জীবনের নিরাপত্তা তাহলে কোথায়?-দিনেদুপুরে খুন

কাগজে-কলমে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকা নাকি সবচেয়ে নিরাপদ। সেখানেই মঙ্গলবার নির্মমভাবে খুন হলেন এক গৃহবধূ। নিজের বাসায়। যেকোনো খুনের ঘটনায় মানুষ বিচলিত হন। কিন্তু যখন রাজধানীর কূটনীতিক এলাকায় দিনের বেলায় মানুষ খুন হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে জীবনের নিরাপত্তা তাহলে কোথায়?


কারণ গুলশান-বনানী এলাকাটি রাজধানীর সব এলাকার চেয়ে বেশি সুরক্ষিত। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। মোড়ে মোড়ে পুলিশ পাহারা। রাস্তায় কিছু দূরে দূরে পুলিশের তল্লাশি চৌকি। এত সতর্কতা-আয়োজনকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খুন করে অপরাধী নিরাপদে চলে যায়, এত থানা-পুলিশ তাহলে আছে কিসের জন্য?
ধারণা করা হয়, তাঁদের গাড়িচালকই খুন করেছে। কারণ গৃহবধূ সকালে গাড়ি করে দুই মেয়েকে উত্তরায় স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফেরার পর গাড়িচালক ওপরে যান ও কিছুক্ষণ পর দ্রুত নিচে নেমে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। গৃহবধূকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। বাসা থেকে অন্তত ১২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গুলশানেই সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাকে রহস্যজনকভাবে খুন করা হয়। খুনিকে আজও ধরা যায়নি। সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ মিলিয়ে না যেতেই আরেকজন নিরীহ নাগরিক খুন হয়ে গেলেন। তাহলে কি গুলশান এলাকা খুনিদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে?
সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডেরও কূলকিনারা হলো না। শুনানিকালে আদালত বলেছেন, ‘এ সময় পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি জিরো।’ বেডরুমে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে প্রধানমন্ত্রীর সেই বিতর্কিত মন্তব্য হয়তো এবার পুলিশের মুখে নতুন শব্দচয়নে গুলশানের খুন সম্পর্কে উচ্চারিত হবে। কিন্তু তাই বলে তদন্তের গতিও আটকে থাকবে?
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে ঘরের ভেতর নিরাপত্তা দেওয়ার দরকার পড়ে না। পুলিশ ও প্রশাসন যদি সতর্ক থাকে, গোয়েন্দা তৎপরতা যদি ঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে খুনিরা অধরা থাকতে পারত না। তখন আর ঘরের ভেতর নাগরিকদের আতঙ্কে থাকতে হয় না। সরকারের কাছে মানুষ এটুকুই চায়।
গুলশানের ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িচালক আটক হয়েছে। এখন প্রয়োজন উপযুক্ত তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা।