Monday, June 4, 2012
গোলটেবিল বৈঠক-নগরজীবনে শিশুরা
গোলটেবিল বৈঠক-নগরজীবনে শিশুরা
গত ১৪ মে ২০১২ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘নগর জীবনে শিশুরা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সহযোগিতায় ছিল ইউনিসেফ। গোলটেবিলে অংশ নেওয়া সবার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।যাঁরা অংশ নিলেন
জাহাঙ্গীর কবীর নানক
জাহাঙ্গীর কবীর নানক
সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার,
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
নজরুল ইসলাম
নগর পরিকল্পনাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি
কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান
অংশগ্রহণকারী শিশুরা
মো. জীবন হোসেন, টিঅ্যান্ডটি কলোনি
মণি, চানখাঁরপুল বস্তি
সিলভিয়া, চানখাঁরপুল বস্তি
মো. নাদিম হোসেন, লালবাগ বস্তি, পুরান ঢাকা
সম্রাট, টিঅ্যান্ডটি কলোনি
মর্জিনা আক্তার, ফকিরাপুল বস্তি
রুবেল হোসেন, কেরানীগঞ্জ বস্তি
মুক্তা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ
মাহমুদুল হাসান, চাঁদনীঘাট, পুরান ঢাকা
মো. আসলাম, ইসলামবাগ বস্তি
সোমা আক্তার, ফকিরাপুল বস্তি
রুমা, মাতবর বাজার, পাকাপুল
পপি আক্তার, ইসলামবাগ, পুরান ঢাকা
সাথি আকতার, কালীগঞ্জ, সদরঘাট
সালমা আক্তার, কমর গলির বস্তি, ফকিরাপুল
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আ লো চ না
আব্দুল কাইয়ুম
প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ মানুষের বসবাস ঢাকা মহানগরে। এই নগরে রয়েছে অনেক বস্তি। এক হিসাব অনুযায়ী, ৪০ লাখ মানুষ বাস করে বস্তিতে। তাদের একটা বড় অংশ শিশু। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিশুদের বস্তিতে বাস করতে হয়। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের পাশে রাত কাটায়। তা ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবেশ, বাসস্থান, খাদ্য, বিনোদন—এগুলোর কোনো কিছুই তারা ঠিকমতো পায় না। সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন। এ জন্য আমরা প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আরও আমন্ত্রণ জানিয়েছি নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামকে। শিশুদের কী সমস্যা, কী তারা চায়, কী তাদের ভাবনা—আমরা এ সম্পর্কে খুব বেশি জানি না। তাদের সঙ্গে আমাদের সাধারণত যোগাযোগ হয় না। আজকে বিভিন্ন এলাকার শিশুরা আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে। তাদের মুখ থেকেই সরাসরি তাদের সমস্যাগুলো শুনব।
প্রথমে আমরা আজকের এই আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে শুনব অবহেলিত শিশুদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভাবনা কী।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যে স্বপ্নের দেশের কথা ভাবি, একদিন এই শিশুরা সেটি নির্মাণ করবে। ছাত্রজীবন থেকে এই মানুষগুলোর জন্য রাজনীতি করছি। আপনারা দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের অনেক ভালোবাসেন। শিশু দেখলেই তিনি বুকে জড়িয়ে ধরেন, কোলে তুলে নেন। শিশুদের মধ্যে তিনি শিশু রাসেলের প্রতিচ্ছবি দেখেন। এদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটি আমার জীবনের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। কয়েকজন শিশু আজকের এ আলোচনায় উপস্থিত হয়েছে। এরা দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতিনিধি। বাংলাদেশের সব শিশুর কথা মাথায় রেখে আমাদের আলোচনা হবে।
প্রথমে আমি সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের কিছু কথা শুনি। পরে আবার আলোচনা করব।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন শিশুদের আলোচনার জন্য অনুরোধ করছি। তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও অভিজ্ঞতা মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সামনে তুলে ধরবে।
জীবন হোসেন
আমি ফকিরাপুল টিঅ্যান্ডটি কলোনি থেকে এসেছি। আমরা খুব গরিব মানুষ। বস্তি ভালো জায়গা না। এখানেও অনেক কষ্ট করে থাকতে হয়। মা-বাবা সকালবেলা কাজের জন্য বের হয়। কখনো দুপুরে আসে, কখনো রাতে আসে। সময় সময় তাদের কাজ থাকে না। তখন না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় বাবা-মা কাজের জন্য বাইরে যেতে বলে। বাইরে কাগজ টোকাতে হয়। ভিক্ষা করতে হয়। মানুষের এটা-সেটা কাজ করে দিতে হয়। কিছু খারাপ মানুষ আছে। তারা খারাপ কাজ করতে বলে। বলে, ‘পোঁটলাটা অমুক জায়গায় রেখে আয়।’ রাখতে গেলে অনেক সময় পুলিশে ধরে ফেলে। আমাদের অনেক মারে। পুলিশ আমাদের কথা বিশ্বাস করে না। মনে করে, আমরা মাদকের ব্যবসা করি। যে ছেলেটা পোঁটলা দিল পুলিশ তাকে খুঁজে পায় না। আমরাও পাই না। খারাপ মানুষগুলো আমাদের এ রকম খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে। তাদের কথা না শুনলে মারে। শুধু এটাই না, তারা বিভিন্ন মাদক খেতে বাধ্য করে। মাননীয় মন্ত্রীকে বলব, আপনি যদি এই সমস্যাগুলো দেখেন, তাহলে কাজ করতে, বেঁচে থাকতে একটু সুবিধা হয়।
মণি
আমি থাকি চানখাঁরপুল এলাকার বস্তিতে। আমি একটা স্কুলে পড়ি। স্কুলের সামনে ড্রেন আছে। ড্রেনে সব সময় ময়লা-আবর্জনা থাকে। ময়লা পানি থাকে। এখান থেকে গন্ধ বের হয়। যখন বৃষ্টি হয়, তখন সমস্যা বেশি হয়। বৃষ্টির পানিতে ময়লা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। গন্ধ তখন আরও বেশি ছড়ায়। এ সময় স্কুলে যাওয়া-আসা করতে অসুবিধা হয়। ক্লাস করতে সমস্যা হয়। মাননীয় মন্ত্রী কি ড্রেনটা ঠিক করে দেবেন?
সিলভিয়া
আমি চানখাঁরপুল বস্তিতে থাকি। আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। এটিএন বাংলায় শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ করি। যেটা বলতে চাই তা হলো, বস্তিতে অনেক ভালো ছাত্রছাত্রী থাকে। কিন্তু তাদের মেধা বিকাশের কোনো সুযোগ নেই। সচ্ছল পরিবারে দেখি, মা-বাবা ছেলেমেয়েদের রিকশায় বা গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে যান, নিয়ে আসেন। তাদের পোশাক ভালো। থাকা-খাওয়ার পরিবেশ ভালো। বাসায় পড়ানোর জন্য দু-তিনজন শিক্ষক রেখে দেন। ওদের জন্য যেটা সত্যি। বস্তির একজন শিশুর জন্য এটা স্বপ্ন। কখন বাসায় আসি, কখন যাই—এগুলো দেখার সময় বাবা-মায়ের নেই। ইচ্ছা হলে পড়ি, না হলে পড়ি না। মাস্টার রেখে পড়ার প্রশ্নই আসে না। বস্তির মানুষ জেনে গেছে বিদ্যুৎ, ভালো পানি, ভালো খাবার তাদের জন্য নয়। বস্তিতে রাত-দিনের কোনো পার্থক্য নেই। সব সময় শব্দ, কোলাহল, দুর্গন্ধ, মশাদের প্রিয় একটি জায়গা বস্তি। মশারা ২৪ ঘণ্টাই এখানে মানুষকে কামড়াতে পারে। বস্তির অনেককে দেখি, পড়ালেখায় তাদের খুব আগ্রহ। অনেক ইচ্ছা। কিন্তু এমনি একটি পরিবেশে কীভাবে তারা মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে? মাননীয় মন্ত্রী, বস্তির শিশুরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে, সে দিকটি কি আপনি একটু ভাববেন?
মো. নাদিম হোসেন
পুরান ঢাকার লালবাগ বস্তিতে থাকি। পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। লালবাগ এলাকায় অনেক বস্তি। প্রতিবছর এই বস্তিগুলোতে আগুন লাগে। এ জন্য অন্য এলাকার বস্তি থেকে লালবাগ এলাকার বস্তির নামডাক বেশি। আগুন নিয়ে অনেক কথা হয়। পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়। আবার পরের বছর আগুন লাগে। বস্তিবাসীসহ আশপাশের অনেকেই জানে, আগুন কীভাবে লাগে। কিন্তু ভয়ে কেউ কথা বলবে না। আগুন নিয়ে আমি কিছু বলব না। অন্য একটি বিষয়ের কথা বলতে চাই। লালবাগ এলাকার বস্তিগুলোতে কয়েক হাজার শিশু আছে। তাদের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। মিরপুর ক্লাবে সপ্তাহে চার দিন ক্রিকেট খেলি। আমার মতো সবার মিরপুরে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। সবার সে সুযোগও হবে না। শিশুরা সব সময় একটু খেলাধুলা করতে চায়। স্কুলে ম্যাডাম বলেন, মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা দরকার। কিন্তু এখানে খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা নানা রকম খারাপ কাজের দিকে চলে যাচ্ছে। খারাপ মানুষেরা শিশুদের খারাপ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। মাননীয় মন্ত্রীকে বলব, আমাদের এখানে খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা করা যায় কি না।
সম্রাট
আমি টিঅ্যান্ডটি কলোনি বস্তিতে থাকি। একটি জরুরি কথা বলার জন্য মন্ত্রীর কাছে এসেছি। মাঝেমধ্যে দেখি, কখনো সরকার, আবার কখনো প্রভাবশালী মানুষ বস্তি ভেঙে ফেলে। বস্তিতে বড় মানুষ থাকে। শিশুরা থাকে। বৃদ্ধরা থাকে। এমনকি অসুস্থ রোগীও থাকে। বস্তি ভেঙে ফেললে আমরা সবাই খুব বিপদে পড়ে যাই। সবচেয়ে বিপদে পড়ে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। আমাদের মা-বাবা অনেক দিন ধরে, অনেক কষ্ট করে, অল্প অল্প টাকাপয়সা জোগাড় করে যা কিছু জিনিস করে তার কোনো কিছুই নিয়ে আসতে পারি না। আমাদের বস্তিগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যায়। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ি। চলে আসতে হয় খোলা আকাশের নিচে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেখানে-সেখানে রাত কাটাতে হয়। এ অবস্থায় দিন কাটে রেলস্টেশনে ও রেললাইনের পাশে, বাস-ট্রাক স্ট্যান্ডে, বাজারে কিংবা রাস্তাঘাটে। বস্তি খুব ভালো জায়গা না। কিন্তু এই জায়গাগুলো বস্তি থেকে অনেক বেশি বিপজ্জনক। এখানকার লোকজন আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। মারধর করে। আমাদের দিয়ে খারাপ কাজ করাতে চায়। এভাবে অনেকেই মাদকের সঙ্গে, চুরির সঙ্গে, আরও নানা রকম খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তারা আর ভালো পথে ফিরে আসতে পারে না। আমি যেহেতু বস্তির একজন শিশু, আমার বন্ধুরাও সবাই বস্তিতে থাকে, আমি কখনোই চাই না আমাদের শেষ আশ্রয়টুকু শেষ হয়ে যাক। তার পরও যদি আপনারা ভেঙে ফেলতে চান, তাহলে আমাদের জন্য কোথাও না কোথাও একটু জায়গা করে দেবেন। মন্ত্রীর কাছে এটা আমার বিশেষ অনুরোধ।
মর্জিনা আক্তার
আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। ফকিরাপুলের বস্তিতে থাকি। এখানে ঘরভাড়া খুব বেশি। একটা ঘরের ভাড়া দিতে হয় তিন হাজার টাকা। বেশি ভাড়ার জন্য এক ঘরে আটজন থাকি। এত মানুষ একসঙ্গে থাকা যায় না। অনেক চাপাচাপি করে থাকতে হয়। রাতে গরমে ঘুম হয় না। খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছুই করার নেই। জানি, এভাবেই আমাদের থাকতে হবে। আমাদের আয়-রোজগার খুব কম। আমাদের এখানে ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ থাকে। এতগুলো মানুষের জন্য দুটি টয়লেট। একটা গোসলের জায়গা। এখানে শুধু সমস্যা আর সমস্যা। ভালো কিছু নেই। এসব কষ্ট মেনে নিয়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অল্প আয়ের সবটুকু ঘরভাড়ায় চলে যায়। ভাড়া দেওয়ার পর খাওয়া-পরা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। এত কিছুর পরও যদি খাওয়া-পরাটা ঠিক থাকত, তাহলে অনেকটা ভালো থাকতে পারতাম। অনেক সময় ভাবি, এটা তো খুব বেশি ভাড়া না। কিন্তু আমাদের তো এটাই সব। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আবেদন, আমাদের কম ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা যায় কি না বা কোনোভাবে কিছুটা সাহায্য করা যায় কি না।
সিলভিয়া
আমি বলতে চাই, উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো আইন করা যায় কি না, যে আইনি বলে উচ্ছেদের আগে তাদের থাকার একটা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। অন্য কোনো ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই বস্তি ভাঙা যাবে না বা উচ্ছেদ করা যাবে না। মর্জিনা যে কম ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা বা কিছুটা সরকারি সাহায্যের আবেদন করল, সেটা আমারও কথা।
রুবেল হোসেন
কেরানীগঞ্জের একটি বস্তি থেকে এসেছি। বস্তির পরিবেশ খুবই নোংরা। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। আমাদের ঘরের পাশেই ময়লা রাখা হয়। দিন-রাত দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হয়। রান্নাঘরের চারদিক ফাঁকা। ধুলা-বালু, পোকা-মাকড় খাবারের মধ্যে এসে পড়ে। এ খাবার খেয়ে নানা রকম অসুখ-বিসুখ হয়। অসুখ-বিসুখে আরও বড় সমস্যায় পড়তে হয়। বস্তির কাছাকাছি কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। অন্য কোথাও চিকিৎসা করানোর মতো টাকাপয়সা নেই। হাসপাতালগুলোর এমন অবস্থা, তাদের সামনে মরে গেলেও তারা কম পয়সায় চিকিৎসা করবে না। ডাক্তারদের মায়া-মমতা চাই, কিন্তু পাই না। বিনা পয়সায় তো দূরের কথা, কম পয়সায়ও তারা চিকিৎসা করে না। অনেক সময় বেশি অসুস্থ রোগী থাকে, যাদের দূরে নিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। আবার ডাক্তাররা বস্তির নোংরা পরিবেশ দেখে আসতেও চায় না। এ অবস্থায় আমি মাননীয় মন্ত্রীকে বলতে এসেছি, আমাদের কিছুটা ভালো পরিবেশ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায় কি না।
মুক্তা
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছি। যে বস্তিতে থাকি, সেখানে মেয়েদের উপযোগী গোসলখানা, টয়লেট নেই। ভাঙাচোরা গোসলখানা, টয়লেট। বৃষ্টির সময় ভিজে যেতে হয়। বস্তির চারপাশে উঁচু বিল্ডিং। মেয়েদের গোসল করতে অনেক সমস্যা হয়। বস্তিতে অনেক লোক একসঙ্গে থাকে। তাই টয়লেট ও গোসলের জন্য লাইন দিতে হয়। শিশুদের সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয়। তাদের কেউ সুযোগ দিতে চায় না। তাদের প্রয়োজনটা কেউ বোঝে না। সবাই তাদের অবহেলা করে। টয়লেট ও গোসলখানা কখনো পরিষ্কার থাকে না। এখান থেকে অনেক রোগজীবাণুু ছড়ায়। বস্তির অনেকেই কলেরা, আমাশয়, জন্ডিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত থাকে। মাননীয় মন্ত্রীকে আমাদের বস্তিতে ভালো টয়লেট ও গোসলখানার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করছি?
মাহমুদুল হাসান
এসেছি পুরান ঢাকার চাঁদনীঘাট থেকে। যে বস্তিতে থাকি, বর্ষার সময় সেখানে পানি উঠে যায়। সারাক্ষণ পচা দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে থাকতে হয়। পচা পানি থেকে আমাদের অনেক অসুখ-বিসুখ হয়। এমনিতে টাকাপয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না। বর্ষার সময় এ সমস্যা আরও বেশি হয়। কারণ, এ সময় বাবা-মায়ের কাজ কম থকে। বর্ষার পানির জন্য ঘর থেকে দূরে কোথাও যাওয়া যায় না। আমাদের জিনিসপত্র, খাবার সবই নষ্ট হয়ে যায়। যেখান থেকে বাজার করি, সে বাজারেও পানি উঠে যায়। তখন আমাদের মতো শিশু ও বৃদ্ধদের অনেক অসুবিধায় থাকতে হয়। মাননীয় মন্ত্রীকে বলব, তিনি যেন বস্তি ও বাজারকে বর্ষার পানি থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেন।
মো. আসলাম
ইসলামবাগ বস্তি থেকে এসেছি। বস্তির চারপাশের কলকারখানায় ২৪ ঘণ্টা শব্দ হয়। বিশেষ করে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই শব্দ আরও বাড়তে থাকে। বস্তির লোকজন সারা দিন পরিশ্রমের কাজ করে। রাতে তাদের ভালো ঘুম দরকার। কিন্তু শব্দের জন্য ঘুমাতে পারে না। শিশুদেরও সমস্যা হয়। যারা একটু লেখাপড়া করতে চায়, কারখানার শব্দে তাদের অসুবিধা হয়। মাননীয় মন্ত্রী, আশা করি, এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন।
সোমা আক্তার
ফকিরাপুল বস্তি থেকে এসেছি। বস্তির চারপাশে খারাপ ছেলেরা আড্ডা দেয়। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় খুব বিরক্ত করে। আমাদের দেখলে শিস দেয়, গান-বাজনা শুরু করে। খারাপ কথা বলে। প্রতিবাদ করতে গেলে মারে। বকাঝকা করে। এমনকি রাতে পড়ালেখা করতে গেলেও জানালার পাশে এসে শিস দেয়। এসব কারণে পড়তে পারি না। বাবা-মাকে বলেও কোনো লাভ হয় না। তাঁদের প্রতিবাদ করার শক্তি ও সাহস নেই। মা-বাবা পারেন আমাদের বিয়ে দিয়ে দিতে। তাঁরা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। বিয়ে দিয়ে দেন। আমরা অল্প বয়সে বিয়ে করতে চাই না। লেখাপড়া করতে চাই। কিন্তু এই বখাটে ছেলেদের জন্য সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয় না। মাননীয় মন্ত্রী, এই বখাটেদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না।
আব্দুল কাইয়ুম
এতক্ষণ শিশুদের কাছ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনলাম। শিশুরা, তোমরা যারা বলোনি, তোমাদের কথা আবার শুনব। এবার আমরা সবাই শুনব অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কাছ থেকে।
নজরুল ইসলাম
প্রিয় শিশুরা, আজকে তোমাদের জন্য একটি ভালো দিন। মাননীয় মন্ত্রীও তোমাদের পেয়ে খুব খুশি। তিনি বলেছেন তাঁর জন্য এটি একটি ভালো দিন। তোমাদের জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ যে বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারছ। সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করতে পারছ। আমরা ছোটবেলায় এই সুযোগ পাইনি।
তোমরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা বিষয় নিয়ে কথা বলেছ। বেশ ভালো লেগেছে। আমরা সবাই সরকারের কাছে অনেক কিছু আশা করি। কারণ সবার প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য আমাদের সমস্যার কথা সরকারের কাছে বলি। সরকারও আমাদের জন্য কাজ করছে। আমাদের কথা ভাবার জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় করেছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কাজ করে। যেমন, ইউনিসেফ তোমাদের লেখাপড়া ও অন্যান্য ব্যাপারে সহায়তা দেয়। আবার পত্রিকাগুলো কোথায় কী আছে না-আছে, কী হলো না-হলো, তোমাদের কী সুবিধা-অসুবিধা, তারা সরকারকে, মানুষকে জানায়। এভাবে সবাই সবার জন্য কাজ করে। আমি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছি। আবার তোমরা কোথায় থাকো, কী করো সেটাও বলতে পারি। কেন বলতে পারি? আমি এই নগর নিয়ে গবেষণা করি। নগরের কোথায় কী আছে, এটা নিয়ে ভাবি। উদ্দেশ্য, নগরের সমস্যা খুঁজে বের করা এবং কীভাবে সমাধান করা যায় সেটি বের করা। কারা সমাধান করবে? সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন সমাধান করবেন। ঢাকা শহর পৃথিবীর মধ্যে একটি বড় শহর। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সারা পৃথিবীর মধ্যে অষ্টম। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা চীনে, ১৩০ কোটি। ভারতে ১২০ কোটি। আমাদের ১৫ কোটি। ১৫ কোটির মধ্যে কেবল ঢাকা শহরে দেড় কোটি। আমরা যদি বলি ঢাকা সিটি করপোরেশন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উত্তরা, তাহলে এক কোটি। এক কোটির মধ্যে আমরা যাকে বলি বস্তি, সুবিধাবঞ্চিত এলাকা, এখানে বাস করে ৪০ লাখ। তাদের মধ্য থেকে তোমরা কয়েকজন এসেছ। আমি নিজেও তোমাদের কথা ভাবি। আমি তোমাদের লোক। নগর গবেষণাকেন্দ্র নামে আমার একটি সংগঠন আছে। এর বয়স ৪০ বছর হলো। এই গবেষণাকেন্দ্র থেকে তোমাদের জন্য একটা কাজ করেছি। ১৫ লাখ বস্তিবাসী নিয়ে একটি সংগঠন করেছি। তোমাদের মা-বাবারা সেই সংগঠনের সদস্য।
আব্দুল কাইয়ুম
অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কথা শুনলাম। এখন আবার মাননীয় মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছ থেকে আমরা শুনতে চাচ্ছি। শিশুরা তো তাদের দুঃখের কথা বলল। মাননীয় মন্ত্রী ও তাঁদের মন্ত্রণালয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সমস্যা সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেবেন কি?
জাহাঙ্গীর কবির নানক
তোমরা জানো এই ঢাকা মহানগরের একটি এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমার কাজ বাদ দিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি। আজ তোমাদের সবার কথা শুনব। আমার নির্বাচনী এলাকা সবচেয়ে বেশি মাদকের আখড়া। সবচেয়ে বেশি বস্তিবাসী মানুষের বাস। বছিলায় ভোট চাইতে গিয়ে দেখেছি সেটি অজপাড়াগাঁ। এটি আমার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় সাতটি উর্দুভাষী মানুষের ক্যাম্প রয়েছে। বস্তিবাসীর কষ্টকর জীবন, উর্দুভাষীদের ক্যাম্পের মানুষের মানবেতর জীবন, মাদকের ভয়াবহতা—সবই আমি দেখেছি। তোমরা মাদকের কথা বলেছ। ড্রেনের সমস্যার কথা বলেছ। অন্যান্য সমস্যার কথা বলেছ—সবই ঠিক আছে। আমি এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন বস্তিতে যে মাদকের রমরমা ব্যবসা ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন মাদকের কাজে তোমাদের মতো শিশুদের ব্যবহার করছে। এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করি বন্ধ হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর পর গ্রামের কথা কেউ ভাবেনি। গ্রামীণ অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় বাংলাদেশের সব গ্রাম থেকে লোক ঢাকার দিকে আসছে। ঢাকা শহরে মানুষের অত্যধিক চাপ পড়ছে। সেই পুরোনো আমলের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখন আর কাজ করছে না। তোমরা লক্ষ করেছ, সারা ঢাকা শহরে আগামী ৫০ বছরের হিসাব করে বড় মাপের পাইপ বসাচ্ছি, যাতে আগামী ৫০ বছর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো থাকে। এই কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে।
লালবাগের বস্তিতে প্রতিবছর আগুন লাগে। এটা ঠিক। তবে কোথাও আগুন লাগে, কোথাও লাগানো হয়। এই আগুন লাগার কারণও আমি খুঁজে বের করেছি। কোনো বস্তি সরকারের জমিতে। কোনো বস্তি খাসজমিতে। সরকারের জমির বস্তিতে বিভিন্ন গ্রুপের ভাড়া তোলা নিয়ে বিরোধের জন্য আগুন লাগিয়ে দেয়। আবার সরকারের খাসজমি কেউ লিজ নিয়ে নিল। সে চাইবে বস্তি খালি করতে। আগুন লাগানোকেই সে খালি করার উপায় হিসেবে বেছে নেয়। আবার এনজিওর সাহায্য নেওয়ার জন্যও আগুন লাগানো হয়। মোটামুটি এই হচ্ছে বস্তিতে আগুন লাগার ইতিহাস। তোমরা জানো, জেনেভা ক্যাম্পে প্রতিবছর আগুন লাগে। এর কারণ খুঁজে বের করলাম। তোমরা খেয়াল করেছ, এখন আর আগুন লাগে না।
ঢাকা শহরে বিভিন্ন নামে বস্তি আছে। তারা ভাড়া নিচ্ছে। বস্তিতে টয়লেট, গোসলখানা, রান্নার ভালো ব্যবস্থা করে দিচ্ছে না। এগুলো খোঁজখবর নিয়ে বস্তির মধ্যে রাস্তা করে দিয়েছি। টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছি। এভাবে কাজ করতে করতে সব বস্তির সমস্যা একসময় দূর হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তোমরাও এগিয়ে যাচ্ছ। তোমরা অনেক স্মার্ট, অনেক সুন্দর করে কথা বলেছ। অভিভূত হয়েছি তোমাদের কথা শুনে। আমাদের বয়সী মানুষ তোমাদের মতো এত সুন্দর করে কথা বলতে পারবে না।
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এর প্রমাণ আজ তোমরাই। আমাদের গার্মেন্টসের কর্মীরা কত ভোরে উঠে কাজে যায়! তারা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছে। আমি তাদের সম্মান করি। শুধু সরকার নয়, সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে মানুষের সাহায্যের জন্য। আজ তোমরা নতুন চকচকে বই হাতে পাচ্ছ। এগুলো আমাদের উন্নতি। আমাদের সময় বড় ভাইবোনের রেখে দেওয়া পুরোনো বই আমরা পড়তাম।
আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত, কোনো খেলার মাঠ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। খেলার মাঠ রক্ষা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। খেলার মাঠ উন্নয়ন করছি। মাঠগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
মো. আসলাম
আমার একটা কথা আছে,স্যার। ইসলামবাগে আমাদের খেলার মাঠ দখল করে বানানো হয়েছে ট্র্যাকস্ট্যান্ড।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
তোমাদের মাঠের ঠিকানা দিয়ে যাও, সেটা অবশ্যই খালি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
ঢাকা শহরটি পুরোপুরি পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠেছে। যার যেখানে ইচ্ছা বাড়ি করছে। মার্কেট করছে। স্কুল-কলেজ করছে। অপরিকল্পিত হওয়ার কারণে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা কিন্তু থেমে নেই, আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। গরমের সময় চিন্তা থাকে কোথায় না আবার পানির সমস্যা হয়। সারা দিন দৌড়াতে থাকি। বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি দেখলেও চিন্তা হয়, কোথায় যেন পানি জমা হয়ে সমস্যা তৈরি করে। পরিকল্পনাহীনভাবে শহর গড়ে ওঠার জন্য প্রতিনিয়ত সমস্যা হচ্ছে।
বখাটেদের উৎপাত, ইভ টিজিংয়ের কথা আসছে। আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই কয়েক দিন আগেও প্রায়ই ইভ টিজিং নিয়ে আলোচনা হতো। এখন সেটা বন্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। শব্দদূষণের কথা একজন বলেছ। আমি পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানাব। আশা করি কাজ হবে। কারও কোনো অধিকার নেই যে একজন মানুষকে ঘুমাতে না দিয়ে মেশিন চালাবে বা অন্য কোনোভাবে শব্দ করবে। এটা সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ একটা কাজ। বিষয়টা আমরা দেখব। টয়লেটের সমস্যার কথা আসছে। টয়লেটের জন্য আমাদের প্রকল্প আছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সমস্যা থাকবে না। তোমরা জানো আন্তর্জাতিকভাবে শিশু-কিশোরদের বয়সসীমা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শিশু আইন করা হয়েছিল। তারপর আর এই আইন সংশোধন করা হয়নি। ২০১১ সালে শিশু আইন ঠিক করে নিয়েছি।
আমার নির্বাচনী এলাকায় রয়েছে এসওএস শিশুপল্লি। সেখানে গেলে আমার খুব ভালো লাগে। গত জুমায় সেখানে নামাজ পড়েছি। এসওএস শিশুপল্লির মেয়েরা মাধ্যমিক শেষ করার পর লালমাটিয়া কলেজে উচ্চমাধ্যমিক থেকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়বে। ছেলেদের জন্য মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উচ্চমাধ্যমিক থেকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। স্কুলগুলোতে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। এ জন্য মিল্কভিটাকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করছি। তোমাদের অনেক ধন্যবাদ। তোমরা আমার চোখ খুলে দিয়েছ। তোমাদের কাছ থেকে অনেক বিষয় জানতে পেরেছি।
আব্দুল কাইয়ুম
মাননীয় মন্ত্রী প্রতিটি বিষয় অনেক মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে এখনো যারা বলোনি, এবার বলো।
রুমা
মাতবার বাজার পাকাপুল থেকে এসেছি। মায়ের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করানোর। আমারও ইচ্ছা ছিল। সংসারে অভাবের জন্য দুজনের ইচ্ছাই বাদ গেল। মা পাঠালেন কাগজ টোকাতে। কাগজের বস্তা নিয়ে মানুষের পাশ দিয়ে যেতে হয়। যাওয়ার সময় কারও গায়ে কখনো বস্তাটা একটু লেগে যায়। তখন তারা আমাকে মারে। আমার খুব খারাপ লাগে। আমি অনেক কান্না করি। বাড়ি গিয়ে মাকে বলি, মা-ও কান্না করেন। এখন আর মাকে বলি না। মা মনে করেন, আমাকে এখন কেউ মারে না। কিন্তু এখনো মারে। এর কী কোনো সমাধান আছে?
পপি আকতার
পুরান ঢাকার ইসলামবাগ থেকে এসেছি। যে বস্তিতে থাকি, সেখানে মা-বাবা দুজনই কাজে চলে যান। তাঁদের শিশুসন্তানেরা একা একা বাসায় থাকে। বস্তির আশপাশে পুকুর আছে, নদী আছে, ময়লা-আবর্জনা আছে, মা-বাবা না থাকায় শিশুরা এসব জায়গায় চলে যায়। ফলে তারা পানিতে পড়ে যেতে পারে। ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পেটে অসুখ হতে পারে। মাননীয় মন্ত্র্রী এ ব্যাপারে কিছু করতে পারলে ভালো হয়।
সাথি আকতার
আমি কালীগঞ্জ থেকে এসেছি। সেলাই মেশিনের কাজ করি। যে বস্তিতে থাকি সেখানে ঘরভাড়া অনেক বেশি। ঘরভাড়া বেশি হওয়ার কারণে খাওয়া-পরার অনেক সমস্যা হয়। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আবেদন, এ ব্যাপারে কিছু করা যায়?
সালমা আক্তার
ফকিরাপুল কমর গলির বস্তি থেকে এসেছি। যে বস্তিতে থাকি সেখানে অনেক শিশু আছে। এই শিশুদের বাবা-মা সকালে তাদের ঘরে রেখে কাজে যান। কখনো দুপুরে বাসায় ফেরেন। কখনো সন্ধ্যায়। ঘরে কোনো খাবার না রেখেই তাঁরা কাজে যান। শিশুরা না খেতে পেয়ে বস্তির বাইরে যায়। রাস্তায় চলে যায়। তারা খাবারের খোঁজ করতে থাকে। মানুষের কাছ থেকে চেয়ে খায়। এ সুযোগে কিছু দুষ্টুলোক তাদের খাবারের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায়। তাদের ভিক্ষাসহ খারাপ কাজ করাতে চায়। অনেক সময় পাচার করে দেয়। এ ব্যাপারে মাননীয় মন্ত্রী কী করবেন?
সিলভিয়া
এ সময়টি আমাদের বয়ঃসন্ধির কাল। এ সময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হয়। আমাদের নিজস্ব আলাদা পরিবেশের দরকার হয়। কিন্তু কোনো বস্তিতে সে রকম পরিবেশ নেই। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা মানুষ চলাফেরা করে। তা ছাড়া নিজেদের পরিবারেও বেশি মানুষ থাকে। ছোট্ট একটি ঘর। খাওয়ার সময়, ঘুমোনোর সময় কখনো নিজস্বতা বলে কিছু থাকে না। এতে আমাদের খুব অসুবিধা হয়। মাননীয় মন্ত্রী, এ বিষয়ে কিছু করা যায় কি না।
মাহমুদুল হাসান
আমাদের বস্তির পাশে কামরাঙ্গীর চর নামে একটি বস্তি আছে। এই বস্তির শিশুদের ভিক্ষার কাজে লাগানো হয়। একজন শিশুর জীবনে এর থেকে খারাপ আর কী হতে পারে! মাননীয় মন্ত্রী যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।
মো. আসলাম
বাবা মারা গেছেন। মা আবার বিয়ে করেছেন। নানি খুব কষ্ট করে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি নিজেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে গিয়েছিলাম। কাজ হলো মেশিনে পাইপ বানানো। এ সময় হাত কেটে ও ভেঙে যেতে পারে। আবার পলিথিন কারখানায় পলিথিন কাটার সময় হাত কেটে যেতে পারে। এ রকম আরও কাজ আছে। ইউনিসেফ সেখান থেকে আমাকে নিয়ে এসেছে। আমার মতো অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। তারাও আমার মতো শিশু। তাদের এ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনা যায় কি না বা অন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা করা যায় কি না।
জীবন
আমাদের বস্তিতে সকালবেলা বাথরুম এবং হাত-মুখ ধোয়ার জন্য লম্বা লাইন দিতে হয়। এতে আমাদের অসুবিধা হয়। বাথরুম না করে এবং হাত-মুখ না ধুয়ে অনেক সময় স্কুলে যাই। তখন শিক্ষকেরা মারেন। বস্তিতে লোক গাদাগাদি করে থাকে। স্কুল থেকে বাসায় ফিরলে মায়ের সঙ্গে কাজ করি। রাতে বিদ্যুতের অভাবে পড়তে পারি না। পাশে কোথাও গিয়ে পড়ব, সেখানেও দুর্গন্ধ আর মানুষের ভিড়। বস্তির পাশে দুটি মাঠ আছে। সে মাঠে সব সময় ট্রাক থাকে। কখনো খেলাধুলা করতে পারি না। মাননীয় মন্ত্রী, এ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন কি?
আব্দুল কাইয়ুম
সবার কথা শোনা হলো। শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক বিষয় উঠে এসেছে। সমস্যাগুলো যে কত গভীর তা মাননীয় মন্ত্রীসহ সবাই বুঝতে পারছি। এখন অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আবার শুনব।
নজরুল ইসলাম
এতক্ষণ শিশুদের অনেক কথা শুনলাম। এ কথার হয়তো কোনো শেষ নেই। কথা চলতেই থাকবে। কিন্তু মানুষকে কোথাও না কোথাও থামতে হয়। তোমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছি। তোমরা সবাই কোনো না কোনো বস্তি থেকে এসেছ। এই যে বস্তিতে থাকো, তোমাদের কি খারাপ লাগে? বস্তিতে থাকা কোনো খারাপ বিষয় না। বস্তি শব্দটাও খারাপ না। বস্তি মানে বসতের জায়গা। তুমি কোথায় থাকো সেটা কোনো বড় কথা না। বড় কথা হলো, তুমি কতটুকু ভালো। কতটুকু ভালো মানুষ। আজ থেকে মনে করবা বস্তিতে থাকা কোনো খারাপ কাজ না। যদি না খারাপ কাজ করো।
ঢাকা শহরের ৪০ লাখ মানুষ বস্তিবাসী। সিঙ্গাপুর শহরের নাম শুনেছ? এটা একটা শহর। আবার একটা দেশ। একটাই শহর। একটাই দেশ। লোকসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখ। তাহলে ঢাকা শহরে বস্তিবাসী যত, ওদের লোকসংখ্যা তত। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ১৪ লাখ ১২ হাজার। পাস করেছে ১২ লাখেরও বেশি। মালদ্বীপ একটি দেশ না? এর জনসংখ্যা কত? মাত্র চার লাখ। আর আমাদের দেশে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ১৪ লাখ ১২ হাজার। আমাদের সব সংখ্যাই বেশি। এ জন্য কিছু কিছু বিষয় কম পড়ে যায়।
আমাদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা হলো খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান। লক্ষ করলাম, খাদ্য নিয়ে তোমরা কেউ কিছুই বলোনি। তাহলে মোটামুটি বলা যেতে পারে যে খাদ্যের অভাব আমাদের নেই। তবে আরও ভালো খাদ্য, ভালো পুষ্টি দরকার। তোমরা কেউ কাজ চাওনি। কারণ কাজের বয়স তোমাদের এখনো হয়নি। তোমরা এখনো শিশু।
এরপর হলো বস্ত্র। মনে আছে, যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখনো হাফপ্যান্ট পরে, খালি পায়ে স্কুলে এসেছি। হঠাৎ একদিন শিক্ষক বললেন, তোমরা হাফপ্যান্ট পরে, খালি পায়ে স্কুলে আসবে না। তোমরা এত ছোট্ট তা-ও খালি পায়ে, হাফপ্যান্ট পরে স্কুলে যাও না। তোমরা সবাই ভালো জামাকাপড় পরো। তাহলে বস্ত্রের দিক থেকে ভালো আছি।
শিক্ষা, সবাই স্কুলে যায়। কিন্তু বস্তির অনেকে হয়তো স্কুলে যেতে পারে না। সরকার প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। তার পরও তোমরা অনেকে যেতে পারো না। এ বিষয়ে সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। স্কুলে যেন ঠিকমতো লেখাপড়া হয় সে বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তোমরা দুই-তিনজন ছাড়া কেউ প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যাও না। এটা খুব ভালো। এর মানে হচ্ছে আমাদের স্কুলগুলোতে লেখাপড়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বলেছ। চিকিৎসার খরচ বেশি। ভালো চিকিৎসা অনেক সময় পাওয়া যায় না। তোমরা নিয়মিত স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেবে। ভালো স্বাস্থ্যের জন্য দরকার ভালো পয়োব্যবস্থা। অর্থাৎ ভালো বাথরুম দরকার। ভালো পানি দরকার। তোমরা বলেছ বস্তিতে ভালো বাথরুম নেই। দেশে নিরাপদ পানিরও সমস্যা আছে। এদিকটায় সরকারকে নজর দিতে হবে। ভালো পয়োব্যবস্থা বলতে বোঝায় ভালো বাথরুম, যেখান থেকে ময়লা সরাররি পয়োনিষ্কাশনের লাইন দিয়ে পাগলায় শোধনাগারে চলে যাবে। এই শোধনাগারে কারখানার বর্জ্য মিশে পানি বিষাক্ত হয়ে যায়। সিঙ্গাপুর পৃথিবীর একটি উন্নত শহর। সেখানে বাথরুমের পানি শোধন করে তারা খায়।
তোমাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। খেলাধুলা করার সুযোগ থাকতে হবে। তোমরা ভালো বলেছ, খেলার মাঠ নেই। বস্তির ছেলেমেয়েদের বেশি সাহস। এরা রাস্তায় খেলাধুলা শুরু করে। অথবা ইসলামবাগের ছেলে মিরপুর গিয়ে খেলে। মাঠের কথা তোমরা বলেছ। আমরাও চাই প্রতিটি বস্তিতে মাঠ থাকতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও খেলাধুলার প্রতি বিশেষ আগ্রহ আছে। তোমাদের মাঠের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। মাননীয় মন্ত্রীও তোমাদের কথা দিয়েছেন, মাঠের ব্যবস্থা হবে। গুলশানের একটা পার্ক একবার কর্তৃপক্ষ ওয়ান্ডারল্যান্ড বানাতে চেয়েছিল। আমরা তখন বাধা দিয়ে ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠ হিসেবে রেখে দিয়েছি। তোমরা খেলাধুলা করবে। চিড়িয়াখানায় যাবে। পার্কে ঘুরবে। বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাবে। তোমরা জাদুঘর দেখতে যাবে। প্রয়োজনে আমি ব্যবস্থা করে দেব।
নিরাপত্তা খুব জরুরি। বস্তিতে বাস করার নিরাপত্তা। স্কুলে যাওয়ার নিরাপত্তা। খেলাধুলার নিরাপত্তা। বাবা-মা কাজে গেলে শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকে। এটি একটি বড় সমস্যা। সে ক্ষেত্রে কী করতে হবে? আমরা ঢাকা শহরের বস্তিবাসী মানুষদের নিয়ে সমিতি করেছি। সমিতির লোকজন সবাইকে নিরাপত্তা দেবে। এখানে শিশুকেন্দ্র থাকবে। শিশুরা এখানে নিরাপদে থাকবে। তোমাদের জন্য শিশু একাডেমি আছে। তোমরা সেখানে যাও? কী করতে যাও? অনুষ্ঠান দেখতে যাও। অনুষ্ঠান করতে যাও। দেশে যদি অনেক শিশু একাডেমি থাকত, তাহলে ভালো হতো। এগুলো কে করে দেয়? সরকার। বেসরকারি উদ্যোক্তারাও তোমাদের কল্যাণে এগিয়ে আসেন। তাঁরা স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল করে দেন। এনজিওরা তোমাদের কল্যাণে কাজ করে। এখন তোমাদের এগুলো থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হতে হবে।
যাঁরা টেলিভিশনে টক শো করেন, যাঁরা সাংবাদিকতা করেন, তাঁরা সরকার ও সমাজকে সচেতন করে তোলেন। আমি জানি না বস্তি নিয়ে তাঁরা কখনো আলোচনা করেছেন কি না। আমি বস্তি নিয়ে ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। বস্তি নিয়ে আলোচনার জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বেশি ডাকেনি। দু-একবার ভুলেও ডাকতে পারে। তবে শিশুদের নিয়ে মাঝেমধ্যে আলোচনা হয়। গণমাধ্যমের বড় রকমের দায়িত্ব আছে। যেটা আজ প্রথম আলো তোমাদের জন্য করেছে। প্রতিটি খবরের কাগজ, টেলিভিশন যদি করত, তাহলে সমস্যা অনেক কম হতো। আমাকে এবার বলো কচিকাঁচার মেলার কে সদস্য? খেলাঘরের সদস্য কে? কেউ না। বয়েজ স্কাউট কে কে করো? নানক ভাই করেছেন। আমি করেছি। বয়েজ স্কাউট করলে দেশের বাইরে যাওয়া যায়।
ঝাড়ু দেওয়া থেকে শুরু করে মন্ত্রিত্ব—সব কাজই কাজ। সব কাজকে সম্মান করতে হবে। পরিবেশ, সমাজ, রাষ্ট্র সবাই শিশুদের সহযোগিতা করে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখো না, কোনো একটি শিশু তাঁর কাছে গেলে তাঁকে কোলে তুলে নেন। বিশেষ বিশেষ দিনে শিশুদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, সময় কাটান। এগুলো হচ্ছে শিশুদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার নিদর্শন। আমরা যখন শিশু ছিলাম, তখন তোমাদের থেকে অনেক বেশি সমস্যা ছিল। তোমরা আজ যে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললে, আমাদের সময় এটি কল্পনাও করতে পারতাম না। এ দিনটি নিশ্চয়ই তোমাদের সারা জীবন স্মরণ থাকবে। এ জন্য তোমরা কাকে ধন্যবাদ দেবে? না, আমাদের দিতে হবে না। ধন্যবাদ দিতে হবে প্রথম আলো ও ইউনিসেফকে, যারা তোমাদের জন্য এই আয়োজন করেছে।
সবশেষে বলি, তোমাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তোমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাও। নিজে কী হতে চাও স্বপ্ন দেখো। কোনো বাধাই তোমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তোমাদের জন্য কী করতে হবে, সেটা সংবিধানে বলা আছে। শিশুদের জন্য শিশু আইন আছে। শিশুনীতি আছে। সেখানে সরকার প্রতিজ্ঞা করেছে তোমাদের জন্য কী কী করতে হবে। আজকের আলোচনার বিষয় হলো নগরশিশু। নগরশিশুর জন্য জাতীয় নগর নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। এ নীতিতে পরিষ্কার লেখা আছে, সরকার শিশুদের জন্য কী করবে। তাদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য রক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদন ইত্যাদি বিষয় সরকার শিশুদের জন্য নিশ্চিত করবে। ঢাকা শহরসহ সব শহরের শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। পার্ক, খেলার মাঠ, বিনোদনকেন্দ্র, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল কোথায় কী হবে, নগর পরিকল্পনার মধ্যে সব বলে দিতে হবে। তা না হলে গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি হবে, কিন্তু পরিকল্পিত নগর হবে না। মাঝেমধ্যে বস্তি উঠিয়ে দিতে দেখি। বস্তি ওঠানোর ব্যাপারে অনেক সতর্ক থাকতে হবে। দু-চারজন দুষ্ট মানুষের জন্য বস্তি ভেঙে দিলে ওই রাতেই শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ শত শত মানুষকে অসহায় হয়ে পড়তে হয়। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো বস্তি ওঠানো যাবে না। প্রত্যেক মানুষকে আশ্রয়ের নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
নজরুল ইসলাম শিশুদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন এলাকার শিশুরা এখানে উপস্থিত আছে। তারা তাদের অসুবিধাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। সরকারের শিশুনীতিমালায় আরও সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, বিশেষ করে চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, জাতীয় জাদুঘরসহ দর্শনীয় জায়গাগুলো আরও বেশি করে দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল, বাসা, বাইরে কোথাও যেন শিশুরা নির্যাতনের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে রাষ্ট্র তাদের সাহায্য করবে। এখন সব বিষয় মিলিয়ে এখন বলবেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
আমি আগেই বলেছি, এটি আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। এখানে হয়তো কয়েকজন শিশু উপস্থিত হয়েছে। মনে করছি এরা গোটা বাংলাদেশের শিশুদের প্রতিনিধি। শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের কথা আমাদের ভাবতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছি। জানি, একজন মানুষের জন্মগত কিছু অধিকার থাকে। এর মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, পুষ্টি, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা বিনোদন ইত্যাদি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কেন যুদ্ধ করেছিলাম? এই মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তার জন্যই যুদ্ধটি করেছিলাম।
আমাদের উদ্দেশ্য গুলশান, বানানীর শিশুটি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার যে সুযোগ পাবে, বস্তিতে জন্ম নেওয়া ওই শিশুটিও একই সুযোগ পাবে। আমরা চাই না বস্তির শিশুটি টোকাই পরিচয়ে বড় হোক। বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের দেশ যে গতিতে এগোনোর কথা ছিল, সেভাবে এগোতে পারিনি। আমাদের সংবিধানে শিশুদের যে অধিকার দেওয়া আছে, সেটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হবে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও বস্তিতে অবস্থানরত শিশু—এদের মধ্যে পরিবেশগত, সামাজিক ও মানসিক পার্থক্য রয়েছে। সরকার সব শ্রেণীর শিশুদের কথা ভাবছে।
২০১১ সালের শিক্ষানীতিতে প্রতিবন্ধী শিশু এবং সাধারণ শিশু এদের জন্য আলাদা শিক্ষানীতি রয়েছে। শিশুদের জন্য আমাদের সবার সচেতন হতে হবে। সবাইকে অবদান রাখতে হবে, বিশেষ করে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুরা যখন রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। আমরা কি আমাদের গাড়িটি থামাই? তাদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা ভাবি? কিন্তু এ ধরনের কাজের ঐতিহ্য অনেক দেশের মানুষের আছে। মানুষের মধ্যে এখন মূল্যবোধের অনেক অভাব দেখা যায়। আমরা ১৭ মার্চ জাতীয় শিশুদিবস পালন করি। এই দিনটি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনও। কেন করি, শিশুদের প্রতি মানুষের বিবেক জাগ্রত করার জন্য। শিশুদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে শিশুরাও যাতে মানসিকভাবে বিকশিত হতে পারে সে জন্য।
আমি মানুষকে সবচেয়ে বেশি সম্মান করি। মানুষের ব্যাপারে সব সময় সতর্ক থাকি। আজ তোমাদের মাঝে আসতে ভয় পেয়েছি। কারণ তোমরা কী প্রশ্ন করবা, কী বলবা ইত্যাদি। সরকার তোমাদের জন্য কী করতে চায়, কী করছে, কী ভাবছে—এসব বিষয়ে আমি এখানে আসার আগে তথ্য সংগ্রহ করেছি। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. শিরীন শারমিনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনিও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
আগে যদি জানতাম যে তোমরা এ ধরনের প্রশ্ন করবা, তাহলে আরও লোকজন সঙ্গে নিয়ে আসতাম। আমি এই ভুলটা করেছি। তোমাদের প্রশ্ন শুনে মনে হয়েছে, সচিব, পাবলিক হেলথের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ডিসি ও অন্যদের আনা উচিত ছিল। বস্তিতে টয়লেট নেই, টিউবওয়েল নেই, জিজ্ঞেস করতাম এগুলো কত দিনের মধ্যে করে দেবেন। ডিসি সাহেবকে বলতাম, এই যে মাঠ দখল করে আছে, খালি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমার নির্বাচনী এলাকায় ‘জনতার আদালতে সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক’ নামে একটি অনুষ্ঠান করি। সেখানে তিতাস গ্যাসের প্রতিনিধি, ওয়াসার প্রতিনিধি, পুলিশের প্রতিনিধি সবাই থাকে। চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে এলাকার মানুষের কথা শুনি। আমিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন সবাই মিলে উত্তর দিই। তোমাদের বিষয়টি বুঝতে পারলে এই লোকগুলো নিয়ে আসতাম। তাতে আরও বেশি সুবিধা হতো। তাঁরা তোমাদের সমস্যার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতেন।
তবে সোনামণিরা, তোমরা আমার চেতনার জায়গাটি খুলে দিয়েছ। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি এ জায়গায় বসে। অভিভূত হয়েছি তোমাদের প্রতিভায়। ঢাকা শহরে অনেক শিশু আছে, যারা রোদ-বৃষ্টি লাগাতে পারে না। বাইরে বেরোতে পারে না। বেরোলেই হাঁচি-কাশিসহ নানাবিধ সমস্যা হয়। তোমরা হয়েছ ঠিক আমাদের মতো। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, অর্থাৎ আমরা যারা গ্রাম থেকে এসেছি, সবাই তোমাদের মতো। তোমরা আর আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খেলেছি। কাদামাটির মধ্যে বড় হয়েছি। তোমাদের যে ভাবনা, তোমাদের যে কথা শুনলাম, নিশ্চিত যে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি।
সিলভিয়ার কথা শুনলাম। বস্তিতে থেকেও সে টেলিভিশনে সংবাদ পড়ে। নাদিম হোসেন লালবাগ থেকে মিরপুর যায় ক্রিকেট খেলতে। আসলামসহ সবাই তোমরা কত চটপট কথা বলছ, প্রশ্ন করছ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে কেউ যুক্ত হতে পারছি, কেউ পারছি না। তোমরা এই সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছ। এনজিওগুলো তোমাদের জন্য কাজ করছে।
সরকারের অনেক কর্মসূচি রয়েছে। যেমন, লালবাগ এলাকায় ৫০০ শিশুকে এক হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করছি। এই প্রকল্পকে দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। দেশে আট হাজার কেন্দ্র থেকে শিশুদের টাকা দেওয়া হবে। মেট্রোপলিটন এরিয়ায় এনজিওদের সহযোগিতায় ৫৫ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সরাতে পেরেছি। শিশুদের চিত্তবিনোদন, খেলাধুলা সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানিসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এর সঙ্গে রয়েছে পয়োনিষ্কাশন। আগে স্কুল-কলেজগুলোতে ছেলেমেয়েদের আলাদা টয়লেট ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ছেলেমেয়েদের আলাদা টয়লেট করতে হবে। এখন যেখানেই স্কুল-কলেজ হচ্ছে, সেখানেই ছেলেমেয়েদের আলাদা টয়লেট হচ্ছে।
এই সরকারের সময় শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তন হয়েছে তোমারা জানো। এখন তোমাদের দুটি পরীক্ষা দিতে হয়। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে। শিক্ষাব্যবস্থায় এটা একটা বিপ্লব। এর জন্য ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে অনেক সমস্যা আছে। কখনো হতাশ হওয়া চলবে না। এর মধ্যেই তোমাদের সামনের দিকে যেতে হবে। একটা বিশ্বাস সব সময় রাখবা যে মানুষের কোনো পরাজয় নেই। মানুষ তার স্বপ্নের মতোই বড় হতে পারে। একজন মানুষ বড় হওয়ার জন্য যা কিছু দরকার তার সব গুণ তোমাদের মধ্যে আছে। আমরা যা পারিনি, তোমরা তা পারবে; তোমাদের প্রতি এ বিশ্বাস আমার হয়েছে।
আমরা একাত্তরে যুদ্ধ করেছি। বেঁচে থাকার কথা ছিল না। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম। সেই বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যেখানে শেষ করব, তোমরা সেখান থেকে শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, যাঁকে পাবা তাকেই বলবা, তোমাদের জায়গা করে দিতে। সুযোগ করে দিতে। সেই কবে সুনির্মল বসু বলেছিলেন, ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র।’ সত্যিই তাই, শেখার কোনো শেষ নেই। সব জায়গা থেকে শেখা যায়।
আজ তোমাদের মধ্যে এসে অনেক শিখেছি। অনেক জেনেছি। তোমরা অনেক প্রশ্ন আমার কাছে করেছ। আমি শুধু একটি কথা বলব, ধাপে ধাপে সবই তোমাদের জন্য করব। আমরা তার প্রমাণ রাখছি। কোটি কোটি বিভিন্ন কালারের নতুন বই বছরের শুরুতে পাচ্ছ। পৃথিবীর দ্বিতীয় কোনো দেশ দেখাতে পারবে না, যারা এত বই বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে দিতে পারে। অনেকেই সমালোচনা করেছিল যে আমরা পারব না। সব সমালোচনার জবাব দিয়ে আমরা পেরেছি। আমরা এগোচ্ছি। তাই অসম্ভবকে সম্ভব করে মাত্র নয় মাসে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। অসম্ভবকে সম্ভব করে এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র জয় করেছি। আমরা সেই বাঙালি, যারা হিমালয় জয় করেছি। ক্রিকেট খেলায় কোথায় ছিলাম, আজ কোথায় এসেছি। আমরা এই বাংলাদেশের মানুষই তো সব পেরেছি। এই মানুষের মধ্যে আছেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাশ। এঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাঙালি হয়ে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি কোনো হতাশাবাদী মানুষ না। তোমাদের কথায় বুঝেছি তোমরাও হতাশ না।
তোমরা যে সমস্যাগুলো বলেছ, সব লিখে নিয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। অন্য যেসব মন্ত্রণালয়ের কাজ আছে তাদের জানাব। তোমরা যারা আজ এখানে এসেছ, তোমাদের অনুরোধ করব, আমার মোহাম্মদপুর এলাকায় আসতে। তোমাদের দেখাব সব জায়গায় না পারলেও কিছু বস্তিতে কাজ করেছি। ইটের রাস্তা করেছি। টিউবওয়েল বসিয়েছি। পাকা টয়লেট করে দিয়েছি। আবার মাঝেমধ্যে কষ্টও পেয়েছি। যেমন, জেনেভা ক্যাম্পে ২৭টি টয়লেট করে দিয়েছি, টিউবওয়েল বসিয়েছি। দুই সপ্তাহ পরে গিয়ে দেখেছি তারা এগুলো ঠিক রাখেনি, নষ্ট করে ফেলেছে। করেও দিতে হবে, আবার রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা কোনো জিনিস রক্ষা করার চেষ্টা করি না। গাছটা না বাঁচিয়ে ফলটা খেতে চাই।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামে প্রতি আট হাজার মানুষের জন্য আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। এর ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। বছরের শুরুতে কোটি কোটি বই প্রাপ্তি যেমন বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে, তেমনি কমিউনিটি ক্লিনিকও বিশ্বে একটি নতুন দৃষ্টান্ত। সরকার এমন কিছু কাজ করেছে, যা বিশ্বের জন্য উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী বিজিএমইএর নেতাদের বলেছেন পোশাকশিল্পকে গ্রামে নিয়ে যেতে। তার জন্য যত ভর্তুকি লাগে তিনি দেবেন। সরকারের দিক থেকে যা যা করা সম্ভব, সবই করা হবে। তোমাদের জীবনযাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করছি।
আব্দুল কাইয়ুম
সবাইকে ধন্যবাদ। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব বলে মনে করি। সরকার ও কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই এদিকে মনোযোগ দেবে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
নজরুল ইসলাম
নগর পরিকল্পনাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি
কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান
অংশগ্রহণকারী শিশুরা
মো. জীবন হোসেন, টিঅ্যান্ডটি কলোনি
মণি, চানখাঁরপুল বস্তি
সিলভিয়া, চানখাঁরপুল বস্তি
মো. নাদিম হোসেন, লালবাগ বস্তি, পুরান ঢাকা
সম্রাট, টিঅ্যান্ডটি কলোনি
মর্জিনা আক্তার, ফকিরাপুল বস্তি
রুবেল হোসেন, কেরানীগঞ্জ বস্তি
মুক্তা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ
মাহমুদুল হাসান, চাঁদনীঘাট, পুরান ঢাকা
মো. আসলাম, ইসলামবাগ বস্তি
সোমা আক্তার, ফকিরাপুল বস্তি
রুমা, মাতবর বাজার, পাকাপুল
পপি আক্তার, ইসলামবাগ, পুরান ঢাকা
সাথি আকতার, কালীগঞ্জ, সদরঘাট
সালমা আক্তার, কমর গলির বস্তি, ফকিরাপুল
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আ লো চ না
আব্দুল কাইয়ুম
প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ মানুষের বসবাস ঢাকা মহানগরে। এই নগরে রয়েছে অনেক বস্তি। এক হিসাব অনুযায়ী, ৪০ লাখ মানুষ বাস করে বস্তিতে। তাদের একটা বড় অংশ শিশু। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিশুদের বস্তিতে বাস করতে হয়। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের পাশে রাত কাটায়। তা ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবেশ, বাসস্থান, খাদ্য, বিনোদন—এগুলোর কোনো কিছুই তারা ঠিকমতো পায় না। সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন। এ জন্য আমরা প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আরও আমন্ত্রণ জানিয়েছি নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামকে। শিশুদের কী সমস্যা, কী তারা চায়, কী তাদের ভাবনা—আমরা এ সম্পর্কে খুব বেশি জানি না। তাদের সঙ্গে আমাদের সাধারণত যোগাযোগ হয় না। আজকে বিভিন্ন এলাকার শিশুরা আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে। তাদের মুখ থেকেই সরাসরি তাদের সমস্যাগুলো শুনব।
প্রথমে আমরা আজকের এই আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে শুনব অবহেলিত শিশুদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভাবনা কী।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যে স্বপ্নের দেশের কথা ভাবি, একদিন এই শিশুরা সেটি নির্মাণ করবে। ছাত্রজীবন থেকে এই মানুষগুলোর জন্য রাজনীতি করছি। আপনারা দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের অনেক ভালোবাসেন। শিশু দেখলেই তিনি বুকে জড়িয়ে ধরেন, কোলে তুলে নেন। শিশুদের মধ্যে তিনি শিশু রাসেলের প্রতিচ্ছবি দেখেন। এদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটি আমার জীবনের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। কয়েকজন শিশু আজকের এ আলোচনায় উপস্থিত হয়েছে। এরা দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতিনিধি। বাংলাদেশের সব শিশুর কথা মাথায় রেখে আমাদের আলোচনা হবে।
প্রথমে আমি সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের কিছু কথা শুনি। পরে আবার আলোচনা করব।
আব্দুল কাইয়ুম
এখন শিশুদের আলোচনার জন্য অনুরোধ করছি। তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও অভিজ্ঞতা মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সামনে তুলে ধরবে।
জীবন হোসেন
আমি ফকিরাপুল টিঅ্যান্ডটি কলোনি থেকে এসেছি। আমরা খুব গরিব মানুষ। বস্তি ভালো জায়গা না। এখানেও অনেক কষ্ট করে থাকতে হয়। মা-বাবা সকালবেলা কাজের জন্য বের হয়। কখনো দুপুরে আসে, কখনো রাতে আসে। সময় সময় তাদের কাজ থাকে না। তখন না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় বাবা-মা কাজের জন্য বাইরে যেতে বলে। বাইরে কাগজ টোকাতে হয়। ভিক্ষা করতে হয়। মানুষের এটা-সেটা কাজ করে দিতে হয়। কিছু খারাপ মানুষ আছে। তারা খারাপ কাজ করতে বলে। বলে, ‘পোঁটলাটা অমুক জায়গায় রেখে আয়।’ রাখতে গেলে অনেক সময় পুলিশে ধরে ফেলে। আমাদের অনেক মারে। পুলিশ আমাদের কথা বিশ্বাস করে না। মনে করে, আমরা মাদকের ব্যবসা করি। যে ছেলেটা পোঁটলা দিল পুলিশ তাকে খুঁজে পায় না। আমরাও পাই না। খারাপ মানুষগুলো আমাদের এ রকম খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে। তাদের কথা না শুনলে মারে। শুধু এটাই না, তারা বিভিন্ন মাদক খেতে বাধ্য করে। মাননীয় মন্ত্রীকে বলব, আপনি যদি এই সমস্যাগুলো দেখেন, তাহলে কাজ করতে, বেঁচে থাকতে একটু সুবিধা হয়।
মণি
আমি থাকি চানখাঁরপুল এলাকার বস্তিতে। আমি একটা স্কুলে পড়ি। স্কুলের সামনে ড্রেন আছে। ড্রেনে সব সময় ময়লা-আবর্জনা থাকে। ময়লা পানি থাকে। এখান থেকে গন্ধ বের হয়। যখন বৃষ্টি হয়, তখন সমস্যা বেশি হয়। বৃষ্টির পানিতে ময়লা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। গন্ধ তখন আরও বেশি ছড়ায়। এ সময় স্কুলে যাওয়া-আসা করতে অসুবিধা হয়। ক্লাস করতে সমস্যা হয়। মাননীয় মন্ত্রী কি ড্রেনটা ঠিক করে দেবেন?
