন দল' গহঠন করা যেতে পারে। নেতৃত্বে থাকবে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দু'জন নির্বাহী পরিচালক (নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত)। এ দু'জন 'ইন্সপেকশন পরিকল্পনা' প্রণয়ন করবে এবং যৌথ দল তদনুযায়ী কাজ করে উভয়ের কাছে রিপোর্ট প্রদান করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক পরীক্ষা করবে অর্থের সংস্থান কোত্থেকে আসছে, অর্থ কোথায় যাচ্ছে, মানি লন্ডারিং হচ্ছে কি-না? এসইসি দেখবে লেনদেনে কারসাজি, অনৈতিকতা বা আইন ভঙ্গ হচ্ছে কি-না?
বাস্তবায়ন মনিটরিং
প্রেক্ষাপট : ক. ১৯৯৬ সালের শেয়ার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বাস্তবায়ন দূরের কথা, বিবেচিত হয়েছে কি-না, সে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। খ. বর্তমান কমিটি অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করেছে, দুর্নীতি-অনিয়ম সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে, নমুনা ইন্সপেকশন করেছে এবং তদনুযায়ী সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। এসবের যুক্তিযুক্ত পরিণতি থাকা উচিত।
সুপারিশ : তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, বিশেষ করে সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার যেগুলো গ্রহণ করবে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি 'বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটি' গঠন করা প্রয়োজন। ব্যাংকিং বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে এসইসির চেয়ারম্যান ও দু'জন মেম্বার সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হতে পারে। কমিটি প্রথম তিনমাস সাপ্তাহিক ভিত্তিতে, পরবর্তী ছয় মাস পাক্ষিক ভিত্তিতে এবং তৎপরবর্তীতে মাসিক ভিত্তিতে বাস্তবায়ন তদারক করবে। কমিটি মাসিক ভিত্তিতে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্বন্ধে অবহিত করবে। সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।
সরকারের সতর্কতা প্রয়োজন
প্রেক্ষাপট : ১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন, খোরশেদ আলম, সালমান এফ রহমান, এনায়েতুর রহিম, রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভী প্রমুখ। বর্তমান তদন্তে এদের মধ্যে সালমান এফ রহমান এবং রকিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত এসেছে এবং কিছু তথ্যও পরিবেশিত হয়েছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দু'জনেই সক্রিয় ছিলেন মর্মে অনেকেরই ধারণা। এসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের নিয়োগ এবং মেম্বার মনসুর আলমের পুনর্নিয়োগে সালমান রহমান ও রকিবের জোরালো তদবির এবং সমর্থন ছিল বলে অনেকের বিশ্বাস। বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান রহমান নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ধরনা দিয়েছেন। জিএমজি, ইউনিক হোটেল প্রভৃতি কেসে সালমান সম্পৃক্ত রয়েছেন (৭ম অধ্যায়, কেস ৭.৩)। কেসগুলো অস্বচ্ছ। এসইসি পরিচালনায় দু'জনেরই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল। এ কারণে সাধারণ্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সুপারিশ : পুঁজিবাজার লেনদেন ও পরিচালনায় সালমান রহমান ও রকিবুর রহমানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন বলে তদন্ত কমিটি মনে করে। মার্কেট প্লেয়ারবৃন্দ এসইসির ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হলে এসইসি অকার্যকর হয়ে থাকবে। বিপর্যয় পুনঃসংঘটিত হবে।
বিবিধ প্রসঙ্গ
ক. বিও অ্যাকাউন্ট খোলার সময় টিন (ঞওঘ) নম্বর প্রদানের বিধান করা হোক।
খ. এসইসির অবসরপ্রাপ্ত, পদত্যাগকারী, অন্য কোনোভাবে অপসারিত বা চাকরি অবসায়নকৃত কর্মকর্তাদের পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগ, পরামর্শক, উপদেষ্টা বা অন্য কোনোভাবে পূর্ণ বা খণ্ডকালীন নিযোগ প্রদান এবং শেয়ার-ইস্যু বা পুঁজিবাজার সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে পরামর্শ-সার্ভিস প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে এবং স্বার্থ সংঘাত সৃষ্টি হয়। (এসইসির সাবেক মেম্বার সাহাবুব আলম কনসালটেন্সির সুযোগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে)।
গ. সিডিবিএল থেকে দৈনন্দিন ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার হোল্ডিংয়ের তথ্য কোম্পানিকে প্রদান বন্ধ করা হোক। সিডিবিএল ও স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়ের তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও সংহত করতে হবে, কারণ তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং পাচারকৃত ছাপান তালিকা তদন্ত কমিটির হস্তগত হয়েছে।
ঘ. গুজবনির্ভর শেয়ার ট্রেডিং বন্ধ করার লক্ষ্যে এবং ক্ষুদ্র বিনিযোগকারীদের পরামর্শ সহায়তা প্রদানের জন্য এসইসি 'বিনিয়োগ পরামর্শক' (investment adviser) নিবন্ধন প্রথা প্রচলন করতে পারে।
প্রশাসক বিদায় নেবেন।
বহুল আলোচিত শেয়ার কারসাজির তদন্তে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশমালা বিশ্বস্ত সূত্রে সমকালের হস্তগত হয়েছে। নিম্নে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো_
সুপারিশমালা
সীমিত সময়ের মধ্যে সর্বাধিক প্রচেষ্টায় তদন্ত কমিটি যেসব তথ্য-উপাত্ত, মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করেছে সেগুলো তদন্ত প্রতিবেদনের দ্বিতীয় থেকে অষ্টম অধ্যায়গুলোতে বিষয়ওয়ারিভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পূর্ববর্তী অধ্যায় বর্ণিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে। সরকারের বিবেচনার্থে এ অধ্যায়ে প্রণীত সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হলো। অনুধাবনের সুবিধার্থে প্রতিটি সুপারিশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্যর্থতার মূল দায় দায়িত্ব
প্রেক্ষাপট : ২০০৯-২০১০ দুই বছরে পুঁজিবাজার উত্থান-পতন, উল্লম্ফন-ধসের কারণ বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে, ক. প্রাইমারি ইস্যু কর্মকাণ্ডে ডাইরেক্টর লিস্টিং, কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, শেয়ারের উচ্চমূল্য নির্ধারণ, বুকিং বিল্ডিং প্রক্রিয়ার অপপ্রয়োগ, ফেসভ্যালু বা কম মূল্যে বিশেষ ব্যক্তি/সংস্থাকে প্লেসমেন্ট প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইস্যুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার, ভ্যালুয়ার, অডিটর, ডিলার-ব্রোকারসহ অনেকে সম্পৃক্ত। খ. সেকেন্ডারি মার্কেটে সার্কুলার ট্রেডিং, ব্লক ট্রেডিং, অস্বাভাবিক লেনদেন প্রভৃতি বিষয়ের ডিলার-ব্রেকার, বিনিয়োগকারীসহ সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি/সংস্থা জড়িত। গ. রাইটশেয়ার, প্রেফারেন্স শেয়ার, আইপিও-রিপিট আইপিও, আনরিয়েলাইজড প্রফিটের বিপরীতে স্টক শেয়ার ইস্যু প্রভৃতি বিষয়ে অনিয়ম বা অসঙ্গতি বিদ্যমান। ঘ. এছাড়া ষষ্ঠ অধ্যায়ে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনাকালে অনেক অসঙ্গতি, অনৈতিকতাকে বৈধতা দান এবং দায়িত্ব অবহেলার উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি মনে করে, এসইসি ডিউ ডিলিজেন্স প্রয়োগ করলে পেশাগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করলে এবং অসঙ্গতি-অস্বাভাবিকতাকে বৈধতা প্রদান না করলে এবারের পুঁজিবাজারে ধস হতো না। অতএব, ব্যর্থতার মূল দায়িত্ব এসইসিকেই বহন করতে হবে।
সুপারিশ : অনৈতিকতাকে বৈধতা প্রদান প্রক্রিয়ায় মূল ঘটকের ভূমিকায় ছিলেন এসইসি মেম্বার মনসুর আলম। চেয়ারম্যানের আনুকূল্য ও সম্মতি ছাড়া যেহেতু কমিশনের অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয় না, অতএব চেয়ারম্যান এবং মেম্বার মনসুর আলম উভয়ই দায়ী। শীর্ষ দায়ী কর্মকর্তাদ্বয়কে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করে অন্যায় করেছেন দু'জন নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এবং তারিকুজ্জামান। এসইসির অনেক কর্মকর্তা সুবিধা গ্রহণ ও অনৈতিক কাজে সহায়তা করেছেন এই চারজন প্রধান নির্বাহীর ছত্রছায়ায়। অতএব, চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, নির্বাহী পরিচালকদ্বয় আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এবং তারিকুজ্জামানকে এসইসি থেকে অপসারণ প্রয়োজন এবং তাদেরসহ মনসুর আলমের ব্যাপারে নিবিড় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এসইসি পুনর্গঠন
প্রেক্ষাপট : ক. পুঁজিবাজার বিনষ্টকরণে এসইসির সাম্প্রতিক ভূমিকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হয়েও মার্কেট প্লেয়ারদের পরামর্শে পরিচালিত হওয়া ও যোগসাজশে অনৈতিক কর্মে বৈধতা প্রদান, বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা ও শৈথিল্য প্রদর্শন প্রভৃতি কারণে এসইসির ভাবমূর্তি অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পেঁৗছেছে যে, কমিশনের বৈধ নির্দেশ না মানার সাহস জন্মেছে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, ২১/৩/১১ তারিখে এসইসির অনুমতিক্রমে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে তদন্ত কমিটি কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তা পাঠালে কোম্পানির সিইও শেখ মুর্তজা আহমেদ তাদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি। এসইসি পরদিন ২৩/৩/১১ তারিখে পুনরায় ফোন করে লোক পাঠালে শেখ মুর্তজা আবার বাধা দেন। আরও দু'একটি ঘটনা কমিটি প্রত্যক্ষ করেছে। ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এসইসির বড় রকম পুনর্গঠন প্রয়োজন। খ. পুঁজিবাজার বেশ সম্প্রসারিত হয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণ ও নিযন্ত্রণের মতো লোকবল কমিশনের নেই। তদুপরি কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে পড়ায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গ. এসইসিতে কোয়ালিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ফিনান্সিয়াল এনালিস্ট ও বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পেশাগতভাবে সম্পন্ন হয় না। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জোরদার থাকে। ঘ. কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো মেধা আকর্ষণ করে না, দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে।
সুপারিশ : দায়ী বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি সর্বনিম্নে বিধায় তাদের দ্বারা সংস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয়। দায়ী ব্যক্তিদের অব্যাহিত দান করে সৎ, দক্ষ, অতীতে সফল এবং গ্রহণযোগ্য একজন চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ পদ পূরণের পরই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। খ. এবার জরুরিভিত্তিতে নিয়োগ দানের পর ভবিষ্যতে একটি উচ্চ পর্যায়ের সার্চ কমিটির দ্বারা বাছাইকৃত একটি প্যানেল থেকে সরকার চেয়ারম্যান ও মেম্বার নিয়োগ দেবে। সার্চ কমিটি প্রতিপদের বিপরীতে তিনজনের প্যানেল প্রস্তুত করবে। আবেদন করেননি এমন যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে নিয়ে (সম্মতি থাকলে) তালিকাভুক্ত করার ক্ষমতা সার্চ কমিটির থাকা উচিত। গ. কমিশন চেয়ারম্যানসহ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট হতে পারে। তারা হতে পারেন চার্টার্ড/কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইন বিশেষজ্ঞ, ব্যাংকার, অ্যাকাউন্টিং/ফিন্যান্সের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রাজ্ঞ ও সফল ব্যক্তিত্ব (প্রশাসক/ব্যবস্থাপক/সাধারণ)। ঘ. নতুন চেয়ারম্যান-মেম্বার নিয়োগের পর নবগঠিত কমিশন একটি 'এসইসি রিস্ট্রাকচারিং প্লান' প্রস্তুত করে সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করতে পারে। পুনর্গঠন পরিকল্পনায় একটি শক্তিশালী ইন্সপেকশন বিভাগ এবং একটি কোম্পানি হিসাব যাচাই বিভাগ অবশ্যই থাকতে হবে। এছাড়া 'পুঁজিবাজার বিধি পরিচালন' বিভাগও থাকা উচিত। ইন্সপেকশন বিভাগ নিয়মিত ইন্সপেকশন করবে (সব ডিলার-ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ইত্যাদি)। বিধি পরিচালন বিভাগ বিচ্যুতির জন্য শাস্তি প্রয়োগ করবে। এটি আইন বিভাগ নয়, বরং আইনের প্রয়োগ বিভাগ হবে। ঙ. অর্গানাইজেশন স্টাডির ভিত্তিতে পুনর্গঠনের অন্যান্য উপাত্ত বের হবে চ. প্রতিটি ডেস্কের 'জব স্পেসিফিকেশন' ও 'জব ডেসক্রিপশন' তৈরি করতে হবে। ছ. একটি উপযুক্ত বেতন কাঠামো এজেন্ডায় থাকা উচিত।
স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন
প্রেক্ষাপট : ক. বাংলাদেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। দুটি স্টক এক্সচেঞ্জই পুঁজিবাজারের প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক, যদিও প্রধান নিয়ন্ত্রক এসইসি। সেই বিচারে স্টক এক্সচেঞ্জের একটি নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামো থাকা উচিত। খ. দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক পরিষদ ২৫ সদস্যবিশিষ্ট-১২ জন ডিলার-ব্রোকার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত, ১২ জন মনোনীত, বাকিজন হলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বাস্তবে নির্বাচিত পরিচালকরাই প্রশাসন চালিয়ে থাকেন। যেহেতু মনোনীত সদস্যদের উৎসাহ ও সম্পৃক্ততা কম দেখা যায়। ফলে যারা পুঁজিবাজারের প্লেয়ার তারাই নিয়ন্ত্রখের ভূমিকায়। স্বার্থের সংঘাত (পড়হভষরপঃ ড়ভ রহঃবৎবংঃ) সংস্থার নিয়ন্ত্রক ভূমিকাকে প্রায়ই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। গ. এ পরিপ্রেক্ষিতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন ধারণাটি এসেছে সঙ্গত কারণে। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের মর্মার্থ হলো, নিয়ন্ত্রিতের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রকের কার্যাবলি থেকে পৃথক করে প্লেয়ারদের প্রভাব বলয় থেকে বাইরে সরিয়ে রাখা। ঘ. ভারতের মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ সরকারি চাপে ডিমিউচুয়ালাইজ করা হয়েছে। পাকিস্তানে প্রক্রিয়াধীন। ঙ. তদন্ত কমিটি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থা/ব্যক্তি এবং সিভিল সমাজের সঙ্গে যে ব্যাপক আলোচনা করেছে তাতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করার পক্ষে ব্যাপক দাবি ও সমর্থন পাওয়া গেছে। যদিও প্লেয়ারদের অনেকের অবস্থান দুর্বল। চ. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ স্বপ্রণোদিত হয়ে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের বিষয়টি পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। ছ. ডিএসইর মূল মালিক সদস্যরা, ক্ষমতাও তাদের। তারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা তুলে দেবে প্রশাসনের হাতে_ এমনটা স্বাভাবিক চিন্তা নয়। এর কারণে ভারত সরকার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ গঠনের মাধ্যমে মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ডিএসইর গঠিত কমিটি কী ফল দেবে, আদৌ দেবে কী দেবে না, তা সময়েই বলে দেবে।
সুপারিশ : ক. ডিএসই একটি ডিমিউচুয়ালাইজেশন কমিটি গঠন করলেও কমিটিকে কোনো সময়সীমা প্রদান করেনি (এটাই স্বাভাবিক)। সরকার ডিএসইকে পরামর্শ দিতে পারে কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের জন্য তিন মাস সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে। খ. ৩ মাস পর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। গ. কমিটির সুপারিশ এবং ডিএসইর অবস্থান সন্তোষজনক না হলে সরকার নিজে 'ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরিকল্পনা' তৈরির জন্য বিশ্বব্যাংক বা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নিতে পারে। পরিকল্পনার সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর বাস্তবায়নের জন্য সরকার (এসইসির মাধ্যমে) ডিএসইতে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে। ঘ. ইমপ্লিমেন্টেশন সিডিউল অনুযায়ী ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়নের পর সংশোধিত ডিএসই মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী নির্বাচন দিয়ে পুনর্গঠন সম্পন্ন করে প্রশাসক বিদায় নেবেন। ঙ. বিষয়টি স্বার্থ-সংঘাত বিষয়ক এবং জটিলতা মিশ্রিত বিধায় সরকার যথাসময়ে 'ডিমিউচুয়ালাইজেশন ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং সেল' গঠন করতে পারে। সেলটি এসইসিতে কাজ করতে পারে।
স্টক এক্সচেঞ্জ ও এসইসি কর্মসমন্বয়
প্রেক্ষাপট : ক. এসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয় উভয়েই নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলি পরিচালনা করে। ডিএসইস/এসইসি প্রাইমারি রেগুলেটর এবং এসইসি প্রধান রেগুলেটর। এ কারণে উভয়ের কর্মপরিধিতে ওভারল্যাপ রয়েছে। যেহেতু এ পর্যন্ত র্যাশনালাইজেশন করা হয়নি। খ. তদন্ত কমিটি লক্ষ্য করেছে, ডিএসই এবং এসইসি উভয় সংস্থাতেই সার্ভিল্যান্স বিভাগ আছে একই কাজের জন্য। ডিএসই সার্ভিল্যান্স বিভাগ কিছু কাজ করেছে। এসইসির সার্ভিল্যান্স দুর্বল। উভয়ের মধ্যে সমন্বয় নেই। গ. তদন্ত কমিটি আরও লক্ষ্য করেছে, ডিএসই এবং সিএসইর লিস্টিং কমিটি প্রাইমারি রেগুলেটর হিসেবে কোম্পানির তালিকাভুক্তির আবেদন যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনেকগুলো কোম্পানির ক্ষেত্রে বিরূপ মন্তব্য করেছে। অথচ এসইসি যেসব উপেক্ষা করে স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়কে লিস্টিংয়ের বাধ্য করেছে, কোনো যুক্তি না দিয়েই।
সুপারিশ : ক. একটি স্টাডিটিম গঠন করে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং এসইসির ওভারল্যাপ কর্ম ও গ্রে-এরিয়াগুলো চিহ্নিত করে কর্মতালিকা সুনির্দিষ্ট করা উচিত। খ. তদন্ত কমিটির মতে, সার্বক্ষণিক সার্ভিল্যান্সের দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ন্যস্ত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিএসই/সিএসইর সার্ভিল্যান্স বিভাগ আরও শক্তিশালী করতে হবে। কর্মী সংখ্যা বাড়াতে হবে, পদ্ধতি আধুনিকীকরণ করতে হবে। বাজারে যে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। গ. এসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগকে পুনর্গঠন করে 'ইন্সপেকশন বিভাগে' রূপান্তর করতে হবে। বাজারের সব সংস্থায় নিয়মিত ইন্সপেকশন পদ্ধতি প্রচলন করতে হবে। ঘ. কোম্পানির লিস্টিং স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ। তাদের লিস্টিং প্রতিবেদন নিয়ে এসইসি প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে, কিন্তু উপেক্ষা করতে পারবে না।
পুঁজিবাজারের ব্যাংকের অর্থায়ন
প্রেক্ষাপট : ক. পুঁজিবাজার এবং অর্থবাজারকে পৃথক রাখা বিশ্ব স্বীকৃতি রীতি। ব্যাসেলের পরবর্তী নীতিমালার 'অ্যবসলুট সেপারেশন'-এর কথা থাকছে। কারণ হলো, পুঁজিবাজার নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগের জন্য। আমানতকারীর জমা অর্থ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের অধিকার গ্রাহক ব্যাংককে দেয়নি। প্রয়োজনে গ্রাহক নিজের টাকা নিজেই পুঁজিবাজারে বিনিযোগ করবে। কিন্তু গ্রাহকের টাকা বিনা অনুমতিতে ব্যাংক কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ অনৈতিক। খ. এ কারণে ভারতীয় ব্যাংকিং আইনে এবং পাকিস্তানের ব্যাংকিং আইনে কোনো ব্যাংক কর্তৃক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছ ব্যাংকের ইকুইটির (অর্থাৎ মালিকের নিজস্ব পুঁজি) সঙ্গে। আমানত বা ব্যাংকের দায়ের সঙ্গে নয়। অথচ বাংলাদেশের ব্যাংক কোম্পানির আইনের ২৬(২) ধারায় ব্যাংকগুলোকে দায় অর্থাৎ মোট আমানতের ১০% পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। গ. এ কারণে ব্যাংকের বড় অংশের ঋণ পুঁজিবাজারে প্রবেশ করেছে, তারল্য বাড়িয়েছে, শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এমনকি অর্থ বাজারেও সংকট সৃষ্টি করেছে। ঘ. তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ মতে এ ব্যবস্থা সংশোধন করা না হলে ভবিষ্যতে পুঁজি ও অর্থ উভয় বাজারে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতির বিপর্যস্ত হতে পারে।
সুপারিশ : ক. ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলংকাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুসরণে এবং ব্যাসল নীতিমালার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(২) ধারা অবিলম্বে সংশোধন করে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে ব্যাংকের মূলধন (টিয়ার-১)-এর অংশ হিসেবে ধার্য করা হোক। আমানতের সঙ্গে সংযোগ রহিত করা হোক। খ. যেসব ব্যাংক ২০০৯ ও ২০১০ সালে আইন ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে এবং উল্লম্ফনে সাহায্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। গ. পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অবৈধ (কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত) পদচারণা বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকিতে থাকা উচিত এবং নিবৃত্ত করা উচিত।
প্রাক-আইপিও এবং আইপিও প্রক্রিয়া
প্রেক্ষাপট : ক. শেয়ার অজড়করণ ও স্টক এক্সচেঞ্জ যান্ত্রিকীকরণে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা অনেকটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারের প্রবেশের আগের স্তরগুলো এখনও অস্বচ্ছ। স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং কমিটির সুপারিশ না থাকলেও আইপিওর জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন অস্বাভাবিক হলেও এসইসি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্রহণ করে। অস্বাভাবিক ইনডিকেটিভ মূল্য নির্ধারণে যৌক্তিকতা থাকে না। খ. এসইসি যেন শুধু অনুমোদনের জন্যই, কোনো পেশাগত ডিউ-ডিলিজেন্সের লক্ষণ নেই। মূলত এ কারণেই প্রাক-আইপিও/আইপিও পর্যায়ে প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়া এবং 'প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে কার্ব মার্কেট' সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। সে কারণে আসল পুঁজিবাজারের অর্থ ঘাটতি ঘটায় এবারে পুঁজিবাজার ধস ঘটেছে।
সুপারিশ : ক. প্রাক-আইপিও/আইপিও প্রক্রিযায় স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে নিয়ামাচার তৈরি ও তা প্রতিপালনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এসইসি নিয়মাচার তৈরি করতে পারে। তবে নিয়মাচার প্রকাশিত হতে হবে এবং পরিচালন কর্মও স্বচ্ছ হতে হবে।
প্লেসমেন্ট 'বাণিজ্য'/কার্ব মার্কেট
প্রেক্ষাপট : ক. তদন্ত কমিটির জনমত সংগ্রহে বেরিয়ে এসেছে যে, 'প্লেসমেন্ট' এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইপিও মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে প্লেসমেন্টের অনুমতি থাকছে। ফলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের 'প্লেসমেন্ট' নিয়ে প্রভাবিত করার প্রয়াস লক্ষণীয়। খ. এসইসির কোনো প্লেসমেন্ট নিয়মাচার নেই। গ. পাবলিক অফারের উদ্দেশ্য জনগণের অংশগ্রহণ। কিন্তু প্লেসমেন্টের ফলে জনগণের অংশ কমে গেছে। ঘ. রূপান্তরযোগ্য প্রেফারেন্স শেয়ার ২০০৯-১০ দু'বছরের ৮টি কোম্পানি ছেড়েছে, যার মধ্যে গড়ে ৬৯% প্লেসমেন্টে গেছে (সর্বোচ্চ ১০০% অগি্নসিস্টেম এবং সর্বনিম্ন ৫৮% পিপলস লিজিং)। এ অবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত। ঙ. প্রাথমিক ইস্যুতে জনগণের অংশ সংকুচিত করে বড় অংশ প্লেসমেন্টে প্রদানের ফলে 'চিটা হাতবদল' বা প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে। এটি কার্ব মার্কেটের সঙ্গে তুলনীয়। অস্বচ্ছতা চরম পর্যায়ে। ৮ম অধ্যায়ে ৮.১২ পর্বে শীর্ষ প্লেসমেন্টধারীদের তালিকা দ্রষ্টব্য।
সুপারিশ : ক. সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি, গবেষক, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ভিত্তিতে 'প্লেসমেন্ট নিয়মাচার' তৈরি করতে হবে। পুনর্গঠিত এসইসি এ কাজটি করতে পারে। খ. প্লেসমেন্ট বরাদ্দপত্র ইস্যু করতে হবে, যার কপি এসইসিকে দিতে হবে। গ. বরাদ্দপত্র হস্তান্তরযোগ্য হবে
না। বরাদ্দপত্রের বিপরীতে প্লেসমেন্ট ক্রয়ের অর্থ বিও অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে, যার বিপরীতে শেয়ার ইস্যু হবে। বরাদ্দপত্র ওয়ারেন্ট ধরনের হবে এবং শেয়ারে কনভার্ট হওয়ার পর প্রাইভেট প্লেসমেন্টের শেয়ার অন্তত এক বছর লক-ইন থাকবে, যেহেতু আইপিও ভ্যালুর চেয়ে কম মূল্যে দেওয়া হয়েছে। ঘ. বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর আরও প্রক্রিয়াযুক্ত করে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের অস্বচ্ছ কার্ব মার্কেট বন্ধ করতে হবে। ঙ. আইপিও শেয়ারমূল্যের ২৫%-এর বেশি প্লেসমেন্ট হওয়া উচিত নয়। চ. বর্তমানে আইপিও প্রায় ২৩ গুণ ওভারসাবসক্রাইবড হচ্ছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে প্লেসমেন্ট নিষ্প্রয়োজন। ছ. ৮.১২-তে বর্ণিত ৩০ জন শীর্ষ প্লেসমেন্টধারীর অর্থসংস্থান, আন্তঃসংযোগ (হবীঁং) নিবিড় পরীক্ষা করবে এসইসি।
অস্বচ্ছ অমনিবাস অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছতা আনয়ন
প্রেক্ষাপট : ক. ষষ্ঠ অধ্যায়ে অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়াটি আইনানুগ নয় বলে প্রতীয়মান হয়। খ. সিডিবিএলে পরিচালিত প্রতিটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে তিন হাজার থেকে দশ হাজার পর্যন্ত গোপন হিসাব থাকে প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকারের খাতায়। অর্থাৎ ৩-১০ হাজার অ্যাকাউন্টের মোট অঙ্ক বিও হিসাবে যাচ্ছে মার্চেন্ট ব্যাংকারের নামে। ইনডিভিজুয়াল অ্যাকাউন্ট অপ্রদর্শিত থাকছে। তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এ ধরনের অ্যাকাউন্টেই অনৈতিক লেনদেন অধিক। গ. শেয়ার লেনদেন যেহেতু বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হওয়া বাধ্যতামূলক, অতএব মার্চেন্ট ব্যাংকার কর্তৃক রক্ষিত হিসাবে শেয়ার লেনদেন দৃষ্টির বাইরে থাকে।
সুপারিশ : ক. অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে থাকা সব ইনডিভিজুয়াল হিসাবের জন্য পৃথক পৃথক বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন হবে। খ. মার্চেন্ট ব্যাংকার তাদের হিসাবের সুবিধার জন্য শ্যাডো অ্যাকাউন্ট রাখতে পারে। গ. মার্চেন্ট ব্যাংকার ক্লায়েন্টের শেয়ারের ওপর প্রয়োজনে জেনারেল লিয়েন রাখতে পারে, যাতে শেয়ার লেনদেনে বাধা সৃষ্টি না হয় এবং মার্চেন্ট ব্যাংকারের ঋণ সিকিওরড থাকে।
সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেন
প্রেক্ষাপট : ক. সরকারি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অফিসের কাজকর্ম ফেলে কম্পিউটারে বসে শেয়ার ট্রেডিংয়ে ব্যস্ত থাকার দৃশ্য প্রতিটি অফিসেই দেখা যাচ্ছে। এতে অফিসের কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। খ, চাকরিবিধিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। অষ্টম অধ্যায়ে তথ্যচিত্র-১ এবং ২ নমুনা প্রমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এসইসিতে অনুরূপ ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে ব্যাপক ধারণা। ব্যাংকগুলোতেও প্রবণতা প্রবল। চাকরিবিধি প্রয়োগের দৃষ্টান্ত না থাকায় বিধিভঙ্গ বাড়ছে। গ. মিউচুয়াল ফান্ড, আইপিওসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমমূল্যে প্লেসমেন্ট প্রদান ঘুষ প্রদানের নতুন সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ অন্যদের আনুকূল্য লাভের প্রত্যাশায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ 'বেনামি'ত প্লেসমেন্ট নিয়ে থাকেন বলে ব্যাপক গণধারণা রয়েছে। 'বেনামি' চিহ্নিত করাও কঠিন। ঘ. সরকারি তথা প্রভাবশালী মহল সুবিধা গ্রহণের ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ঙ. অষ্টম অধ্যায়ে ৮.১০ পর্বে প্লেসমেন্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
সুপারিশ : ক. এসইসি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার লেনদেন (ট্রেডিং) সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তবে তারা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। চাকরিবিধিতে নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্তকরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মকর্তারা নিজ নামে, স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন, পিতা-মাতার নামে অথবা বেনামিতে শেয়ার লেনদেন করবেন না। খ. প্রমাণ হলে গুরুদণ্ডের বিধান থাকতে হবে। গ. মার্চেন্ট ব্যাংকার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং ব্রোকার-ডিলার কোম্পানির কর্মকর্তাবৃন্দও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। ঘ. সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তারা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন কিন্তু প্লেসমেন্ট নিতে পারবেন না এবং লেনদেন (ট্রেডিং) করতে পারবেন না। প্লেসমেন্ট ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিনিয়োগের জন্য বিও অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং বিও অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ কত টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা নিজ নিজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে।
সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি
প্রেক্ষাপট : ক. বর্তমানে সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতির দুর্বলতার সুযোগে কোম্পানি তার সম্পদের অতিমূল্যায়ন করছে, যা সম্পদের প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিহীন। খ. অতি মূল্যায়িত সম্পদের ওপর ঘঅঠ হিসাব করলে ইনডিকেটরটি ভুল সিগন্যাল দেবে। গ. অনেক কোম্পানি পুনর্মূল্যায়িত সম্পদ মূল্যের আনরিয়েলাইজড গেইনের বিপরীতে বোনাস শেয়ার ইস্যু করেছে, যা বিধিসম্মত নয়। ঘ. সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে 'স্থগিত কর দায়' (ফবভবৎৎবফ ঃধী)-এর বিপরীতে সংস্থান (ঢ়ৎড়ারংরড়হ) করার বিধি রয়েছে ভবিষ্যতে কর প্রদানের সুবিধার্থে। কিন্তু পুনর্মূল্যায়নকারী কোম্পানিগুলো তা করছে না। ঙ. বাংলাদেশে সার্টিফায়েড সার্ভেয়ার নেই (ইনস্টিটিউট অব সার্ভেয়ার্সও নেই)। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট একই সঙ্গে কোনো কোম্পানির অডিট এবং ভ্যালুয়েশন করতে পারেন না।
সুপারিশ : ক. যে পর্যন্ত দেশে চার্টার্ড সার্ভেয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে, সে পর্যন্ত ভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়নের দায়িত্ব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম পালন করবে। তবে শর্ত থাকে যে, একই কোম্পানির ভ্যালুয়ার এবং অডিটর দুটি পৃথক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সংস্থা হতে হবে, কোনো অবস্থাতেই অভিন্ন হবে না। খ. এসইসির কাছে কোনো কোম্পানি পুনর্মূল্যায়িত সম্পদের হিসাব পেশ করলে এসইসি সন্তুষ্ট না হলে মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে শেয়ারমূল্য নির্ধারণ
প্রেক্ষাপট : ক. স্থিরমূল্য (ভরীবফ ঢ়ৎরপব) পদ্ধতিতে শেয়ারমূল্য নির্ধারণে জটিলতা কম হলেও অধিকতর বাস্তবসম্মত এবং অবজেকটিভ করার সুযোগ রয়েছে। খ. ভবিষ্যৎ তিন বছরের প্রক্ষেপিত (ঢ়ৎড়লবপঃবফ) আয় বিবেচনার সুযোগ আইনে রাখা হয়েছে, যা প্রশ্নসাপেক্ষ। গ. পূর্ববর্তী বছরের সমজাতীয় স্টকের (ংরসরষধৎ ংঃড়পশ) বাজারমূল্য বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সমজাতীয় স্টকের সংজ্ঞা বা ব্যাংখ্যা দেয়া হয়নি।
সুপারিশ : ক. তিন বছরের প্রজেক্টেড মূল্য নির্ণয়ের ভিত্তি, ধংংঁসঢ়ঃরড়হ পদ্ধতি এবং ভ্যালুয়েশন লিপিবদ্ধ করতে হবে। এসইসির নিকট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত না হলে প্রত্যাখ্যান করা হবে। খ. সমজাতীয় স্টকের সংজ্ঞা নির্ণয় করতে হবে। তদন্ত কমিটির মতে, বিবেচনাকালীন সময়ে যেসব কোম্পানির ঘঅঠ আবেদনকারী কোম্পানির ঘঅঠ-এর তিনগুণের মধ্যে থাকবে এবং পিই রেশিও ১৫-এর বেশি হবে না, সেসব কোম্পানি সমজাতীয় কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে শর্ত থাকে যে, সমজাতীয় কোম্পানির ব্যবসাক্ষেত্র একই রকমের থাকবে। একই ধরনের ব্যবসা কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে এসইসি। গ. সম্পদ মূল্যায়ন সতর্কভাবে পরীক্ষা করবে এসইসি।
বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারমূল্য নির্ধারণ
প্রেক্ষাপট : ক. বাজার বিকৃতি (ফরংঃড়ৎঃরড়হ)-এর একটি প্রধান প্রক্রিয়া হিসেবে বের হয়ে এসেছে বুক-বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের উচ্চমূল্য নির্ধারণ। খ. বুক-বিল্ডিং মেথডে (ডাইরেক্ট লিস্টিং) কেপিসিএলের ১০ টাকা শেয়ারের ইনডিকেটিভ মূল্য ধার্য হয় ১৬২ টাকা, প্রথম দিন বিক্রিমূল্য ছিল ১৯৪.২৫ টাকা এবং বর্তমানে (২৯.৩.১১) বাজারমূল্য মাত্র ৯৬.৯০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বিক্রিমূল্য থেকে ৯৭.৩৫ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বুক-বিল্ডিং মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে ওসিএলের ১০ টাকার শেয়ারের ইনডিকেটিভ মূল্য ছিল ১২১.৪০ টাকা, প্রথম বিক্রিমূল্য ১৪৫ টাকা এবং বর্তমানে (২৯.৩.১১) বাজারমূল্য ১০৯.১০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বাজারমূল্যের চেয়ে ৩৬.৯০ টাকা কম। প্রমাণ হয় যে, কোম্পানি দুটির মূল্য নির্ধারণ ভুল ছিল। গ. মূল্য নির্ধারণে কারসাজি না করলে যে মূল্যক্ষয় হয় না, তার প্রমাণ জঅক ঈবৎধসরপং কোম্পানি। একই বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে জঅক ঈবৎধসরপং-এর ১০ টাকার শেয়ারের ইনডিকেটিভ মূল্য ধার্য হয় ৪০ টাকা, প্রথম বিক্রিমূল্য ছিল ৪৮ টাকা এবং বর্তমান (২৯.৩.১১) মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭০ টাকা অর্থাৎ প্রথম বিক্রিমূল্যের চেয়ে ৬০.৭০ টাকা বেশি। ঘ. ওপরের তিনটি উদাহরণ থেকে প্রমাণ হয়, ইস্যুয়ার কোম্পানি এবং ইস্যু ম্যানেজার সৎ ও পেশাদার হলে মূল্য বিকৃতি ঘটে না। কিন্তু ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজার এই পদ্ধতিতে মূল্য ম্যানিপুলেট করতে পারে। পদ্ধতির দুর্বলতা দূর করা প্রয়োজন।
সুপারিশ : ক. মূল্য বিকৃতি রোধকল্পে বিধান করতে হবে, যেসব কোম্পানি প্রাইস বিড করবে, তারা সবাই মিলে ওয়েটেড গড় মূল্যে মোট ইস্যুযোগ্য শেয়ারের অন্তত ১০% হারাহারিভাবে ক্রয় করতে বাধ্য থাকবে। আর্থিক দায় বা স্টেক না থাকলে মূল্য নির্ধারণে দায়িত্ববোধ থাকে না। খ. বিডারদের এইভাবে ক্রয়কৃত শেয়ারে অন্তত ১৮০ দিনের লক-ইন থাকবে।
সম্পদ অধিক মূল্যায়নের টেস্ট কেস
প্রেক্ষাপট : সম্পদ মূল্যায়নের ফলে যেসব কোম্পানির শেয়ার প্রতি ঘঅঠ ১০০%-এর বেশি এসেছে, তাদের তালিকা নিম্নরূপ :
সুপারিশ : টেস্ট কেস গণ্য করে উপরোক্ত ৮টি কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের যথার্থতা ৫ সদস্যবিশিষ্ট চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কমিটি দ্বারা পুনঃপরীক্ষা করা হোক। পুনর্মূল্যায়ন ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে অতিমূল্যায়িত কোম্পানি, ভ্যালুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যায়ের শাস্তি না হলে, অন্যায় পুনঃসংঘটিত হয়ে থাকে।
নিয়ন্ত্রণকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ে দুর্নীতি চিত্র-১-এ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়ার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে চারটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। খ. অষ্টম অধ্যায়ের দুর্নীতি চিত্র-২-এ আইসিবির তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মহাব্যস্থাপক) কফিল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আকতার এবং শ্যালক মনসুর বিল্লাহের নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্ট গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। লেনদেনের মুনাফার অর্থ কফিল উদ্দিন চৌধুরীর নিজ নামে স্থায়ী আমনত হিসাবে রক্ষিত হয়েছে, সে তথ্যও এফডিআর নম্বরসহ উল্লেখ করা হয়েছে। গ. অষ্টম অধ্যায়ের ৮.৫ তথ্যচিত্রে এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী (ঈঊঙ) আরওয়াই শমসের কর্তৃক নিজ নামে প্রায় ১২ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। এটি স্বার্থ-সংঘাতজনিত কাজ।
সুপারিশ : ক. প্রথম দু'জনেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিধায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় মামলা গঠন করা উচিত। খ. দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বিভাগীয় মামলার অতিরিক্ত দুর্নীতির মামলা গঠনের উদ্দেশ্যে দুর্নীতি দমন বিভাগে প্রেরণ করা উচিত। গ. জনাব আরওয়াই শমসের (ঈঊঙ) হয়েও প্লেসমেন্ট নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন বিধায় তাকে পদ থেকে অপসারণ করা উচিত।
সিরিয়াল ট্রেডিং ও কারসাজি
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ে ৮.৬ প্যারায় জনাব সিরাজউদ্দৌলা ও সহযোগীবৃন্দ, ইয়াকুব আলী খন্দকার ও সহযোগীবৃন্দ এবং আনোয়ার হোসেন খান ও সহযোগীবৃন্দের নিজেদের মধ্যে ইঁষশ লেনদেন করে কৃত্রিম ট্রেডিং পরিবেশ সৃষ্টির তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। খ. ৮.৭ প্যারাতে আবু সাদত মোঃ সায়েম ও তার ভাই আবদুল মোবিন মোল্লার সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। গ. ৮.৮ প্যারাতে গোলাম মোস্তফার ৬টি ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়, কারচুপি এবং অনৈতিকভাবে মূল্য-উত্তেজক কর্মের তথ্য পরিবেশিত হয়েছে।
সুপারিশ : অনৈতিক কাজগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ৮.৬ প্যারায় বর্ণিত কারসাজি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইনের ১৭(ই) ধারার পরিপন্থী।
শেয়ারের ফেসভ্যালু ইউনিফর্মকরণ
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ের ৮.৯ পর্বে দেখান হয়েছে, ষ্টক স্পিল্গটের ফলে বাজার বিচ্যুতি ঘটেছে ৮১.৫%। খ. সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় শেয়ারের ফেসভ্যালু ইউনিফরম করার পক্ষে ব্যাপক সুপারিশ প্রদান করা হয়। তবে সমমূল্যে ১০০ নাকি ১০ টাকা হবে তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। গ. ফেসভ্যালুতে ভিন্নতা থাকায় মার্কেট প্লেয়ারদের পার্সেপশন সমস্যা প্রকট_ একথা নিশ্চিত। এটি দেশজ সমস্যা। ১০০ টাকার শেয়ার ৫০০ টাকা হলে যেমন চোখে পড়ে, ১০ টাকা শেয়ার ৫০ টাকা হলে তেমন চোখে পড়ে না। সাধারণ ক্রেতা ৫০০ টাকার তুলনায় ৫০ টাকায় শেয়ার ক্রয় শ্রেয় মনে করে, যাতে করে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে থাকে।
সুপারিশ : যেহেতু ক. ১০০ টাকার অনেক শেয়ার এরই মধ্যে ১০ টাকায় রূপান্তরিত হয়েছে, এবং খ. ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ টাকার শেয়ার ক্রয় সহজসাধ্য; অতএব কমিটি মনে করে, অন্য মূল্যমানের শেয়ারগুলো সমমূল্য করার সুবিধার্থে ১০ টাকায় রূপান্তর করা হোক। ১০ টাকা ফেসভ্যালু নয় এমন লিস্টেড কোম্পানিগুলোকে ২০১১ সালের মধ্যে শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকায় কনভার্ট করার উৎসাহমূলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
রাইট শেয়ার/প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুতে অনৈতিকতা
প্রেক্ষাপট : ক. অষ্টম অধ্যায়ে ৮.১০ পর্বে বর্ণিত হয়েছে, রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে কনফিডেন্স সিমেন্ট ৬০০% প্রিমিয়ামে, বে-লিজিং ২৫০% প্রিমিয়ামে, ইস্টার্ন ইন্সুরেন্স ২০০% প্রিমিয়ামে এবং দি সিটি ব্যাংক, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ও এশিয়া ইন্সুরেন্স প্রত্যেকে ১০০% প্রিমিয়ামে রাইট শেয়ার ইস্যু করেছে। এসইসির অনুমোদন প্রশ্নবিদ্ধ। শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে দাম কমার কথা। কিন্তু রাইট ইস্যুর পর দাম বেড়েছে। রহস্যজনক। খ. রূপান্তরযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ারের প্রচলন দেশে খুব একটা ছিল না। অথচ ২০০৯-১০ দু'বছরে ৮টি কোম্পানি প্রেফারেন্স শেয়ারে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে (বিস্তারিত ৯৮.১১)। বেক্সিমকো ফার্মা ৪১০ কোটি টাকা, সামিট পাওয়ার ৩০০ কোটি টাকা, আফতাব অটোমোবাইলস ১৮০ কোটি টাকা এবং পিপলস লিজিং ১২০ কোটি টাকা তুলেছে। গ. অনেক প্রেফারেন্স শেয়ার মাত্র ২/৩ মাসের মেয়াদে ছাড়া হয়েছে। মাত্র ১ মাসের জন্য ছাড়ার নজিরও রয়েছে। এত অল্প মেয়াদে রূপান্তরকরণ বিদেশে সাধারণত দেখা যায় না।
সুপারিশ : যেহেতু প্রেক্ষাপটে বর্ণিত অস্বাভিকতা ছিল রাইট/প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু প্রক্রিয়ায় এবং যেহেতু এ সবকিছুই হয়েছে এসইসির অনুমোদনে, অতএব এসইসির সিদ্ধান্ত নৈতিকতা বর্জিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ। এসইসি পুনর্গঠিত হওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যেতে পারে, দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। রাইট শেয়ার রূপান্তর/হস্তান্তরকরণে অন্তত তিন বছরের বাধা-নিষেধ থাকা উচিত।
শীর্ষ প্লেয়ারদের সন্দেহজনক লেনদেন
প্রেক্ষাপট : ক. পঞ্চম অধ্যায়ের বর্ণনা থেকে স্পর্শকাতর সময়ে শীর্ষ লেনদেনকারী ব্যক্তিদের মাঝে ছিলেন গোলাম মোস্তফা, আবু সাদাত মোঃ সায়েম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মোঃ খলিলুজ্জামান, মোঃ শহীদুল্লাহ, আরিফুর রহমান, সোমা আলম রহমান প্রমুখ। খ. শীর্ষ লেনদেনকারী সংস্থার মধ্যে ছিল আইসিবি, ফ্রন্টিয়ার ফান্ড (বারমুড়া), ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রভৃতি।
সুপারিশ : এসইসি এসব সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের শেয়ার লেনদেনের ওপর বিস্তারিত তদন্ত করতে পারে। আইনের ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খ. এ অ্যাকাউন্টগুলো সার্বক্ষণিক ভিজিলেন্সের আওতায় রাখতে হবে। এ তালিকা এসইসি চলমানভাবে আপডেট করবে।
অমনিবাস অ্যাকাউন্টের শ্যাডো হিসাবে কারসাজি
প্রেক্ষাপট : ক. সময় স্বল্পতায় তদন্ত কমিটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের অন্তরালে থাকা কয়েক লাখ ছায়া হিসাবে পরীক্ষা করতে পারেনি। নমুনা চয়ন করে কয়েকটি হিসাব পরীক্ষাকালে (পঞ্চম অধ্যায় ৫.১৩ প্যারা) আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিঃ, ডা. এইচবিএম ইকবাল, মুনিরুদ্দিন আহমদ, রোকসানা আমজাদ, গোলাম মোস্তফা, আহসান ইমাম, ইয়াকুব আলী খন্দকার, নিউ ইংল্যান্ড ইকুইটি লিঃ, মোঃ লুৎফর রহমান (বাদল), সোমা আলম রহমান প্রমুখের (প্যারা ৫.১৫) ছায়া হিসাবে লেনদেন হিসাবের মাধ্যমে যথাযথ জমা-উত্তোলন প্রতিফলিত হয়নি।
সুপারিশ : ক. পুনর্গঠিত এসইসি সব অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে থাকা ছায়া হিসাবগুলো যথাযথ পরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। খ. অনতিবিলম্বে হিসাবগুলোকে বিও অ্যাকাউন্টে রূপান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গ. তিন মাসের মধ্যে অমনিবাস অ্যাকাউন্ট ইনডিভিজুয়াল বিও অ্যাকাউন্টে রূপান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত না হলে অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধ ঘোষণা করবে এসইসি।
ব্লক প্লেসমেন্ট
প্রেক্ষাপট : ক. পঞ্চম অধ্যায়ের ৫.১৯ পর্বে মাত্র ২টি ঠিকানায় ১৯ জন ব্যক্তিকে ১৯ কোটি টাকার শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা সন্দেহজনক ব্লক ট্রেডিং। ঘ. ৫.২০ প্যারাতে আহসান ইমাম, সোমা আলম রহমান, শামিমা শরীফ, লুৎফর রহমান বাদল, মনসুর বিল্লাহ প্রমুখ নামে বিপুল অংকের শেয়ার বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।
সুপারিশ : এসইসি পুনর্গঠনের পর এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত তদন্ত করে এদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ, যোগসাজশে বরাদ্দ গ্রহণ প্রভৃতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বের করে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কেসস্টাডি পর্বে চিহ্নিত সমস্যা
প্রেক্ষাপট : সপ্তম অধ্যায়ে মোট ১৭টি কোম্পানির কেসস্টাডি উপস্থাপন করা হয়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে সর্বাধিক তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন করা হয়েছে। মন্তব্য সনি্নবেশিত হয়েছে।
সুপারিশ : কেসগুলো চিহ্নিত অস্বাভাবিকতা, অনিয়ম, আইনলঙ্ঘন, প্রভৃতির জন্য কে দায়ী এবং এগুলোকে অনুমোদনের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কে কে দায়ী, তা পরীক্ষা করে নিরূপণ করা প্রয়োজন। পুনর্গঠিত এসইসি এ দায়িত্ব পালন করতে পারে। দায়দায়িত্ব নিরূপণ, শাস্তিবিধান, ত্রুটি সংশোধন প্রয়োজন। শুধুমাত্র উপস্থাপিত ১৭টি কেসের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসইসি একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করতে পারে।
তদন্ত পরবর্তী ধারাবাহিক কর্ম
প্রেক্ষাপট : শেয়ার লেনদেনের অর্থ বিও অ্যাকাউন্ট, মার্চেন্ট ব্যাংকার অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রভৃতির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। কখনও বা নগদায়ন হয়। ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্য সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রক এসইসি। উভয় সংস্থার 'সম্মিলিত পরিদর্শন ও তদন্ত' ব্যতিরেকে অর্থের হদিস করা অসম্ভব। তদন্ত কমিটি নিজস্ব প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ তদারকিতে তদন্ত চালিয়ে কয়েকটি নমুনা অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে এত অল্প নমুনা পরীক্ষাতেও দুর্নীতির তথ্য বের হয়ে এসেছে, যা অষ্টম অধ্যায়সহ অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে। কমিটি নিশ্চিত, নিবিড় যৌথ তদন্ত অব্যাহত থাকলে আরও অনেক দুর্নীতি-অনিয়ম বের হয়ে আসবে এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
সুপারিশ : যৌথ তদন্ত অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এসইসি, ডিএসই, সিএসই, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর সমন্বয়ে একটি সার্বক্ষণিক 'যৌথ ইন্সপেকশন দল' গহঠন করা যেতে পারে। নেতৃত্বে থাকবে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দু'জন নির্বাহী পরিচালক (নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত)। এ দু'জন 'ইন্সপেকশন পরিকল্পনা' প্রণয়ন করবে এবং যৌথ দল তদনুযায়ী কাজ করে উভয়ের কাছে রিপোর্ট প্রদান করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক পরীক্ষা করবে অর্থের সংস্থান কোত্থেকে আসছে, অর্থ কোথায় যাচ্ছে, মানি লন্ডারিং হচ্ছে কি-না? এসইসি দেখবে লেনদেনে কারসাজি, অনৈতিকতা বা আইন ভঙ্গ হচ্ছে কি-না?
বাস্তবায়ন মনিটরিং
প্রেক্ষাপট : ক. ১৯৯৬ সালের শেয়ার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বাস্তবায়ন দূরের কথা, বিবেচিত হয়েছে কি-না, সে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। খ. বর্তমান কমিটি অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করেছে, দুর্নীতি-অনিয়ম সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে, নমুনা ইন্সপেকশন করেছে এবং তদনুযায়ী সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। এসবের যুক্তিযুক্ত পরিণতি থাকা উচিত।
সুপারিশ : তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, বিশেষ করে সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার যেগুলো গ্রহণ করবে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি 'বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটি' গঠন করা প্রয়োজন। ব্যাংকিং বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে এসইসির চেয়ারম্যান ও দু'জন মেম্বার সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হতে পারে। কমিটি প্রথম তিনমাস সাপ্তাহিক ভিত্তিতে, পরবর্তী ছয় মাস পাক্ষিক ভিত্তিতে এবং তৎপরবর্তীতে মাসিক ভিত্তিতে বাস্তবায়ন তদারক করবে। কমিটি মাসিক ভিত্তিতে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্বন্ধে অবহিত করবে। সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।
সরকারের সতর্কতা প্রয়োজন
প্রেক্ষাপট : ১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন, খোরশেদ আলম, সালমান এফ রহমান, এনায়েতুর রহিম, রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভী প্রমুখ। বর্তমান তদন্তে এদের মধ্যে সালমান এফ রহমান এবং রকিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত এসেছে এবং কিছু তথ্যও পরিবেশিত হয়েছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দু'জনেই সক্রিয় ছিলেন মর্মে অনেকেরই ধারণা। এসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের নিয়োগ এবং মেম্বার মনসুর আলমের পুনর্নিয়োগে সালমান রহমান ও রকিবের জোরালো তদবির এবং সমর্থন ছিল বলে অনেকের বিশ্বাস। বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান রহমান নিজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ধরনা দিয়েছেন। জিএমজি, ইউনিক হোটেল প্রভৃতি কেসে সালমান সম্পৃক্ত রয়েছেন (৭ম অধ্যায়, কেস ৭.৩)। কেসগুলো অস্বচ্ছ। এসইসি পরিচালনায় দু'জনেরই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল। এ কারণে সাধারণ্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সুপারিশ : পুঁজিবাজার লেনদেন ও পরিচালনায় সালমান রহমান ও রকিবুর রহমানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন বলে তদন্ত কমিটি মনে করে। মার্কেট প্লেয়ারবৃন্দ এসইসির ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হলে এসইসি অকার্যকর হয়ে থাকবে। বিপর্যয় পুনঃসংঘটিত হবে।
বিবিধ প্রসঙ্গ
ক. বিও অ্যাকাউন্ট খোলার সময় টিন (ঞওঘ) নম্বর প্রদানের বিধান করা হোক।
খ. এসইসির অবসরপ্রাপ্ত, পদত্যাগকারী, অন্য কোনোভাবে অপসারিত বা চাকরি অবসায়নকৃত কর্মকর্তাদের পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগ, পরামর্শক, উপদেষ্টা বা অন্য কোনোভাবে পূর্ণ বা খণ্ডকালীন নিযোগ প্রদান এবং শেয়ার-ইস্যু বা পুঁজিবাজার সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে পরামর্শ-সার্ভিস প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে এবং স্বার্থ সংঘাত সৃষ্টি হয়। (এসইসির সাবেক মেম্বার সাহাবুব আলম কনসালটেন্সির সুযোগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে)।
গ. সিডিবিএল থেকে দৈনন্দিন ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার হোল্ডিংয়ের তথ্য কোম্পানিকে প্রদান বন্ধ করা হোক। সিডিবিএল ও স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়ের তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও সংহত করতে হবে, কারণ তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং পাচারকৃত ছাপান তালিকা তদন্ত কমিটির হস্তগত হয়েছে।
ঘ. গুজবনির্ভর শেয়ার ট্রেডিং বন্ধ করার লক্ষ্যে এবং ক্ষুদ্র বিনিযোগকারীদের পরামর্শ সহায়তা প্রদানের জন্য এসইসি 'বিনিয়োগ পরামর্শক' (investment adviser) নিবন্ধন প্রথা প্রচলন করতে পারে।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1337)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 28
(144)
- মানুষের শত্রুমিত্রঃ হুসেনের পিছে এ কোন তীরন্দাজ? b...
- বিদায় কে জি ভাই by মনজুর আহমদ
- পাণ্ডিত্যের তেজস্ক্রিয়তা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া by ...
- সিলেট সীমান্তে বিএসএফ-এর হামলা by বদরুদ্দীন উমর
- আলবদর ১৯৭১ by মুনতাসীর মামুন
- বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডঃ সরকার উদাসীন!
- ঢাকায় শব্দদূষণঃ কিছু কথা by ইমরান রহমান
- সিইসির দুঃসাহসঃ বিএনপির সাহস by ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ই...
- দেখার ভেতরে বাইরেঃ বাইশের লাল ঘোড়া-২ by মোহাম্মদ র...
- ধর্মভিত্তিক ও ধর্মহীন রাজনীতি by ফাহমিদ উর রহমান
- ফের মিউজিক ভিডিওতে মোনালিসা
- চলচ্চিত্রে ফিরছেন জনা!
- সুমাইয়া শিমুর একযুগ by কামরুজ্জামান মিলু
- যৌনপল্লীতে বাড়িওয়ালীর নির্যাতনঃ বিচার করবে কে! by ...
- আমি আবার জ্বলে উঠবোঃ জনা
- উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের মানববন্ধনঃ স্বশাসিত স্থানীয়...
- ইডেনের ইজ্জত ভূলুণ্ঠিতঃ এ কোন ছাত্রলীগ!
- সাহসের সমাচারঃ ঠেলা খেয়ে মেলা দেখা by আল মাহমুদ
- রেলগাড়ি ঝমাঝম by মাহবুব তালুকদার
- কৃষকের প্রতিবাদ—প্রতিবাদী কৃষক by মাহফুজ উল্লাহ
- সংসদীয় রাজনীতির তামাশা by মোহাম্মদ মতিন উদ্দিন
- ব্যাংকের এমডিকে অপহরণ চেষ্টা প্রতিমন্ত্রীরঃ দাপট ন...
- আবারও ভারতীয় অনুপ্রবেশ ও বিএসএফের গুলিবর্ষণঃ সরকার...
- সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
- বন্ধুতা
- স্বাধীনতা এবং বর্তমান প্রজন্ম
- সড়ক দুর্ঘটনা ॥ স্বপ্নের অপমৃত্যু
- থ্যালাসেমিয়া রোগে মুখের সমস্যা
- মস্তিষ্কের ডান দিকটাকে শক্তিশালী করে আরও সৃষ্টিশীল...
- মৃগী রোগ বেরিয়ে আসুন কুসংস্কার থেকে কেস হিস্ট্রি
- স্তন ক্যান্সার
- প্রতিদিনের খাদ্যে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট
- মোবাইল ব্যাংকিং
- নেতাদের বিদেশ সংযোগ
- ঈদোত্তর ভাবনা by ড. হারুন রশীদ
- সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি তো শুরু হয়ে গেছে by আবদ...
- নতুন বার্তা নিয়ে সিমিন হোসেন রিমি by কেয়া চৌধুরী
- আলবদর ১৯৭১ by মুনতাসীর মামুন
- পুলিশের সামনে সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর বাড়ি দখল করে...
- পরিস্থিতির কারণে অসত্য সাক্ষ্য দিতে হয়েছিল ॥ সার্জ...
- দাবি আদায়ে এমসি কলেজ হোস্টেল অবরোধ, অগ্নিসংযোগ
- রাজবাড়ীতে ১২ শিল্পীর অংশগ্রহণে চার দিনের আর্ট ক্যা...
- শ্রদ্ধা গান কবিতা ও কথামালায় কবি নজরুল স্মরণ- প্রয়...
- প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া গোয়েন্দা রিপোর্ট নিউইয়র্কে আম...
- হাতিরঝিল প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ শেষ, ডিসেম্বরে খুলে ...
- রাজধানীতে ৫০ ভাড়াটে পেশাদার কিলার গ্রুপ তৎপর- কয়েক...
- হাইলা-কামলা থেকে গেরস্ত, সবজি আবাদে দারিদ্র্য জয়- ...
- টেশিসের দোয়েল ফের বাজারে সাড়ে ১০ হাজার টাকায়
- সাজেদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে...
- সাড়ে তিন বছরের মূল্যায়ন সুখকর নয় ॥ বড় বিদ্যুত কেন্...
- রিমিকে নির্বাচিত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন ॥ প্রধ...
- মেডিক্যালে ভর্তি ॥ হাইকোর্টে দ্বিধাবিভক্ত রায়, জটি...
- হাইকোর্টের রায় ॥ স্পীকারের রুলিং অকার্যকর আইনগত ভি...
- তীরে এসে তরী ডুবছে?- ০ মসিউর পদত্যাগ না করায় বিশ্ব...
- বানর ভেবে ছেলেকে গুলি!
- ন্যামের সমর্থন চাইল ইরান
- এক অনন্য নভোচারী
- ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য- অ্যাসাঞ্জকে ধরতে দূ...
- চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই
- বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, বেতন-ভাতা বন্ধ by ...
- শতাধিক ঘর যমুনায় বিলীন
- পার্কিংয়ের জায়গা না রেখেই উঠছে বিশাল বিপণিবিতান
- জবানবন্দিতে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী- আলবদরের নেতৃত্ব...
- ঢাকা ও ফুলবাড়ীতে কর্মসূচি- ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ...
- গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী উড়ালসেতু এলাকা- চরম দুর্ভোগের...
- নবজাতকটি ফিরে পেল মায়ের কোল
- অর্জন- শৃঙ্খলিত প্রমিথিউস ও ড. ইউনূস by মাহবুবুর...
- পাঠকের মন্তব্য অনলাইন থেকে- যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার- বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায়...
- দেশি-বিদেশি মালিক এবং ক্রেতাদের টনক নড়বে কবে?- ‘মে...
- সতর্কমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই- বিশ্ব খাদ্যমন্দা ...
- চারদিক- আরোগ্যকুঞ্জ by আকমল হোসেন
- মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা- মাথাব্যথার জন্য কি মাথা কে...
- সরল গরল- নির্বাচনকালে সংসদ বিলোপের বৈশ্বিক প্রেক্ষ...
- যাপিত রস- একদিন লিফটে by আলিম আল রাজি
- রসমঞ্জরী- গুণীজন কহেন
- তিন সপ্তাহ সময় পেলেন রাজা পারভেজ
- স্ট্রোকের চিকিৎসায় জমাট রক্ত অপসারণের জাল
- বিশ্লেষণ- অ্যাসাঞ্জকে নিয়ে কী ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার?
- মিয়ানমারে মন্ত্রীসভায় রদবদল
- মমতার বিরুদ্ধে সুমনের গান
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়- আজ ডিন নির্বাচন
- বিরামপুরে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন
- পীরগাছায় সেতুর অভাবে দুই লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি
- চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ১৭টি স্থানে সওজের ‘বিপৎসংক...
- আজ হুমায়ূন আহমেদের চেহলাম
- লক্ষ্মীপুরে প্রথম আলোর রেইনকোট পেলেন ৯ সংবাদপত্র ব...
- বুয়েট সিন্ডিকেটের সভা- শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে ...
- গাজীপুরের নেতাদের শেখ হাসিনা- রিমির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ...
- শিক্ষা- বেসরকারি শিক্ষকদের প্রতি অবহেলা by তুহিন...
- তৈরি পোশাকশিল্প- বাজার ধরে রাখতে শ্রমিকের মজুরিও ব...
- যথাযথ তদন্ত ও শাস্তি হওয়া দরকার- গরিবের চাল লুটের ...
- উপনির্বাচন থেকে কেন দলটি দূরে থাকবে?- বিএনপির অবস্থান
- স্মরণ- সেই দিনটির কথা by ফরিদ আহমেদ
- বাসনকোসনের যত্নে... by নাঈমা আমিন
- জায়গা বাঁচান অন্দরে by শারমিন নাহার
- কম তেলে ছোট মাছ
- ছয় মাস পেরিয়ে by তৌহিদা শিরোপা
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- নদীতেও আছে বোস্তামী কাছিম by ইফতেখার মাহমুদ
- জবানবন্দিতে মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন- আলব্দী গ্রামে...
- মেডিকেল কলেজে ভর্তি- হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ
- অপশাসন- এমডি চাই, এমডি by শাহ্দীন মালিক
- পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বাড়ছে by র...
- সোনালী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিতে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি...
- নির্দলীয় সরকার নিয়ে রূপরেখা দেবে না বিএনপি
- ডেসটিনি কো-অপারেটিভ সোসাইটি নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের ...
- লিমনের ওপর হামলা-র্যাবসোর্স ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে প...
- অভাবের তাড়না-বাগেরহাটে দুই মেয়েকে চুবিয়ে মারলেন বাবা
- পদ্মা সেতু প্রকল্প-অর্থমন্ত্রী বুধবার বিবৃতি দেবেন...
- হলমার্ক কেলেঙ্কারি-সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ...
- হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ-স্পিকারের রুলিং ভি...
- মেডিক্যালে ভর্তি নিয়ে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ
- কম বৃষ্টিতে আমন চাষ নিয়ে বিপদে কৃষক-এখনো ১২ লাখ ১৯...
- শেয়ার কারসাজি :তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ
- ইসলাম ও সমাজ-নামাজ পাপ থেকে রক্ষা করে by মাহমুদ আহ...
- সমকালীন প্রসঙ্গ-নারীনীতি, হরতাল, সরকার এবং আমরা by...
- ধর নির্ভয় গান-কী চাহ সমুদ্রসৈকতে? by আলী যাকের
- চাঁদের আর্মস্ট্রং ও মানবজাতির প্রত্যাশা by আবু এনএ...
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উভয় সংকট by গওসল আযম
- প্রাপ্তির গৌরব ও হারানোর বেদনা by শুভাশিস ব্যানার...
- নৌ নিরাপত্তা-নিমজ্জিত মেহেরজান এবং কিছু ভাসমান প্...
- সমকালীন প্রসঙ্গ-সরকারের দমন নীতি ও নিরপেক্ষ নির্বা...
- ব্যাধিগ্রস্ত চক্ষু হাসপাতাল-কেবল দায় চাপালে নিরাময়...
- শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া-আলোচনাতেই সমাধান চাই
- ঢাকার ১০ বাজার ফরমালিনমুক্ত করার উদ্যোগ by রাজীব আ...
- ফরমালিন-হাত বাড়ালেই মেলে, আমদানিও সহজ by ফারজানা ল...
- অবরোধের নীতিকে ব্যর্থ প্রমাণ করছে ন্যাম সম্মেলন : ...
-
▼
Aug 28
(144)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment