Thursday, July 12, 2012
গোলটেবিল বৈঠক-‘অতিদারিদ্র্য নিরসন: সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’
গোলটেবিল বৈঠক-‘অতিদারিদ্র্য নিরসন: সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’
২০ জুন ২০১২ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘অতিদারিদ্র্য নিরসন: সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগিতায়ছিল ‘ব্র্যাক অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ’। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
রাশেদা কে চৌধূরী
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
হোসেন জিল্লুর রহমান
নির্বাহী পরিচালক, পিপিআরসি
এ কে এম নূর-উন-নবী
অধ্যাপক, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মাহবুব হোসেন
নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাক
বিনায়ক সেন
গবেষণা পরিচালক, বিআইডিএস
মোয়াজ্জেম হোসেন
সম্পাদক, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আখতার আহমেদ
চিফ অব পার্টি, বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি সাপোর্ট প্রোগ্রাম, ইফপ্রি
শীপা হাফিজা
পরিচালক, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি, ব্র্যাক
আনিসুল হক
উপসম্পাদক, প্রথম আলো
মতিউর রহমান
সম্পাদক, প্রথম আলো
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
মতিউর রহমান
বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে আমরা এ ধরনের আয়োজন করে থাকি। অতিদারিদ্র্য নিরসন নিয়ে আজকের আলোচনা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সব ধরনের দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দারিদ্র্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। দারিদ্র্য নিরসনের বিভিন্ন উপায় যেন এই আলোচনা থেকে উঠে আসে। সে উদ্দেশ্যেই আজকের এই আয়োজন। আপনারা অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। এ জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আব্দুল কাইয়ুম
দেশের ৩১ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ২০১৫ সালের মধ্যে তা ২৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অতিদারিদ্র্য নিরসন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলে দারিদ্র্যের হারের লক্ষ্যমাত্রা ২৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের ৯০টি কার্যক্রম আছে। এগুলোর ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা নেই। সরকারের দিক থেকে দারিদ্র্য নিরসনে বড় বাধা হলো স্থানীয় সরকারের দুর্বলতা। আজ আমাদের আলোচনা থেকে এ বিষয়ের নানা দিক উঠে আসবে। প্রথমে আলোচনা করবেন রাশেদা কে চৌধূরী।
রাশেদা কে চৌধূরী
দেশে এখন ৩১ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ২০১৫ সালে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ শতাংশ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কেন ১০ শতাংশ বা ১৫ শতাংশ নয়? অনেকে এ লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী মনে করতে পারেন। শুধু দারিদ্র্য নিরসনের দিক থেকে দেখলে উচ্চাভিলাষী মনে হবে। কিন্তু সামাজিক ন্যায়বিচারের আলোকে দেখলে এই লক্ষ্যমাত্রাই সঠিক। এ ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে হবে। কর্মকাণ্ডকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করতে হবে। নীতি, পরিকল্পনা, কৌশল সবই আছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিয়ে। এ জায়গায় আজ আমাদের সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ আলোচকেরা নিশ্চয়ই এ বিষয় আলোচনা করবেন। তাঁদের আলোচনার নির্দেশনাগুলো আমাদের কাজের ক্ষেত্রকে ফলপ্রসূ করবে। দারিদ্র্য বিমোচনে দৃশ্যমান লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। এ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য নিরসনে গতানুগতিক চিন্তার বাইরে আসতে হবে এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের ভাবনা থেকে বিষয়টিকে দেখতে হবে।
স্থানীয় সরকারকে এত দুর্বল করে রাখা হয়েছে যে দারিদ্র্য বিমোচনে এটা কোনো কাজ করছে না। যে কারণে উপবৃত্তি চালু হয়েছিল সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। মাতৃত্ব ভাতা বাড়ানো হয়েছে। দালালদের জন্য মায়েরা কতটুকু পাচ্ছে সেটি একটি প্রশ্ন। সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাবে অনেক দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি থমকে যাচ্ছে। কোনো কর্মসূচি টেকসই হচ্ছে না। আবার অনেক কর্মসূচি আছে প্রকল্পভিত্তিক। প্রকল্প শেষ হয়ে গেলে কর্মসূচি শেষ। প্রকল্প যাতে শেষ না হয়, সে বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
রাশেদা কে চৌধূরী সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিয়েছেন। এবার বলবেন শীপা হাফিজা।
শীপা হাফিজা
সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে অতিদরিদ্রদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার একটি প্রয়াস। সরকারও দারিদ্র্য বিমোচনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায়। তাহলে দেখতে হবে আমরা কী অবস্থায় আছি। ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু এই কমার হার আরও দ্রুতগতিতে হওয়া উচিত বলে মনে করি। ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কেন ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসবে না, সে প্রশ্ন আসছে। আমরাও চাই এটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসুক। ২০০২ সালে আমরা অতিদারিদ্র্য নিরসনের কর্মসূচি শুরু করেছিলাম। ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চার লাখ নারী এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে কাজ করেছি। এই মানুষগুলো অতিদারিদ্র্য থেকে দারিদ্র্য পর্যায়ে উঠে এসেছে। এখন তারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সেবা গ্রহণ করতে পারছে। এদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমাদের বেশ অভিজ্ঞতা হয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, শুধু পলিসি বা আইন করলে হবে না। মানুষ যাতে আইনটি গ্রহণ করে, সে ব্যাপারেও কাজ করতে হবে। এ জন্য আপনাদের মতো বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, আইনপ্রণেতা ও সাধারণ মানুষসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা এ রকম আলোচনা করি। তাদের চিন্তাভাবনা, দিকনির্দেশগুলো কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি। আজও আমরা একই উদ্দেশ্যে আপনাদের সঙ্গে বসেছি। ২০১২ সালে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাব। আজকের আলোচনায় সঠিক নীতিমালা না থাকার বিষয়টি এসেছে। কিন্তু নীতিমালা যেটুকু আছে তারও কোনো প্রয়োগ নেই। দুর্বল স্থানীয় সরকার। তার ওপর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। ইত্যাদি নানাবিধ কারণে অতিদরিদ্রদের যে সুবিধা পাওয়ার কথা, সেটা তারা পাচ্ছে না। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, যে মানুষটিকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হলো তিন বা চার বছর পর কী পরিবর্তন হলো সেটা দেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বুঝতে পারছি না সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আসা অতিদরিদ্র মানুষগুলোর কী পরিবর্তন হচ্ছে। আজ আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, আপনাদের কাছ থেকে বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য যে পরামর্শগুলো বা দিকনির্দেশনা আসবে আমরা সেভাবে কাজ করব, যাতে অতিদারিদ্র্য নিরসনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়। সব ক্ষেত্রে আমরা এ রকমই আলোচনার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি।
হোসেন জিল্লুর রহমান
যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখি না কেন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম অতিদারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন বিশ্বব্যাপী এ বিষয়টি খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। মূল আলোচনায় চলে এসেছে। সরকারের ৯০টি কর্মসূচির কথা আলোচনায় এসেছে। কিন্তু আমরা জানি না বিগত ৩০ বছর বাংলাদেশে কীভাবে কাজ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতে প্রথমে সাংবিধানিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন খাদ্য পাওয়ার অধিকার বিল হচ্ছে। প্রথমে তারা ঠিক করেছে কী করতে হবে। তারপর বাস্তবায়নের দিকে গেছে। আমাদের সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধানের কথা ভাবা হয়েছে। যেমন বিধবারা একটা অংশ, তাঁদের জন্য বিধবাভাতা চালু করা হোক। অক্টোবর-নভেম্বরে কাজ থাকে না, এ জন্য একটা প্রকল্প চালু করা যাক। আমাদের কাজ হলো পরীক্ষামূলক। যা-ই করা হোক না কেন, প্রকল্প শেষে এর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ৯০টি কর্মসূচি আছে বটে কিন্তু ৯৭ শতাংশ বরাদ্দ আছে ৩০টিতে। ৩০টি কর্মসূচির ১০টির মধ্যে আছে আবার ৮০ শতাংশ বরাদ্দ। সার্বিক দারিদ্র্যমুক্তির জন্য ১০ শতাংশ কাজ হচ্ছে। ৮০ শতাংশ কাজ হচ্ছে খাদ্যসহায়তার জন্য। গত তিন-চার বছরে এটা ব্যাপক সম্প্রসারিত হয়েছে। খাদ্যসহায়তা দিয়ে মানুষ বাঁচানো যায়। কিন্তু তাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা যায় না।
অতিদারিদ্র্য নিরসনে এনজিওগুলোর কর্মসূচি আছে। সরকারেরও দু-একটি আছে। কিন্তু কর্মপরিকল্পনা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে না পারলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে এই দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি, এটাও কিন্তু সব ক্ষেত্রে এক ধরনের নয়। যেমন বিধবা ও বয়স্কভাতা। কোনো বিধবা বা বয়স্ক ব্যক্তি যদি তাঁর নাম তালিকায় ওঠাতে চান তাহলে তাঁকে ঘুষ দিতে হবে। আবার কর্মসংস্থান প্রকল্পের তালিকায় অনেক ভুয়া নাম থাকে। কাজ করছে ৩০ জন, তালিকায় নাম আছে ৫০ জনের। এখানে ২০ জনের বেতন বেহাত হচ্ছে।
