সরকার আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অপতৎপরতা খতিয়ে দেখবেঃ শেখ সেলিম

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং ‘বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে’ গণসংযোগ ও গণপদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ১৪ দল।
আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণসংযোগ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ সময় তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক চাপ রয়েছে। তা সত্ত্বেও একজনের ফাঁসির রায়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুভযাত্রা শুরু হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও রায় ঘোষণা করা হবে। কোনো শক্তিই এ বিচার ঠেকাতে পারবে না।

অপর দিকে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে গতকাল এক মানববন্ধন চলাকালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘বিদেশী মিডিয়া বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করছে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হবে। একই সাথে সরকার আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অপতৎপরতাও খতিয়ে দেখবে।’

রাজধানীর স্টেডিয়াম পয়েন্টে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম ও শরীফ নুরুল আম্বিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাওছার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য মোমিন পাটোয়ারি, গোলাম সরোয়ার কবির, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম প্রমুখ। মতিয়া চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াদা করেছিলেন। তাই ওয়াদা রক্ষা করতেই তিনি বিচার করেছেন। না হলে আল্লাহ এ দেশের ওপর অসন্তুষ্ট হতেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক চাপ রয়েছে। তা সত্ত্বেও একজনের ফাঁসির রায়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুভযাত্রা শুরু হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও রায় ঘোষণা করা হবে।

দিলীপ বড়–য়া বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে জামায়াতের কোনো স্থান নেই।

ডা: দীপু মনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে এবং চলবে। একে একে সবার বিচার করে এ দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।

মানববন্ধনে গাবতলী থেকে শ্যামলী পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে, শ্যামলী থেকে ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে, ৭ নম্বর সড়ক থেকে রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অপু উকিল এমপি, রাসেল স্কয়ার থেকে বসুন্ধরা মার্কেট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, বসুন্ধরা মার্কেট থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক আ হ ম মোস্তফা কামাল, সোনারগাঁও হোটেল থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন,  শাহবাগ মোড় থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও  সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের, মৎস্য ভবন থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।