আবার এল যে বাজেট-সেই সঙ্গে এল বিতর্ক

আমাদের বিরোধী দল একেবারেই ব্যাকডেটেড। নতুন কিছু চিন্তা করতে পারে না। কয়েক দিন আগে নতুন বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল জানিয়েছে সেই পুরোনো কথা, ‘বাজেট জনগণের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না।


’ আরে ভাই, জীবনে কোনো বাজেট দেখেছেন যা জনগণের জন্য সুফল বয়ে এনেছে? জনগণের সুফল বয়ে আনার জন্য কি বাজেট করা হয়? বাজেট এমন একটা বস্তু, যাকে সরকারি দল ছাড়া আর কেউ স্বাগত জানায় না। বাজেট ব্যাপারটিই বাজে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। যেকোনো ঘোষণা নিয়েই বিতর্ক ওঠে। ক্রিকেট দল ঘোষণা হোক, কিংবা বাজেট ঘোষণা হোক, বিতর্ক উঠবেই। এবারও উঠেছে। যেমন, বাজেট ঘোষণার পর ভোজ্যতেলের দাম কমতে পারে। এমনিতেই নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মানুষ মানুষকে যে পরিমাণ তেল দেয়, তার কোনো হিসাব নেই। তার ওপর দাম কমে গেলে পাবলিকের তেল দেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে কোনোকিছুর দাম বাড়ালে বা কমালে যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে কেউই ভাবে না। বাজেটের পর বিদেশি ফ্রিজের দাম কমার কথা। বিদেশি ফ্রিজের দাম কমিয়ে দেশি কোম্পানিগুলোর প্রতি চরম অবহেলা করা হয়েছে।
যা হোক, একদিকে ফ্রিজের দাম কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে আইসক্রিমের দাম। কোনো মানে হয়? ফ্রিজ কিনে তাতে আইসক্রিম রেখে খাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। প্রচণ্ড গরমে আইসক্রিম খেয়ে যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা সরকারের সহ্য হলো না। আইসক্রিমের দাম বাড়িয়ে দিল। এতে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী আইসক্রিমপ্রেমীদের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের দন্ত চিকিৎসক এবং নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞরা। দাম বাড়ায় আইসক্রিম খাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। এতে কারও দাঁতে সমস্যা কিংবা গলা ব্যথা হবে না। ফলে হুমকির মুখে পড়বেন দেশের দন্ত চিকিৎসক এবং নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞরা। অথচ এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলছে না। কী করে বলবে? কথা বলার ওপরও তো কর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই কথা কম। বেশি কথা বলে লাভ নেই। এই বাজেট সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ আর সমৃদ্ধি। বিদায়।