Monday, May 28, 2012
ইউএনএফপিএ ও দ্য ডেইলি স্টার গোলটেবিল বৈঠক-নিরাপদ মাতৃত্ব: অর্জন ও চ্যালেঞ্জ
ইউএনএফপিএ ও দ্য ডেইলি স্টার গোলটেবিল বৈঠক-নিরাপদ মাতৃত্ব: অর্জন ও চ্যালেঞ্জ
১৭ মে ২০১২ ইউএনএফপিএ ও দ্য ডেইলি স্টার-এর যৌথ উদ্যোগে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব: অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা এ আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
মাহফুজ আনাম
সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার
আর্থার এরকেন
ইউএনএফপিএ রিপ্রেজেন্টেটিভ, বাংলাদেশ
ব্রি. জে. (অব.) শাহেদুল আনাম খান
সম্পাদক, উপ-সম্পাদকীয় ও নিরাপত্তা বিষয়াদি, দ্য ডেইলি স্টার
ড. হাসিনা বেগম
অ্যাসিসট্যান্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ, ইউএনএফপিএ
ড. আহমেদ আল কবীর
প্রেসিডেন্ট, আরটিএম ইন্টারন্যাশনাল
ড. বুশরা আহমেদ
সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট, বিশ্ব ব্যাংক
ড. এ. কে. এম. নূর-উন-নবী
জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ড. মোর্শেদা চৌধুরী
সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ব্র্যাক
ড. মোমেনা খাতুন
হেলথ অ্যাডভাইজার, সিডা
কাওসার আফসানা
ডিরেক্টর, হেলথ, ব্র্যাক
ড. মোহাম্মদ শরিফ
ডিরেক্টর (এমসিএইচ-এস), ডিজিএফপি
ড. একেএম মাহবুবুর রহমান
লাইন ডিরেক্টর-সিসিএসডি, ডিজিএফপি
তানিয়া সুলতানা
সি ফর ডি স্পেশালিস্ট, ইউনিসেফ
ড. ওবায়দুর রব
কান্ট্রি ডিরেক্টর, পপুলেশন কাউন্সিল
ড. মোহাম্মদ হোসেইন চৌধুরী
জিএম সার্ভিসেস, মেরি স্টোপস
ড. তেকেন্দ্র কার্কি
ডব্লিউএইচও, বাংলাদেশ
এস এম আশরাফুল ইসলাম
সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
সঞ্চালক
আর্থার এরকেন
আলোচনা
শাহেদুল আনাম খান
নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য আমরা আসলে কী করছি, তেমন কিছুই না। আমাদের সুস্থ ও সবল মা প্রয়োজন। মায়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত হলে শিশুর স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। স্বাস্থ্যবান শিশু স্বাস্থ্যবান নাগরিক হয় এবং স্বাস্থ্যবান নাগরিক স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন করে। আজ এই আলোচনায় যাঁরা উপস্থিত, তাঁরা সবাই নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কাজ করেন। কেউ গণমাধ্যমে জড়িত এবং কেউ ইউএনএফপিএ যা করার চেষ্টা করছে তা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত। সরকারের প্রতিনিধিরাও এখানে উপস্থিত রয়েছেন। আশা করি, এ আলোচনা নীতিনির্ধারকদেরও সহায়ক হবে। আমি ডেইলি স্টার-এর পক্ষ থেকে এই আয়োজনে জড়িত থাকতে পেরে মহিমান্বিত বোধ করছি। আমাদের দায়িত্ব হলো সরকারকে জানানো এবং নীতিনির্ধারকদের কাজে সহায়তা করা। একদিনের সেমিনার বা পত্রিকার বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এ ব্যাপারে যথেষ্ট নয়। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। আমি আবারও সবাইকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি সবাই তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করবেন।
আর্থার এরকেন
সবাইকে স্বাগত। এই গোলটেবিল অনুষ্ঠানে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানাই। নারীরা প্রসবকালে কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে যান, পুরুষ হিসেবে আমার জন্য তা অনুধাবন করা কঠিন। আমার স্ত্রী যখন প্রথমবার অন্তসত্ত্বা হন তখন আমরা তাঞ্জানিয়ায় ছিলাম। প্রসবের পাঁচ সপ্তাহ আগে আমরা হল্যান্ডে চলে আসি। তার অন্তসত্ত্বাকাল খুবই স্বাভাবিক ছিল, কোনো সমস্যাই দেখা যায়নি। কিন্তু প্রসববেদনা দীর্ঘ সময় চলেছিল। হল্যান্ডে থাকায় পর্যবেক্ষণ এবং হাসপাতালের সেবায় কোনো ঘাটতি হয়নি। দুইদিন পরে সুস্থ ও সবল একটি কন্যাশিশু জন্মালো। কিন্তু আমরা যদি তাঞ্জানিয়ায় থাকতাম তাহলে গল্পটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতো। তাঞ্জানিয়ায় গ্রামীণ নারীদের প্রলম্বিত প্রসববেদনা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে। এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কারণে বিষয়টির প্রতি আমার সত্যিকার একটা দায়বদ্ধতা জন্মেছে। এটা কেবল আমার পেশাগত নিষ্ঠা নয়। কারণ আমি জানি, প্রসবকালে নারীদের দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা এবং যত্ন পাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার স্ত্রী অন্তসন্তাকালে ও প্রসবকালে যথাযথ সেবা পেয়েছেন এবং এটা সব নারীরই পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই আমাদের এমন এক ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে, যা প্রত্যেক নারীরই যত্ন নেবে। শুভ সংবাদ যে বাংলাদেশ প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার যথেষ্ট পরিমাণে কমিয়ে আনতে পেরেছে। কিন্তু এখনো অনেক নারীর মৃত্যু দুঃসংবাদই বটে। যে সময়টায় এই গোলটেবিল বৈঠক শেষ হবে, ততক্ষণে বাংলাদেশে অন্তত আরও দুজন নারী প্রসবের সময় মারা যাবেন। আমরা কি বছরে সাত হাজারেরও বেশি মায়ের মৃত্যু বন্ধ করতে পারছি? অথচ এই মৃত্যুর ৯০ শতাংশই ঠেকানো যেত। এই মৃত্যু ঠেকানোর কর্মসূচিই আসল কর্মসূচি।
প্রসূতি নারীরা যেসব রোগে মারা যান, সেগুলোর চিকিৎসা আমরা করতে পারি না, তা নয়। তাঁরা মারা যায়, কারণ তাঁদের জন্য আমরা নিয়মিত সেবা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারিনি বা তা করাকে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত করিনি। যতক্ষণ না আমরা মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনিয়োগ করছি, মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিককে গুরুত্বপূর্ণ করে ভাবছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্যা টিকেই থাকবে। মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেহেতু প্রতিটি গর্ভই ঝুঁকিপূর্ণ, তাই নারীরা যত কম সন্তান নেবেন, প্রসূতি অবস্থায় তত কম মারা যাবেন। তাই নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হবে, যাতে তাঁরা নিরাপদে সন্তানের জন্ম দিতে পারেন। এটাই আজকের মূল বার্তা। আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে আমি আজকের গোলটেবিল আলোচনার সূচনা ঘোষণা করছি। এখন ড. হাসিনা আমাদের সামনে মূল আলোচনার প্রতিবেদন পেশ করবেন।
ড. হাসিনা বেগম
ধন্যবাদ। আমি বাংলাদেশে মাতৃস্বাস্থ্যের বাস্তব অবস্থা, অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয়ের ওপর আলোকপাত করব। গত নয় বছরে মাতৃমৃত্যুর হার (এমএমআর) কমেছে ৪০ শতাংশ। মৃত্যুঝুঁকিও প্রতি ৫০০ জনে একজনে নেমে এসেছে। দুটো ক্ষেত্রেই আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) পূরণের পথেই আছি। তাহলেও এখনো দক্ষ প্রসবকালীন স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপাত খুবই কম। বর্তমানে এই হার ৩২ শতাংশ (ডিএইচএস ২০১১)। এখনো অন্তত একবার প্রসবপূর্ব সেবাদানের বিস্তার ৬৮ শতাংশ। একাধিকবার প্রসবপূর্ব সেবা নিশ্চিত করায় আমাদের সাফল্য মাত্র ২৬ শতাংশ। অনেক অর্জন থাকা সত্ত্বেও এমন কয়েকটি ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি।
এমএমআর কমানোয় আমাদের সফলতার মূল উপাদান দুটি: এক. আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়া, অর্থাৎ টেকসইভাবে সেবাসুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা এবং দুই. প্রসবের সময় দক্ষ সহকারীর উপস্থিতি এবং সমস্যা হলে চিকিৎসার চাহিদা সৃষ্টি। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুবিধা এবং জরুরি অবস্থায় সেবা সুবিধা (ইওসি) দেওয়ার কেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়ালে এটা সম্ভব হতো না।
তরুণীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতের হার বাড়াও অগগতির আরেকটা কারণ। বিএমএমএসের সমীক্ষা দেখাচ্ছে, মার্তৃস্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা অশিক্ষিত নারীদের মধ্যেও বেড়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১১ সালে সেবাসুবিধা যথেষ্ট প্রসারিত হয়েছে। বেসরকারি খাতে এই হার বেড়েছে চার গুণ। সেবার চাহিদামূলক আচরণ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। মেয়েরা এখন গৃহে ও বাইরে দুইখানেই সেবা প্রত্যাশা করে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার হারও দারুণভাবে বাড়ায় মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমেছে। হেমোরেজ ও অ্যাকলামসিয়ার মতো মাতৃমৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণগুলোও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে।
আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন ২০ জন প্রসূতি নারীর মৃত্যু হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। নিম্নমাত্রার টিএফআর আর এখন এমএমআর কমাতে সাহায্য না করাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ। প্রসব-পরবর্তী সময়ে অনেক নারীর মৃত্যু প্রসবের পরে সেবাপ্রাপ্তির ঘাটতিকে চিহ্নিত করে।
সিজারিয়ান অপারেশনও গত নয় বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে এই বৃদ্ধির হার মারাত্মক। সরকারি পর্যায়ে যেখানে মোট প্রসবের ৩৫ শতাংশ সিজারিয়ান, সেখানে বেসরকারি পর্যায়ে এই হার ৭১ শতাংশ, আর এনজিওতে এটা ৩০ শতাংশ। ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি লক্ষ্য পূরণে আমরা দৌড়ের শেষ মাইল পার করছি। আমাদের এখন পরিবার পরিকল্পনার প্রসার, দক্ষ প্রসবকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো এবং দরিদ্র নারীদের সেবা প্রদান বাড়াতেই হবে।
আর্থার এরকেন
ধন্যবাদ। আমাদের অনেকেই হয়তো এ বিষয়গুলোর সঙ্গে কমবেশি পরিচিত। তার পরও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কী করা উচিত তার জন্য এই আলোচনা কাজে দেবে। এমডিজি লক্ষ্যসীমায় পৌঁছতে হলে এখনো আমাদের মাতৃমৃত্যুর হার তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ২৫ শতাংশ কমাতে হবে। তার পরও এখানকার নারীদের অবস্থা পশ্চিমা বিশ্বের নারীদের থেকে ২০ গুণ কম সুবিধাজনকই থাকবে। তাই এমডিজির পাঁচটি টার্গেটে পৌাঁছানোয় অনেক কিছু করার আছে।
ড. আহমেদ আল কবীর
আমাদের জনসংখ্যার বড় একটি অংশই তরুণ। ৩৪ শতাংশ মানুষ ১৪ বছরের কম বয়সী। ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যা ৩০ বছরের কম বয়সী। ৮০+ শতাংশ ৪০ বছরের কম বয়সী। ১৫-৪৫ বছরের নারীদের প্রজননক্ষম ধরলে জনসংখ্যার ৪০+ শতাংশেরও বেশি সেই বয়সসীমার মধ্যে পড়ে। এই তরুণ জনসংখ্যা আমাদের সমাজ-অর্থনীতির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, যাকে বলা হয় পুপুলেশন ডিভিডেন্ট। কিন্তু তার জন্য তাদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে এবং কর্মরত রাখতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে আমাদের তিনটি ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে: বেসিক কেয়ার, সেকেন্ডারি কেয়ার, টার্শিয়ারি কেয়ার। তৃতীয় পর্যায়টি নিয়ে অনেকেই কাজ করছে, অনেক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। সেকেন্ডারি কেয়ার পর্যায়ে উপজেলা স্তরে অবকাঠামোগত পরিস্থিতি খুব ভালো। তাহলেও নিরাপদ প্রসবের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে গাইনোকলজিস্ট, চিকিৎসক, দক্ষ নার্স এবং অ্যানেসথেসিস্টের অভাব রয়ে গেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সমর্থনে বেসিক কেয়ার পর্যায়ে ভালো নার্স ও ভালো মিডওয়াইফ প্রয়োজন। সব ক্ষেত্রেই গাইনোকলজিস্ট ও অ্যানেসথেসিস্টের একটি দল থাকা জরুরি। এ সমস্যাটির দিকে আমাদের দৃষ্টি ফেরাতে হবে। নেপাল অ্যানেসথেসিস্ট তৈরির জন্য ছয় মাসের কোর্স চালু করেছে এবং সুফল পাচ্ছে। জাতিসংঘে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন যে তিন হাজার মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দুই বছর পরে আমরা মাত্র ২০০ জন পেয়েছি। সরকারকে অবশ্যই পাবলিক ও প্রাইভেট এবং এনজিওদের নিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। রিসোর্স প্রধান সমস্যা নয়। মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে অঙ্গীকার থাকলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘাটতিই সমস্যা।
ড. বুশরা আহমেদ
মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ের কিছু দিক আছে, যা মেডিকেল বিষয়। আর কিছু আছে, যা সামাজিক-অর্থনৈতিক নির্ধারক। প্রথমেই আমাদের বলতে হবে শিক্ষার সুযোগের কথা। এ বিষয়ে সত্যিই বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে-মেয়ের সংখ্যার অনুপাতে ভারসাম্য অর্জন করা গেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তিপ্রদান কর্মসূচির ফলে সেকেন্ডারি স্কুল ও কলেজে মেয়েদের পড়ালেখা ধরে রাখায় সাহায্য হচ্ছে। ফলে তাদের বিয়ের বয়স পিছিয়ে যায় এবং শিক্ষিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। এটা বিয়ের বয়স এবং প্রথম সন্তান গ্রহণের বয়সের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মেডিকেল ইস্যুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ দিকেও কাজ করে যেতে হবে।
গড় আয়ু এবং গড় আয়—দুটোরই বৃদ্ধি সাধারণভাবে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতিতে বাস্তব প্রভাব ফেলে। শ্রমশক্তিতে বিশেষ করে পোশাকশিল্পে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণে তাদের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম হয়ে ওঠা মানে সংসারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়া। এ থেকে তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও সৃষ্টি হয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিক উন্নতির গতি এবং মজুরি-বৈষম্য দূর করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
সিডও সনদ সাক্ষরকারী দেশগুলোর অন্যতম হয়েও আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরাট ব্যবধান রয়েছে আমাদের। এখনো ৪০ শতাংশ নারী গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেত্রী উভয়ই নারী। কেবল শীর্ষ রাজনৈতিক পদ পেলেই চলবে না, নারীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও বেশি করে জড়িত করতে হবে। নেপালে যেখানে নারীরা বেশি রাজনৈতিক ক্ষমতা অথবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়েছেন, সেখানে বন সংরক্ষণে সফলতা বেড়েছে। নারীর অবস্থানের উন্নতি সত্যিকারভাবে মাতৃস্বাস্থ্যের সুরক্ষাও বাড়ায়।
মেডিকেল ইস্যুর মধ্যে প্রসবকালে এসবিএর উপস্থিতির বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেবল মিডওয়াফই নয়, সব রকম দক্ষ প্রসবকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। এটা তৈরি করতে তিন থেকে চার বছরের প্রশিক্ষণ লাগবে। এই মধ্যবর্তী সময়ে কী করা হবে? তাই এফডব্লিউভির দিকেও নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা উভয় দিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশে বিরাট এনজিও খাত সক্রিয়। স্বাস্থ্য সুবিধার বেলায়ও তাদের চমৎকার অবকাঠামো রয়েছে। তারা এ বিষয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। আমাদের সেবা সুবিধাকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। বাংলাদেশে সম্পদের সমস্যা একটা বড় সমস্যা। উন্নত দেশের সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না। উপজেলা পর্যায়ে ১৩২টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। একটি জেলার সব কটি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সেই জরুরি প্রসূতি সেবার ব্যবস্থা থাকার দরকার নেই। জেলার দুটিতে সব রকম সুবিধা নিশ্চিত করলেই চলবে এবং এলাকার সব মানুষ যাতে এর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকে। এ দুটিতে চিকিৎসকের পাশাপাশি একজন অ্যানেসথেসিস্ট ও একজন ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ এবং কয়েকজন দক্ষ নার্স/সিএসবিএ/মিডওয়াইফ থাকতে হবে। ১৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮০ শতাংশ সব সময় কার্যকর রাখায় বিশ্ব ব্যাংকের তরফে আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।
যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু এলাকা খুবই দুর্গম। এসব এলাকায় চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিস্টসহ সবারই উপস্থিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানেসথেসিস্টের অভাব মেটানোর জন্য চিকিৎসকদের একটা অংশকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে ওই সব এলাকায় এলাকায় নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
ড. এ. কে. এম. নূর-উন-নবী
আমাদের যুবজনসংখ্যা কাঠামোর জন্য বেশিসংখ্যক নারী প্রজননের স্তরে প্রবেশ করছে। এমএমআর ২৫ শতাংশ কমছে টিএফআর হ্রাস পাওয়ার জন্য। টিএফআর হ্রাসের হার ধরে রাখতে চাইলে একদিকে বয়ঃসন্ধিতে সন্তান গ্রহণের হার, অন্যদিকে কিশোরী উর্বরতার হার কমাতে হবে। টিএফআরে পুনরুৎপাদনের বয়সে থাকা নারীদের সংখ্যাও কমাতে হবে। এ জন্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির প্রভাবশীল উপাদানের দিকেও তাকাতে হবে। সেবা দিতে পারলে এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করতে পারলে বাচ্চা হবে না এবং সন্তান ধারণের ইচ্ছার মধ্যে বিরতি ও পরিসর তৈরি করা যাবে। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে নারীদের জন্য, বিশেষ করে কম সুবিধাপ্রাপ্ত এবং আওতার বাইরের এলাকার নারীদের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সুলভ করতে হবে। এখানে দুই-তিনটি উপাদানের বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত, একটি হচ্ছে মিশ্রপদ্ধতি। আমরা বিভিন্ন সমীক্ষা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে মেথড-মিক্স পাই। নারীর জীবনচক্রের সঙ্গে মেথড-মিক্সের পরিকল্পনা থেকে কর্মসূচির নকশা করলে ভালো হয়। কর্মসূচির পরিকল্পনার সময় এগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কার্যকরভাবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হলে তাদের মধ্যেসেবার চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে শক্তিশালী প্রচারণা চালাতে হবে। বাল্যবিবাহ একটি ঝুঁকিপূর্ণ চর্চা, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়াও ঝুঁকিপূর্ণ চর্চা। সামাজিক মূল্যবোধ পরিবর্তনের মাধ্যমে এগুলো কমানো যায়। এ জন্য ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করা দরকার। নীতি বা পদ্ধতি তৈরির সময় আমরা দীর্ঘস্থায়ী কমিউনিটিভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচির কথা বলি না কেন?।
ড. মোর্শেদা চৌধুরী
আমাদের সেবাসুবিধা এবং অবকাঠামো ভালো হলেও সেগুলোর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তার জন্য কমিউনিটির মধ্যে এসবের চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে এবং তারা জানবে—কখন, কীভাবে এগুলো ব্যবহার করা যাবে। বাইরে থেকে নয়, কমিউনিটির ভেতরের কেউ পুরো প্রক্রিয়াটা বুঝলে তবে সফলতা আসবে। উত্তরের কিছু জেলায় এই পদ্ধতি আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। ২০১১ সালে এক লাখ ৮০ হাজার নারী সেসব সেবাকেন্দ্রে এসেছেন। তাঁদের টাকা দেওয়া হয়নি বরং তাঁরা নিজেরাই টাকা খরচ করে এসেছেন। ওই বছরে নীলফামারীতে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল হাজারে ১৫৪। এটা খুবই ভালো অর্জন। পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার হার ৫২ শতাংশ, অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি তথা পিল আর কনডম গ্রহণের হার ৮৬ শতাংশ। তবে পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য থাকলেও এর ব্যবহার স্থায়ী করা যায়নি। ব্র্যাকের ৯২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তাই সরকার ও এনজিওকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা দরকার। তৃণমূল পর্যায়ে এই সমন্বয় প্রয়োজন।
ড. মোমেনা খাতুন
ড. হাসিনা শেষ ধাপ অতিক্রম অর্থাৎ মাতৃমৃত্যুর হার আরও ২৫ শতাংশ কমানোর কথা বলেছেন। এর জন্য জরুরি হলো প্রসবকালীন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হয় সিএসবিএ অথবা মিডওয়াইফ কাউকে না কাউকে থাকতেই হবে। আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, কিন্তু প্রশিক্ষণ-পরবর্তী তদারকি ঠিকভাবে করি না। স্বাস্থ্যকর্মীদের কারিগরি তদারকি ও সহযোগিতা কী করেছি? আমরা কমিউনিটিকেও সেবা গ্রহণের বিষয়টি ভালোভাবে বোঝাতে পারিনি। তৃতীয় বিষয় হলো, আমরা কি কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে ওয়াকিবহাল রাখার চেষ্টা করে গেছি? মাতৃমৃত্যুর সমীক্ষা বলছে, প্রত্যক্ষ কারণে মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ, কিন্তু পরোক্ষ কারণে মৃত্যু হয় ৩১ শতাংশ। এ বিষয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যান নেই। পরোক্ষ কারণগুলো জানা দরকার।
কাওসার আফসানা
২০১৫ সালের পর আমাদের নীতিগত দিকনির্দেশনা কী হবে, সেটা এখনই ভাবা দরকার। মাতৃমৃত্যুর হার কমলেও এখনো ৩০ শতাংশ মৃত্যু হয়। আমরা দেখেছি, জন্ডিস, হাইপার টেনশন ও ডায়াবেটিসের কারণে অধিকাংশ মৃত্যু হয়। এসব বিষয়ে আমরা কেউই কাজ করি না। প্রসূতিরা হাসপাতালে ভর্তি হলেও বাড়ি ফিরে যান, কারণ বাংলাদেশে এ রকম অবস্থার কোনো চিকিৎসা নেই। এবং তাঁরা বাড়ি গিয়ে অন্যদের বলেন, হাসপাতালে গিয়ে লাভ নেই। গরিব মানুষ হাসপাতালে গিয়ে মানুষের সম্মানটা পর্যন্ত পায় না। তাই চিকিৎসা শিক্ষা, নার্সিং শিক্ষার মধ্যে সেবামানসিকতা আনবার চিন্তা থাকা দরকার। আমরা জানি না হেলথ প্রভাইডারদের সবাইকে কত দিনের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। পোস্টমর্টাম হেমারেজ, অ্যাকলামসিয়ার মোকাবিলা করতে হবে। হেমারেজের বেলায় রক্তদানের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয়পত্রে রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করার ব্যবস্থা হয়নি। প্রয়োজনের সময় রক্তের সহজলভ্যতা থাকতে হবে। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও এসব ব্যাপারে দক্ষ হতে হবে, কারণ তাঁরাই বেশির ভাগ সময় রোগীর হাতের কাছে থাকেন, চিকিৎসকেরা থাকেন না। প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদের সহায়ক-ব্যবস্থা না দিলে এবং তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত না করলে তাদের পক্ষে কার্যকর সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না।
ড. মোহাম্মদ শরিফ
গত জানুয়ারি থেকে আমরা এফডব্লিউসিগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের কাজ শুরু করেছি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা দেওয়ার বিষয়ে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। ৩৭২৫ এফডব্লিউসির মধ্যে এক হাজার ৫০০টি স্বাভাবিক প্রসবের উপযোগী করে উন্নত করা হয়েছে। সেখানে প্রসব কক্ষ, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের তদারকি ও নজরদারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পদ এক হাজার ৪০০ হলেও বর্তমানে মাত্র ৫৫০ জন কর্মরত আছেন। দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা জরুরি।
ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান
কোন বয়স গ্রুপের মায়েরা বেশি মারা যাচ্ছেন, সেটা আলোচনায় আসেনি। বাল্যবিবাহ এবং তরুণী মাতা সমস্যার প্রতি এখন আমাদের জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্যসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমাজকে জড়িত করায় আমরা কাজ করছি এবং সাফল্যও পেয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে, বিশেষ করে দরিদ্র অংশের প্রতি নজর দেওয়া হচ্ছে। কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবকিছু করতে পারবে না, অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের কাছে তথ্য নেই যে কত জন মাতা ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। পোস্টমর্টাম হেমারেজ ও অ্যাকলামসিয়া মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত মাঠকর্মী নেই। অথচ ৩০ শতাংশ মা এই সমস্যায় মারা যান। পোস্টমর্টাম জন্মনিরোধক বিষয়ে আমরা সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগে কাজ করছি। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার অনিয়মিতকরণ বা বন্ধ করে দেওয়াও বিরাট সমস্যা।
তানিয়া সুলতানা
অনেক মানুষ সেবাকেন্দ্রে গিয়ে সেবা নেওয়ার প্রত্যাশাই করেন না। গ্রাম এলাকায় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা অনেক সময় তাঁদের সেবাকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারেও অনেক সময় এ সমস্যা দেখা যায়। যতক্ষণ না তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, ততক্ষণ পরিস্থিতি বদলাবে না। তাই সমাজ সচেতনতা তৈরি করতে হবে, পাশাপাশি সেবাগ্রহণের পরিবেশও সৃষ্টি করতে হবে। আর এটা করতে হবে সমন্বিতভাবে।
আর্থার এরকেন
বাংলাদেশের নারীরা পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের নারীদের মতোই চৌকস ও বাস্তববাদী। বলা হয়, বাংলাদেশের নারীরা নাকি বাড়িতেই প্রসবে আগ্রহী। বাড়িতে অন্তত তাঁরা সেবাযত্নটা পান। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে তাঁরা ভয় পান, কারণ সেখানে অবহেলা হয়। আপনি আজ সেবার মান উন্নত করুন, সবাই তখন সেবাকেন্দ্রে আসবেন। দরিদ্র তরুণী মায়েরা বেশি মারা যান। বিয়ের বয়স বাড়ালে মাতৃমৃত্যু কমে যাবে।
ড. ওবায়দুর রব
প্রতিবছর ৩০ লাখ শিশু জন্মায়। প্রতি জেলায় জন্মে ৬০ হাজার, প্রতি উপজেলায় চয় হাজার, প্রতি ইউনিয়নে ৬০০। বছরে মাতৃমৃত্যু হয় সাত হাজার, নামিয়ে আনতে হবে চার হাজারে। আমাদের তাই লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি নিতে হবে। আমাদের এখনই উচ্চঝুঁকিতে থাকা মায়েদের লক্ষ্য করে কাজ করতে হবে। আমাদের যা সামর্থ্য রয়েছে, তা বণ্টন করে নিতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা খাতে এনজিওগুলো কাজ করছে ৪০ বছর ধরে। এখনো জন্মনিয়ন্ত্রণে তাদের অবদান মাত্র ৫ শতাংশ। তাই সরকারের সেবাব্যবস্থা ও নেটাওয়ার্কও বাড়াতে হবে। সাধারণ বাংলাদেশি নারী সাধারণত ২৫-২৬ বছরের মধ্যেই সন্তান যা নেওয়ার নিয়ে নেন। এর পরের সময়টায় তাঁদের জন্মনিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। কেবল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রসবের দিকে জোর দিলেই চলবে না। মাধ্যমিকে পড়ালেখা করালেই তরুণী মাতৃত্ব কমবে না, শিক্ষার সীমা আরও ওপরে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ হলেই বছরে ১০ লাখ জন্ম কমবে, কমবে মাতৃমৃত্যুও। পাঁচ থেকে ১০টি জেলাকে টার্গেট করে কাজ করলে কয়েক বছরের মধ্যেই সাফল্য পাব।
ড. মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
আমাদের প্রধান সমস্যা হলো, ঝুঁকিপূর্ণ মাকে চিহ্নিত করা। পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রচার বাড়ানো সাফল্যের সূত্র। প্রসূতিদের সেবাকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করতে পারলে মাতৃমৃত্যু কমবে। তাঁদের জানাতে হবে যে সেবাকেন্দ্রে এলে মা এবং সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে সেবার মানও বাড়াতে হবে।
ড. তেকেন্দ্র কার্কি
ডব্লিউএইচও মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণে কাজ করে। আমরা তিন বছরের ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচি চালিয়ে থাকি। আমরা বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করি। এখানে প্রধান সমস্যা হলো মানবসম্পদের ঘাটতি, যেমন অ্যানেসথেসিস্ট এবং চিকিৎসক কম। নেপালে অ্যানেসথেসিস্টদের আড়াই গুণ বেশি বেতন দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা গ্রামে কাজ করতে রাজি থাকেন। নেপালে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা চিকিৎসকদের দুই বছরের জন্য গ্রামে কাজ করতে পাঠানো হয়। নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিলেও তাঁরা অ্যানেসথেসিস্টের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। এসব নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কেবল সরকারই করতে পারে।
ড. এস এম আশরাফুল ইসলাম
এমডিজি ৪ ও ৫-এ যেভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে, তা অর্জন করাই স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এ উদ্দেশ্যে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই আমাদের কৌশল। প্রসূতি ও নবজাতকের জন্য আমাদের আট হাজার সেবাকেন্দ্র রয়েছে। বাস্তবতা হলো, মেয়েদের পক্ষে এসব সেবাকেন্দ্রে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকে না। শিক্ষাই এ সমস্যার উত্তর। আমাদের এখন স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবসম্পদের ঘাটতি মেটানোর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। এখানে গুরুতর লোকবলের অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডারে মাত্র ১৩০ জন অ্যানেসথেসিস্ট রয়েছেন, ৪০০-এর বেশি পদ খালি পড়ে আছে। কেউ অ্যানেসথেসিস্ট হতে চান না। নার্স, এফডব্লিউভি, এফডব্লিউএ, মিডওয়াইফ সবাই গ্রামীণ এলাকায় কাজ করেন, কিন্তু চিকিৎসকেরা সেখানে যেতে চান না। তাই আমরা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য বিষয়ে স্বতন্ত্র ক্যাডার সার্ভিস চালু করছি। আমরা তিন হাজার মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ দেওয়ার আশা রাখি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রুতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অ্যাক্টকে বদলে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইভস কাউন্সিল করেছি। আমরা সরকারি খাতে নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি রেগুলেশনের খসড়া তৈরি করছি, নীতি তৈরি করছি। সিএসবিএ বিষয়েও আমরা কাজ করছি।
যাঁরা মা ও নবজাতকদের সেবা করবেন, তাঁদের অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নার্সদের উপেক্ষা করা হয়েছে। নার্সিং পেশার গুরুত্ব ও মর্যাদা বাড়ানোয় সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নার্স কলেজ ও ইনস্টিটিউটে এখন অভূতপূর্বভাবে ভর্তির আবেদন জমা পড়ে। আমরা সারা দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা জোগান দিচ্ছি। কিন্তু কিছুই হবে না যদি না মানবসম্পদ তৈরি হয়।
দক্ষ কর্মী তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপকেও প্রসারিত করছি। মাঠপর্যায়ে ঘাটতি মেটাতে আমরা এনজিওগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা এখন দুই বছরের নার্স প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর চিন্তা করছি। আমরা স্বাস্থ্য খাতের কর্মশক্তির সংখ্যা, অবয়ব ও কাঠামোর যৌক্তিকীকরণের দিকে যাচ্ছি। মাঠপর্যায়ে সমন্বিত সেবা দেওয়ার দিকেও মনোযোগী হচ্ছি, কমিউনিটিকেও জড়িত করতে চাইছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রসারের উদ্দেশ্যও তা-ই। শহরগুলোর বড় বড় হাসপাতাল স্বাস্থ্য খাতের লোকবলের বড় অংশই নিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য আমরা কিছু পদ তৈরি করছি, যার নিয়োগ হবে আঞ্চলিক ভিত্তিতে। মিডিয়া হলো তৃতীয় চক্ষু, আপনারা আমাদের বুঝতে ও সমস্যা ধরিয়ে দিতে সাহায্য করবেন।
আর্থার এরকেন
মাতৃমৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হলেও মোটেও তা সন্তোষজনক নয়। এখনো বছরে সাত হাজার নারী প্রসবের সময় মারা যান। আগামী তিন-চার বছরে এই হার ২৫-৩০ শতাংশ কমাতে না পারলে ২০১৫ সালের এমডিজি লক্ষ্য পূরণ করা যাবে না। মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হলে সেবাকেন্দ্রগুলোকে কেবল যন্ত্রপাতিসজ্জিত করলেই হবে না, সেগুলোকে মানবসম্পদের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। সেবাকর্মীর বিপুল ঘাটতি রয়ে গেছে বাংলাদেশে।
সিএসবিএ থেকে চিকিৎসক পর্যন্ত বিস্তৃত পরিসরজুড়ে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনে আমাদের যৌথভাবে কাজ করে যেতে হবে। এখানেই রেফারেল সিস্টেমের বিষয়টি জড়িত। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী যদি কোনো সেবাদানে অপারগ হলে তারা রোগীকে উপজেলা পর্যায়ে পাঠাবে। উপজেলা হাসপাতাল না পারলে জেলা পর্যায়ে যাবে। এটা করাই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে অনেক চিকিৎসক, অনেক চিকিৎসা ক্যাডার ও পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ রয়েছে। এই তিনটি উপাদানকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোই আসল কাজ। চিকিৎসা খাতে বছরে আট বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। আমাদের দরকার অঞ্চলভিত্তিক টার্গেট এবং লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ। নাজুক অঞ্চলের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। এসব এলাকার মানুষজনকে সেবাপ্রাপ্তির বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো জানাতে হবে, যাতে তারা দরকারের সময় সঠিক জায়গায় গিয়ে সেবা চাইতে পারে। নারীরা যে অনেক সময় হাসপাতালে যেতে চান না, এটা তাঁদের সমস্যা নয়। এটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যা।
মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণগুলোর দিকেও তাকাতে হবে। হতে পারে এটা গর্ভপাত, অপুষ্টি এবং অন্যান্য কারণ। সেগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। এ ব্যাপারে যথেষ্ট গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে আইনত বিয়ের বয়স ১৮ হলেও আমাদের অর্ধেক নারীর বিয়ে হয় এর থেকেও কম বয়সে। এই বয়সের একটি মেয়ে কার্যত যৌনতা, দাম্পত্য ও পরিবারপরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাই বিয়ের বয়স নিয়ে আইন বাস্তবায়নের পথ বের করতেই হবে। নারী শিক্ষার বেলায় মাধ্যমিক বা সেকেন্ডারি পর্যায় পেরিয়ে আমাদের এখন অধিকতর উচ্চশিক্ষা পর্যায় নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। বাংলাদেশের সব সামাজিক সূচকে অগ্রগতি হলেও বিয়ের বয়স এবং নারী স্বাস্থ্যের বেলায় পরিস্থিতিটা সন্তোষজনক নয়।
জোগান ও চাহিদা দুই দিকেই সচেষ্ট হলে ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়, হাজারের মধ্যে ১৪৩টি মাতৃমৃত্যু পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও তা ইউরোপীয় মানের থেকে ২০ গুণ বেশিই থাকবে। বাংলাদেশের সব নারীরই সন্তান ধারণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি নিরাপদ প্রসব এবং বেঁচে থাকারও অধিকার রয়েছে।
মাহ্ফুজ আনাম
ইউএনএফপিএর সঙ্গে আমাদের অংশীদারির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। আপনাদের সঙ্গে প্রতিটি গোলটেবিল বৈঠকের পরে আমি আরও সজ্ঞান হই এবং আমাদের কর্তব্য সম্পর্কেও সজাগ হই। চমৎকার একটি কথা আছে, কোনো মাকেই যেন জীবন দেওয়ার সময় জীবন হারাতে না হয়। পরিবারে একটা সুন্দর ঘটনা ঘটছে, অথচ মাকে যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে, সেখানে তাঁর জীবনসঙ্গী হয়তো সে বিষয়ে সচেতনই নন? এখানে জেন্ডার প্রশ্নটাও আসে। পুরুষ হিসেবে আমাদের তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে আরও সচেতন হওয়ার আছে। যিনি জীবন দিচ্ছেন, তাঁর জন্য সমাজকে এটা করতেই হবে।
এটা শুনে আমি তো চমকে গিয়েছি যে একমাত্র বিয়ের বয়স ছাড়া আর সব সামাজিক ক্ষেত্রে আমরা সঠিক লক্ষ্যেই এগোচ্ছি। ডেইলি স্টার-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মনোযোগ নিবদ্ধ করা এবং যতটা সম্ভব সামাজিক আন্দোলন তৈরির ব্যাপারে আমরা দায়বদ্ধ। এ বিষয়ে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই এবং আমাদের সহযোগিতারও প্রস্তাব দিচ্ছি। আইনত নারীদের বিয়ের বয়স ১৮ থাকা সত্ত্বেও এখনো ৫০ শতাংশ নারীর বিয়ে হয় ১৬ বছরের নিচে। প্রথমত এটা আইনেরও লঙ্ঘন। আইন ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন না থাকার জন্য, সে কারণে বয়স বাড়িয়ে দেখানো সম্ভব হচ্ছে। আইন প্রয়োগের সমস্যাও কম জরুরি নয়।
ইংরেজি পত্রিকার পাঠক নারীরা নিশ্চয়ই প্রসবের সময় মারা যান কম। কিন্তু সংবাদপত্র হিসেবে আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে পারি। নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক সমাজ এবং সরকারের মধ্যেও আমরা তাগাদা তৈরি করতে পারি। আর্থার বলেছেন, বাংলাদেশে বার্ষিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয় এবং এটা বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম। বিস্ময়কর! এর ৭০ শতাংশই যেখানে সরকার দিয়ে থাকে, সেখানে আমাদের কাজ হচ্ছে এর সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। আপনারা আমাদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন, চাপ দেবেন। এ বিষয়ে আমাদের হূদয় সংবেদনশীল এবং দায়বদ্ধতা অকৃত্রিম। মাতৃস্বাস্থ্যের সুরক্ষার বিষয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা আমাদের পাশে পাবেন। আমাদের সংগ্রাম এবং যাত্রা শেষ পর্যন্ত চলমান থাকুক। সবাইকে ধন্যবাদ।
মাহফুজ আনাম
সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার
আর্থার এরকেন
ইউএনএফপিএ রিপ্রেজেন্টেটিভ, বাংলাদেশ
ব্রি. জে. (অব.) শাহেদুল আনাম খান
সম্পাদক, উপ-সম্পাদকীয় ও নিরাপত্তা বিষয়াদি, দ্য ডেইলি স্টার
ড. হাসিনা বেগম
অ্যাসিসট্যান্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ, ইউএনএফপিএ
ড. আহমেদ আল কবীর
প্রেসিডেন্ট, আরটিএম ইন্টারন্যাশনাল
ড. বুশরা আহমেদ
সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট, বিশ্ব ব্যাংক
ড. এ. কে. এম. নূর-উন-নবী
জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ড. মোর্শেদা চৌধুরী
সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ব্র্যাক
ড. মোমেনা খাতুন
হেলথ অ্যাডভাইজার, সিডা
কাওসার আফসানা
ডিরেক্টর, হেলথ, ব্র্যাক
ড. মোহাম্মদ শরিফ
ডিরেক্টর (এমসিএইচ-এস), ডিজিএফপি
ড. একেএম মাহবুবুর রহমান
লাইন ডিরেক্টর-সিসিএসডি, ডিজিএফপি
তানিয়া সুলতানা
সি ফর ডি স্পেশালিস্ট, ইউনিসেফ
ড. ওবায়দুর রব
কান্ট্রি ডিরেক্টর, পপুলেশন কাউন্সিল
ড. মোহাম্মদ হোসেইন চৌধুরী
জিএম সার্ভিসেস, মেরি স্টোপস
ড. তেকেন্দ্র কার্কি
ডব্লিউএইচও, বাংলাদেশ
এস এম আশরাফুল ইসলাম
সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
সঞ্চালক
আর্থার এরকেন
আলোচনা
শাহেদুল আনাম খান
নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য আমরা আসলে কী করছি, তেমন কিছুই না। আমাদের সুস্থ ও সবল মা প্রয়োজন। মায়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত হলে শিশুর স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। স্বাস্থ্যবান শিশু স্বাস্থ্যবান নাগরিক হয় এবং স্বাস্থ্যবান নাগরিক স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন করে। আজ এই আলোচনায় যাঁরা উপস্থিত, তাঁরা সবাই নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কাজ করেন। কেউ গণমাধ্যমে জড়িত এবং কেউ ইউএনএফপিএ যা করার চেষ্টা করছে তা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত। সরকারের প্রতিনিধিরাও এখানে উপস্থিত রয়েছেন। আশা করি, এ আলোচনা নীতিনির্ধারকদেরও সহায়ক হবে। আমি ডেইলি স্টার-এর পক্ষ থেকে এই আয়োজনে জড়িত থাকতে পেরে মহিমান্বিত বোধ করছি। আমাদের দায়িত্ব হলো সরকারকে জানানো এবং নীতিনির্ধারকদের কাজে সহায়তা করা। একদিনের সেমিনার বা পত্রিকার বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এ ব্যাপারে যথেষ্ট নয়। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। আমি আবারও সবাইকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি সবাই তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করবেন।
আর্থার এরকেন
সবাইকে স্বাগত। এই গোলটেবিল অনুষ্ঠানে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানাই। নারীরা প্রসবকালে কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে যান, পুরুষ হিসেবে আমার জন্য তা অনুধাবন করা কঠিন। আমার স্ত্রী যখন প্রথমবার অন্তসত্ত্বা হন তখন আমরা তাঞ্জানিয়ায় ছিলাম। প্রসবের পাঁচ সপ্তাহ আগে আমরা হল্যান্ডে চলে আসি। তার অন্তসত্ত্বাকাল খুবই স্বাভাবিক ছিল, কোনো সমস্যাই দেখা যায়নি। কিন্তু প্রসববেদনা দীর্ঘ সময় চলেছিল। হল্যান্ডে থাকায় পর্যবেক্ষণ এবং হাসপাতালের সেবায় কোনো ঘাটতি হয়নি। দুইদিন পরে সুস্থ ও সবল একটি কন্যাশিশু জন্মালো। কিন্তু আমরা যদি তাঞ্জানিয়ায় থাকতাম তাহলে গল্পটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতো। তাঞ্জানিয়ায় গ্রামীণ নারীদের প্রলম্বিত প্রসববেদনা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে। এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কারণে বিষয়টির প্রতি আমার সত্যিকার একটা দায়বদ্ধতা জন্মেছে। এটা কেবল আমার পেশাগত নিষ্ঠা নয়। কারণ আমি জানি, প্রসবকালে নারীদের দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা এবং যত্ন পাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার স্ত্রী অন্তসন্তাকালে ও প্রসবকালে যথাযথ সেবা পেয়েছেন এবং এটা সব নারীরই পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই আমাদের এমন এক ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে, যা প্রত্যেক নারীরই যত্ন নেবে। শুভ সংবাদ যে বাংলাদেশ প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার যথেষ্ট পরিমাণে কমিয়ে আনতে পেরেছে। কিন্তু এখনো অনেক নারীর মৃত্যু দুঃসংবাদই বটে। যে সময়টায় এই গোলটেবিল বৈঠক শেষ হবে, ততক্ষণে বাংলাদেশে অন্তত আরও দুজন নারী প্রসবের সময় মারা যাবেন। আমরা কি বছরে সাত হাজারেরও বেশি মায়ের মৃত্যু বন্ধ করতে পারছি? অথচ এই মৃত্যুর ৯০ শতাংশই ঠেকানো যেত। এই মৃত্যু ঠেকানোর কর্মসূচিই আসল কর্মসূচি।
প্রসূতি নারীরা যেসব রোগে মারা যান, সেগুলোর চিকিৎসা আমরা করতে পারি না, তা নয়। তাঁরা মারা যায়, কারণ তাঁদের জন্য আমরা নিয়মিত সেবা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারিনি বা তা করাকে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত করিনি। যতক্ষণ না আমরা মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনিয়োগ করছি, মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিককে গুরুত্বপূর্ণ করে ভাবছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্যা টিকেই থাকবে। মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেহেতু প্রতিটি গর্ভই ঝুঁকিপূর্ণ, তাই নারীরা যত কম সন্তান নেবেন, প্রসূতি অবস্থায় তত কম মারা যাবেন। তাই নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হবে, যাতে তাঁরা নিরাপদে সন্তানের জন্ম দিতে পারেন। এটাই আজকের মূল বার্তা। আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে আমি আজকের গোলটেবিল আলোচনার সূচনা ঘোষণা করছি। এখন ড. হাসিনা আমাদের সামনে মূল আলোচনার প্রতিবেদন পেশ করবেন।
ড. হাসিনা বেগম
ধন্যবাদ। আমি বাংলাদেশে মাতৃস্বাস্থ্যের বাস্তব অবস্থা, অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয়ের ওপর আলোকপাত করব। গত নয় বছরে মাতৃমৃত্যুর হার (এমএমআর) কমেছে ৪০ শতাংশ। মৃত্যুঝুঁকিও প্রতি ৫০০ জনে একজনে নেমে এসেছে। দুটো ক্ষেত্রেই আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) পূরণের পথেই আছি। তাহলেও এখনো দক্ষ প্রসবকালীন স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপাত খুবই কম। বর্তমানে এই হার ৩২ শতাংশ (ডিএইচএস ২০১১)। এখনো অন্তত একবার প্রসবপূর্ব সেবাদানের বিস্তার ৬৮ শতাংশ। একাধিকবার প্রসবপূর্ব সেবা নিশ্চিত করায় আমাদের সাফল্য মাত্র ২৬ শতাংশ। অনেক অর্জন থাকা সত্ত্বেও এমন কয়েকটি ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি।
এমএমআর কমানোয় আমাদের সফলতার মূল উপাদান দুটি: এক. আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়া, অর্থাৎ টেকসইভাবে সেবাসুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা এবং দুই. প্রসবের সময় দক্ষ সহকারীর উপস্থিতি এবং সমস্যা হলে চিকিৎসার চাহিদা সৃষ্টি। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুবিধা এবং জরুরি অবস্থায় সেবা সুবিধা (ইওসি) দেওয়ার কেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়ালে এটা সম্ভব হতো না।
তরুণীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতের হার বাড়াও অগগতির আরেকটা কারণ। বিএমএমএসের সমীক্ষা দেখাচ্ছে, মার্তৃস্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা অশিক্ষিত নারীদের মধ্যেও বেড়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১১ সালে সেবাসুবিধা যথেষ্ট প্রসারিত হয়েছে। বেসরকারি খাতে এই হার বেড়েছে চার গুণ। সেবার চাহিদামূলক আচরণ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। মেয়েরা এখন গৃহে ও বাইরে দুইখানেই সেবা প্রত্যাশা করে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার হারও দারুণভাবে বাড়ায় মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমেছে। হেমোরেজ ও অ্যাকলামসিয়ার মতো মাতৃমৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণগুলোও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে।
আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন ২০ জন প্রসূতি নারীর মৃত্যু হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। নিম্নমাত্রার টিএফআর আর এখন এমএমআর কমাতে সাহায্য না করাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ। প্রসব-পরবর্তী সময়ে অনেক নারীর মৃত্যু প্রসবের পরে সেবাপ্রাপ্তির ঘাটতিকে চিহ্নিত করে।
সিজারিয়ান অপারেশনও গত নয় বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে এই বৃদ্ধির হার মারাত্মক। সরকারি পর্যায়ে যেখানে মোট প্রসবের ৩৫ শতাংশ সিজারিয়ান, সেখানে বেসরকারি পর্যায়ে এই হার ৭১ শতাংশ, আর এনজিওতে এটা ৩০ শতাংশ। ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি লক্ষ্য পূরণে আমরা দৌড়ের শেষ মাইল পার করছি। আমাদের এখন পরিবার পরিকল্পনার প্রসার, দক্ষ প্রসবকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো এবং দরিদ্র নারীদের সেবা প্রদান বাড়াতেই হবে।
আর্থার এরকেন
ধন্যবাদ। আমাদের অনেকেই হয়তো এ বিষয়গুলোর সঙ্গে কমবেশি পরিচিত। তার পরও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কী করা উচিত তার জন্য এই আলোচনা কাজে দেবে। এমডিজি লক্ষ্যসীমায় পৌঁছতে হলে এখনো আমাদের মাতৃমৃত্যুর হার তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ২৫ শতাংশ কমাতে হবে। তার পরও এখানকার নারীদের অবস্থা পশ্চিমা বিশ্বের নারীদের থেকে ২০ গুণ কম সুবিধাজনকই থাকবে। তাই এমডিজির পাঁচটি টার্গেটে পৌাঁছানোয় অনেক কিছু করার আছে।
ড. আহমেদ আল কবীর
আমাদের জনসংখ্যার বড় একটি অংশই তরুণ। ৩৪ শতাংশ মানুষ ১৪ বছরের কম বয়সী। ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যা ৩০ বছরের কম বয়সী। ৮০+ শতাংশ ৪০ বছরের কম বয়সী। ১৫-৪৫ বছরের নারীদের প্রজননক্ষম ধরলে জনসংখ্যার ৪০+ শতাংশেরও বেশি সেই বয়সসীমার মধ্যে পড়ে। এই তরুণ জনসংখ্যা আমাদের সমাজ-অর্থনীতির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, যাকে বলা হয় পুপুলেশন ডিভিডেন্ট। কিন্তু তার জন্য তাদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে এবং কর্মরত রাখতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে আমাদের তিনটি ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে: বেসিক কেয়ার, সেকেন্ডারি কেয়ার, টার্শিয়ারি কেয়ার। তৃতীয় পর্যায়টি নিয়ে অনেকেই কাজ করছে, অনেক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। সেকেন্ডারি কেয়ার পর্যায়ে উপজেলা স্তরে অবকাঠামোগত পরিস্থিতি খুব ভালো। তাহলেও নিরাপদ প্রসবের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে গাইনোকলজিস্ট, চিকিৎসক, দক্ষ নার্স এবং অ্যানেসথেসিস্টের অভাব রয়ে গেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সমর্থনে বেসিক কেয়ার পর্যায়ে ভালো নার্স ও ভালো মিডওয়াইফ প্রয়োজন। সব ক্ষেত্রেই গাইনোকলজিস্ট ও অ্যানেসথেসিস্টের একটি দল থাকা জরুরি। এ সমস্যাটির দিকে আমাদের দৃষ্টি ফেরাতে হবে। নেপাল অ্যানেসথেসিস্ট তৈরির জন্য ছয় মাসের কোর্স চালু করেছে এবং সুফল পাচ্ছে। জাতিসংঘে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন যে তিন হাজার মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দুই বছর পরে আমরা মাত্র ২০০ জন পেয়েছি। সরকারকে অবশ্যই পাবলিক ও প্রাইভেট এবং এনজিওদের নিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। রিসোর্স প্রধান সমস্যা নয়। মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে অঙ্গীকার থাকলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘাটতিই সমস্যা।
ড. বুশরা আহমেদ
মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ের কিছু দিক আছে, যা মেডিকেল বিষয়। আর কিছু আছে, যা সামাজিক-অর্থনৈতিক নির্ধারক। প্রথমেই আমাদের বলতে হবে শিক্ষার সুযোগের কথা। এ বিষয়ে সত্যিই বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে-মেয়ের সংখ্যার অনুপাতে ভারসাম্য অর্জন করা গেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তিপ্রদান কর্মসূচির ফলে সেকেন্ডারি স্কুল ও কলেজে মেয়েদের পড়ালেখা ধরে রাখায় সাহায্য হচ্ছে। ফলে তাদের বিয়ের বয়স পিছিয়ে যায় এবং শিক্ষিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। এটা বিয়ের বয়স এবং প্রথম সন্তান গ্রহণের বয়সের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মেডিকেল ইস্যুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ দিকেও কাজ করে যেতে হবে।
গড় আয়ু এবং গড় আয়—দুটোরই বৃদ্ধি সাধারণভাবে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতিতে বাস্তব প্রভাব ফেলে। শ্রমশক্তিতে বিশেষ করে পোশাকশিল্পে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণে তাদের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম হয়ে ওঠা মানে সংসারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়া। এ থেকে তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও সৃষ্টি হয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিক উন্নতির গতি এবং মজুরি-বৈষম্য দূর করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
সিডও সনদ সাক্ষরকারী দেশগুলোর অন্যতম হয়েও আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরাট ব্যবধান রয়েছে আমাদের। এখনো ৪০ শতাংশ নারী গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেত্রী উভয়ই নারী। কেবল শীর্ষ রাজনৈতিক পদ পেলেই চলবে না, নারীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও বেশি করে জড়িত করতে হবে। নেপালে যেখানে নারীরা বেশি রাজনৈতিক ক্ষমতা অথবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়েছেন, সেখানে বন সংরক্ষণে সফলতা বেড়েছে। নারীর অবস্থানের উন্নতি সত্যিকারভাবে মাতৃস্বাস্থ্যের সুরক্ষাও বাড়ায়।
মেডিকেল ইস্যুর মধ্যে প্রসবকালে এসবিএর উপস্থিতির বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেবল মিডওয়াফই নয়, সব রকম দক্ষ প্রসবকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। এটা তৈরি করতে তিন থেকে চার বছরের প্রশিক্ষণ লাগবে। এই মধ্যবর্তী সময়ে কী করা হবে? তাই এফডব্লিউভির দিকেও নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা উভয় দিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশে বিরাট এনজিও খাত সক্রিয়। স্বাস্থ্য সুবিধার বেলায়ও তাদের চমৎকার অবকাঠামো রয়েছে। তারা এ বিষয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। আমাদের সেবা সুবিধাকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। বাংলাদেশে সম্পদের সমস্যা একটা বড় সমস্যা। উন্নত দেশের সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না। উপজেলা পর্যায়ে ১৩২টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। একটি জেলার সব কটি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সেই জরুরি প্রসূতি সেবার ব্যবস্থা থাকার দরকার নেই। জেলার দুটিতে সব রকম সুবিধা নিশ্চিত করলেই চলবে এবং এলাকার সব মানুষ যাতে এর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকে। এ দুটিতে চিকিৎসকের পাশাপাশি একজন অ্যানেসথেসিস্ট ও একজন ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ এবং কয়েকজন দক্ষ নার্স/সিএসবিএ/মিডওয়াইফ থাকতে হবে। ১৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮০ শতাংশ সব সময় কার্যকর রাখায় বিশ্ব ব্যাংকের তরফে আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।
যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু এলাকা খুবই দুর্গম। এসব এলাকায় চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিস্টসহ সবারই উপস্থিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানেসথেসিস্টের অভাব মেটানোর জন্য চিকিৎসকদের একটা অংশকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে ওই সব এলাকায় এলাকায় নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
ড. এ. কে. এম. নূর-উন-নবী
আমাদের যুবজনসংখ্যা কাঠামোর জন্য বেশিসংখ্যক নারী প্রজননের স্তরে প্রবেশ করছে। এমএমআর ২৫ শতাংশ কমছে টিএফআর হ্রাস পাওয়ার জন্য। টিএফআর হ্রাসের হার ধরে রাখতে চাইলে একদিকে বয়ঃসন্ধিতে সন্তান গ্রহণের হার, অন্যদিকে কিশোরী উর্বরতার হার কমাতে হবে। টিএফআরে পুনরুৎপাদনের বয়সে থাকা নারীদের সংখ্যাও কমাতে হবে। এ জন্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির প্রভাবশীল উপাদানের দিকেও তাকাতে হবে। সেবা দিতে পারলে এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করতে পারলে বাচ্চা হবে না এবং সন্তান ধারণের ইচ্ছার মধ্যে বিরতি ও পরিসর তৈরি করা যাবে। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে নারীদের জন্য, বিশেষ করে কম সুবিধাপ্রাপ্ত এবং আওতার বাইরের এলাকার নারীদের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সুলভ করতে হবে। এখানে দুই-তিনটি উপাদানের বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত, একটি হচ্ছে মিশ্রপদ্ধতি। আমরা বিভিন্ন সমীক্ষা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে মেথড-মিক্স পাই। নারীর জীবনচক্রের সঙ্গে মেথড-মিক্সের পরিকল্পনা থেকে কর্মসূচির নকশা করলে ভালো হয়। কর্মসূচির পরিকল্পনার সময় এগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কার্যকরভাবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হলে তাদের মধ্যেসেবার চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে শক্তিশালী প্রচারণা চালাতে হবে। বাল্যবিবাহ একটি ঝুঁকিপূর্ণ চর্চা, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়াও ঝুঁকিপূর্ণ চর্চা। সামাজিক মূল্যবোধ পরিবর্তনের মাধ্যমে এগুলো কমানো যায়। এ জন্য ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করা দরকার। নীতি বা পদ্ধতি তৈরির সময় আমরা দীর্ঘস্থায়ী কমিউনিটিভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচির কথা বলি না কেন?।
ড. মোর্শেদা চৌধুরী
আমাদের সেবাসুবিধা এবং অবকাঠামো ভালো হলেও সেগুলোর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তার জন্য কমিউনিটির মধ্যে এসবের চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে এবং তারা জানবে—কখন, কীভাবে এগুলো ব্যবহার করা যাবে। বাইরে থেকে নয়, কমিউনিটির ভেতরের কেউ পুরো প্রক্রিয়াটা বুঝলে তবে সফলতা আসবে। উত্তরের কিছু জেলায় এই পদ্ধতি আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। ২০১১ সালে এক লাখ ৮০ হাজার নারী সেসব সেবাকেন্দ্রে এসেছেন। তাঁদের টাকা দেওয়া হয়নি বরং তাঁরা নিজেরাই টাকা খরচ করে এসেছেন। ওই বছরে নীলফামারীতে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল হাজারে ১৫৪। এটা খুবই ভালো অর্জন। পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার হার ৫২ শতাংশ, অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি তথা পিল আর কনডম গ্রহণের হার ৮৬ শতাংশ। তবে পরিবার পরিকল্পনার সাফল্য থাকলেও এর ব্যবহার স্থায়ী করা যায়নি। ব্র্যাকের ৯২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তাই সরকার ও এনজিওকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা দরকার। তৃণমূল পর্যায়ে এই সমন্বয় প্রয়োজন।
ড. মোমেনা খাতুন
ড. হাসিনা শেষ ধাপ অতিক্রম অর্থাৎ মাতৃমৃত্যুর হার আরও ২৫ শতাংশ কমানোর কথা বলেছেন। এর জন্য জরুরি হলো প্রসবকালীন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হয় সিএসবিএ অথবা মিডওয়াইফ কাউকে না কাউকে থাকতেই হবে। আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, কিন্তু প্রশিক্ষণ-পরবর্তী তদারকি ঠিকভাবে করি না। স্বাস্থ্যকর্মীদের কারিগরি তদারকি ও সহযোগিতা কী করেছি? আমরা কমিউনিটিকেও সেবা গ্রহণের বিষয়টি ভালোভাবে বোঝাতে পারিনি। তৃতীয় বিষয় হলো, আমরা কি কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে ওয়াকিবহাল রাখার চেষ্টা করে গেছি? মাতৃমৃত্যুর সমীক্ষা বলছে, প্রত্যক্ষ কারণে মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ, কিন্তু পরোক্ষ কারণে মৃত্যু হয় ৩১ শতাংশ। এ বিষয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যান নেই। পরোক্ষ কারণগুলো জানা দরকার।
কাওসার আফসানা
২০১৫ সালের পর আমাদের নীতিগত দিকনির্দেশনা কী হবে, সেটা এখনই ভাবা দরকার। মাতৃমৃত্যুর হার কমলেও এখনো ৩০ শতাংশ মৃত্যু হয়। আমরা দেখেছি, জন্ডিস, হাইপার টেনশন ও ডায়াবেটিসের কারণে অধিকাংশ মৃত্যু হয়। এসব বিষয়ে আমরা কেউই কাজ করি না। প্রসূতিরা হাসপাতালে ভর্তি হলেও বাড়ি ফিরে যান, কারণ বাংলাদেশে এ রকম অবস্থার কোনো চিকিৎসা নেই। এবং তাঁরা বাড়ি গিয়ে অন্যদের বলেন, হাসপাতালে গিয়ে লাভ নেই। গরিব মানুষ হাসপাতালে গিয়ে মানুষের সম্মানটা পর্যন্ত পায় না। তাই চিকিৎসা শিক্ষা, নার্সিং শিক্ষার মধ্যে সেবামানসিকতা আনবার চিন্তা থাকা দরকার। আমরা জানি না হেলথ প্রভাইডারদের সবাইকে কত দিনের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। পোস্টমর্টাম হেমারেজ, অ্যাকলামসিয়ার মোকাবিলা করতে হবে। হেমারেজের বেলায় রক্তদানের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয়পত্রে রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করার ব্যবস্থা হয়নি। প্রয়োজনের সময় রক্তের সহজলভ্যতা থাকতে হবে। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও এসব ব্যাপারে দক্ষ হতে হবে, কারণ তাঁরাই বেশির ভাগ সময় রোগীর হাতের কাছে থাকেন, চিকিৎসকেরা থাকেন না। প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদের সহায়ক-ব্যবস্থা না দিলে এবং তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত না করলে তাদের পক্ষে কার্যকর সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না।
ড. মোহাম্মদ শরিফ
গত জানুয়ারি থেকে আমরা এফডব্লিউসিগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের কাজ শুরু করেছি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা দেওয়ার বিষয়ে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। ৩৭২৫ এফডব্লিউসির মধ্যে এক হাজার ৫০০টি স্বাভাবিক প্রসবের উপযোগী করে উন্নত করা হয়েছে। সেখানে প্রসব কক্ষ, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের তদারকি ও নজরদারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পদ এক হাজার ৪০০ হলেও বর্তমানে মাত্র ৫৫০ জন কর্মরত আছেন। দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা জরুরি।
ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান
কোন বয়স গ্রুপের মায়েরা বেশি মারা যাচ্ছেন, সেটা আলোচনায় আসেনি। বাল্যবিবাহ এবং তরুণী মাতা সমস্যার প্রতি এখন আমাদের জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্যসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমাজকে জড়িত করায় আমরা কাজ করছি এবং সাফল্যও পেয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে, বিশেষ করে দরিদ্র অংশের প্রতি নজর দেওয়া হচ্ছে। কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবকিছু করতে পারবে না, অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের কাছে তথ্য নেই যে কত জন মাতা ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। পোস্টমর্টাম হেমারেজ ও অ্যাকলামসিয়া মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত মাঠকর্মী নেই। অথচ ৩০ শতাংশ মা এই সমস্যায় মারা যান। পোস্টমর্টাম জন্মনিরোধক বিষয়ে আমরা সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগে কাজ করছি। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার অনিয়মিতকরণ বা বন্ধ করে দেওয়াও বিরাট সমস্যা।
তানিয়া সুলতানা
অনেক মানুষ সেবাকেন্দ্রে গিয়ে সেবা নেওয়ার প্রত্যাশাই করেন না। গ্রাম এলাকায় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা অনেক সময় তাঁদের সেবাকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারেও অনেক সময় এ সমস্যা দেখা যায়। যতক্ষণ না তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, ততক্ষণ পরিস্থিতি বদলাবে না। তাই সমাজ সচেতনতা তৈরি করতে হবে, পাশাপাশি সেবাগ্রহণের পরিবেশও সৃষ্টি করতে হবে। আর এটা করতে হবে সমন্বিতভাবে।
আর্থার এরকেন
বাংলাদেশের নারীরা পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের নারীদের মতোই চৌকস ও বাস্তববাদী। বলা হয়, বাংলাদেশের নারীরা নাকি বাড়িতেই প্রসবে আগ্রহী। বাড়িতে অন্তত তাঁরা সেবাযত্নটা পান। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে তাঁরা ভয় পান, কারণ সেখানে অবহেলা হয়। আপনি আজ সেবার মান উন্নত করুন, সবাই তখন সেবাকেন্দ্রে আসবেন। দরিদ্র তরুণী মায়েরা বেশি মারা যান। বিয়ের বয়স বাড়ালে মাতৃমৃত্যু কমে যাবে।
ড. ওবায়দুর রব
প্রতিবছর ৩০ লাখ শিশু জন্মায়। প্রতি জেলায় জন্মে ৬০ হাজার, প্রতি উপজেলায় চয় হাজার, প্রতি ইউনিয়নে ৬০০। বছরে মাতৃমৃত্যু হয় সাত হাজার, নামিয়ে আনতে হবে চার হাজারে। আমাদের তাই লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি নিতে হবে। আমাদের এখনই উচ্চঝুঁকিতে থাকা মায়েদের লক্ষ্য করে কাজ করতে হবে। আমাদের যা সামর্থ্য রয়েছে, তা বণ্টন করে নিতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা খাতে এনজিওগুলো কাজ করছে ৪০ বছর ধরে। এখনো জন্মনিয়ন্ত্রণে তাদের অবদান মাত্র ৫ শতাংশ। তাই সরকারের সেবাব্যবস্থা ও নেটাওয়ার্কও বাড়াতে হবে। সাধারণ বাংলাদেশি নারী সাধারণত ২৫-২৬ বছরের মধ্যেই সন্তান যা নেওয়ার নিয়ে নেন। এর পরের সময়টায় তাঁদের জন্মনিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। কেবল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রসবের দিকে জোর দিলেই চলবে না। মাধ্যমিকে পড়ালেখা করালেই তরুণী মাতৃত্ব কমবে না, শিক্ষার সীমা আরও ওপরে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ হলেই বছরে ১০ লাখ জন্ম কমবে, কমবে মাতৃমৃত্যুও। পাঁচ থেকে ১০টি জেলাকে টার্গেট করে কাজ করলে কয়েক বছরের মধ্যেই সাফল্য পাব।
ড. মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
আমাদের প্রধান সমস্যা হলো, ঝুঁকিপূর্ণ মাকে চিহ্নিত করা। পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রচার বাড়ানো সাফল্যের সূত্র। প্রসূতিদের সেবাকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করতে পারলে মাতৃমৃত্যু কমবে। তাঁদের জানাতে হবে যে সেবাকেন্দ্রে এলে মা এবং সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে সেবার মানও বাড়াতে হবে।
ড. তেকেন্দ্র কার্কি
ডব্লিউএইচও মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণে কাজ করে। আমরা তিন বছরের ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচি চালিয়ে থাকি। আমরা বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করি। এখানে প্রধান সমস্যা হলো মানবসম্পদের ঘাটতি, যেমন অ্যানেসথেসিস্ট এবং চিকিৎসক কম। নেপালে অ্যানেসথেসিস্টদের আড়াই গুণ বেশি বেতন দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা গ্রামে কাজ করতে রাজি থাকেন। নেপালে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা চিকিৎসকদের দুই বছরের জন্য গ্রামে কাজ করতে পাঠানো হয়। নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিলেও তাঁরা অ্যানেসথেসিস্টের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। এসব নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কেবল সরকারই করতে পারে।
ড. এস এম আশরাফুল ইসলাম
এমডিজি ৪ ও ৫-এ যেভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে, তা অর্জন করাই স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এ উদ্দেশ্যে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই আমাদের কৌশল। প্রসূতি ও নবজাতকের জন্য আমাদের আট হাজার সেবাকেন্দ্র রয়েছে। বাস্তবতা হলো, মেয়েদের পক্ষে এসব সেবাকেন্দ্রে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকে না। শিক্ষাই এ সমস্যার উত্তর। আমাদের এখন স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবসম্পদের ঘাটতি মেটানোর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। এখানে গুরুতর লোকবলের অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডারে মাত্র ১৩০ জন অ্যানেসথেসিস্ট রয়েছেন, ৪০০-এর বেশি পদ খালি পড়ে আছে। কেউ অ্যানেসথেসিস্ট হতে চান না। নার্স, এফডব্লিউভি, এফডব্লিউএ, মিডওয়াইফ সবাই গ্রামীণ এলাকায় কাজ করেন, কিন্তু চিকিৎসকেরা সেখানে যেতে চান না। তাই আমরা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য বিষয়ে স্বতন্ত্র ক্যাডার সার্ভিস চালু করছি। আমরা তিন হাজার মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ দেওয়ার আশা রাখি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রুতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অ্যাক্টকে বদলে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইভস কাউন্সিল করেছি। আমরা সরকারি খাতে নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি রেগুলেশনের খসড়া তৈরি করছি, নীতি তৈরি করছি। সিএসবিএ বিষয়েও আমরা কাজ করছি।
যাঁরা মা ও নবজাতকদের সেবা করবেন, তাঁদের অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নার্সদের উপেক্ষা করা হয়েছে। নার্সিং পেশার গুরুত্ব ও মর্যাদা বাড়ানোয় সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নার্স কলেজ ও ইনস্টিটিউটে এখন অভূতপূর্বভাবে ভর্তির আবেদন জমা পড়ে। আমরা সারা দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা জোগান দিচ্ছি। কিন্তু কিছুই হবে না যদি না মানবসম্পদ তৈরি হয়।
দক্ষ কর্মী তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপকেও প্রসারিত করছি। মাঠপর্যায়ে ঘাটতি মেটাতে আমরা এনজিওগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা এখন দুই বছরের নার্স প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর চিন্তা করছি। আমরা স্বাস্থ্য খাতের কর্মশক্তির সংখ্যা, অবয়ব ও কাঠামোর যৌক্তিকীকরণের দিকে যাচ্ছি। মাঠপর্যায়ে সমন্বিত সেবা দেওয়ার দিকেও মনোযোগী হচ্ছি, কমিউনিটিকেও জড়িত করতে চাইছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রসারের উদ্দেশ্যও তা-ই। শহরগুলোর বড় বড় হাসপাতাল স্বাস্থ্য খাতের লোকবলের বড় অংশই নিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য আমরা কিছু পদ তৈরি করছি, যার নিয়োগ হবে আঞ্চলিক ভিত্তিতে। মিডিয়া হলো তৃতীয় চক্ষু, আপনারা আমাদের বুঝতে ও সমস্যা ধরিয়ে দিতে সাহায্য করবেন।
আর্থার এরকেন
মাতৃমৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হলেও মোটেও তা সন্তোষজনক নয়। এখনো বছরে সাত হাজার নারী প্রসবের সময় মারা যান। আগামী তিন-চার বছরে এই হার ২৫-৩০ শতাংশ কমাতে না পারলে ২০১৫ সালের এমডিজি লক্ষ্য পূরণ করা যাবে না। মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হলে সেবাকেন্দ্রগুলোকে কেবল যন্ত্রপাতিসজ্জিত করলেই হবে না, সেগুলোকে মানবসম্পদের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। সেবাকর্মীর বিপুল ঘাটতি রয়ে গেছে বাংলাদেশে।
সিএসবিএ থেকে চিকিৎসক পর্যন্ত বিস্তৃত পরিসরজুড়ে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনে আমাদের যৌথভাবে কাজ করে যেতে হবে। এখানেই রেফারেল সিস্টেমের বিষয়টি জড়িত। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী যদি কোনো সেবাদানে অপারগ হলে তারা রোগীকে উপজেলা পর্যায়ে পাঠাবে। উপজেলা হাসপাতাল না পারলে জেলা পর্যায়ে যাবে। এটা করাই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে অনেক চিকিৎসক, অনেক চিকিৎসা ক্যাডার ও পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ রয়েছে। এই তিনটি উপাদানকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোই আসল কাজ। চিকিৎসা খাতে বছরে আট বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। আমাদের দরকার অঞ্চলভিত্তিক টার্গেট এবং লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ। নাজুক অঞ্চলের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। এসব এলাকার মানুষজনকে সেবাপ্রাপ্তির বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো জানাতে হবে, যাতে তারা দরকারের সময় সঠিক জায়গায় গিয়ে সেবা চাইতে পারে। নারীরা যে অনেক সময় হাসপাতালে যেতে চান না, এটা তাঁদের সমস্যা নয়। এটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যা।
মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণগুলোর দিকেও তাকাতে হবে। হতে পারে এটা গর্ভপাত, অপুষ্টি এবং অন্যান্য কারণ। সেগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। এ ব্যাপারে যথেষ্ট গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে আইনত বিয়ের বয়স ১৮ হলেও আমাদের অর্ধেক নারীর বিয়ে হয় এর থেকেও কম বয়সে। এই বয়সের একটি মেয়ে কার্যত যৌনতা, দাম্পত্য ও পরিবারপরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাই বিয়ের বয়স নিয়ে আইন বাস্তবায়নের পথ বের করতেই হবে। নারী শিক্ষার বেলায় মাধ্যমিক বা সেকেন্ডারি পর্যায় পেরিয়ে আমাদের এখন অধিকতর উচ্চশিক্ষা পর্যায় নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। বাংলাদেশের সব সামাজিক সূচকে অগ্রগতি হলেও বিয়ের বয়স এবং নারী স্বাস্থ্যের বেলায় পরিস্থিতিটা সন্তোষজনক নয়।
জোগান ও চাহিদা দুই দিকেই সচেষ্ট হলে ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়, হাজারের মধ্যে ১৪৩টি মাতৃমৃত্যু পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও তা ইউরোপীয় মানের থেকে ২০ গুণ বেশিই থাকবে। বাংলাদেশের সব নারীরই সন্তান ধারণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি নিরাপদ প্রসব এবং বেঁচে থাকারও অধিকার রয়েছে।
মাহ্ফুজ আনাম
ইউএনএফপিএর সঙ্গে আমাদের অংশীদারির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। আপনাদের সঙ্গে প্রতিটি গোলটেবিল বৈঠকের পরে আমি আরও সজ্ঞান হই এবং আমাদের কর্তব্য সম্পর্কেও সজাগ হই। চমৎকার একটি কথা আছে, কোনো মাকেই যেন জীবন দেওয়ার সময় জীবন হারাতে না হয়। পরিবারে একটা সুন্দর ঘটনা ঘটছে, অথচ মাকে যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে, সেখানে তাঁর জীবনসঙ্গী হয়তো সে বিষয়ে সচেতনই নন? এখানে জেন্ডার প্রশ্নটাও আসে। পুরুষ হিসেবে আমাদের তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে আরও সচেতন হওয়ার আছে। যিনি জীবন দিচ্ছেন, তাঁর জন্য সমাজকে এটা করতেই হবে।
এটা শুনে আমি তো চমকে গিয়েছি যে একমাত্র বিয়ের বয়স ছাড়া আর সব সামাজিক ক্ষেত্রে আমরা সঠিক লক্ষ্যেই এগোচ্ছি। ডেইলি স্টার-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মনোযোগ নিবদ্ধ করা এবং যতটা সম্ভব সামাজিক আন্দোলন তৈরির ব্যাপারে আমরা দায়বদ্ধ। এ বিষয়ে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই এবং আমাদের সহযোগিতারও প্রস্তাব দিচ্ছি। আইনত নারীদের বিয়ের বয়স ১৮ থাকা সত্ত্বেও এখনো ৫০ শতাংশ নারীর বিয়ে হয় ১৬ বছরের নিচে। প্রথমত এটা আইনেরও লঙ্ঘন। আইন ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন না থাকার জন্য, সে কারণে বয়স বাড়িয়ে দেখানো সম্ভব হচ্ছে। আইন প্রয়োগের সমস্যাও কম জরুরি নয়।
ইংরেজি পত্রিকার পাঠক নারীরা নিশ্চয়ই প্রসবের সময় মারা যান কম। কিন্তু সংবাদপত্র হিসেবে আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে পারি। নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক সমাজ এবং সরকারের মধ্যেও আমরা তাগাদা তৈরি করতে পারি। আর্থার বলেছেন, বাংলাদেশে বার্ষিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয় এবং এটা বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম। বিস্ময়কর! এর ৭০ শতাংশই যেখানে সরকার দিয়ে থাকে, সেখানে আমাদের কাজ হচ্ছে এর সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। আপনারা আমাদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন, চাপ দেবেন। এ বিষয়ে আমাদের হূদয় সংবেদনশীল এবং দায়বদ্ধতা অকৃত্রিম। মাতৃস্বাস্থ্যের সুরক্ষার বিষয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা আমাদের পাশে পাবেন। আমাদের সংগ্রাম এবং যাত্রা শেষ পর্যন্ত চলমান থাকুক। সবাইকে ধন্যবাদ।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1404)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
May
(3361)
-
▼
May 28
(89)
- সিসিসি নির্বাচন-দুই প্রার্থীর পথের কাঁটা... by বিশ...
- মত দ্বিমত-উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা গ্রহণযোগ্য ন...
- মত দ্বিমত-উন্মুক্ত পদ্ধতি ছাড়া লাভজনক হবে না by ইউ...
- তরুণদের উদ্যম ও মেধাকে দেশ গঠনে ব্যবহারের পরিকল্পন...
- দাম বাড়ে তৎক্ষণাৎ, কমে ধীরে-বাজেট ও বাজার
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-আমাদের বাদল ভাই by সাইদুল আনাম টুটুল
- বিশ্বকাপ ফুটবল-উত্তেজনা ও উন্মাদনা by মোহাম্মদ কায়...
- গোধূলির ছায়াপথে-চেনা-অচেনা চীন by মুস্তাফা জামান আ...
- ফুটবল সংহতি-আমরা ফুটবল by এদুয়ার্দো গালিয়ানো
- বিশেষ সাক্ষাত্কার-করের ক্ষেত্রে সমতা আনা জরুরি by ...
- সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে-নিয়ন্ত্রণহীন রাসায়নিক ...
- নতুন অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গাফিলতিই দায়ী-গ্যাস-বিদ্...
- চারদিক-চার্চ অব দ্য রিজারেকশন by স্বপন কুমার দাস
- কালের পুরাণ-বর্জনে কী অর্জন হয় by সোহরাব হাসান
- ফলোআপ: একাত্তরের বীর মা এবং... by আনিসুল হক
- বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-নিরাপদে বেড়ে উঠুক প্র...
- বিশ্বকাপ ফুটবল-পুরো আফ্রিকা মহাদেশ প্রস্তুত by কফি...
- ফুটবল-বিশ্বকাপ ও বিশ্বকাপের লক্ষ্য by মোহীত উল আলম
- বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করে ট্রেনগুলো চালু করুন-লোক...
- বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য-ধারাবাহিক বা...
- চারদিক-চলছে খেলা বাড়ির পাশের মাঠে! by নির্লিপ্ত নয়ন
- নিমতলী ট্র্যাজেডি-বার্ন ইউনিটের পোড়া কপাল by মশিউল...
- ধর্ম-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন by মুহাম্ম...
- বিশ্বকাপ ২০১০-ফুটবলের জাদুকরী শক্তি by অ্যারিয়েল ব...
- খোলা চোখে-বিদায় আন্দ্রেই ভজেনসিয়েন্স্কি by হাসান ফ...
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটা বন্ধ করুন-আবা...
- কোনো অজুহাতে নির্বাচন পেছানো যাবে না-স্থানীয় সরকার...
- স্ট্যাটিসটিকস by নারায়ণ দাশশর্মা
- গুণীজন কহেন
- রসকারণ-শুকনা মরিচ লাল কেন? by আব্দুল কাইয়ুম
- কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে এখনই-জলকামানের পানি
- প্রবন্ধ রচনাএকটি সামাজিক উৎসব-অনশন by আলিম আল রাজি
- ইউএনএফপিএ ও দ্য ডেইলি স্টার গোলটেবিল বৈঠক-নিরাপদ ম...
- স্মরণ-হ্যাপীকে কি মনে পড়ে? by শহীদুল ইসলাম
- পাঠকের মন্তব্য: অনলাইন থেকে-মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্র...
- অর্জন-বাংলাদেশের নারী আমিরাকে অভিনন্দন by রাশিদা স...
- দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক-সাংবাদিক ...
- অসাধ্য সাধনের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ-এভারেস্টে দ্ব...
- বায়ুদূষণ ও বজ্রপাত by অলোক কুমার মিস্ত্রী
- এমন সহিংসতা আর নয় by সুলতানা নাজনীন
- অননুমোদিত চিকিৎসা পণ্যের বিজ্ঞাপন by মোঃ রাইসুল ইস...
- হরতাল কেন? by আকাশ চৌধুরী
- নিগমানন্দ, গোপীনাথ বা অন্য কেউ by শেখ রোকন
- নারী নির্যাতন-আমাদের নীরবতা নিপীড়কের পক্ষে যায় by ...
- উভয় সংকটে পাক সেনা নেতৃত্ব by আয়েশা সিদ্দিকা
- কালের আয়নায়-পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসলে সমঝোতা প্...
- নার্স সংকট-স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবন্ধকতা দূর হোক
- তেল-গ্যাস অনুসন্ধান-মাইলফলক উদ্যোগে থাকুক স্বচ্ছতা
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- আদালতে সিআইডি কর্মকর্তার সাক্ষ্য-হামলাকারীদের নিরা...
- জবানবন্দিতে সিরাজুল ইসলাম-সাকা চৌধুরীকে ১৫-১৬ জনকে...
- দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ, আগুন, ভাঙচুর পুলিশসহ আহত অ...
- তেজস্ক্রিয়তার গুজব
- সংসদ কার্যকর করুন
- ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম-তাপসকুল শিরোমণি হজরত আবদুল কাদের...
- বঙ্গবন্ধুর তারুণ্য, তরুণদের বঙ্গবন্ধু by ড. মিল্টন...
- সরল গরল-গোপন সিডি কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না? by মিজা...
- পুলিশের হাতে মার খাওয়ার বর্ণনা দিলেন তিন সাংবাদিক-...
- ফাইনাল-চ্যাম্পিয়ন সাকিবের কলকাতা
- এসি শহীদুলকে রক্ষার চেষ্টা অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত
- বিরোধী দল রাজি হলে মধ্যস্থতা করবেন স্পিকার-নিঃশর্ত...
- জনকের জন্মদিনে by মুস্তাফা নূরউল ইসলাম
- ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ড. এ কে এম রিয়াজুল হাস...
- সাদাকালো-রাজনৈতিক আগ্রাসনে যাহা বুশ তাহা ওবামা by ...
- চরাচর-পরিবেশের ব্যাপারে আমাদের দায়বদ্ধতা by আফতাব ...
- ঢাকা বাঁচলে দেশ বাঁচবে by ইফতেখার আহমেদ টিপু
- ১৮ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি
- বাজেট অধিবেশন শুরু বিরোধী দল ছাড়াই
- কলকাতা চ্যাম্পিয়ন
- তাঁদের ঘুম আর ভাঙেনি-বাহরাইনে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
- ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা-হাওয়া ভবনে তারেক-বাবরের সঙ্...
- বিএনপির কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা আহবান
- ইউরোপীয় গণতন্ত্রের সংকট by অমর্ত্য সেন
- এ মৃত্যুর দায় কার? by এমএম কবীর মামুন
- প্রতিক্রিয়া-আমি সে ধরনের ব্যক্তি নই by সৈয়দ আবুল হ...
- গ্রামীণ চিকিৎসাসেবা-নিয়ম ভেঙে বদলি-পদায়ন কেন? by আ...
- বন্যপ্রাণী আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ-টেকসই সমাধান চাই
- আবার সাংবাদিক নির্যাতন-দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্ত...
- পাঁচ এমপির জামিন-ফখরুলসহ ২৯ জনের বিষয়ে রুল জারি
- রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ হচ্ছে by অভিজ...
- এবার ওয়াসফিয়া নাজরীন-এভারেস্ট চূড়ায় আবার বাংলাদেশে...
- পুলিশের রুদ্ররোষে সাংবাদিক-এটা সভ্য সমাজের চিত্র হ...
- ধূমপানজনিত ক্যান্সার রোধে সচেতনতাই একমাত্র পথ by ম...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা-নির্বাচ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-মুমিন নর-নারীদের জন্য আল্লাহর র...
- স্মরণ-শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন by জাহাঙ্গীর হোসেন
- উপমহাদেশে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা by তারেক শা...
- পুঁজিবাদের অবিচার : একটি উদাহরণ by আবু এন এম ওয়াহিদ
- ভিন্নমত-শেয়ারবাজার : মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর এই দুর্...
-
▼
May 28
(89)
-
▼
May
(3361)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment