ট্রাম্পের চাপের মধ্যে ভেনেজুয়েলা, নতুন প্রেসিডেন্টের কৌশল কি

প্রকাশ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ জানুয়ারিতে কারাকাসের আকাশে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের আলোকিত প্রোফাইল দেখানো হয়। সরকারের আয়োজন করা ড্রোন শোতে শত শত ড্রোনের স্থির আলো তাদের চিত্রকে মেঘের সামনে স্থির রাখে। তারপর পুনর্বিন্যস্ত হয়ে পুনরায় তাদের প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানায়: ‘জনতা তাদের ফেরার প্রত্যাশায়’।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঝটিকা অভিযানের পর ৩রা জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে দেশ থেকে তুলে নিয়ে যায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ভেনেজুয়েলা তখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এখনকার কার্যনির্বাহী লিডার ডেলসি রদ্রিগেজ নতুন করে মাদুরো ও ফ্লোরেসের প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানালেও, এমন কোনো চিহ্ন নেই যে তাদেরকে ফেরত দেয়া হবে। মাদুরো ও তার স্ত্রী এখন নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বিচার অপেক্ষায় রয়েছেন। ড্রাগ ট্রাফিকিংসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তারপরও মাদুরোর অনুগত রদ্রিগেজ একটি জটিল ভারসাম্য বজায় রাখতে বাধ্য: তার সমাজতান্ত্রিক ভিত্তিকে ধরে রাখতে মাদুরোকে সমর্থন করে থাকে এবং একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মধ্যে নীতি পরিবর্তন করে, যেহেতু না মানলে তার ভাগ্যও মাদুরোর মতো হতে পারে।

চাতাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ল্যাটিন আমেরিকা সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ক্রিস্টোফার সাবাতিনি বলেন, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলা এখন মার্কিন প্রোটেক্টরেট। তাই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছায় কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধেও তদন্ত হচ্ছে। এ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হননি, ইন্ডিক্টমেন্ট বা বাউন্টি নেই। তবে হুমকি সবসময় আছেই। হুমকি হলো, ‘আমাদের কাছে আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে।’

রদ্রিগেজ এখন কূটনৈতিক একটি তীব্র ভারসাম্য ধরে রেখেছেন। তার প্রথম বক্তব্যে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ইতিমধ্যেই এরকম আক্রমণের সতর্কতা দিয়েছিলেন। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও আগ্রহ আছে। তবে পরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, কারাকাস ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে এবং তিনি সেই অর্থ পরিচালনা করবেন।

১৬ জানুয়ারি জাতীয় পরিষদে তার প্রথম ভাষণে রদ্রিগেজ ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সম্প্রসারণের’ সমালোচনা করেন। একই দিনে তিনি সিআইএ ডিরেক্টর জন রাটক্লিফের সঙ্গে কারাকাসে সাক্ষাৎ করেন। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষক কারমেন বিয়াট্রিজ ফার্নান্দেজ বলেন, রদ্রিগেজের বৈধতা মার্কিন সামরিক শক্তির উপর নির্ভর করছে। এটি টিকে থাকবে যদি ট্রাম্প চায়। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন না। একটি বড় প্রশ্ন হলো, রদ্রিগেজ কতক্ষণ ভেনেজুয়েলার বামপন্থী এবং মার্কিন প্রশাসন উভয়ের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারবে? আর যদি তাকে বেছে নিতে হয়, কতটা কঠিন হবে তা, নাকি একপক্ষ সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতাশালী?

ট্রাম্পের চাপের মধ্যে ভেনেজুয়েলা, নতুন প্রেসিডেন্টের কৌশল কি

No comments

Powered by Blogger.