Tuesday, December 13, 2011
প্রচ্ছদ রচনা : বাংলাদেশের শিল্পায়নের তিন কাল-ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক!
প্রচ্ছদ রচনা : বাংলাদেশের শিল্পায়নের তিন কাল-ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক!
সব অর্থনৈতিক সম্পর্কই একটা রাজনৈতিক আবহ নির্মাণ করে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিছক অর্থনৈতিক ছিল না কোনোকালেই। বরং বরাবরই তা আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য ঘাটতি তিন বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে। চোরাচালান ইত্যাদির কল্যাণে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাটতি তিন থেকে চার
গুণ বেশি হতে পারে, বিশ্বব্যাংক সূত্রেরও অনুমান এমনটিই। নিছক বাণিজ্যিক লেনদেনের সম্পর্কের বাইরেও যে পানি বণ্টনের নীতিমালা ভারত চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রত্যাশা করে, সেদিক দিয়েও অমিত্রসুলভ আচরণের জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে নিন্দিত। ফারাক্কা, তিস্তার পানি প্রবাহ প্রত্যাহারের পাশাপাশি সদ্য টিপাইমুখে বাঁধ দেওয়ার তোড়জোড় করার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এ ছাড়া আছে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহারের উদ্যোগ। এরই পাশাপাশি প্রায় বিনা শুল্কে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ট্রানজিট (কার্যত করিডর) প্রদানে বাংলাদেশের শাসকদের আগ্রহও জনগণের জন্য উত্তরোত্তর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তে নিয়মিত হামলা, গুলিবর্ষণ, বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা ও আহত করা, নারী নির্যাতন ইত্যাদির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে। ফলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আবেগের ঊধর্ে্ব ভাবাটা প্রায়ই সম্ভব হয় না, ভারতের যৌক্তিক বিরোধিতা এ দেশে বহু ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী ভাবনাকেও উস্কে দেয়। তাই আজ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর জন্য দরকার উভয় দেশের সম্পর্কের পুনঃপুন যৌক্তিক ব্যাখ্যা। সময়ের প্রয়োজনে ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক মিত্রতা-অমিত্রতার বন্ধনকে বিশ্লেষণ করেছেন ফিরোজ আহমেদ
ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর চাকরি ও ভূসম্পত্তিপ্রীতি একটি আলোচিত বিষয়। শিল্পোদ্যোক্তার অনিশ্চিত জীবনের বদলে তারা চাকরির নিশ্চিত নিরাপত্ত বেশি পছন্দ করে, বাড়তি অর্থ জমিতে বিনিয়োগ করে, এমন পর্যবেক্ষণ সাহিত্যিক, সমাজবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে চালু আড্ডারও বিষয়বস্তু। এই অভিযোগ অসত্য নয় পুরোটা, তবে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট না জানা থাকলে আলোচনাটা নেহায়েতই অবিচার হয়ে যায়। শুধু ঐতিহাসিক-সামাজিক কৌতূহলের জন্যই নয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বৈচিত্র্য বোঝার জন্যও এ ভূমিকাটি প্রয়োজন।
ভারতের প্রধান দুটি শিল্পাঞ্চল, যেখানে আধুনিক ভারতীয় পুঁজির জন্ম ও বিকাশ এবং যেখান থেকে তা অন্যত্র ছড়িয়েছে, সে দুটি অঞ্চল হলো বোম্বে (আধুনিক মুম্বাই) এবং মাদ্রাজ উপকূল। অথচ কলকাতা এবং বোম্বে প্রেসিডেন্সি উভয়েই ভারতের আদিতম ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এলাকা হলেও দীর্ঘকাল কলকাতাই ছিল রাজধানী, বাংলা এলাকা ছিল ব্রিটিশদের সব রকম আয়ের প্রধানতম উৎস। তাদের বাণিজ্য কুঠির বেশির ভাগই বাংলায় স্থাপিত ছিল। মোগল আমলের শেষদিকে শুধু নয়, ব্রিটিশদের আগমনের পরও একটা বড় পর্যায় পর্যন্ত ভারতের মধ্যে শুধু নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লগি্নকারক এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যেও বিশিষ্ট বেশ কয়েকজনের স্থায়ী আবাস ছিল বাংলা। অথচ অচিরেই বাংলা অঞ্চল বৃহৎ শিল্পোদ্যক্তাশূন্য হয়ে পড়ল। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, যেখান থেকেই বাংলার জমিদার শ্রেণীরও জন্ম।
১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পেছনে ব্রিটিশ প্রভুদের দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল, এটি লর্ড কর্নওয়ালিস যেমনটি বলেছিলেন, 'আমাদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই ভূস্বামীদের আমাদের সহযোগী করে নিতে হবে। যে ভূস্বামী একটি লাভজনক সম্পত্তি নিশ্চিন্ত মনে ও সুখে-শান্তিতে ভোগ করতে পারে, তার মনে এটা কখনোই পরিবর্তনের ইচ্ছা জাগতেই পারে না।' অর্থাৎ এমন একটি জমিদার শ্রেণী ভারতে সৃষ্টি করা, যারা নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সহযোগী হবে। অপর লক্ষ্যটিও কর্নওয়ালিস এরই ভাষায়_'ভূমিস্বত্বকে নিরাপদ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ দেশিদের হাতে যে বিরাট পুঁজি আছে, সেটাকে তারা অন্য কোনোভাবে বিনিয়োগ করার উপায় না দেখে ভূসম্পত্তি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যয় করবে।'
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে ব্রিটিশদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলই ঘটে। রামদুলাল দে, দ্বারকানাথ ঠাকুর, রামগোপাল ঘোষসহ উনিশ শতকের প্রথম ভাগে যেসব বাঙালি পরিবার শিল্প-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল তাঁদের প্রায় সবাই ব্রিটিশদের প্রতিকূল বাণিজ্যনীতি এবং অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা পাওয়ার বাসনায় এবং বৃহৎ ভূসম্পত্তির নিরাপদ আয়কে অনুকূল মনে করে অচিরেই উদ্যোক্তা থেকে জমিদারে পরিণত হয়।
ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত 'বাঙালি ভদ্রসমাজ' বলে কথিত অংশের ভূসম্পত্তি-নির্ভরতা, বাণিজ্যের বদলে চাকরির পেছনে ছোটার মনোবৃত্তির লিখিত নিন্দা অসংখ্য, মৌখিক নিন্দা তার হাজার গুণ বেশি। কিন্তু এই কেরানিবৃত্তির যে একটা ঐতিহাসিক নির্মাণ আছে, সেটা অধিকাংশ সময়ই দৃষ্টির আড়ালে থাকে। কিন্তু সংক্ষেপে বলতে গেলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি বোম্বে এবং মাদ্রাজের সঙ্গে ভারতের বাকি অংশের এবং রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতার বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে উদ্যোক্তা সৃষ্টি : আইয়ুবী শিল্পমালিকরা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবাদে যে মধ্যবিত্ত জমিদার ও পেশাজীবী শ্রেণী বাংলায় তৈরি হয়, তার একটা বড় বৈশিষ্ট্য ছিল সাম্প্রদায়িকভাবে প্রধানত একক হিন্দু প্রাধান্য। ১৯৪৭ সালের পর বাঙালি মুসলমানদের মাত্র চার জন ছিলেন আইসিএস। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের প্রতি ব্রিটিশদের বদান্যস্বরূপ প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক, আইন পেশায় নিযুক্তদের বড় অংশ এবং অধিকাংশ পেশাজীবী ছিলেন তাঁরাই। বাণিজ্য এবং শিল্প ক্ষেত্রে অবাঙালি মাড়োয়ারি হিন্দুদের ছিল একক প্রাধান্য। দেশবিভাগের সময় পূর্ববঙ্গে কোনো বাঙালি মুসলমানের মালিকানাধীন একটি বৃহদায়তন শিল্পও ছিল না। পাইকারি ব্যবসায় মুসলমানদের ভূমিকার একমাত্র নজির ছিলেন চট্টগ্রামের সওদাগররা। পাটের ব্যাপারী এবং আড়তদারিও ছিল মূলত বাঙালি হিন্দু এবং মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। বিপুল দেশান্তর, দাঙ্গা ও দখলের পরও ১৯৫৯ সালের এক জরিপে দেখা যায়, পূর্ব পাকিস্তানের মোট শিল্প পরিসম্পদের মাত্র ৩ শতাংশ বাঙালি মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে, ৮.৫ শতাংশ বাঙালি হিন্দু এবং ২ শতাংশ মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত মাত্র একজন বাঙালি মুসলমান ব্যবসায় ঢুকেছিলেন, তিনি হলেন এ কে খান। চাকরি ছেড়ে তিনি শ্বশুরের টাকায় একটি কাপড়ের কলসহ কয়েকটি কারখানা স্থাপন করেছিলেন।
পাকিস্তানে আইয়ুব খানের আমলে শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় যে শিল্পপতি শ্রেণী গজিয়ে ওঠে, নানা বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সুবাদে দেখা যায়, তাদের প্রায় সবাই অবাঙালি মুসলমান। পাকিস্তানে শিল্পপতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে এই শ্রেণীটি গড়ে তোলা হয়। তারা বোম্বে ও মাদ্রাজকেন্দ্রিক পুঁজিপতিদের মতো ব্যক্তি উদ্যোগ আর প্রতিযোগিতার ফলাফল নয়। খুব দ্রুতই এই নতুন পুঁজিপতিরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাণিজ্য, মহাজনি ও আড়তদারিতে হিন্দু প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যায়, যাঁরা পাকিস্তানের অনিরাপদ ও সাম্প্রদায়িক পরিবেশে তাঁদের সম্পদ যথাসম্ভব ভারতে স্থানান্তরিত করছিলেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর হিন্দু মালিকানাধীন ৫২টি বৃহৎ শিল্প এবং ২৫০টি বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করা হয়। এভাবে সাবেকি ব্রিটিশ, হিন্দু এবং মাড়োয়ারি আধিপত্যের বদলে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত মুসলমানদের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় বাংলা এলাকায়। এমনকি ১৯৬৯-৭০ সালেও মাত্র ৩৯ জন বাঙালি ১০ লাখ টাকার লাইসেন্সের মালিক ছিলেন। পাকিস্তান আমলে পাটসমেত পূর্ববাংলার অধিকাংশ কাঁচামাল ও নিশ্চিত বাজার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত পশ্চিম পাকিস্তানি শিল্প মালিকদের সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয়, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এস বারানভ এই সুবাদেই পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উপনিবেশ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। কর এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত জনগণের অর্থ ভর্তুকি দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান এবং প্রধানত পাঞ্জাবকেন্দ্রিক পাকিস্তানি বুর্জোয়া শ্রেণী এভাবেই বিকশিত হয়।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৯৫৯ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি শিল্পমালিক শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটে। তাদের জন্ম এবং বিকাশ পুরোপুরিই রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও ঋণে। প্রধানত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থের গাঁটছড়া বাঁধা একটি স্থানীয় বড়লোক শ্রেণী গড়ে তোলার চিন্তা থেকেই এই অংশটিকে জন্ম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে অনুগ্রহবঞ্চিত পেটি বুর্জোয়ারা নিজেদের স্বার্থেই এই শ্রেণী এবং শ্রেণীটির স্রষ্টা তদানীন্তন সরকারের বিরুদ্ধে চলে যায়। সুতরাং শুরু থেকেই এই (বুর্জোয়া) শ্রেণীটির কোনো সামাজিক সমর্থন ছিল না। বুর্জোয়া ব্যবস্থার অভ্যন্তরে এর কোনো নিজস্ব শিকড় ছিল না এবং সরকারের অনুগ্রহ ব্যতিরেকে বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্যের কোনোটাই এদের ছিল না।' তবে বুর্জোয়ারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে ভূমিকা রাখলেও বিক্ষুব্ধ পেটি বুর্জোয়া উকিল, শিক্ষক, পেশাজীবীর স্বার্থ ক্রমেই দানা বাঁধছিল প্রধানত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।
বাংলাদেশ আমল
পাকিস্তান আমলে জন্ম নেওয়া পেটি বুর্জোয়া অংশটি দেশি বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণর্ না হলেও তাদের বঞ্চনার আংশিক প্রতিশোধ নিয়েছিল বটে। ১৯৬৯-৭০ সাল নাগাদ প্রধান ১৬টি শিল্পপতি পরিবারের সর্বমোট সম্পদ ছিল ৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির পাশাপাশি এদের একটা বড় অংশের সম্পদ জাতীয়করণ করা হয়।
'১৯৭২ সালের মার্চে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেসব পাটকল, বস্ত্রকল এবং একটি চিনিকল জাতীয়করণ করা হয়, তার মোট মূল্য দাঁড়িয়েছিল ৯১ কোটি আট লাখ টাকা।' এই জাতীয়করণকৃত পরিসম্পদের ৪২ শতাংশ এসেছিল উপরোক্ত ১৬টি ব্যবসায়ী পরিবারের সম্পদ থেকে, বাকি ৫৮ ভাগ হলো পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি। উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর পুঁজি কিন্তু এই জাতীয়করণের আঘাত থেকে প্রায় সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। 'জাতীয়করণ হওয়ার পর এই পরিবারগুলোর হাতে অবশিষ্ট ছিল ৩১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, অর্থাৎ গড়ে পরিবার প্রতি এক কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।' জাতীয়করণ হওয়ার আগে এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ কে খান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১২টি, আনুমানিক সম্পদ ছিল সাড়ে সাত কোটি টাকা।
বুর্জোয়াদের প্রতি পেটি বুর্জোয়াদের প্রতিশোধের ধরন কী ছিল? পাকিস্তান আমলে ধনী হওয়ার সুযোগটি ছিল অতি সীমিতসংখ্যক বাঙালির জন্য, যাদের সুযোগ ছিল নানা যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বরাদ্দকৃত লাইসেন্স, পারমিট, ঋণ প্রভৃতি সংগ্রহ করার। রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে এবার বাঙালি পেটি বুর্জোয়া শ্রেণী দ্রুত তাদের স্থলাভিষিক্ত হতে চাইল। পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা বাঙালি বড়লোকদের কলকারখানা সরাসরি দখল করাটা সম্ভব ছিল না বটে, সেই কাজটিই তারা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সম্পাদন করল এই সম্পদকে সমাজতন্ত্রের নামে জাতীয়করণ করার মাধ্যমে।
১৯৭২ সাল থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সদ্যোজাত বাংলাদেশকে কিভাবে ভারতের প্রায় অর্থনৈতিক উপনিবেশে পরিণত করা হচ্ছে, তার নিয়মিত বর্ণনা ও প্রতিবাদ জারি রাখলেও ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তারা সংগত কারণেই উদ্বেগ প্রকাশ করছিল। বলা যায়, বাংলাদেশের শৈশবাবস্থাতেই যে নিয়ন্ত্রণমূলক অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে স্থাপিত হয়েছিল, তারই সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিকব্যবস্থাও দেশে জারি হয়েছিল। এই অধীনতামূলক অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্যই প্রয়োজন ছিল স্বৈরতান্ত্রিক, গোপনপ্রবণ এবং জনগণের অংশগ্রহণহীন একটি রাজনৈতিকব্যবস্থা। আওয়ামী লীগ মূলত ছিল উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কহীন খুদে বুর্জোয়াদের রাজনৈতিক দল, স্বাধীনতার পর এরা রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ দিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বৃদ্ধিতে, এর বাইরে ধনী হওয়ার প্রধান উপায় ছিল রিলিফসামগ্রী লুণ্ঠন (দেশের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন রেডক্রসের চেয়ারম্যান), লাইসেন্স-পারমিটের একচেটিয়াকরণ এবং গ্রাম ও মফস্বলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ অপরের সম্পত্তি দখল। কারখানাগুলোতে সরাসরি কলকবজা পাচার থেকে শুরু করে বাড়তি মূল্যে যন্ত্রপাতি-কাঁচামাল সরবরাহ, অস্বাভাবিক কম দরে উৎপাদিত দ্রব্যাদির একচেটিয়া সরবরাহের অধিকার লাভ এবং সেই পণ্যাদি অস্বাভাবিক উচ্চ দরে জনগণের কাছে বিক্রি_এই ছিল সম্পত্তির মালিক হওয়ার সবচেয়ে লাভজনক উপায়।
কারখানা পর্যায়ে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দাম নির্ধারণ করাটা চক্রান্তমূলক ছিল না কি পারমিটধারীদের মুনাফা যথাসম্ভব উচ্চ করার 'নিরীহ ধান্ধা', তা বলা মুশকিল। কিন্তু এর ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। এভাবে কৃষক পর্যায়ে চাষিরা কতটা বঞ্চিত হতো, পরিশেষে দেশবাসী কত টাকায় পণ্যটি ক্রয় করত এবং 'সমাজতান্ত্রিক' বাংলাদেশে মধ্যস্বত্বভোগীরা ধাপে ধাপে জনগণের কতটা অর্থ পকেটস্থ করত, তার একটা ধ্রুপদী উদাহরণ পাওয়া যাবে ১৯৭৪ সালের লবণ কেলেঙ্কারির সময়। ৯ অক্টোবর দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত শ্রমিক লীগের এমপি আবদুল মান্নানের বক্তব্য অনুযায়ী 'লবণের দুষ্প্রাপ্যতা সম্পর্কে সম্ভাব্য সব ধরনের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে মজুদদাররা উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে দুই টাকা মণ দরে লবণ কেনে। মজুদদারদের জন্য অশোধিত লবণের সরকারি দাম ১৫ টাকা, আর শোধিত লবণের দাম ৫৫ টাকা।...অশোধিত লবণের দাম ৪০ টাকা করা হলে বাজারে প্রচুর লবণ পাওয়া যাবে বলে মজুদদারের মত প্রকাশ করছেন।' লবণের দাম এই সময়ে খুচরা পর্যায়ে কত ছিল, সেটা কল্পনাতীত নিশ্চয়ই, এই বক্তব্যের কয়েক মাস আগেই পত্রিকার খবর অনুযায়ী চার আনা সেরের লবণের দাম ৩২ টাকা হয়ে গিয়েছিল। চাষি যেটি মণ প্রতি দুই টাকা দরে বিক্রি করছেন, অতি সামান্য মূল্য সংযোজন শেষে সের প্রতি তা ৩২ টাকায় খুচরা বিক্রি হওয়া থেকেই কতটা অকল্পনীয় হারে লুণ্ঠন সম্পন্ন হয়েছে তা বোঝা যায়। পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব থেকে জানা যায়, মাত্র দুই বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রায় ৪০০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্ধিত এই গোটা অর্থ অল্প কিছু রাজনৈতিক যোগাযোগসম্পন্ন পারমিটধারী ব্যক্তির পকেটস্থ হতো। এর পুরোটাই 'সমাজতান্ত্রিক' বাংলাদেশের নব্য ধনিক শ্রেণীর পকেটস্থ হয়ে কেবল তাদের সম্পদই বৃদ্ধি করেনি, দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রেরও মহাসর্বনাশ করেছিল।
ভারত তার এই বাজার বিস্তারে শুধু যে বাংলাদেশের ভঙ্গুর এবং লুণ্ঠনজীবী শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য পেয়েছিল তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিন্যাসও তাকে মস্কোপন্থী বলে পরিচিত বাংলাদেশের বামপন্থীদের একটা বড় অংশের সহায়তা এনে দিয়েছিল। এটা কৌতূহলোদ্দীপক যে ভারতের শাসকগোষ্ঠী, যারা মূলত বোম্বে এবং মাদ্রাজকেন্দ্রিক পুঁজিপতিদের প্রতিভূ, যে সময়টিতে 'সমাজতান্ত্রিক সংবিধান'-এর বন্দোবস্ত করে এবং নানা সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদেশি পুঁজির হাত দেশি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রবিশেষে রক্ষা এবং নিজেদের শিল্পভিত্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেই একই সময়ে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী 'সমাজতান্ত্রিক সংবিধান'-এর আড়ালে ভারতীয় শিল্প এবং বণিক পুঁজির শিকারে পরিণত করছে দেশটিকে। এ ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বাংলাদেশে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ কোনো বিরাট অর্থনৈতিক স্বার্থ না থাকলেও, এবং সীমিত আকারে হলেও মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ কিছু দান-খয়রাত সদ্য স্বাধীন দেশটিকে করলেও তারা তাদের অনুগত রাজনৈতিক দলগুলোকে শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের সঙ্গে মিত্রতা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতের বন্ধুত্ব সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য প্রয়োজন ছিল, আর সে বন্ধুত্বের দায় মেটানোর জন্য সোভিয়েতপন্থী দলগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক ভূমিকাটি যথাসম্ভব পালন করে। আরো একটি বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার। সেটি হলো, ভারত সাধারণভাবে রুশ বলয়ের বলে পরিচিত হলেও সত্তরের দশকের সেই সময়টিতেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সম্পর্ক যথেষ্টই দৃঢ় ছিল। আজকের মতোই তখনো ভারতকেই এই অঞ্চলের 'মাতব্বর' হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করত। ভারত বিশ্ব-ভূরাজনৈতিক বিভাজনে একদিকে রাশিয়ার পক্ষালম্বন করে সামরিক-অর্থনৈতিক দিক দিয়ে প্রভূত লাভবান হয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সম্পর্ক রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের বেলায় এই উভয় সম্পর্কই তার জন্য লাভজনক হয়েছে।
অবশ্য পুরনো বুর্জোয়াদের কেউ কেউ নতুন আমলে আপস এবং আঁতাতের দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়। '৭৫-এর পর পরই তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার মালিকানা পুনরায় হস্তান্তর করা হয়। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তানিদের রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাও অতি অল্প দরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। অধিকাংশ খাতে এই ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়। ফলে পুরনো ধনিকদের সঙ্গে হঠাৎ বহু নতুন উদ্যোক্তাও 'গজিয়ে' ওঠে, যারা ব্যাংকঋণের সুযোগ রাতারাতি চালু শিল্পের মালিক বনে যায়। কিন্তু উদ্যোক্তা-সংস্কৃতির অভাবে তাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায় এভাবে মালিক বনে যাওয়া 'নিজের কারখানাটির' যন্ত্রপাতি-জমি বিক্রি করে, কারখানা পরিচালনার জন্য প্রাপ্ত মূলধনস্বরূপ ঋণ অন্য খাতে সরিয়ে নিয়ে নানা অজুহাতে কারখানাটিকে অলাভজনক বানানো এবং বন্ধ করে দেওয়া। অধিকাংশ বিরাষ্ট্রীয়কৃত কারখানাই এভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরিত হয়ে বেসরকারি মালিকদের বিত্তবান করেছে। মোটামুটি এই হচ্ছে বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ঐতিহাসিক বেড়ে ওঠা, যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিল্পকারখানা বা ব্যবসার মালিক হওয়ার বদলে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের অর্থ লোপাট করাটাই ধনী হওয়ার সহজতম সড়ক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর আচরণ আপাতদৃষ্টে, তাই মনে হয়, তার নিজেরই স্বার্থের বিরুদ্ধে; একটি সত্যিকারের উদ্যোক্তা শ্রেণী যেমন তার নিজের খনিজ সম্পদ বহুজাতিক কম্পানির হাতে তুলে দিয়ে বহু গুণ বেশি দামে তা কিনতে চাইবে না, নিজেরা বেশি দামে গ্যাস কিনে কম দামে তা কাফকোর মতো প্রতিষ্ঠানকে নামমাত্র ভর্তুকিমূল্যে প্রদান করতে চাইবে না। স্বল্পদামে প্রাপ্য বিদ্যুৎ বহু গুণ বেশি দামে কুইক রেন্টাল নামের খেলনা-প্রায় বিদ্যুৎকারখানা মালিকদের কাছ থেকে কিনতে চাইবে না। কিন্তু এ দেশে এ সবই যে অনায়াসে ঘটছে, তার একটা বড় কারণ সত্যিকারের উদ্যোক্তা আর বিনিয়োগকারীদের তুলনায় এখানে অনেক বেশি দাপট এমন সব ব্যক্তির, যারা বিদেশি বিনিয়োগের কমিশনভোগী। বড়লোকদের প্রধানতম অংশ শিল্পোদ্যোক্তা না হয়ে আমদানি কিংবা রপ্তানিতে নিজেদের ভাগ্য গড়ার কারণে কারখানায় সস্তা জ্বালানি সরবরাহের চেয়ে বিদেশি পণ্য আমদানিতে তাদের তেমন কোনো আপত্তি নেই। এই একই অভিজ্ঞতা কিন্তু পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের বেলায়ও ঘটল, উপনিবেশস্বরূপ পূর্ব পাকিস্তানের বাজারটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর রাতারাতি সেখানকার শিল্পপুঁজিতে ধস নামে।
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক
১৯৭১-এর পর একদিকে যেমন পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা উদ্যোক্তারা অনেকটাই রাজনৈতিক ক্ষমতাহীন ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল, নতুন ক্ষমতাবানরাও শিল্পকারখানা সংশ্লিষ্ট ছিল না বলে অস্তিত্বশীল কারখানাগুলো লুণ্ঠনই তাদের প্রধান আয়ের পথ হয়ে দাঁড়াল। আবার বহির্বিশ্বে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষাবলম্বন করার কারণে পুঁজিবাদী দুনিয়ার প্রধান কেন্দ্রশক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্বস্তিকর সম্পর্ক (যেটা অবশ্য দ্রুতই কেটে যাচ্ছিল) রুশ বলয়ে অবস্থান করা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা গভীর গাঁটছড়া বাঁধানোর কাজটি দারুণভাবে সম্পন্ন করে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের '৭৫ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখা যাক।
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৭৩ ২৩.৩ ১১৪.৮ ৯১.৫ ২০.৩
১৯৭৪ ০.৪ ৮২ ৮১.৬ ০.৫
১৯৭৫ ৫.৩ ৮৩.৩ ৭৮ ৬.৪
১৯৭৬ ৭.১ ৫৮.৫ ৫১.৪ ১২.১
(সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে)
এ হিসাবটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭০ সালের আগ পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল অতি নগণ্য। কিন্তু ১৯৭১ সালের পর পরই ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়। একদিকে বাংলাদেশ থেকে পাট, চামড়াসহ কাঁচামাল রপ্তানি ছিল রপ্তানি ক্ষেত্রের বড় অংশ, আমদানীকৃত অধিকাংশ সামগ্রী ছিল শিল্পপণ্য ও যন্ত্রাংশ। সেই সময়কার কড়া সেন্সরশিপের মধ্যেও মওলানা ভাসানীর সাপ্তাহিক 'হককথা'য় এমন সব দুর্নীতির সংবাদ ছাপা হয়, যেখানে প্রায় অর্ধেক দামে নতুন জার্মান জাহাজ ক্রয় না করে শিপিং করপোরেশনের জন্য ভারতীয় পুরনো জাহাজ ক্রয় করা হয়েছিল। মোট কথা, '৪৭ সালের পর ভারত যেখানে আমদানি-বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো নিজের জন্য নির্মাণ করেছিল, প্রতিবেশী বাংলাদেশের দুর্বল ও লুণ্ঠনজীবী শাসকদের ওপর সে চাপিয়ে দেয় তার উৎপাদনের উদ্বৃত্তটাকে।
'৭৫ সালের পর যে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় আসে, জনগণের কাছ থেকে বৈধতা পাওয়ার জন্য তারা ব্যবহার করে দুটি প্রধান অস্ত্র। একটা ভারত ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতা, অন্যটি ধর্ম। বলে রাখা দরকার, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির লুণ্ঠনের সঙ্গে স্লোগান ছাড়া আর কোনো কিছুতেই সমাজতন্ত্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও এবং সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বলয়ে ভারতের অবস্থান নিজস্ব মালিকগোষ্ঠীকে একটা নিরাপদ, প্রতিযোগিতাহীনতার সুবিধা প্রদান হলেও ভারত এ সব কিছুর মধ্য দিয়ে নিজেদের পুঁজিবাদী বিকাশকেই কিছুটা হলেও গতিশীল করতে সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু '৭৫ সালের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অর্থনীতিতে কিভাবে অনূদিত হলো_ওই একই ছকের পরের দুটো বছরের দিকে তাকালে তা কিছুটা পরিষ্কার হবে :
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৭৭ ০.৬ ৫৫.২ ৫৪.৬ ১.১
১৯৭৮ ২.৩ ৪৩ ৪০.৭ ৫.৪
১৯৭৯ ১২.১ ৪০ ২৭.৯ ৩০.৩
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
পরিষ্কার একটা ছাপ পড়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার। '৭৬ সাল থেকে আমদানি কমেছে, রপ্তানি হঠাৎ বেড়েছে এবং আবার কমেছে। নিজেদের ভারতবিরোধী ভাবমূর্তি প্রমাণ করার বাসনায় শাসকরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, হয়তো প্রতিবেশীর উদ্বেগজনক নড়াচড়ার সময় ভারতেরও প্রয়োজন ছিল বাণিজ্য ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় ভূমিকা গ্রহণ করে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রবল হওয়া অর্থনৈতিকভাবে গ্রাস হওয়ার আশঙ্কা দূর করার কামনায়। এমনকি এই প্রথম রপ্তানি আমদানির ৩০.৩ শতাংশে গিয়ে পেঁৗছায়। দ্রুতই কিন্তু দুই দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাই আবার স্বাভাবিক রূপ নিতে থাকে। পরের বছরগুলোর চিত্র এমন :
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায় রপ্তানি শতকরা হার
১৯৮০ ৮ ৫৫.৬ ৪৭.৬ ১৪.৪
১৯৮১ ২০.২ ৬৪ ৪৩.৮ ৩১.৬
১৯৮২ ২০.৩ ৪৩.৩ ২৩ ৪৬.৯
১৯৮৩ ৬.৯ ৩৭.৯ ৩১ ১৮.২
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
এরপর '৮৪ এবং '৮৫ এ দুটি বছরের অস্বাভাবিক ব্যতিক্রম বাদ দিলে, যে দুই বছর আবার রপ্তানি ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছুঁয়েছিল এবং ভারতে রপ্তানির পরিমাণ আমদানির ৪৫ শতাংশের বেশি ছিল, পরের বছরগুলোতে ক্রমেই রপ্তানি হ্রাস কিংবা একই রকম থাকা কিংবা অতিসামান্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, অন্যদিকে আমদানির তুলনায় রপ্তানির আনুপাতিক হার ক্রমাগত উচ্চতর হারে কমতে থাকে। '৮৮, '৮৯ ও '৯০_এই তিন বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল যথাক্রমে ৮১.৩, ১২০.৭ ও ১৪৮ মিলিয়ন ডলার। এই তিন বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮.৭, ১০.৭ ও ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আশির দশকজুড়ে বাণিজ্য-ঘাটতির এই প্রবল বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকীয় নীতি বাস্তবায়নের অতি উৎসাহের। একই সময়ে ভারত কিন্তু অন্য সব প্রতিবেশীর তুলনায় কম হারে নিজেদের বাজার বিশ্ববাজারের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এরশাদের পতনের পর অন্য সরকারগুলোও শুল্কহার কমিয়ে বাজার উন্মোচনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। ১৯৯১ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটে, ক্ষমতায় আসে ভারতবিরোধী কথাবার্তা বলে মাঠ গরম করা বিএনপি। '৯১ থেকে '৯৫ সাল পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি, আমদানি, ঘাটতি ও শতকরা হারে খতিয়ানগুলো নেওয়া গেলে কিন্তু আগের ধারাবাহিকতাই ফুটে উঠবে :
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৯১ ২৩ ১৮৯ ১৬৬ ১২.২
১৯৯২ ৪ ২৮৪ ২৮০ ১.৪
১৯৯৩ ১৩ ৩৮০ ৩৬৭ ৩.৪
১৯৯৪ ২৪ ৪৬৭ ৪৪৩ ৫.১
১৯৯৫ ৩৬ ৯৯৪ ৯৫৮ ৩.৬
১৯৯৬ ২০ ১১৩৮ ১১১৮ ১.৮
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
ভারতবিরোধী বিএনপির শেষ তিন বছরে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও আমদানি ইতিমধ্যেই লাফিয়ে লাফিয়ে আকাশ ছুঁয়েছে, শেষ বছরের তা প্রথমবারের মতো চার অঙ্কে পেঁৗছে। আমদানির তুলনায় শতকরা রপ্তানির হার ১.৮ শতাংশ।
এরপর আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী আওয়ামী লীগের আমল, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির চিত্রটি কিন্তু রইল অটুট। তারপর আবারও বিএনপি এবং ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য চিত্রে একই ধারবাহিকতা আমরা লক্ষ করব। সাধারণ জ্ঞাতব্য হিসেবে অঙ্কগুলো জরুরি, তাই তুলে দিচ্ছি।
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৯৭ ৩৭.২ ৭৯৫.৬ ৭৫৮.৪ ৪.৭
১৯৯৮ ৫৫ ১১৭৮.৮ ১১২৩.৮ ৪.৭
১৯৯৯ ৪৯.৫ ১০২৩.৮ ৯৭৪.৩ ৪.৮
২০০০ ৫০.১ ৯৪৫.৫ ৮৯৫.৩২ ৫.৩
২০০১ ৬০.৮ ১১৯৫.৫ ১১৩৪.৭ ৫.১
২০০২ ৩৯.৩ ১১৪৫.৮ ১১০৬.৫ ৩.৪
২০০৩ ৫২.৯ ১৪৮৮.৭ ১৪৩৫.৯ ৩.৬
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যানই নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্তক্ষরণ ও ক্রমাগত অপুষ্ট হওয়ার চিত্র।
এবার দেখা যাক, বাংলাদেশের এই ক্রমাগত রপ্তানি ঘাটতির প্রধানতম কারণ বাংলাদেশ-ভারত গড় শুল্কহারের বৈষম্য। ১৯৯২-২০০২ এই ১০ বছরের প্রাপ্ত শুল্কহারের একটা তুলনামূলক চিত্র নিচে উদ্ধৃত হলো :
বছর বাংলাদেশ ভারত
১৯৯১ ৮৮.৬ ৭৯.২
১৯৯২ ৫৭.৫ ৫৩
১৯৯৩ ৪৭.৪ ৪৭.৮
১৯৯৪ ৩৬ ৪৭.৮
১৯৯৫ ২৫.৯ ৪১
১৯৯৬ ২২.৩ ৩৮.৭
১৯৯৭ ২১.৫ ৩৫
১৯৯৮ ২০.৮ ৩০
১৯৯৯ ২০.৩ ৩২.৫
২০০০ ২১.৬ ৩১
২০০১ ১৭.১ ৩০.৯
২০০২ ১৭.১ ৩৩
খুবই কৌতূহলোদ্দীপক চিত্র, সন্দেহ নেই। কেবল '৯১ ও '৯২ সালে বাংলাদেশের গড় শুল্কের হার ভারতের চেয়ে বেশি ছিল, '৯৩ সালে তা ভারতের চেয়ে দশমিক ৪ শতাংশ কম। কিন্তু এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবেই বাংলাদেশের শুল্কহার ভারতের চেয়ে অনেক বেশি হারে কমেছে। এই ধারা 'ভারতবিরোধী' বিএনপির শেষ বছরে অক্ষুণ্ন থেকে পরবর্তী 'মুক্তিযুদ্ধপন্থী' আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী সময়ে আবারও ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও অব্যাহত থাকে।
এ সব কিছুর পরিণতিতে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক যা দাঁড়িয়েছে, পত্রিকান্তরে প্রকাশিত একটি ছক পাঠকদের জন্য সুবিধাজনক হবে বিবেচনায় তুলে দেওয়া হলো।
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কবজা করতে সক্ষম হওয়া ভারতের সঙ্গে '৮০-৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ৯.৭২ শতাংশ, '৮৫-৯০ পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার ছিল ২০.৬৩ শতাংশ। '৯০-৯৫ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৮৭.২৯! এই বৃদ্ধির হারের পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে, কেননা এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানির তুলনায় ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাও খেয়াল করা দরকার যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই ধারাবাহিক অধীনতার বিষয়ে কোনো সরকারই কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কের আর একটি দিক হলো উভয়ের রপ্তানি পণ্যের ধরন। বাংলাদেশ খুব সামান্য পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত পণ্য ভারতে রপ্তানি করে। অধিকাংশই কাঁচাপাট, হিমায়িত মাছ বা রাসায়নিক সারের মতো কাঁচামালনির্ভর পণ্য। প্রায় সব রপ্তানি ৫-১০টি ক্ষেত্রে ঘনীভূত। অন্যদিকে ভারতের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং পরিমাণ উভয়ই বিশাল। কয়েক হাজার ধরনের পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। সাপটা অনুযায়ী পরস্পরের পণ্য অগ্রাধিকার পাওয়ার জন্য পণ্যটির অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয় উৎসজাত হওয়ার আইনটিকে আপাতদৃষ্টে যতই নিরীহ মনে হোক না কেন, ভারতের পক্ষেই সেটি কাজ করেছে, কেননা বিশালাকৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে ভারতেরই সর্বাধিক পরিমাণ কাঁচামাল নিজের শিল্পপণ্যের জন্য সরবরাহে সক্ষম। কিন্তু শুধু কি শুল্ক বাধা? সম্প্রতি ভারত আরো অনেক বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে, এই সংবাদেও সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকরা খুব বেশি আহ্লাদ প্রদর্শন করেননি। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদে কেউ কেউ আনন্দ প্রকাশ করলেও রপ্তানিকারকরা বেশ সতর্কতার সঙ্গেই কথা বলেছেন। এই সর্বশেষ বাজারসুবিধা প্রদান বিষয়ে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বক্তব্য দেওয়া যাবে, কিন্তু এই শুল্ক প্রত্যাহারই যথেষ্ট নয়। যেকোনো রফতানিকারক ভারতে আরো অনেক গুণ বেশি অশুল্ক বাধার সম্মুখীন হন। আমদানি শুল্কের পরও তাদের কাস্টমস ভ্যালুয়েবল ডিউটি, শিক্ষা কর ইত্যাদি সমেত মোট ৩২টির মতো শুল্ক প্রদান করতে হয়।
চীনা কামান!
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের নতুন আতঙ্ক হিসেবে ৯০-এর পর দ্রুত আবির্ভূত হয়েছে সস্তা চীনা পণ্য। রক্ষণ শুল্কের আড়ালে দ্রুত উৎকর্ষ লাভ করা চীনা পণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে শুল্কহার কমানো দরিদ্র দেশগুলোর শিল্পভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে অনায়াসে। ভারতের সঙ্গে যেমন বাংলাদেশের বাণিজ্য-ঘাটতির বড় অংশ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের পরিবহন ব্যয় খুবই কম হওয়া এবং বন্দরে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ ঘটে, চীনের ক্ষেত্রে এর প্রধানতম কারণ পণ্যের সুলভ মূল্য। ভারত থেকে যেমন বিপুল পরিমাণে কৃষিপণ্যও আমদানি করা হয়, চীনের বেলায় তার বড় অংশই শিল্পপণ্য। এগুলোর বড় অংশ দেশেই উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশের বাজারে চীনের এই দখলাভিযান বিষয়ে ভারতীয়রাও যে উদ্বিগ্ন, তার নিদর্শন পাওয়া গেল অর্থনীতির ভারতীয় একজন অধ্যাপকের প্রতিবেদনে। সব হিসাবে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি যখন বিপুল হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন তাঁর হিসাব অনুযায়ী কিন্তু বাংলাদেশে চীনের তুলনায় ভারতের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে! ২০১০ সালে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য-ঘাটতি ৩.৮ বিলিয়ন ডলার। প্রতিরোধমূলক শুল্কব্যবস্থা ছাড়া সে ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের এই যৌথপণ্য আগ্রাসন থেকে দেশি শিল্পকে বাঁচানোর কোনো উপায়ই নেই। অন্যথায় অচিরেই (ইতিমধ্যেই অনেকটা) বাংলাদেশের শিল্পখাতের পরিমান হবে বিশ্ব-উৎপাদনব্যবস্থার ফাঁকফোকরে কিংবা পরিবেশগত বা অন্যান্য কারণে অচ্ছুৎ বলে প্রতিষ্ঠা পাওয়া কিছু খাত, যা আবার সর্বদাই সরকারি নীতি বদলের কারণে নিত্যনতুন হুমকির মুখে থাকবে।
ভারতবিরোধী রাজনীতির সমীকরণ
গত সপ্তাহ দুয়েকের বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় সম্ভবত বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার আচমকা ভারতবিরোধী 'কথার কামান বহর' আকস্মিক নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা। সরকারি দলের বিরুদ্ধে ট্রানজিট, বাণিজ্য-ঘাটতি, রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয় প্রভৃতি প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গগুলোর সত্য-মিথ্যার হিসাব এক, কিন্তু আরো জরুরি হলো, ভারতবিরোধী অনুভূতির তাসটি খালেদা জিয়া দেরি না করেই ব্যবহার করেছেন। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়েও, এসব বিষয়ে প্রায় নীরব ছিলেন তিনি ও তাঁর দল। একই প্রসঙ্গগুলো যদিও আলোচিত হচ্চ্ছ অনেককাল ধরেই।
এটা কোনো কাকতালীয় নয়, যে মূহূর্তে বিএনপি আন্দোলনের মাঠ গরম করা বিরোধী দল হিসেবে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে, একই সঙ্গেই তার অন্যতম বক্তব্যের একটা প্রধান অংশ ভারতকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খাচ্ছে। শাসক দলের লুণ্ঠন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বারবার ঘুরে-ফিরে বলার কারণ নানা ঐতিহাসিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জটিলতার মধ্যে এমন অনেক প্রসঙ্গই আছে, যেগুলো জনগণের স্মৃতি এবং বাস্তব জীবনে জোরালো আবেদন তৈরি করতে পারে। টিপাইমুখ বাঁধ বা ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট প্রশ্নে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের তথ্য গোপন করা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা কিংবা যথাসম্ভব ভারতীয় পক্ষের সাফাই গাওয়ার ভূমিকায় জনগণের আত্মমর্যাদাবোধে যে আঘাত লেগেছে, তার রাজনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। বিশেষ করে ট্রানজিটের প্রশ্নে দেখাই গেল যে শুরুতে বিশাল লাভের কথা বলা হলেও আদতে বাংলাদেশকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে ট্রানজিটের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে, অথচ এখান থেকে লাভ কী হবে বা আদৌ কিছু হবে কি না তা কেউই পরিষ্কার বলছেন না।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে গুরুতর কোনো পার্থক্য শাসক দলগুলো তাই দেখাতে সক্ষম না হলেও (্একই সঙ্গে লুটেরা শাসনব্যবস্থা, বিশ্বপুঁজিবাদের সঙ্গে গাঁটছড়া প্রভৃতি বিষয়ে অভিন্ন হলেও) বাংলাদেশে ভারত প্রশ্নটি নিছক অর্থনীতির সীমানা ছাড়িয়ে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রশ্নে যে গড় চিন্তাগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজে হাজির দেখা যায়, সেগুলো মোটামুটি এমন :
মার্কিন ছায়া> ভারতকে প্রতিরোধ (গড়ে বিএনপি)
মার্কিন ছায়া> পাকিস্তান, মৌলবাদ প্রতিরোধ
(গড়ে আওয়ামী লীগ)
ভারতীয় ছায়া> মার্কিনকে প্রতিরোধ (সাবেক মস্কোপন্থী বামপন্থী কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ, শেষ বিচারে আওয়ামী-বৃত্তে বন্দি)
চীনা+পাকিস্তানি ছায়া> ভারতকে প্রতিরোধ
('পুবমুখী কূটনীতির উদ্গাতা বামপন্থীদের আরেকাংশ, শেষ বিচারে বিএনপি-বৃত্তের সাফাই)
প্রথম দুটি অংশই অধিক শক্তিশালী এবং অধিকতর প্রতিনিধিত্বশীল এবং উভয়েরই এই একটা মজার বৈশিষ্ট্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে এদের কেউ ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ঠেকানোর আওয়াজ দেয়, একই শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে আরেক দল মৌলবাদবিরোধী হুঙ্কার ছাড়ে। এদেরই গৌণ-সহগামী একদল রুশ-ভারত মৈত্রীর হ্যাঙওভারে আক্রান্ত থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর মৌলবাদকে ঠেকাতে ভারতীয় গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার মিথ্যাচারকে আঁকড়ে ধরে, আরেক দল ভারতকে প্রতিরোধ করার স্বপ্ন দেখে চীন আর পাকিস্তানের আশ্রয়ে। স্বাধীন এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে এদের সবাই সংগত কারণেই অক্ষম। পরের দুই দল গৌণ বটে, কিন্তু প্রথম দুই দল জনগণকে দু-দুটো অর্ধসত্য দিয়ে বিভক্ত করে রেখেছে। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের ব্যবসায় আর বিএনপির ভারতবিরোধিতায় তাই জনগণ উপায়হীনভাবেই ছোটাছুটি করে চলেছে, যতক্ষণ না তাদের মধ্য থেকেই দেশীয় উৎপাদিকা শক্তির মুক্তি ঘটানোর কর্মসূচি-সংবলিত নতুন, পাল্টা শক্তির আবির্ভাব ঘটে।
ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর চাকরি ও ভূসম্পত্তিপ্রীতি একটি আলোচিত বিষয়। শিল্পোদ্যোক্তার অনিশ্চিত জীবনের বদলে তারা চাকরির নিশ্চিত নিরাপত্ত বেশি পছন্দ করে, বাড়তি অর্থ জমিতে বিনিয়োগ করে, এমন পর্যবেক্ষণ সাহিত্যিক, সমাজবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে চালু আড্ডারও বিষয়বস্তু। এই অভিযোগ অসত্য নয় পুরোটা, তবে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট না জানা থাকলে আলোচনাটা নেহায়েতই অবিচার হয়ে যায়। শুধু ঐতিহাসিক-সামাজিক কৌতূহলের জন্যই নয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বৈচিত্র্য বোঝার জন্যও এ ভূমিকাটি প্রয়োজন।
ভারতের প্রধান দুটি শিল্পাঞ্চল, যেখানে আধুনিক ভারতীয় পুঁজির জন্ম ও বিকাশ এবং যেখান থেকে তা অন্যত্র ছড়িয়েছে, সে দুটি অঞ্চল হলো বোম্বে (আধুনিক মুম্বাই) এবং মাদ্রাজ উপকূল। অথচ কলকাতা এবং বোম্বে প্রেসিডেন্সি উভয়েই ভারতের আদিতম ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এলাকা হলেও দীর্ঘকাল কলকাতাই ছিল রাজধানী, বাংলা এলাকা ছিল ব্রিটিশদের সব রকম আয়ের প্রধানতম উৎস। তাদের বাণিজ্য কুঠির বেশির ভাগই বাংলায় স্থাপিত ছিল। মোগল আমলের শেষদিকে শুধু নয়, ব্রিটিশদের আগমনের পরও একটা বড় পর্যায় পর্যন্ত ভারতের মধ্যে শুধু নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লগি্নকারক এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যেও বিশিষ্ট বেশ কয়েকজনের স্থায়ী আবাস ছিল বাংলা। অথচ অচিরেই বাংলা অঞ্চল বৃহৎ শিল্পোদ্যক্তাশূন্য হয়ে পড়ল। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, যেখান থেকেই বাংলার জমিদার শ্রেণীরও জন্ম।
১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পেছনে ব্রিটিশ প্রভুদের দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল, এটি লর্ড কর্নওয়ালিস যেমনটি বলেছিলেন, 'আমাদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই ভূস্বামীদের আমাদের সহযোগী করে নিতে হবে। যে ভূস্বামী একটি লাভজনক সম্পত্তি নিশ্চিন্ত মনে ও সুখে-শান্তিতে ভোগ করতে পারে, তার মনে এটা কখনোই পরিবর্তনের ইচ্ছা জাগতেই পারে না।' অর্থাৎ এমন একটি জমিদার শ্রেণী ভারতে সৃষ্টি করা, যারা নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সহযোগী হবে। অপর লক্ষ্যটিও কর্নওয়ালিস এরই ভাষায়_'ভূমিস্বত্বকে নিরাপদ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ দেশিদের হাতে যে বিরাট পুঁজি আছে, সেটাকে তারা অন্য কোনোভাবে বিনিয়োগ করার উপায় না দেখে ভূসম্পত্তি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যয় করবে।'
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে ব্রিটিশদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলই ঘটে। রামদুলাল দে, দ্বারকানাথ ঠাকুর, রামগোপাল ঘোষসহ উনিশ শতকের প্রথম ভাগে যেসব বাঙালি পরিবার শিল্প-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল তাঁদের প্রায় সবাই ব্রিটিশদের প্রতিকূল বাণিজ্যনীতি এবং অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা পাওয়ার বাসনায় এবং বৃহৎ ভূসম্পত্তির নিরাপদ আয়কে অনুকূল মনে করে অচিরেই উদ্যোক্তা থেকে জমিদারে পরিণত হয়।
ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত 'বাঙালি ভদ্রসমাজ' বলে কথিত অংশের ভূসম্পত্তি-নির্ভরতা, বাণিজ্যের বদলে চাকরির পেছনে ছোটার মনোবৃত্তির লিখিত নিন্দা অসংখ্য, মৌখিক নিন্দা তার হাজার গুণ বেশি। কিন্তু এই কেরানিবৃত্তির যে একটা ঐতিহাসিক নির্মাণ আছে, সেটা অধিকাংশ সময়ই দৃষ্টির আড়ালে থাকে। কিন্তু সংক্ষেপে বলতে গেলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি বোম্বে এবং মাদ্রাজের সঙ্গে ভারতের বাকি অংশের এবং রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতার বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে উদ্যোক্তা সৃষ্টি : আইয়ুবী শিল্পমালিকরা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবাদে যে মধ্যবিত্ত জমিদার ও পেশাজীবী শ্রেণী বাংলায় তৈরি হয়, তার একটা বড় বৈশিষ্ট্য ছিল সাম্প্রদায়িকভাবে প্রধানত একক হিন্দু প্রাধান্য। ১৯৪৭ সালের পর বাঙালি মুসলমানদের মাত্র চার জন ছিলেন আইসিএস। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের প্রতি ব্রিটিশদের বদান্যস্বরূপ প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক, আইন পেশায় নিযুক্তদের বড় অংশ এবং অধিকাংশ পেশাজীবী ছিলেন তাঁরাই। বাণিজ্য এবং শিল্প ক্ষেত্রে অবাঙালি মাড়োয়ারি হিন্দুদের ছিল একক প্রাধান্য। দেশবিভাগের সময় পূর্ববঙ্গে কোনো বাঙালি মুসলমানের মালিকানাধীন একটি বৃহদায়তন শিল্পও ছিল না। পাইকারি ব্যবসায় মুসলমানদের ভূমিকার একমাত্র নজির ছিলেন চট্টগ্রামের সওদাগররা। পাটের ব্যাপারী এবং আড়তদারিও ছিল মূলত বাঙালি হিন্দু এবং মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। বিপুল দেশান্তর, দাঙ্গা ও দখলের পরও ১৯৫৯ সালের এক জরিপে দেখা যায়, পূর্ব পাকিস্তানের মোট শিল্প পরিসম্পদের মাত্র ৩ শতাংশ বাঙালি মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে, ৮.৫ শতাংশ বাঙালি হিন্দু এবং ২ শতাংশ মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত মাত্র একজন বাঙালি মুসলমান ব্যবসায় ঢুকেছিলেন, তিনি হলেন এ কে খান। চাকরি ছেড়ে তিনি শ্বশুরের টাকায় একটি কাপড়ের কলসহ কয়েকটি কারখানা স্থাপন করেছিলেন।
পাকিস্তানে আইয়ুব খানের আমলে শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় যে শিল্পপতি শ্রেণী গজিয়ে ওঠে, নানা বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সুবাদে দেখা যায়, তাদের প্রায় সবাই অবাঙালি মুসলমান। পাকিস্তানে শিল্পপতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে এই শ্রেণীটি গড়ে তোলা হয়। তারা বোম্বে ও মাদ্রাজকেন্দ্রিক পুঁজিপতিদের মতো ব্যক্তি উদ্যোগ আর প্রতিযোগিতার ফলাফল নয়। খুব দ্রুতই এই নতুন পুঁজিপতিরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাণিজ্য, মহাজনি ও আড়তদারিতে হিন্দু প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যায়, যাঁরা পাকিস্তানের অনিরাপদ ও সাম্প্রদায়িক পরিবেশে তাঁদের সম্পদ যথাসম্ভব ভারতে স্থানান্তরিত করছিলেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর হিন্দু মালিকানাধীন ৫২টি বৃহৎ শিল্প এবং ২৫০টি বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করা হয়। এভাবে সাবেকি ব্রিটিশ, হিন্দু এবং মাড়োয়ারি আধিপত্যের বদলে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত মুসলমানদের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় বাংলা এলাকায়। এমনকি ১৯৬৯-৭০ সালেও মাত্র ৩৯ জন বাঙালি ১০ লাখ টাকার লাইসেন্সের মালিক ছিলেন। পাকিস্তান আমলে পাটসমেত পূর্ববাংলার অধিকাংশ কাঁচামাল ও নিশ্চিত বাজার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত পশ্চিম পাকিস্তানি শিল্প মালিকদের সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয়, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এস বারানভ এই সুবাদেই পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উপনিবেশ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। কর এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত জনগণের অর্থ ভর্তুকি দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান এবং প্রধানত পাঞ্জাবকেন্দ্রিক পাকিস্তানি বুর্জোয়া শ্রেণী এভাবেই বিকশিত হয়।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৯৫৯ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি শিল্পমালিক শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটে। তাদের জন্ম এবং বিকাশ পুরোপুরিই রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও ঋণে। প্রধানত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থের গাঁটছড়া বাঁধা একটি স্থানীয় বড়লোক শ্রেণী গড়ে তোলার চিন্তা থেকেই এই অংশটিকে জন্ম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে অনুগ্রহবঞ্চিত পেটি বুর্জোয়ারা নিজেদের স্বার্থেই এই শ্রেণী এবং শ্রেণীটির স্রষ্টা তদানীন্তন সরকারের বিরুদ্ধে চলে যায়। সুতরাং শুরু থেকেই এই (বুর্জোয়া) শ্রেণীটির কোনো সামাজিক সমর্থন ছিল না। বুর্জোয়া ব্যবস্থার অভ্যন্তরে এর কোনো নিজস্ব শিকড় ছিল না এবং সরকারের অনুগ্রহ ব্যতিরেকে বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্যের কোনোটাই এদের ছিল না।' তবে বুর্জোয়ারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে ভূমিকা রাখলেও বিক্ষুব্ধ পেটি বুর্জোয়া উকিল, শিক্ষক, পেশাজীবীর স্বার্থ ক্রমেই দানা বাঁধছিল প্রধানত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।
বাংলাদেশ আমল
পাকিস্তান আমলে জন্ম নেওয়া পেটি বুর্জোয়া অংশটি দেশি বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণর্ না হলেও তাদের বঞ্চনার আংশিক প্রতিশোধ নিয়েছিল বটে। ১৯৬৯-৭০ সাল নাগাদ প্রধান ১৬টি শিল্পপতি পরিবারের সর্বমোট সম্পদ ছিল ৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির পাশাপাশি এদের একটা বড় অংশের সম্পদ জাতীয়করণ করা হয়।
'১৯৭২ সালের মার্চে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেসব পাটকল, বস্ত্রকল এবং একটি চিনিকল জাতীয়করণ করা হয়, তার মোট মূল্য দাঁড়িয়েছিল ৯১ কোটি আট লাখ টাকা।' এই জাতীয়করণকৃত পরিসম্পদের ৪২ শতাংশ এসেছিল উপরোক্ত ১৬টি ব্যবসায়ী পরিবারের সম্পদ থেকে, বাকি ৫৮ ভাগ হলো পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি। উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর পুঁজি কিন্তু এই জাতীয়করণের আঘাত থেকে প্রায় সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। 'জাতীয়করণ হওয়ার পর এই পরিবারগুলোর হাতে অবশিষ্ট ছিল ৩১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, অর্থাৎ গড়ে পরিবার প্রতি এক কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।' জাতীয়করণ হওয়ার আগে এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ কে খান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১২টি, আনুমানিক সম্পদ ছিল সাড়ে সাত কোটি টাকা।
বুর্জোয়াদের প্রতি পেটি বুর্জোয়াদের প্রতিশোধের ধরন কী ছিল? পাকিস্তান আমলে ধনী হওয়ার সুযোগটি ছিল অতি সীমিতসংখ্যক বাঙালির জন্য, যাদের সুযোগ ছিল নানা যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বরাদ্দকৃত লাইসেন্স, পারমিট, ঋণ প্রভৃতি সংগ্রহ করার। রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে এবার বাঙালি পেটি বুর্জোয়া শ্রেণী দ্রুত তাদের স্থলাভিষিক্ত হতে চাইল। পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা বাঙালি বড়লোকদের কলকারখানা সরাসরি দখল করাটা সম্ভব ছিল না বটে, সেই কাজটিই তারা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সম্পাদন করল এই সম্পদকে সমাজতন্ত্রের নামে জাতীয়করণ করার মাধ্যমে।
১৯৭২ সাল থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সদ্যোজাত বাংলাদেশকে কিভাবে ভারতের প্রায় অর্থনৈতিক উপনিবেশে পরিণত করা হচ্ছে, তার নিয়মিত বর্ণনা ও প্রতিবাদ জারি রাখলেও ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তারা সংগত কারণেই উদ্বেগ প্রকাশ করছিল। বলা যায়, বাংলাদেশের শৈশবাবস্থাতেই যে নিয়ন্ত্রণমূলক অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে স্থাপিত হয়েছিল, তারই সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিকব্যবস্থাও দেশে জারি হয়েছিল। এই অধীনতামূলক অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্যই প্রয়োজন ছিল স্বৈরতান্ত্রিক, গোপনপ্রবণ এবং জনগণের অংশগ্রহণহীন একটি রাজনৈতিকব্যবস্থা। আওয়ামী লীগ মূলত ছিল উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কহীন খুদে বুর্জোয়াদের রাজনৈতিক দল, স্বাধীনতার পর এরা রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ দিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বৃদ্ধিতে, এর বাইরে ধনী হওয়ার প্রধান উপায় ছিল রিলিফসামগ্রী লুণ্ঠন (দেশের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন রেডক্রসের চেয়ারম্যান), লাইসেন্স-পারমিটের একচেটিয়াকরণ এবং গ্রাম ও মফস্বলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ অপরের সম্পত্তি দখল। কারখানাগুলোতে সরাসরি কলকবজা পাচার থেকে শুরু করে বাড়তি মূল্যে যন্ত্রপাতি-কাঁচামাল সরবরাহ, অস্বাভাবিক কম দরে উৎপাদিত দ্রব্যাদির একচেটিয়া সরবরাহের অধিকার লাভ এবং সেই পণ্যাদি অস্বাভাবিক উচ্চ দরে জনগণের কাছে বিক্রি_এই ছিল সম্পত্তির মালিক হওয়ার সবচেয়ে লাভজনক উপায়।
কারখানা পর্যায়ে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দাম নির্ধারণ করাটা চক্রান্তমূলক ছিল না কি পারমিটধারীদের মুনাফা যথাসম্ভব উচ্চ করার 'নিরীহ ধান্ধা', তা বলা মুশকিল। কিন্তু এর ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। এভাবে কৃষক পর্যায়ে চাষিরা কতটা বঞ্চিত হতো, পরিশেষে দেশবাসী কত টাকায় পণ্যটি ক্রয় করত এবং 'সমাজতান্ত্রিক' বাংলাদেশে মধ্যস্বত্বভোগীরা ধাপে ধাপে জনগণের কতটা অর্থ পকেটস্থ করত, তার একটা ধ্রুপদী উদাহরণ পাওয়া যাবে ১৯৭৪ সালের লবণ কেলেঙ্কারির সময়। ৯ অক্টোবর দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত শ্রমিক লীগের এমপি আবদুল মান্নানের বক্তব্য অনুযায়ী 'লবণের দুষ্প্রাপ্যতা সম্পর্কে সম্ভাব্য সব ধরনের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে মজুদদাররা উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে দুই টাকা মণ দরে লবণ কেনে। মজুদদারদের জন্য অশোধিত লবণের সরকারি দাম ১৫ টাকা, আর শোধিত লবণের দাম ৫৫ টাকা।...অশোধিত লবণের দাম ৪০ টাকা করা হলে বাজারে প্রচুর লবণ পাওয়া যাবে বলে মজুদদারের মত প্রকাশ করছেন।' লবণের দাম এই সময়ে খুচরা পর্যায়ে কত ছিল, সেটা কল্পনাতীত নিশ্চয়ই, এই বক্তব্যের কয়েক মাস আগেই পত্রিকার খবর অনুযায়ী চার আনা সেরের লবণের দাম ৩২ টাকা হয়ে গিয়েছিল। চাষি যেটি মণ প্রতি দুই টাকা দরে বিক্রি করছেন, অতি সামান্য মূল্য সংযোজন শেষে সের প্রতি তা ৩২ টাকায় খুচরা বিক্রি হওয়া থেকেই কতটা অকল্পনীয় হারে লুণ্ঠন সম্পন্ন হয়েছে তা বোঝা যায়। পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব থেকে জানা যায়, মাত্র দুই বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রায় ৪০০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্ধিত এই গোটা অর্থ অল্প কিছু রাজনৈতিক যোগাযোগসম্পন্ন পারমিটধারী ব্যক্তির পকেটস্থ হতো। এর পুরোটাই 'সমাজতান্ত্রিক' বাংলাদেশের নব্য ধনিক শ্রেণীর পকেটস্থ হয়ে কেবল তাদের সম্পদই বৃদ্ধি করেনি, দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রেরও মহাসর্বনাশ করেছিল।
ভারত তার এই বাজার বিস্তারে শুধু যে বাংলাদেশের ভঙ্গুর এবং লুণ্ঠনজীবী শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য পেয়েছিল তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিন্যাসও তাকে মস্কোপন্থী বলে পরিচিত বাংলাদেশের বামপন্থীদের একটা বড় অংশের সহায়তা এনে দিয়েছিল। এটা কৌতূহলোদ্দীপক যে ভারতের শাসকগোষ্ঠী, যারা মূলত বোম্বে এবং মাদ্রাজকেন্দ্রিক পুঁজিপতিদের প্রতিভূ, যে সময়টিতে 'সমাজতান্ত্রিক সংবিধান'-এর বন্দোবস্ত করে এবং নানা সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদেশি পুঁজির হাত দেশি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রবিশেষে রক্ষা এবং নিজেদের শিল্পভিত্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেই একই সময়ে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী 'সমাজতান্ত্রিক সংবিধান'-এর আড়ালে ভারতীয় শিল্প এবং বণিক পুঁজির শিকারে পরিণত করছে দেশটিকে। এ ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বাংলাদেশে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ কোনো বিরাট অর্থনৈতিক স্বার্থ না থাকলেও, এবং সীমিত আকারে হলেও মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ কিছু দান-খয়রাত সদ্য স্বাধীন দেশটিকে করলেও তারা তাদের অনুগত রাজনৈতিক দলগুলোকে শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের সঙ্গে মিত্রতা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতের বন্ধুত্ব সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য প্রয়োজন ছিল, আর সে বন্ধুত্বের দায় মেটানোর জন্য সোভিয়েতপন্থী দলগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক ভূমিকাটি যথাসম্ভব পালন করে। আরো একটি বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার। সেটি হলো, ভারত সাধারণভাবে রুশ বলয়ের বলে পরিচিত হলেও সত্তরের দশকের সেই সময়টিতেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সম্পর্ক যথেষ্টই দৃঢ় ছিল। আজকের মতোই তখনো ভারতকেই এই অঞ্চলের 'মাতব্বর' হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করত। ভারত বিশ্ব-ভূরাজনৈতিক বিভাজনে একদিকে রাশিয়ার পক্ষালম্বন করে সামরিক-অর্থনৈতিক দিক দিয়ে প্রভূত লাভবান হয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সম্পর্ক রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের বেলায় এই উভয় সম্পর্কই তার জন্য লাভজনক হয়েছে।
অবশ্য পুরনো বুর্জোয়াদের কেউ কেউ নতুন আমলে আপস এবং আঁতাতের দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়। '৭৫-এর পর পরই তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার মালিকানা পুনরায় হস্তান্তর করা হয়। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তানিদের রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাও অতি অল্প দরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। অধিকাংশ খাতে এই ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়। ফলে পুরনো ধনিকদের সঙ্গে হঠাৎ বহু নতুন উদ্যোক্তাও 'গজিয়ে' ওঠে, যারা ব্যাংকঋণের সুযোগ রাতারাতি চালু শিল্পের মালিক বনে যায়। কিন্তু উদ্যোক্তা-সংস্কৃতির অভাবে তাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায় এভাবে মালিক বনে যাওয়া 'নিজের কারখানাটির' যন্ত্রপাতি-জমি বিক্রি করে, কারখানা পরিচালনার জন্য প্রাপ্ত মূলধনস্বরূপ ঋণ অন্য খাতে সরিয়ে নিয়ে নানা অজুহাতে কারখানাটিকে অলাভজনক বানানো এবং বন্ধ করে দেওয়া। অধিকাংশ বিরাষ্ট্রীয়কৃত কারখানাই এভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরিত হয়ে বেসরকারি মালিকদের বিত্তবান করেছে। মোটামুটি এই হচ্ছে বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ঐতিহাসিক বেড়ে ওঠা, যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিল্পকারখানা বা ব্যবসার মালিক হওয়ার বদলে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের অর্থ লোপাট করাটাই ধনী হওয়ার সহজতম সড়ক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর আচরণ আপাতদৃষ্টে, তাই মনে হয়, তার নিজেরই স্বার্থের বিরুদ্ধে; একটি সত্যিকারের উদ্যোক্তা শ্রেণী যেমন তার নিজের খনিজ সম্পদ বহুজাতিক কম্পানির হাতে তুলে দিয়ে বহু গুণ বেশি দামে তা কিনতে চাইবে না, নিজেরা বেশি দামে গ্যাস কিনে কম দামে তা কাফকোর মতো প্রতিষ্ঠানকে নামমাত্র ভর্তুকিমূল্যে প্রদান করতে চাইবে না। স্বল্পদামে প্রাপ্য বিদ্যুৎ বহু গুণ বেশি দামে কুইক রেন্টাল নামের খেলনা-প্রায় বিদ্যুৎকারখানা মালিকদের কাছ থেকে কিনতে চাইবে না। কিন্তু এ দেশে এ সবই যে অনায়াসে ঘটছে, তার একটা বড় কারণ সত্যিকারের উদ্যোক্তা আর বিনিয়োগকারীদের তুলনায় এখানে অনেক বেশি দাপট এমন সব ব্যক্তির, যারা বিদেশি বিনিয়োগের কমিশনভোগী। বড়লোকদের প্রধানতম অংশ শিল্পোদ্যোক্তা না হয়ে আমদানি কিংবা রপ্তানিতে নিজেদের ভাগ্য গড়ার কারণে কারখানায় সস্তা জ্বালানি সরবরাহের চেয়ে বিদেশি পণ্য আমদানিতে তাদের তেমন কোনো আপত্তি নেই। এই একই অভিজ্ঞতা কিন্তু পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের বেলায়ও ঘটল, উপনিবেশস্বরূপ পূর্ব পাকিস্তানের বাজারটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর রাতারাতি সেখানকার শিল্পপুঁজিতে ধস নামে।
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক
১৯৭১-এর পর একদিকে যেমন পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা উদ্যোক্তারা অনেকটাই রাজনৈতিক ক্ষমতাহীন ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল, নতুন ক্ষমতাবানরাও শিল্পকারখানা সংশ্লিষ্ট ছিল না বলে অস্তিত্বশীল কারখানাগুলো লুণ্ঠনই তাদের প্রধান আয়ের পথ হয়ে দাঁড়াল। আবার বহির্বিশ্বে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষাবলম্বন করার কারণে পুঁজিবাদী দুনিয়ার প্রধান কেন্দ্রশক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্বস্তিকর সম্পর্ক (যেটা অবশ্য দ্রুতই কেটে যাচ্ছিল) রুশ বলয়ে অবস্থান করা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা গভীর গাঁটছড়া বাঁধানোর কাজটি দারুণভাবে সম্পন্ন করে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের '৭৫ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখা যাক।
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৭৩ ২৩.৩ ১১৪.৮ ৯১.৫ ২০.৩
১৯৭৪ ০.৪ ৮২ ৮১.৬ ০.৫
১৯৭৫ ৫.৩ ৮৩.৩ ৭৮ ৬.৪
১৯৭৬ ৭.১ ৫৮.৫ ৫১.৪ ১২.১
(সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে)
এ হিসাবটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭০ সালের আগ পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল অতি নগণ্য। কিন্তু ১৯৭১ সালের পর পরই ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়। একদিকে বাংলাদেশ থেকে পাট, চামড়াসহ কাঁচামাল রপ্তানি ছিল রপ্তানি ক্ষেত্রের বড় অংশ, আমদানীকৃত অধিকাংশ সামগ্রী ছিল শিল্পপণ্য ও যন্ত্রাংশ। সেই সময়কার কড়া সেন্সরশিপের মধ্যেও মওলানা ভাসানীর সাপ্তাহিক 'হককথা'য় এমন সব দুর্নীতির সংবাদ ছাপা হয়, যেখানে প্রায় অর্ধেক দামে নতুন জার্মান জাহাজ ক্রয় না করে শিপিং করপোরেশনের জন্য ভারতীয় পুরনো জাহাজ ক্রয় করা হয়েছিল। মোট কথা, '৪৭ সালের পর ভারত যেখানে আমদানি-বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো নিজের জন্য নির্মাণ করেছিল, প্রতিবেশী বাংলাদেশের দুর্বল ও লুণ্ঠনজীবী শাসকদের ওপর সে চাপিয়ে দেয় তার উৎপাদনের উদ্বৃত্তটাকে।
'৭৫ সালের পর যে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় আসে, জনগণের কাছ থেকে বৈধতা পাওয়ার জন্য তারা ব্যবহার করে দুটি প্রধান অস্ত্র। একটা ভারত ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতা, অন্যটি ধর্ম। বলে রাখা দরকার, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির লুণ্ঠনের সঙ্গে স্লোগান ছাড়া আর কোনো কিছুতেই সমাজতন্ত্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও এবং সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বলয়ে ভারতের অবস্থান নিজস্ব মালিকগোষ্ঠীকে একটা নিরাপদ, প্রতিযোগিতাহীনতার সুবিধা প্রদান হলেও ভারত এ সব কিছুর মধ্য দিয়ে নিজেদের পুঁজিবাদী বিকাশকেই কিছুটা হলেও গতিশীল করতে সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু '৭৫ সালের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অর্থনীতিতে কিভাবে অনূদিত হলো_ওই একই ছকের পরের দুটো বছরের দিকে তাকালে তা কিছুটা পরিষ্কার হবে :
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৭৭ ০.৬ ৫৫.২ ৫৪.৬ ১.১
১৯৭৮ ২.৩ ৪৩ ৪০.৭ ৫.৪
১৯৭৯ ১২.১ ৪০ ২৭.৯ ৩০.৩
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
পরিষ্কার একটা ছাপ পড়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার। '৭৬ সাল থেকে আমদানি কমেছে, রপ্তানি হঠাৎ বেড়েছে এবং আবার কমেছে। নিজেদের ভারতবিরোধী ভাবমূর্তি প্রমাণ করার বাসনায় শাসকরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, হয়তো প্রতিবেশীর উদ্বেগজনক নড়াচড়ার সময় ভারতেরও প্রয়োজন ছিল বাণিজ্য ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় ভূমিকা গ্রহণ করে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রবল হওয়া অর্থনৈতিকভাবে গ্রাস হওয়ার আশঙ্কা দূর করার কামনায়। এমনকি এই প্রথম রপ্তানি আমদানির ৩০.৩ শতাংশে গিয়ে পেঁৗছায়। দ্রুতই কিন্তু দুই দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাই আবার স্বাভাবিক রূপ নিতে থাকে। পরের বছরগুলোর চিত্র এমন :
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায় রপ্তানি শতকরা হার
১৯৮০ ৮ ৫৫.৬ ৪৭.৬ ১৪.৪
১৯৮১ ২০.২ ৬৪ ৪৩.৮ ৩১.৬
১৯৮২ ২০.৩ ৪৩.৩ ২৩ ৪৬.৯
১৯৮৩ ৬.৯ ৩৭.৯ ৩১ ১৮.২
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
এরপর '৮৪ এবং '৮৫ এ দুটি বছরের অস্বাভাবিক ব্যতিক্রম বাদ দিলে, যে দুই বছর আবার রপ্তানি ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছুঁয়েছিল এবং ভারতে রপ্তানির পরিমাণ আমদানির ৪৫ শতাংশের বেশি ছিল, পরের বছরগুলোতে ক্রমেই রপ্তানি হ্রাস কিংবা একই রকম থাকা কিংবা অতিসামান্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, অন্যদিকে আমদানির তুলনায় রপ্তানির আনুপাতিক হার ক্রমাগত উচ্চতর হারে কমতে থাকে। '৮৮, '৮৯ ও '৯০_এই তিন বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল যথাক্রমে ৮১.৩, ১২০.৭ ও ১৪৮ মিলিয়ন ডলার। এই তিন বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮.৭, ১০.৭ ও ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আশির দশকজুড়ে বাণিজ্য-ঘাটতির এই প্রবল বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকীয় নীতি বাস্তবায়নের অতি উৎসাহের। একই সময়ে ভারত কিন্তু অন্য সব প্রতিবেশীর তুলনায় কম হারে নিজেদের বাজার বিশ্ববাজারের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এরশাদের পতনের পর অন্য সরকারগুলোও শুল্কহার কমিয়ে বাজার উন্মোচনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। ১৯৯১ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটে, ক্ষমতায় আসে ভারতবিরোধী কথাবার্তা বলে মাঠ গরম করা বিএনপি। '৯১ থেকে '৯৫ সাল পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি, আমদানি, ঘাটতি ও শতকরা হারে খতিয়ানগুলো নেওয়া গেলে কিন্তু আগের ধারাবাহিকতাই ফুটে উঠবে :
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৯১ ২৩ ১৮৯ ১৬৬ ১২.২
১৯৯২ ৪ ২৮৪ ২৮০ ১.৪
১৯৯৩ ১৩ ৩৮০ ৩৬৭ ৩.৪
১৯৯৪ ২৪ ৪৬৭ ৪৪৩ ৫.১
১৯৯৫ ৩৬ ৯৯৪ ৯৫৮ ৩.৬
১৯৯৬ ২০ ১১৩৮ ১১১৮ ১.৮
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
ভারতবিরোধী বিএনপির শেষ তিন বছরে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও আমদানি ইতিমধ্যেই লাফিয়ে লাফিয়ে আকাশ ছুঁয়েছে, শেষ বছরের তা প্রথমবারের মতো চার অঙ্কে পেঁৗছে। আমদানির তুলনায় শতকরা রপ্তানির হার ১.৮ শতাংশ।
এরপর আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী আওয়ামী লীগের আমল, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির চিত্রটি কিন্তু রইল অটুট। তারপর আবারও বিএনপি এবং ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য চিত্রে একই ধারবাহিকতা আমরা লক্ষ করব। সাধারণ জ্ঞাতব্য হিসেবে অঙ্কগুলো জরুরি, তাই তুলে দিচ্ছি।
বছর রপ্তানি আমদানি বাণিজ্য-ঘাটতি আমদানির তুলনায়
রপ্তানি শতকরা হার
১৯৯৭ ৩৭.২ ৭৯৫.৬ ৭৫৮.৪ ৪.৭
১৯৯৮ ৫৫ ১১৭৮.৮ ১১২৩.৮ ৪.৭
১৯৯৯ ৪৯.৫ ১০২৩.৮ ৯৭৪.৩ ৪.৮
২০০০ ৫০.১ ৯৪৫.৫ ৮৯৫.৩২ ৫.৩
২০০১ ৬০.৮ ১১৯৫.৫ ১১৩৪.৭ ৫.১
২০০২ ৩৯.৩ ১১৪৫.৮ ১১০৬.৫ ৩.৪
২০০৩ ৫২.৯ ১৪৮৮.৭ ১৪৩৫.৯ ৩.৬
সব হিসাব মিলিয়ন মার্কিন ডলারে
এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যানই নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্তক্ষরণ ও ক্রমাগত অপুষ্ট হওয়ার চিত্র।
এবার দেখা যাক, বাংলাদেশের এই ক্রমাগত রপ্তানি ঘাটতির প্রধানতম কারণ বাংলাদেশ-ভারত গড় শুল্কহারের বৈষম্য। ১৯৯২-২০০২ এই ১০ বছরের প্রাপ্ত শুল্কহারের একটা তুলনামূলক চিত্র নিচে উদ্ধৃত হলো :
বছর বাংলাদেশ ভারত
১৯৯১ ৮৮.৬ ৭৯.২
১৯৯২ ৫৭.৫ ৫৩
১৯৯৩ ৪৭.৪ ৪৭.৮
১৯৯৪ ৩৬ ৪৭.৮
১৯৯৫ ২৫.৯ ৪১
১৯৯৬ ২২.৩ ৩৮.৭
১৯৯৭ ২১.৫ ৩৫
১৯৯৮ ২০.৮ ৩০
১৯৯৯ ২০.৩ ৩২.৫
২০০০ ২১.৬ ৩১
২০০১ ১৭.১ ৩০.৯
২০০২ ১৭.১ ৩৩
খুবই কৌতূহলোদ্দীপক চিত্র, সন্দেহ নেই। কেবল '৯১ ও '৯২ সালে বাংলাদেশের গড় শুল্কের হার ভারতের চেয়ে বেশি ছিল, '৯৩ সালে তা ভারতের চেয়ে দশমিক ৪ শতাংশ কম। কিন্তু এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবেই বাংলাদেশের শুল্কহার ভারতের চেয়ে অনেক বেশি হারে কমেছে। এই ধারা 'ভারতবিরোধী' বিএনপির শেষ বছরে অক্ষুণ্ন থেকে পরবর্তী 'মুক্তিযুদ্ধপন্থী' আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী সময়ে আবারও ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও অব্যাহত থাকে।
এ সব কিছুর পরিণতিতে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক যা দাঁড়িয়েছে, পত্রিকান্তরে প্রকাশিত একটি ছক পাঠকদের জন্য সুবিধাজনক হবে বিবেচনায় তুলে দেওয়া হলো।
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কবজা করতে সক্ষম হওয়া ভারতের সঙ্গে '৮০-৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ৯.৭২ শতাংশ, '৮৫-৯০ পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার ছিল ২০.৬৩ শতাংশ। '৯০-৯৫ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৮৭.২৯! এই বৃদ্ধির হারের পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে, কেননা এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানির তুলনায় ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাও খেয়াল করা দরকার যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই ধারাবাহিক অধীনতার বিষয়ে কোনো সরকারই কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কের আর একটি দিক হলো উভয়ের রপ্তানি পণ্যের ধরন। বাংলাদেশ খুব সামান্য পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত পণ্য ভারতে রপ্তানি করে। অধিকাংশই কাঁচাপাট, হিমায়িত মাছ বা রাসায়নিক সারের মতো কাঁচামালনির্ভর পণ্য। প্রায় সব রপ্তানি ৫-১০টি ক্ষেত্রে ঘনীভূত। অন্যদিকে ভারতের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং পরিমাণ উভয়ই বিশাল। কয়েক হাজার ধরনের পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। সাপটা অনুযায়ী পরস্পরের পণ্য অগ্রাধিকার পাওয়ার জন্য পণ্যটির অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয় উৎসজাত হওয়ার আইনটিকে আপাতদৃষ্টে যতই নিরীহ মনে হোক না কেন, ভারতের পক্ষেই সেটি কাজ করেছে, কেননা বিশালাকৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে ভারতেরই সর্বাধিক পরিমাণ কাঁচামাল নিজের শিল্পপণ্যের জন্য সরবরাহে সক্ষম। কিন্তু শুধু কি শুল্ক বাধা? সম্প্রতি ভারত আরো অনেক বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে, এই সংবাদেও সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকরা খুব বেশি আহ্লাদ প্রদর্শন করেননি। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদে কেউ কেউ আনন্দ প্রকাশ করলেও রপ্তানিকারকরা বেশ সতর্কতার সঙ্গেই কথা বলেছেন। এই সর্বশেষ বাজারসুবিধা প্রদান বিষয়ে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বক্তব্য দেওয়া যাবে, কিন্তু এই শুল্ক প্রত্যাহারই যথেষ্ট নয়। যেকোনো রফতানিকারক ভারতে আরো অনেক গুণ বেশি অশুল্ক বাধার সম্মুখীন হন। আমদানি শুল্কের পরও তাদের কাস্টমস ভ্যালুয়েবল ডিউটি, শিক্ষা কর ইত্যাদি সমেত মোট ৩২টির মতো শুল্ক প্রদান করতে হয়।
চীনা কামান!
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের নতুন আতঙ্ক হিসেবে ৯০-এর পর দ্রুত আবির্ভূত হয়েছে সস্তা চীনা পণ্য। রক্ষণ শুল্কের আড়ালে দ্রুত উৎকর্ষ লাভ করা চীনা পণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে শুল্কহার কমানো দরিদ্র দেশগুলোর শিল্পভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে অনায়াসে। ভারতের সঙ্গে যেমন বাংলাদেশের বাণিজ্য-ঘাটতির বড় অংশ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের পরিবহন ব্যয় খুবই কম হওয়া এবং বন্দরে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ ঘটে, চীনের ক্ষেত্রে এর প্রধানতম কারণ পণ্যের সুলভ মূল্য। ভারত থেকে যেমন বিপুল পরিমাণে কৃষিপণ্যও আমদানি করা হয়, চীনের বেলায় তার বড় অংশই শিল্পপণ্য। এগুলোর বড় অংশ দেশেই উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশের বাজারে চীনের এই দখলাভিযান বিষয়ে ভারতীয়রাও যে উদ্বিগ্ন, তার নিদর্শন পাওয়া গেল অর্থনীতির ভারতীয় একজন অধ্যাপকের প্রতিবেদনে। সব হিসাবে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি যখন বিপুল হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন তাঁর হিসাব অনুযায়ী কিন্তু বাংলাদেশে চীনের তুলনায় ভারতের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে! ২০১০ সালে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য-ঘাটতি ৩.৮ বিলিয়ন ডলার। প্রতিরোধমূলক শুল্কব্যবস্থা ছাড়া সে ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের এই যৌথপণ্য আগ্রাসন থেকে দেশি শিল্পকে বাঁচানোর কোনো উপায়ই নেই। অন্যথায় অচিরেই (ইতিমধ্যেই অনেকটা) বাংলাদেশের শিল্পখাতের পরিমান হবে বিশ্ব-উৎপাদনব্যবস্থার ফাঁকফোকরে কিংবা পরিবেশগত বা অন্যান্য কারণে অচ্ছুৎ বলে প্রতিষ্ঠা পাওয়া কিছু খাত, যা আবার সর্বদাই সরকারি নীতি বদলের কারণে নিত্যনতুন হুমকির মুখে থাকবে।
ভারতবিরোধী রাজনীতির সমীকরণ
গত সপ্তাহ দুয়েকের বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় সম্ভবত বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার আচমকা ভারতবিরোধী 'কথার কামান বহর' আকস্মিক নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা। সরকারি দলের বিরুদ্ধে ট্রানজিট, বাণিজ্য-ঘাটতি, রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয় প্রভৃতি প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গগুলোর সত্য-মিথ্যার হিসাব এক, কিন্তু আরো জরুরি হলো, ভারতবিরোধী অনুভূতির তাসটি খালেদা জিয়া দেরি না করেই ব্যবহার করেছেন। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়েও, এসব বিষয়ে প্রায় নীরব ছিলেন তিনি ও তাঁর দল। একই প্রসঙ্গগুলো যদিও আলোচিত হচ্চ্ছ অনেককাল ধরেই।
এটা কোনো কাকতালীয় নয়, যে মূহূর্তে বিএনপি আন্দোলনের মাঠ গরম করা বিরোধী দল হিসেবে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে, একই সঙ্গেই তার অন্যতম বক্তব্যের একটা প্রধান অংশ ভারতকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খাচ্ছে। শাসক দলের লুণ্ঠন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বারবার ঘুরে-ফিরে বলার কারণ নানা ঐতিহাসিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জটিলতার মধ্যে এমন অনেক প্রসঙ্গই আছে, যেগুলো জনগণের স্মৃতি এবং বাস্তব জীবনে জোরালো আবেদন তৈরি করতে পারে। টিপাইমুখ বাঁধ বা ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট প্রশ্নে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের তথ্য গোপন করা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা কিংবা যথাসম্ভব ভারতীয় পক্ষের সাফাই গাওয়ার ভূমিকায় জনগণের আত্মমর্যাদাবোধে যে আঘাত লেগেছে, তার রাজনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। বিশেষ করে ট্রানজিটের প্রশ্নে দেখাই গেল যে শুরুতে বিশাল লাভের কথা বলা হলেও আদতে বাংলাদেশকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে ট্রানজিটের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে, অথচ এখান থেকে লাভ কী হবে বা আদৌ কিছু হবে কি না তা কেউই পরিষ্কার বলছেন না।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে গুরুতর কোনো পার্থক্য শাসক দলগুলো তাই দেখাতে সক্ষম না হলেও (্একই সঙ্গে লুটেরা শাসনব্যবস্থা, বিশ্বপুঁজিবাদের সঙ্গে গাঁটছড়া প্রভৃতি বিষয়ে অভিন্ন হলেও) বাংলাদেশে ভারত প্রশ্নটি নিছক অর্থনীতির সীমানা ছাড়িয়ে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রশ্নে যে গড় চিন্তাগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজে হাজির দেখা যায়, সেগুলো মোটামুটি এমন :
মার্কিন ছায়া> ভারতকে প্রতিরোধ (গড়ে বিএনপি)
মার্কিন ছায়া> পাকিস্তান, মৌলবাদ প্রতিরোধ
(গড়ে আওয়ামী লীগ)
ভারতীয় ছায়া> মার্কিনকে প্রতিরোধ (সাবেক মস্কোপন্থী বামপন্থী কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ, শেষ বিচারে আওয়ামী-বৃত্তে বন্দি)
চীনা+পাকিস্তানি ছায়া> ভারতকে প্রতিরোধ
('পুবমুখী কূটনীতির উদ্গাতা বামপন্থীদের আরেকাংশ, শেষ বিচারে বিএনপি-বৃত্তের সাফাই)
প্রথম দুটি অংশই অধিক শক্তিশালী এবং অধিকতর প্রতিনিধিত্বশীল এবং উভয়েরই এই একটা মজার বৈশিষ্ট্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে এদের কেউ ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ঠেকানোর আওয়াজ দেয়, একই শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে আরেক দল মৌলবাদবিরোধী হুঙ্কার ছাড়ে। এদেরই গৌণ-সহগামী একদল রুশ-ভারত মৈত্রীর হ্যাঙওভারে আক্রান্ত থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর মৌলবাদকে ঠেকাতে ভারতীয় গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার মিথ্যাচারকে আঁকড়ে ধরে, আরেক দল ভারতকে প্রতিরোধ করার স্বপ্ন দেখে চীন আর পাকিস্তানের আশ্রয়ে। স্বাধীন এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে এদের সবাই সংগত কারণেই অক্ষম। পরের দুই দল গৌণ বটে, কিন্তু প্রথম দুই দল জনগণকে দু-দুটো অর্ধসত্য দিয়ে বিভক্ত করে রেখেছে। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের ব্যবসায় আর বিএনপির ভারতবিরোধিতায় তাই জনগণ উপায়হীনভাবেই ছোটাছুটি করে চলেছে, যতক্ষণ না তাদের মধ্য থেকেই দেশীয় উৎপাদিকা শক্তির মুক্তি ঘটানোর কর্মসূচি-সংবলিত নতুন, পাল্টা শক্তির আবির্ভাব ঘটে।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1442)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
-
▼
2011
(13932)
-
▼
December
(2900)
-
▼
Dec 13
(102)
- কদমতলীতে ছুরিকাঘাতে যুবক হত্যা-মিরপুরে প্রবাসীর ৪ ...
- আয়ের পথ হারাচ্ছেন তুরাগের জেলেরা-ভয়াবহ দূষণ
- শেষ অ্যাকশন ইনিংস by অনন্য রেজা করিম
- ওস্তাদের পথ ধরে শিষ্য
- পুরোটাই সাজানো by সৈয়দ মাহ্মুদ জামান
- ঘরের ভেতর প্রকৃতি
- শাড়িতে ফলসের ব্যবহার
- মেদ কমাতে করণী
- লাল-সবুজের ক্যানভাস
- কিংবদন্তির ডাকপিয়ন
- সিনেমা হলে নাটকের কাজ করেছি
- জাতিসংঘে বিরল ভালোবাসা
- কর আদায়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ
- পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ সংকট কেটে যাচ্ছে-সম...
- ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের চাপ কমছে by ওবায়দুল্লাহ রনি
- নেটিজেন-প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী বাংলাদে...
- অনুবাদ-ওয়াল স্ট্রিটে অরুন্ধতীর বক্তৃতা...
- জাপানে ছুটির মেজাজে মেসিরা
- ২৬ বছর পর কিউইদের নাটকীয় জয়
- যত বেশি খেলা, তত বেশি ভুল! by সারোয়ার সুমন
- অভিষেকেই উজ্জ্বল নাজিমউদ্দিন by রুবেল খান
- বিশ্লেষণ-'হীরক রাজার দেশ'-এর কথা ও ৯/১১ by শামস্ ...
- সাম্প্রতিক : সরকারি ও বিরোধী দলের ব্যর্থতা-সাধারণ ...
- আন্তর্জাতিক : মিয়ানমার-গণতন্ত্রের পথে বন্ধুর অভাব...
- টিপাইমুখ বাঁধ!-আপন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজের অধ...
- ধর্মঘট-সংঘর্ষের মধ্যেই সিরিয়ায় পৌর নির্বাচন-দু'দি...
- রাহুলকে আন্নার খোঁচা ক্ষিপ্ত কংগ্রেস
- 'পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়...
- সু চির জীবনের অজানা অধ্যায় by রাইসুল ইসলাম
- সদ্য প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক, সাহিত্যিক কবীর চৌধুরীর ...
- সাধারণের মতো বিদায় নিতে চেয়েছিলেন তিনি by ইশতিয়াক ...
- প্রচ্ছদ রচনা : বাংলাদেশের শিল্পায়নের তিন কাল-ভারত...
- কবীর চৌধুরীঃ কাছের মানুষ দূরের মানুষ by সাইফুল্লাহ...
- অধ্যাপক কবীর চৌধুরী আর নেই
- তালেবানের সঙ্গে আলোচনার খবর মিথ্যা : গিলানি-ন্যাটো...
- পবিত্র কোরআনের আলো-ইহুদিরা সৌভাগ্যবান, তবে যুগে য...
- দূরের দূরবীনে-বাংলাদেশি অভিবাসীদের শীর্ষ অবস্থান :...
- কৃষিপণ্য : দরদাম নিয়ন্ত্রণে খুবই সতর্কতা প্রয়োজন b...
- নিউটন অনলাইনে
- টিপাইমুখ নিয়ে ব্যাখ্যা দাবি প্রসঙ্গে ফখরুল-পররাষ্ট...
- জাহাজভাঙা বিধিমালা চূড়ান্ত-আজ গেজেট প্রকাশ by ফারজ...
- সবজিভাণ্ডার-খাসখালীর দুই কূলে সবুজের সমারোহ by জাহ...
- বিদেশি নাগরিক ও সংগঠনকে সম্মাননা-বিতর্কিত সংস্থা আ...
- ভারতীয় ঋণ প্রকল্পের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে...
- বিপন্ন হতে চলেছে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব : খা...
- শেয়ারবাজার নিয়ে সেমিনারে মত-এসইসি ব্যর্থতা ঢাকতে চ...
- টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ-সুরমা, কুশিয়ারা ও...
- কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন-সাক্কুকে জয়ী করতে ...
- সব শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি স্থগিত-উদ্দেশ্য সুষ্ঠুভা...
- বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবি-বরিশালে বেসরকারি শিক্ষক...
- জাল সনদ নিয়ে আইনজীবী সহকারী!-২২ জনের সদস্যপদ বাতিল
- পরিচালকদের শেয়ার ধারণ-৩১ কম্পানি ডিএসইকে তথ্য জানা...
- ডিএসইতে বাড়লেও সূচক কমেছে সিএসইতে
- বসুন্ধরা সিমেন্টের ব্যাগ ডিজাইন করলেই পাঁচ লাখ টাকা
- ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি-ইউরোপ থেকে ফেরত আসছে পানের ...
- শেষ হলো বাটেক্সপো-২০১১-গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে বিরোধী ...
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাতে চায় আইডিবি by...
- গবেষকরা দুষলেন এসইসি ডিএসইকে-সংকট পুঁজির নয়, আস্থার
- যুবকের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে কমিশন
- নিজ বাড়িতে এক যুগ স্বেচ্ছাবন্দি দুই ভাই!
- যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অপেক্...
- দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে-বাটেক্সপোর...
- জাল সনদ নিয়ে আইনজীবী সহকারী!-২২ জনের সদস্যপদ বাতিল
- দুই দিনেই চ্যাম্পিয়নদের হারাল খুলনা
- বার্সেলোনা এখন জাপানে
- রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কিউইদের স্বপ্নপূরণ
- মুখোমুখি প্রতিদিন-হকির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বর্তমান...
- বধ্যভূমি-সংরক্ষণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে
- ঊর্ধ্বমুখী ডলার-ভোক্তাকে প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে
- চরাচর-শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক ডাকটিকিট এবং আমার বাবা
- সহজ-সরল-বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, সরকার ছুঁলে? by কনকচাঁপা
- অল্পকথার গল্প-ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয় by আলী হাবিব
- চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন-বাঙালিত্বের প্রতি ভারতের দৃষ...
- সিপিডির আলোচনা সভায় বক্তারা-পুঁজিবাজারে আস্থা ছাড়া...
- 'আমি লোকমানকে গুলি করি' by পিনাকি দাসগুপ্ত ও প্রীত...
- উৎপাদন বাড়লেও ভর্তুকির চাপে বিদ্যুৎ খাত by নাজমুল...
- গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল গ্রেফতারের আবেদন...
- বনের জমিতে প্লট-বেপরোয়া ভূমিদস্যু
- হাসপাতালে নিরাপত্তা-দায়িত্বহীনতার আগুন যেন দগ্ধ না...
- এবার অস্ট্রেলিয়ায় চোখ ভারতের
- সময় এখন স্পিনারদের
- ক্রিকেটাররা ফার্স্ট ক্লাসের প্রয়োজন বুঝছেন, কর্তার...
- কার ব্যথা, কে কাঁদে by আসিফ আহমেদ
- পরিবেশ-নিজের সচেতনতা সবার আগে by উপমা মাহবুব
- আন্তঃসীমান্ত সম্পদ-ভিন্ন বাস্তবতায় অভিন্ন নদী ব্যব...
- আন্তর্জাতিক-পাক-মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা b...
- বাংলাদেশের টেস্ট সম্পর্কে ধারণাতেই গোলমাল by নোমান...
- নাজিমউদ্দিন একটা শিক্ষা দিয়ে গেলেন
- বাংলাদেশ দখলের প্রস্তাব দিয়ে হার্ভার্ডে বহিষ্কার হ...
- কেমন আছ মা-প্রতিদিন দুই মুঠো চাল বেশি রাঁধতে বলি-ক...
- অপেক্ষা শেষ হতে বেশিক্ষণ লাগেনি-বাংলাদেশ ১৩৫ ও ২৭৫...
- মানব পাচারের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড
- ওরসের খাবার খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু-সৈয়দপুরের ১০ গ্র...
- এক যুগের বন্দিদশা থেকে মা ও দুই ছেলের মুক্তি by জে...
- মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ড-মূল হত্যাকারী কিলার শরীফসহ ...
- ইসির সমস্যা থাকলে সরকার সমাধান দেবে : সুরঞ্জিত
- বর্তমান ইসি বিভক্ত ডিসিসির নির্বাচন করবে না : সিইস...
- সব অপরাধের দায় তাঁর by আজাদুর রহমান চন্দন
- বর্বরতার সাক্ষী যে গণকবর by বিশ্বজিৎ পাল বাবু
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-গোলাম আযমকে গ্রেপ্তারে ...
- সাহসী সেই মহারাজা...
- চোরাবালির রহস্য by আতাউর রহমান কাবুল
-
▼
Dec 13
(102)
-
▼
December
(2900)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
মুসলিম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment