মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা করলে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি ট্রাম্পের
ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আগের তুলনায় আমাদের কাছে এখন অনেক উন্নত মানের প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের কাছে সেরা সব সরঞ্জাম আছে। সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটি ছড়িয়ে আছে। সেগুলো সরঞ্জামে পরিপূর্ণ। আমরা সেই সবকিছুই ব্যবহার করতে পারি এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান এখন ‘অনেক বেশি নমনীয়’ হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
হরমুজ নিয়ে আবার উত্তেজনা, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়া শত শত জাহাজ ও এগুলোর নাবিকদের উদ্ধারে গতকাল সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সময় বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা ইরানের ছয়টি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
এদিকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ আবার খুলে দেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরান হামলা চালালে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া’ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারি এই অঞ্চলকে আবারও একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ আরও যা ঘটল
—বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা গেছে, গতমাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এ প্রথম সরাসরি ইরানি হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
—মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল তাদের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।
—আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ছাড়া আমিরাতের ফুজাইরাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। এতে সেখানে কর্মরত তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।
—ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আমিরাত উপকূলে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
ইরান এসব হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি বা অস্বীকার করেনি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাতের উচিত হবে না নিজেদের আবারও কোনো ‘চোরাবালিতে’ টেনে নেওয়া।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
![]() |
| ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনা থেকে পাওয়া এ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস সংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করে আছে বেশ কিছু জাহাজ। ৪ মে ২০২৬। ছবি: এএফপি |

No comments