সিলভিয়া
আমি চানখাঁরপুল বস্তিতে থাকি। আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। এটিএন বাংলায় শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ করি। যেটা বলতে চাই তা হলো, বস্তিতে অনেক ভালো ছাত্রছাত্রী থাকে। কিন্তু তাদের মেধা বিকাশের কোনো সুযোগ নেই। সচ্ছল পরিবারে দেখি, মা-বাবা ছেলেমেয়েদের রিকশায় বা গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে যান, নিয়ে আসেন। তাদের পোশাক ভালো। থাকা-খাওয়ার পরিবেশ ভালো। বাসায় পড়ানোর জন্য দু-তিনজন শিক্ষক রেখে দেন। ওদের জন্য যেটা সত্যি। বস্তির একজন শিশুর জন্য এটা স্বপ্ন। কখন বাসায় আসি, কখন যাই—এগুলো দেখার সময় বাবা-মায়ের নেই। ইচ্ছা হলে পড়ি, না হলে পড়ি না। মাস্টার রেখে পড়ার প্রশ্নই আসে না। বস্তির মানুষ জেনে গেছে বিদ্যুৎ, ভালো পানি, ভালো খাবার তাদের জন্য নয়। বস্তিতে রাত-দিনের কোনো পার্থক্য নেই। সব সময় শব্দ, কোলাহল, দুর্গন্ধ, মশাদের প্রিয় একটি জায়গা বস্তি। মশারা ২৪ ঘণ্টাই এখানে মানুষকে কামড়াতে পারে। বস্তির অনেককে দেখি, পড়ালেখায় তাদের খুব আগ্রহ। অনেক ইচ্ছা। কিন্তু এমনি একটি পরিবেশে কীভাবে তারা মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে? মাননীয় মন্ত্রী, বস্তির শিশুরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে, সে দিকটি কি আপনি একটু ভাববেন?
মো. নাদিম হোসেন
পুরান ঢাকার লালবাগ বস্তিতে থাকি। পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। লালবাগ এলাকায় অনেক বস্তি। প্রতিবছর এই বস্তিগুলোতে আগুন লাগে। এ জন্য অন্য এলাকার বস্তি থেকে লালবাগ এলাকার বস্তির নামডাক বেশি। আগুন নিয়ে অনেক কথা হয়। পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়। আবার পরের বছর আগুন লাগে। বস্তিবাসীসহ আশপাশের অনেকেই জানে, আগুন কীভাবে লাগে। কিন্তু ভয়ে কেউ কথা বলবে না। আগুন নিয়ে আমি কিছু বলব না। অন্য একটি বিষয়ের কথা বলতে চাই। লালবাগ এলাকার বস্তিগুলোতে কয়েক হাজার শিশু আছে। তাদের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। মিরপুর ক্লাবে সপ্তাহে চার দিন ক্রিকেট খেলি। আমার মতো সবার মিরপুরে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। সবার সে সুযোগও হবে না। শিশুরা সব সময় একটু খেলাধুলা করতে চায়। স্কুলে ম্যাডাম বলেন, মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা দরকার। কিন্তু এখানে খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা নানা রকম খারাপ কাজের দিকে চলে যাচ্ছে। খারাপ মানুষেরা শিশুদের খারাপ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। মাননীয় মন্ত্রীকে বলব, আমাদের এখানে খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা করা যায় কি না।
সম্রাট
আমি টিঅ্যান্ডটি কলোনি বস্তিতে থাকি। একটি জরুরি কথা বলার জন্য মন্ত্রীর কাছে এসেছি। মাঝেমধ্যে দেখি, কখনো সরকার, আবার কখনো প্রভাবশালী মানুষ বস্তি ভেঙে ফেলে। বস্তিতে বড় মানুষ থাকে। শিশুরা থাকে। বৃদ্ধরা থাকে। এমনকি অসুস্থ রোগীও থাকে। বস্তি ভেঙে ফেললে আমরা সবাই খুব বিপদে পড়ে যাই। সবচেয়ে বিপদে পড়ে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। আমাদের মা-বাবা অনেক দিন ধরে, অনেক কষ্ট করে, অল্প অল্প টাকাপয়সা জোগাড় করে যা কিছু জিনিস করে তার কোনো কিছুই নিয়ে আসতে পারি না। আমাদের বস্তিগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যায়। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ি। চলে আসতে হয় খোলা আকাশের নিচে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেখানে-সেখানে রাত কাটাতে হয়। এ অবস্থায় দিন কাটে রেলস্টেশনে ও রেললাইনের পাশে, বাস-ট্রাক স্ট্যান্ডে, বাজারে কিংবা রাস্তাঘাটে। বস্তি খুব ভালো জায়গা না। কিন্তু এই জায়গাগুলো বস্তি থেকে অনেক বেশি বিপজ্জনক। এখানকার লোকজন আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। মারধর করে। আমাদের দিয়ে খারাপ কাজ করাতে চায়। এভাবে অনেকেই মাদকের সঙ্গে, চুরির সঙ্গে, আরও নানা রকম খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তারা আর ভালো পথে ফিরে আসতে পারে না। আমি যেহেতু বস্তির একজন শিশু, আমার বন্ধুরাও সবাই বস্তিতে থাকে, আমি কখনোই চাই না আমাদের শেষ আশ্রয়টুকু শেষ হয়ে যাক। তার পরও যদি আপনারা ভেঙে ফেলতে চান, তাহলে আমাদের জন্য কোথাও না কোথাও একটু জায়গা করে দেবেন। মন্ত্রীর কাছে এটা আমার বিশেষ অনুরোধ।
মর্জিনা আক্তার
আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। ফকিরাপুলের বস্তিতে থাকি। এখানে ঘরভাড়া খুব বেশি। একটা ঘরের ভাড়া দিতে হয় তিন হাজার টাকা। বেশি ভাড়ার জন্য এক ঘরে আটজন থাকি। এত মানুষ একসঙ্গে থাকা যায় না। অনেক চাপাচাপি করে থাকতে হয়। রাতে গরমে ঘুম হয় না। খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছুই করার নেই। জানি, এভাবেই আমাদের থাকতে হবে। আমাদের আয়-রোজগার খুব কম। আমাদের এখানে ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ থাকে। এতগুলো মানুষের জন্য দুটি টয়লেট। একটা গোসলের জায়গা। এখানে শুধু সমস্যা আর সমস্যা। ভালো কিছু নেই। এসব কষ্ট মেনে নিয়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অল্প আয়ের সবটুকু ঘরভাড়ায় চলে যায়। ভাড়া দেওয়ার পর খাওয়া-পরা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। এত কিছুর পরও যদি খাওয়া-পরাটা ঠিক থাকত, তাহলে অনেকটা ভালো থাকতে পারতাম। অনেক সময় ভাবি, এটা তো খুব বেশি ভাড়া না। কিন্তু আমাদের তো এটাই সব। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আবেদন, আমাদের কম ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা যায় কি না বা কোনোভাবে কিছুটা সাহায্য করা যায় কি না।
সিলভিয়া
আমি বলতে চাই, উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো আইন করা যায় কি না, যে আইনি বলে উচ্ছেদের আগে তাদের থাকার একটা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। অন্য কোনো ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই বস্তি ভাঙা যাবে না বা উচ্ছেদ করা যাবে না। মর্জিনা যে কম ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা বা কিছুটা সরকারি সাহায্যের আবেদন করল, সেটা আমারও কথা।
রুবেল হোসেন
কেরানীগঞ্জের একটি বস্তি থেকে এসেছি। বস্তির পরিবেশ খুবই নোংরা। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। আমাদের ঘরের পাশেই ময়লা রাখা হয়। দিন-রাত দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হয়। রান্নাঘরের চারদিক ফাঁকা। ধুলা-বালু, পোকা-মাকড় খাবারের মধ্যে এসে পড়ে। এ খাবার খেয়ে নানা রকম অসুখ-বিসুখ হয়। অসুখ-বিসুখে আরও বড় সমস্যায় পড়তে হয়। বস্তির কাছাকাছি কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। অন্য কোথাও চিকিৎসা করানোর মতো টাকাপয়সা নেই। হাসপাতালগুলোর এমন অবস্থা, তাদের সামনে মরে গেলেও তারা কম পয়সায় চিকিৎসা করবে না। ডাক্তারদের মায়া-মমতা চাই, কিন্তু পাই না। বিনা পয়সায় তো দূরের কথা, কম পয়সায়ও তারা চিকিৎসা করে না। অনেক সময় বেশি অসুস্থ রোগী থাকে, যাদের দূরে নিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। আবার ডাক্তাররা বস্তির নোংরা পরিবেশ দেখে আসতেও চায় না। এ অবস্থায় আমি মাননীয় মন্ত্রীকে বলতে এসেছি, আমাদের কিছুটা ভালো পরিবেশ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায় কি না।
মুক্তা
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছি। যে বস্তিতে থাকি, সেখানে মেয়েদের উপযোগী গোসলখানা, টয়লেট নেই। ভাঙাচোরা গোসলখানা, টয়লেট। বৃষ্টির সময় ভিজে যেতে হয়। বস্তির চারপাশে উঁচু বিল্ডিং। মেয়েদের গোসল করতে অনেক সমস্যা হয়। বস্তিতে অনেক লোক একসঙ্গে থাকে। তাই টয়লেট ও গোসলের জন্য লাইন দিতে হয়। শিশুদের সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয়। তাদের কেউ সুযোগ দিতে চায় না। তাদের প্রয়োজনটা কেউ বোঝে না। সবাই তাদের অবহেলা করে। টয়লেট ও গোসলখানা কখনো পরিষ্কার থাকে না। এখান থেকে অনেক রোগজীবাণুু ছড়ায়। বস্তির অনেকেই কলেরা, আমাশয়, জন্ডিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত থাকে। মাননীয় মন্ত্রীকে আমাদের বস্তিতে ভালো টয়লেট ও গোসলখানার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করছি?
মাহমুদুল হাসান
এসেছি পুরান ঢাকার চাঁদনীঘাট থেকে। যে বস্তিতে থাকি, বর্ষার সময় সেখানে পানি উঠে যায়। সারাক্ষণ পচা দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে থাকতে হয়। পচা পানি থেকে আমাদের অনেক অসুখ-বিসুখ হয়। এমনিতে টাকাপয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না। বর্ষার সময় এ সমস্যা আরও বেশি হয়। কারণ, এ সময় বাবা-মায়ের কাজ কম থকে। বর্ষার পানির জন্য ঘর থেকে দূরে কোথাও যাওয়া যায় না। আমাদের জিনিসপত্র, খাবার সবই নষ্ট হয়ে যায়। যেখান থেকে বাজার করি, সে বাজারেও পানি উঠে যায়। তখন আমাদের মতো শিশু ও বৃদ্ধদের অনেক অসুবিধায় থাকতে হয়। মাননীয় মন্ত্রীকে বলব, তিনি যেন বস্তি ও বাজারকে বর্ষার পানি থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেন।
মো. আসলাম
ইসলামবাগ বস্তি থেকে এসেছি। বস্তির চারপাশের কলকারখানায় ২৪ ঘণ্টা শব্দ হয়। বিশেষ করে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই শব্দ আরও বাড়তে থাকে। বস্তির লোকজন সারা দিন পরিশ্রমের কাজ করে। রাতে তাদের ভালো ঘুম দরকার। কিন্তু শব্দের জন্য ঘুমাতে পারে না। শিশুদেরও সমস্যা হয়। যারা একটু লেখাপড়া করতে চায়, কারখানার শব্দে তাদের অসুবিধা হয়। মাননীয় মন্ত্রী, আশা করি, এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন।
সোমা আক্তার
ফকিরাপুল বস্তি থেকে এসেছি। বস্তির চারপাশে খারাপ ছেলেরা আড্ডা দেয়। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় খুব বিরক্ত করে। আমাদের দেখলে শিস দেয়, গান-বাজনা শুরু করে। খারাপ কথা বলে। প্রতিবাদ করতে গেলে মারে। বকাঝকা করে। এমনকি রাতে পড়ালেখা করতে গেলেও জানালার পাশে এসে শিস দেয়। এসব কারণে পড়তে পারি না। বাবা-মাকে বলেও কোনো লাভ হয় না। তাঁদের প্রতিবাদ করার শক্তি ও সাহস নেই। মা-বাবা পারেন আমাদের বিয়ে দিয়ে দিতে। তাঁরা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। বিয়ে দিয়ে দেন। আমরা অল্প বয়সে বিয়ে করতে চাই না। লেখাপড়া করতে চাই। কিন্তু এই বখাটে ছেলেদের জন্য সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয় না। মাননীয় মন্ত্রী, এই বখাটেদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না।
আব্দুল কাইয়ুম
এতক্ষণ শিশুদের কাছ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনলাম। শিশুরা, তোমরা যারা বলোনি, তোমাদের কথা আবার শুনব। এবার আমরা সবাই শুনব অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কাছ থেকে।
নজরুল ইসলাম
প্রিয় শিশুরা, আজকে তোমাদের জন্য একটি ভালো দিন। মাননীয় মন্ত্রীও তোমাদের পেয়ে খুব খুশি। তিনি বলেছেন তাঁর জন্য এটি একটি ভালো দিন। তোমাদের জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ যে বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারছ। সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করতে পারছ। আমরা ছোটবেলায় এই সুযোগ পাইনি।
তোমরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা বিষয় নিয়ে কথা বলেছ। বেশ ভালো লেগেছে। আমরা সবাই সরকারের কাছে অনেক কিছু আশা করি। কারণ সবার প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য আমাদের সমস্যার কথা সরকারের কাছে বলি। সরকারও আমাদের জন্য কাজ করছে। আমাদের কথা ভাবার জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় করেছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কাজ করে। যেমন, ইউনিসেফ তোমাদের লেখাপড়া ও অন্যান্য ব্যাপারে সহায়তা দেয়। আবার পত্রিকাগুলো কোথায় কী আছে না-আছে, কী হলো না-হলো, তোমাদের কী সুবিধা-অসুবিধা, তারা সরকারকে, মানুষকে জানায়। এভাবে সবাই সবার জন্য কাজ করে। আমি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছি। আবার তোমরা কোথায় থাকো, কী করো সেটাও বলতে পারি। কেন বলতে পারি? আমি এই নগর নিয়ে গবেষণা করি। নগরের কোথায় কী আছে, এটা নিয়ে ভাবি। উদ্দেশ্য, নগরের সমস্যা খুঁজে বের করা এবং কীভাবে সমাধান করা যায় সেটি বের করা। কারা সমাধান করবে? সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন সমাধান করবেন। ঢাকা শহর পৃথিবীর মধ্যে একটি বড় শহর। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সারা পৃথিবীর মধ্যে অষ্টম। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা চীনে, ১৩০ কোটি। ভারতে ১২০ কোটি। আমাদের ১৫ কোটি। ১৫ কোটির মধ্যে কেবল ঢাকা শহরে দেড় কোটি। আমরা যদি বলি ঢাকা সিটি করপোরেশন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উত্তরা, তাহলে এক কোটি। এক কোটির মধ্যে আমরা যাকে বলি বস্তি, সুবিধাবঞ্চিত এলাকা, এখানে বাস করে ৪০ লাখ। তাদের মধ্য থেকে তোমরা কয়েকজন এসেছ। আমি নিজেও তোমাদের কথা ভাবি। আমি তোমাদের লোক। নগর গবেষণাকেন্দ্র নামে আমার একটি সংগঠন আছে। এর বয়স ৪০ বছর হলো। এই গবেষণাকেন্দ্র থেকে তোমাদের জন্য একটা কাজ করেছি। ১৫ লাখ বস্তিবাসী নিয়ে একটি সংগঠন করেছি। তোমাদের মা-বাবারা সেই সংগঠনের সদস্য।
আব্দুল কাইয়ুম
অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কথা শুনলাম। এখন আবার মাননীয় মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছ থেকে আমরা শুনতে চাচ্ছি। শিশুরা তো তাদের দুঃখের কথা বলল। মাননীয় মন্ত্রী ও তাঁদের মন্ত্রণালয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সমস্যা সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেবেন কি?
জাহাঙ্গীর কবির নানক
তোমরা জানো এই ঢাকা মহানগরের একটি এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমার কাজ বাদ দিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি। আজ তোমাদের সবার কথা শুনব। আমার নির্বাচনী এলাকা সবচেয়ে বেশি মাদকের আখড়া। সবচেয়ে বেশি বস্তিবাসী মানুষের বাস। বছিলায় ভোট চাইতে গিয়ে দেখেছি সেটি অজপাড়াগাঁ। এটি আমার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় সাতটি উর্দুভাষী মানুষের ক্যাম্প রয়েছে। বস্তিবাসীর কষ্টকর জীবন, উর্দুভাষীদের ক্যাম্পের মানুষের মানবেতর জীবন, মাদকের ভয়াবহতা—সবই আমি দেখেছি। তোমরা মাদকের কথা বলেছ। ড্রেনের সমস্যার কথা বলেছ। অন্যান্য সমস্যার কথা বলেছ—সবই ঠিক আছে। আমি এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন বস্তিতে যে মাদকের রমরমা ব্যবসা ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন মাদকের কাজে তোমাদের মতো শিশুদের ব্যবহার করছে। এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করি বন্ধ হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর পর গ্রামের কথা কেউ ভাবেনি। গ্রামীণ অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় বাংলাদেশের সব গ্রাম থেকে লোক ঢাকার দিকে আসছে। ঢাকা শহরে মানুষের অত্যধিক চাপ পড়ছে। সেই পুরোনো আমলের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখন আর কাজ করছে না। তোমরা লক্ষ করেছ, সারা ঢাকা শহরে আগামী ৫০ বছরের হিসাব করে বড় মাপের পাইপ বসাচ্ছি, যাতে আগামী ৫০ বছর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো থাকে। এই কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে।
লালবাগের বস্তিতে প্রতিবছর আগুন লাগে। এটা ঠিক। তবে কোথাও আগুন লাগে, কোথাও লাগানো হয়। এই আগুন লাগার কারণও আমি খুঁজে বের করেছি। কোনো বস্তি সরকারের জমিতে। কোনো বস্তি খাসজমিতে। সরকারের জমির বস্তিতে বিভিন্ন গ্রুপের ভাড়া তোলা নিয়ে বিরোধের জন্য আগুন লাগিয়ে দেয়। আবার সরকারের খাসজমি কেউ লিজ নিয়ে নিল। সে চাইবে বস্তি খালি করতে। আগুন লাগানোকেই সে খালি করার উপায় হিসেবে বেছে নেয়। আবার এনজিওর সাহায্য নেওয়ার জন্যও আগুন লাগানো হয়। মোটামুটি এই হচ্ছে বস্তিতে আগুন লাগার ইতিহাস। তোমরা জানো, জেনেভা ক্যাম্পে প্রতিবছর আগুন লাগে। এর কারণ খুঁজে বের করলাম। তোমরা খেয়াল করেছ, এখন আর আগুন লাগে না।
ঢাকা শহরে বিভিন্ন নামে বস্তি আছে। তারা ভাড়া নিচ্ছে। বস্তিতে টয়লেট, গোসলখানা, রান্নার ভালো ব্যবস্থা করে দিচ্ছে না। এগুলো খোঁজখবর নিয়ে বস্তির মধ্যে রাস্তা করে দিয়েছি। টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছি। এভাবে কাজ করতে করতে সব বস্তির সমস্যা একসময় দূর হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তোমরাও এগিয়ে যাচ্ছ। তোমরা অনেক স্মার্ট, অনেক সুন্দর করে কথা বলেছ। অভিভূত হয়েছি তোমাদের কথা শুনে। আমাদের বয়সী মানুষ তোমাদের মতো এত সুন্দর করে কথা বলতে পারবে না।
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এর প্রমাণ আজ তোমরাই। আমাদের গার্মেন্টসের কর্মীরা কত ভোরে উঠে কাজে যায়! তারা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছে। আমি তাদের সম্মান করি। শুধু সরকার নয়, সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে মানুষের সাহায্যের জন্য। আজ তোমরা নতুন চকচকে বই হাতে পাচ্ছ। এগুলো আমাদের উন্নতি। আমাদের সময় বড় ভাইবোনের রেখে দেওয়া পুরোনো বই আমরা পড়তাম।
আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত, কোনো খেলার মাঠ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। খেলার মাঠ রক্ষা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। খেলার মাঠ উন্নয়ন করছি। মাঠগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
মো. আসলাম
আমার একটা কথা আছে,স্যার। ইসলামবাগে আমাদের খেলার মাঠ দখল করে বানানো হয়েছে ট্র্যাকস্ট্যান্ড।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
তোমাদের মাঠের ঠিকানা দিয়ে যাও, সেটা অবশ্যই খালি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
ঢাকা শহরটি পুরোপুরি পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠেছে। যার যেখানে ইচ্ছা বাড়ি করছে। মার্কেট করছে। স্কুল-কলেজ করছে। অপরিকল্পিত হওয়ার কারণে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা কিন্তু থেমে নেই, আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। গরমের সময় চিন্তা থাকে কোথায় না আবার পানির সমস্যা হয়। সারা দিন দৌড়াতে থাকি। বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি দেখলেও চিন্তা হয়, কোথায় যেন পানি জমা হয়ে সমস্যা তৈরি করে। পরিকল্পনাহীনভাবে শহর গড়ে ওঠার জন্য প্রতিনিয়ত সমস্যা হচ্ছে।
বখাটেদের উৎপাত, ইভ টিজিংয়ের কথা আসছে। আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই কয়েক দিন আগেও প্রায়ই ইভ টিজিং নিয়ে আলোচনা হতো। এখন সেটা বন্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। শব্দদূষণের কথা একজন বলেছ। আমি পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানাব। আশা করি কাজ হবে। কারও কোনো অধিকার নেই যে একজন মানুষকে ঘুমাতে না দিয়ে মেশিন চালাবে বা অন্য কোনোভাবে শব্দ করবে। এটা সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ একটা কাজ। বিষয়টা আমরা দেখব। টয়লেটের সমস্যার কথা আসছে। টয়লেটের জন্য আমাদের প্রকল্প আছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সমস্যা থাকবে না। তোমরা জানো আন্তর্জাতিকভাবে শিশু-কিশোরদের বয়সসীমা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শিশু আইন করা হয়েছিল। তারপর আর এই আইন সংশোধন করা হয়নি। ২০১১ সালে শিশু আইন ঠিক করে নিয়েছি।
আমার নির্বাচনী এলাকায় রয়েছে এসওএস শিশুপল্লি। সেখানে গেলে আমার খুব ভালো লাগে। গত জুমায় সেখানে নামাজ পড়েছি। এসওএস শিশুপল্লির মেয়েরা মাধ্যমিক শেষ করার পর লালমাটিয়া কলেজে উচ্চমাধ্যমিক থেকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়বে। ছেলেদের জন্য মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উচ্চমাধ্যমিক থেকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। স্কুলগুলোতে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। এ জন্য মিল্কভিটাকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করছি। তোমাদের অনেক ধন্যবাদ। তোমরা আমার চোখ খুলে দিয়েছ। তোমাদের কাছ থেকে অনেক বিষয় জানতে পেরেছি।
আব্দুল কাইয়ুম
মাননীয় মন্ত্রী প্রতিটি বিষয় অনেক মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে এখনো যারা বলোনি, এবার বলো।
রুমা
মাতবার বাজার পাকাপুল থেকে এসেছি। মায়ের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করানোর। আমারও ইচ্ছা ছিল। সংসারে অভাবের জন্য দুজনের ইচ্ছাই বাদ গেল। মা পাঠালেন কাগজ টোকাতে। কাগজের বস্তা নিয়ে মানুষের পাশ দিয়ে যেতে হয়। যাওয়ার সময় কারও গায়ে কখনো বস্তাটা একটু লেগে যায়। তখন তারা আমাকে মারে। আমার খুব খারাপ লাগে। আমি অনেক কান্না করি। বাড়ি গিয়ে মাকে বলি, মা-ও কান্না করেন। এখন আর মাকে বলি না। মা মনে করেন, আমাকে এখন কেউ মারে না। কিন্তু এখনো মারে। এর কী কোনো সমাধান আছে?
পপি আকতার
পুরান ঢাকার ইসলামবাগ থেকে এসেছি। যে বস্তিতে থাকি, সেখানে মা-বাবা দুজনই কাজে চলে যান। তাঁদের শিশুসন্তানেরা একা একা বাসায় থাকে। বস্তির আশপাশে পুকুর আছে, নদী আছে, ময়লা-আবর্জনা আছে, মা-বাবা না থাকায় শিশুরা এসব জায়গায় চলে যায়। ফলে তারা পানিতে পড়ে যেতে পারে। ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পেটে অসুখ হতে পারে। মাননীয় মন্ত্র্রী এ ব্যাপারে কিছু করতে পারলে ভালো হয়।
সাথি আকতার
আমি কালীগঞ্জ থেকে এসেছি। সেলাই মেশিনের কাজ করি। যে বস্তিতে থাকি সেখানে ঘরভাড়া অনেক বেশি। ঘরভাড়া বেশি হওয়ার কারণে খাওয়া-পরার অনেক সমস্যা হয়। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আবেদন, এ ব্যাপারে কিছু করা যায়?
সালমা আক্তার
ফকিরাপুল কমর গলির বস্তি থেকে এসেছি। যে বস্তিতে থাকি সেখানে অনেক শিশু আছে। এই শিশুদের বাবা-মা সকালে তাদের ঘরে রেখে কাজে যান। কখনো দুপুরে বাসায় ফেরেন। কখনো সন্ধ্যায়। ঘরে কোনো খাবার না রেখেই তাঁরা কাজে যান। শিশুরা না খেতে পেয়ে বস্তির বাইরে যায়। রাস্তায় চলে যায়। তারা খাবারের খোঁজ করতে থাকে। মানুষের কাছ থেকে চেয়ে খায়। এ সুযোগে কিছু দুষ্টুলোক তাদের খাবারের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায়। তাদের ভিক্ষাসহ খারাপ কাজ করাতে চায়। অনেক সময় পাচার করে দেয়। এ ব্যাপারে মাননীয় মন্ত্রী কী করবেন?
সিলভিয়া
এ সময়টি আমাদের বয়ঃসন্ধির কাল। এ সময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হয়। আমাদের নিজস্ব আলাদা পরিবেশের দরকার হয়। কিন্তু কোনো বস্তিতে সে রকম পরিবেশ নেই। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা মানুষ চলাফেরা করে। তা ছাড়া নিজেদের পরিবারেও বেশি মানুষ থাকে। ছোট্ট একটি ঘর। খাওয়ার সময়, ঘুমোনোর সময় কখনো নিজস্বতা বলে কিছু থাকে না। এতে আমাদের খুব অসুবিধা হয়। মাননীয় মন্ত্রী, এ বিষয়ে কিছু করা যায় কি না।
মাহমুদুল হাসান
আমাদের বস্তির পাশে কামরাঙ্গীর চর নামে একটি বস্তি আছে। এই বস্তির শিশুদের ভিক্ষার কাজে লাগানো হয়। একজন শিশুর জীবনে এর থেকে খারাপ আর কী হতে পারে! মাননীয় মন্ত্রী যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।
মো. আসলাম
বাবা মারা গেছেন। মা আবার বিয়ে করেছেন। নানি খুব কষ্ট করে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি নিজেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে গিয়েছিলাম। কাজ হলো মেশিনে পাইপ বানানো। এ সময় হাত কেটে ও ভেঙে যেতে পারে। আবার পলিথিন কারখানায় পলিথিন কাটার সময় হাত কেটে যেতে পারে। এ রকম আরও কাজ আছে। ইউনিসেফ সেখান থেকে আমাকে নিয়ে এসেছে। আমার মতো অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। তারাও আমার মতো শিশু। তাদের এ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনা যায় কি না বা অন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা করা যায় কি না।
জীবন
আমাদের বস্তিতে সকালবেলা বাথরুম এবং হাত-মুখ ধোয়ার জন্য লম্বা লাইন দিতে হয়। এতে আমাদের অসুবিধা হয়। বাথরুম না করে এবং হাত-মুখ না ধুয়ে অনেক সময় স্কুলে যাই। তখন শিক্ষকেরা মারেন। বস্তিতে লোক গাদাগাদি করে থাকে। স্কুল থেকে বাসায় ফিরলে মায়ের সঙ্গে কাজ করি। রাতে বিদ্যুতের অভাবে পড়তে পারি না। পাশে কোথাও গিয়ে পড়ব, সেখানেও দুর্গন্ধ আর মানুষের ভিড়। বস্তির পাশে দুটি মাঠ আছে। সে মাঠে সব সময় ট্রাক থাকে। কখনো খেলাধুলা করতে পারি না। মাননীয় মন্ত্রী, এ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন কি?
আব্দুল কাইয়ুম
সবার কথা শোনা হলো। শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক বিষয় উঠে এসেছে। সমস্যাগুলো যে কত গভীর তা মাননীয় মন্ত্রীসহ সবাই বুঝতে পারছি। এখন অধ্যাপক নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আবার শুনব।
নজরুল ইসলাম
এতক্ষণ শিশুদের অনেক কথা শুনলাম। এ কথার হয়তো কোনো শেষ নেই। কথা চলতেই থাকবে। কিন্তু মানুষকে কোথাও না কোথাও থামতে হয়। তোমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছি। তোমরা সবাই কোনো না কোনো বস্তি থেকে এসেছ। এই যে বস্তিতে থাকো, তোমাদের কি খারাপ লাগে? বস্তিতে থাকা কোনো খারাপ বিষয় না। বস্তি শব্দটাও খারাপ না। বস্তি মানে বসতের জায়গা। তুমি কোথায় থাকো সেটা কোনো বড় কথা না। বড় কথা হলো, তুমি কতটুকু ভালো। কতটুকু ভালো মানুষ। আজ থেকে মনে করবা বস্তিতে থাকা কোনো খারাপ কাজ না। যদি না খারাপ কাজ করো।
ঢাকা শহরের ৪০ লাখ মানুষ বস্তিবাসী। সিঙ্গাপুর শহরের নাম শুনেছ? এটা একটা শহর। আবার একটা দেশ। একটাই শহর। একটাই দেশ। লোকসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখ। তাহলে ঢাকা শহরে বস্তিবাসী যত, ওদের লোকসংখ্যা তত। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ১৪ লাখ ১২ হাজার। পাস করেছে ১২ লাখেরও বেশি। মালদ্বীপ একটি দেশ না? এর জনসংখ্যা কত? মাত্র চার লাখ। আর আমাদের দেশে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ১৪ লাখ ১২ হাজার। আমাদের সব সংখ্যাই বেশি। এ জন্য কিছু কিছু বিষয় কম পড়ে যায়।
আমাদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা হলো খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান। লক্ষ করলাম, খাদ্য নিয়ে তোমরা কেউ কিছুই বলোনি। তাহলে মোটামুটি বলা যেতে পারে যে খাদ্যের অভাব আমাদের নেই। তবে আরও ভালো খাদ্য, ভালো পুষ্টি দরকার। তোমরা কেউ কাজ চাওনি। কারণ কাজের বয়স তোমাদের এখনো হয়নি। তোমরা এখনো শিশু।
এরপর হলো বস্ত্র। মনে আছে, যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখনো হাফপ্যান্ট পরে, খালি পায়ে স্কুলে এসেছি। হঠাৎ একদিন শিক্ষক বললেন, তোমরা হাফপ্যান্ট পরে, খালি পায়ে স্কুলে আসবে না। তোমরা এত ছোট্ট তা-ও খালি পায়ে, হাফপ্যান্ট পরে স্কুলে যাও না। তোমরা সবাই ভালো জামাকাপড় পরো। তাহলে বস্ত্রের দিক থেকে ভালো আছি।
শিক্ষা, সবাই স্কুলে যায়। কিন্তু বস্তির অনেকে হয়তো স্কুলে যেতে পারে না। সরকার প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। তার পরও তোমরা অনেকে যেতে পারো না। এ বিষয়ে সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। স্কুলে যেন ঠিকমতো লেখাপড়া হয় সে বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তোমরা দুই-তিনজন ছাড়া কেউ প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যাও না। এটা খুব ভালো। এর মানে হচ্ছে আমাদের স্কুলগুলোতে লেখাপড়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বলেছ। চিকিৎসার খরচ বেশি। ভালো চিকিৎসা অনেক সময় পাওয়া যায় না। তোমরা নিয়মিত স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেবে। ভালো স্বাস্থ্যের জন্য দরকার ভালো পয়োব্যবস্থা। অর্থাৎ ভালো বাথরুম দরকার। ভালো পানি দরকার। তোমরা বলেছ বস্তিতে ভালো বাথরুম নেই। দেশে নিরাপদ পানিরও সমস্যা আছে। এদিকটায় সরকারকে নজর দিতে হবে। ভালো পয়োব্যবস্থা বলতে বোঝায় ভালো বাথরুম, যেখান থেকে ময়লা সরাররি পয়োনিষ্কাশনের লাইন দিয়ে পাগলায় শোধনাগারে চলে যাবে। এই শোধনাগারে কারখানার বর্জ্য মিশে পানি বিষাক্ত হয়ে যায়। সিঙ্গাপুর পৃথিবীর একটি উন্নত শহর। সেখানে বাথরুমের পানি শোধন করে তারা খায়।
তোমাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। খেলাধুলা করার সুযোগ থাকতে হবে। তোমরা ভালো বলেছ, খেলার মাঠ নেই। বস্তির ছেলেমেয়েদের বেশি সাহস। এরা রাস্তায় খেলাধুলা শুরু করে। অথবা ইসলামবাগের ছেলে মিরপুর গিয়ে খেলে। মাঠের কথা তোমরা বলেছ। আমরাও চাই প্রতিটি বস্তিতে মাঠ থাকতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও খেলাধুলার প্রতি বিশেষ আগ্রহ আছে। তোমাদের মাঠের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। মাননীয় মন্ত্রীও তোমাদের কথা দিয়েছেন, মাঠের ব্যবস্থা হবে। গুলশানের একটা পার্ক একবার কর্তৃপক্ষ ওয়ান্ডারল্যান্ড বানাতে চেয়েছিল। আমরা তখন বাধা দিয়ে ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠ হিসেবে রেখে দিয়েছি। তোমরা খেলাধুলা করবে। চিড়িয়াখানায় যাবে। পার্কে ঘুরবে। বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাবে। তোমরা জাদুঘর দেখতে যাবে। প্রয়োজনে আমি ব্যবস্থা করে দেব।
নিরাপত্তা খুব জরুরি। বস্তিতে বাস করার নিরাপত্তা। স্কুলে যাওয়ার নিরাপত্তা। খেলাধুলার নিরাপত্তা। বাবা-মা কাজে গেলে শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকে। এটি একটি বড় সমস্যা। সে ক্ষেত্রে কী করতে হবে? আমরা ঢাকা শহরের বস্তিবাসী মানুষদের নিয়ে সমিতি করেছি। সমিতির লোকজন সবাইকে নিরাপত্তা দেবে। এখানে শিশুকেন্দ্র থাকবে। শিশুরা এখানে নিরাপদে থাকবে। তোমাদের জন্য শিশু একাডেমি আছে। তোমরা সেখানে যাও? কী করতে যাও? অনুষ্ঠান দেখতে যাও। অনুষ্ঠান করতে যাও। দেশে যদি অনেক শিশু একাডেমি থাকত, তাহলে ভালো হতো। এগুলো কে করে দেয়? সরকার। বেসরকারি উদ্যোক্তারাও তোমাদের কল্যাণে এগিয়ে আসেন। তাঁরা স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল করে দেন। এনজিওরা তোমাদের কল্যাণে কাজ করে। এখন তোমাদের এগুলো থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হতে হবে।
যাঁরা টেলিভিশনে টক শো করেন, যাঁরা সাংবাদিকতা করেন, তাঁরা সরকার ও সমাজকে সচেতন করে তোলেন। আমি জানি না বস্তি নিয়ে তাঁরা কখনো আলোচনা করেছেন কি না। আমি বস্তি নিয়ে ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। বস্তি নিয়ে আলোচনার জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বেশি ডাকেনি। দু-একবার ভুলেও ডাকতে পারে। তবে শিশুদের নিয়ে মাঝেমধ্যে আলোচনা হয়। গণমাধ্যমের বড় রকমের দায়িত্ব আছে। যেটা আজ প্রথম আলো তোমাদের জন্য করেছে। প্রতিটি খবরের কাগজ, টেলিভিশন যদি করত, তাহলে সমস্যা অনেক কম হতো। আমাকে এবার বলো কচিকাঁচার মেলার কে সদস্য? খেলাঘরের সদস্য কে? কেউ না। বয়েজ স্কাউট কে কে করো? নানক ভাই করেছেন। আমি করেছি। বয়েজ স্কাউট করলে দেশের বাইরে যাওয়া যায়।
ঝাড়ু দেওয়া থেকে শুরু করে মন্ত্রিত্ব—সব কাজই কাজ। সব কাজকে সম্মান করতে হবে। পরিবেশ, সমাজ, রাষ্ট্র সবাই শিশুদের সহযোগিতা করে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখো না, কোনো একটি শিশু তাঁর কাছে গেলে তাঁকে কোলে তুলে নেন। বিশেষ বিশেষ দিনে শিশুদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, সময় কাটান। এগুলো হচ্ছে শিশুদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার নিদর্শন। আমরা যখন শিশু ছিলাম, তখন তোমাদের থেকে অনেক বেশি সমস্যা ছিল। তোমরা আজ যে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললে, আমাদের সময় এটি কল্পনাও করতে পারতাম না। এ দিনটি নিশ্চয়ই তোমাদের সারা জীবন স্মরণ থাকবে। এ জন্য তোমরা কাকে ধন্যবাদ দেবে? না, আমাদের দিতে হবে না। ধন্যবাদ দিতে হবে প্রথম আলো ও ইউনিসেফকে, যারা তোমাদের জন্য এই আয়োজন করেছে।
সবশেষে বলি, তোমাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তোমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাও। নিজে কী হতে চাও স্বপ্ন দেখো। কোনো বাধাই তোমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তোমাদের জন্য কী করতে হবে, সেটা সংবিধানে বলা আছে। শিশুদের জন্য শিশু আইন আছে। শিশুনীতি আছে। সেখানে সরকার প্রতিজ্ঞা করেছে তোমাদের জন্য কী কী করতে হবে। আজকের আলোচনার বিষয় হলো নগরশিশু। নগরশিশুর জন্য জাতীয় নগর নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। এ নীতিতে পরিষ্কার লেখা আছে, সরকার শিশুদের জন্য কী করবে। তাদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য রক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদন ইত্যাদি বিষয় সরকার শিশুদের জন্য নিশ্চিত করবে। ঢাকা শহরসহ সব শহরের শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। পার্ক, খেলার মাঠ, বিনোদনকেন্দ্র, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল কোথায় কী হবে, নগর পরিকল্পনার মধ্যে সব বলে দিতে হবে। তা না হলে গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি হবে, কিন্তু পরিকল্পিত নগর হবে না। মাঝেমধ্যে বস্তি উঠিয়ে দিতে দেখি। বস্তি ওঠানোর ব্যাপারে অনেক সতর্ক থাকতে হবে। দু-চারজন দুষ্ট মানুষের জন্য বস্তি ভেঙে দিলে ওই রাতেই শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ শত শত মানুষকে অসহায় হয়ে পড়তে হয়। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো বস্তি ওঠানো যাবে না। প্রত্যেক মানুষকে আশ্রয়ের নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
নজরুল ইসলাম শিশুদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন এলাকার শিশুরা এখানে উপস্থিত আছে। তারা তাদের অসুবিধাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। সরকারের শিশুনীতিমালায় আরও সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, বিশেষ করে চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, জাতীয় জাদুঘরসহ দর্শনীয় জায়গাগুলো আরও বেশি করে দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল, বাসা, বাইরে কোথাও যেন শিশুরা নির্যাতনের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে রাষ্ট্র তাদের সাহায্য করবে। এখন সব বিষয় মিলিয়ে এখন বলবেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
আমি আগেই বলেছি, এটি আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। এখানে হয়তো কয়েকজন শিশু উপস্থিত হয়েছে। মনে করছি এরা গোটা বাংলাদেশের শিশুদের প্রতিনিধি। শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের কথা আমাদের ভাবতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছি। জানি, একজন মানুষের জন্মগত কিছু অধিকার থাকে। এর মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, পুষ্টি, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা বিনোদন ইত্যাদি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কেন যুদ্ধ করেছিলাম? এই মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তার জন্যই যুদ্ধটি করেছিলাম।
আমাদের উদ্দেশ্য গুলশান, বানানীর শিশুটি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার যে সুযোগ পাবে, বস্তিতে জন্ম নেওয়া ওই শিশুটিও একই সুযোগ পাবে। আমরা চাই না বস্তির শিশুটি টোকাই পরিচয়ে বড় হোক। বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের দেশ যে গতিতে এগোনোর কথা ছিল, সেভাবে এগোতে পারিনি। আমাদের সংবিধানে শিশুদের যে অধিকার দেওয়া আছে, সেটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হবে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও বস্তিতে অবস্থানরত শিশু—এদের মধ্যে পরিবেশগত, সামাজিক ও মানসিক পার্থক্য রয়েছে। সরকার সব শ্রেণীর শিশুদের কথা ভাবছে।
২০১১ সালের শিক্ষানীতিতে প্রতিবন্ধী শিশু এবং সাধারণ শিশু এদের জন্য আলাদা শিক্ষানীতি রয়েছে। শিশুদের জন্য আমাদের সবার সচেতন হতে হবে। সবাইকে অবদান রাখতে হবে, বিশেষ করে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুরা যখন রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। আমরা কি আমাদের গাড়িটি থামাই? তাদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা ভাবি? কিন্তু এ ধরনের কাজের ঐতিহ্য অনেক দেশের মানুষের আছে। মানুষের মধ্যে এখন মূল্যবোধের অনেক অভাব দেখা যায়। আমরা ১৭ মার্চ জাতীয় শিশুদিবস পালন করি। এই দিনটি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনও। কেন করি, শিশুদের প্রতি মানুষের বিবেক জাগ্রত করার জন্য। শিশুদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে শিশুরাও যাতে মানসিকভাবে বিকশিত হতে পারে সে জন্য।
আমি মানুষকে সবচেয়ে বেশি সম্মান করি। মানুষের ব্যাপারে সব সময় সতর্ক থাকি। আজ তোমাদের মাঝে আসতে ভয় পেয়েছি। কারণ তোমরা কী প্রশ্ন করবা, কী বলবা ইত্যাদি। সরকার তোমাদের জন্য কী করতে চায়, কী করছে, কী ভাবছে—এসব বিষয়ে আমি এখানে আসার আগে তথ্য সংগ্রহ করেছি। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. শিরীন শারমিনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনিও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
আগে যদি জানতাম যে তোমরা এ ধরনের প্রশ্ন করবা, তাহলে আরও লোকজন সঙ্গে নিয়ে আসতাম। আমি এই ভুলটা করেছি। তোমাদের প্রশ্ন শুনে মনে হয়েছে, সচিব, পাবলিক হেলথের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ডিসি ও অন্যদের আনা উচিত ছিল। বস্তিতে টয়লেট নেই, টিউবওয়েল নেই, জিজ্ঞেস করতাম এগুলো কত দিনের মধ্যে করে দেবেন। ডিসি সাহেবকে বলতাম, এই যে মাঠ দখল করে আছে, খালি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমার নির্বাচনী এলাকায় ‘জনতার আদালতে সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক’ নামে একটি অনুষ্ঠান করি। সেখানে তিতাস গ্যাসের প্রতিনিধি, ওয়াসার প্রতিনিধি, পুলিশের প্রতিনিধি সবাই থাকে। চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে এলাকার মানুষের কথা শুনি। আমিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন সবাই মিলে উত্তর দিই। তোমাদের বিষয়টি বুঝতে পারলে এই লোকগুলো নিয়ে আসতাম। তাতে আরও বেশি সুবিধা হতো। তাঁরা তোমাদের সমস্যার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতেন।
তবে সোনামণিরা, তোমরা আমার চেতনার জায়গাটি খুলে দিয়েছ। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি এ জায়গায় বসে। অভিভূত হয়েছি তোমাদের প্রতিভায়। ঢাকা শহরে অনেক শিশু আছে, যারা রোদ-বৃষ্টি লাগাতে পারে না। বাইরে বেরোতে পারে না। বেরোলেই হাঁচি-কাশিসহ নানাবিধ সমস্যা হয়। তোমরা হয়েছ ঠিক আমাদের মতো। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, অর্থাৎ আমরা যারা গ্রাম থেকে এসেছি, সবাই তোমাদের মতো। তোমরা আর আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খেলেছি। কাদামাটির মধ্যে বড় হয়েছি। তোমাদের যে ভাবনা, তোমাদের যে কথা শুনলাম, নিশ্চিত যে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি।
সিলভিয়ার কথা শুনলাম। বস্তিতে থেকেও সে টেলিভিশনে সংবাদ পড়ে। নাদিম হোসেন লালবাগ থেকে মিরপুর যায় ক্রিকেট খেলতে। আসলামসহ সবাই তোমরা কত চটপট কথা বলছ, প্রশ্ন করছ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে কেউ যুক্ত হতে পারছি, কেউ পারছি না। তোমরা এই সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছ। এনজিওগুলো তোমাদের জন্য কাজ করছে।
সরকারের অনেক কর্মসূচি রয়েছে। যেমন, লালবাগ এলাকায় ৫০০ শিশুকে এক হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করছি। এই প্রকল্পকে দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। দেশে আট হাজার কেন্দ্র থেকে শিশুদের টাকা দেওয়া হবে। মেট্রোপলিটন এরিয়ায় এনজিওদের সহযোগিতায় ৫৫ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সরাতে পেরেছি। শিশুদের চিত্তবিনোদন, খেলাধুলা সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানিসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এর সঙ্গে রয়েছে পয়োনিষ্কাশন। আগে স্কুল-কলেজগুলোতে ছেলেমেয়েদের আলাদা টয়লেট ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ছেলেমেয়েদের আলাদা টয়লেট করতে হবে। এখন যেখানেই স্কুল-কলেজ হচ্ছে, সেখানেই ছেলেমেয়েদের আলাদা টয়লেট হচ্ছে।
এই সরকারের সময় শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তন হয়েছে তোমারা জানো। এখন তোমাদের দুটি পরীক্ষা দিতে হয়। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে। শিক্ষাব্যবস্থায় এটা একটা বিপ্লব। এর জন্য ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে অনেক সমস্যা আছে। কখনো হতাশ হওয়া চলবে না। এর মধ্যেই তোমাদের সামনের দিকে যেতে হবে। একটা বিশ্বাস সব সময় রাখবা যে মানুষের কোনো পরাজয় নেই। মানুষ তার স্বপ্নের মতোই বড় হতে পারে। একজন মানুষ বড় হওয়ার জন্য যা কিছু দরকার তার সব গুণ তোমাদের মধ্যে আছে। আমরা যা পারিনি, তোমরা তা পারবে; তোমাদের প্রতি এ বিশ্বাস আমার হয়েছে।
আমরা একাত্তরে যুদ্ধ করেছি। বেঁচে থাকার কথা ছিল না। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম। সেই বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যেখানে শেষ করব, তোমরা সেখান থেকে শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, যাঁকে পাবা তাকেই বলবা, তোমাদের জায়গা করে দিতে। সুযোগ করে দিতে। সেই কবে সুনির্মল বসু বলেছিলেন, ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র।’ সত্যিই তাই, শেখার কোনো শেষ নেই। সব জায়গা থেকে শেখা যায়।
আজ তোমাদের মধ্যে এসে অনেক শিখেছি। অনেক জেনেছি। তোমরা অনেক প্রশ্ন আমার কাছে করেছ। আমি শুধু একটি কথা বলব, ধাপে ধাপে সবই তোমাদের জন্য করব। আমরা তার প্রমাণ রাখছি। কোটি কোটি বিভিন্ন কালারের নতুন বই বছরের শুরুতে পাচ্ছ। পৃথিবীর দ্বিতীয় কোনো দেশ দেখাতে পারবে না, যারা এত বই বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে দিতে পারে। অনেকেই সমালোচনা করেছিল যে আমরা পারব না। সব সমালোচনার জবাব দিয়ে আমরা পেরেছি। আমরা এগোচ্ছি। তাই অসম্ভবকে সম্ভব করে মাত্র নয় মাসে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। অসম্ভবকে সম্ভব করে এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র জয় করেছি। আমরা সেই বাঙালি, যারা হিমালয় জয় করেছি। ক্রিকেট খেলায় কোথায় ছিলাম, আজ কোথায় এসেছি। আমরা এই বাংলাদেশের মানুষই তো সব পেরেছি। এই মানুষের মধ্যে আছেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাশ। এঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাঙালি হয়ে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি কোনো হতাশাবাদী মানুষ না। তোমাদের কথায় বুঝেছি তোমরাও হতাশ না।
তোমরা যে সমস্যাগুলো বলেছ, সব লিখে নিয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। অন্য যেসব মন্ত্রণালয়ের কাজ আছে তাদের জানাব। তোমরা যারা আজ এখানে এসেছ, তোমাদের অনুরোধ করব, আমার মোহাম্মদপুর এলাকায় আসতে। তোমাদের দেখাব সব জায়গায় না পারলেও কিছু বস্তিতে কাজ করেছি। ইটের রাস্তা করেছি। টিউবওয়েল বসিয়েছি। পাকা টয়লেট করে দিয়েছি। আবার মাঝেমধ্যে কষ্টও পেয়েছি। যেমন, জেনেভা ক্যাম্পে ২৭টি টয়লেট করে দিয়েছি, টিউবওয়েল বসিয়েছি। দুই সপ্তাহ পরে গিয়ে দেখেছি তারা এগুলো ঠিক রাখেনি, নষ্ট করে ফেলেছে। করেও দিতে হবে, আবার রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা কোনো জিনিস রক্ষা করার চেষ্টা করি না। গাছটা না বাঁচিয়ে ফলটা খেতে চাই।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামে প্রতি আট হাজার মানুষের জন্য আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। এর ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। বছরের শুরুতে কোটি কোটি বই প্রাপ্তি যেমন বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে, তেমনি কমিউনিটি ক্লিনিকও বিশ্বে একটি নতুন দৃষ্টান্ত। সরকার এমন কিছু কাজ করেছে, যা বিশ্বের জন্য উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী বিজিএমইএর নেতাদের বলেছেন পোশাকশিল্পকে গ্রামে নিয়ে যেতে। তার জন্য যত ভর্তুকি লাগে তিনি দেবেন। সরকারের দিক থেকে যা যা করা সম্ভব, সবই করা হবে। তোমাদের জীবনযাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করছি।
আব্দুল কাইয়ুম
সবাইকে ধন্যবাদ। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব বলে মনে করি। সরকার ও কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই এদিকে মনোযোগ দেবে।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
June
(2957)
-
▼
Jun 04
(150)
- লাশ হচ্ছে শত শত জেলেঃ নিরাপত্তা দিতে পারছে না প্রশাসন
- বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধনের পরই বন্ধঃ দিনবদলের সাফল্য...
- এ সরকারের প্রথম বছরেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হয়...
- বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির সঙ্কট অত্যাসন্ন by অধ্যা...
- মসজিদে নববীর আদলে বাংলাদেশের মসজিদ যেসব বিষয় ভাবতে...
- ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় বাণিজ্যিক ব্যাংকঃ ব্যাংকিংয়ে স...
- এরই নাম কি সংসদীয় রাজনীতি? by ড. তারেক শামসুর রেহমান
- যমুনার চরে জাহাজ আটকা পড়েছেঃ টাকার শ্রাদ্ধ না করে ...
- চারদিক-যুদ্ধ নাকি শান্তির জন্য! by এম এম খালেকুজ্জ...
- স্থানীয় সরকার-বৃত্ত ও বৃত্তান্ত by তোফায়েল আহমেদ
- মধ্যপ্রাচ্য-গাছের কারণে যুদ্ধ! by রবার্ট ফিস্ক
- শিক্ষার সংকট-প্রশ্নটা বেতন-ফির নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ব...
- সময়ের প্রতিবিম্ব-সংবিধানের কতখানি সংশোধন হতে পারে ...
- সরকারি হাসপাতালে বেহাল চিকিৎসাব্যবস্থা-চিকিৎসকদের ...
- যোগাযোগের ‘হার্ড’ ও ‘সফট’ খাতের জন্য সুসংবাদ-স্বতন...
- গন্তব্য ঢাকা-গ্রামে তো আর ফিরতে পারি না by শর্মিলা...
- সপ্তাহের হালচাল-গণতন্ত্রের রেলগাড়িটি কোন পথে? by আ...
- অভিমত ভিন্নমত
- দিল্লির চিঠি-রাজনৈতিক দলের ভেতর গণতন্ত্র by কুলদীপ...
- বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি-চিন্তা যখন...
- ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে-চট্টগ্রাম বিশ...
- চলতি পথে-বিরিশিরির আদিবাসী জাদুঘরে by দীপংকর চন্দ
- কয়লাখনি-‘উন্মুক্ত না, বিদেশি না, রপ্তানি না’: কেন?...
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-জাদুঘরচর্চার আন্তর্জাতিক সংহতি ...
- গদ্যকার্টুন-মন্ত্রীরা কেন শুল্কমুক্ত গাড়ি পাবেন না...
- সহজিয়া কড়চা-আমার জানা ও দেখা শাসকদের ইতিকথা by সৈয়...
- ভালো, তবে ফাঁকফোকর পূরণে নিষ্ঠা দরকার-পরিবেশ সংরক্...
- সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিকল্প নেই-স্থানীয় প্রশাসন ও প...
- স্মরণ-এমন মানুষও ছিল একদিন by বিপ্লব বালা
- সরল গরল-পাকিস্তানের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে by মিজান...
- শ্রমশক্তি-বাংলাদেশের শ্রমিক কি অদক্ষ? by খোন্দকার ...
- রাজনীতি-তাহলে তিনি কি প্রদেশের নেত্রী? by সোহরাব হ...
- সাদাসিধে কথা-ল্যাপটপে লেখাপড়া? by মুহম্মদ জাফর ইকবাল
- অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন দূর করতে হবে-সড়ক ...
- শ্রমিকের নৈরাজ্য ও মালিকের কঠোরতা পরিহার্য-পোশাকশ্...
- চারদিক-দিনটা যখন বন্ধুর জন্য by শারমিন নাহার
- গণমাধ্যম-‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’! by সুমন রহমান
- জন্মদিন-শতায়ু হোন এম আর খান by নান্টু রায়
- আফগানিস্তান-আফগান যুদ্ধের দিন শেষ by তারিক আলী
- বিশেষ সাক্ষাত্কার-কোপেনহেগেনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন...
- সবার উত্কণ্ঠার অবসান ঘটাতে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন-বি...
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে-রাজনৈতিক দলের...
- চারদিক-পাতাম বানানোর গ্রাম by মৃত্যুঞ্জয় রায়
- কালের পুরাণ-আদালত ভুল স্বীকার করলেন, রাজনীতিকেরা ক...
- পার্বত্য চট্টগ্রাম-প্রথাগত মালিকানার স্বীকৃতি আগে,...
- প্রতিক্রিয়া-‘কেন এই নিষ্ঠুরতা’ by মোশাহিদা সুলতানা...
- গতকাল সমকাল-আফগানিস্তান সমস্যার গোলকধাঁধা by ফারুক...
- আদালতের রায় সবাইকে মেনে চলতে হবে-অননুমোদিত আবাসন প...
- দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আন...
- স্মরণ-জননেতা নূরুল ইসলাম by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- খোলা চোখে-মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে by হাসান ফেরদৌস
- ধর্ম-নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখুন by...
- গোধূলির ছায়াপথে-একটি বড় শূন্য by মুস্তাফা জামান আব...
- আপিল বিভাগের রায়-ভবিষ্যতের বিপর্যয় এড়ানোর শিক্ষা b...
- শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা থেকে কি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ...
- সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ, সংসদের সামনে অনেক দায়িত্ব...
- লোহাগাড়া সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অনিয়ম দুর্নীতি দ...
- প্রকৃতিকে পোষ মানিয়ে জাকারিয়ার আপন ভুবন by আল রাহমান
- চট্টগ্রাম ভূমি হুকুম দখল বিভাগ-জমা আছে ৬০ কোটি কিন...
- খাল খননের জন্য কাটা হলো আড়াই হাজার গাছ! by ইব্রাহি...
- এবার পাহাড় কাটা চলছে নতুন কৌশলে by মোহাম্মদ রফিক
- ক্যানসারে আক্রান্ত নাট্যকর্মীর সাহায্যার্থে ঢাকায় ...
- মহড়াকক্ষ থেকে-বিড়াল হবে শহরের মেয়র by তারিকুর রহমা...
- নাট্য উপস্থাপনায় আধুনিকতা থাকবে by শফিক আল মামুন
- বালামের গল্প
- তিন্নির ফেরা by কামরুজ্জামান
- আবার ছাত্রনেতা হত্যা
- দুর্নীতির বিষবৃক্ষ
- মানুষের মুখ-‘একটা তোড়া লন, আফা’ by সৈয়দা আখতার জাহান
- দূরদেশ-সংবিধান সংশোধনে সবাইকে দরকার by আলী রীয়াজ
- বিশ্ব বাঘ দিবস-বাঘের জন্য by খসরু চৌধুরী
- বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি-আঙ্গু কাবিলা বনাম মাঙ্গু কাবিল...
- জনপ্রতিনিধি-সাংসদদের ‘বিশেষ অধিকার’ সীমাহীন হতে পা...
- দুর্যোগ সীমিত হলেও সরকারের প্রস্তুতি রাখতে হবে-বন্...
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই চূড়ান্ত লক্ষ্য-মানবতাবিরোধী ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-ওহুদ যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মুসল...
- জন্মদিন-চিরপথের সঙ্গী আমার by লায়লা হাসান
- পোশাকশিল্প-‘তিন হাজার টাকা’ by শাহদীন মালিক
- ধর্ম-শবে বরাত সৌভাগ্য ও মুক্তির রজনী by মুহাম্মদ আ...
- বাঘা তেঁতুল-দেশীয় অস্ত্রের ঠাট by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- অরণ্যে রোদন-ক্ষমতা কীভাবে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে by...
- নিয়ন্ত্রকদের অস্থিরতা অগ্রহণযোগ্য, বিনিয়োগকারীর সত...
- আগামী দিনগুলো মঙ্গলময় হয়ে উঠুক এই রাতের কল্যাণে-পব...
- রবার্ট ফিস্ক-মনে পড়ে যৌথবাহিনীর বোমায় বেসামরিক লো...
- গহন গহীন-জিশিন, সুনামি ও হিবিকুশা! by ফখরুজ্জামান ...
- বহে কাল নিরবধি-শেষ দেখতে সময় লাগবে by এম আবদুল হাফিজ
- চরাচর-বিশ্ব পানি দিবস : বিশুদ্ধ পানি আর কত দূর by ...
- কক্সবাজারকে বিদেশিদের কাছে কী করে আরো আকর্ষণীয় করা...
- কল্পকথার গল্প-চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দেয় না by আলী ...
- হাওরবাসীর অধিকার by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
- অভিযোগপত্র গ্রহণ-বিএনপিপন্থী ২৫ আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর
- বাজেটে অব্যাহত থাকছে সুবিধা by আবুল কাশেম
- শেয়ারবাজার-পরিচালকদের সময় বৃদ্ধির পক্ষে সবাই by তে...
- চুনাপাথরের খনির সন্ধান মিলল জয়পুরহাটে
- বিশেষজ্ঞদের অভিমত-নিজস্ব অর্থায়নেই বাজেট প্রণয়ন সম...
- হুইপের ওপর হামলা-দুই ওসি প্রত্যাহার পুলিশ বাদী হয়ে...
- ভবদহে ক্ষোভের আগুন বহুদিনের by ফখরে আলম
- যুক্তরাষ্ট্রের তিন লক্ষ্য by মেহেদী হাসান
- রমজানে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া-কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদ...
- চারদিক-নৌকাবাইচ by আকমল হোসেন
- পার্বত্য চট্টগ্রাম-জরিপ আগে না মালিকানা আগে by এ এ...
- দুই দু’গুণে পাঁচ-বিশ্বকাপ ও রেফারি রঙ্গ by আতাউর র...
- বীজের অধিকার-জলবায়ু পরিবর্তন প্লাস খাদ্যনিরাপত্তা ...
- সরল গরল-সংবিধান সংশোধনে কথা রাখবে আওয়ামী লীগ? by ম...
- অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে বিহিত করা প্রয়োজন-বোর্ডের...
- আইন সংশোধনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তৎপর হোক-ইউপি...
- ডাকাতের হাতে by তারাপদ রায়
- গুণীজন কহেন
- রসকারণ-মেয়েশিশুরা কেন গোলাপি জামা পরে? by আব্দুল ক...
- বিতর্ক নিরসনের এখনই সময়-পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্ব
- নিরাপদ দূরত্বে থেকে পাওয়া সংবাদ-নিরাপদ দূরত্ব
- গোলটেবিল বৈঠক-নগরজীবনে শিশুরা
- চারদিক-স্বপ্নের শুরু যেখানে by মাহা নাশিতা মৃত্তিকা
- গণমাধ্যম-সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি...
- পাঠকের মন্তব্য: অনলাইন থেকে-পদ্মা সেতুই একদিন দেশে...
- অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন-ভোটার তালিকা হাল...
- তরুণসমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচ...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- সংবর্ধনা-দায়িত্বশীল ব্যবসার স্বীকৃতি
- হামলার ঘটনায় দুই ওসি প্রত্যাহার, দুই থানায় পৃথক মা...
- ৩ বছরে নতুন উচ্চতায় দ্রব্যমূল্য by রাজীব আহমেদ
- যে কাউকে সচিব করবে সরকার! by আশরাফুল হক রাজীব
- বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি
- নৃশংস, বীভৎস
- পবিত্র কোরআনের আলো-তাবুক অভিযান থেকে যারা কৌশলে ব...
- মিসর কি গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? by ক্যাথেরিন...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : মাহবুবুল আলম-হুমকি-ধমকি মোকাবিল...
- হীরক রাজার দেশে পুলিশের বেশে by তাওহিদ মিলটন
-
▼
Jun 04
(150)
-
▼
June
(2957)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment