ঘনিষ্ঠদের নিয়ে ইউনিট গঠন করেছেন বাশার

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ভয়াবহ রক্তপাতে রূপ নিয়েছে অনেক আগেই। প্রায় ১৬ মাস ধরে এ রক্তপাত চলছে। বাশারের অভিযোগ, তাঁর ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা বাইরের সহায়তা নিয়ে রক্তপাত চালিয়ে যাচ্ছে।


তাই ঘনিষ্ঠ লোকজনকে নিয়ে এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলার কৌশল নিয়েছেন তিনি।
এ কৌশলের অংশ হিসেবে আস্থাভাজনদের নিয়ে একটি এলিট ইউনিট গঠন করছেন বাশার। এ ইউনিটের নেতৃত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন তিনি। প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আস্থাভাজনেরাও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হতে বিরোধীদের কঠোরভাবে দমনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বাশার ২০০০ সালে তাঁর বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। বিরোধীদের মতে, বাস্তবতা উপলব্ধি না করে তাঁর পদত্যাগের দাবির মধ্যে ষড়যন্ত্র খুঁজছেন বাশার। তাঁর আশপাশে পরিবার ও বংশের লোকজন এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের একটি ঘনিষ্ঠ সার্কেল রয়েছে। এ তোষামোদকারীদের জন্য বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন বাশার। তোষামোদকারীরা তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, সৃষ্টিকর্তা তাঁকে সিরিয়া শাসন করতে পাঠিয়েছেন। এর ফলে বাশারের মনে ধারণা জন্মেছে, তিনি সঠিক কাজটিই করছেন। আর তাঁর বিরোধিতাকারীরা দেশের শত্রু, বিশ্বাসঘাতক।
বাশারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁর অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও উপদেষ্টা তাঁকে ছেড়ে গেছেন। আর এ কারণেই মূলত একটি সামরিক এলিট ইউনিট গঠন করে তাঁর দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন বাশার। এ ইউনিটে দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান হিশাম বেখতায়ারকে নিরাপত্তা সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা আলী মামলুক ও সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ কুদশিও এ ইউনিটে আছেন। বুধবার আত্মঘাতী হামলায় নিহত প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাউদ রাজিহা এবং সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান ও বাশারের ভগ্নিপতি আসেফ শওকত এ ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
বাশারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একজন রাজনীতিবিদ বলেন, বাশারের পর সিরিয়ায় সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি তাঁর ছোট ভাই মাহের আল আসাদ। মাহের সরকারের সবচেয়ে অনুগত বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাশারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই কঠোরভাবে তা দমনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। হোমস শহরে মাহেরের অনুগত বাহিনী ভয়াবহ নৃশংসতা চালায়, যা শেষ অবধি বাশারের বিরুদ্ধেই গেছে। ওই রাজনীতিকের মতে, ইদানীং হয়তো বাশারের ঘনিষ্ঠ লোকজন প্রকৃত বাস্তবতা উপলব্ধি করা শুরু করেছে। কিন্তু তা বোধ হয় অনেক দেরি হয়ে গেছে! রয়টার্স।