একটা সময় খাদ্যপ্রাপ্তিই ছিল বড় সমস্যা। এখন পুষ্টির সমস্যা হচ্ছে বড় সমস্যা। এবার অর্থমন্ত্রী বাজেটে বলেছেন, অভ্যন্তরীণ দুধের চাহিদার ২০ শতাংশ নিজস্ব উৎস থেকে আসে। ৫০ শতাংশের বেশি পরিবার নিয়মিত দুধ খেতে পারে না। পুষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দুধ। দুধের অভাবে আমাদের সন্তানদের উচ্চতা বাড়ছে না। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে পুষ্টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আমরা ১৯৯০ সালে একটা গবেষণা করেছিলাম, সেখানে দেখেছি দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হয়ে যায় অসুখজনিত কারণে। অনেক কষ্ট করে হয়তো একটু সচ্ছলতা এসেছে। কোনো একটা অসুখে সব টাকাপয়সা শেষ হয়ে গেছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাজ বাংলাদেশে মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে পারলে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো এটিও বাংলাদেশে অনুকরণীয় বিষয় (রোল মডেল) হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।
আব্দুল কাইয়ুম
সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনের ৯০টি কর্মসূচির মধ্যে ৩০টিতে বরাদ্দ ৯৭ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে বাকি প্রকল্পগুলো থেমে আছে অথবা বন্ধ হয়েছে। তা হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কীভাবে সম্ভব সেটি একটি বড় প্রশ্ন। এখন বলবেন বিনায়ক সেন।
বিনায়ক সেন
দারিদ্র্যের হার কমানোর ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর খুব বেশি ভূমিকা নেই। তবে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে একটা কাজ হয়েছে, সেটা হলো দারিদ্র্যের তীব্রতা কমিয়ে আনা গেছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কর্মসূচিগুলো অন্তত ক্ষুধা ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পেরেছে। কিন্তু অধিকাংশ কর্মসূচিতেই দারিদ্র্যের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার মতো কোনো মই নেই। যেমন, দুস্থ বিধবা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা হলো ৩০০ টাকা। এটা মাত্র এক দিনের কৃষি মজুরির সমান। এ রকম হারে ভাতা দেওয়াকে টোকেনিজম ছাড়া আর কী বলা যায়? ১৯৯০ থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত চরম দারিদ্র্য ও সহনীয় দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটেছে। কৃষি মজুরির দিকে তাকালেই বিষয়টি বোঝা যায়। ১৯৮৪ সালে খেতমজুর সমিতি ন্যূনতম তিন কেজি চাল কিনতে পারা যায়, এ রকম মজুরি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেছিল। আজকের এই চড়ামূল্যের বাজারেও একজন খেতমজুর তাঁর মজুরি দিয়ে প্রায় আট থেকে ১০ কেজি চাল কিনতে পারেন। তবে কৃষিমজুরি বৃদ্ধির পেছনে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ ও রেমিট্যান্স সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না বললেই চলে।
২০০০-এর দশকে এসে বাংলাদেশে নগরায়ণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। ঢাকা শহরের ৪০ শতাংশ লোক বস্তিতে বসবাস করে। তাদের জন্য দারিদ্র্য দূরীকরণের কোনো কর্মসূচি নেই। এমনিতে সব ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই সীমিত। তার ওপর রয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। ২০০২-০৪ পর্বে সরকারি ব্যয় পর্যালোচনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দুই বছর কাজ করেছি। এই কমিশনের প্রতিবেদন তৎকালীন সরকার গ্রহণ করেনি। কমিশনের একটা কাজ ছিল স্টাইপেন্ড স্কিমে কী দুর্নীতি হচ্ছে, সেটা দেখা। খুব আগ্রহের সঙ্গে ৩০টি স্কুলে এ কাজ করেছিলাম। সেখানে দেখলাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। দুর্নীতি দূর করা না গেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরে না এলে, বরাদ্দ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। সরকার সারা দেশে দরিদ্রদের কম্পিউটারাইজড তালিকা করতে চাইছে। শুধু তালিকা করে তেমন কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। কার্যকর তালিকা তৈরি করতে হলে কতগুলো পূর্বশর্ত পূরণ করা দরকার। যেমন, সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকারকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিবছর তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এ ব্যবস্থা না থাকলে শুধু এককালীন তথ্য তালিকা বা তথ্যভান্ডার দিয়ে কিছু হবে না।
পৃথিবীর অনেক দেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কার্যক্রম আছে। ইউরোপে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। গত এক দশকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাজের প্রসার ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। আমার একটি অভিযোগ হলো, এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়েনি। বয়স্কভাতা আগে যা ছিল, এই বাজেটে তা-ই রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তাঁদের এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিদের কোনো তালিকাই দিতে পারেন না। বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপেক্ষমাণ, এ রকম কোনো তালিকাও তাঁদের কাছে নেই। চেয়ারম্যানরা বলেন, সরকার তো এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে না, তালিকা করে কী করব? সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাথাপিছু স্বল্প বরাদ্দের এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে সরকারি বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। বরাদ্দ বাড়াতে হলে ধনী শ্রেণীকে রিডিস্ট্রিবিউশন (পুনর্বণ্টন) ট্যাক্সের আওতায় আনতে হবে। যাঁদের সম্পদ দুই কোটি টাকার ওপরে, তাঁদের ওপর ১০ শতাংশ সারচার্জ ধরতে হবে। এই টাকা অতিদরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। এবার চার হাজার লোক সারচার্জ দিয়েছেন মাত্র ৫০ কোটি টাকা। আমার হিসাবমতে, ঢাকা শহরে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের সারচার্জ দেওয়ার কথা। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ হবে ৫০০ কোটি টাকা। এই টাকা অতিদরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করার মাধ্যমে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব। পুনর্বণ্টনমূলক করব্যবস্থাকে গরিবমুখী করেই কেবল পুঁজিবাদকে মানবিক চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা যায়। দুঃখের বিষয়, আমরা বন্য পুঁজিবাদের পথে চলেছি, যেখানে দয়ামায়া নেই গরিব জনগোষ্ঠীর প্রতি। নইলে ঢাকা শহরে এখনো এত ক্ষুধার্ত, দুস্থ মানুষ ঘুরে বেড়ায়, ফুটপাতে মাথা গোঁজার চেষ্টা করে? এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ হলেও সেখানে তাদের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ করা হয় না।
আব্দুল কাইয়ুম
হোসেন জিল্লুর রহমান সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেন। এবার বলবেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
নগরদরিদ্রদের বিষয়ে আমার মত হলো, নগরের দরিদ্ররা ইচ্ছা করে দরিদ্র হয়েছে। যেকোনো সময় গ্রামে শ্রমিকের মজুরি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। বিশেষ সময় যেমন ধান কাটার মৌসুমে ৪০০ টাকার ওপরে চলে যায়। অথচ তারা গ্রামে ফিরে না গিয়ে নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। যদিও ঘরে ফেরা কর্মসূচি একটি বাড়ি একটি খামার সমালোচিত হচ্ছে। কিন্তু এটাই হলো সময়োপযোগী প্রকল্প। এটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে শহরও বাঁচত, গ্রামও বাঁচত। আজ আমাদের দেশে নানা রকম চাপ আছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারের ওপর চাপ পড়ছে। আমার প্রশ্ন হলো, দেশের বিত্তবান ১০ শতাংশ মানুষের কাছে ৩৫ শতাংশ সম্পদ ও আয় রয়েছে। কেন গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না।
দারিদ্র্য নিরসনের জন্য দরকার অংশগ্রহণ কর্মসূচি, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। শিক্ষা খাতে গত বছর বরাদ্দ ছিল ৮ দশমিক ১১ ভাগ। এবার প্রস্তাবিত হয়েছে ১১ দশমিক ৩ ভাগ। আমাদের দেশে দারিদ্র্য দূর করার দুটি পথ রয়েছে। এক. কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দুই. কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা চালু করা। এবং দরিদ্রদের এই শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা।
আমরা যে ৩১ শতাংশ দারিদ্র্য এবং ১৭ শতাংশ অতিদারিদ্র্যের কথা বলছি এর মধ্যে ডিজঅ্যাবিলিটি এবং অটিজম আছে। ২০০১ সালের গণনা অনুযায়ী, এ সংখ্যা ১৪ লাখ। বর্তমান গণনায় আমরা অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও এই প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে এদের সংখ্যা কত তার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে ১০ শতাংশ মানুষ ডিজঅ্যাবিলিটি ও অটিজম। আমি মনে করি, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজ সরকারের ওপর ডিজঅ্যাবল ও অটিজমের সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
ফরাসউদ্দিন সাহেব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁর আলোচনায় এনেছেন, ১০ শতাংশ বিত্তবানের কাছে ৩৫ শতাংশ সম্পদ ও আয় আছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। এবার শুনব মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছ থেকে।
মোয়াজ্জেম হোসেন
দারিদ্র্য বিমোচনে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা আছে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আমরা যারা গণমাধ্যমে কাজ করি তারা ইস্যুগুলোকে সবাই একভাবে দেখি না। কেউ মনে করে বিষয়টি জরুরি। কেউ মনে করে এটার দরকার নেই। এসব কারণে সামগ্রিকভাবে বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আসে না। ইস্যুগুলো যেভাবে আলোচনা হওয়া উচিত অনেক সময় সেভাবে আলোচনা হয় না। আমি বিশ্বাস করি না শুধু সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। সামাজিক খাত যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি বরাদ্দ না বাড়ে এবং বরাদ্দকৃত অর্থ যদি দুর্নীতিমুক্তভাবে ব্যয় করার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব নয়। একশ্রেণীর মানুষের জন্য হয়তো সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর প্রয়োজন আছে। তবে এই নিরাপত্তাবেষ্টনী দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় হতে পারে না। দারিদ্র্য দূরীকরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো বিমাও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কিন্তু দারিদ্র্য দূরীকরণে বিমাকে এখনো আমাদের দেশে কাজে লাগানো হচ্ছে না। সরকারের যে আয়-ব্যয়কাঠামো তাতে এই খাতের কলেবর কতটুকু বাড়ানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। গণমাধ্যম এসব ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে পারে যদি বিষয়গুলো সেভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং আমাদের মধ্যে যদি ভালো বোঝাপড়া থকে।
আখতার আহমেদ
আমি প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাবেষ্টনীর বিষয়ে বলতে চাই। প্রথমত, প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হবে। যাতে এটা পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় যাতে দরিদ্রদের অংশগ্রহণ থাকে সে জন্য মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টি দরকার। নিরাপত্তাবেষ্টনীকে টেকসই করতে হলে, মানবসম্পদ উন্নয়নমুখী নিরাপত্তাবেষ্টনী করতে হবে।
যারা প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না যেমন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী; এদের জন্য আলাদা একধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করতে হবে।
আমাদের দেশে নিরাপত্তাবেষ্টনীগুলো টেকসই হয়নি। কিন্তু লাতিন আমেরিকার নিকারাগুয়া, ব্রাজিল, এলসালভাদর, মেক্সিকো ইত্যাদি দেশ সফল হয়েছে। তারা শর্ত সাপেক্ষে অর্থ ছাড় করেছে। সে দেশগুলোতে বলা হয়েছে, দিনের ৮০ শতাংশ সময় স্কুলে রাখলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। অনুরূপভাবে নিয়মিত ক্লিনিকে গেলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। এভাবে তারা শর্ত দিয়ে টাকা ছাড় করেছে, প্রতিটি কর্মসূচি সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও ফুড ফর এডুকেশন নামে ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটি ভালো কর্মসূচি ছিল। এটা প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল। একটা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯০টি কর্মসূচির মধ্যে ৩০টি কর্মসূচিতে ৯৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অবশিষ্ট ৬০টি কর্মসূচিতে মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আমার মত হচ্ছে, এই ৬০টি কর্মসূচি রাখার দরকার নেই। এগুলো কাগজে আছে, বাস্তবে নেই। কোনোটি না চলার মতো চলছে। কিছু ভালো যে কর্মসূচি আছে যেমন ভিজিডি ও ইজিপিপি। এগুলোর পরিধি বেশি না, ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত। অকার্যকর কর্মসূচির অর্থ এ খাতগুলোতে এনে কাজে লাগালে দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হবে। এখন কর্মসূচিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে অন্যদের মতো আমারও প্রশ্ন আছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে প্রয়োজন ভালো মূল্যায়ন। ভালো মূল্যায়নের কতগুলো পদ্ধতি রয়েছে। কোনো কর্মসূচি সমাজের ওপর প্রভাব ফেললেই সেটা ভালো নয়। লক্ষ্যটা অর্জিত হচ্ছে কি না, সেটি একটা বড় বিষয়। আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ের নারীশিক্ষা কর্মসূচিতে দেখেছি, সেখানে দরিদ্রদের থেকে ধনীরাই বেশি সুবিধা পেয়েছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তাহলে অর্থ ব্যয় হলেও লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে কি না সেটা মূল্যায়নে দেখতে হবে। আবার অনেক কর্মসূচি আছে যেগুলো দুই থেকে তিন বছর পর শেষ হয়ে যায়। কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এর আওতাধীন মানুষের অবস্থা কী তার কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। অর্থাৎ তারা কি আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছে, না তাদের কিছুটা উন্নতি হয়েছে, সেটা মূল্যায়ন করতে হবে। একটা কর্মসূচিতে অতিদরিদ্রদের মূল্যায়ন করেছিলাম। সেখানে দেখেছিলাম তাদের উন্নয়ন টেকসই হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে অবশ্য দরিদ্রদের অর্থ না দিয়ে সম্পদ দেওয়া হয়েছিল। তাদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিসহ বিভিন্ন সম্পদ দেওয়া হয়েছিল। সম্পদ দিলে, এগুলো পরবর্তী সময়ে আয় বৃদ্ধি করে। যেমন কারও একটা গরু থেকে বাড়তে বাড়তে তিন-চারটা গরু হলো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য ভালো মূল্যায়ন খুবই প্রয়োজন।
আব্দুল কাইয়ুম
আখতার হোসেন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কতকগুলো ধরন ও তাদের সুবিধা-অসুবিধা বললেন। প্রকল্প মূল্যায়নের কথাও বললেন। এবার বলবেন এ কে এম নূর-উন-নবী।
এ কে এম নূর-উন-নবী
মানুষকে কেন্দ্রীয়ভাবে দেখতে হবে, সবার ওপরে মানুষ। মানুষসহ যেকোনো ব্যাপারে কিছু করতে গেলে দরকার সঠিক তথ্যের। কিন্তু খুব দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে দেশে কোনো ক্ষেত্রে কোনো সঠিক তথ্য নেই। আমি একটা সংস্থার পক্ষ থেকে অতিদরিদ্রদের মধ্যে পরিবারে কীভাবে বয়স্ক মানুষেরা প্রবঞ্চনা বা প্রতারণার শিকার হন, সে বিষয় একটা গবেষণা করছি। বয়সের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি হিসেবে ধরেছি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ত্রুটিপূর্ণ। চেহারা দেখে আন্দাজ করে খেয়ালখুশিমতো একটা বয়স লেখা হয়েছে। যে কাগজটি দেখিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচয় বহন করা হয়, সেটি যদি ভুল থাকে তাহলে তথ্য কোথায় পাবেন?
তথ্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সব সময় তথ্যকে হালনাগাদ করতে হয়। সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জন্ম, বিবাহ ও বিদেশ গমন নিবন্ধন পদ্ধতি আছে কিন্তু কেউ কাজ করছে না। সরকারের ওপর তো আমাদের চাপ থাকবেই। ব্র্যাককে বলব, আপনারা যদি আপনাদের প্রকল্প এলাকায় একটা সার্ভিলেন্স সিস্টেম করেন তাহলে অনেক তথ্য সংরক্ষিত হবে। এ ক্ষেত্রে একটা বড় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম আমরা পাব।
জনসংখ্যার ক্ষেত্রে তথ্যগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ। মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ ১৫ বছরের নিচে। জনসংখ্যার গড় আয়ু বেড়েছে। ফলে ৬০ বছরের ওপরের জনসংখ্যা বেড়েছে। আমার হিসাবমতে, ৬০ বছরের ওপরের জনসংখ্যা ৬.৫ শতাংশ, যার সংখ্যা এক কোটির ওপরে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে বাড়াতে হবে। গড়ে আমাদের দেশে ১৫ দশমিক তিন বছরে মেয়েদের বিয়ে হয়। যেখানে আইনগত বয়স হচ্ছে ১৮ বছর। আমরা তো ১৮ বছরের ওপরে যেতে পারছি না, এমনকি ১৮ বছরেও যেতে পারছি না। এই মেয়েদের আবার এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণ করে নারীত্বের প্রমাণ দিতে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যাতে বিয়ে না হয়, সে ব্যাপারে ব্র্যাক কাজ করতে পারে।
পরিবার পরিকল্পনা ও অ্যাডভোকেসির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। পরিবার পরিকল্পনা এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। অ্যাডভোকেসি মাত্র ২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এমন কিছু খাত আছে যেখানে বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। আবার এমন অনেক খাত রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনের তুলানায় বরাদ্দ অনেক কম। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলে এ রকম অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ বরাদ্দ হতে পারত না। একটি বিরাট সুখবর হলো, এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি মুদ্রা আমরা অর্জন করেছি। কিন্তু এই একই পরিমাণ জনসংখ্যা ফিলিপাইন, চায়না ও ভারতসহ অন্যান্য দেশ এর তিন গুণ বেশি বিদেশি মুদ্রা অর্জন করছে। কারণ, আমাদের শ্রমিকেরা খুবই অদক্ষ। আগামী ১০ বছর আমাদের খুব কঠিন সময় যাবে। আমরা যদি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টিসহ অন্যান্য সব বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ না করি, তাহলে দারিদ্র্যসহ নানাবিধ সমস্যা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
আনিসুল হক
আজকের আলোচনার শিরোনামের শেষ দুটি শব্দ ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ এ জায়গায় জোর দিতে চাই। আমার জন্ম হয়েছে নীলফামারীতে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে রংপুর শহরে। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ গ্রামে। কতকগুলো বিষয় নিজেরই দেখা। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে যেতাম। তখন দেখতাম, আমাদের বাড়ির মানুষেরাই তিন বেলা খেতে পেত না। কখনো কাউকে কিছু সাহায্য করতে পারতাম, কখনো পারতাম না। এখন এই অবস্থা নেই। যাদের ঘর ছিল না তাদের টিনের ঘর উঠেছে। যাদের টিনের ঘর ছিল, তাদের পাকা ঘর হয়েছে। দিন দিন মানুষ উন্নতির চাকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে, যমুনা সেতু, পোশাকশিল্প এবং বিদেশ যাওয়ার সুযোগ মানুষকে উন্নতির ধারায় নিয়ে এসেছে। কুড়িগ্রাম অঞ্চলে দেখেছি ভুট্টার আবাদ। এর সঙ্গে হয়তো পোলট্রির সম্পর্ক আছে। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। যতই উন্নয়ন ঘটুক, সব দেশে সব সময় একটা শ্রেণী কোনো কোনো কারণে প্রান্তিক থেকে যায়। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান একবার বলেছিলেন, তিনি মঙ্গা শব্দটি জানেন না। তারপর অনেক লেখালেখির পর আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিলাম। এখন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে অনেকে সাহায্য পাচ্ছে। যারা পাচ্ছে তাদের জীবনের কী পরিবর্তন আসছে, যারা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের কষ্টগুলো কী রকম, এই মানুষগুলোর কাছে গিয়ে মানবিক প্রতিবেদনগুলো এখন আমরা করি না। ভোরের কাগজ-এ থাকার সময় এই ধরনের প্রতিবেদন করতাম। অনেক সময় মনে হতে পারে এক কোটি মানুষের মধ্যে একজন মানুষের প্রতিবেদন কী প্রভাব ফেলবে। যখন একটি প্রতিবেদন হয় তখন কিন্তু ওই একজন মানুষ আর একজন মানুষ থাকেন না। তিনি হয়ে যান কোটি মানুষের প্রতিনিধি।
প্রতিনিয়ত মানুষের সুখ-দুঃখের কাহিনি গল্পের আকারে বলে যেতে হবে। তাহলে সরকার এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে। মনে পড়ছে অমর্ত্য সেনের সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হতে পারে না।’ আজ আমরা গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট কাজ করছি সেটা মোটেই দাবি করা যাবে না। আমি মনে করি, সংবাদপত্রগুলো যদি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা-ব্যর্থতা এবং মাঠপর্যায়ে গিয়ে মানুষের ভালো থাকা-মন্দ থাকার গল্পগুলো তুলে আনে তাহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়।
আব্দুল কাইয়ুম
গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আনিসুল হক সে কথাই বললেন। এবার বলবেন মাহবুব হোসেন।
মাহবুব হোসেন
অতিদারিদ্র্য নিরসনের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। প্রত্যেক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু যে মাত্রায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে দারিদ্র্য দূরীকরণ কঠিন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানসহ নানা সুযোগ সৃষ্টি করে। এখন একটি বড় প্রশ্ন হলো, কবে আমরা প্রবৃদ্ধিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির প্রয়োজন। দরিদ্রদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ব্যবস্থা যদি এখনো না করি তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে সুযোগ নিতে হয়তো তাদের আরও ২০ বছর লেগে যাবে। এ ক্ষেত্রে সরকার-এনজিও সবাই মিলে তাদের মাথার ওপর শক্ত করে ছাতা ধরতে হবে। আমাদের মোট জাতীয় আয়ের ২ দশমিক ১ বা ২ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর খাতে ব্যয় করছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে যতটুকু বরাদ্দ দরকার সেখানে সে পরিমাণ আছে কি না। যাদের জন্য প্রয়োজন তারা পাচ্ছে কি না। বলা হচ্ছে, ৯০টি কর্মসূচির মধ্যে ৩০টিতে ৯৭ শতাংশ বরাদ্দ। এর অর্থ হচ্ছে অবশিষ্ট ৭০টিতে শুধু অফিস আছে এবং কোনো প্রকার কাজ ছাড়া কিছু মানুষের বেতন দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হয়, এখানে সরকারের বড় একটা অপচয় হচ্ছে। ত্রাণ হিসেবে কোনো সাহায্য না দিয়ে এগুলোকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বা শর্ত সাপেক্ষে সাহায্য দিতে হবে। তাহলে একদিকে দেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে আমার মত হলো, একটি পৃথক সংস্থা গঠন করা, যারা প্রতিটি কর্মসূচির সব দিক মূল্যায়ন করবে। এখানে কয়েকজন ব্র্যাকের কিছু কাজের কথা বলেছেন। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যে কিছু শুরু করেছি। আমরা অতিদরিদ্রদের দুই বছরের কর্মসূচিতে সম্পদ সাহায্য দিই। সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তার প্রশিক্ষণ দিই। প্রতি সপ্তাহে আমাদের লোক তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। দুই বছরের মধ্যে অতিদরিদ্ররা যাতে টেকসই উন্নয়নের ধারায় ফিরে আসতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যে কারণে এসব কাজের পরিধি প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম। মূল কথা হলো, সরকারকে প্রতিটি কাজের উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব।
রাশেদা কে চৌধূরী
অনেক বিষয় আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু মতামত, দিকনির্দেশনা এসেছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হবে। কয়েকজন সরকারের সঙ্গে ব্র্যাকের সহযোগিতামূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলেছেন। এটি একটি বিশেষ উদ্যোগ হতে পারে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের পরিকল্পনা ও দক্ষতার অভাব আছে। সে ক্ষেত্রে ব্র্যাক যদি সহযোগিতা করে তাহলে তা দারিদ্র্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আব্দুল কাইয়ুুম
সবাই মূল্যবান আলোচনা করেছেন। আজকের আলোচনা থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
রাশেদা কে চৌধূরী
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
হোসেন জিল্লুর রহমান
নির্বাহী পরিচালক, পিপিআরসি
এ কে এম নূর-উন-নবী
অধ্যাপক, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মাহবুব হোসেন
নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাক
বিনায়ক সেন
গবেষণা পরিচালক, বিআইডিএস
মোয়াজ্জেম হোসেন
সম্পাদক, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আখতার আহমেদ
চিফ অব পার্টি, বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি সাপোর্ট প্রোগ্রাম, ইফপ্রি
শীপা হাফিজা
পরিচালক, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি, ব্র্যাক
আনিসুল হক
উপসম্পাদক, প্রথম আলো
মতিউর রহমান
সম্পাদক, প্রথম আলো
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
মতিউর রহমান
বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে আমরা এ ধরনের আয়োজন করে থাকি। অতিদারিদ্র্য নিরসন নিয়ে আজকের আলোচনা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সব ধরনের দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দারিদ্র্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। দারিদ্র্য নিরসনের বিভিন্ন উপায় যেন এই আলোচনা থেকে উঠে আসে। সে উদ্দেশ্যেই আজকের এই আয়োজন। আপনারা অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। এ জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আব্দুল কাইয়ুম
দেশের ৩১ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ২০১৫ সালের মধ্যে তা ২৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অতিদারিদ্র্য নিরসন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলে দারিদ্র্যের হারের লক্ষ্যমাত্রা ২৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের ৯০টি কার্যক্রম আছে। এগুলোর ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা নেই। সরকারের দিক থেকে দারিদ্র্য নিরসনে বড় বাধা হলো স্থানীয় সরকারের দুর্বলতা। আজ আমাদের আলোচনা থেকে এ বিষয়ের নানা দিক উঠে আসবে। প্রথমে আলোচনা করবেন রাশেদা কে চৌধূরী।
রাশেদা কে চৌধূরী
দেশে এখন ৩১ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ২০১৫ সালে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ শতাংশ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কেন ১০ শতাংশ বা ১৫ শতাংশ নয়? অনেকে এ লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী মনে করতে পারেন। শুধু দারিদ্র্য নিরসনের দিক থেকে দেখলে উচ্চাভিলাষী মনে হবে। কিন্তু সামাজিক ন্যায়বিচারের আলোকে দেখলে এই লক্ষ্যমাত্রাই সঠিক। এ ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে হবে। কর্মকাণ্ডকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করতে হবে। নীতি, পরিকল্পনা, কৌশল সবই আছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিয়ে। এ জায়গায় আজ আমাদের সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ আলোচকেরা নিশ্চয়ই এ বিষয় আলোচনা করবেন। তাঁদের আলোচনার নির্দেশনাগুলো আমাদের কাজের ক্ষেত্রকে ফলপ্রসূ করবে। দারিদ্র্য বিমোচনে দৃশ্যমান লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। এ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য নিরসনে গতানুগতিক চিন্তার বাইরে আসতে হবে এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের ভাবনা থেকে বিষয়টিকে দেখতে হবে।
স্থানীয় সরকারকে এত দুর্বল করে রাখা হয়েছে যে দারিদ্র্য বিমোচনে এটা কোনো কাজ করছে না। যে কারণে উপবৃত্তি চালু হয়েছিল সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। মাতৃত্ব ভাতা বাড়ানো হয়েছে। দালালদের জন্য মায়েরা কতটুকু পাচ্ছে সেটি একটি প্রশ্ন। সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাবে অনেক দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি থমকে যাচ্ছে। কোনো কর্মসূচি টেকসই হচ্ছে না। আবার অনেক কর্মসূচি আছে প্রকল্পভিত্তিক। প্রকল্প শেষ হয়ে গেলে কর্মসূচি শেষ। প্রকল্প যাতে শেষ না হয়, সে বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
রাশেদা কে চৌধূরী সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিয়েছেন। এবার বলবেন শীপা হাফিজা।
শীপা হাফিজা
সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে অতিদরিদ্রদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার একটি প্রয়াস। সরকারও দারিদ্র্য বিমোচনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায়। তাহলে দেখতে হবে আমরা কী অবস্থায় আছি। ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু এই কমার হার আরও দ্রুতগতিতে হওয়া উচিত বলে মনে করি। ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কেন ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসবে না, সে প্রশ্ন আসছে। আমরাও চাই এটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসুক। ২০০২ সালে আমরা অতিদারিদ্র্য নিরসনের কর্মসূচি শুরু করেছিলাম। ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চার লাখ নারী এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে কাজ করেছি। এই মানুষগুলো অতিদারিদ্র্য থেকে দারিদ্র্য পর্যায়ে উঠে এসেছে। এখন তারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সেবা গ্রহণ করতে পারছে। এদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমাদের বেশ অভিজ্ঞতা হয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, শুধু পলিসি বা আইন করলে হবে না। মানুষ যাতে আইনটি গ্রহণ করে, সে ব্যাপারেও কাজ করতে হবে। এ জন্য আপনাদের মতো বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, আইনপ্রণেতা ও সাধারণ মানুষসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা এ রকম আলোচনা করি। তাদের চিন্তাভাবনা, দিকনির্দেশগুলো কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি। আজও আমরা একই উদ্দেশ্যে আপনাদের সঙ্গে বসেছি। ২০১২ সালে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাব। আজকের আলোচনায় সঠিক নীতিমালা না থাকার বিষয়টি এসেছে। কিন্তু নীতিমালা যেটুকু আছে তারও কোনো প্রয়োগ নেই। দুর্বল স্থানীয় সরকার। তার ওপর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। ইত্যাদি নানাবিধ কারণে অতিদরিদ্রদের যে সুবিধা পাওয়ার কথা, সেটা তারা পাচ্ছে না। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, যে মানুষটিকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হলো তিন বা চার বছর পর কী পরিবর্তন হলো সেটা দেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বুঝতে পারছি না সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আসা অতিদরিদ্র মানুষগুলোর কী পরিবর্তন হচ্ছে। আজ আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, আপনাদের কাছ থেকে বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য যে পরামর্শগুলো বা দিকনির্দেশনা আসবে আমরা সেভাবে কাজ করব, যাতে অতিদারিদ্র্য নিরসনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়। সব ক্ষেত্রে আমরা এ রকমই আলোচনার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি।
হোসেন জিল্লুর রহমান
যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখি না কেন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম অতিদারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন বিশ্বব্যাপী এ বিষয়টি খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। মূল আলোচনায় চলে এসেছে। সরকারের ৯০টি কর্মসূচির কথা আলোচনায় এসেছে। কিন্তু আমরা জানি না বিগত ৩০ বছর বাংলাদেশে কীভাবে কাজ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতে প্রথমে সাংবিধানিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন খাদ্য পাওয়ার অধিকার বিল হচ্ছে। প্রথমে তারা ঠিক করেছে কী করতে হবে। তারপর বাস্তবায়নের দিকে গেছে। আমাদের সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধানের কথা ভাবা হয়েছে। যেমন বিধবারা একটা অংশ, তাঁদের জন্য বিধবাভাতা চালু করা হোক। অক্টোবর-নভেম্বরে কাজ থাকে না, এ জন্য একটা প্রকল্প চালু করা যাক। আমাদের কাজ হলো পরীক্ষামূলক। যা-ই করা হোক না কেন, প্রকল্প শেষে এর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ৯০টি কর্মসূচি আছে বটে কিন্তু ৯৭ শতাংশ বরাদ্দ আছে ৩০টিতে। ৩০টি কর্মসূচির ১০টির মধ্যে আছে আবার ৮০ শতাংশ বরাদ্দ। সার্বিক দারিদ্র্যমুক্তির জন্য ১০ শতাংশ কাজ হচ্ছে। ৮০ শতাংশ কাজ হচ্ছে খাদ্যসহায়তার জন্য। গত তিন-চার বছরে এটা ব্যাপক সম্প্রসারিত হয়েছে। খাদ্যসহায়তা দিয়ে মানুষ বাঁচানো যায়। কিন্তু তাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা যায় না।
অতিদারিদ্র্য নিরসনে এনজিওগুলোর কর্মসূচি আছে। সরকারেরও দু-একটি আছে। কিন্তু কর্মপরিকল্পনা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে না পারলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে এই দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি, এটাও কিন্তু সব ক্ষেত্রে এক ধরনের নয়। যেমন বিধবা ও বয়স্কভাতা। কোনো বিধবা বা বয়স্ক ব্যক্তি যদি তাঁর নাম তালিকায় ওঠাতে চান তাহলে তাঁকে ঘুষ দিতে হবে। আবার কর্মসংস্থান প্রকল্পের তালিকায় অনেক ভুয়া নাম থাকে। কাজ করছে ৩০ জন, তালিকায় নাম আছে ৫০ জনের। এখানে ২০ জনের বেতন বেহাত হচ্ছে।
একটা সময় খাদ্যপ্রাপ্তিই ছিল বড় সমস্যা। এখন পুষ্টির সমস্যা হচ্ছে বড় সমস্যা। এবার অর্থমন্ত্রী বাজেটে বলেছেন, অভ্যন্তরীণ দুধের চাহিদার ২০ শতাংশ নিজস্ব উৎস থেকে আসে। ৫০ শতাংশের বেশি পরিবার নিয়মিত দুধ খেতে পারে না। পুষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দুধ। দুধের অভাবে আমাদের সন্তানদের উচ্চতা বাড়ছে না। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে পুষ্টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আমরা ১৯৯০ সালে একটা গবেষণা করেছিলাম, সেখানে দেখেছি দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হয়ে যায় অসুখজনিত কারণে। অনেক কষ্ট করে হয়তো একটু সচ্ছলতা এসেছে। কোনো একটা অসুখে সব টাকাপয়সা শেষ হয়ে গেছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাজ বাংলাদেশে মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে পারলে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো এটিও বাংলাদেশে অনুকরণীয় বিষয় (রোল মডেল) হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।
আব্দুল কাইয়ুম
সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনের ৯০টি কর্মসূচির মধ্যে ৩০টিতে বরাদ্দ ৯৭ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে বাকি প্রকল্পগুলো থেমে আছে অথবা বন্ধ হয়েছে। তা হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কীভাবে সম্ভব সেটি একটি বড় প্রশ্ন। এখন বলবেন বিনায়ক সেন।
বিনায়ক সেন
দারিদ্র্যের হার কমানোর ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর খুব বেশি ভূমিকা নেই। তবে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে একটা কাজ হয়েছে, সেটা হলো দারিদ্র্যের তীব্রতা কমিয়ে আনা গেছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কর্মসূচিগুলো অন্তত ক্ষুধা ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পেরেছে। কিন্তু অধিকাংশ কর্মসূচিতেই দারিদ্র্যের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার মতো কোনো মই নেই। যেমন, দুস্থ বিধবা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা হলো ৩০০ টাকা। এটা মাত্র এক দিনের কৃষি মজুরির সমান। এ রকম হারে ভাতা দেওয়াকে টোকেনিজম ছাড়া আর কী বলা যায়? ১৯৯০ থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত চরম দারিদ্র্য ও সহনীয় দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটেছে। কৃষি মজুরির দিকে তাকালেই বিষয়টি বোঝা যায়। ১৯৮৪ সালে খেতমজুর সমিতি ন্যূনতম তিন কেজি চাল কিনতে পারা যায়, এ রকম মজুরি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেছিল। আজকের এই চড়ামূল্যের বাজারেও একজন খেতমজুর তাঁর মজুরি দিয়ে প্রায় আট থেকে ১০ কেজি চাল কিনতে পারেন। তবে কৃষিমজুরি বৃদ্ধির পেছনে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ ও রেমিট্যান্স সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না বললেই চলে।
২০০০-এর দশকে এসে বাংলাদেশে নগরায়ণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। ঢাকা শহরের ৪০ শতাংশ লোক বস্তিতে বসবাস করে। তাদের জন্য দারিদ্র্য দূরীকরণের কোনো কর্মসূচি নেই। এমনিতে সব ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই সীমিত। তার ওপর রয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। ২০০২-০৪ পর্বে সরকারি ব্যয় পর্যালোচনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দুই বছর কাজ করেছি। এই কমিশনের প্রতিবেদন তৎকালীন সরকার গ্রহণ করেনি। কমিশনের একটা কাজ ছিল স্টাইপেন্ড স্কিমে কী দুর্নীতি হচ্ছে, সেটা দেখা। খুব আগ্রহের সঙ্গে ৩০টি স্কুলে এ কাজ করেছিলাম। সেখানে দেখলাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। দুর্নীতি দূর করা না গেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরে না এলে, বরাদ্দ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। সরকার সারা দেশে দরিদ্রদের কম্পিউটারাইজড তালিকা করতে চাইছে। শুধু তালিকা করে তেমন কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। কার্যকর তালিকা তৈরি করতে হলে কতগুলো পূর্বশর্ত পূরণ করা দরকার। যেমন, সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকারকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিবছর তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এ ব্যবস্থা না থাকলে শুধু এককালীন তথ্য তালিকা বা তথ্যভান্ডার দিয়ে কিছু হবে না।
পৃথিবীর অনেক দেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কার্যক্রম আছে। ইউরোপে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। গত এক দশকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাজের প্রসার ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। আমার একটি অভিযোগ হলো, এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়েনি। বয়স্কভাতা আগে যা ছিল, এই বাজেটে তা-ই রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তাঁদের এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিদের কোনো তালিকাই দিতে পারেন না। বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপেক্ষমাণ, এ রকম কোনো তালিকাও তাঁদের কাছে নেই। চেয়ারম্যানরা বলেন, সরকার তো এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে না, তালিকা করে কী করব? সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাথাপিছু স্বল্প বরাদ্দের এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে সরকারি বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। বরাদ্দ বাড়াতে হলে ধনী শ্রেণীকে রিডিস্ট্রিবিউশন (পুনর্বণ্টন) ট্যাক্সের আওতায় আনতে হবে। যাঁদের সম্পদ দুই কোটি টাকার ওপরে, তাঁদের ওপর ১০ শতাংশ সারচার্জ ধরতে হবে। এই টাকা অতিদরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। এবার চার হাজার লোক সারচার্জ দিয়েছেন মাত্র ৫০ কোটি টাকা। আমার হিসাবমতে, ঢাকা শহরে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের সারচার্জ দেওয়ার কথা। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ হবে ৫০০ কোটি টাকা। এই টাকা অতিদরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করার মাধ্যমে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব। পুনর্বণ্টনমূলক করব্যবস্থাকে গরিবমুখী করেই কেবল পুঁজিবাদকে মানবিক চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা যায়। দুঃখের বিষয়, আমরা বন্য পুঁজিবাদের পথে চলেছি, যেখানে দয়ামায়া নেই গরিব জনগোষ্ঠীর প্রতি। নইলে ঢাকা শহরে এখনো এত ক্ষুধার্ত, দুস্থ মানুষ ঘুরে বেড়ায়, ফুটপাতে মাথা গোঁজার চেষ্টা করে? এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ হলেও সেখানে তাদের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ করা হয় না।
আব্দুল কাইয়ুম
হোসেন জিল্লুর রহমান সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেন। এবার বলবেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
নগরদরিদ্রদের বিষয়ে আমার মত হলো, নগরের দরিদ্ররা ইচ্ছা করে দরিদ্র হয়েছে। যেকোনো সময় গ্রামে শ্রমিকের মজুরি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। বিশেষ সময় যেমন ধান কাটার মৌসুমে ৪০০ টাকার ওপরে চলে যায়। অথচ তারা গ্রামে ফিরে না গিয়ে নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। যদিও ঘরে ফেরা কর্মসূচি একটি বাড়ি একটি খামার সমালোচিত হচ্ছে। কিন্তু এটাই হলো সময়োপযোগী প্রকল্প। এটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে শহরও বাঁচত, গ্রামও বাঁচত। আজ আমাদের দেশে নানা রকম চাপ আছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারের ওপর চাপ পড়ছে। আমার প্রশ্ন হলো, দেশের বিত্তবান ১০ শতাংশ মানুষের কাছে ৩৫ শতাংশ সম্পদ ও আয় রয়েছে। কেন গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না।
দারিদ্র্য নিরসনের জন্য দরকার অংশগ্রহণ কর্মসূচি, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। শিক্ষা খাতে গত বছর বরাদ্দ ছিল ৮ দশমিক ১১ ভাগ। এবার প্রস্তাবিত হয়েছে ১১ দশমিক ৩ ভাগ। আমাদের দেশে দারিদ্র্য দূর করার দুটি পথ রয়েছে। এক. কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দুই. কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা চালু করা। এবং দরিদ্রদের এই শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা।
আমরা যে ৩১ শতাংশ দারিদ্র্য এবং ১৭ শতাংশ অতিদারিদ্র্যের কথা বলছি এর মধ্যে ডিজঅ্যাবিলিটি এবং অটিজম আছে। ২০০১ সালের গণনা অনুযায়ী, এ সংখ্যা ১৪ লাখ। বর্তমান গণনায় আমরা অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও এই প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে এদের সংখ্যা কত তার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে ১০ শতাংশ মানুষ ডিজঅ্যাবিলিটি ও অটিজম। আমি মনে করি, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজ সরকারের ওপর ডিজঅ্যাবল ও অটিজমের সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম
ফরাসউদ্দিন সাহেব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁর আলোচনায় এনেছেন, ১০ শতাংশ বিত্তবানের কাছে ৩৫ শতাংশ সম্পদ ও আয় আছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। এবার শুনব মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছ থেকে।
মোয়াজ্জেম হোসেন
দারিদ্র্য বিমোচনে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা আছে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আমরা যারা গণমাধ্যমে কাজ করি তারা ইস্যুগুলোকে সবাই একভাবে দেখি না। কেউ মনে করে বিষয়টি জরুরি। কেউ মনে করে এটার দরকার নেই। এসব কারণে সামগ্রিকভাবে বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আসে না। ইস্যুগুলো যেভাবে আলোচনা হওয়া উচিত অনেক সময় সেভাবে আলোচনা হয় না। আমি বিশ্বাস করি না শুধু সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। সামাজিক খাত যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি বরাদ্দ না বাড়ে এবং বরাদ্দকৃত অর্থ যদি দুর্নীতিমুক্তভাবে ব্যয় করার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব নয়। একশ্রেণীর মানুষের জন্য হয়তো সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর প্রয়োজন আছে। তবে এই নিরাপত্তাবেষ্টনী দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় হতে পারে না। দারিদ্র্য দূরীকরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো বিমাও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কিন্তু দারিদ্র্য দূরীকরণে বিমাকে এখনো আমাদের দেশে কাজে লাগানো হচ্ছে না। সরকারের যে আয়-ব্যয়কাঠামো তাতে এই খাতের কলেবর কতটুকু বাড়ানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। গণমাধ্যম এসব ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে পারে যদি বিষয়গুলো সেভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং আমাদের মধ্যে যদি ভালো বোঝাপড়া থকে।
আখতার আহমেদ
আমি প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাবেষ্টনীর বিষয়ে বলতে চাই। প্রথমত, প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হবে। যাতে এটা পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় যাতে দরিদ্রদের অংশগ্রহণ থাকে সে জন্য মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টি দরকার। নিরাপত্তাবেষ্টনীকে টেকসই করতে হলে, মানবসম্পদ উন্নয়নমুখী নিরাপত্তাবেষ্টনী করতে হবে।
যারা প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না যেমন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী; এদের জন্য আলাদা একধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করতে হবে।
আমাদের দেশে নিরাপত্তাবেষ্টনীগুলো টেকসই হয়নি। কিন্তু লাতিন আমেরিকার নিকারাগুয়া, ব্রাজিল, এলসালভাদর, মেক্সিকো ইত্যাদি দেশ সফল হয়েছে। তারা শর্ত সাপেক্ষে অর্থ ছাড় করেছে। সে দেশগুলোতে বলা হয়েছে, দিনের ৮০ শতাংশ সময় স্কুলে রাখলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। অনুরূপভাবে নিয়মিত ক্লিনিকে গেলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। এভাবে তারা শর্ত দিয়ে টাকা ছাড় করেছে, প্রতিটি কর্মসূচি সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও ফুড ফর এডুকেশন নামে ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটি ভালো কর্মসূচি ছিল। এটা প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল। একটা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯০টি কর্মসূচির মধ্যে ৩০টি কর্মসূচিতে ৯৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অবশিষ্ট ৬০টি কর্মসূচিতে মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আমার মত হচ্ছে, এই ৬০টি কর্মসূচি রাখার দরকার নেই। এগুলো কাগজে আছে, বাস্তবে নেই। কোনোটি না চলার মতো চলছে। কিছু ভালো যে কর্মসূচি আছে যেমন ভিজিডি ও ইজিপিপি। এগুলোর পরিধি বেশি না, ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত। অকার্যকর কর্মসূচির অর্থ এ খাতগুলোতে এনে কাজে লাগালে দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হবে। এখন কর্মসূচিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে অন্যদের মতো আমারও প্রশ্ন আছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে প্রয়োজন ভালো মূল্যায়ন। ভালো মূল্যায়নের কতগুলো পদ্ধতি রয়েছে। কোনো কর্মসূচি সমাজের ওপর প্রভাব ফেললেই সেটা ভালো নয়। লক্ষ্যটা অর্জিত হচ্ছে কি না, সেটি একটা বড় বিষয়। আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ের নারীশিক্ষা কর্মসূচিতে দেখেছি, সেখানে দরিদ্রদের থেকে ধনীরাই বেশি সুবিধা পেয়েছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তাহলে অর্থ ব্যয় হলেও লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে কি না সেটা মূল্যায়নে দেখতে হবে। আবার অনেক কর্মসূচি আছে যেগুলো দুই থেকে তিন বছর পর শেষ হয়ে যায়। কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এর আওতাধীন মানুষের অবস্থা কী তার কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। অর্থাৎ তারা কি আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছে, না তাদের কিছুটা উন্নতি হয়েছে, সেটা মূল্যায়ন করতে হবে। একটা কর্মসূচিতে অতিদরিদ্রদের মূল্যায়ন করেছিলাম। সেখানে দেখেছিলাম তাদের উন্নয়ন টেকসই হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে অবশ্য দরিদ্রদের অর্থ না দিয়ে সম্পদ দেওয়া হয়েছিল। তাদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিসহ বিভিন্ন সম্পদ দেওয়া হয়েছিল। সম্পদ দিলে, এগুলো পরবর্তী সময়ে আয় বৃদ্ধি করে। যেমন কারও একটা গরু থেকে বাড়তে বাড়তে তিন-চারটা গরু হলো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য ভালো মূল্যায়ন খুবই প্রয়োজন।
আব্দুল কাইয়ুম
আখতার হোসেন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কতকগুলো ধরন ও তাদের সুবিধা-অসুবিধা বললেন। প্রকল্প মূল্যায়নের কথাও বললেন। এবার বলবেন এ কে এম নূর-উন-নবী।
এ কে এম নূর-উন-নবী
মানুষকে কেন্দ্রীয়ভাবে দেখতে হবে, সবার ওপরে মানুষ। মানুষসহ যেকোনো ব্যাপারে কিছু করতে গেলে দরকার সঠিক তথ্যের। কিন্তু খুব দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে দেশে কোনো ক্ষেত্রে কোনো সঠিক তথ্য নেই। আমি একটা সংস্থার পক্ষ থেকে অতিদরিদ্রদের মধ্যে পরিবারে কীভাবে বয়স্ক মানুষেরা প্রবঞ্চনা বা প্রতারণার শিকার হন, সে বিষয় একটা গবেষণা করছি। বয়সের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি হিসেবে ধরেছি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ত্রুটিপূর্ণ। চেহারা দেখে আন্দাজ করে খেয়ালখুশিমতো একটা বয়স লেখা হয়েছে। যে কাগজটি দেখিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচয় বহন করা হয়, সেটি যদি ভুল থাকে তাহলে তথ্য কোথায় পাবেন?
তথ্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সব সময় তথ্যকে হালনাগাদ করতে হয়। সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জন্ম, বিবাহ ও বিদেশ গমন নিবন্ধন পদ্ধতি আছে কিন্তু কেউ কাজ করছে না। সরকারের ওপর তো আমাদের চাপ থাকবেই। ব্র্যাককে বলব, আপনারা যদি আপনাদের প্রকল্প এলাকায় একটা সার্ভিলেন্স সিস্টেম করেন তাহলে অনেক তথ্য সংরক্ষিত হবে। এ ক্ষেত্রে একটা বড় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম আমরা পাব।
জনসংখ্যার ক্ষেত্রে তথ্যগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ। মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ ১৫ বছরের নিচে। জনসংখ্যার গড় আয়ু বেড়েছে। ফলে ৬০ বছরের ওপরের জনসংখ্যা বেড়েছে। আমার হিসাবমতে, ৬০ বছরের ওপরের জনসংখ্যা ৬.৫ শতাংশ, যার সংখ্যা এক কোটির ওপরে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে বাড়াতে হবে। গড়ে আমাদের দেশে ১৫ দশমিক তিন বছরে মেয়েদের বিয়ে হয়। যেখানে আইনগত বয়স হচ্ছে ১৮ বছর। আমরা তো ১৮ বছরের ওপরে যেতে পারছি না, এমনকি ১৮ বছরেও যেতে পারছি না। এই মেয়েদের আবার এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণ করে নারীত্বের প্রমাণ দিতে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যাতে বিয়ে না হয়, সে ব্যাপারে ব্র্যাক কাজ করতে পারে।
পরিবার পরিকল্পনা ও অ্যাডভোকেসির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। পরিবার পরিকল্পনা এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। অ্যাডভোকেসি মাত্র ২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এমন কিছু খাত আছে যেখানে বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। আবার এমন অনেক খাত রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনের তুলানায় বরাদ্দ অনেক কম। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলে এ রকম অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ বরাদ্দ হতে পারত না। একটি বিরাট সুখবর হলো, এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি মুদ্রা আমরা অর্জন করেছি। কিন্তু এই একই পরিমাণ জনসংখ্যা ফিলিপাইন, চায়না ও ভারতসহ অন্যান্য দেশ এর তিন গুণ বেশি বিদেশি মুদ্রা অর্জন করছে। কারণ, আমাদের শ্রমিকেরা খুবই অদক্ষ। আগামী ১০ বছর আমাদের খুব কঠিন সময় যাবে। আমরা যদি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টিসহ অন্যান্য সব বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ না করি, তাহলে দারিদ্র্যসহ নানাবিধ সমস্যা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
আনিসুল হক
আজকের আলোচনার শিরোনামের শেষ দুটি শব্দ ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ এ জায়গায় জোর দিতে চাই। আমার জন্ম হয়েছে নীলফামারীতে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে রংপুর শহরে। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ গ্রামে। কতকগুলো বিষয় নিজেরই দেখা। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে যেতাম। তখন দেখতাম, আমাদের বাড়ির মানুষেরাই তিন বেলা খেতে পেত না। কখনো কাউকে কিছু সাহায্য করতে পারতাম, কখনো পারতাম না। এখন এই অবস্থা নেই। যাদের ঘর ছিল না তাদের টিনের ঘর উঠেছে। যাদের টিনের ঘর ছিল, তাদের পাকা ঘর হয়েছে। দিন দিন মানুষ উন্নতির চাকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে, যমুনা সেতু, পোশাকশিল্প এবং বিদেশ যাওয়ার সুযোগ মানুষকে উন্নতির ধারায় নিয়ে এসেছে। কুড়িগ্রাম অঞ্চলে দেখেছি ভুট্টার আবাদ। এর সঙ্গে হয়তো পোলট্রির সম্পর্ক আছে। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। যতই উন্নয়ন ঘটুক, সব দেশে সব সময় একটা শ্রেণী কোনো কোনো কারণে প্রান্তিক থেকে যায়। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান একবার বলেছিলেন, তিনি মঙ্গা শব্দটি জানেন না। তারপর অনেক লেখালেখির পর আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিলাম। এখন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে অনেকে সাহায্য পাচ্ছে। যারা পাচ্ছে তাদের জীবনের কী পরিবর্তন আসছে, যারা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের কষ্টগুলো কী রকম, এই মানুষগুলোর কাছে গিয়ে মানবিক প্রতিবেদনগুলো এখন আমরা করি না। ভোরের কাগজ-এ থাকার সময় এই ধরনের প্রতিবেদন করতাম। অনেক সময় মনে হতে পারে এক কোটি মানুষের মধ্যে একজন মানুষের প্রতিবেদন কী প্রভাব ফেলবে। যখন একটি প্রতিবেদন হয় তখন কিন্তু ওই একজন মানুষ আর একজন মানুষ থাকেন না। তিনি হয়ে যান কোটি মানুষের প্রতিনিধি।
প্রতিনিয়ত মানুষের সুখ-দুঃখের কাহিনি গল্পের আকারে বলে যেতে হবে। তাহলে সরকার এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে। মনে পড়ছে অমর্ত্য সেনের সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হতে পারে না।’ আজ আমরা গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট কাজ করছি সেটা মোটেই দাবি করা যাবে না। আমি মনে করি, সংবাদপত্রগুলো যদি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা-ব্যর্থতা এবং মাঠপর্যায়ে গিয়ে মানুষের ভালো থাকা-মন্দ থাকার গল্পগুলো তুলে আনে তাহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়।
আব্দুল কাইয়ুম
গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আনিসুল হক সে কথাই বললেন। এবার বলবেন মাহবুব হোসেন।
মাহবুব হোসেন
অতিদারিদ্র্য নিরসনের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। প্রত্যেক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু যে মাত্রায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে দারিদ্র্য দূরীকরণ কঠিন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানসহ নানা সুযোগ সৃষ্টি করে। এখন একটি বড় প্রশ্ন হলো, কবে আমরা প্রবৃদ্ধিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির প্রয়োজন। দরিদ্রদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ব্যবস্থা যদি এখনো না করি তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে সুযোগ নিতে হয়তো তাদের আরও ২০ বছর লেগে যাবে। এ ক্ষেত্রে সরকার-এনজিও সবাই মিলে তাদের মাথার ওপর শক্ত করে ছাতা ধরতে হবে। আমাদের মোট জাতীয় আয়ের ২ দশমিক ১ বা ২ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর খাতে ব্যয় করছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে যতটুকু বরাদ্দ দরকার সেখানে সে পরিমাণ আছে কি না। যাদের জন্য প্রয়োজন তারা পাচ্ছে কি না। বলা হচ্ছে, ৯০টি কর্মসূচির মধ্যে ৩০টিতে ৯৭ শতাংশ বরাদ্দ। এর অর্থ হচ্ছে অবশিষ্ট ৭০টিতে শুধু অফিস আছে এবং কোনো প্রকার কাজ ছাড়া কিছু মানুষের বেতন দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হয়, এখানে সরকারের বড় একটা অপচয় হচ্ছে। ত্রাণ হিসেবে কোনো সাহায্য না দিয়ে এগুলোকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বা শর্ত সাপেক্ষে সাহায্য দিতে হবে। তাহলে একদিকে দেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে আমার মত হলো, একটি পৃথক সংস্থা গঠন করা, যারা প্রতিটি কর্মসূচির সব দিক মূল্যায়ন করবে। এখানে কয়েকজন ব্র্যাকের কিছু কাজের কথা বলেছেন। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যে কিছু শুরু করেছি। আমরা অতিদরিদ্রদের দুই বছরের কর্মসূচিতে সম্পদ সাহায্য দিই। সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তার প্রশিক্ষণ দিই। প্রতি সপ্তাহে আমাদের লোক তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। দুই বছরের মধ্যে অতিদরিদ্ররা যাতে টেকসই উন্নয়নের ধারায় ফিরে আসতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যে কারণে এসব কাজের পরিধি প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম। মূল কথা হলো, সরকারকে প্রতিটি কাজের উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব।
রাশেদা কে চৌধূরী
অনেক বিষয় আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু মতামত, দিকনির্দেশনা এসেছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হবে। কয়েকজন সরকারের সঙ্গে ব্র্যাকের সহযোগিতামূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলেছেন। এটি একটি বিশেষ উদ্যোগ হতে পারে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের পরিকল্পনা ও দক্ষতার অভাব আছে। সে ক্ষেত্রে ব্র্যাক যদি সহযোগিতা করে তাহলে তা দারিদ্র্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আব্দুল কাইয়ুুম
সবাই মূল্যবান আলোচনা করেছেন। আজকের আলোচনা থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
July
(2459)
-
▼
Jul 12
(117)
- অটোরিক্সা ধর্মঘটের প্রথম দিনে নগরজুড়ে দুর্ভোগ-১০ ...
- বুয়েট ঘিরে চক্রান্ত-০ অশান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির ন...
- ভূমধ্যসাগরে পানির অভাবে ৫৪ আশ্রয়প্রার্থীর মৃত্যু
- যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকার গঠনের আশ্বাস ইমরান ও নওয়াজের
- পাকিস্তানে সেনা ও সরকারি স্থাপনায় হামলার হুমকি
- মিসরের ক্ষমতাকেন্দ্রে আবারও অস্থিরতা
- এএনসির প্রতি উইনির ক্ষোভ
- গুলি ও র্যাবের পোশাকসহ গ্রেপ্তার ৩-র্যাবের পোশাক...
- ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগ
- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার চিন্তা অবাস্তব: মওদুদ
- রেইনকোট পেলেন আরও ২০১ জন
- সুজনের অনুষ্ঠানে অভিমত-নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরনে আন...
- স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী-কার খাতি...
- ইভ টিজিং: ছলের অভাব নেই by ফারহানা জামান
- নদীভাঙন-চিলমারী নদীবন্দর: শত বছরের হাহাকার by নাহি...
- আগুনে পুড়ল কেবল ছাত্রাবাস নয়, রবীন্দ্রস্মৃতিও-সিলে...
- অবহেলার খপ্পরে এক নম্বর জাতীয় সমস্যা-জনসংখ্যা-সমস্যা
- ক্ষয়ে যাচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ
- আবার বাঘ হত্যা!
- চরাচর-আর্সেনিকের বিষক্রিয়া by আজিজুর রহমান
- গোলটেবিল বৈঠক-‘অতিদারিদ্র্য নিরসন: সামাজিক নিরাপত্...
- চলতি পথে-মাহিলারা সরকার মঠ by দীপংকর চন্দ
- পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি-নারীর অধিকার না সস্তা শ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-মারইয়াম পুত্র মাসিহের আগমন বার্তা
- সদরে অন্দরে-কত জীবন পিষ্ট হবে গাড়ির নিচে by মোস্তফ...
- ইতিউতি-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বা...
- স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন-পুরনো নেতৃত্বেই নতুন কম...
- লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুট-মহাসড়কটির গুরুত্ব বোঝেনি স...
- পদ্মা সেতুর দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করবে বিএনপি : ফখরুল
- দাম নিয়ে শঙ্কা আগেই পাট কাটছেন চাষিরা by স্বপন চৌ...
- শেয়ারবাজার-উদ্যোক্তা পরিচালক ও আইসিবির সক্রিয়তায় ব...
- সরেজমিন-মাদকের এক জমজমাট হাটে পুলিশের 'মানিব্যাগ অ...
- সড়ক-মহাসড়কে 'বন্যা বিপর্যয়'-মেরামতে ১১৮ কোটি টাকা ...
- এনআইডি-নির্ভর নিরাপত্তা পরিকল্পনা আপাতত বন্ধ-এটি এ...
- দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য by আ...
- মিরসরাই ট্র্যাজেডির এক বছর-বন্ধুকে মনে পড়ে... by শ...
- ফুটপাতের এই হাল! by মিঠুন চৌধুরী
- সুরে-আনন্দে উচ্ছল দিন by এমিলিয়া খানম
- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেয়র মন্জুর-নেতা-কর্ম...
- হারিয়ে যেতে নেই মানা by প্রণব বল
- স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী-আম...
- মহাসংকটে বুয়েট-ডিন-চেয়ারম্যানসহ ২৪ জন শিক্ষকের একয...
- ভারতে অনাথ আশ্রমে যত্নের বদলে শিশুদের জোটে নির্যাতন
- সানায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ২০
- ঐতিহাসিক সফরে লাওসে হিলারি
- 'সেনকাকু' নিয়ে নতুন বিবাদে চীন-জাপান
- ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ-দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ভ...
- অ্যাসাঞ্জের বিষয়ে কোনো চাপ মানবে না ইকুয়েডর
- ওবামার সমালোচনা করতে নারাজ ছোট ভাই জর্জ
- উপকূল নিয়ে ভাবনা by মঈনুল আহসান মুন্না
- পাহাড়ি জনপদে শিক্ষা বিপর্যয় by আমানুল্লাহ নোমান
- নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হোক by নাজনীন তৌহিদ
- ভাড়া নিয়ে পরিবহনে নৈরাজ্য by সাইফুজ্জামান
- লড়াইয়ের নতুন ময়দান by শেখ রোকন
- পশ্চিমবঙ্গ-প্রথম কার্যদিবসেই মমতার নতুন বার্তা by ...
- 'নয়ন সম্মুখে তুমি নাই' by আতিকুল হক চৌধুরী
- কালের আয়নায়-মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির পে...
- নকল এইচএসসি পরীক্ষা-অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি...
- সঞ্চয়পত্রের মুনাফা-নিরাপদ বিনিয়োগ উৎসাহিত হোক
- পরিবেশের প্রতি যত্নবান হতে হবে by মুফতি এনায়েতুল্লাহ
- ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান by মাওলানা শাহ মোহাম্মদ হা...
- নারী শিক্ষায় ইসলামের প্রেরণা by জহির উদ্দিন বাবর
- ফতোয়া নিয়ে মাইলফলক রায় by মুফতি মুতীউর রাহমান
- বামপন্থিরা কি সামলাতে পারবে? by এম জে আকবর
- কল্পনাশক্তির মৃত্যু by সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- মেড ইন বাংলাদেশ by জাহিরুল ইসলাম
- ধর নির্ভয় গান-আর কালক্ষেপ নয় by আলী যাকের
- দেবহাটায় মাদকের হাট-মরণনেশার ব্যবসা কেন?
- নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার-সংলাপে বসে সমঝোতা হোক
- টয়া-‘দারুণ লাগে স্বপ্ন দেখতে’ by কিঙ্কর আহ্সান
- হায়েক এবার এলেনা
- গান আর আড্ডার এক দিন by প্রণব বল
- ঝলমলে পূর্ণিমা by শফিক আল মামুন
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- পাখির নাম ঘাড়ব্যথা by আ ন ম আমিনুর রহমান
- জেরায় সাক্ষী শহীদুল হক-পরিচিতরা বলেছেন হত্যাকাণ্ডে...
- পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি-দেশব্যাপী ট্...
- আরাফাতের মৃত্যু-রহস্য উদ্ঘাটনে আইনি অভিযোগ দায়েরে...
- চারদিকে অথৈ পানি, তবু তৃষ্ণায় মৃত্যু ৫৪ জনের
- পার্লামেন্ট পুনর্বহালে মুরসির ফরমান বাতিল করলেন আদালত
- বাজারদর ও মনিটরিং-কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই
- পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি-নারীর অধিকার না সস্তা শ...
- হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-বাংলাদেশ কি সার্কাসের তাঁবু হয়...
- ৬৪টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি লোকসান দিয়েই চলেছে by অরু...
- ‘২৪ ঘণ্টায়’ উচ্ছেদের নির্দেশ নয় দিনেও কার্যকর হয়নি...
- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বন্ধ ঘোষণার পর উত্ত...
- মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উদ্বেগ-সতর্ক হতে হবে বাংলাদেশকে
- পবিত্র কোরআনের আলো-পাপ-পুণ্যের ভিত্তিতে পরকালে মান...
- দেশকে ধ্বংস করার জন্য একজন তৌফিক-ই-ইলাহীই যথেষ্ট ...
- চরাচর-ফকিরাপুল by এস কবির
- ইরানের আমেরিকান ট্রানজিট by ড. আহমদ আনিসুর রহমান
- সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ : কিছু প্রস্তাব by মো. রেযাউ...
- সাদাকালো-পদ্মা সেতু চুক্তি বাতিল মর্যাদা রক্ষার চ্...
- রইছউদ্দিনের তিন তারের সংসার by মামুনুর রশিদ
- নারী উন্নয়ন নীতি-কথায় বড়, কাজের কি? by ম. ইনামুল হক
- পশ্চিমবঙ্গ-পরাজয় বামফ্রন্টের, বামপন্থার নয় by সুভা...
- জ্ঞান বাড়লে শরীরও তেজি by একরামুল হক শামীম
- মৈত্রী এক্সপ্রেস-একজন জনপ্রতিনিধির ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ...
- সমসময়-ডা. জাহিদ হোসেন এ যাত্রা বেঁচে গেলেন কপাল জো...
- রাজনীতি-ঘরের কাজিয়া পরের দেশে!
- বাঁকখালীর বাঁক দখল-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কেন ধ্বংস করা?
- পাকিস্তান-দেশের বিদ্যমানতার প্রতিই হুমকি by এম আবদ...
- সাক্ষাৎকার-মধ্যপ্রাচ্যে অনেক দেশের ভাগ্য নির্ধারিত...
- রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের দায় নয় by মাসুদ ফরহান
- ছাত্ররাজনীতি কি অধিকার আদায়ের অন্তরায় by শামীম রাহমান
- ফিরে এসো তারুণ্য by নাজমুজ্জামান নোমান
- কী অপরাধ করেছে লিমন! by মীর্জা সাকিব
- বিচারক ও পুলিশ by মাহবুব মোর্শেদ
- পদ্মা সেতু প্রকল্প-আমরাও পারি_ এটা কি প্রমাণ করা য...
- আলোর ইশারা-পদ্মা সেতু প্রকল্প এবং আমাদের করণীয় by ...
- সরকারি জায়গায় মার্কেট-ক্ষমতার দাপটে জনস্বার্থ উপেক...
- জেলা প্রশাসক সম্মেলন-শাসক বনাম সেবক
- লায়লার বাড়ি থেকে ছ’টি কঙ্কাল উদ্ধার
- লায়লা হত্যারহস্যঃ তিনটি কঙ্কাল উদ্ধার
- বিগ বস-৬-এ কিম
- সেক্সিতম কন্যা ক্যাট
- সাইফের ‘ককটেল’
-
▼
Jul 12
(117)
-
▼
July
(2459)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment