সিলেটে উগ্রবাদী আস্তানায় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে উগ্রবাদী আস্তানায় অভিযান চালাতে এবার সেখানে পৌঁছেছে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়ানের একটি টিম। শুক্রবার রাত পৌনে ৮টায় মেজর রোকন ও মেজর রাব্বীর নেতৃত্বাধীন প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা সেখানে পৌঁছেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানান, সেনাবাহিনীর বিশেষ টিম সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে ভেতরে কি পরিমাণ গোলাবারুদ ও জঙ্গি রয়েছে সে ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর আগে বিকেল ৩টা ৫৪ মিনিটে সেখানে পৌঁছে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টিম সোয়াত। তাদের সঙ্গে সেখানে যোগ দেন ঢাকা থেকে যাওয়া ৪ সদস্যের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এদিকে, উগ্রবাদীদের অবস্থান নেয়া ওই বাসায় বসবাসরত ২৩ পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন। দুশ্চিন্তায় ভোগছেন তাদের স্বজনদের পাশাপাশি সিলেটবাসীও।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ৫তলা বিশিষ্ট ভবন ‘আতিয়া মহল’। শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে ঘিরে রাখে ঢাকা থেকে আসা কাউন্টার টেরোরিজন ইউনিটের সদস্যরা। বাড়ির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যা গিয়ে বাড়িটির চারপাশে অবস্থান নেন। বাড়ির ২৪টি ইউনিটের ওই বাসায় ২৩টি পরিবারের সদস্যরা এখনো সেখানে আবদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। পুলিশ বলছে, ওই বাড়িতে নারী জঙ্গি মর্জিনাসহ একাধিক জঙ্গি রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিযানে আটককৃত জঙ্গিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিববাড়ির ওই বাড়ি ঘেরাও করা হয়। সকাল ৮টার দিকে বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিরা গ্রেনেড চার্জ করেছে। ‘আতিয়া মহল’-এ অভিযান চালানোর জন্য ঢাকা থেকে সোয়াত টিম শুক্রবার ৩টা ৫৫ মিনিটে সিলেটে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, ওই এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইতোমধ্যে জঙ্গিদেরকে আত্মসমর্পনেরও আহবান জানানো হয়েছে। তবে এখনো তারা আমাদের এ আহবানে সাড়া দেয়নি। আতিয়া মহলের মালিক উস্তার আলী জানান, ‘প্রাণ’ কোম্পানির অডিট অফিসার পরিচয়ে গত জানুয়ারিতে কাওসার আহমদ নামে এক ব্যক্তি বাসা ভাড়া নেন। বাসার নিচতলার একটি ফ্লাটে কাওসার আহমদের সাথে তার স্ত্রী মর্জিনা থাকেন।
সূত্র : বাসস