খোলা আকাশের নিচে ইফতার ও সাহ্‌রি

সামাজিক মাধ্যম খুললেই দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে নিবু নিবু হলদে আলোয় ইফতার বা সাহ্রির ছবি। আগারগাঁওয়ের এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে চলছে এ আয়োজন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবার–পরিজন নিয়ে মেট্রোরেলে করে ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে এখানে আসা যায়।

রমজানে বেজক্যাম্পে

এই ইফতার আয়োজন দেখতে একদিন নিজেই গিয়ে এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে হাজির হই। ইফতারের কিছুটা আগে আগে বেজক্যাম্পে ঢুকেই দেখি গমগম করছে চারদিক। উন্মুক্ত পরিবেশে ইফতারে অংশ নিতে অনেকে পরিবারের ছোটদের নিয়ে এসেছেন। তাঁদের সামনেই তৈরি হচ্ছে জিলাপি, বেগুনি ও পেঁয়াজু।

এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামজিদ সিদ্দিক বলেন, ‘বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।’

পরিবার–পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে বা অফিসের করপোরেট মিটিং সারতে আসতে পারেন। একসঙ্গে ৩০০ থেকে ৩৫০ অতিথিকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। রমজান মাসে এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে ইফতারির বুফের মূল্য ১ হাজার ২৯৯ টাকা আর ১ হাজার ৩৯৯ টাকায় পেয়ে যাবেন সাহ্‌রি। করপোরেট ইফতারি বক্স ৯৯৯ টাকায় শুরু। এখানে রয়েছে পার্কিং সুবিধা এবং নামাজের জন্য আলাদা জায়গা। এখানে আসতে আগে থেকে বুকিং দিতে হবে।

রোজার সময় দুপুর ১২টা থেকেই খোলা থাকে ক্যাম্প। ইফতারের আগে বা পরে অতিথিরা উপভোগ করতে পারেন বিভিন্ন মজাদার কার্যক্রম। রয়েছে লুডু, দাবা, সাউন্ড হিলিং, কুশিকাটার কাজ ও অরিগ্যামির মতো মানসিক প্রশান্তিদায়ক কাজ।

উত্তরা থেকে সপরিবার ইফতার করতে এসেছেন তাওয়াফ। তাঁর সঙ্গে কথা হলো, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দিন ধরেই দেখছি। আজ সুযোগ হলো। খোলা আকাশের নিচে ইফতারির সঙ্গে প্রকৃতিপাঠ ও বিনোদন। অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা পাচ্ছি।’

ঢাকাবাসীর নতুন গন্তব্য

তামজিদ সিদ্দিক বলেন, ‘এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পের মূল লক্ষ্য মানুষকে আবার প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করা। এখানে মানুষ অন্যান্য রেস্টুরেন্টের মতো কেবল খাওয়াদাওয়া করতে আসেন না; বরং নানাধর্মী অ্যাডভেঞ্চার ও রোমাঞ্চকর কার্যক্রমে অংশ নেন, নতুন কিছু শেখেন, প্রিয়জনদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটান। আমাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে এক ছাদের নিচে নানা ধরনের কার্যক্রম আপনি করতে পারবেন। যেমন দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠা, জিপলাইন, তিরন্দাজি, কাদামাটির রাস্তায় ট্রেইল অথবা বিভিন্ন ধরনের বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

শিশুদের জন্য আছে শিল্পচর্চার ক্লাস, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-গণিতভিত্তিক কার্যক্রম, আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ ও লেগো জোন।’ তাই পরিবার নিয়ে সময় ভালো কাটবে। শহুরে ব্যস্ততার মধ্যেও যে প্রকৃতির কাছে ফেরা যায়, এয়ারফোর্স বেজক্যাম্প সেটারই এক উদাহরণ। 

এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে করা যাবে ইফতার আর সাহ্‌রি
এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে করা যাবে ইফতার আর সাহ্‌রি। ছবি: সংগৃহীত

No comments

Powered by Blogger.